বিশ্ব

ঐতিহাসিক চন্দ্রাভিযান : রোমাঞ্চিত কানাডীয় নভোচারী

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি মার্চ ৩১, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

সবকিছু ঠিক থাকলে আগামীকাল বুধবারই এক নতুন ইতিহাস গড়তে যাচ্ছে নাসা। প্রথমবারের মতো কোনো নারী, কৃষ্ণাঙ্গ এবং আমেরিকার নাগরিক নন- এমন একজনকে চাঁদের কক্ষপথে পাঠাতে প্রস্তুত মার্কিন মহাকাশ সংস্থাটি।

কেপ ক্যানাভেরাল থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, এই চার সদস্যের অভিযাত্রী দলে রয়েছেন কানাডীয় মহাকাশচারী জেরেমি হ্যানসেন। তার এই যাত্রাকে ‘বিরাট এক অর্জন’ হিসেবে অভিহিত করেছেন তারই সহকর্মী ও বন্ধু জশুয়া কুট্রিক।

ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টারে হ্যানসেনকে বিদায় জানাতে এসেছেন কুট্রিক। রাজকীয় নীল রঙের ফ্লাইট স্যুট পরা কুট্রিক নিজেও আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ১ এপ্রিলের এই সম্ভাব্য যাত্রা নিয়ে এএফপি’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি মার্কিন মহাকাশ অভিযানের নতুন এই অধ্যায়ের গুরুত্ব তুলে ধরেন।

সাক্ষাৎকারের প্রধান অংশগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:

এই অভিযান নিয়ে আপনার অনুভূতি কেমন?

এটি অত্যন্ত বড় একটি ঘটনা। এটি কেবল প্রথম কোনো কানাডীয় চন্দ্রাভিযানই নয়, বরং বিশ্বের প্রথম এমন এক অভিযান যেখানে সব সদস্যই মার্কিন নাগরিক নন। তাই কানাডায় এটি নিয়ে ব্যাপক উন্মাদনা কাজ করছে। আমি নিজেও খুব উত্তেজিত ও গর্বিত। জেরেমি আমার খুব ভালো বন্ধু এবং একজন দক্ষ মহাকাশচারী। কানাডার প্রতিনিধি হিসেবে তিনি দারুণ কাজ করছেন। তার এই যাত্রা দেখার জন্য আমি অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি।

কানাডার জন্য এই উৎক্ষেপণ কেন গুরুত্বপূর্ণ?

কানাডাকে এই অভিযানে আমন্ত্রণ জানানো কোনো কাকতালীয় বিষয় নয়। মহাকাশ গবেষণায় আমরা যে অবদান রেখেছি, নাসা তার মূল্যায়ন করেছে। এটি আমাকে যেমন আনন্দ দিচ্ছে, তেমনি কানাডীয় হিসেবে গর্বিত করছে। মহাকাশ গবেষণার শুরু থেকেই আমরা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গী হিসেবে কাজ করছি। ৮০’র দশকে আমাদের মহাকাশচারীরা স্পেস শাটল প্রোগ্রামে অংশ নিয়েছেন। মহাকাশ স্টেশন তৈরিতেও আমরা সাহায্য করেছি। এমনকি আজও মহাকাশ স্টেশনে যে রোবোটিক সিস্টেম কাজ করছে, তা আমাদেরই ডিজাইন ও তৈরি করা। বিশেষ করে ‘আর্টেমিস’ প্রকল্পে আমরাই প্রথম দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের এই রূপকল্পে যোগ দিয়েছিলাম। এখন অনেক দেশ এর অংশ হলেও কানাডাই ছিল সবার আগে। আমরা এই অভিযানে প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি ও রোবোটিক যান দিয়ে সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দিয়েছি।

কেন আবার চাঁদে ফেরা উচিত?

বর্তমানে বিশ্বের অনেক ঘটনাই আমাদের হতাশ করে। কিন্তু এই অভিযান আমাকে আশাবাদী করে তোলে। এটি প্রমাণ করে যে, আমরা এখনও অসম্ভবকে জয় করতে পারি। যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডাসহ বিভিন্ন দেশ মিলে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে আমরা চাঁদে ফেরার মতো কঠিন কাজ করে দেখাচ্ছি। একজন মহাকাশচারী হিসেবে আমার বন্ধু চাঁদের উল্টো পিঠে যাচ্ছে, এটি ভাবতেই ভালো লাগে। তবে এটি কেবল রোমাঞ্চ নয়, বরং আমাদের সমাজের ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর মাধ্যমেই আমরা নতুন প্রযুক্তি ও বৈজ্ঞানিক উদ্ভাবন করতে পারছি, যা আমাদের আগামীর পথ দেখাবে। মহাকাশ মানেই নতুন সুযোগ। 

আর্টেমিস অভিযানের ভিন্নতা কোথায়?

