সারাদেশ

ছবি : সংগৃহীত
সাংবাদিককে লাঞ্ছনার অভিযোগে এএসআই ক্লোজড

দিনাজপুরের চিরিরবন্দর থানা-এ সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে গিয়ে লাঞ্ছনার শিকার হওয়ার অভিযোগে এক পুলিশ কর্মকর্তাকে সাময়িকভাবে ক্লোজড করা হয়েছে। ভুক্তভোগী দৈনিক কালবেলা-এর প্রতিনিধি জাফর ইকবাল।   সোমবার (১৩ এপ্রিল) রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন দিনাজপুরের পুলিশ সুপার মো. জেদান আল মুসা। তিনি জানান, অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় সংশ্লিষ্ট সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মো. আখতারুজ্জামান-কে ক্লোজড করা হয়েছে এবং ঘটনা তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। 🕘 যা ঘটেছিল অভিযোগ অনুযায়ী, সোমবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মোবাইল ফোন হারানোর বিষয়ে জিডি করতে চিরিরবন্দর থানায় যান সাংবাদিক জাফর ইকবাল। প্রথমে কম্পিউটার অপারেটর মো. সেলিম তাকে ডিউটি অফিসার এএসআই আখতারুজ্জামানের কাছে পাঠান। তবে ওই কর্মকর্তা আবার তাকে অপারেটরের কাছে ফিরে যেতে বলেন।   এভাবে কয়েক দফা ঘোরাঘুরির পর বিরক্ত হয়ে নিজের সাংবাদিক পরিচয় দেন জাফর ইকবাল। এ সময় এএসআই তার পরিচয়পত্র দেখতে চান এবং তা নিয়ে নিজের কক্ষে রেখে দেন বলে অভিযোগ করা হয়। পরে বিষয়টি তিনি থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আহসান হাবিব-কে ফোনে জানান। এ সময় আরও কয়েকজন পুলিশ সদস্য ঘটনাস্থলে আসেন। একপর্যায়ে এএসআই আখতারুজ্জামান তার শার্টের কলার ধরে তাকে লকআপে নেওয়ার চেষ্টা করেন এবং তার মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী।   ⚖️ প্রশাসনিক পদক্ষেপ পুলিশ সুপার মো. জেদান আল মুসা বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পরপরই প্রাথমিক তদন্তে সত্যতা মিলেছে। এ কারণে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে সাময়িকভাবে ক্লোজড করা হয়েছে। একই সঙ্গে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় সাংবাদিক মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি উঠেছে।

মোঃ নাহিদ হোসেন এপ্রিল ১৪, ২০২৬ 0
কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে বীজ ও সার বিতরণ করেন ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ
কৃষকরা আমাদের জীবনের অংশ : ধর্মমন্ত্রী কায়কোবাদ

ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ বলেছেন, বর্তমান সরকার কৃষকের সরকার ও কৃষিবান্ধব। কৃষকরা আমাদের জীবনের অংশ। তাদের উৎপাদিত শস্যে আমাদের জীবন চলে। সোমবার (১৩ এপ্রিল) সন্ধ্যায় মুরাদনগর উপজেলায় কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে বীজ ও সার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আয়োজনে উপজেলা কবি নজরুল মিলনায়তনে বীজ ও সার বিতরণ শুরু করা হয়। কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ বলেন, কৃষকরা যদি ফসল উৎপাদন বন্ধ রাখে তাহলে দেশ খাদ্যহীন হয়ে যাবে। সেজন্যই বর্তমান সরকার দায়িত্ব নিয়েই কৃষকদের সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ সুদসহ মওকুফ করেছে। চাষাবাদের সুবিধার জন্য খাল খনন প্রকল্প শুরু করেছে। কৃষকদের স্বাবলম্বী করতে কৃষক কার্ড চালু করা হচ্ছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবিএম সারোয়ার রাব্বির সভাপতিত্বে ও উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মাজহারুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠান বক্তব্য রাখেন- উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা পাভেল খান পাপ্পু, কৃষক প্রতিনিধি হেদায়েত হোসেন। উপস্থিত ছিলেন- সহকারী কমিশনার ভূমি সাকিব হাসান খান, পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা সফিকুল ইসলাম, মুরাদনগর থানার ওসি মাসরুরুল হক, বাঙ্গরা বাজার থানা পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আনোয়ার হোসেন, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক কামাল উদ্দিন ভূইয়া, যুবদলের আহ্বায়ক সোহেল সামাদ, মহিলা দলের সভাপতি কাজী তাহমিনা। এ বছর মুরাদনগর উপজেলার ১৬ হাজার ২০০ জন প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে বীজ ও রাসায়নিক সার বিতরণ করা হচ্ছে।

