অন্যান্য

অবসরের পরও থামেননি, গ্রামের স্কুলে পড়াচ্ছেন সাবেক উপাচার্য ড. এম এ সাত্তার

আক্তারুজ্জামান জুন ১৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

শিক্ষকতা থেকে আনুষ্ঠানিক অবসর নিয়েছেন এক দশকেরও বেশি সময় আগে। কিন্তু জ্ঞান বিতরণের প্রতি ভালোবাসা এবং শিকড়ের প্রতি গভীর টান এখনো তাকে শ্রেণিকক্ষে ফিরিয়ে নিয়ে যায়। তাই সুযোগ পেলেই গ্রামের স্কুলে হাজির হন তিনি, হাতে তুলে নেন চক-ডাস্টার, আর শিক্ষার্থীদের সামনে দাঁড়িয়ে শুরু করেন পাঠদান।

 

তিনি একুশে পদকপ্রাপ্ত শিক্ষাবিদ ও বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এ সাত্তার মণ্ডল। দেশের উচ্চশিক্ষা ও গবেষণায় অসামান্য অবদান রাখা এই কৃষি অর্থনীতিবিদ এখন নিয়মিত সময় দেন ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার কৃষ্ণারডাঙ্গী উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের।

 

এই বিদ্যালয়ের সঙ্গেই জড়িয়ে আছে তার শৈশব ও কৈশোরের স্মৃতি। ১৯৬০ সালে প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়ের প্রথম ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন তিনি। পরবর্তীতে উচ্চশিক্ষা, গবেষণা এবং প্রশাসনিক দায়িত্বে দেশের অন্যতম সফল শিক্ষাবিদ হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেলেও নিজের বিদ্যালয়ের প্রতি ভালোবাসা কখনো কমেনি।

 

বিদ্যালয়ে গিয়ে তিনি নবম ও দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের ক্লাস নেন। শুধু পাঠ্যবইয়ের পাঠ নয়, জীবনের লক্ষ্য, অধ্যবসায়, নৈতিকতা, আত্মবিশ্বাস এবং সফলতার গল্পও শোনান শিক্ষার্থীদের। তার ক্লাসে শিক্ষার্থীরা প্রশ্ন করে, মতামত দেয় এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে ভাবতে শেখে।

 

অধ্যাপক সাত্তারের মতে, গ্রামের অনেক শিক্ষার্থীর মধ্যে ইংরেজি বিষয়ে অকারণ ভয় কাজ করে। সেই ভয় দূর করতেই তিনি সহজ পদ্ধতিতে ইংরেজি শেখানোর চেষ্টা করেন। ছোট ছোট প্রশ্ন, সহজ বাক্য এবং উৎসাহমূলক আলোচনার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে তোলেন।

 

২০২২ সালে শিক্ষা ও গবেষণায় বিশেষ অবদানের জন্য একুশে পদকে ভূষিত হন তিনি। একই বছর কৃষ্ণারডাঙ্গী উচ্চ বিদ্যালয় তাকে অবৈতনিক ইমেরিটাস শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেয়। এরপর থেকে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবেই বিদ্যালয়ের সঙ্গে শিক্ষক হিসেবে যুক্ত রয়েছেন।

 

বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা জানান, তার উপস্থিতি পুরো শিক্ষাঙ্গনে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করে। শুধু উচ্চ শ্রেণির শিক্ষার্থীরাই নয়, ছোট ক্লাসের ছাত্রছাত্রীরাও তার ক্লাসে অংশ নিতে আগ্রহ দেখায়। অনেকেই তার জীবনসংগ্রাম ও সাফল্যের গল্প শুনে অনুপ্রাণিত হয়।

 

শিক্ষাদানের পাশাপাশি সমাজের প্রতি দায়িত্ববোধ থেকেও নানা উদ্যোগ নিয়েছেন ড. সাত্তার মণ্ডল। নিজের প্রয়াত মা-বাবার নামে মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তি চালু করেছেন। একইভাবে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়েও পরিবারের সদস্যের নামে বৃত্তি প্রদান কর্মসূচি চালু করেছেন।

