রাজধানীর কদমতলীর শনির আখড়ায় নির্মাণাধীন বহুতল ভবনের পঞ্চম তলায় লিফটের ফাঁকা জায়গা দিয়ে পড়ে জোসনা বেগম (৩৫) নামে এক নারী শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে শনির আখড়ার ২৪ ফুট সড়কের ৮ নম্বর রোডে সাফা টাওয়ারের নির্মাণাধীন ভবনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। সহকর্মী ইউনুস জানান, দুপুরে ভবনের পঞ্চম তলায় ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করছিলেন জোসনা। এ সময় অসাবধানতাবশত লিফটের জন্য রাখা ফাঁকা জায়গা দিয়ে নিচে পড়ে যান তিনি। পরে সহকর্মীরা তাকে উদ্ধার করে দুপুর সোয়া ২টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। জোসনার মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) মো. সেলিম হোসেন। তিনি জানান, বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানাকে অবহিত করা হয়েছে।
ঢাকা-চট্টগ্রাম জাতীয় মহাসড়কে চলাচলকারীদের জন্য জরুরি নির্দেশনা দিয়েছে হাইওয়ে পুলিশ। শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) দেড় ঘণ্টা ঢাকামুখী লেনে সেতু মেরামতের কাজ চলবে। এ সময় দাউদকান্দি সেতুর পর আলিপুরা সেতুর ঢাকামুখী লেনে যান চলাচলে ধীরগতি তৈরি হতে পারে। ফলে যাত্রী ও চালকদের পর্যাপ্ত সময় হাতে নিয়ে যাত্রা করার অনুরোধ জানিয়েছে হাইওয়ে পুলিশ। এদিন দুপুর ১টা থেকে বেলা ২টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত আলিপুরা সেতুর ঢাকামুখী লেনে মেরামতকাজ করা হবে। নারায়ণগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আবদুর রহিম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। মেরামতকাজ চলাকালে মহাসড়কের ওই অংশে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। তবে কাজের কারণে সাময়িকভাবে যান চলাচলে ধীরগতি তৈরি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে সম্মানিত যাত্রী সাধারণকে পর্যাপ্ত সময় হাতে নিয়ে ভ্রমণের জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। একই সঙ্গে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির তথ্য দ্রুত জনসাধারণের কাছে পৌঁছে দিতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিকভাবে অনুরোধ জানিয়েছে হাইওয়ে পুলিশ। এ বিষয়ে হাইওয়ে পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপির স্টাফ অফিসার তারিক লতিফ এক বার্তায় এসব তথ্য জানান।
গাজীপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য ও প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি এ কে এম ফজলুল হক মিলন বলেছেন, ‘এ দেশের সাধারণ মানুষ কোনো ধরনের অরাজকতা, সহিংসতা ও নাশকতা চায় না। দেশের শান্তি, শৃঙ্খলা ও জননিরাপত্তা বজায় রাখতে বিএনপির নেতাকর্মীরা রাজপথে রয়েছেন। আগামী দিনেও দেশের স্বার্থে শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক কর্মসূচির মাধ্যমে তারা রাজপথে থাকবেন।’ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলা ও পৌরসভাসহ সব ইউনিয়ন, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিল শেষে সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। পরিকল্পিত সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। ফজলুল হক মিলন বলেন, দেশ যখন উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছিল, তখন নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা বিভিন্ন ধরনের অরাজকতা সৃষ্টি করে দেশের মানুষকে ধ্বংসের পথে নিয়ে যাচ্ছে। বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর দেশের বিভিন্ন স্থানে ঝটিকা মিছিল, চোরাপথে যানবাহনে অগ্নিসংযোগ ও ককটেল বিস্ফোরণের মাধ্যমে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি এবং দেশের স্বাভাবিক পরিস্থিতি ব্যাহত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার বিকালে কালীগঞ্জ উপজেলা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে একটি বর্ণাঢ্য বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি উপজেলার বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে সোনালী ব্যাংক সংলগ্ন খোদেজা কমপ্লেক্স প্রাঙ্গণে গিয়ে সমাবেশে মিলিত হয়। কালীগঞ্জ পৌর বিএনপির সভাপতি মোহাম্মদ হোসেন আরমান মাস্টারের সভাপতিত্বে ও পৌর বিএনপির সদস্য সচিব ইব্রাহিম প্রধানের সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য দেন উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. হুমায়ুন কবির মাস্টার, সদস্য সচিব খালেকুজ্জামান বাবলু, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. সোলেমান আলম, আশরাফী হাবিবুল্লাহ, মো. খায়রুল আহসান মিন্টু, কালীগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র মো. লুৎফুর রহমান প্রমুখ। এ ছাড়া বিভিন্ন ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি রহিম সরকার, মো. জয়নাল আবেদীন, মো. সিরাজ উদ্দিন, জাঙ্গালীয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি নেছার আহমেদ নুহু, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব আশরাফ নেওয়াজ চৌধুরী শাওন, জেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইয়াছিন মোল্লাসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
একসময় নিজের রান্নার হাতের ওপর ভর করেই চলতেন নার্গিস আক্তার লিজ। একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে রাঁধুনির কাজ করে যা আয় করতেন, তা দিয়েই চলত জীবন। কিন্তু প্রায় নয় মাস আগে অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস কেড়ে নেয় তাঁর একটি পা। এরপর একে একে বন্ধ হয়ে যায় কাজ, আয় ও স্বাভাবিক জীবনযাপনের পথ। স্বামী নেই, সন্তানও নেই। উত্তর বাড্ডার একটি অন্ধকার ঘরে একাকী দিন কাটছিল তাঁর। এমন বাস্তবতায় নার্গিসের জীবনে কিছুটা স্বস্তি নিয়ে এসেছে ঢাকা জেলা প্রশাসন। আজ বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে নার্গিস আক্তার লিজের হাতে একটি হুইলচেয়ার ও আর্থিক অনুদান তুলে দেওয়া হয়। তাঁর অসহায়ত্বের কথা জানতে পেরে এই মানবিক উদ্যোগ নেন ঢাকা জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম। নার্গিসের জীবনটা এমন ছিল না। কর্মক্ষম থাকাকালে নিজের