মারিয়া রহমান এপ্রিল ১৩, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
আইন সংশোধন হলেই পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় হবে বগুড়ায়

বগুড়ায় পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ‘বগুড়া বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০০১’ সংশোধন করে সময়োপযোগী করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।   রোববার (১২ এপ্রিল) এ বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় খসড়া নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। আলোচনার পর বিদ্যমান আইনকে আরও যুগোপযোগী করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।   সভায় সভাপতিত্ব করেন আইন সংশোধনের জন্য গঠিত কমিটির আহ্বায়ক ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আলিফ রুদাবা। এতে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব শাহজাহান মিয়া, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সদস্য অধ্যাপক ড. মাছুমা হাবিব, নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহা. হাছানাত আলীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।   এর আগে, গত ৩১ মার্চ এ বিষয়ে ৬ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির সভাপতি করা হয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (বিশ্ববিদ্যালয়) আলিফ রুদাবাকে। কমিটির অন্য সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন ইউজিসির সদস্য অধ্যাপক ড. মাছুমা হাবিব, নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহা. হাছানাত আলী, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব জহিরুল ইসলাম, আইন কর্মকর্তা মো. ফাহিম ফয়সাল এবং সদস্যসচিব হিসেবে সিনিয়র সহকারী সচিব নাঈম খন্দকার।   শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক চিঠিতে কমিটিকে আট কর্মদিবসের মধ্যে আইন সংশোধনের প্রস্তাব চূড়ান্ত করে শিক্ষামন্ত্রীর কাছে উপস্থাপনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। রোববার সেই সময়সীমা শেষ হয়েছে।   সভায় গৃহীত সুপারিশগুলো শিগগিরই মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। পরে তা আইন প্রণয়নের জন্য জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করা হবে। সংসদে পাস হলে বগুড়া বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়কে পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপ দেওয়ার পথ সুগম হবে।

মোঃ নাহিদ হোসেন এপ্রিল ১৩, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
দিনদুপুরে বাড়ির সামনে বৃদ্ধকে কুপিয়ে হত্যা

রামু উপজেলা-এর ফতেখাঁরকুল ইউনিয়নে বাড়ির সামনে এক বৃদ্ধকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় একজনকে আটক করেছে পুলিশ।   সোমবার (১৩ এপ্রিল) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে পূর্ব মেরংলোয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত কালু বড়ুয়া (৬৫) ওই এলাকার মৃত যতিন্দ্র বড়ুয়ার ছেলে। আটক তাম্বু বড়ুয়া (৪০) একই এলাকার নিরঞ্জন বড়ুয়া ওরফে ছাতু বড়ুয়ার ছেলে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভোরে পূর্বপরিকল্পিতভাবে বাড়ির সামনের পাকা সড়কে কালু বড়ুয়াকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। ঘটনার পরপরই এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।   খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়। ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে তাম্বু বড়ুয়া নামে এক ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ। এ বিষয়ে রামু থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ ফরিদ জানান, হত্যার কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে এবং এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

মোঃ নাহিদ হোসেন এপ্রিল ১৩, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
প্রধানমন্ত্রীর যশোর সফর ঘিরে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা প্রস্তুতি