 

কৃষি অর্থনীতি, খাদ্য নিরাপত্তা, গ্রামীণ উন্নয়ন এবং কৃষিনীতি নিয়ে দীর্ঘ গবেষণা জীবনে তিনি শতাধিক গবেষণা প্রবন্ধ, বই ও নিবন্ধ প্রকাশ করেছেন। দেশ-বিদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানে কাজ করলেও গ্রামকে কখনো ভুলে যাননি।

 

তার বিশ্বাস, আজকের গ্রামের শিক্ষার্থীদের সামনে আগের চেয়ে অনেক বেশি সুযোগ রয়েছে। প্রয়োজন শুধু সঠিক দিকনির্দেশনা, আত্মবিশ্বাস এবং মানসম্মত শিক্ষা। সেই লক্ষ্যেই তিনি অবসরের পরও নতুন প্রজন্মকে গড়ে তোলার কাজে নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন।

 

ড. এম এ সাত্তার মণ্ডলের এই উদ্যোগ প্রমাণ করে, প্রকৃত শিক্ষক কখনো অবসর নেন না। জ্ঞান বিতরণ ও মানুষ গড়ার দায়িত্ববোধই তাদের আজীবনের পরিচয় হয়ে থাকে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

অন্যান্য

আরও দেখুন
অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান। সংগৃহীত ছবি
আ.লীগ আগামী ৬৩ বছরেও ক্ষমতায় ফিরতে পারবে না : ফজলুর রহমান

আওয়ামী লীগ আগামী ৬৩ বছরেও ক্ষমতায় ফিরতে পারবে না বলে মন্তব্য করেছেন কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান।   যুগান্তর মাল্টিমিডিয়ার যোবায়ের আহসান জাবেরকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এ মন্তব্য করেন।   ফজলুর রহমান বলেন, শেখ হাসিনার সঙ্গে থাকা সাবেক মন্ত্রী-এমপি ও নেতারা দেশে ফিরে এসে জনগণের কাছে ভোট চাইলে পরিস্থিতি কী হয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।   তিনি বলেন, ‘শেখ হাসিনার সঙ্গে যে মহামানবরা আছেন, যাদের নাম শুনি—তারা শুধু এসে একটা জায়গায় বা শহীদ মিনারে দাঁড়িয়ে বলুক, আমি নেতা, আমি আবার এসে পড়েছি। দেখেন না কী হয়। তাদের কি এই সাহস আছে?’   আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক মন্ত্রী-এমপিদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘শেখ হাসিনার এমন কোনো বড় নেতা আছেন, যাদের তিনি মন্ত্রী বানিয়েছিলেন, যাদের দিয়ে দেশ চালিয়েছেন—তার সেই মন্ত্রী-এমপিরা দেশে এসে আবার বলবেন, এই আমাদের ভোট দেন, আমরা আপনাদের জন্য কাজ করেছি। মানুষ তখন কী করবে?’   শেখ হাসিনা বিদেশে চলে যাওয়ার প্রসঙ্গ টেনে ফজলুর রহমান বলেন, ‘বিদেশে শেখ হাসিনা চলে গেছে, দেশে এলেই শেখ হাসিনা ক্ষমতায় চলে যাবে—এমন তো না।’   আওয়ামী লীগ কবে আবার ক্ষমতায় ফিরতে পারে—এমন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ আগামী ৬৩ বছরেও ক্ষমতায় আসতে পারবে না।’   এর ব্যাখ্যায় ফজলুর রহমান বলেন, ‘৭৫-এর পর তো আওয়ামী লীগ দেশেই ছিল, দেশে থাকতেই তো ২১ বছর লেগেছে। আমি বলছি, এবার ৬৩ বছর লাগবে তাদের ক্ষমতায় ফিরতে।’   তবে আওয়ামী লীগের ঐতিহাসিক ভূমিকার কারণে দলটির নাম এখনো আলোচনায় আসে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।   ফজলুর রহমান বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধ, মুক্তিযুদ্ধ আছে বলেই এখনো ভাষা ভাষা আওয়ামী লীগের নামটা আসে। কারণ আওয়ামী লীগের যিনি প্রতিষ্ঠাতা নেতা ছিলেন মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী এবং পরে যিনি আওয়ামী লীগের মূল নেতা ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। মুক্তিযুদ্ধের নামটা আসলে দুইটা লোকের নাম আসে।’   সাক্ষাৎকারে আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ, শেখ হাসিনা ও দলটির সাবেক নেতাদের দেশে ফেরার সম্ভাবনা এবং জনগণের প্রতিক্রিয়াসহ বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলেন ফজলুর রহমান।

