সারাদেশ

নিহত রোকেয়া রহমান ও তার মেয়ে ফাতেমা। ছবি: সংগৃহীত
শিক্ষিকার ঘরে নিখোঁজ মা-মেয়ের লাশ, যে তথ্য দিল পুলিশ

ঢাকার কেরানীগঞ্জে নিখোঁজের প্রায় ২১ দিন পর এক কিশোরী ও তার মায়ের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মর্মান্তিক এই ঘটনায় এলাকায় চরম চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় কেরানীগঞ্জের কালিন্দী ইউনিয়নের মুক্তিরবাগ এলাকার একটি পাঁচতলা ভবনের দ্বিতীয় তলার একটি ফ্ল্যাট থেকে মরদেহ দুটি উদ্ধার করা হয়। নিহতরা হলেন—জোবাইদা রহমান ফাতেমা (১৪) ও তার মা রোকেয়া রহমান (৩২)। স্বজনদের বরাতে জানা গেছে, রোকেয়ার স্বামী শাহীন আহম্মেদ পেশায় একজন মুহুরি। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম সাইফুল আলম। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৫ ডিসেম্বর বিকেল ৫টার দিকে জোবাইদা রহমান ফাতেমা মুক্তিরবাগ এলাকার শামীম নামের এক ব্যক্তির মালিকানাধীন বাড়ির দ্বিতীয় তলায় প্রাইভেট পড়তে যায়। ওই ফ্ল্যাটে তার গৃহশিক্ষিকা মিম বসবাস করতেন। প্রাথমিকভাবে জানা যায়, সন্ধ্যা ৬টা ৪০ মিনিটের দিকে প্রাইভেট শেষ করে ফাতেমা বাসা থেকে বের হয়। একই সময় তার মা রোকেয়া রহমানও নিজ বাসা থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন। এরপর থেকে মা–মেয়ের আর কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। দীর্ঘ সময় কোনো সন্ধান না পেয়ে ২৬ ডিসেম্বর শাহীন আহম্মেদ কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পরে চলতি বছরের ৬ জানুয়ারি তিনি অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে একটি অপহরণ মামলা দায়ের করেন। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় গৃহশিক্ষিকা মিমের ফ্ল্যাট থেকে দুর্গন্ধ বের হলে স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। বিষয়টি পুলিশকে জানানো হলে কেরানীগঞ্জ মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ফ্ল্যাটটি তল্লাশি চালায়। এ সময় খাটের নিচ থেকে রোকেয়া রহমানের অর্ধগলিত মরদেহ এবং বাথরুমের ফলস ছাদ থেকে শিশু ফাতেমার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে এবং প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহ করে। নিহতদের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। এ বিষয়ে ওসি এম সাইফুল আলম বলেন, প্রাথমিকভাবে এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে চারজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও জানান, ঘটনায় জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত জোরদার করা হয়েছে এবং আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। খুব শিগগিরই এ ঘটনায় হত্যা মামলা রুজু করা হবে।

মোঃ ইমরান হোসেন জানুয়ারী ১৬, ২০২৬ 0
রমজানের আগেই এলপিজি সরবরাহ স্বাভাবিকের আশ্বাস

আসন্ন রমজানের আগে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) সংকট কেটে যাবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ। তিনি বলেছেন, ‘বর্তমান সংকটটি সাময়িক হলেও দীর্ঘ মেয়াদে বাজার স্থিতিশীল রাখতে একটি সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা জরুরি।’   বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে এনার্জি অ্যান্ড পাওয়ার ম্যাগাজিন আয়োজিত ‘এলপিজি বাজারে নিয়ন্ত্রক চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন। আলোচনাটি সঞ্চালনা করেন ম্যাগাজিনের সম্পাদক মোল্লা আমজাদ হোসেন।   জালাল আহমেদ বলেন, ‘দেশে কত পরিমাণ এলপিজি আমদানি হচ্ছে, সে বিষয়ে আমদানিকারকদের কাছ থেকে পূর্ণাঙ্গ তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না। এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (লোয়াব) কাছ থেকে পরিবেশকদের তালিকা চাওয়া হলেও অর্ধেক সদস্য তা দেননি। এতে করে বাজার পরিস্থিতি মূল্যায়ন ও দাম নির্ধারণে জটিলতা তৈরি হচ্ছে।’   বিইআরসি চেয়ারম্যান জানান, আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা, বৈশ্বিক বাজার পরিস্থিতি এবং বড় ক্রেতাদের আধিপত্যের কারণে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে এলপিজি আমদানি কমে গেছে।   মূল প্রবন্ধে ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের (আইইউবি) ভাইস চ্যান্সেলর ও জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. ম. তামিম বলেন, ‘দেশে এলপিজির সংকট নতুন নয়, তবে সাম্প্রতিক সময়ে তা আরও গভীর হয়েছে। পাইপলাইনের গ্যাস না থাকায় এলপিজির ওপর নির্ভরতা দ্রুত বাড়ছে। বর্তমানে প্রায় ২০ লাখ গ্রাহক থাকলেও অল্প সময়ের মধ্যেই তা ৩৫ লাখে পৌঁছাবে।’   তিনি আরও বলেন, ‘একাধিক সংস্থার নিয়ন্ত্রণ, জটিল লাইসেন্সিং ও উচ্চ ফি এলপিজি খাতের বড় বাধা। নিয়ন্ত্রণমূলক নয়, নিরাপত্তাভিত্তিক নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থার প্রয়োজন রয়েছে।’   ভোক্তা অধিকার সংগঠন কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি এএইচএম শফিকুজ্জামান বলেন, ‘এলপিজিকে অত্যাবশ্যকীয় পণ্য ঘোষণা না করলে বাজার নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। নির্ধারিত দামে এলপিজি পাওয়া যাচ্ছে না–এই ব্যবধান কোথায় হচ্ছে তা খুঁজে বের করা জরুরি।’   লোয়াবের সভাপতি আমিনুল হক বলেন, ‘লাইসেন্সিং প্রক্রিয়া, উচ্চ নবায়ন ফি ও কার্গো খালাসের সীমাবদ্ধতা দূর না হলে সংকট কাটবে না। নতুন বিনিয়োগও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।’   এসময় জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের যুগ্ম সচিব একেএম ফজলুল হক, পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক শামসুজ্জামান সরকার, পেট্রোবাংলার সাবেক পরিচালক আলী ইকবাল মোহাম্মদ নুরুল্লাহ, বিস্ফোরক অধিদপ্তরের প্রধান পরিদর্শক মো. আবুল হাসান, জেএমআই গ্রুপের চেয়ারম্যান আবদুর রাজ্জাক, যমুনা স্পেস-টেকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বেলায়েত হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

মারিয়া রহমান জানুয়ারী ১৫, ২০২৬ 0
ট্রাকের ধাক্কা প্রাণ গেল প্রধান শিক্ষকের

ময়মনসিংহের ভালুকায় ট্রাকের ধাক্কায় মো. আবু বক্কর সিদ্দিক (৫৫) নামে এক প্রধান শিক্ষক নিহত হয়েছেন। আজ বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় উপজেলার সিডস্টোর-বটাজোর সড়কের পাড়াগাঁও বড়চালা আজিজুল হক মেম্বারের বাড়ির মোড়ে এ দুর্ঘটনাটি ঘটে।   উপজেলার কাচিনা ইউনিয়নের কাচিনা খানপাড়ার আলীম উদ্দিনের ছেলে আবু বক্কর সিদ্দিক পাড়াগাঁও পশ্চিমপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কর্মরত ছিলেন। খবর পেয়ে ভালুকা মডেল থানা পুলিশ নিহতের লাশ উদ্ধার করে।   এ ঘটনায় আহত মোটরসাইলেক চালক আজাহারুল ইসলামকে ভালুকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়েছে।   থানা পুলিশ ও স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, ঘটনার সময় উপজেলার সিডস্টোর থেকে মোটরসাইকেলে বাড়ি ফিরছিলেন প্রধান শিক্ষক আবু বক্কর সিদ্দিক। পরে মোটরসাইকেলটি উপজেলার সিডস্টোর-বটাজোর সড়কের পাড়াগাঁও বড়চালা আজিজুল হক মেম্বারের বাড়ির মোড়ে পৌঁছলে পেছন দিক থেকে আসা একটি ট্রাক ওই মোটরসাইকেলটিকে ধাক্কা দেয়। এতে মোটরসাইকেল থেকে রাস্তায় পড়ে ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান আবু বক্কর।   ভালুকা মডেল থানার এসআই গোবিন্দ চন্দ্র জানান, দুর্ঘটনায় নিহতের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। ঘাতক ট্রাকটি আটক করা হয়েছে।

