খেলাধুলা

‘আপনি কি আমাদের বাড়িতে ফিরিয়ে নিতে পারবেন’—প্রধানমন্ত্রীর কাছে আকুতি আটকা পড়া বেয়ারস্টোর

মারিয়া রহমান মার্চ ০১, ২০২৬ 0
জনি বেয়ারস্টো। ছবি: সংগৃহীত
জনি বেয়ারস্টো। ছবি: সংগৃহীত

ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র গতকাল ভোর থেকে ইরানে যৌথ হামলা চালাচ্ছে। হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি, সেনাপ্রধান, প্রতিরক্ষামন্ত্রীসহ কয়েকশ মানুষ নিহত হয়েছেন।

ইরানও পাল্টা জবাব দিয়ে যাচ্ছে। ইসরায়েলের পাশাপাশি কাতার, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত ও জর্দানে মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ছে ইরান।


মধ্যপ্রাচ্যে চলমান এই সামরিক সংঘাতের বিরূপ প্রভাব পড়েছে ক্রীড়াঙ্গনেও। সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজধানী আবুধাবিতে ইংল্যান্ড লায়ন্স ও পাকিস্তান শাহিনসের দ্বিতীয় আনঅফিসিয়াল ওয়ানডে বাতিল করা হয়েছে। ইংল্যান্ড লায়ন্সের কোচিং স্টাফের সদস্য ও ব্যাটার জনি বেয়ারস্টো দেশে ফেরার জন্য সাহায্য চেয়েছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের কাছে।

আরব আমিরাতের আবুধাবি ও দুবাইয়ে বিস্ফোরণের তথ্য দিয়েছে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম।


মধ্যপ্রাচ্যে অসংখ্য ফ্লাইট বাতিল করেছে বিমান সংস্থাগুলো।
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী স্টারমার ইরান নিয়ে শনিবার সন্ধ্যায় এক ভিডিও বিবৃতি পোস্ট করেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। সেখানে বেয়ারস্টো লেখেন, ‘আপনি কি আমাদের বাড়িতে ফিরিয়ে নিতে পারবেন?’

৩৬ বছর বয়সী বেয়ারস্টো পরে অভিযোগ করেন, ফ্লাইট বাতিলের পর এয়ারলাইন্সের পক্ষ থেকে কোনো যোগাযোগ করা হয়নি, ‘ফ্লাইট বাতিল হওয়ার পর আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়নি। যোগাযোগের চেষ্টা করেছি, কিন্তু কোনো লাভ হয়নি।কেউ কি দয়া করে যোগাযোগ করতে পারবেন?’

ইংল্যান্ড লায়ন্সের ম্যাচ বাতিলের পাশাপাশি আরব আমিরাতে ইংল্যান্ড নারী দলের আসন্ন ট্রেনিং ক্যাম্পও আপাতত স্থগিত করেছে ইংল্যান্ড ও ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড (ইসিবি)।ইসিবির বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘আমাদের দল ও স্টাফদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।’

