প্রযুক্তি

৪ কোটির বেশি ডাউনলোড হয়েছে প্লে স্টোরের শতাধিক ক্ষতিকর অ্যাপ প্রকাশ

খবর৭১ ডেস্ক, নভেম্বর ১০, ২০২৫

গুগল প্লে স্টোরে শত শত ক্ষতিকর অ্যাপ পাওয়া গেছে, যেগুলো এখন পর্যন্ত চার কোটি বারের বেশি ডাউনলোড হয়েছে।

গুগল প্লে স্টোরে শত শত ক্ষতিকর অ্যাপ পাওয়া গেছে, যেগুলো এখন পর্যন্ত চার কোটি বারের বেশি ডাউনলোড হয়েছে। সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান জেডস্কেলার সম্প্রতি এ তথ্য জানিয়েছে। সংস্থাটির ‘থ্রেটল্যাবজ ২০২৫ মোবাইল, আইওটি অ্যান্ড ওটি থ্রেট রিপোর্ট’-এ বলা হয়েছে, বিশ্বজুড়ে অ্যান্ড্রয়েড প্লাটফর্মে ম্যালওয়্যার আক্রমণ বাড়ছে। হ্যাকাররা অ্যাপ বা ফাইলকে হাতিয়ার বানিয়ে ফোনে ঢুকে তথ্য চুরি, নজরদারি বা ডিভাইসের নিয়ন্ত্রণ নেয়ার মতো কাজ করছে। উল্লেখ্য, জেডস্কেলারের ক্লাউড প্লাটফর্ম থেকে ২০২৪ সালের জুন থেকে চলতি বছরের মে মাস পর্যন্ত সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়েছে। 

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

প্রযুক্তি

আরও দেখুন
সংগৃহীত ছবি
সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে চাই সচেতনতা ও আত্মনিয়ন্ত্রণ