মারিয়া রহমান জানুয়ারী ১৫, ২০২৬ 0
ভোট নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করলেন রুমিন ফারহানা

ভোট নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ-বিজয়নগরের দুই ইউনিয়ন) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। একই সঙ্গে তিনি কর্মী-সমর্থকদের পাহারাদার হিসেবে থাকার অনুরোধ জানিয়েছেন।   বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) বিকেলে সরাইল উপজেলার আলীনগর গ্রামে স্থানীয়দের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এ শঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।   বিএনপি থেকে সদ্য বহিষ্কৃত রুমিন ফারহানা বলেন, ‘আমার কানে এসেছে সরাইলের কিছু সেন্টারে আগের রাতেই সিল মেরে রাখার চিন্তা করছে।   যদি কোথাও সিল দেওয়ার চেষ্টা করে, জাল ভোট দেওয়ার চেষ্টা করে তাহলে আপনারা পাহারাদার হিসেবে থাকবেন। মিডিয়ার ভাইদের প্রতি অনুরোধ আপনারা যেভাবে সহযোগিতা করেছেন সেভাবে আমাকে সহযোগিতা করে যাবেন।’ এ সময় তিনি একটিবার সুযোগ দেওয়ার জন্য এলাকাবাসীর প্রতি অনুরোধ জানান। পাশাপাশি সরাইল, আশুগঞ্জ ও বিজয়নগরের দুই ইউনিয়নে গ্যাস সংযোগসহ যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নে আশ্বাস দেন।

মারিয়া রহমান জানুয়ারী ১৫, ২০২৬ 0
লক্ষ্মীপুরে বিএনপি-জামায়াতের দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ১০

লক্ষ্মীপুরে বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়। বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় সদর উপজেলার চরশাহী ইউনিয়নে চরশাহী ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড বটগাছতলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।   খবর পেয়ে রাতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) হোসাইন মোহাম্মদ রায়হান কাজেমী সদর হাসপাতালে গিয়ে আহতসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলেন।   এ সময় বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীরা হাসপাতালে জড়ো হয়ে বিভিন্ন স্লোগান দেন। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। হাসপাতাল এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। হামলার অভিযোগ এনে পরে রাত সাড়ে ৮টায় দিকে জামায়াত নেতাকর্মীরা শহরে মিছিল করেছে।   এতে দুই শতাধিক নেতাকর্মী অংশ নেন। এ ঘটনায় জামায়াত ও বিএনপি নেতারা একে-অপরকে দোষারোপ করে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য দিয়েছেন। এদিকে আহতদের সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে। আহতরা হলেন চরশাহী ইউনিয়ন যুব বিভাগের সহসভাপতি সাকিব হোসেন, সেক্রেটারি আব্দুর রহমান, ৪ নং ওয়ার্ড সভাপতি হেজবুল্লাহ সোহেল, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের নেতা এমরান হোসেন ও শাহাদাত হোসেন খোকন এবং বিএনপির কর্মী রাসেল ভূঁইয়া, কামাল হোসেন ও রাসেল ভূঁইয়াসহ ১০ জন।   খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এক বাড়িতে মহিলা জামায়াতের তালিমকে কেন্দ্র করে বিএনপি নেতা রাসেল ভূঁইয়া ও জামায়াতের যুব বিভাগের নেতা আব্দুর রহমানের মধ্যে তর্ক হয়। এক পর্যায়ে আব্দুর রহমানকে পিটিয়ে আহত করে রাসেল। এ ঘটনায় পরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।   পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, মহিলা জামায়াতের দায়িত্বপ্রাপ্তরা বিএনপি নেতা বোরহান উদ্দিনের বাড়িতে ভোট চাওয়ার জন্য যায়। এ সময় তারা সেখানে ভোটার আইডি কার্ড চায়।   এ নিয়ে তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়। কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীর মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। চন্দ্রগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোরশেদ আলম বলেন, শুনেছি ভোটারদের কাছ থেকে ভোটার আইডি চাওয়ায় তর্ক-বিতর্কের এক পর্যায়ে সংঘর্ষ হয়েছে। এতে বিএনপি ও জামায়াতের কয়েকজন আহত হয়েছে বলে শুনেছি। ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

মারিয়া রহমান জানুয়ারী ১৫, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
নতুন কর্মসূচি দিয়ে সড়ক ছাড়লেন শিক্ষার্থীরা

নতুন কর্মসূচির ঘোষণা দিয়ে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ছেড়েছেন সরকারি ৭ কলেজের শিক্ষার্থীরা। সোমবার (১৫ জানুয়ারি) সন্ধ্যার দিকে সায়েন্সল্যাব ও টেকনিক্যাল মোড় থেকে সরে যান তারা। তবে দাবি আদায়ে অনড় থাকার কথা জানিয়ে আবারও আন্দোলনে ফেরার ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। আন্দোলনকারীরা জানান, ঢাকা সেন্ট্রাল বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাদেশ জারির দাবিতে আগামী সোমবার (১৯ জানুয়ারি) পুনরায় সায়েন্সল্যাব মোড় অবরোধ করা হবে। ওইদিন সেখানে গণজমায়েত ও আন্দোলনের জন্য একটি মঞ্চ তৈরিরও ঘোষণা দেন তারা। এর আগে বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) দুপুর ১টা থেকে ঢাকা সেন্ট্রাল বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাদেশ জারির দাবিতে সায়েন্সল্যাব মোড় অবরোধ করেন ৭ কলেজের শিক্ষার্থীরা। একপর্যায়ে তাদের সঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি বাস ভাঙচুর করা হয়। একই সঙ্গে রাজধানীর টেকনিক্যাল মোড়েও শিক্ষার্থীরা পৃথকভাবে অবরোধ কর্মসূচি পালন করেন। শিক্ষার্থীরা অবিলম্বে অধ্যাদেশ জারির জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান এবং দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দেন। অবরোধের ফলে রাজধানীর সায়েন্সল্যাব, টেকনিক্যাল মোড়সহ আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে যানচলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ যাত্রী, কর্মজীবী মানুষ ও পথচারীরা।

মোঃ ইমরান হোসেন জানুয়ারী ১৫, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
ফের অবরোধ ঢাকার তিন স্থান