শ্রমেই জীবিকা নির্বাহ করতেন তিনি। কিন্তু ডায়াবেটিসের জটিলতায় প্রায় নয় মাস আগে তাঁর একটি পা কেটে ফেলতে হয়। অস্ত্রোপচারের পর বদলে যায় সবকিছু। হাঁটাচলা কঠিন হয়ে পড়ে, আর শারীরিক সীমাবদ্ধতার কারণে হারাতে হয় কাজটিও। এরপর শুরু হয় আরেক লড়াই। চিকিৎসা ও দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটানোর মতো নিয়মিত আয় নেই। পাশে থাকার মতো পরিবারের সদস্যও নেই। উত্তর বাড্ডার একটি ঘরে অনেকটা নিঃসঙ্গভাবেই দিন কাটছিল তাঁর। নার্গিসের পরিস্থিতির কথা জানতে পেরে জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম দ্রুত সহায়তার উদ্যোগ নেন। এ প্রসঙ্গে জেলা প্রশাসক বলেন, অসহায় ও বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো প্রশাসনের মানবিক দায়িত্ব। নার্গিসকে শুধু তাৎক্ষণিক সহায়তা নয়, তাঁকে দীর্ঘমেয়াদে স্বাবলম্বী করে তোলাই আমাদের লক্ষ্য। তাঁর নিজের আয় ও সম্মানের সঙ্গে বেঁচে থাকার সুযোগ তৈরি করতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তা অব্যাহত থাকবে। এর অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে নার্গিসকে একটি হুইলচেয়ার ও আর্থিক অনুদান দেওয়া হয়। এতে দৈনন্দিন চলাফেরা ও জরুরি প্রয়োজন মেটাতে কিছুটা স্বস্তি পাবেন তিনি। তবে এখানেই শেষ নয়। নার্গিস যেন সাহায্যের ওপর নির্ভরশীল হয়ে না থেকে নিজের আয়ের ব্যবস্থা করতে পারেন, সে লক্ষ্যেই তাঁর জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ মুদি দোকান প্রতিষ্ঠা করে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। খুব শিগগিরই এই উদ্যোগ বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। একটি মুদি দোকান হয়তো কারও কাছে খুব বড় কিছু নয়। কিন্তু নার্গিসের মতো একজন মানুষের জন্য এটি হতে পারে নিজের জীবনের নিয়ন্ত্রণ আবার নিজের হাতে তুলে নেওয়ার সুযোগ। হতে পারে নিয়মিত আয়ের পথ, হতে পারে কারও কাছে হাত না পেতে বেঁচে থাকার একটি অবলম্বন। জেলা প্রশাসনের এই উদ্যোগে নতুন করে আশার আলো দেখছেন নার্গিস। একসময় যে নারী নিজের শ্রমে জীবিকা নির্বাহ করেছেন, শারীরিক প্রতিবন্ধকতার কারণে থমকে যাওয়া সেই জীবন আবারও ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখছে। মানবিক সহায়তার পাশাপাশি একজন অসহায় মানুষকে আয় ও কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দেওয়ার এই উদ্যোগ তাই শুধু একটি হুইলচেয়ার বা আর্থিক অনুদানের গল্প নয়; এটি একজন মানুষকে আবার নিজের পায়ে দাঁড়ানোর সুযোগ করে দেওয়ার গল্প।
আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে নৈরাজ্য, ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচারের অভিযোগ তুলে মোংলায় বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে বিএনপি। বৃহস্পতিবার বিকেলে পৌর বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে এ কর্মসূচি পালিত হয়। বিকেলে পৌর মার্কেট চত্বর থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি বের হয়। মিছিলটি পৌর শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে একই স্থানে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে পৌর বিএনপির সভাপতি ও সাবেক পৌর মেয়র মো. জুলফিকার আলী, সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান মানিক, উপজেলা বিএনপির সভাপতি আ. মান্নান হাওলাদার, সাধারণ সম্পাদক আবু হোসেন পনি, বিএনপি নেতা নাসির তালুকদার, গোলাম নুর জনি, মো. আলাউদ্দিন, কাজী ফারুক, আ. কাদের, আ. সালাম ব্যাপারী, মো. ইলিয়াস হোসেন, আলতাফ হোসেন চৌধুরী, শাহজাহান ফকির ও শেখ শহীদুল ইসলাম বক্তব্য দেন। বক্তারা অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা বিভিন্নভাবে অপপ্রচার ও ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে দেশের স্থিতিশীলতা নষ্টের চেষ্টা করছেন। প্রশাসনের নজরের মধ্যে থাকা আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তারা। বক্তারা আরও বলেন, কেউ যাতে নৈরাজ্য সৃষ্টি করতে না পারে, সে জন্য নেতা-কর্মীদের সতর্ক থাকতে হবে। প্রয়োজনে প্রতি সপ্তাহে এ ধরনের বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অব্যাহত রাখার কথাও জানান তারা।
সিলেটের দক্ষিণ সুরমা উপজেলার মোগলাবাজার এলাকায় মিছিলের প্রস্তুতিকালে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের ২০ নেতাকর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে তাদের আটক করা হয়। মোগলাবাজার থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. এরশাদুল হক ভূঁইয়া জানান, মিছিলের প্রস্তুতি নিতে চারটি হায়েস মাইক্রোবাসে করে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা মোগলাবাজার এলাকায় আসেন। খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে অভিযান চালায়। এ সময় দুটি হায়েস মাইক্রোবাসসহ ২০ জনকে আটক করা হয়। পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে বাকি দুটি মাইক্রোবাস দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে চলে যায়। ওই দুটি গাড়িতে আরও ১৫ থেকে ২০ জন নেতাকর্মী থাকতে পারেন বলে ধারণা করছে পুলিশ। আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরসহ পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছেন পরিদর্শক মো. এরশাদুল হক ভূঁইয়া।
রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানে চীন, ভারত ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, সাময়িক অর্থসহায়তায় রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান হবে না। তাদের সম্মান ও নিরাপত্তার সঙ্গে নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার পরিবেশ তৈরি করাই এর চূড়ান্ত সমাধান। বৃহস্পতিবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সিলেট সার্কিট হাউজে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এসব কথা বলেন তিনি। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, রোহিঙ্গা বিষয় একটা আন্তর্জাতিক বিষয়। আমরা এখন ১৮ লাখ মানুষকে আমাদের মাটিতে ধারণ করছি, কিন্তু তাদের কাছে আমরা মানবিক, পূর্ণ সহায়তা দিতে পারছি এটা আমরা বলতে পারব না। রোহিঙ্গা শিবিরগুলো আমার বারবার পরিদর্শন করার সুযোগ হয়েছে, তাদের জীবনের কান্না এবং করুণ কাহিনি দেখার সুযোগ হয়েছে। এই অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে হলে চূড়ান্ত সমাধান হচ্ছে তাদেরকে তাদের নিজ দেশে ফিরে যাওয়া, সম্মান, এবং নিরাপত্তার সাথে। কিন্তু এই জায়গাটা এখনো তৈরি হয়নি। তিনি বলেন, এই লোকেরা মূলত স্থানান্তরিত হয়েছেন দুটো দেশে, আর বাকিগুলো অল্প। একটা বাংলাদেশ, আরেকটা মালয়েশিয়া। মালয়েশিয়া তাদেরকে প্রত্যর্পণের কিছু ব্যবস্থা ইদানীং নিয়েছে, এখনো পুরোপুরি শুরু হয়নি। বাংলাদেশ কিছুই করতে পারে নাই। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় আমরা অনেক আশার বাণী শুনেছিলাম, কিন্তু কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দৃশ্যমান হয়নি। তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সাথে যখনই আমাদের বসা হয়, মতবিনিময় হয়, তখন আমরা তাদেরকে বলি, সাময়িক অর্থসহায়তায় তাদের সমাধান হবে না। চূড়ান্তভাবে তাদেরকে তাদের নিজ দেশে ফিরে যেতে হবে। এটা একা বাংলাদেশ পারবে না। তবে এখানে দুইটা দেশকে অবশ্যই এগিয়ে আসতে হবে। একটা হচ্ছে চীন, আরেকটা হচ্ছে ভারত। তাদের সহযোগিতা লাগবেই। আর মায়ানমার তো আছেই। মিয়ানমারের পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মায়ানমারের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি খুব একটা ভালো না। সেখানে দীর্ঘদিন ধরে গৃহযুদ্ধ চলছে, নামকরা একটা সরকার আছে, কিন্তু কার্যত যুদ্ধে লিপ্ত গোষ্ঠীগুলো এক এক এলাকা দখল করে রেখেছে। রাজধানী ছাড়া বাকি এলাকার উপরে তেমন নিয়ন্ত্রণ নেই বর্তমান সরকারের। এটা একটা সংকট। কার সাথে এই আলোচনাটা অনুষ্ঠিত হবে? কার সাথে আলোচনা? এটা বাংলাদেশ পারবে না। কিন্তু ওই দুইটা দেশ যে দুই দেশের কথা বললাম (ভারত ও চীন) আর আন্তর্জাতিক মহল। জাতিসংঘ যদি এই ব্যাপারে উদ্যোগী হয়, তাহলে এই সমস্যার সমাধান সম্ভব। তিনি বলেন, আমরা জানি, ভাষানচরে ২ লাখ মানুষকে স্থানান্তর করা হয়েছে। তাদের জীবন অনেকটা বলতে পারেন যে আসলে তাদেরকে ওখানে বন্দি দশায় রাখা হয়েছে। তারা বাংলাদেশে অপরাপর সকল এলাকার সাথে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন। ওখানেও মাঝে মাঝে অমানবিক অনেক ঘটনা ঘটে। কিন্তু এটা বাইরে আসার কোনো সুযোগ নেই। একটা বন্দিশিবিরের মতো তারা সেখানে অবস্থান করছে। সাময়িক সমাধানের বিষয়ে তিনি বলেন, আমরা সাময়িক সমাধানের মধ্যে মনে করি যে আন্তর্জাতিক মহল যদি মানবিক সহায়তাটা বাড়ায়। যদি তাদেরকে উৎপাদন সহায়ক কোনো কিছুতে প্রশিক্ষণ দিয়ে তাদের হাতে তুলে দেওয়া হয়, তারাই তাদের রুজি-রোজগার করল। বাজারজাতকরণটা বাংলাদেশ সরকার করল। ওখানে রেখেও এটা সম্ভব, সীমিত পরিসরে তাদেরকে চলাচলের সুবিধা দিয়েও সম্ভব। মালয়েশিয়া ও তুরস্কের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মালয়েশিয়ায় তাদেরকে বন্দিশিবিরে রাখা হয়নি। তুরস্কে ৬০ লাখ শরণার্থী ছিল এক সময়। সেখানেও তাদেরকে বন্দিশিবিরে রাখা হয়নি। তাদেরকে উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে। নাগরিকত্ব দেওয়া হয়নি। কিন্তু তাদেরকে বেঁচে থাকার জন্য সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে। এমনকি লেখাপড়ারও সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে। এখানে কিন্তু তাদের বাচ্চাদের লেখাপড়ারও সুযোগ নেই। শুধু তাদের ভাষায়, প্রাথমিক স্তর পর্যন্ত কিছু শিক্ষা দেওয়ার ব্যবস্থা আছে। এর বাইরে নয়।
রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে গ্রেফতার ক্যান্টনমেন্ট থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রাকিবুল হাসানকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার অনুমতি দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) রাতে তাকে ঢাকা চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করে পুলিশ। শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দিদারুল আলমের আদালত পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রাত ৮টা ৪৬ মিনিটে রাকিবুল হাসানকে আদালতে হাজির করা হয়। এসময় তাকে ঘিরে আদালত এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের উপস্থিতি দেখা যায়। তার আদালতে হাজিরের খবর পেয়ে গণমাধ্যমকর্মীরাও আদালত এলাকায় অবস্থান নেন। শুনানির সময় রাষ্ট্রপক্ষে কোনো আইনজীবী ছিলেন না। তবে আসামিপক্ষে ছিলেন আওয়ামীপন্থী আইনজীবী মোরশেদুল ইসলাম শাহীন। তিনি বলেন, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে রাকিবুল হাসানকে এই মামলায় ফাঁসানো হয়েছে। রিম্যান্ড আবেদনের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে যাবো। কোন ধরনের আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই এই মামলা দায়ের করা হয়েছে। এর আগে বৃহস্পতিবার রাজারবাগ থেকে রাকিবুল হাসানকে গ্রেফতার করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ক্যান্টনমেন্ট জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) মো. নাজমুল হক। সরকারবিরোধী বক্তব্যসংবলিত একটি অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই রাকিবুল হাসান পুলিশের নজরদারিতে ছিলেন। এর আগে ওই অডিওকে কেন্দ্র করে তাকে ডিবি হেফাজতে নেওয়া হয়েছিল।
মিয়ানমারে পাচারের সময় দুই ট্রাকভর্তি ৬০০ বস্তা ইউরিয়া সারসহ দুই পাচারকারীকে আটক করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১২টার দিকে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার বাঁশবাড়িয়া ঘাটসংলগ্ন সাগর উপকূল থেকে এসব সার জব্দ করা হয়। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লে. কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, ‘সীতাকুণ্ড থানার বাঁশবাড়িয়া ঘাটসংলগ্ন এলাকায় বুধবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে বিশেষ অভিযান চালায় কোস্ট গার্ড। এ সময় ওই এলাকা দিয়ে মিয়ানমারে পাচারের সময় দুই ট্রাকভর্তি প্রায় ২১ লাখ টাকা মূল্যের ৬০০ বস্তা ইউরিয়া সার উদ্ধার এবং পাচারকাজে জড়িত দুজনকে আটক করা হয়। উদ্ধার করা সার, পাচারকাজে ব্যবহৃত ট্রাক ও আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন। কোস্ট গার্ড সূত্রে জানা যায়, মিয়ানমারে পাচারের উদ্দেশ্যে সীতাকুণ্ডের বাঁশবাড়িয়া সাগর উপকূলে সার আনা হয়েছে—গোপন সূত্রে এমন খবর পেয়ে ভাটিয়ারী স্টেশনের সদস্যরা অভিযান চালান। এ সময় সারগুলো জব্দ করা হয়। এর আগে গত দুই মাসে মিয়ানমারে পাচারের সময় আরো তিনটি চালানে বিপুল পরিমাণ সার জব্দ করেছে কোস্ট গার্ড। সর্বশেষ গত ১০ সেপ্টেম্বর ৭০০ বস্তা সার জব্দ করা হয়েছিল। চোরাচালান রোধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে কোস্ট গার্ড।