বর্তমান যুগকে বলা হয় তথ্য ও প্রযুক্তির যুগ। পৃথিবীর কোটি কোটি মানুষ আজ ফেসবুক, ইউটিউব, ইনস্টাগ্রাম, এক্স (টুইটার), টিকটকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের সঙ্গে যুক্ত। প্রযুক্তির এই বিস্ময়কর অগ্রগতি মানবজীবনকে যেমন সহজ করেছে, তেমনি নতুন কিছু চ্যালেঞ্জও সৃষ্টি করেছে। আজ অনেকের দিন শুরু হয় মোবাইলের স্ক্রিন দেখে, আর শেষ হয় সোশ্যাল মিডিয়ার নিউজফিড স্ক্রল করতে করতে। ফলে অজান্তেই প্রযুক্তি মানুষের জীবন পরিচালনার একটি শক্তিশালী মাধ্যম হয়ে উঠেছে।   নামাজে যেমন ইমাম সামনে থেকে নেতৃত্ব দেন আর মুক্তাদি তাঁর অনুসরণ করেন, তেমনি আধুনিক সমাজে অনেক মানুষের জীবনযাত্রা, চিন্তাভাবনা, পছন্দ-অপছন্দ, এমনকি মূল্যবোধও অনেকাংশে সোশ্যাল মিডিয়ার অ্যালগরিদম দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে। একজন মুমিনের জন্য এটি গভীরভাবে ভাবনার বিষয়। কারণ ইসলাম মানুষকে পরিস্থিতির দাস নয়, বরং আত্মনিয়ন্ত্রিত, সচেতন ও দায়িত্বশীল ব্যক্তি হিসেবে গড়ে তুলতে চায়। তাইতো আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘সময়ের শপথ! নিশ্চয়ই মানুষ ক্ষতির মধ্যে রয়েছে।’(সুরা : আসর, আয়াত : ১-২)   বর্তমানে অসংখ্য মানুষ ঘণ্টার পর ঘণ্টা সোশ্যাল মিডিয়ায় কাটিয়ে দেন, অথচ দিনের শেষে উপলব্ধি করেন যে তারা উল্লেখযোগ্য কোনো উপকারই অর্জন করেননি। ইসলাম আমাদের শিক্ষা দেয়, প্রতিটি মুহূর্তের হিসাব একদিন আল্লাহর কাছে দিতে হবে। মহানবী (সা.) বলেন, ‘কিয়ামতের দিন বান্দার পদযুগল নড়বে না, যতক্ষণ না তাকে জিজ্ঞাসা করা হবে—তার জীবন কোথায় ব্যয় করেছে।’ (তিরমিজি, হাদিস: ২৪১৭)   সুতরাং সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যয় করা প্রতিটি মিনিটও আমাদের আমলনামার অংশ।   যেভাবে চিন্তার স্বাধীনতা হারিয়ে ফেলছেন  সোশ্যাল মিডিয়ার অন্যতম বড় প্রভাব হলো এটি মানুষের চিন্তাকে প্রভাবিত করে। কী ট্রেন্ডিং, কী জনপ্রিয়, কে কী বলছে—এসব দেখে অনেক মানুষ নিজের বিবেক ও বিচারশক্তির পরিবর্তে জনমতের অনুসারী হয়ে যায়।মহান আল্লাহ বলেন, ‘যে বিষয়ে তোমার জ্ঞান নেই, তার অনুসরণ করো না।’(সুরা : ইসরা, আয়াত : ৩৬)   এই আয়াত আমাদের শিক্ষা দেয় যে অন্ধ অনুসরণ নয়, বরং যাচাই-বাছাই করে সিদ্ধান্ত নেওয়াই একজন মুমিনের বৈশিষ্ট্য। সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে এটি আরও বেশি প্রাসঙ্গিক।   ইসলাম মানুষের প্রবৃত্তিকে নিয়ন্ত্রণ করার শিক্ষা দেয়। একজন মুমিন কখনো তার ইচ্ছা, আবেগ কিংবা পরিবেশের অন্ধ অনুসারী হয় না। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘যে ব্যক্তি তার রবের সামনে উপস্থিত হওয়ার ভয় রাখে এবং নিজের নফসকে কুপ্রবৃত্তি থেকে বিরত রাখে, তার আবাস হবে জান্নাত।