যশোরে জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় আগামী ২৭ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের যশোর সফরকে কেন্দ্র করে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে।   রোববার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকালে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান।   সভায় জানানো হয়, প্রধানমন্ত্রী যশোর সফরকালে যশোর মেডিকেল কলেজ এবং শার্শার উলাশীতে ‘জিয়া খাল’ খনন কাজের উদ্বোধন করবেন। এই সফর উপলক্ষে ২০ এপ্রিলের মধ্যে জেলার সকল সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীকে দাপ্তরিক কাজ সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং তাদের সব ধরনের ছুটি বাতিল করা হয়েছে।   সভায় আরও জানানো হয়, নিরাপত্তার স্বার্থে ২৫ থেকে ২৭ এপ্রিল পর্যন্ত যশোর সদর, ঝিকরগাছা ও শার্শা উপজেলার প্রধান সড়কগুলোতে নির্মাণ সামগ্রী রাখা বা বাস, ট্রাক, ট্যাংকার ও পিকআপ পার্কিং করা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এ ছাড়া নির্ধারিত রুট, প্যারিস রোড ও তৎসংলগ্ন এলাকার সব দোকানপাট ও জ্বালানি তেলের পাম্প ওই তিন দিন বন্ধ থাকবে।   দেশের জ্বালানি তেলের বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় সভায় কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর মধ্যে যেসব মোটরসাইকেলে তিন লিটার বা তার বেশি তেল থাকবে, তারা পাম্প থেকে নতুন করে তেল নিতে পারবে না। তিন লিটারের কম তেল থাকলে পাম্পে দায়িত্বরত ট্যাগ অফিসার বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বৈধ কাগজপত্র যাচাই সাপেক্ষে তেল দেওয়ার অনুমতি দেবেন। বৈধ কাগজপত্র না থাকলে সংশ্লিষ্ট যানবাহন এক মাসের জন্য জব্দ করা হবে। বাড়িতে তেল মজুদ করে বেশি দামে বিক্রির চেষ্টা করলে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।   সভায় বোরো মৌসুমে কৃষকদের সেচ সুবিধা নিশ্চিত করতে শহরের চেয়ে গ্রাম এলাকায় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহে অগ্রাধিকার দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ইরুফা সুলতানা সভায় গত মার্চের অপরাধচিত্র তুলে ধরেন।   জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান বলেন, পহেলা বৈশাখ উদযাপন ও প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে কিশোর গ্যাং প্রতিরোধ, ছিনতাই বিরোধী অভিযান এবং সীমান্তে চোরাচালান রোধে বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে।   সভায় জেলা পরিষদের প্রশাসক, পুলিশ সুপার, সিভিল সার্জন, বিজিবি, র‌্যাব, সেনাবাহিনীর প্রতিনিধি, চেম্বার অব কমার্স ও প্রেসক্লাবসহ বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

মো: দেলোয়ার হোসাইন এপ্রিল ১৩, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
অনাবৃষ্টি ও তাপদাহে কাপ্তাই হ্রদে পানি কম, তিন ইউনিটে বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ

অনাবৃষ্টি ও তাপদাহে শুকিয়ে যাচ্ছে কাপ্তাই হ্রদের পানি। ফলে হ্রদের পানির ওপর নির্ভরশীল কাপ্তাইয়ের কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের (কপাবিকে) ৫টি ইউনিটের মধ্যে ২টি ইউনিটের প্রতিটিতে ৪০ মেগাওয়াট করে মোট ৮০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। পানির অভাবে কেন্দ্রের ৩টি ইউনিট বন্ধ রয়েছে।   রোববার (১২ এপ্রিল) কাপ্তাই পানি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, কেন্দ্রের সব ইউনিট সচল থাকলেও পানির অভাবে তা চালানো সম্ভব হচ্ছেনা। ফলে পানি স্বল্পতার কারণে সকাল ৯টা পর্যন্ত ৫টি ইউনিটের মধ্যে ১ ও ২ নং ইউনিটের প্রতিটিতে ৪০ মেগাওয়াট করে মোট ৮০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হয়েছে।   কেন্দ্রের বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ২৩৫ মেগাওয়াট, যেখানে সব ইউনিট সচল থাকলে ২৪০ মেগাওয়াট পর্যন্ত উৎপাদন সম্ভব। কন্ট্রোল রুম সূত্র জানায়, বর্তমানে লেকে পানি থাকার কথা ৮৫.৮০ এমএসএল (মিন সী লেভেল), কিন্তু আছে মাত্র ৮১.০২ এমএসএল। ফলে পানি স্বল্পতায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। বিপজ্জনক সীমা ধরা হয় ৬৮ এমএসএল। যদি লেকের পানি এই সীমার নিচে নেমে আসে, সম্পূর্ণ উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাবে। হ্রদে পানি ধারণ ক্ষমতা ১০৯ এমএসএল।   কাপ্তাই লেকে পানি কমে যাওয়ায় বিদ্যুৎ উৎপাদনের পাশাপাশি মানুষের ভোগান্তিও বাড়ছে। লেকের সঙ্গে সংযুক্ত পাঁচ উপজেলা—বিলাইছড়ি, বরকল, জুরাছড়ি, লংগদু ও বাঘাইছড়ি—এর নৌপথে যোগাযোগ বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। লেকের বিভিন্ন স্থানে জেগে ওঠা চরে নৌযান চলাচল বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এছাড়া লেকের বিভিন্ন অংশে পলি জমে নাব্যতা সংকট দেখা দিয়েছে, যার ফলে লেকের ওপর নির্ভরশীল কর্মজীবি ও ব্যবসায়িক মানুষের কর্মসংস্থানও বিপন্ন হয়ে পড়েছে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন এপ্রিল ১৩, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
রাঙামাটিতে বন্য হাতির আক্রমণে এক ব্যক্তির মৃত্যু

রাঙামাটির পাহাড়ি এলাকায় বন্য হাতির আক্রমণে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় শোক ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।   রোববার (১২ এপ্রিল) স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনাটি ঘটে রাঙামাটি জেলা-এর দুর্গম এক এলাকায়। বন্য হাতির একটি দল হঠাৎ লোকালয়ে ঢুকে পড়লে ওই ব্যক্তি আক্রমণের শিকার হন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হঠাৎ করেই বন্য হাতির দলটি বসতবাড়ির কাছাকাছি চলে আসে। এ সময় লোকজন দিগ্বিদিক ছুটতে থাকলেও একজন ব্যক্তি পালাতে না পেরে হামলার শিকার হন।   ঘটনার পর স্থানীয়রা দ্রুত উদ্ধার চেষ্টা চালালেও ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয় বলে জানা গেছে। পরে বন বিভাগের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করেন। স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় বন্য হাতির চলাচল বেড়ে গেছে, কিন্তু পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকায় এমন দুর্ঘটনা ঘটছে।   এ বিষয়ে বন বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, হাতির চলাচল নিয়ন্ত্রণ এবং মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং স্থানীয়রা দ্রুত ক্ষতিপূরণ ও স্থায়ী সমাধানের দাবি জানিয়েছেন।

মোঃ ইমরান হোসেন এপ্রিল ১২, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
জব্দ বালু লুটের অভিযোগে নিলাম কার্যক্রম বন্ধ

  গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলা-এ অবৈধভাবে উত্তোলন করা প্রায় ২১ হাজার সিএফটি বালু জব্দ করেছিল উপজেলা প্রশাসন। তবে জব্দকৃত সেই বালুই নিলামের আগেই লুট হয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে, যা নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।   রোববার (১২ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের নগর কাটগড়া (কন্নাবাড়ি চরঘাট) এলাকায় জব্দ করা বালু নিলামে বিক্রির প্রস্তুতি নিতে গেলে প্রশাসনের প্রতিনিধিদল এ পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়। নিলাম কার্যক্রম পরিচালনার জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) নির্দেশে একটি পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধিদল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তবে গিয়ে দেখা যায়, জব্দকৃত বালুর বড় একটি অংশ আগেই সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।   স্থানীয়দের অভিযোগ, একটি প্রভাবশালী চক্র রাতের আঁধারে ট্রাক্টর ব্যবহার করে বালুর বড় অংশ লুট করে নিয়ে যায়। বিষয়টি একাধিকবার প্রশাসনকে জানানো হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে দাবি তাদের। জানা যায়, ঘাঘট নদী থেকে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে ড্রেজার মেশিনের মাধ্যমে বালু উত্তোলন করে পাশেই স্তুপ করা হচ্ছিল। পরে গত বছরের ১৪ মার্চ সহকারী কমিশনার (ভূমি) জসিমউদদীন অভিযান চালিয়ে প্রায় ২১ হাজার সিএফটি বালু জব্দ করেন, যার আনুমানিক মূল্য প্রায় চার লাখ টাকা।   জব্দকৃত বালু বামনডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল জব্বার-এর জিম্মায় রাখা হয়। তবে সংরক্ষণে অবহেলার কারণে তা লুট হয়ে গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। নিলাম কার্যক্রমের জন্য উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মশিয়ার রহমান ঘটনাস্থলে গিয়ে বালুর বড় অংশ অনুপস্থিত দেখতে পান এবং পরে নিলাম স্থগিত করা হয়।   এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইফফাত জাহান তুলি জানান, জব্দকৃত বালু লুটের অভিযোগ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঘটনাটি ঘিরে স্থানীয় প্রশাসনিক গাফিলতি ও প্রভাবশালী চক্রের ভূমিকা নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।