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক দুর্ঘটনার কবলে পড়েছে একটি স্লিপার বাস। ওই বাসটিতে অন্তত ৩০ থেকে ৩৫ জন যাত্রী ছিলেন। তাদের মধ্যে অন্তত ১৫ জন আহত হন। দুর্ঘটনার পর সড়কে আড়াআড়িভাবে বাসটি পড়ে থাকার কারণে মহাসড়কে যানজট সৃষ্টি হয়। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন দাউদকান্দি হাইওয়ে পুলিশের ওসি প্রেমদাস রায়। এর আগে এদিন ভোরে মহাসড়কের দাউদকান্দির উপজেলার ভেকিনগর এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার ভোর সারে ৫টায় মহাসড়কের দাউদকান্দি উপজেলা ভেকিনগর নামক ঢাকাগামী লেনে দ্রুত গতির রয়েল পরিবহনের একটি স্লিপার কোচ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে যায়। এসময় গাড়িটি মহাসড়কের মাঝখানে আড়াআড়িভাবে পড়ে থাকে। গাড়িতে থাকা যাত্রীদের মধ্যে ১৫ আহত হন। আহতরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গৌরীপুর হাসপাতাল চিকিৎসা নেয়। সর্বশেষ দাউদকান্দি ও ইলিয়টগঞ্জ হাইওয়ে পুলিশের দুটি রেকার এক ঘণ্টার চেষ্টার প্রচেষ্টায় মহাসড়ক থেকে বাসটি সরিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করে। দাউদকান্দি হাইওয়ে পুলিশের ওসি প্রেমদাস রায় বলেন, দুর্ঘটনাকবলিত গাড়িটি সড়কের মাঝপথে উল্টে গিয়েছিল। এতে অন্তত ৩০ থেকে ৩৫ জন যাত্রী ছিলেন। তাদের মধ্যে কয়েকজন যাত্রী আহত হয়েছেন। তাদের তেমন বড় কোনো ক্ষতি হয়নি। আহতদের হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। পরে গাড়িটি উদ্ধার করে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনা হয়েছে।
বরিশাল রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ের সামনে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে এসে জয় বাংলা স্লোগান দিয়ে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে পালিয়ে যান। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুর সোয়া ২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এতে ওই এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। প্রত্যক্ষদর্শী ব্রাদার্স স্টোর্সের দোকানি মো. তামিম বলেন, কাশিপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজের দিক থেকে অর্ধশতাধিক লোক মিছিল নিয়ে আসে। তারা জয় বাংলা স্লোগান দিয়ে বরিশাল রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয়ের সামনের মহাসড়কে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থলের কাছে থাকা এক নারী চা দোকানি বলেন, হঠাৎ বিকট শব্দে তারা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। পরে কয়েকজনকে জয় বাংলা স্লোগান দিতে দিতে পালিয়ে যেতে দেখেন। বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মো. আনিসুর রহমান বলেন, বিকট শব্দের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। সেখানে সড়কের মধ্যে কিছু বিস্ফোরণের আলামত পাওয়া গেছে। তবে আশপাশে কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। শব্দের উৎস কী ছিল, তা খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে। স্থানীয় সিসি ক্যামেরার ফুটেজও পর্যবেক্ষণ করছে পুলিশ।
ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম (১৩) হত্যা মামলার অন্যতম আসামি মোজাম্মেল হোসেন ফাহাদকে প্রায় দেড় বছর আগে গাঁজাসহ আটক করেছিলেন অপ্রতিমের মা কুবি’র বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগম। তখন তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টরের দায়িত্বে ছিলেন। গত বছরের ৬ ফেব্রুয়ারি রাত ৯টার দিকে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের লালন চত্বর থেকে ফাহাদসহ সাত কিশোরকে গাঁজাসহ আটক করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর ড. নাহিদা বেগম। এ সময় প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন। পরে আটকদের বয়স ১৮ বছরের নিচে হওয়ায় মুচলেকা নিয়ে তাদের অভিভাবকদের হাতে তুলে দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। এর প্রায় দেড় বছর পর গত শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) কুমিল্লার কোটবাড়ির গন্ধমতী এলাকার ভাড়া বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয় অপ্রতিম। পরদিন শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সদর দক্ষিণ উপজেলার বিজয়পুর ইউনিয়নের সানন্দা গ্রামের লালমাই পাহাড়ের নির্জন জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় চারজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। গ্রেফতাররা হলেন- সাইফুল ইসলাম তুহিন (১৯), মোজাম্মেল হোসেন ফাহাদ (১৫), কামরুল হাসান (১৬) ও মো. সিয়াম (১৯)। তাদের মধ্যে সাইফুল ইসলাম তুহিন ও মো. সিয়ামকে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে রাখা হয়েছে। অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় মোজাম্মেল হোসেন ফাহাদ ও কামরুল হাসানকে গাজীপুরের টঙ্গী শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। চার আসামির মধ্যে সিয়াম ছাড়া সাইফুল ইসলাম তুহিন, মোজাম্মেল হোসেন ফাহাদ ও কামরুল হাসান আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এদিকে ২০২৫ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি লালন চত্বর থেকে গাঁজাসহ সাত কিশোরকে আটকের ছবি প্রতিবেদকের হাতে এসেছে। অপ্রতিমের বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ারও নিশ্চিত করেছেন, ছবিতে থাকা সাত কিশোরের একজন ফাহাদ। জানা গেছে, ফাহাদ কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের সালমানপুর (মেম্বার বাড়ি) এলাকার মমিন হোসেন ও জুলি আক্তারের ছেলে। তার বাবা অটোচালক। ফাহাদ ময়নামতি কারিগরি