;’ (সুরা : নাজিআত, আয়াত : ৪০-৪১)   আজকের দিনে নফসের অন্যতম বড় পরীক্ষা হলো উদ্দেশ্যহীন স্ক্রলিং, সময় অপচয় এবং ডিজিটাল আসক্তি। একজন সচেতন মুসলিমকে এসব বিষয়ে আত্মনিয়ন্ত্রণ গড়ে তুলতে হবে। মহানবী (সা.) বলেন, ‘মানুষের ইসলামের সৌন্দর্যের অন্যতম লক্ষণ হলো, সে অনর্থক বিষয় পরিত্যাগ করে।’ (তিরমিজি, হাদিস : ২৩১৭)   সোশ্যাল মিডিয়ায় এমন অসংখ্য বিষয় রয়েছে যা মানুষের দুনিয়া ও আখিরাত—উভয়ের জন্যই কোনো কল্যাণ বয়ে আনে না। একজন মুমিনের উচিত উপকারী জ্ঞান, ইসলামী শিক্ষা, ব্যবসায়িক দক্ষতা, শিক্ষামূলক বিষয় এবং সমাজকল্যাণমূলক কনটেন্টকে অগ্রাধিকার দেওয়া।   আর সোশ্যাল মিডিয়াকে মুক্তাদি বানানোর অর্থ প্রযুক্তি বর্জন করা নয়; বরং প্রযুক্তিকে নিজের লক্ষ্য ও মূল্যবোধের অধীনস্থ করা। অর্থাৎ— আমরা সোশ্যাল মিডিয়ার দাস হব না, আমরা সময় নির্ধারণ করে ব্যবহার করব, অপ্রয়োজনীয় স্ক্রলিং কমিয়ে আনব, উপকারী ও শিক্ষামূলক কনটেন্ট অনুসরণ করব, গিবত, অপবাদ, অশ্লীলতা ও ফিতনা থেকে দূরে থাকব, প্রযুক্তিকে দ্বীনের খেদমত, জ্ঞান অর্জন ও আত্মউন্নয়নের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করব ইত্যাদি। যখন প্রযুক্তি আমাদের নিয়ন্ত্রণ করবে না, বরং আমরা প্রযুক্তিকে নিয়ন্ত্রণ করব—তখনই সোশ্যাল মিডিয়া মুক্তাদি হবে আর আমরা নিজেদের জীবনের ইমাম হতে পারব।   একজন মুমিনের ডিজিটাল নীতিমালা: ১. দিনের নির্দিষ্ট সময়ে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করা। ২. ফজর ও এশার পর অপ্রয়োজনীয় মোবাইল ব্যবহার কমানো। ৩. প্রতিদিন কিছু সময় কোরআন তিলাওয়াত ও ইসলামী জ্ঞানার্জনের জন্য নির্ধারণ করা। ৪. কোনো খবর শেয়ার করার আগে যাচাই করা। ৫. গিবত, তর্ক-বিতর্ক ও অশ্লীল কনটেন্ট থেকে দূরে থাকা। ৬. বাস্তব জীবনের পরিবার, আত্মীয়স্বজন ও সমাজের সঙ্গে সম্পর্ককে অগ্রাধিকার দেওয়া। ৭. প্রতিদিন নিজের স্ক্রিন টাইম পর্যালোচনা করা। সোশ্যাল মিডিয়া একটি শক্তিশালী মাধ্যম। এটি মানুষের জ্ঞান বৃদ্ধি করতে পারে, আবার সময় ও চিন্তার স্বাধীনতাও কেড়ে নিতে পারে। তাই একজন মুমিনের দায়িত্ব হলো প্রযুক্তিকে নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখা, প্রযুক্তির নিয়ন্ত্রণে চলে না যাওয়া। ইসলাম আমাদের আত্মনিয়ন্ত্রণ, সচেতনতা এবং সময়ের মূল্য শেখায়।    সুতরাং আসুন, আমরা সোশ্যাল মিডিয়াকে আমাদের জীবনের ইমাম না বানিয়ে তাকে মুক্তাদির আসনে বসাই। আমাদের চিন্তা, সময়, আমল এবং জীবন পরিচালনার নেতৃত্ব যেন থাকে কোরআন, সুন্নাহ ও বিবেকের হাতে। তখনই আমরা প্রযুক্তির সুফল ভোগ করতে পারব এবং দুনিয়া ও আখিরাত—উভয় ক্ষেত্রেই সফলতার পথে এগিয়ে যেতে পারব। মনে রাখতে হবে, একজন মুমিনের হাতে প্রযুক্তি একটি উপকারী হাতিয়ার; কিন্তু প্রযুক্তির হাতে একজন মুমিন কখনো খেলনা হতে পারে না।