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

খেলাধুলা

আরও দেখুন
ট্রাম্পের নতুন ভিসা বিধিনিষেধে দুশ্চিন্তায় বিশ্বকাপের পাঁচ দেশ

২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপ শুরু হতে বাকি তিন মাসেরও কম সময়। কিন্তু এর মধ্যেই কূটনৈতিক টানাপোড়েন আছে তুঙ্গে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন নতুন করে কিছু দেশের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। বিধিনিষেধ পাওয়া দেশগুলোর মধ্যে একাধিক দেশ আসন্ন বিশ্বকাপে অংশ নিতে যাচ্ছে। ফলে তাদের খেলোয়াড়, কর্মকর্তা ও সমর্থকদের জন্য ভিসা পাওয়া ও যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।   এএস স্পোর্টসের খবরে বলা হয়েছে, আগামী ২ এপ্রিল থেকে একটি নতুন তালিকা কার্যকর হবে। এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত দেশগুলোর নাগরিকদের বি১/বি২ ভিসার জন্য আবেদন করতে হলে ৫,০০০ থেকে ১৫,০০০ ডলার পর্যন্ত জামানত (ভিসা বন্ড) জমা দিতে হবে। তালিকায় মোট ৫০টি দেশ রয়েছে, যার মধ্যে ৫টি দেশ আসন্ন ফিফা বিশ্বকাপে খেলবে। ফলে এই নিয়ম নিয়ে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোতে উদ্বেগ বাড়ছে। এই বিধিনিষেধের আওতায় থাকা এবং বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী দেশগুলো হলো—আলজেরিয়া, কেপ ভার্দে, সেনেগাল, আইভরি কোস্ট ও তিউনিসিয়া। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর বাধ্যতামূলক ভিসা সাক্ষাৎকারের পর আবেদনকারীদের জন্য জামানতের পরিমাণ নির্ধারণ করবে।   মার্কিন গণমাধ্যম দ্য অ্যাথলেটিক জানিয়েছে, বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ও ফিফার মধ্যে আলোচনা চলছে। লক্ষ্য হচ্ছে—এই পাঁচ দেশের খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ ও অফিসিয়াল প্রতিনিধিদের জন্য ভিসা বন্ডের শর্ত কিছুটা শিথিল করা। তবে তাদের পরিবারের সদস্যদের ক্ষেত্রে এমন কোনো সুবিধা দেওয়ার সম্ভাবনা আপাতত নেই। যদিও এই নতুন নীতি চালুর আগেই সেনেগাল ও আইভরি কোস্টের মতো দেশের নাগরিকদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ বেশ কঠিন ছিল। সাধারণত বিশেষ পরিস্থিতি ছাড়া ভিসা দেওয়া হতো না। নতুন আর্থিক শর্ত যুক্ত হওয়ায় তাদের জন্য পরিস্থিতি আরও কঠোর হয়ে উঠতে পারে এমনটাই আশঙ্কা করা হচ্ছে।