প্রযুক্তিগত দিক থেকে এটি অ্যাপোলো অভিযানের চেয়ে অনেক আলাদা। অ্যাপোলোর লক্ষ্য ছিল অল্প কয়েকজনকে খুব কম সময়ের জন্য চাঁদে পাঠিয়ে ফিরিয়ে আনা। সেখানে স্থায়ীভাবে থাকার কোনো পরিকল্পনা ছিল না। কিন্তু আর্টেমিস প্রকল্পের মূল লক্ষ্যই হলো চাঁদে মানুষের স্থায়ী উপস্থিতি ও দীর্ঘমেয়াদী গবেষণা নিশ্চিত করা। বর্তমানে আমরা মহাকাশ স্টেশনে যেভাবে ৬ মাস বা এক বছর দীর্ঘ সময় কাটিয়ে কাজ করি, ঠিক তেমনটিই আমরা চাঁদের বুকেও করতে চাই। অ্যাপোলোর সময় আমাদের কাছে এই প্রযুক্তি ছিল না। আরেকটি বড় পার্থক্য হলো, অ্যাপোলো ছিল কেবল যুক্তরাষ্ট্রের একক প্রচেষ্টা। কিন্তু আর্টেমিস অভিযানে বিশ্বের ডজনখানেক দেশ একত্রে কাজ করছে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

ছবি : সংগৃহীত
তেল হাতিয়ে নিয়ে ইরানকে দুর্বল করার চেষ্টা করছে যুক্তরাষ্ট্র

ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র বৈশ্বিক তেলের প্রবাহ নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, এই কৌশলের মাধ্যমে ইরানকে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল করে দেওয়া হতে পারে।   রাজনৈতিক বিশ্লেষক ফ্র্যাংক মুসামার বলেন, হরমুজ প্রণালির মতো গুরুত্বপূর্ণ পথ নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র বিশ্ব তেলবাজারে প্রভাব বাড়াতে চাইছে। এই প্রণালি দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল পরিবাহিত হয়।   তিনি আরও জানান, খার্গ দ্বীপ ইরানের তেল রপ্তানির প্রধান কেন্দ্র, যেখানে প্রায় ৯০ শতাংশ তেল রপ্তানি হয়। ফলে এই জায়গাগুলো নিয়ন্ত্রণে আনতে পারলে ইরানের ওপর বড় চাপ তৈরি করা সম্ভব।   এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতিও বাড়ছে। যুদ্ধজাহাজ, বিশেষ বাহিনী ও হাজার হাজার সেনা সেখানে মোতায়েন করা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি শুধু সামরিক শক্তি প্রদর্শন নয়, বরং কৌশলগত অবস্থান শক্ত করার অংশ।   যুদ্ধ শুরুর পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামও বেড়েছে। আগে যেখানে তেলের দাম ছিল প্রায় ৭০ ডলার, এখন তা ১০০ ডলারের ওপরে উঠে গেছে। এতে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে চাপ বাড়ছে। বিশ্লেষকদের মতে, এসব পদক্ষেপের ফলে ইরানের অভ্যন্তরেও চাপ বাড়ছে এবং তাদের সামরিক ও প্রশাসনিক কাঠামো দুর্বল হতে পারে

মোঃ নাহিদ হোসেন মার্চ ৩১, ২০২৬ 0
জেনারেল জামশেদ এশাঘি । ছবি: সংগৃহীত

রিবারসহ নিহত আরেক শীর্ষ জেনারেল—জানাল ইরানপ

স্বজনদের আহাজারি। ছবি: সংগৃহীত

ভারতের মন্দিরে পদদলিত হয়ে ৯ জনের মৃত্যু

ছবি : সংগৃহীত

সোমবার দুটি চীনা কন্টেইনার জাহাজ হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করেছে: মনিটর

ছবি : সংগৃহীত
ড্রোন হামলায় রাশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ একটি বন্দর ক্ষতিগ্রস্ত: গভর্নর