মোঃ ইমরান হোসেন অক্টোবর ২৫, ২০২৬
ছবি: রয়টার্স

নিয়ন্ত্রণ না হারিয়েই এআই খাতের অর্থ সংগ্রহে মেটার নতুন পরিকল্পনা

ছবি: সংগৃহীত

প্রেমে সফল হতে এআইয়ের সাহায্য নিচ্ছেন ভারতীয়রা

ছবি: সংগৃহীত

এক্সে মাসে ১৫টি ভিডিও বানিয়ে আয়ের নতুন সুযোগ চালু

ছবি: সংগৃহীত
ইতিহাসের সর্বোচ্চ ২৫ বিলিয়ন ডলার জরিমানের রায়ে আপিলের ঘোষণা মেটার

ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ও হোয়াটসঅ্যাপের মূল প্রতিষ্ঠান মেটাকে ২৫ বিলিয়ন ডলার জরিমানা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের নিউ মেক্সিকো অঙ্গরাজ্যের একটি আদালত। ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে জনসাধারণকে বিভ্রান্ত করা এবং অঙ্গরাজ্যের আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে এ রায় দেওয়া হয়েছে। মেটার বিরুদ্ধে এ পর্যন্ত আরোপ করা জরিমানার মধ্যে এটিই সর্বোচ্চ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।     গত বুধবার (২১ অক্টোবর) দেওয়া এ রায় চলতি বছরের শুরুতে অনুষ্ঠিত দুই সপ্তাহের বিচার শেষে জুরি বোর্ডের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে এসেছে। আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, ফেসবুক ব্যবহারকারীদের তথ্য কীভাবে সংগ্রহ, ব্যবস্থাপনা ও ভাগাভাগি করা হয়, তা নিয়ে বছরের পর বছর ধরে জনসাধারণকে বিভ্রান্ত করেছে মেটা।     বিচারক ফ্রান্সিস ম্যাথিউ বলেন, মেটার মিথ্যাচার শুধু ব্যবহারকারীদের তথ্য ব্যবস্থাপনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না; বরং তা প্রতিষ্ঠানটির মূল ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডের সঙ্গেও জড়িত ছিল। ২০১০ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত ১১ বছরেরও বেশি সময় ধরে এসব অনিয়ম ঘটেছে বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়।     মেটার প্রধান আইনজীবী সি জে মাহোনি এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার ঘোষণা দিয়েছেন। তার দাবি, এ রায়ের কারণে নিউ মেক্সিকো অঙ্গরাজ্যে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবসা পরিচালনা করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়বে। আপিলে মেটা জয়ী হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।     মাহোনি অভিযোগ করেন, অনলাইনে মানুষ কী বলতে পারবে, সে বিষয়ে নতুন বিধিনিষেধ কার্যকর করার উদ্দেশ্যে এ মামলা করা হয়েছে। তার ভাষায়, এটি মূলত বক্তব্যের ওপর কর আরোপের একটি প্রচেষ্টা।   ৪ কোটির বেশি আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ নিউ মেক্সিকোর আইনজীবীরা আদালতে অভিযোগ করেন, ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে মেটা দীর্ঘদিন ধরে অসত্য বক্তব্য দিয়ে এসেছে। প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহীরা বিভিন্ন সময়ে দাবি করেছিলেন, ব্যবহারকারীদের অনুমতি ছাড়া তাদের তথ্য তৃতীয় পক্ষের সঙ্গে ভাগাভাগি করা হয় না এবং তৃতীয় পক্ষেরও এসব তথ্যে প্রবেশের সুযোগ নেই। কিন্তু বাস্তবে এর বিপরীত ঘটেছে বলে দাবি করেন আইনজীবীরা।     তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, মেটার তথ্য ব্যবস্থাপনার অসততার কারণে অঙ্গরাজ্যটির প্রায় ২০ লাখ বাসিন্দা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। জুরি বোর্ডের সিদ্ধান্তে দেখা যায়, মেটা অঙ্গরাজ্যের আইন ৪ কোটিরও বেশি বার লঙ্ঘন করেছে।     