স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। অপ্রতিমের বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার জানান, চলতি মাসের ২ তারিখে ফাহাদ তার ইলেকট্রিক অফিসে চাকরি নেয়। তবে ফাহাদের মা জুলি আক্তার দাবি করেছেন, ২০২৫ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি গাঁজাসহ আটক হওয়া সাত কিশোরের মধ্যে ফাহাদ ছিল না। এদিকে অপ্রতিমকে বিভিন্নভাবে অপরাধের সঙ্গে জড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন তার মা ড. নাহিদা বেগম। তিনি বলেন, ‘আমার ছেলেকে বিভিন্ন ফেসবুক আইডি থেকে নানা উপায়ে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। ২০২৫ সালের শুরুতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টরের দায়িত্ব পালনকালে আমি অনেক মাদকসেবী ও মাদক কারবারিকে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছি। ওই ঘটনার কারণে যদি আমার ছেলেকে টার্গেট করা হয়ে থাকে, তাহলে এটা আমি মেনে নেব না।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমার কোনো দোষ থাকলে আমাকে শাস্তি দেওয়া হোক। মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া যদি আমার অপরাধ হয়ে থাকে, তাহলে তার শাস্তি আমি পাব। আমার ছেলে কেন এর শাস্তি পাবে? আমার ছেলেকে কেন মেরে ফেলা হলো?’ নাহিদা বেগম বলেন, ‘আমার ছেলেকে তাদের সঙ্গে জড়িয়ে বোঝানোর চেষ্টা করা হচ্ছে, সেও তাদেরই একজন। অথচ আমার ছেলে নিষ্পাপ, ছোট বাচ্চা। সে এসবের কিছুই বোঝে না।’
গোপালগঞ্জে শিক্ষার্থীদের নিয়ে দুই দিনব্যাপী দুর্নীতিবিরোধী প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), জেলা কার্যালয় ও জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির যৌথ উদ্যোগে এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় চিত্রাঙ্কন ও বিতর্ক প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে এ আয়োজনের সূচনা হয়। পরে বেলা ১১টায় অনুষ্ঠিত হয় দুর্নীতিবিরোধী রচনা প্রতিযোগিতা। আয়োজকরা জানান, এবারের বিতর্ক প্রতিযোগিতায় জেলার ১৬টি স্বনামধন্য বিদ্যালয়ের বিতার্কিক দল অংশ নিয়েছে। দলগুলো মোট আটটি বিষয়ের ওপর প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। তরুণ প্রজন্মের মধ্যে দুর্নীতিবিরোধী সচেতনতা ও নৈতিক মূল্যবোধ গড়ে তোলার লক্ষ্যেই এ আয়োজন করা হয়েছে বলে জানান আয়োজকরা। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিতর্ক প্রতিযোগিতার ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে। ফাইনাল বিতর্ক শেষে চিত্রাঙ্কন, রচনা ও বিতর্ক প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণের মধ্য দিয়ে দুই দিনব্যাপী এ আয়োজনের সমাপ্তি হবে।
বগুড়ায় সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মো. মনিরুজ্জামানের পুনঃপদায়নের সিদ্ধান্ত বাতিল ও তাকে অন্যত্র বদলির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেছেন আইনজীবীরা। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টার দিকে বগুড়া জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সামনে জেলা অ্যাডভোকেটস বার সমিতির উদ্যোগে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। এতে জেলা বারের নেতৃবৃন্দসহ সাধারণ আইনজীবীরা অংশ নেন। মানববন্ধনে আইনজীবীরা অভিযোগ করেন, বিগত সরকারের আমলে সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মো. মনিরুজ্জামানের বিরুদ্ধে বিরোধীদলীয় নেতাকর্মী ও আইনজীবীদের হয়রানি এবং বিচারপ্রার্থীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের একাধিক অভিযোগ উঠেছিল। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনের পর তাকে বগুড়া থেকে বদলি করা হয়। সম্প্রতি তাকে আবারও বগুড়া জেলা ও দায়রা জজ হিসেবে পদায়নের আদেশ দেওয়া হয়েছে। বুধবারই তার বগুড়ায় যোগদানের কথা রয়েছে। কর্মসূচিতে জেলা অ্যাডভোকেটস বার সমিতির অ্যাডভোকেট (জিপি) শফিকুল ইসলাম বলেন, বিভিন্ন অভিযোগের ভিত্তিতে তাকে এর আগে বগুড়া থেকে বদলি করা হয়েছিল। এরপর আবার কেন একই স্থানে তাকে পদায়ন করা হলো, তা বোধগম্য নয়। এ বিষয়ে বারের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে একাধিকবার আবেদন ও স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে। তিনি অবিলম্বে তার পুনঃপদায়নের আদেশ বাতিল করে অন্যত্র বদলির দাবি জানান। জেলা অ্যাডভোকেটস বার সমিতির সভাপতি শেখ রেজাউর রহমান মিন্টুর সভাপতিত্বে কর্মসূচিতে আরও বক্তব্য দেন সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রফিকুল ইসলাম, আব্দুল বাছেদ পিপি, বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের সদস্য ও স্পেশাল পিপি আলী আজগার, স্পেশাল পিপি মোজাম্মেল হক, বারের সাবেক সভাপতি আতাউর রহমান খান মুক্তা, সাবেক সাধারণ সম্পাদক একেএম সাইফুল ইসলাম, সিনিয়র আইনজীবী শফিকুল ইসলাম ও আসাদুজ্জামান মাখনসহ অনেকে। এদিকে মো. মনিরুজ্জামানকে পুনরায় বগুড়ার জেলা ও দায়রা জজ হিসেবে পদায়নের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর আদালতপাড়ায় উত্তেজনা দেখা দিয়েছে।
গ্রাম আদালত কার্যক্রম যথাযথভাবে পরিচালনা ও সক্রিয় করা গেলে সাধারণ মানুষের মধ্যে এ আদালতের প্রতি বিশ্বাস ও আস্থা আরও বাড়বে বলে জানিয়েছেন মেহেরপুরের জেলা প্রশাসক শিল্পী রানী রায়। বুধবার সকালে মেহেরপুর জেলা প্রশাসকের মিনি সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সমন্বয় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘গ্রাম আদালতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিজ নিজ দায়িত্ব ও কর্তব্য যথাযথভাবে পালন করতে হবে। গ্রাম আদালত যত বেশি সক্রিয় হবে, সাধারণ মানুষের আস্থাও তত বাড়বে।’ মেহেরপুর জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে স্থানীয় সরকার বিভাগ এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় ‘গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ-৩য় পর্যায়’ প্রকল্পের আওতায় জনসচেতনতা সৃষ্টি ও স্থানীয় অংশীজনদের সঙ্গে সমন্বয়ের লক্ষ্যে এ সভার আয়োজন করা হয়। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ও স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক তরিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জামিনুর রহমান খান, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বাবলু সূত্রধর, মুজিবনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রূপায়ণ দেব, গাংনী উপজেলার ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাশেদ হোসাইন, জেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপ- পরিচালক নাসিমা খাতুন, জেলা তথ্য কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ মাসুদ, পিএফএ সাহাজুল ইসলামসহ উপজেলা সমন্বয়কারীরা। সভায় গ্রাম আদালতের কার্যক্রম, জনসচেতনতা বৃদ্ধি, স্থানীয় অংশীজনদের সম্পৃক্ততা এবং কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়। সভায় মূল প্রতিপাদ্য উপস্থাপন করেন জেলা ব্যবস্থাপক মো. আসাদুজ্জামান।