রাশিয়ার বাল্টিক উস্ত-লুগা বন্দরে ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে।  দেশটির আঞ্চলিক গভর্নর আজ মঙ্গলবার এ তথ্য জানিয়েছে।  এক সপ্তাহের মধ্যে এটি তৃতীয়বারের মতো ড্রোন হামলা। খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র। রাশিয়ার উত্তর-পশ্চিম লেনিনগ্রাদ অঞ্চলের গভর্নর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জানিয়েছেন, রাশিয়ার বিমান প্রতিরক্ষা বাহিনী রাতে ৩৮টি ড্রোন ভূপাতিত করেছে। গভর্নর আলেকজান্ডার দ্রোজদেঙ্কো বলেন, ‘উস্ত-লুগা বন্দর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।’  তিনি আরও জানান, রাতের এই হামলায় দুই শিশুসহ তিন জন আহত হয়েছেন। ফিনল্যান্ড উপসাগরের এই বন্দরটি রাশিয়ার সার, তেল ও কয়লা রপ্তানির একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র এবং সাম্প্রতিক দিনগুলোতে এটি বেশ কয়েকবার হামলার শিকার হয়েছে। ইউক্রেন রাশিয়ার তেল শোধনাগার, ডিপো ও বন্দরসহ জ্বালানি অবকাঠামোতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা তীব্রতর করেছে।  এই হামলার মূল লক্ষ্য রাশিয়ার যুদ্ধের অর্থ জোগান দেওয়া রাজস্ব^ বন্ধ করার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে এই হামলাগুলো ন্যায্য। রাশিয়ার কর্তৃপক্ষ বুধবার এবং রোববার জানিয়েছে, ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় বন্দরে অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় চার বছর ধরে চলা যুদ্ধের অবসান ঘটানোর লক্ষ্যে মস্কো ও কিয়েভের মধ্যে আলোচনা মধ্যপ্রাচ্যের লড়াইয়ের কারণে ব্যাহত হয়েছে।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি মার্চ ৩১, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত

ইসরাইল পার্লামেন্টে ফিলিস্তিনিদের জন্য মৃত্যুদণ্ডের বিল অনুমোদন

ছবি : সংগৃহীত

ঐতিহাসিক চন্দ্রাভিযান : রোমাঞ্চিত কানাডীয় নভোচারী

ছবি : সংগৃহীত

চীনের কাছাকাছি দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন জাপানের

ছবি : সংগৃহীত
সংকটাপন্ন কিউবায় তেল পৌঁছাতে যাচ্ছে রুশ ট্যাংকার

যুক্তরাষ্ট্রের কার্যত জ্বালানি অবরোধে থাকা কিউবায় মঙ্গলবার জানুয়ারির পর এই প্রথমবারের মতো অপরিশোধিত তেল পৌঁছে দিতে যাচ্ছে একটি রুশ ট্যাংকার।  ওয়াশিংটন সাময়িক ছাড় দেওয়ার পর, এই চালান আসছে। মার্কিন নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা ‘আনাতোলি কলোদকিন’ নামের ট্যাংকারটি হাভানার পূর্বে মাতানসাস বন্দরের দিকে এগোচ্ছিল। এতে রয়েছে ৭ লাখ ৩০ হাজার ব্যারেল অপরিশোধিত তেল। কিউবার মাতানসাস থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে। রাশিয়াকে এই তেল সরবরাহের অনুমতি দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মস্কোর সঙ্গে সম্ভাব্য সংঘাত এড়িয়েছেন।  একই সঙ্গে বিদ্যুৎ বিভ্রাট, জ্বালানি রেশনিং ও গণপরিবহন সংকটে থাকা কিউবাকে সাময়িক স্বস্তি দিয়েছে। মাতানসাসের ৭৪ বছর বয়সী অবসরপ্রাপ্ত রোসা পেরেজের বাসায় আবারও বিদ্যুৎ চলে গেছে। তিনি বলেন, ‘আমরা একে খোলা মনে স্বাগত জানাব। এই তেল আমাদের জন্য যে কতটা প্রয়োজন, তা আপনারা কল্পনাও করতে পারবেন না।’ তিনি এএফপিকে বলেন, ‘দেখি আমাদের অবস্থার কিছুটা হলেও উন্নতি হয় কি না। আমি আর পারছি না।’  এ ধরনের আরও চালান আসবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। ট্রাম্প রোববার বলেছেন, কিউবার মানুষের ‘বঁচে থাকার জন্য’ তেল দরকার, তাই রাশিয়া বা অন্যদের তেল পাঠাতে তিনি আপত্তি করেন না। তবে হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা নীতিতে কোনো পরিবর্তন আসেনি। হোয়াইট হাউসের প্রেস সচিব ক্যারোলিন লিভিট বলেন, ‘কিউবার মানুষের মানবিক প্রয়োজন মেটাতে, আমরা এই জাহাজটিকে সেখানে যেতে অনুমতি দিয়েছি। প্রতিটি সিদ্ধান্ত ক্ষেত্র ভিত্তিকভাবে নেওয়া হচ্ছে।’ -‘সীমার প্রান্তে ঠেলে দেওয়া’- জানুয়ারিতে কিউবার প্রধান আঞ্চলিক মিত্র ভেনেজুয়েলার সমাজতান্ত্রিক নেতা নিকোলাস মাদুরোকে মার্কিন বাহিনী ক্ষমতাচ্যুত করার পর, দেশটি তেল সরবরাহ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।  এরপর ট্রাম্প কিউবায় তেল পাঠানো দেশগুলোর ওপর শুল্ক আরোপের হুমকি দেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট কিউবাকে ‘দখলে নেওয়া’ নিয়েও মন্তব্য করেছেন।  তবে মার্চে কিউবার প্রেসিডেন্ট মিগেল দিয়াজ-কানেল নিশ্চিত করেন যে কিউবা ও যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা আলোচনা করেছেন। ওয়াশিংটনের অরাজনৈতিক নীতি-গবেষণা প্রতিষ্ঠান কিউবা স্টাডি গ্রুপের নির্বাহী পরিচালক রিকার্ডো হেরেরো বলেন, তেল সরবরাহ সীমিত করার উদ্দেশ্য ছিল, হাভানাকে ‘আলোচনার টেবিলে বাস্তব ছাড় দিতে বাধ্য করা।’ তিনি এএফপিকে বলেন, ‘কৌশলটি হচ্ছে ব্যবস্থাকে চূড়ান্ত চাপের মুখে ঠেলে দেওয়া। তবে পূর্ণমাত্রার সামাজিক বা মানবিক বিপর্যয় সৃষ্টি করা নয়।’ তিনি আরও বলেন, ‘সব কিছুই এই ধারণার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ যে যুক্তরাষ্ট্রের হাতেই সব কার্ড রয়েছে। কখন থামবে, কখন এগোবে— তা তারাই ঠিক করবে।’ -দুই সপ্তাহের ডিজেল- ২০২৪ সাল থেকে কিউবাজুড়ে সাতবার বিদ্যুৎ বিপর্যয় হয়েছে, যার মধ্যে মার্চেই দুবার। দেশটিতে জ্বালানির দামও বেড়েছে। বিদ্যুৎ বিভ্রাট, খাদ্য ও ওষুধের ঘাটতি কিউবায় জনঅসন্তোষ বাড়িয়েছে এবং এর পাশাপাশি সেখানে কিছু বিরল বিক্ষোভও হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়ার এই তেল, কিউবার অর্থনীতিকে কেবল কয়েক সপ্তাহের জন্য সহায়তা দেবে। অস্টিনের টেক্সাস বিশ্ববিদ্যালয়ের কিউবার জ্বালানি খাতের বিশেষজ্ঞ জর্জ পিনন বলেন, আরও জরুরি প্রয়োজন হলো ডিজেল, যা ব্যাকআপ পাওয়ার জেনারেটর বা পরিবহন ব্যবস্থায় অর্থনীতি সচল রাখতে ব্যবহার করা যেতে পারে। তিনি আরও বলেন, তেল পরিশোধন ও ডিজেল সরবরাহে প্রায় এক মাস সময় লাগবে। এতে প্রায় দুই সপ্তাহের চাহিদা পূরণ সম্ভব। হেরেরো বলেন, এই চালান কিউবার রুশ মিত্রের আরেকটি ‘সহায়তা’ মাত্র।  তবে দীর্ঘমেয়াদে মস্কো কিউবার অর্থনীতি ভর্তুকি দিতে চাইবে বলে তিনি মনে করেন না। তিনি বলেন, ‘এতে দেশটির অর্থনীতির পুনরুদ্ধার হবে না। এটি কেবল মানবিক সহায়তা।’

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি মার্চ ৩১, ২০২৬ 0
ইরানে বাঙ্কার বাস্টার বোমা ফেলল যুক্তরাষ্ট্র। ছবি : সংগৃহীত

ইরানে ৯০০ কেজি ওজনের বাঙ্কার বাস্টার বোমা ফেলল যুক্তরাষ্ট্র

ছবি : সংগৃহীত

এবার ইরানের পানি পরিশোধন কেন্দ্র ধ্বংসের হুমকি ট্রাম্পের

সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই বন্দরে নোঙর করা অবস্থায় আল-সালমি জাহাজটিতে ইরানি হামলা হয়। ফাইল ছবি

ট্রাম্পের হুমকির পর দুবাইয়ে বড় তেল ট্যাঙ্কারে ইরানের হামলা

0 Comments