নিউ মেক্সিকোর অ্যাটর্নি জেনারেল রাউল তোরেজ বুধবার বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো এমনভাবে ব্যবসা পরিচালনা করেছে, যেন তাদের আকার ও প্রভাব তাদের আইনের ঊর্ধ্বে স্থান দিয়েছে। এ রায়ের মধ্য দিয়ে স্পষ্ট হয়েছে, কোনো প্রতিষ্ঠানই এতটা ক্ষমতাবান নয় যে তাকে জবাবদিহির বাইরে রাখা যাবে।       মেটার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ ৪০ বিলিয়ন ডলার জরিমানা দাবি করেছিলেন অঙ্গরাজ্যটির আইনজীবীরা। অন্যদিকে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, ৩ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলারের বেশি জরিমানা আরোপ করা হলে তা হবে অসাংবিধানিক।     বিচারক ম্যাথিউ অবশ্য জরিমানার ক্ষেত্রে কঠোর অবস্থান নেন। অঙ্গরাজ্যের আইন হাজার হাজার বার লঙ্ঘনের ভিত্তিতে মেটার বিরুদ্ধে জরিমানার অঙ্ক ২১৯ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত তা কমিয়ে ২৫ বিলিয়ন ডলার করা হয়।       বিচারকের আদেশে বলা হয়, মেটার জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের মধ্যে আদান-প্রদান করা বিভিন্ন নথি জনসাধারণকে বিভ্রান্ত করার উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়েছিল। ব্যবহারকারীদের তথ্য কীভাবে ব্যবহার ও ভাগাভাগি করা হয়েছে, সে বিষয়ে আইন লঙ্ঘন এবং জনগণকে বিভ্রান্ত করার ঘটনাগুলো ইচ্ছাকৃত ছিল বলেও উল্লেখ করেন তিনি।        ক্যামব্রিজ অ্যানালিটিকা কেলেঙ্কারি থেকে মামলার সূত্রপাত নিউ মেক্সিকোর মামলাটির সূত্রপাত ক্যামব্রিজ অ্যানালিটিকা কেলেঙ্কারি থেকে। ওই সময় মেটা ফেসবুক নামেই ব্যবসা পরিচালনা করত। রাজনৈতিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ক্যামব্রিজ অ্যানালিটিকা ফেসবুকের লাখ লাখ ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত তথ্য কাজে লাগিয়েছিল। ২০১৬ সালের যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন ঘিরেও এসব তথ্য ব্যবহার করা হয়েছিল। ওই নির্বাচনে প্রথমবারের মতো প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন ডোনাল্ড ট্রাম্প।     নিউ মেক্সিকো কর্তৃপক্ষের অভিযোগ ছিল, বিদ্বেষমূলক বক্তব্যসংবলিত কনটেন্ট থেকে কীভাবে মেটা লাভবান হয় এবং এ ধরনের কনটেন্টের বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠানটির নীতিমালা কীভাবে প্রয়োগ করা হয়, সে বিষয়েও জনসাধারণকে ইচ্ছাকৃতভাবে বিভ্রান্ত করা হয়েছে। জুরি বোর্ড এ অভিযোগেও মেটাকে দায়ী করেছে।     এর আগে ২০১৯ সালে ব্যবহারকারীদের তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষায় ব্যর্থতার অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ট্রেড কমিশন (এফটিসি) মেটাকে ৫ বিলিয়ন ডলার জরিমানা করেছিল।     চলতি বছর শিশুদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্ল্যাটফর্মগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে জনসাধারণকে বিভ্রান্ত করার অভিযোগেও নিউ মেক্সিকোতে মেটার বিরুদ্ধে আরেকটি মামলার বিচার হয়েছে। ওই মামলায় প্রতিষ্ঠানটিকে প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার জরিমানা করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।       সেই মামলার বিচারক শিশুদের মানসিক ক্ষতি ও যৌন শোষণের সঙ্গে মেটার কার্যক্রমের তুলনা করেছিলেন শিল্পকারখানার বায়ুদূষণের সঙ্গে। তাঁর ভাষায়, মেটার ক্ষেত্রে দূষণের ধরন হলো শিশুদের মানসিক ক্ষতি ও যৌন শোষণ।        