আবরার আল মামুন সাহাফ মার্চ ২৬, ২০২৬ 0

৫৬ বছর বয়সেও টানা চার আসরে সেরা মোহাম্মদ রফিক

যুদ্ধের মাঝেও ফিফা বিশ্বকাপের প্রস্তুতি শুরু ইরানের

ফাইল ছবি

ট্রাম্পের সিদ্ধান্তে ফুটবল বিশ্বকাপে ৫ দেশের অংশগ্রহণ নিয়ে শঙ্কা

ছবি: সংগৃহীত
১৫ হাজার কোটির বেশি দামে নতুন মালিক পেল রাজস্থান রয়্যালসের

আইপিএল শুরুর সময় সবচেয়ে কম মূল্যের ফ্র্যাঞ্চাইজি ছিল রাজস্থান রয়্যালস। প্রথম আসরে চমকপ্রদ শিরোপার পর আর কখনও ট্রফির ছুঁয়ে দেখতে পারেনি তারা। তবে সময়ের সঙ্গে তাদের ব্র্যান্ড মূল্য ছুঁয়েছে আকাশ। সেটিই ফুটে উঠল মালিকানা বদলের পালায়। ১৬৩ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলারে বিক্রি হেয়ছে ফ্র্যাঞ্চাইজিটি, ভারতীয় মুদ্রায় যা ১৫ হাজার ২৯০ কোটি রুপির আশেপাশে।   যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক প্রযুক্তি উদ্যোক্তা কাল সোমানির নেতৃত্বে একটি কনসোর্টিয়াম কিনে নিয়েছে এই ফ্র্যাঞ্চাইজিটি। ভারত থেকে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসী হওয়া সোমানি আগে থেকেই এই ফ্র্যাঞ্চাইজিতে বিনিয়োগকারীদের একজন। ক্রিকেট ওয়েবসাইট ইএসপিএনক্রিকইনফোর খবর, আরও দুজনের সঙ্গে মিলে তিনি রাজস্থানের সম্পূর্ণ মালিকানা গ্রহণ করেছেন।   এই নিয়ে পরপর দুই দিন আকাশচুম্বি দামে আইপিএলের দুটি ফ্র্যাঞ্চাইজির মালিকানা বদলের খবর এলো। আগের দিনই জানা গিয়েছিল, গত আসরের চ্যাম্পিয়ন রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর মালিকানা বদল হয়েছে ১৭৮ কোটি মার্কিন ডলারে, ভারতীয় মুদ্রায় যা ১৬ হাজার ৬৬০ কোটি রুপির আশেপাশে।   আইপিএল শুরুর সময় দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দামি ফ্র্যাঞ্চাইজি ছিল বেঙ্গালুরু, মূল্য ছিল ১১ কোটি ১৬ লাখ মার্কিন ডলার। সবচেয়ে কম দামি ফ্র্যাঞ্চাইজি রাজস্থানের মূল্য ছিল ৬ কোটি ৭০ লাখ ডলার।   প্রথম আসরে শেন ওয়ার্নের নেতৃত্বে রূপকথার মতো শিরোপা জয়ের পর আর কেবল একবারই ফাইনালে খেলেছে রাজস্থান (২০২২)। গত আসরে ১০ দলের মধ্যে তাদের অবস্থান ছিল নবম। কিন্তু ব্র্যান্ড মূল্য বেড়েছে তরতরিয়ে।   আইপিএল শুরুর সময় এক মার্কিন ডলারের সমমান ছিল ৪০ ভারতীয় রুপি, যেখানে বর্তমানে তা ৯৪ ভারতীয় রুপি। রুপির হিসাবে এখন সোমানি নেতৃত্বাধীন কনসোর্টিয়ামের দর ২০০৮ সালের তুলনায় ৫৭ গুণ বেশি।   সোমানির সঙ্গে এই কনসোর্টিয়ামে সঙ্গী যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ফুটবল লিগের (এনএফএল) দুটি দলের কর্ণধার- ডেনভার ব্রঙ্কোসের রব ওয়াল্টন এবং ডেট্রইট লায়ন্সের স্বত্বাধিকারী শিলা ফোর্ড হ্যাম্পের ছেলে মাইকেল হ্যাম্প।   আইপিএলে রাজস্থান রয়্যালসের পাশাপাশি এই ফ্র্যাঞ্চাইজির এসএ টোয়েন্টির দল পার্ল রয়্যালস ও ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগের দল বারবাডোজ রয়্যালসের মালিকানাও এখন সোমানির নেতৃত্বে এই কনসোর্টিয়ামের।   হ্যাম্পস পরিবার, ওয়ালটন এবং সোমানির সাথে মিলে ডেট্রইটের মোটর সিটি গলফ ক্লাব ফ্র্যাঞ্চাইজির মালিকানা গোষ্ঠীরও অংশ, যেটি গলফ কিংবদন্তি টাইগার উডস এবং ররি ম্যাকিলরয়ের মালিকানাধীন এবং ২০২৭ সালে ইনডোর গলফ লীগ টিজিএল-এ যোগ দিতে চলেছে।   