প্রস্তাবিত ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি অধ্যাদেশ জারির দাবিতে রাজধানীতে অবরোধ কর্মসূচি পালন করেছেন সরকারি সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা।   বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) দুপুর ১২টা ৪৫ মিনিটের দিকে শিক্ষার্থীরা রাজধানীর সায়েন্সল্যাব, টেকনিক্যাল মোড় ও তাঁতীবাজার মোড় অবরোধ করেন। এতে সায়েন্সল্যাবসহ আশপাশের এলাকায় যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। ‘সাত কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় রূপান্তর আন্দোলন’-এর ব্যানারে শিক্ষার্থীরা একযোগে এই কর্মসূচি পালন করেন। তারা অভিযোগ করেন, গত ৭ ও ৮ ডিসেম্বর শিক্ষা ভবনের সামনে টানা অবস্থান কর্মসূচির সময় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বৈঠকে জানুয়ারির প্রথম দিকেই অধ্যাদেশ জারির আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। তবে নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও এখনো এ বিষয়ে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় বাধ্য হয়ে তারা রাজপথে নেমেছেন। এদিকে শিক্ষা মন্ত্রণালয় বলছে, অধ্যাদেশের চূড়ান্ত অনুমোদনের বিষয়ে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। মঙ্গলবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ বিভাগ থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, প্রশাসনিক উৎকর্ষ নিশ্চিত করা এবং শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবি পূরণের লক্ষ্যেই এই অধ্যাদেশ প্রণয়ন করা হয়েছে। পরবর্তী ধাপে দ্রুততম সময়ের মধ্যে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নীতিগত সম্মতি, এরপর লেজিসলেটিভ বিভাগের ভেটিং শেষে এটি উপদেষ্টা পরিষদের চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে। অবরোধে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থী ওমর ফারুক বলেন, “২০১৭ সালে পূর্ববর্তী স্বৈরাচারী সরকার জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত সাত কলেজকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে নিয়ে যায়। এই সিদ্ধান্তের নেতিবাচক প্রভাব আমাদের ওপর পড়ছে। রেজাল্ট বা একাডেমিক কাজের জন্য আমরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গেলে তারা রেজিস্ট্রার ভবনে পাঠায়, সেখানে গেলে আবার কলেজে যেতে বলে। কলেজে গেলে বলা হয়, আমরা বোর্ডের অধীনে, আমাদের কোনো দায়িত্ব নেই। এভাবে শিক্ষার্থীদের এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় ঘুরানো হচ্ছে।” তিনি আরও বলেন, “এই সংকটের সমাধান চেয়ে আমরা সরকারের কাছে গেলে তারা প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানায়, আমাদের জন্য একটি নতুন বিশ্ববিদ্যালয় করা হবে—যার নাম দেওয়া হয় ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি। এরপর ভর্তি পরীক্ষাও নেওয়া হয়, কিন্তু অধ্যাদেশ ছাড়াই বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে, যা কতটা বৈধ আমরা জানি না।” ওমর ফারুক অভিযোগ করেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম শুরু হলেও এখনো চূড়ান্ত অধ্যাদেশ দেওয়া হয়নি। বরং বারবার নানা অজুহাতে অধ্যাদেশের তারিখ পিছিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে আমরা নিয়মিত ক্লাস করতে পারছি না, ফলাফল প্রকাশেও চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।” তিনি বলেন, “আমাদের একটাই দাবি—চূড়ান্ত অধ্যাদেশ জারি করতে হবে। অধ্যাদেশ ছাড়া এই অচলাবস্থার অবসান সম্ভব নয়।”

মোঃ ইমরান হোসেন জানুয়ারী ১৫, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
অপারেশন ডেভিল হান্ট-২ : নোয়াখালীতে আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলিসহ গ্রেপ্তার ২

নোয়াখালীর হাতিয়াতে কোস্ট গার্ডের বিশেষ অভিযানে একটি দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্র ও দুই রাউন্ড তাজা কার্তুজসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে।   গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, উপজেলার দক্ষিণ সুল্লুকিয়া গ্রামের আব্দুর রহিমের ছেলে রুবেল উদ্দিন (২৪) ও হামদ উল্লাহ গ্রামের আকবর হোসেনের ছেলে মামুন উদ্দিন (২৪)।   বুধবার (১৪ জানুয়ারি ২০২৬) বিকেলে কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সিয়াম-উল-হক এ তথ্য নিশ্চিত করেন। এর আগে, গতকাল মঙ্গলবার রাতে উপজেলার ক্ষিরোদিয়া বলির ব্রিজ সংলগ্ন এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।   তিনি জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গতকাল মঙ্গলবার রাত ৯টায় হাতিয়া কোস্ট গার্ড স্টেশনের একদল সদস্য উপজেলার ক্ষিরোদিয়া বলির ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় “অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেজ-২”-এর আওতায় বিশেষ অভিযান চালায়। অভিযানে ১টি দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্র ও ২ রাউন্ড তাজা কার্তুজসহ ২জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা বিভিন্ন নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে এলাকায় জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করে আসছিল। জব্দকৃত আলামতসহ গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য হাতিয়া থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখবে।

মোঃ ইমরান হোসেন জানুয়ারী ১৪, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
সরকারি সিদ্ধান্তে নিজের মতামতের গুরুত্ব নেই বলে মনে করেন ৭৩% মানুষ