সিলেটের হজরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানবাক্সের টাকা নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত হয়েছে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এখন থেকে প্রতিদিন দানের টাকা গণনা হবে। প্রাপ্ত টাকার ৩৫ শতাংশ মাজারের উন্নয়নকাজে জন্য ব্যাংকের অ্যাকাউন্টে জমা রাখা হবে, আর বাকি ৬৫ শতাংশ দিয়ে টাকা মাজারের দৈনন্দিন ব্যয় ও কর্মচারীদের বেতন দেওয়া হবে। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে সিলেট সার্কিট হাউসে আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনতে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের নেতৃত্বে গঠিত কমিটির সভায় এসব সিদ্ধান্ত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন বাণিজ্যমন্ত্রী। সভা শেষে এসব তথ্য জানান এই কমিটির সদস্য সচিব ও সিলেটের জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মামুন। এর ফলে শাহজালাল মাজারের ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রায় দুই মাসের সিদ্ধান্তহীনতার অবসান হলো। জেলা প্রশাসক বলেন, ‘এখন থেকে শাহজালাল মাজারের দানের টাকা প্রতিদিন গণনা করা হবে। দানের টাকা থেকে ৩৫ শতাংশ মাজারের উন্নয়নকাজে জন্য সোনালী ব্যাংকের অ্যাকাউন্টে জমা রাখা হবে। এই অ্যাকাউন্ট সিলেটের জেলা প্রশাসক ও মাজারের মতোয়াল্লির যৌথ স্বাক্ষরে পরিচালিত হবে। বাকী ৬৫ শতাংশ টাকা মাজারের দৈনন্দিন ব্যয় ও কর্মচারীদের বেতন নির্বাহ করা হবে।’ জেলা প্রশাসক আরো বলেন, ‘টাকা গণনা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিতে মাজার কমিটির পক্ষে একজন ম্যানেজার নিয়োগ দেওয়া হবে। তিনি অবসরপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন বা অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা হবেন। এছাড়া একজন হিসাব রক্ষক ও একজন অফিস সহকারী নিয়োগ দেওয়া হবে।’ মাজার পরিচালনায় একটি কমিটি গঠন করা হবে জানিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, ‘কমিটির সদস্য হবেন সাতজন। এর আহ্বায়ক হবেন জেলা প্রশাসক। কমিটিতে সিটি করপোরেশন, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, সিলেট মহানগর পুলিশ, সিলেট জেলা পরিষদের একজন করে প্রতিনিধি ও পুলিশ সুপার থাকবেন। আর মাজারের মতোয়াল্লি এই কমিটিতে সদস্যসচিব হিসেবে থাকবেন। এছাড়া নিয়োগকৃত ম্যানেজার এই কমিটির সাচিবিক দায়িত্ব পালন করবেন। এই কমিটি মাজারের নিরাপত্তা ও উন্নয়ন বিষয়ে যাবতীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।’ হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজারের দানবাক্সের টাকা নিয়ে বিদায়ী জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলমের উদ্যোগ ও এ নিয়ে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হলে গত ২৩ জুন মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও সার্বিক পরিচালনায় স্বচ্ছতা আনতে বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের নেতৃত্বে ১৩ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। এক মাসের মধ্যে কমিটি ব্যবস্থাপনার জন্য একটি যৌক্তিক ও সমন্বিত কাঠামোর সুপারিশ দেবে বলে সেদিন জানানো হয়েছিল। তবে প্রায় আড়াই মাস পর এই কমিটি সিদ্ধান্তে পৌঁছে। এতদিন কোনো নীতিমালা না হওয়ায় বিদায়ী জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলমের উদ্যোগের পর থেকে মাজারের টাকা প্রকাশ্যে গণনা হচ্ছে এবং গণনার পর টাকা জেলা প্রশাসনের খোলা ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা রাখা হচ্ছে। এতে মাজার পরিচালনায় অচলাবস্থা দেখা দিয়েছে জানিয়েছেন হজরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের খাদেমরা। প্রসঙ্গত, হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজারের আয়-ব্যয়ের ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে সিলেট জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে উদ্যোগ নেওয়া হয়। এর অংশ হিসেবে গত ১৮ জুন বিকেলে মাজারে থাকা আগের দানবাক্স সিলগালা করে নতুন দানবাক্স স্থাপন করা হয়। পাশাপাশি মাজারে মানুষের দান করা নগদ অর্থ ও অন্যান্য সামগ্রী রাখার ঐতিহাসিক তিনটি দানের ডেগও সিলগালা করা হয়। দানবাক্স ও ডেগ সিলগালার পর জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলমের এ উদ্যোগের পক্ষে-বিপক্ষে সিলেটজুড়ে আলোচনা শুরু হয়। একপক্ষের দাবি, মাজারের আয়-ব্যয়ে স্বচ্ছতা আনতে জেলা প্রশাসক কার্যকর উদ্যোগ নিয়েছেন। অন্যপক্ষের অভিযোগ, মাজারে স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠার নামে তার সাম্প্রতিক পদক্ষেপগুলো ছিল একতরফা ও জোরপূর্বক, যা মাজারকেন্দ্রিক প্রচলিত ব্যবস্থার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এ আলোচনা-সমালোচনার মধ্যেই ২১ জুন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার করে মন্ত্রণালয়ের উপসচিব পদে সংযুক্ত করা হয়। এর পরদিন তার উপস্থিতিতে দানবাক্স সিলগালার চারদিন পর জনসমক্ষে বাক্সের তালা খুলে টাকা গণনা করা হয়। গত ২২ জুন প্রথম দফায় দানবাক্স থেকে নগদ ১৭ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪৯ টাকা, স্বর্ণালঙ্কার ও বিদেশি মুদ্রা পাওয়া যায়। পরে জেলা প্রশাসনের তহবিল থেকে ৫ লাখ টাকার চেক যুক্ত হলে মোট অর্থ দাঁড়ায় ২২ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪৯ টাকা। এর ১৮ দিন পর ১১ জুলাই দ্বিতীয় দফায় দানবাক্স খুলে পাওয়া যায় ৪৭ লাখ ১০ হাজার ১৫৩ টাকা। পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের মুদ্রা ও স্বর্ণ-রূপাও পাওয়া যায়। সর্বশেষ ১৫ আগস্ট তৃতীয় দফায় দানবাক্স ও মানতের ডেগ খুলে ৭০ লাখ ৮৮ হাজার ৬৭২ টাকা পাওয়া যায়। এ সময় দেশি-বিদেশি মুদ্রার পাশাপাশি সোনা-রূপার অলঙ্কারও পাওয়া যায়। সবশেষ ১৯ সেপ্টেম্বর পাওয়া যায় ৮৮ লাখ ৯২ হাজার ৯৬৬ টাকা। এদিনও দেশি-বিদেশি মুদ্রার পাশাপাশি সোনা-রূপার অলঙ্কারও পাওয়া যায়।