মোঃ ইমরান হোসেন অক্টোবর ০১, ২০২৬
ইউনিয়ন ছাত্রদল সিনিয়র যুগ্ম-আহ্বায়ক ইসফাতুল ইসলাম জিসান। ছবি: সংগৃহীত

জিসান হত্যার বিচার না হলে রাজনীতি ছাড়ার ঘোষণা ছাত্রদল নেতার

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) এক চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আদায় করা টাকা ব্যয়ে মাউশির সতর্কবার্তা

সংগৃহীত ছবি

ফতুল্লায় এনসিপি নেতার হুঁশিয়ারি, ‘কর্মীর গায়ে হাত তুললে থানার ইট খুলে নেব’

সংগৃহীত ছবি
দুদকের বক্তব্যের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে আসিফ মাহমুদের রিট

কোনো অভিযোগ অনুসন্ধানের শুরুতেই গণমাধ্যমের সামনে ‘প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে’ মর্মে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) বক্তব্য প্রদান ও তা প্রচারের আইনি বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন করা হয়েছে। সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার পক্ষে সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এ আবেদনটি দায়ের করা হয়।     রিট আবেদনে তদন্ত কিংবা অনুসন্ধানাধীন কোনো বিষয়ে গণমাধ্যমে মানহানিকর বক্তব্য দেওয়া থেকে দুদককে বিরত রাখার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সংস্থাটির পক্ষ থেকে অতীতে প্রচারিত এ ধরনের বক্তব্যের বিষয়ে সমগুরুত্ব দিয়ে গণমাধ্যমে আনুষ্ঠানিক প্রত্যাহার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের আরজি জানানো হয়েছে।       সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদের আওতায় দায়ের করা এই রিট পিটিশনে (নম্বর: ১৩৮৮৫/২০২৬) দুদক চেয়ারম্যান, কমিশনের উপপরিচালক (জনসংযোগ কর্মকর্তা) ও সহকারী পরিচালককে (জনসংযোগ কর্মকর্তা) বিবাদী করা হয়েছে। আসিফ মাহমুদের পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট জহিরুল ইসলাম মূসা এ আবেদনটি দাখিল করেন।       রিট আবেদনে বলা হয়, গত ২ সেপ্টেম্বর দুদকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে সংস্থাটির উপপরিচালক জানান যে সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বদলি, নিয়োগ ও পদোন্নতি বাণিজ্যের অভিযোগে ‘প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায়’ অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন অনুযায়ী, কোনো অভিযোগের সত্যতা বা অসত্যতা নির্ধারণ হতে পারে অনুসন্ধান সমাপ্তির পর; অনুসন্ধান শুরুর আগেই এমন মন্তব্য করার কোনো এখতিয়ার কমিশনের কর্মকর্তাদের নেই।     আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, ওই বক্তব্যের পর ৯ সেপ্টেম্বর দুদকের সচিব সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বিষয়টিকে অসাবধানতাবশত বলা বা ‘স্লিপ অব দ্য টাং’ বলে মন্তব্য করেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা সাংবাদিকদের বার্তা আদান-প্রদানের গ্রুপে এটি অনিচ্ছাকৃত ভুল বলে স্বীকার করেন। কিন্তু পরবর্তীতে গণমাধ্যমে এর কোনো আনুষ্ঠানিক ও সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা বা প্রত্যাহার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়নি।       এরপর গত ১০ সেপ্টেম্বর আইনি নোটিশ পাঠানো সত্ত্বেও তা আমলে না নিয়ে গত ১৩ সেপ্টেম্বর দুদকের সহকারী পরিচালক আরেকটি ব্রিফিং করেন। সেখানে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক নিয়োগ, জেলা প্রশাসক (ডিসি) পদায়ন, ওয়াসা, এলজিইডি, বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের দরপত্র ও বিদেশে অর্থপাচারসহ আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে একাধিক নতুন অভিযোগ উত্থাপন করা হয়।     দুদকের এসব অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও অসত্য দাবি করে রিট আবেদনে বলা হয়েছে, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে অতিরিক্ত দায়িত্ব বাতিলের সিদ্ধান্তটি প্রশাসনিক আপিল ট্রাইব্যুনালের রায়ের আলোকেই প্রশাসনিক আদেশে নেওয়া হয়েছিল। এ ছাড়া যে ১৫০ জন সহকারী যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার পদোন্নতির কথা বলা হচ্ছে, তা আসিফ মাহমুদের পদত্যাগের (১১ ডিসেম্বর ২০২৫) প্রায় পাঁচ মাস পর (১১ মে ২০২৬) কার্যকর হয়। ফলে এই প্রক্রিয়ায় তাঁর সম্পৃক্ত থাকার কোনো আইনগত বা বাস্তবিক সুযোগ নেই।       রিটে অভিযোগ করা হয়, আসন্ন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে প্রার্থিতা ঘোষণার পর উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আসিফ মাহমুদের সামাজিক ও রাজনৈতিক সুনাম ক্ষুণ্ন করতে এই ‘মিডিয়া ট্রায়াল’ চালানো হচ্ছে। কমিশনের কর্মকর্তাদের এমন আচরণ সংবিধানের ৩১ অনুচ্ছেদে প্রদত্ত মৌলিক অধিকার এবং সংস্থাটির ‘তথ্য অবমুক্তকরণ নীতিমালা, ২০১১’-এর সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলে রিটে উল্লেখ করা হয়।

মারিয়া রহমান সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ন্যাম ভবনের বারান্দাতেও ঘুমাতেন এমপি নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রী: পুলিশ

ছবি: সংগৃহীত

মিরপুরের ক্ষতিগ্রস্ত স্বাস্থ্যকেন্দ্র পুনঃপ্রতিষ্ঠায় জামায়াতের ৫০ লাখ টাকা অনুদানের ঘোষণা

সাপকে বিশ্বাস করা গেলেও জামায়াতকে যায় না: ফজলুর রহমান

ছবি: সংগৃহীত
নারী-পুরুষের শার্টে বোতামের দিক আলাদা কেন?