সংবিধানে বলা আছে—প্রজাতন্ত্রের সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ। এই ঘোষণাই বাংলাদেশের রাষ্ট্রদর্শনের ভিত্তি। তবে বাস্তবে রাষ্ট্র পরিচালনার প্রক্রিয়ায় সেই ক্ষমতার কোনো দৃশ্যমান প্রতিফলন নেই। দেশের অধিকাংশ মানুষ মনে করেন, রাষ্ট্র বা সরকার পরিচালনায় তাদের মতামতের তেমন কোনো গুরুত্ব নেই। একইভাবে রাজনৈতিক দলগুলো নিজেদের জনগণের প্রতিনিধি দাবি করলেও বাস্তব চিত্র ভিন্ন। অধিকাংশ নাগরিকের ধারণা, রাজনীতিতে তাদের কোনো প্রভাব নেই। বিশ্লেষকদের মতে, এটি শুধু রাজনৈতিক অনাগ্রহ নয়; বরং বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার একটি গভীর সংকটের প্রতিফলন।   সরকারি এক জরিপে এই সংকটের স্পষ্ট চিত্র উঠে এসেছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) প্রকাশিত ‘নাগরিক অভিমত জরিপ’ প্রতিবেদনে দেখা যায়, দেশের মাত্র এক-চতুর্থাংশ মানুষ মনে করেন, তারা সরকারি সিদ্ধান্ত বা রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় কোনো প্রভাব রাখতে পারেন। বিপরীতে, বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠ নাগরিকের বিশ্বাস—রাষ্ট্র ও রাজনীতিতে তাদের কোনো প্রভাব নেই বা তাদের কথা শোনা হয় না। জরিপের তথ্য অনুযায়ী, জাতীয় পর্যায়ে মাত্র ২৭ দশমিক ২৪ শতাংশ মানুষ মনে করেন, তারা সরকারি কার্যক্রমে অন্তত কিছুটা হলেও মতামত প্রকাশ করতে পারেন। বিপরীতে প্রায় ৭৩ শতাংশ নাগরিক বিশ্বাস করেন, সরকারি সিদ্ধান্তে তাদের মতামতের কোনো গুরুত্ব নেই বা তা সরকারের কাছে পৌঁছায় না। অর্থাৎ দেশের অধিকাংশ মানুষের মতামত উপেক্ষা করেই রাষ্ট্রীয় কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে বলে তাদের ধারণা। রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তারের ক্ষেত্রে চিত্র আরও হতাশাজনক। মাত্র ২১ দশমিক ৯৯ শতাংশ মানুষ মনে করেন, তারা দেশের রাজনৈতিক ব্যবস্থায় কোনো প্রভাব রাখতে পারেন। বিপরীতে ৫৬ দশমিক ৭৪ শতাংশ নাগরিক জানিয়েছেন, রাজনীতিতে তাদের কোনো প্রভাবই নেই। মাত্র ৯ শতাংশের কিছু বেশি মানুষ মনে করেন, তারা রাজনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব রাখতে সক্ষম। বিশ্লেষকদের মতে, এটি রাজনৈতিক কার্যকারিতার গুরুতর সংকট। যেখানে জনগণ বিশ্বাসই করে না যে রাজনৈতিক ব্যবস্থা তাদের মতামতকে গুরুত্ব দেয়। ফলে জনগণ রাষ্ট্রের মালিক হলেও বাস্তবে তারা কেবল ভোটের উপাদান হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ও সমাজ বিশ্লেষক ড. তৌহিদুল হকের মতে, বাংলাদেশ সাংবিধানিকভাবে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হলেও জনমত উপেক্ষার কারণে গণতন্ত্র গভীর সংকটে পড়েছে। জরিপের তথ্য প্রমাণ করে, দেশের বড় একটি অংশ মনে করে সরকার পরিচালনা ও রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় তাদের কোনো ভূমিকা নেই, যা গণতন্ত্রের মৌলিক চেতনার পরিপন্থী। তার ভাষায়, গণতন্ত্রের মোড়কে জনগণের সঙ্গে এক ধরনের ধারাবাহিক ফাঁকি চলছে। এর ফলে জনগণের অংশগ্রহণ কমছে, গণতান্ত্রিক চর্চা দুর্বল হচ্ছে এবং কাঙ্ক্ষিত গণতান্ত্রিক উত্তরণ বারবার বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। রাজনৈতিক দলগুলো মুখে জনগণের শাসনের কথা বললেও বাস্তবে দলীয় ও ব্যক্তি স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। আঞ্চলিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, বরিশাল ও রংপুর বিভাগে তুলনামূলকভাবে বেশি মানুষ মনে করেন, তারা সরকারি সিদ্ধান্তে কিছুটা হলেও প্রভাব রাখতে পারেন। বিপরীতে ময়মনসিংহ ও রাজশাহী বিভাগে এ হার সবচেয়ে কম। শহর ও গ্রামের মধ্যে বড় পার্থক্য না থাকলেও উভয় এলাকাতেই মানুষের মধ্যে রাষ্ট্রীয় সাড়া পাওয়ার বিষয়ে হতাশা প্রায় সমান। লিঙ্গভিত্তিক বিশ্লেষণে বৈষম্যের চিত্র আরও স্পষ্ট। পুরুষদের তুলনায় নারীরা অনেক কম মনে করেন যে তারা সরকারি সিদ্ধান্ত বা রাজনীতিতে প্রভাব রাখতে পারেন। রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তারের ক্ষেত্রে এই ব্যবধান আরও গভীর। শিক্ষা ও আয়ের ক্ষেত্রেও একই প্রবণতা দেখা গেছে। কম শিক্ষিত ও দরিদ্র জনগোষ্ঠীর মধ্যে রাজনৈতিক প্রভাবের অনুভূতি সবচেয়ে কম, আর উচ্চশিক্ষিত ও তুলনামূলকভাবে সচ্ছল শ্রেণির মধ্যে এই হার কিছুটা বেশি। বিশ্লেষকদের মতে, এতে স্পষ্ট হয় যে রাজনৈতিক ক্ষমতা ক্রমেই শ্রেণিভিত্তিক হয়ে উঠছে। তবে ব্যতিক্রম হিসেবে দেখা গেছে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ও ধর্মীয় সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর ক্ষেত্রে। এসব গোষ্ঠীর তুলনামূলকভাবে বেশি মানুষ মনে করেন, তারা সরকারি সিদ্ধান্ত ও রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় প্রভাব রাখতে পারেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, রাষ্ট্রীয় ও আন্তর্জাতিক সংবেদনশীলতার কারণেই এই গোষ্ঠীগুলোর প্রতি তুলনামূলকভাবে বাড়তি মনোযোগ দেওয়া হয়।   জরিপের সার্বিক ফলাফল বলছে, রাজনৈতিক প্রভাব ও নীতিনির্ধারণে জনগণের অংশগ্রহণ এখনো স্থান, শিক্ষা ও আয়ের ওপর নির্ভরশীল। এই বৈষম্য দূর না হলে গণতান্ত্রিক অন্তর্ভুক্তি জোরদার করা কঠিন হবে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জানুয়ারী ১৪, ২০২৬ 0
রেস্টুরেন্টের খাবার খেয়ে অসুস্থ, জরিমানা ৪০ হাজার টাকা

নারায়ণগঞ্জ সিদ্ধিরগঞ্জে একটি রেস্টুরেন্টে পরিবেশন করা বাসি খাবার খেয়ে অসুস্থ হওয়ার অভিযোগে অভিযান চালিয়ে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।   মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) দুপুরে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ উপজেলার হিরাঝিল এলাকায় ‘ঢাকা কাচ্চি ডাইন’ নামের রেস্টুরেন্টে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়।   সূত্র জানায়, ভোক্তার লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে নারায়ণগঞ্জ জেলা ভোক্তা অধিদপ্তরের একটি দল সেখানে যায়। অভিযান চলাকালে রেস্টুরেন্টের রান্নাঘর ও সংরক্ষণ ব্যবস্থায় একাধিক অনিয়ম ধরা পড়ে।   ফ্রিজে কাঁচা মাংসের সঙ্গে রান্না করা খাবার সংরক্ষণ করা হচ্ছিল। পাশাপাশি পঁচা ও বাসি খাবারও পাওয়া যায়, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ বলে জানান কর্মকর্তারা। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর নারায়ণগঞ্জের সহকারী পরিচালক রঞ্জন বণিক বলেন, ‘কয়েকদিন আগে একজন ভোক্তা ওই রেস্টুরেন্টে খাবার খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তিনি ভোক্তা অধিদপ্তরে অভিযোগ করেন।   অভিযোগ যাচাই করতেই এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে এবং স্বাস্থ্যবিধি লঙ্ঘনের প্রমাণ মিলেছে। তিনি আরো জানান, এসব অনিয়মের দায়ে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী রেস্টুরেন্টটিকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে খাদ্য সংরক্ষণ, রান্না ও পরিবেশনের ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যবিধি কঠোরভাবে মেনে চলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মারিয়া রহমান জানুয়ারী ১৪, ২০২৬ 0
পাঁচ সন্তানের সঙ্গে সুমন-এনি দম্পতির পরিবার। সংগৃহীত ছবি
১০ বছর পর দম্পতির কোলজুড়ে একসঙ্গে এলো পাঁচ সন্তান