মোঃ ইমরান হোসেন এপ্রিল ১২, ২০২৬ 0
মাদক একটি পরিবার ও সমাজকে ধ্বংস করে বলে মন্তব্য করেছেন লুৎফুজ্জামান বাবর।
কাজে গাফিলতি ও অনিয়মের প্রমাণ পেলে চাকরি যেতে পারে: বাবর

কাজে গাফিলতি ও অনিয়মের প্রমাণ পেলে চাকরি থাকবে না, এক্ষেত্রে কাউকে ছাড়ও দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন নেত্রকোনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুজ্জামান বাবর। রোববার (১২ এপ্রিল) উপজেলা পরিষদ হলরুমে উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।  বাবর বলেন, আমি আপনাদের সঙ্গে নিয়মিত মাসিক সভা করার চেষ্টা করব। সম্ভব না হলে জুম মিটিংয়ে যুক্ত হব। আপনারা মোবাইল নম্বর ও ছবিসহ প্রয়োজনীয় তথ্য দিলে নিয়মিত যোগাযোগ রাখব। এ সময় মাদকবিরোধী অবস্থান তুলে ধরে তিনি বলেন, মাদকসেবীর চেয়ে মাদককারবারিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। মাদক একটি পরিবার ও সমাজকে ধ্বংস করে। এ কাজে দলের কেউ জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) বেদবতী মিস্ত্রীর সভাপতিত্বে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- উপজেলা বিএনপির সভাপতি নূরুল আলম তালুকদার, সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম আকন্দ, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদির, রাজনৈতিক একান্ত সচিব মির্জা হায়দার আলী, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাইফ আহম্মদ সেকুল, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলে এলাহী টোটন, শামছুল আলম লালুসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

মারিয়া রহমান এপ্রিল ১২, ২০২৬ 0
মেরুদণ্ডের জটিল অপারেশনের সফলতায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ রোববার রোগীকে সঙ্গে নিয়ে কেক কেটে উদযাপন করেন এবং অপারেশন টিমকে সম্মাননা জানিয়েছেন
সিরাজগঞ্জে প্রথমবারের মতো মেরুদণ্ডের সফল অপারেশন

সিরাজগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে প্রথমবারের মতো সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে এক যুবকের মেরুদণ্ডের জটিল অপারেশন। এ সফলতায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ রোববার রোগীকে সঙ্গে নিয়ে কেক কেটে উদযাপন করেন এবং অপারেশন টিমকে সম্মাননা জানিয়েছেন। স্বল্প খরচে করা এ অপারেশনের মাধ্যমে হাঁটতে না পারা এই যুবক এখন স্বাভাবিকভাবে হাঁটতে ও বসতে পারছেন। জানা যায়, সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার চকনূর গ্রামের মৃত আবু বক্কারের ছেলে মেরাজুল ইসলাম (২৪) গত ২ মার্চ গাছ কাটতে গিয়ে পিঠের ওপর পড়লে তার মেরুদণ্ডের হাড় ভেঙে যায়। পরে গুরুতর অবস্থায় তাকে সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালের অর্থোপেডিক্স বিভাগে ভর্তি করা হয়। যেখানে তিনি ১৮ মার্চ পর্যন্ত চিকিৎসাধীন ছিলেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় নেওয়া হলেও সেখানে অপারেশনের জন্য দীর্ঘ সিরিয়াল ও প্রায় আড়াই লাখ টাকা খরচের কথা বলা হলে পরিবারটি পুনরায় সিরাজগঞ্জে ফিরে আসে। এরপর ২৮ মার্চ আবার তাকে সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অর্থোপেডিক্স বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, অর্থোপেডিক্স বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ডা. মো. দেলোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে ৭ এপ্রিল অপারেশন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সংগ্রহ করে মাত্র ১ লাখ টাকার মধ্যে সফলভাবে অপারেশন সম্পন্ন করা হয়। পুরো টাকাটাই লেগেছে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনতে। রোগী মেরাজুল ইসলাম বলেন, আমি কাজ করতে গিয়ে পিঠের উপর গাছ পড়লে সঙ্গে সঙ্গে আমি অজ্ঞান হয়ে যাই। এরপর থেকে হাঁটতেই পারছিলাম না৷ এখন অপারেশনের পরে আমি হাঁটতে ও বসতে পারছি। মেরাজুল ইসলামের মা মোছা. মহারানি বলেন, আমার ছেলে গাছ কাটতে গিয়ে মেরুদণ্ডের হাড্ডি ভেঙে গিয়েছিল। সিরাজগঞ্জ থেকে ঢাকায় নিয়েছিলাম। অনেক টাকা চাওয়ায় আবার সিরাজগঞ্জ নিয়ে আসি। সিরাজগঞ্জে ভালো চিকিৎসা হওয়ায় আমার হাঁটতে না পারা ছেলে এখন হাঁটতে পারছে। সিরাজগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের বিভাগীয় প্রধান ডা. মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, রোগী এসে যখন ভর্তি হয়, তখন আমরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করি। যে অপারেশনের প্রয়োজন ছিল, সেটি আসলে আমাদের হাসপাতালে হয় না। তবে আমার পূর্ব অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে অপারেশন করার জন্য মনস্থির করি। এরপর তারা ঢাকা গেলেও পুনরায় হাসপাতালে ফিরে আসেন। আলহামদুলিল্লাহ, আমার নেতৃত্বে মেরুদণ্ডের অপারেশন সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। প্রথমবারের মতো সফলতা পেয়েছি। সিরাজগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. শহীদুল্লাহ দেওয়ান বলেন, আমাদের হাসপাতালে সফলভাবে মেরুদণ্ডের হাড়ের অপারেশন সম্পন্ন হয়েছে। প্রথমবারের অপারেশনে এমন সফলতায় আমরা গর্বিত। স্বল্প খরচে সিরাজগঞ্জেও এখন থেকে এই অপারেশন যেন করার ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকে, সে ব্যাপারে আমরা সচেষ্ট থাকব।

মারিয়া রহমান এপ্রিল ১২, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
প্লাস্টিকের ভিড়ে টিকে থাকার লড়াই, উৎসবই জীবিকার ভরসা

চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলা-এ বাংলা নববর্ষকে ঘিরে আবারও ব্যস্ত হয়ে উঠেছে প্রাচীন মৃৎশিল্পীরা। সারা বছর কম চাহিদা থাকলেও বৈশাখকে সামনে রেখে মাটির তৈরি খেলনা ও গৃহস্থালি পণ্যের উৎপাদনে প্রাণ ফিরে এসেছে গ্রামগুলোর কুমোর পরিবারে।   উপজেলার পাইকপাড়া গ্রাম, শোল্লা গ্রাম ও মানুরী গ্রাম-এ এখন চলছে উৎসবমুখর কর্মব্যস্ততা। ঘরের আঙিনা থেকে শুরু করে খোলা জায়গায় মাটি দিয়ে তৈরি হচ্ছে পুতুল, হাতি, ঘোড়া, ময়ূরসহ নানা ধরনের শৈল্পিক পণ্য। স্থানীয় পালপাড়ায় গিয়ে দেখা যায়, নারী-পুরুষ সবাই মিলে কাজ করছেন সমানভাবে। কেউ মাটি গড়ছেন, কেউ রোদে শুকাচ্ছেন, আবার কেউ নিপুণ হাতে রংতুলির আঁচড়ে প্রাণ দিচ্ছেন মাটির খেলনায়।   মৃৎশিল্পীরা জানান, বছরের অধিকাংশ সময় বাজারে চাহিদা কম থাকলেও নববর্ষ ও বৈশাখী মেলাকে কেন্দ্র করে কিছুটা বিক্রি বাড়ে। এই আয়ের ওপর নির্ভর করেই তারা সারা বছরের সংসার চালানোর চেষ্টা করেন। শিল্পীরা আরও বলেন, প্লাস্টিক পণ্যের দাপটে মাটির তৈরি সামগ্রী বাজার হারাচ্ছে। অথচ এসব পণ্য পরিবেশবান্ধব ও স্বাস্থ্যসম্মত। সরকারি সহায়তা ও প্রশিক্ষণ পেলে এই ঐতিহ্যবাহী শিল্প টিকিয়ে রাখা সম্ভব হবে বলে তাদের বিশ্বাস।   স্থানীয় মৃৎশিল্পী মিঠু পাল বলেন, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা না থাকায় অনেকেই পেশা ছেড়ে দিচ্ছেন। তিনি মনে করেন, সহায়তা পেলে এই শিল্প আবারও ঘুরে দাঁড়াতে পারে। এ বিষয়ে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান জানান, কিছু পরিবারকে প্রশিক্ষণ ও অনুদান দেওয়া হয়েছে এবং ভবিষ্যতে আরও উদ্যোগ নেওয়া হবে।   অন্যদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সেন্টু কুমার বড়ুয়া বলেন, বর্তমানে নির্দিষ্ট কোনো প্রণোদনা না থাকলেও ভবিষ্যতে সরকারি সিদ্ধান্ত এলে মৃৎশিল্পীদের সহায়তা দেওয়া হবে। ঐতিহ্য আর আধুনিকতার টানাপোড়েনে দাঁড়িয়ে থাকা এই মৃৎশিল্পীরা তাই এখনো আশায় বুক বেঁধে আছেন—বৈশাখই যেন তাদের জীবনে নতুন প্রাণ ফিরিয়ে আনে।

মোঃ ইমরান হোসেন এপ্রিল ১২, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
আহত হনুমান চিকিৎসা নিতে হাজির হাসপাতালে

যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলা-এ আহত একটি হনুমান নিজেই উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের পশু হাসপাতালে এসে চিকিৎসা নিয়েছে—এমনই এক ব্যতিক্রমী ও হৃদয়ছোঁয়া ঘটনা ঘটেছে।   রোববার (১২ এপ্রিল) দুপুরে ঘটনাটি ঘটে। স্থানীয়দের মতে, আহত হনুমানটি নিজে থেকেই হাসপাতালে উপস্থিত হয়ে চিকিৎসা গ্রহণ করে, যা এলাকাজুড়ে ব্যাপক কৌতূহল সৃষ্টি করে। হাসপাতালে হনুমানটির চিকিৎসা করেন উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মাসুমা আখতার এবং প্রাণিসম্পদ সম্প্রসারণ কর্মকর্তা ডা. আব্দুর রহমান।   প্রাণিসম্পদ কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ধারালো অস্ত্রের আঘাতে আহত হনুমানটি দুপুরের দিকে হঠাৎ করেই হাসপাতালে প্রবেশ করে। প্রথমে এটি চিকিৎসা শেডের একটি টেবিলে বসে থাকে এবং পরে ফার্মেসি কক্ষে ঢুকে ওষুধপত্র ঘেঁটে দেখে। কিছুক্ষণ পর চিকিৎসকরা এগিয়ে গেলে হনুমানটি আশ্চর্যজনকভাবে শান্ত আচরণ করে এবং কোনো ধরনের প্রতিরোধ ছাড়াই চিকিৎসা গ্রহণ করে। চিকিৎসকরা তার পেছনের ক্ষতস্থান পরিষ্কার করে ভায়োডিন দিয়ে ব্যান্ডেজ ও ড্রেসিং করেন।   ডা. মাসুমা আখতার জানান, ধারালো অস্ত্রের আঘাতে হনুমানটি আহত হয়েছিল এবং চিকিৎসার খোঁজে বিভিন্ন স্থানে ঘুরছিল। এর আগে এটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও থানাতেও গিয়েছিল বলে জানা যায়। তিনি আরও বলেন, চিকিৎসার পুরো সময়জুড়ে হনুমানটি শান্ত ছিল এবং কোনো আক্রমণাত্মক আচরণ করেনি। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে কিছুক্ষণ পর এটি নিজেই হাসপাতাল এলাকা ত্যাগ করে। এ ঘটনাটি স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