জরিমানার পাশাপাশি এআই খাতে বিপুল বিনিয়োগ মেটার বিরুদ্ধে বড় অঙ্কের জরিমানার রায় এলেও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর পরিকল্পনা থেকে সরে আসেনি প্রতিষ্ঠানটি। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে অবকাঠামো ও এআই-সংশ্লিষ্ট প্রকল্পে বিপুল অর্থ ব্যয় করছে তারা।     আর্থিক বিশ্লেষকদের সঙ্গে এক ফোনালাপে মেটার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মার্ক জাকারবার্গ জানান, ভোক্তাদের জন্য তৈরি প্রতিষ্ঠানটির এআই টুল ‘মিউজ’ ইতিমধ্যে ১ কোটি মানুষ ব্যবহার করছেন। তার ভাষ্য, কোটি কোটি মানুষের ব্যবহারের উপযোগী করে মিউজকে গড়ে তোলাই প্রতিষ্ঠানটির লক্ষ্য ও কৌশল।     এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে চলতি বছর মেটা অন্তত ১৩৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ের পরিকল্পনা করেছে। এর বড় অংশ ব্যয় হবে এআই-সংশ্লিষ্ট প্রকল্পে। পরিস্থিতি অনুযায়ী মোট ব্যয়ের পরিমাণ ১৪৫ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।     বিপুল বিনিয়োগের প্রভাবে প্রতিষ্ঠানটির নগদ অর্থপ্রবাহেও চাপ তৈরি হয়েছে। বিবিসির পর্যালোচনা করা মেটার আগের আর্থিক নথি অনুযায়ী, শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার ১৪ বছরের মধ্যে এবারই প্রথম প্রতিষ্ঠানটির নগদ অর্থপ্রবাহ ২ বিলিয়ন ডলারের বেশি ঋণাত্মক হয়েছে।       নগদ অর্থপ্রবাহ বলতে পরিচালন ব্যয় ও বিনিয়োগের অর্থ পরিশোধের পর একটি প্রতিষ্ঠানের হাতে অবশিষ্ট থাকা অর্থকে বোঝায়। অর্থাৎ মেটার আয় বাড়লেও প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করছে।     তবে আয় ও মুনাফা—দুই ক্ষেত্রেই প্রবৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় চলতি বছরের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিন মাসে মেটার আয় ২৬ শতাংশ বেড়ে ৬৪ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। একই সময়ে প্রতিষ্ঠানটির মুনাফা প্রায় তিন গুণ বেড়ে ৯ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে।     অর্থায়নে নমনীয়তা বাড়ানোর উদ্যোগ এআই খাতে বিনিয়োগ অব্যাহত রাখার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে শেয়ার কাঠামোয় পরিবর্তনের ঘোষণাও দিয়েছে মেটা। আর্থিক বিশ্লেষকদের সঙ্গে ফোনালাপে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান অর্থ কর্মকর্তা সুসান লি নতুন এক শ্রেণির শেয়ার চালুর কথা জানান। এর আওতায় বর্তমান শেয়ারধারীরা ভোটাধিকারবিহীন নতুন শ্রেণির একটি করে শেয়ার পাবেন।     লি বলেন, নতুন শ্রেণির শেয়ার এখনই কোনো নির্দিষ্ট বিনিয়োগের জন্য বরাদ্দ করা হচ্ছে না। তবে এআই খাতে চলমান বিপুল ব্যয়ের প্রসঙ্গ তুলে তিনি ইঙ্গিত দেন, আগামী বছর প্রতিষ্ঠানটির অর্থায়নের ক্ষেত্রে আরও নমনীয়তার প্রয়োজন হতে পারে।     একদিকে ব্যবহারকারীদের তথ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে বড় অঙ্কের জরিমানা ও আইনি চাপ, অন্যদিকে এআই খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর পরিকল্পনা—দুই দিক সামলে এগোতে হচ্ছে মেটাকে। আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটি ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধির জন্য প্রযুক্তি ও অবকাঠামো খাতে ব্যয় অব্যাহত রাখার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