কুমিল্লায় হত্যার শিকার স্কুলছাত্র ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমকে (১৩) বিভিন্ন ফেসবুক আইডি থেকে নানা উপায়ে অপরাধের সঙ্গে জড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন তার মা কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগম। তিনি বলেন, আমার ছেলেকে বিভিন্ন আইডি থেকে ব্লেইম করা হচ্ছে। আমার ছেলে কিছু বোঝে? আমার দুধের শিশুকে অপরাধী বানাতে চাইলে আমি এটা কখনোই মেনে নেব না। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতির নেতারা কোটবাড়ি গন্ধমতিতে অপ্রতিমের বাসায় গিয়ে তার বাবা-মায়ের সঙ্গে দেখা করে সমবেদনা জানান। এ সময় তিনি আইনজীবীদের কাছে এসব কথা বলেন। নাহিদা বেগম বলেন, আমার ছেলেকে বিভিন্ন ফেসবুক আইডি থেকে নানা উপায়ে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। ২০২৫ সালের শুরুতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টরের দায়িত্ব পালনকালে আমি অনেক মাদকসেবী ও মাদক কারবারিকে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছি। ওই ঘটনার কারণে যদি আমার ছেলেকে টার্গেট করা হয়ে থাকে, তাহলে এটা আমি মেনে নেব না। অপ্রতিমের মা আরও বলেন, আমার কোনো দোষ থাকলে আমাকে শাস্তি দেওয়া হোক। মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া যদি আমার অপরাধ হয়ে থাকে, তাহলে তার শাস্তি আমি পাব। আমার ছেলে কেন এর শাস্তি পাবে? আমার ছেলেকে কেন মেরে ফেলা হলো? আমার ছেলেকে তাদের সঙ্গে জড়িয়ে বোঝানোর চেষ্টা করা হচ্ছে, সেও তাদেরই একজন। অথচ আমার ছেলে নিষ্পাপ, ছোট বাচ্চা। সে এসবের কিছুই বোঝে না। ড. নাহিদা বলেন, আমি শুধু আমার ছেলের জন্য বিচার চাই না। যারা আমার ছেলেকে হত্যা করেছে, তারা জেল থেকে বের হলে আরও কত বাচ্চার জীবন নেবে, কত বাচ্চার জীবন ধ্বংস করবে— সেটা নিয়েও আমি চিন্তিত। আমি চাই, এ হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার হোক। এ সময় কুমিল্লা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) অ্যাডভোকেট কাইমুল হক রিংকু, সরকারি আইন কর্মকর্তা (জিপি) অ্যাডভোকেট তারেক আবদুল্লাহ, কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট শহীদ উল্লাহ, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মাহাবুবুল হক খন্দকার এবং সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট শরীফুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। সাক্ষাৎকালে আইনজীবীরা অপ্রতিমের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের সমবেদনা জানান। এ সময় আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। আইনজীবীদের একই প্রতিনিধি দল বিকেলে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গেও বৈঠক করে।
চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ষাটনল লঞ্চঘাটে মেঘনা নদীর তীরে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা জলবিলাস নামে একটি হোটেল এবং নির্মাণাধীন আরেকটি হোটেলের কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে চাঁদপুর জেলা পরিবেশ অধিদফতর। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে পরিবেশ অধিদফতর চাঁদপুরের উপপরিচালক মো. মিজানুর রহমান, পরিদর্শক শরমিতা আহমেদ লিয়াসহ কর্মকর্তারা পরিদর্শন করেন। এ সময় ‘জলবিলাস’ ও নির্মাণাধীন ‘হাওয়া বদল’ নামে আরেকটি হোটেল মালিকপক্ষের সঙ্গে কথা বলেন পরিবেশ অধিদফতরের কর্মকর্তারা। চাঁদপুর পরিবেশ অধিদফতরের উপপরিচালক মো. মিজানুর রহমান বলেন, নদীর তীরে হোটেল চলমান এবং নির্মাণ হচ্ছে এমন শিরোনামে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হওয়ার পর বিষয়টি নজরে আসে। এই দুই হোটেলের মালিক পরিবেশ অধিদফতরের কোনো ছাড়পত্র নেননি। যদিও তারা দাবি করছেন এই সম্পত্তি তাদের। তারপরও বিষয়টি স্থানীয় উপজেলা প্রশাসন এবং জেলা প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তিনি আরও বলেন, আমরা প্রাথমিক পর্যায়ে দুই হোটেলের মালিককে তাদের কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছি। এর আগে, গত ২৪ আগস্ট মেঘনা নদীর তীর ও নদীর তীরবর্তী সরকারি জায়গা দখল করে হোটেল নির্মাণের অভিযোগে প্রকাশিত সংবাদ আমলে নিয়ে স্বপ্রণোদিতভাবে তদন্তের নির্দেশ দেন চাঁদপুরের মতলব আমলি আদালতের বিচারক জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. নসরুল্লাহ। একই সঙ্গে ওই এলাকায় নির্মিত স্থাপনার সংখ্যা, নির্মাণকাজে জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নেওয়া হয়েছিল কি না, এসব বিষয় তদন্ত করে মতলব উত্তর উপজেলা সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) ৩০ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়।