পুরুষের শার্টে সাধারণত বোতাম থাকে ডান পাশে, আর নারীদের পোশাকে দেখা যায় বাম পাশে। পোশাকের এই পার্থক্য বহুদিনের হলেও এর সঠিক কারণ নিয়ে এখনো একক কোনো ব্যাখ্যা নেই। ইতিহাসবিদ ও পোশাক বিশেষজ্ঞরা এ বিষয়ে কয়েকটি সম্ভাব্য কারণ তুলে ধরেছেন।   পুরুষের পোশাকে ডান পাশে বোতাম কেন? ফ্যাশন ইতিহাসবিদদের একটি মত হলো, পুরুষের পোশাকে ডান দিকে বোতাম থাকার সঙ্গে সামরিক পোশাক ও অস্ত্র ব্যবহারের ঐতিহ্যের সম্পর্ক রয়েছে। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ফ্যাশন ইতিহাসবিদ ড. ক্লো চ্যাপিন টাইম-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, এই নকশার উৎপত্তি সামরিক পোশাকের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে। শার্ট বা জ্যাকেটের ডান পাশে বোতাম থাকলে ডান হাত দিয়ে পোশাকের ভেতরে দ্রুত হাত ঢোকানো তুলনামূলক সহজ হতো বলে ধারণা করা হয়। তরবারি ব্যবহারের সঙ্গেও এর একটি যোগসূত্রের কথা বলা হয়। A Gentleman’s Wardrobe-এর পল কিয়ার্স দ্য গার্ডিয়ান-কে জানান, ঐতিহাসিকভাবে অনেক পুরুষ বাম পাশে তরবারি বহন করতেন, যাতে ডান হাত দিয়ে সেটি সহজে বের করা যায়। পোশাকের বোতামের বিন্যাসও এ ব্যবস্থার সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে বলে মত রয়েছে।   নারীদের পোশাকে বোতাম বাম দিকে কেন? নারীদের পোশাকে বিপরীত দিকে বোতাম রাখার পেছনেও রয়েছে একাধিক প্রচলিত ব্যাখ্যা। শার্ট ব্র্যান্ড এলিজাবেথ অ্যান্ড ক্লার্কের প্রতিষ্ঠাতা মেলানি মুরের মতে, ত্রয়োদশ শতকে বোতামের প্রচলন শুরু হওয়ার পর ধনী নারীদের পোশাক ছিল বেশ ভারী ও জটিল। ফলে তারা নিজেরা পোশাক পরার পরিবর্তে সাধারণত দাসী বা সহকারীর সাহায্য নিতেন। এ কারণে পোশাকের বোতাম এমনভাবে রাখা হয়েছিল, যাতে অন্য কেউ সামনে দাঁড়িয়ে সহজে সেগুলো লাগাতে পারেন। সময়ের সঙ্গে এই বিন্যাসই নারীদের পোশাকে প্রচলিত হয়ে থাকতে পারে। আরেকটি প্রচলিত তত্ত্ব অনুযায়ী, নারীরা ঐতিহাসিকভাবে বাম হাতে শিশু ধরে রাখতেন। ফলে পোশাকের বোতাম বাম পাশে থাকলে প্রয়োজনের সময় পোশাক খোলা বা বুকের দুধ খাওয়ানো সহজ হতে পারে—এমন ধারণাও রয়েছে।   এখন কি এই নিয়ম মেনে চলা হয়? বর্তমানে পোশাক তৈরিতে ঐতিহাসিক এসব প্রচলন সবসময় অনুসরণ করা হয় না। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফ্যাশন ব্র্যান্ড ও ডিজাইনার নারীদের পোশাকেও ডান পাশে বোতাম ব্যবহার করছেন। অর্থাৎ, নারী ও পুরুষের শার্টে বোতামের অবস্থান নিয়ে প্রচলিত ব্যাখ্যাগুলোর বেশিরভাগই ঐতিহাসিক তত্ত্বনির্ভর। এর পেছনে একটি মাত্র নিশ্চিত কারণ রয়েছে—এমন প্রমাণ নেই।   সূত্র: ইনসাইডার, টাইম ও দ্য গার্ডিয়ান

আক্তারুজ্জামান সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

মিরপুরে স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে হামলা নিয়ে সরকারের কাছে তাসনিম জারার প্রশ্ন

ছবি: সংগৃহীত

মিরপুরে হাসপাতালে হামলা নিয়ে ফেসবুকে যা বললেন হাসনাত আবদুল্লাহ

ছবি: সংগৃহীত

সবার ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার হতে হবে না, তবে মাদকাসক্ত হওয়া যাবে না: হাসনাত আবদুল্লাহ

0 Comments