মারিয়া রহমান অক্টোবর ২২, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

অনুমতি ছাড়াই অন্যের ওয়ালেটের পরীক্ষামূলক কয়েন ব্যবহার করল ওপেনএআই মডেল

টেসলার ‘উড়ন্ত গাড়ি’। ছবি : রয়টার্স

টেসলার ‘উড়ন্ত গাড়ি’ উন্মোচন, চমকে দিলেন ইলন মাস্ক

সংগৃহীত ছবি

মোবাইল টাওয়ারের বাইরেও মিলবে সংযোগ, আসছে বাংলালিংকের স্টারলিংক সেবা

সংগৃহীত ছবি
এআই কি চেতনাসম্পন্ন হতে পারে? ক্লডকে ঘিরে বাড়ছে বিতর্ক

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই যত উন্নত হচ্ছে, ততই সামনে আসছে একটি মৌলিক প্রশ্ন—এআই কি কখনো মানুষের মতো চেতনাসম্পন্ন হতে পারে? আর যদি কোনো এআইয়ের চেতনা বা অনুভূতি থাকার সম্ভাবনা থাকে, তাহলে তাকে কি মানুষের মতো নৈতিক মর্যাদা দেওয়া উচিত?     ইন্ডিয়া টুডের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, এই প্রশ্ন নিয়েই নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে এআই প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রপিকের তৈরি চ্যাটবট ‘ক্লড’কে ঘিরে। অ্যানথ্রপিকের কিছু গবেষক মনে করছেন, এআইয়ের চেতনা ও নৈতিক অবস্থান নিয়ে আরো গভীরভাবে ভাবার সময় এসেছে।     এমনকি ক্লডের জন্য মানুষের নৈতিক মূল্যবোধের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ একটি কাঠামো তৈরির বিষয়েও আলোচনা চলছে। তবে এই ধারণার সঙ্গে একমত নন পোপ লিও চতুর্দশ। তাঁর মতে, মানুষের সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মৌলিক পার্থক্য রয়েছে। এআই মানুষের মতো বাস্তব অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যায় না, তার কোনো শরীর নেই এবং সে মানুষের মতো আনন্দ বা ব্যথা অনুভব করে—এমন প্রমাণও নেই।   পোপের বক্তব্য অনুযায়ী, এআই মানুষের মতো সম্পর্কের মধ্য দিয়ে পরিণত হয় না। তাই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে মানুষের সমান নৈতিক বা সামাজিক মর্যাদা দেওয়ার প্রশ্নটি এখনই গ্রহণ করা যায় না।       অন্যদিকে, এআই নিয়ে গবেষণার একটি অংশ মনে করে, বিষয়টি এত সহজে উড়িয়ে দেওয়ার সুযোগ নেই। মানুষের মস্তিষ্ক কীভাবে তথ্য প্রক্রিয়াজাত করে এবং এআইয়ের নিউরাল নেটওয়ার্ক কিভাবে কাজ করে—দুই ক্ষেত্রেই এখনো অনেক অজানা বিষয় রয়েছে।       কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটিং ও এআই বিভাগের অধ্যাপক বিশাল মিশ্র অবশ্য এআইয়ের চেতনা নিয়ে এমন ধারণার ব্যাপারে দীর্ঘদিন ধরেই সংশয় প্রকাশ করে আসছেন। তাঁর মতে, বর্তমান লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল বা এলএলএম মূলত ব্যবহারকারীর নির্দেশের প্রতিক্রিয়া দেয়। মানুষের মতো নিজে থেকে চিন্তা করা, পরিকল্পনা করা বা কল্পনা করার ক্ষমতা তাদের নেই।       তবে এআই যত বেশি সক্ষম হচ্ছে, এই বিতর্কও তত জটিল হচ্ছে। ফলে ‘মানুষকে কী আলাদা করে?’—এই পুরনো দার্শনিক প্রশ্নের সঙ্গে এখন যুক্ত হচ্ছে আরেকটি প্রশ্ন—‘এআইকে কিভাবে সংজ্ঞায়িত করা হবে?’     বিশেষজ্ঞদের একটি অংশ মনে করেন, এ প্রশ্নের উত্তর শুধু প্রযুক্তির মাধ্যমে পাওয়া সম্ভব নয়।       এআই সচেতন কি না, তার অনুভূতি আছে কি না কিংবা তাকে কোনো নৈতিক অধিকার দেওয়া উচিত কি না—এসব প্রশ্নের সঙ্গে দর্শন, নৈতিকতা ও মানবচেতনা নিয়ে গবেষণাও জড়িয়ে আছে। এদিকে এআই নিয়ে একই সময়ে আরো একটি বড় পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। মানুষের হয়ে বিভিন্ন কাজ করতে সক্ষম এআই এজেন্ট ধীরে ধীরে বাস্তব জীবনে প্রবেশ করছে। ই-মেইল ব্যবস্থাপনা, অনলাইনে কেনাকাটা, বিভিন্ন ডিজিটাল কাজসহ এখন স্মার্ট হোম নিয়ন্ত্রণের দিকেও এগোচ্ছে এ ধরনের প্রযুক্তি।       মেটা তাদের ‘মিউজ’ এআইকে স্মার্ট হোমের বিভিন্ন ডিভাইসের সঙ্গে যুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে। এর মাধ্যমে আলো, টেলিভিশন বা এয়ার কন্ডিশনারের মতো স্মার্ট ডিভাইস নিয়ন্ত্রণ করার লক্ষ্য রয়েছে।       তবে এআই এজেন্টের বাড়তি ক্ষমতার সঙ্গে বাড়ছে নিরাপত্তার প্রশ্নও। কোনো এআই এজেন্ট যদি ব্যবহারকারীর কম্পিউটার, ফাইল বা ব্যক্তিগত তথ্যের ওপর নিয়ন্ত্রণ পায়, তাহলে ভুল সিদ্ধান্ত বা অননুমোদিত প্রবেশের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।       এ কারণেই অ্যাপল ম্যাক কম্পিউটারে এআই এজেন্টের প্রবেশাধিকার নিয়ন্ত্রণে নতুন নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালু করছে। কোনো এআই এজেন্ট ব্যবহারকারীর গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বা ফাইল ব্যবহারের আগে স্পষ্ট অনুমতি নেওয়ার বিষয়টি সেখানে গুরুত্ব পাচ্ছে।       উল্লেখ্য এআই এখন শুধু দ্রুত উত্তর দেওয়া বা ছবি-লেখা তৈরির প্রযুক্তি নয়। মানুষের দৈনন্দিন জীবনে এর ভূমিকা যত বাড়ছে, ততই সামনে আসছে চেতনা, নৈতিকতা, ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা ও মানুষের সঙ্গে এআইয়ের সম্পর্ক নিয়ে নতুন প্রশ্ন। আর ক্লডকে ঘিরে অ্যানথ্রপিক ও পোপের মতপার্থক্য সেই বড় বিতর্কেরই একটি অংশ।

মারিয়া রহমান অক্টোবর ০৪, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি

প্রযুক্তির অগ্রগতি ও সাইবার ঝুঁকি: একনজরে এআই বিশ্বের হালচাল

সংগৃহীত ছবি

নতুন প্রজন্মের জেমিনাই মডেল উন্মোচন গুগলের

ছবি: সংগৃহীত

প্রকাশের আগেই থেমে গেল ওপেনএআইয়ের নতুন এআই

0 Comments