সাভারের আশুলিয়ায় প্রীটি গ্রুপের ‘এস সুহী ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক’ চত্বরে সিলিন্ডারবাহী গাড়িতে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডে নিহত বেড়ে আটজনে দাঁড়িয়েছে। এ ঘটনায় আহত নূর ইসলাম (৪০) ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন বলে বার্ন ইউনিটের আবাসিক চিকিৎসক হারুন অর রশিদ জানান। তিনি বলেন, নূর ইসলামের শরীরের ৯৫ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল এবং তার শ্বাসনালীও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। তিনি বার্ন ইউনিটের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। নূর ইসলামের গ্রামের বাড়ি বাগেরহাটের মোংলা উপজেলার দিঘরাজ এলাকায়। রোববার সন্ধ্যায় কারখানা চত্বরে আগুন ও গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। ফায়ার সার্ভিসের ছয়টি ইউনিট প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। কারখানা প্রাঙ্গণে থাকা সাত-আটটি সিলিন্ডারবাহী গাড়ি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঘটনাস্থলে লরির ভেতর থেকে পাঁচজনের দগ্ধ মরদেহ উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিস। এদের মধ্যে একজন চালকের আসনে বাসা অবস্থাতেই দগ্ধ হয়ে মারা যান। বিস্ফোরণের পর সিলিন্ডারের ছিটকে আসা অংশের আঘাতে রাস্তার কাপড়ের দোকানি মোছাম্মত জয়নব বেগম (৫৫) ঘটনাস্থলেই মারা যান। মধ্যরাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুলবুল নামের আরও একজন মারা যান। মঙ্গলবার নূর ইসলাম মারা গেলেন। আহত হয়েছেন অন্তত ১৬ জন। আহতদের মধ্যে পরিবহন শ্রমিক, পথচারী, আনসার সদস্য রয়েছেন। তাদের মধ্যে এখনও দুজন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন। এ ঘটনায় ফায়ার সার্ভিস ও জেলা প্রশাসন দুটি তদন্ত কমিটি করেছে।
বৃষ্টিপাত বেড়ে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে বন্যাপ্রবণ তিস্তা, কুশিয়ারা ও সুরমা নদীর পানি বাড়তে পারে। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র এমন তথ্য জানিয়েছে। পাউবো জানিয়েছে, পশ্চিমমধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন উত্তরপশ্চিম বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থানরত নিম্নচাপটি পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে একই এলাকায় অবস্থান করছে। এটি আরও পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর ও ঘনীভূত হয়ে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে। আবহাওয়া সংস্থাসমূহের তথ্য অনুযায়ী, আগামী তিন দিন দেশের অভ্যন্তরে ও তৎসংলগ্ন উজানে মাঝারি-ভারী থেকে ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ব্রহ্মপুত্র নদের পানির সমতল হ্রাস পেয়েছে। অপরদিকে, যমুনা নদীর পানির সমতল স্থিতিশীল আছে। ব্রহ্মপুত্র নদের পানির সমতল আগামী পাঁচ দিন স্থিতিশীল থাকতে পারে। অপরদিকে, যমুনা নদীর পানির সমতল আগামী এক দিন হ্রাস পেতে পারে এবং পরবর্তী চার দিন স্থিতিশীল থাকতে পারে। গঙ্গা নদীর পানির সমতল হ্রাস পেয়েছে। অপরদিকে, পদ্মা নদীর পানির সমতল স্থিতিশীল আছে, যা আগামী পাঁচ দিন হ্রাস পেতে পারে। এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সুরমা-কুশিয়ারা নদীর পানির সমতল হ্রাস পেয়েছে, যা আগামী দুদিন অব্যাহত থাকতে পারে এবং তৃতীয় দিন বাড়তে পারে। এ ছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় উত্তরাঞ্চলীয় তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানির সমতল হ্রাস পেয়েছে। তিস্তা নদীর পানির সমতল আগামী এক দিন হ্রাস পেতে পারে এবং পরবর্তী দুদিন বাড়তে পারে। অপরদিকে, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানির সমতল আগামী তিন দিন স্থিতিশীল থাকতে পারে।
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে রিপন মিয়া (৩৫) নামে এক ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিকে গ্রেফতারের সময় নদীতে ঝাঁপ দিয়ে পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তবে স্থানীয়দের দাবি, পুলিশের ওপর হামলা করে রিপনকে ছিনিয়ে নিয়ে গেছে তার সহযোগীরা। এ ঘটনায় দুই পুলিশ কর্মকর্তা আহত হয়েছেন বলেও স্থানীয়দের দাবি। তবে পুলিশ এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, তাদের ওপর কেউ হামলা করেনি এবং কোনও পুলিশ সদস্য আহত হননি। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলার বৈদ্যরবাজার খেয়াঘাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পালিয়ে যাওয়া রিপন মিয়া কুমিল্লার মেঘনা থানার কুদরত আলীর ছেলে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রিপন মেঘনার বাসিন্দা হলেও চলাচলের সুবিধার জন্য সোনারগাঁয়ের বৈদ্যরবাজার এলাকায় আসা-যাওয়া করতেন। সোমবার বিকালে তাকে গ্রেফতারের জন্য সোনারগাঁ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সুরুজ্জামানের নেতৃত্বে সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) হাসমত উল্লাহসহ পুলিশের একটি দল অভিযান চালায়। স্থানীয়দের দাবি, পুলিশ রিপনকে গ্রেফতার করার পর তার সহযোগীরা পুলিশের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। এ সময় পুলিশের সঙ্গে তাদের ধস্তাধস্তি হয় এবং একপর্যায়ে তারা রিপনকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়। এতে দুই পুলিশ কর্মকর্তা আহত হয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন বলেও স্থানীয় সূত্র জানায়। সোনারগাঁ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসক ডা. মোস্তাফিজুর রহমান দিগন্ত বলেন, বিকেলে দুই পুলিশ সদস্য সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে চলে গেছেন। তাদের মধ্যে একজনের নাম হাসমত উল্লাহ। তারা সম্ভবত ধস্তাধস্তির ঘটনায় আহত হয়েছেন। তবে পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে এসআই সুরুজ্জামান বলেন, ‘আমি সহ তিনজন পুলিশ সদস্য খেয়াঘাট এলাকায় দ্রুত বিচার মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত একজন আসামিকে গ্রেফতার করতে গিয়েছিলাম। এ সময় আসামি আমাদের উপস্থিতি টের পেয়ে নদীতে ঝাঁপ দিয়ে পালিয়ে যায়। তবে আমাদের ওপর কোনও হামলার ঘটনা ঘটেনি।’ সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবদুল বারিকও বলেন, আসামিকে গ্রেফতার করতে গেলে সে নদীতে ঝাঁপ দিয়ে পালিয়ে যায়। পুলিশের ওপর হামলার কোনও ঘটনা ঘটেনি। পুলিশ কর্মকর্তাদের আহত হওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে তার জানা নেই। নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারেক আল মেহেদী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, মেঘনা থানার দ্রুত বিচার আইনের মামলায় ওয়ারেন্টভুক্ত একজন আসামিকে গ্রেফতারের জন্য সোনারগাঁ থানা পুলিশকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। গ্রেফতারের সময় তার নাম-পরিচয় জানতে চাইলে সে কৌশলে পালিয়ে যায়। তবে এ ঘটনায় পুলিশের ওপর কেউ হামলা করেনি এবং কোনও পুলিশ সদস্য আহত হননি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।