দীর্ঘ ১০ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে আনন্দে ভাসছে চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার সুমন-এনি দম্পতির পরিবার। একসঙ্গে জন্ম নেওয়া পাঁচ নবজাতককে নিয়ে আজ মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) বিকেলে বাড়ি ফিরেছেন তারা।   স্থানীয় সূত্র জানায়, সাতকানিয়া উপজেলার বাসিন্দা ওয়াহিদুল ইসলাম সুমনের স্ত্রী এনি আক্তার গত বৃহস্পতিবার একসঙ্গে পাঁচটি সন্তান জন্ম দেন। এর মধ্যে তিনজন কন্যা ও দুজন পুত্র সন্তান।   চিকিৎসক সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন নিঃসন্তান থাকার পর প্রসূতি বিশেষজ্ঞ ফরিদা ইয়াসমিন সুমির তত্ত্বাবধানে ইন্ট্রা-ইউটেরাইন ইনসেমিনেশন (IUI) পদ্ধতির মাধ্যমে চট্টগ্রামের একটি বেসরকারি পিপলস হাসপাতালে পাঁচ নবজাতকের জন্ম হয়। জন্মের পর তাদের শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন থাকায় উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রামের আরেকটি বেসরকারি হাসপাতাল পার্ক ভিউ হসপিটালের এনআইসিইউতে ভর্তি করা হয়।   সেখানে অভিজ্ঞ চিকিৎসক ও নার্সদের নিবিড় পর্যবেক্ষণ এবং আধুনিক চিকিৎসাব্যবস্থার মাধ্যমে টানা চিকিৎসা চলতে থাকে। অবশেষে একে একে পাঁচ নবজাতক সুস্থ হয়ে ওঠে এবং চিকিৎসকদের ছাড়পত্র পেয়ে তারা পরিবারের সঙ্গে বাড়ি ফিরেছে।   পার্ক ভিউ হসপিটালের পরিচালক ডা. এ টি এম রেজাউল করিম বলেন, ‘অভিজ্ঞ চিকিৎসক দল, আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম এবং নিরবচ্ছিন্ন পরিচর্যার ফলেই পাঁচ নবজাতক সুস্থ হয়ে উঠেছে।’   প্রসূতি বিশেষজ্ঞ ফরিদা ইয়াসমিন সুমি জানান, সঠিক সময়ে উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করা গেলে এমন জটিল ক্ষেত্রেও ইতিবাচক ফল পাওয়া সম্ভব। সুমন-এনি দম্পতির পাঁচ সন্তানের সুস্থতা তারই উজ্জ্বল উদাহরণ।   উল্লেখ্য, গত ৮ ডিসেম্বর চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার এই দম্পতির ঘরে একসঙ্গে পাঁচটি শিশু জন্মগ্রহণ করে।   প্রসবের পর অতিরিক্ত চিকিৎসার প্রয়োজন হওয়ায় নবজাতকদের এনআইসিইউতে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছিল।

মারিয়া রহমান জানুয়ারী ১৩, ২০২৬ 0
আল আবরার ইন্টারন্যাশনাল হিফজ মাদ্রাসার ফটক।
মাদ্রাসার টয়লেটে মিলল শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ

গাজীপুরের কালিয়াকৈর বাইপাস এলাকায় একটি হিফজ মাদ্রাসার টয়লেট থেকে এক শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।   মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় কালিয়াকৈর থানা পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে।   নিহত মো. হাবিবউল্লাহ (১২) যশোরের কেশবপুর উপজেলার বাসিন্দা হামিদুল ইসলামের ছেলে।   পুলিশ ও মাদ্রাসা সূত্রে জানা গেছে, কালিয়াকৈর উপজেলার বাইপাস এলাকার আল আবরার ইন্টারন্যাশনাল হিফজ মাদ্রাসার হিফজ বিভাগের আবাসিক শিক্ষার্থী ছিল হাবিবউল্লাহ। প্রতিদিনের মতো মঙ্গলবার বিকেল আনুমানিক ৩টার দিকে সে পড়াশোনার সময় টয়লেটে যায়। দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও সে ফিরে না আসায় শিক্ষকরা বিষয়টি লক্ষ্য করেন। পরে মাদ্রাসার নিরাপত্তাকর্মীকে দিয়ে টয়লেটের দরজায় ডাকাডাকি করা হয়। কোনো সাড়া না পেয়ে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করলে টয়লেটের ভেন্টিলেশনের সঙ্গে তোয়ালে পেঁচানো অবস্থায় ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পান। খবর পেয়ে কালিয়াকৈর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।   মাদ্রাসার কয়েকজন শিক্ষার্থী অভিযোগ করে জানান, ওই মাদ্রাসায় শিক্ষার্থীদের বিভিন্নভাবে শারীরিক ও মানসিক নিযাতনের শিকার হতে হয়। বাড়ি যেতে চাইলে অনেক সময় অনুমতি দেওয়া হয় না। নিহত হাবিবউল্লাহ তার মাকে জানিয়েছিল, সে আর ওই মাদ্রাসায় থাকতে চায় না। তবে পরিবারের পক্ষ থেকে তাকে পুনরায় মাদ্রাসায় পাঠানো হয় বলে সহপাঠীরা দাবি করেন।   এ বিষয়ে কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার নাসীর উদ্দিন বলেন, এ ঘটনায় এখনো পর্যন্ত নির্যাতনসংক্রান্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

মারিয়া রহমান জানুয়ারী ১৩, ২০২৬ 0
পৌষ সংক্রান্তি উৎসব উপলক্ষে মৌলভীবাজারে বসেছে ঐতিহ্যবাহী মাছের মেলা।
পৌষ সংক্রান্তিতে বসেছে ঐতিহ্যবাহী মাছের মেলা

পৌষ সংক্রান্তি উৎসব উপলক্ষে মৌলভীবাজার জেলার বিভিন্ন বাজারে বসেছে ঐতিহ্যবাহী মাছের মেলা। এরমধ্যে কমলগঞ্জ উপজেলার ভানুগাছ, শমশেরনগর, আদমপুর ও মুন্সীবাজারে বসা বিশাল মাছের মেলায় ক্রেতা ও দর্শনার্থীদের উপচেপড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।   মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) সকাল ১০টা থেকে জেলার প্রতিটি বাজারেই মাছের মেলা শুরু হয়।   সরেজমিনে মুন্সীবাজারের মাছের মেলা ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিটি দোকানে বড় আকারের মাছ সাজিয়ে বসেছেন বিক্রেতারা। মেলায় বোয়াল, চিতল, রুই, কাতলা, বাগাড় মাছসহ নানা জাতের দেশীয় মাছ উঠেছে। পাঁচ কেজি থেকে শুরু করে ৩৫-৪০ কেজি ওজনের বড় বড় মাছ বিক্রি হচ্ছে। সাধারণ হাট-বাজারে যেসব মাছ সহজে পাওয়া যায় না, সেসব দুর্লভ মাছ সাজিয়ে ক্রেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করছেন বিক্রেতারা। তবে মাছের দাম তুলনামূলক বেশ চড়া বলে জানিয়েছেন ক্রেতারা।   মাছ বিক্রেতা সুমন মিয়া জানান, তিনি ২৫ কেজি ওজনের বোয়াল ও বাগাড় মাছ নিয়ে মেলায় বসেছেন। মাছ দুটির দাম তিনি ৭৫ হাজার টাকা হাঁকিয়েছেন। ক্রেতারা ৩০–৩২ হাজার টাকা পর্যন্ত দর বললেও তিনি বিক্রি করেননি।   আরেক ব্যবসায়ী শিপন মিয়া জানান, তিনি ৩৫ কেজি ওজনের একটি কাতলা মাছের দাম ৭০ হাজার টাকা চেয়েছেন। মাছটির দর ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত উঠলেও বিক্রি হয়নি।   মেলায় আসা ক্রেতারা জানান, হাওর ও নদীতে স্বাভাবিকভাবে বেড়ে ওঠা টাটকা দেশীয় মাছ কেনার জন্য তারা এই মেলার অপেক্ষায় থাকেন। অনেক দুর্লভ মাছ একমাত্র পৌষ সংক্রান্তির মেলাতেই পাওয়া যায়। তবে এ বছর মাছের সরবরাহ বেশি থাকলেও ক্রেতার উপস্থিতি তুলনামূলক কম।   মৎস্য ব্যবসায়ী অদন পাল বলেন, ‘পৌষ সংক্রান্তি উপলক্ষে প্রতিবছর আমরা এখান থেকে পাইকারি মাছ কিনে মৌলভীবাজার, সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করি।’   দর্শনার্থী জাহেদ আহমদ বলেন, ‘এই প্রথম মাছের মেলায় এলাম। এত বড় মাছ না এলে কখনো দেখা হতো না। শত বছরের ঐতিহ্য বহন করছে এই মেলা।’   এ বিষয়ে কমলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল আউয়াল বলেন, পৌষ সংক্রান্তি উপলক্ষে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে বিভিন্ন বাজারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।

মারিয়া রহমান জানুয়ারী ১৩, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
চট্টগ্রাম বন্দরে ৯ ‘জুলাই যোদ্ধা’ নিয়োগ ঘিরে সমালোচনা

দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের (চবক) কার্যক্রমে গতিশীলতা আনতে এবং জাতীয় বীরদের মূল্যায়নের অংশ হিসেবে ৯ জন ‘জুলাই যোদ্ধাকে’ বিশেষ নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।   সোমবার (১২ জানুয়ারি) চবকের চিফ পারসোনেল অফিসার মো. নাসির উদ্দিন স্বাক্ষরিত এক দাপ্তরিক আদেশের মাধ্যমে এই নিয়োগ চূড়ান্ত হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের বোর্ডের সিদ্ধান্ত (নং–১১৯২১) অনুযায়ী বন্দরের কাজের স্বার্থে এই নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। নিয়োগপ্রাপ্তরা ‘প্রশিক্ষণ সেবা সহযোগী’ ও ‘সহকারী’ পদে বন্দরের প্রশাসনিক ও কারিগরি বিভাগের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শাখায় দায়িত্ব পালন করবেন। প্রশাসন ও শিক্ষা বিভাগে (আরবি) মোহাম্মদ আল মিরাজ, চবক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে মো. ইব্রাহিম, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ উচ্চ বিদ্যালয়ে মো. মেহরাজ হোসেন, নৌ প্রকৌশল বিভাগে মাহবুবুল আলম, নৌ বিভাগে মো. শেফাতুল কাদের, বিদ্যুৎ বিভাগে সাইফুল ইসলাম, হাইড্রোগ্রাফি বিভাগে মোহাম্মদ সাকিল, পরিকল্পনা বিভাগে মো. আমির হোসেন এবং অর্থ ও হিসাব বিভাগে মোহাম্মদ তারেককে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তাদের মাসিক সেবামূল্য বা বেতন নিজ নিজ ব্যাংক অ্যাকাউন্টে প্রদান করা হবে এবং যোগদানের সাত দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যাংক ও আর্থিক তথ্য জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আদেশটি প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়। সমালোচকদের কেউ কেউ বলেন, কোটাবিরোধী আন্দোলন থেকে সৃষ্টি হওয়া জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা কীভাবে কোটার আওতায় নিয়োগ পান, সে বিষয়ে পরিষ্কার ব্যাখ্যা প্রয়োজন। এ বিষয়ে চবকের চিফ পারসোনেল অফিসার মো. নাসির উদ্দিন জানান, এই নিয়োগ এক বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জানুয়ারী ১৩, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
বিএনপি নেতার মৃত্যু: অভিযানে অংশ নেওয়া সব সেনা সদস্য প্রত্যাহার

চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে যৌথ বাহিনীর অভিযানে আটকের পর এক বিএনপি নেতার মৃত্যুর ঘটনায় ওই অভিযানে অংশ নেওয়া সব সেনা সদস্যকে সেনানিবাসে প্রত্যাহার করা হয়েছে। একই সঙ্গে সঠিক কারণ উদঘাটনে একটি উচ্চপদস্থ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।   মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর বা আইএসপিআর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে। আইএসপিআর জানায়, গত ১২ জানুয়ারি (সোমবার) আনুমানিক রাত ১১টার দিকে চুয়াডাঙ্গা জেলার জীবননগর উপজেলায় সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের লক্ষ্যে যৌথ বাহিনী দিয়ে একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানকালে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সংলগ্ন একটি ফার্মেসি দোকান থেকে অবৈধ অস্ত্র রাখার অভিযোগে মো. শামসুজ্জামান ওরফে ডাবলুকে (৫০) আটক করা হয়। পরে আটক ব্যক্তির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে টহল দল ওই ফার্মেসিতে তল্লাশি চালিয়ে একটি ৯ মিমি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন ও চার রাউন্ড গুলি উদ্ধার করে। অভিযান শেষে আটক ব্যক্তি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে অচেতন হয়ে পড়লে তাকে দ্রুত জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে আনুমানিক রাত ১২টা ২৫ মিনিটে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এই ঘটনাটি অনাকাঙ্ক্ষিত, দুঃখজনক এবং কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় উল্লেখ করে আইএসপিআর জানায়, ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট ক্যাম্পের কমান্ডারসহ অভিযানে অংশগ্রহণকারী সব সেনা সদস্যকে সেনানিবাসে প্রত্যাহার করা হয়েছে। পাশাপাশি ঘটনার সঠিক কারণ উদঘাটনের লক্ষ্যে একটি উচ্চপদস্থ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্তে দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সেনা আইন অনুযায়ী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়। এর আগে সোমবার (১২ জানুয়ারি) রাত ১২টার দিকে চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর অভিযানে পৌর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর সাধারণ সম্পাদক শামসুজ্জামান ডাবলু (৫০) নিহত হয়েছেন বলে অভিযোগ ওঠে। নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সদস্যরা জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সংলগ্ন এলাকায় অভিযান চালান। সে সময় ডাবলু একটি ওষুধের দোকানে অবস্থান করছিলেন। পরে তাকে পাশের নিজস্ব কার্যালয়ের ভেতরে নিয়ে রাখা হয়। রাত ১২টার দিকে তার মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়।   ঘটনার পরপরই নিহতের স্বজন ও বিএনপির নেতাকর্মীরা নির্যাতনে মৃত্যুর অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ শুরু করেন।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জানুয়ারী ১৩, ২০২৬ 0
বিদেশি পিস্তলসহ যুবক গ্রেপ্তার

নোয়াখালীতে বিদেশি পিস্তল ও গুলিসহ মো. মুরাদ (৩১) নামে এক সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।   রোববার (১১ জানুয়ারি) বিকেলে উপজেলার চরমটুয়া ইউনিয়নের খলিশাটোলা এলাকার লোকমানের চা দোকানের সামনে থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।   গ্রেপ্তারকৃত মো. মুরাদ চরমটুয়া ইউনিয়নের কালা মিয়া সেরাং বাড়ির নুরুল আলম কন্ট্রাক্টরের ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় চাঁদাবাজি, ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।   জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রোববার বিকেল ৩টা ১০ মিনিটে সুধারাম থানাধীন ১নং চরমটুয়া ইউনিয়নের খলিশাটোলা এলাকার লোকমানের চা দোকানের সামনে থেকে মো. মুরাদকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার কোমরের পেছনে প্যান্টের বেল্টে গোঁজানো অবস্থায় একটি বিদেশি পিস্তল, দুই রাউন্ড গুলি ভর্তি একটি ম্যাগজিন উদ্ধার করা হয়।   স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গ্রেপ্তারকৃত মুরাদ এর আগেও অস্ত্র প্রদর্শন করে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করেছিল। তার গ্রেপ্তারে এলাকাবাসী স্বস্তি প্রকাশ করেছেন।   অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আবু তৈয়ব মো. আরিফ হোসেন ঢাকা পোস্টকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, মো. মুরাদের বিরুদ্ধে সুধারাম মডেল থানায় আগেও একাধিক মামলা রয়েছে। সর্বশেষ ঘটনায় এসআই মো. মুক্তার হোসেন ভূঁইয়া বাদী হয়ে অস্ত্র আইনে মামলা দায়ের করলে থানায় মামলা নং-১২/২০২৬ রুজু হয়।   তিনি আরও বলেন, গ্রেপ্তারের পর আসামিকে আদালতে হাজির করা হলে তিনি নিজের দোষ স্বীকার করে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি প্রদান করেন। অপরাধ দমনে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

মারিয়া রহমান জানুয়ারী ১২, ২০২৬ 0
গ্রেপ্তার আরিফ হোসেন। ছবি: সংগৃহীত
ধূমপান করতে নিষেধ করায় হত্যা, সেই আরিফ গ্রেপ্তার