জানা গেছে যে, একাধিক দফা নিলামের পর গত ২০ মার্চ বিজয়ী হিসেবে আবির্ভূত হয় সোমানির নেতৃত্বাধীন কনসোর্টিয়ামটি, যার মধ্যে একাধিক চূড়ান্ত পর্যায়ের বাধ্যতামূলক দরপত্রও ছিল। মালিকানার লড়াইয়ে এই কনসোর্টিয়ামটি যাদেরকে পেছনে ফেলতে পেরেছে, তাদের মধ্যে ছিলেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সহ-স্বত্বাধিকারী ও ল্যান্সার ক্যাপিটালের প্রধান অ্যাভ্রান গ্লেজার, সেইসঙ্গে ক্যাপ্রি গ্রুপ, আদিত্য বিরলা গ্রুপ এবং টাইমস অফ ইন্ডিয়া গ্রুপ।   আদিত্য বিরলা গ্রুপ এবং টাইমস অফ ইন্ডিয়া গ্রুপ পরে একসঙ্গে জুটি গড়ে আরও দুটি প্রতিষ্ঠানকে নিয়ে কেটি কনসোর্টিয়াম গড়ে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু কিনে নিয়েছে।   সোমানির নেতৃত্বাধীন কনসোর্টিয়াম রাজস্থানের জন্য এতটা আগ্রাসীভাবে দর হাঁকানোর কারণ মনে করা হচ্ছে, প্রযুক্তি-সচেতন এই বিনিয়োগকারী গোষ্ঠীটি আইপিএলের বিকাশের সম্ভাবনা এবং বিশ্ববাজার হিসেবে ভারতের দ্রুত অগ্রগতির ওপর বিশ্বাসী ছিল। চুক্তিটি চূড়ান্ত করার জন্য এই কনসোর্টিয়াম এখন ফ্র্যাঞ্চাইজির বর্তমান কর্ণধার মানোজ বাদালের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।   এরপর ভারতীয় বোর্ডের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন প্রয়োজন হবে এবং আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে আলোচনা শেষ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।   ২০০৮ সালে সবচেয়ে কম মূল্যায়িত ফ্র্যাঞ্চাইজি হলে প্রয়াত শেন ওয়ার্নের জাদুকরি নেতৃত্বে রাজস্থান চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল অভাবনীয়ভাবে। আইপিএলের প্রথম ফ্র্যাঞ্চাইজি হিসেবে তারা নিজেদের অংশীদারিত্ব বিক্রি করে ২০০৯ সালে। বলিউড অভিনেত্রী শিল্পা শেঠি ও তার স্বামী রাজ কুন্দ্রা ফ্র্যাঞ্চাইজিটির ১১.৭ শতাংশ অংশীদারিত্ব কিনে নেন। পরে অবশ্য তারা সরে দাঁড়ান। ২০২১ সাল নাগাদ প্রধান বিনিয়োগকারী হয়ে ওঠেন মানোজ বাদালে এবং ফ্র্যাঞ্চাইজিটি প্রকাশ করে যে, ততদিনে তার অংশীদারিত্ব ৬৫ শতাংশর বেশি হয়ে গেছে।   এর পেছনে ছিল তার একটি তহবিল সংগ্রহ অভিযান, যেখানে তিনি বহু ব্যক্তিগত বিনিয়োগকারীকে যুক্ত করেছিলেন। এই বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ছিলেন ইয়ান ম্যাককিকন (শীর্ষস্থানীয় ক্রীড়া ও বিনোদন সংস্থা টিম৮-এর অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা অংশীদার এবং লেভার কাপের স্রষ্টা), বিটি-এর সাবেক প্রধান নির্বাহী ফিল জ্যানসেন, ফিউচারলার্ন ও নেটওয়ার্ক ইন্টারন্যাশনালের চেয়ারম্যান রন কালিফা এবং বেটফেয়ারের প্রতিষ্ঠাতা এড রে। এছাড়াও সোমানি, সিমির মায়ো এবং মিহির প্যাটেলের মতো একদল প্রযুক্তি উদ্যোক্তাও এতে যুক্ত হন।   ২০২১ সালে যুক্ত হওয়া আরেকজন বড় মাপের বিনিয়োগকারী হলো রেডবার্ড ক্যাপিটাল পার্টনার্স, যাদের লিভারপুল ও বস্টন রেড সক্সের মূল সংস্থায় অংশীদারিত্ব রয়েছে এবং রাজস্থান রয়্যালসেও তাদের ১৫ শতাংশ শেয়ার আছে। এছাড়াও আরেক বড় বিনিয়োগকারী এবং মূল মালিকানা গোষ্ঠীর অংশ ছিলেন মিডিয়া টাইকুন রুপার্ট মারডকের বড় ছেলে ল্যাকলান মারডক।   মালিকানা বদলের এই প্রক্রিয়া অবশ্য রাজস্থান রয়্যালসের মাঠের পথচলায় কোনো প্রভাব ফেলবে না। আগামী সোমবার চেন্নাই সুপার কিংসের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে তাদের আইপিএল অভিযান শুরু হবে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন মার্চ ২৬, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত

ব্রাজিলের হয়ে নিজের ‘সবচেয়ে বড় লক্ষ্য’ প্রকাশ করলেন ভিনিসিউস

ছবি: সংগৃহীত

ব্রাজিলের জার্সিতে খেলতে এখন আরও প্রস্তুত দানিলো

ছবি: সংগৃহীত

আফ্রিকান কনফেডারেশনের সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে ক্রীড়া আদালতে সেনেগাল

নেইমার ও কার্লো আনচেলত্তি। ছবি : সংগৃহীত
নেইমারকে নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য আনচেলত্তির

বিশ্বকাপের প্রস্তুতি হিসেবে বোস্টনে ফ্রান্সের বিপক্ষে হাই-ভোল্টেজ প্রীতি ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে নেইমার ইস্যুতে মুখ খুলেছেন ব্রাজিলের কোচ কার্লো আনচেলত্তি। সান্তোসের হয়ে খেলা নেইমারকে দলে না নেওয়া নিয়ে ব্রাজিলের ফুটবল মহলে যে বিতর্ক চলছে, তা নিয়ে আনচেলত্তি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন- দল নির্বাচন তার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত, এখানে আবেগের চেয়ে যুক্তির প্রাধান্য বেশি। নেইমারকে কেন দলে রাখা হচ্ছে না এমন প্রশ্নের জবাবে ইতালিয়ান কোচ বলেন, ‘আমি সব দেখছি, সব শুনছি। কিন্তু আমার কাজ হলো সিদ্ধান্ত নেওয়া। এটা স্বাভাবিক যে সবার নিজস্ব মতামত থাকবে, কারণ ফুটবল কোনো বিশ্ববিদ্যালয় নয়... ফুটবল কোনো ধ্রুব বিজ্ঞান নয়। প্রত্যেকের মতামতের প্রতি আমার সম্মান আছে, কিন্তু দলের প্রয়োজনে আমাকেই কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হবে।’ জাতীয় দলের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত আনচেলত্তি একবারও নেইমারকে স্কোয়াডে ডাকেননি, যা নিয়ে ব্রাজিলের ফুটবল সমর্থকদের মধ্যে রয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। আনচেলত্তির ওপর চাপ বাড়াতে একাট্টা ব্রাজিলের বিশ্বকাপজয়ী তারকারা। ১৯৯৪ বিশ্বকাপের নায়ক রোমারিও সরাসরি বলেছেন, ‘একজন তারকা খেলোয়াড়কে খেলাতেই হবে। জাতীয় দল হলো সেরাদের জায়গা। বিশ্বকাপের প্রস্তুতির জন্য এক মাস সময় যথেষ্ট, যাতে একজন অ্যাথলেট শারীরিক ও মানসিকভাবে নিজেকে ফিরে পায়। ১০০ ভাগ ফিট না হলেও নেইমারের মতো একজন জাদুকরকে দলে রাখা যেকোনো সাধারণ খেলোয়াড়ের চেয়ে ভালো।’ একই সুরে কথা বলেছেন ‘দ্য ফেনোমেনন’ খ্যাত রোনালদো নাজারিও। তিনি বলেন, ‘নেইমার যদি শারীরিকভাবে খেলার যোগ্য থাকে, তবে আমি নিশ্চিত আনচেলত্তি তাকে বিশ্বকাপে নিয়ে যাবে। সে দলকে অনেক সাহায্য করতে পারে।’ সান্তোসে খেললেও নেইমার যে এখনো সতীর্থদের কাছে সেরা, তা স্পষ্ট করেছেন অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার ফাবিনহো। তিনি বলেন, ‘আমার কাছে নেইমার এখনো ব্রাজিলের সবচেয়ে প্রতিভাবান খেলোয়াড়। সে যেকোনো মুহূর্তে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে। ফর্মে থাকলে নেইমারই সেরা।’

মারিয়া রহমান মার্চ ২৫, ২০২৬ 0
নতুন নিয়মে তিনটি ক্ষেত্রে বল পরিবর্তন করা যাবে। ছবি : সংগৃহীত

ম্যাচে বল পরিবর্তনে নতুন বিধান, কী থাকছে নিয়মে?

'লাকি' ও 'প্রফিটিং'—পিএসএলে নতুন পরিচয় পেলেন মুস্তাফিজ-ইমন

বাংলাদেশ জাতীয় হকি দল। ছবি : সংগৃহীত

বদলে গেল বাংলাদেশের ভেন্যু ও টুর্নামেন্টের সময়সূচি

0 Comments