প্রকাশ্যে ধূমপান করতে নিষেধ করায় মো. কবির হোসেন (৩৮) নামে একজনকে পিটিয়ে হত্যা করে আরিফ হোসেন (২০) নামে এক তরুণ। এ ঘটনার দুই মাস পর র‌্যাব-১৪’র একটি দল গতকাল রবিবার মধ্যরাতে গাজীপুর জেলার পোড়াবাড়ি এলাকা থেকে অভিযুক্ত আরিফকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। ঘটনাটি ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার আছিম ইউনিয়নের পলাশতলী গ্রামের।   সোমবার (১২ জানুয়ারি) ময়মনসিংহ র‌্যাব-১৪’র কার্যালয় থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।   গ্রেপ্তারকৃত মো. আরিফ জেলার ফুলবাড়িয়া উপজেলার আছিম ইউনিয়নের পলাশতলী গ্রামের মো. খোকা মিয়ার ছেলে। র‌্যাব জানায়, উপজেলার আছিম ইউনিয়নের পলাশতলী গ্রামের হাসেন আলীর ছেলে কবির হোসেন ও খোকা মিয়া একই এলাকার বাসিন্দা। তাদের মাঝে দীর্ঘদিন বিভিন্ন কারণে বিরোধ চলে আসছিল। গত ১২ নভেম্বর মো. আরিফ হোসেন নামে এক তরুণ প্রকাশ্যে ধূমপান করেন।   বিষয়টি দেখে কবির হোসেন তাকে ধূমপান করতে নিষেধ করেন এবং আরিফের বাবা খোকা মিয়ার কাছে নালিশ করেন। এতে মো. আরিফ মিয়া ও তার লোকজন ক্ষিপ্ত হয়ে ওই দিন সন্ধ্যার পর কবির হোসেনের বাড়ির পাশে ফিসারির পাড়ে গিয়ে কবির হোসেনকে গালিগালাজ করতে থাকে। এ সময় কবির গালিগালাজ করতে নিষেধ করলে আরিফ উত্তেজিত হয়ে বাঁশ দিয়ে কবিরের মাথায় আঘাত করে। কবির হোসেন পুকুরে পড়ে গেলে আরিফসহ তার সঙ্গে আসা লোকজন ঘটনাস্থল থেকে চলে যায়।   পরে স্থানীয়রা টের পেয়ে কবিরকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজে নেওয়ার পথে কবির মারা যায়। এ বিষয়ে ময়মনসিংহ র‌্যাব-১৪’র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. সামসুজ্জামান বলেন, গ্রেপ্তারকৃত আরিফের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

মারিয়া রহমান জানুয়ারী ১২, ২০২৬ 0
চিটাগং চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (সিসিসিআই) লোগো। ছবি : সংগৃহীত
চট্টগ্রাম চেম্বার নির্বাচনে আইনি বাধা নেই

শতবর্ষী বাণিজ্য সংগঠন চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (সিসিসিআই) দ্বিবার্ষিক নির্বাচন আয়োজনে বর্তমানে কোনো আইনগত বাধা নেই— এমন অবস্থান জানিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্বাচন বোর্ড চেয়ারম্যানকে অনুরোধ জানিয়েছেন চেম্বার প্রশাসক মোহাম্মদ নূরুল্লাহ নূরী।   রোববার (১১ জানুয়ারি) নির্বাচন বোর্ড চেয়ারম্যানের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে এ অনুরোধ জানান তিনি। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, মহামান্য সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের রিট পিটিশনে গত ১১ ডিসেম্বর দেওয়া রায় এবং চলতি বছরের ৭ জানুয়ারির আদেশের কপি চেম্বার কর্তৃপক্ষের হাতে এসেছে।   ওই রায়ের আলোকে চেম্বারের পক্ষ থেকে চট্টগ্রাম জজ কোর্টের সরকারি কৌঁসুলি মোহাম্মদ কাশেম চৌধুরীর আইনগত মতামত নেওয়া হয়। তিনি মত দেন, টাউন অ্যাসোসিয়েশন ও ট্রেড গ্রুপ শ্রেণির ৬টি পদ বহাল রেখে মোট ২৪ পরিচালক পদে নির্বাচন করতে কোনো আইনগত বাধা নেই।   উল্লেখ্য, গত বছরের ১ নভেম্বর বিভিন্ন ক্যাটাগরির ২৪ পরিচালক পদে চেম্বারের নির্বাচন হওয়ার কথা থাকলেও মামলাজনিত জটিলতায় তা স্থগিত হয়। তপশিল অনুযায়ী অর্ডিনারি মেম্বার শ্রেণি থেকে ১২ জন, অ্যাসোসিয়েট মেম্বার থেকে ছয়জন, ট্রেড গ্রুপ থেকে তিনজন এবং টাউন অ্যাসোসিয়েশন গ্রুপ থেকে তিনজন পরিচালক নির্বাচিত হওয়ার কথা ছিল। নির্বাচনে দুটি প্যানেল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে।   চট্টগ্রামের ব্যবসায়ী-শিল্পপতিদের শীর্ষ সংগঠন সিসিসিআই দীর্ঘদিন ধরে নেতৃত্বশূন্য অবস্থায় রয়েছে। গত বছরের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ২ সেপ্টেম্বর চেম্বারের পূর্ণ পর্ষদ পদত্যাগ করে। এরপর থেকে প্রশাসক দ্বারা চেম্বারের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। প্রায় ১১ মাস পর গত ১১ আগস্ট নির্বাচনের তফশিল ঘোষণা করা হলেও বিষয়টি আদালতেই ঝুলে রয়েছে।   নির্বাচন নিয়ে জটিলতার সূত্রপাত হয় টাউন অ্যাসোসিয়েশন ও ট্রেড গ্রুপ শ্রেণির অংশগ্রহণ নিয়ে। শুরুতে এসব শ্রেণির আটটি সংগঠনকে বাদ দিতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেয় চেম্বার। পরে ৪ সেপ্টেম্বর মন্ত্রণালয় ওই সংগঠনগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশ দেয়। এর বিরুদ্ধে মোহাম্মদ বেলাল নামের এক ব্যবসায়ী রিট করলে ২২ অক্টোবর হাইকোর্ট দুই শ্রেণিকে বাদ দিয়ে নির্বাচন পরিচালনার নির্দেশ দেন এবং মন্ত্রণালয়ের চিঠিতে স্থগিতাদেশ দেন। পরবর্তীতে আপিল, স্থগিতাদেশ ও নির্দেশনার পর গত ১১ ডিসেম্বর হাইকোর্ট আদেশ দেন—টাউন অ্যাসোসিয়েশন ও ট্রেড গ্রুপ শ্রেণির ছয়জন প্রতিনিধি নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন। তবে এই আদেশের বিরুদ্ধেও আবার আপিল করা হয়েছে।   এদিকে চট্টগ্রাম চেম্বারসহ অন্তত ৭টি ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রতিনিধিরা নির্বাচন বিলম্ব নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাদের অভিযোগ, প্রায় এক বছর ধরে নেতৃত্ব না থাকায় সরকারি বিভিন্ন সিদ্ধান্তে চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীদের দাবিদাওয়া কার্যকরভাবে তুলে ধরার মতো কোনো প্রতিনিধি নেই। জাতীয় নির্বাচনের অজুহাত দেখানো হলেও অন্যান্য ব্যবসায়ী সংগঠনে নির্বাচন হচ্ছে—এ কারণে তারা চট্টগ্রাম চেম্বারের নির্বাচন বিলম্বকে সদিচ্ছার অভাব বলেই মনে করছেন।   নির্বাচনের পথ আংশিকভাবে সুগম হলেও এখনো নতুন ভোটের তারিখ ঘোষণা না হওয়ায় অনিশ্চয়তা কাটেনি।

মারিয়া রহমান জানুয়ারী ১২, ২০২৬ 0
দুই গ্রুপের সংঘর্ষে ভাঙচুর করা আসবাবপত্র।
আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, আহত ১০

ঝিনাইদহের শৈলকূপায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন।   সোমবার (১২ জানুয়ারি) সকালে দোহারো গ্রামের বাবু জোয়াদ্দার ও নজির জোয়ার্দারের লোকজনের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়।   এলাকায় রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে মিলন জোয়াদ্দার, আমিরুল মন্ডল, আবুল কালাম, জুবায়ের, মজনু মোল্লা ও শিহাব জোয়ার্দারসহ উভয় পক্ষে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছে। এদের মধ্যে কয়েকজনকে শৈলকূপা হাসপাতালে ও অন্যান্যের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এ সময় ২টি বাড়ি, ১টি দোকান ও ১টি ইজিবাইকে হামলা চালানো হয়েছে।   এ সংবাদের ভিত্তিতে শৈলকূপা থানা পুলিশ ও সেনাবাহিনী দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।   শৈলকূপা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হুমায়ুন কবির মোল্লা কালবেলাকে জানান, দোহারো গ্রামে দুটি গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। বর্তমান পরিস্থিতি প্রশাসনের অনুকূলে রয়েছে। এলাকায় স্বাভাবিক পরিবেশ বিরাজ করছে।   দুই গ্রুপের সামাজিক মাতব্বররা থানায় বসে নিজেদের মধ্যে আপোষ-মীমাংসা করে নিয়েছে বলে তিনি জানান।

মারিয়া রহমান জানুয়ারী ১২, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
গার্মেন্টস শ্রমিকদের রহস্যজনক অসুস্থতা, হাসপাতালে ভর্তি শতাধিক শ্রমিক

গাজীপুর–এর টঙ্গীতে অবস্থিত এক্সপার্ট ভিলেজ লিমিটেড নামের একটি গার্মেন্টস কারখানার শতাধিক শ্রমিক হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। আক্রান্ত শ্রমিকদের প্রথমে টঙ্গী সরকারি হাসপাতালসহ আশপাশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।   রোববার (১২ জানুয়ারি) সকাল থেকে একের পর এক শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়লে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, অধিকাংশ শ্রমিক বমি, শ্বাসকষ্ট ও অস্বস্তিজনিত উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন। স্থানীয় ও কারখানা সূত্র জানায়, প্রতিষ্ঠানটিতে নভেম্বর মাসের বেতন পরিশোধ না হওয়ায় শ্রমিকরা শনিবার সারাদিন কর্মবিরতি ও আন্দোলন করেন। একই দাবিতে রোববার সকালে কাজে যোগ দিয়ে পুনরায় আন্দোলন শুরু করেন তারা। আন্দোলনের মধ্যেই হঠাৎ করে একে একে শ্রমিকরা অসুস্থ হয়ে পড়তে শুরু করেন। তবে কী কারণে এ অসুস্থতার ঘটনা ঘটেছে, তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। টঙ্গী সরকারি হাসপাতালের ইমার্জেন্সি মেডিকেল অফিসার ডা. নাফিয়া শারমিন জানান, আক্রান্ত শ্রমিকদের মধ্যে প্যানিক অ্যাটাক, বমি ও শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। অধিকাংশ শ্রমিক বর্তমানে আশঙ্কামুক্ত বলে জানান তিনি। এ বিষয়ে টঙ্গী পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মেহেদী হাসান বলেন, ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রতিষ্ঠানটির অ্যাডমিন ম্যানেজার সুজন জানান, তদন্ত চলমান থাকায় এই মুহূর্তে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়। তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানানো হবে।   ঘটনার পর কারখানা এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। শ্রমিকদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। দ্রুত ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন শ্রমিক ও স্থানীয়রা।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জানুয়ারী ১২, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালে গৃহবধূ ধর্ষণ মামলায় দুই আনসার সদস্য আটক

মানিকগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে এক গৃহবধূকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে দায়িত্বরত দুই আনসার সদস্যের বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত দুই আনসার সদস্যকে আটক করেছে পুলিশ। রোববার (১১ জানুয়ারি) রাতে জেলা সদর হাসপাতালের নতুন ভবনে এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগীর স্বামী জানান, রোববার রাতে নারায়ণগঞ্জ থেকে নিজস্ব ব্যাটারিচালিত ভ্যানে স্ত্রীকে নিয়ে মানিকগঞ্জ সদর উপজেলায় নানার বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন। মানিকগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পৌঁছাতে রাত ১টা বাজে। নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য তারা জেলার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে যান। সেখানে দায়িত্বরত দুই আনসার সদস্য তাদের পরিচয় নিয়ে দোতলায় বসতে বলেন। পরে তিনি স্ত্রীকে নিয়ে হাসপাতালের দোতলায় যান।   রাত আনুমানিক ৪টার দিকে দুই আনসার সদস্য তাদের কাছে এসে বিভিন্ন জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন। একপর্যায়ে তারা ভুক্তভোগীর স্বামীকে নিচতলায় নিয়ে যান এবং সেখানে পুনরায় জিজ্ঞাসাবাদ করেন। তখন এক আনসার সদস্য বলেন, তিনি স্ত্রীর কাছ থেকে তথ্য যাচাই করে আসবেন। এ কথা বলে এক আনসার সদস্য ভুক্তভোগীর স্ত্রীর কাছে যান, অন্যজন স্বামীকে সঙ্গে রাখেন। কিছুক্ষণ পর ফিরে এসে ওই আনসার সদস্য জানান, স্বামী মিথ্যা কথা বলেছেন। এরপর অপর আনসার সদস্যও ভুক্তভোগীর স্ত্রীর কাছে যান। কিছু সময় পর ফিরে এসে তিনি বলেন, তারা রাতে কিছু খাননি, খাবার কিনে স্ত্রীর কাছে যেতে বলেন এবং সকালে চলে যেতে বলেন। পরে ভুক্তভোগীর স্বামী খাবার কিনে স্ত্রীর কাছে গেলে স্ত্রী তাকে দ্রুত সেখান থেকে চলে যেতে বলেন। স্ত্রীকে খুব চিন্তিত মনে হওয়ায় তিনি আর কিছু না ভেবে আনসার সদস্যদের জানিয়ে স্ত্রীকে ভ্যানে নিয়ে মানিকগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড এলাকায় চলে যান। সেখানে স্ত্রী কাঁদতে কাঁদতে তাকে জানান, দুই আনসার সদস্য জোরপূর্বক তাকে ধর্ষণ করেছেন। ঘটনাটি জানার পরপরই তিনি স্ত্রীকে নিয়ে সদর থানায় গিয়ে অভিযোগ করেন। আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর জেলা কমান্ড্যান্ট কামরুজ্জামান জানান, বিষয়টি জানার পর সদর উপজেলার আনসার অফিসারকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় অভিযুক্ত দুই আনসার সদস্যকে বাহিনী থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই সঙ্গে দুই সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। অভিযুক্তদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে। ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মোহাম্মদ বাহাউদ্দিন জানান, বিষয়টি জানার পর হাসপাতালে দায়িত্বরত সব আনসার সদস্যকে ডেকে অভিযুক্তদের শনাক্ত করা হয়। পরে পুলিশ এসে তাদের আটক করে। ভুক্তভোগী নারী বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।   পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সারওয়ার জানান, ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্ত দুই আনসার সদস্যকে আটক করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ভুক্তভোগীর স্বাস্থ্য পরীক্ষাসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া অব্যাহত আছে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জানুয়ারী ১২, ২০২৬ 0
Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

Top week

ছবি: সংগৃহীত
সর্বশেষ

মাতারবাড়ী তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড

শাহ মোঃ সিজু মিয়া জানুয়ারী ১২, ২০২৬ 0