মোঃ ইমরান হোসেন এপ্রিল ১২, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
লাইসেন্স না থাকায় ফেনীতে আরো এক হাসপাতাল সিলগালা, রোগী স্থানান্তর

লাইসেন্স নবায়ন না করা এবং বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে ফেনীর ‘ফেনী প্রাইভেট হাসপাতাল’ সিলগালা করেছে জেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগ। একই সঙ্গে হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের অন্য হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। রবিবার (১২ এপ্রিল) ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের দেবীপুর এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান পরিচালনা করে হাসপাতালটির কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করে। অভিযানে নেতৃত্ব দেন জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফারাজ হাবিব খান। এ সময় ফেনী সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. এ এস এম সোহরাব আল হোসাইন এবং সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মেডিক্যাল অফিসার ডা. এ কে এম ফাহাদ উপস্থিত ছিলেন। ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্র জানায়, সিভিল সার্জন কার্যালয়ের পরিদর্শন দল নিয়মিত মনিটরিংয়ের অংশ হিসেবে দুইটি বেসরকারি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করে। পরিদর্শনে সরকার নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় ফেনী প্রাইভেট হাসপাতালের কার্যক্রম বন্ধ করে সিলগালা করা হয়। একই অভিযানে শহরের মুক্তবাজার এলাকার বায়েজিদ হেলথ কেয়ার সার্ভিস অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে অব্যবস্থাপনার দায়ে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফারাজ হাবিব খান বলেন, ‘বৈধ লাইসেন্স ছাড়াই হাসপাতালটি দীর্ঘদিন ধরে কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল। লাইসেন্স না থাকা এবং অব্যবস্থাপনার কারণে এটি বন্ধ করে সিলগালা করা হয়েছে। জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।’ ফেনীর সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ রুবাইয়াত বিন করিম বলেন, হাসপাতালটির ২০১৯ সাল থেকে লাইসেন্স নবায়ন করা হয়নি। একাধিকবার নোটিশ দেওয়ার পরও তা নবায়ন না করায় এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তিনি আরো জানান, ভর্তি রোগীদের নিরাপদভাবে অন্য হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। এর আগে শনিবার রাতে ফেনী শহরের ‘ওয়ান স্টোপস মেটারনিটি ক্লিনিক’-এ চিকিৎসকের ভুল অস্ত্রোপচারে এক প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগে ক্লিনিকটি সিলগালা করা হয়। প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের ২২ জুন একই হাসপাতালে ভুল চিকিৎসায় এক রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছিল।

মারিয়া রহমান এপ্রিল ১২, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
আ.লীগ নেতাকর্মীর নামে মিথ্যা মামলার অভিযোগ, বিএনপি নেতাকে লাখ টাকা জরিমানা

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন মারধরের শিকার হয়ে ভোট দিতে পারেননি—এমন অভিযোগে করা মিথ্যা মামলা প্রমাণিত হওয়ায় রাজশাহীর এক বিএনপি নেতাকে এক লাখ টাকা জরিমানা করেছেন আদালত।   রোববার (১২ এপ্রিল) রাজশাহী মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-৩-এর বিচারক মো. সাদ্দাম হোসেন এ রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তি সাজ্জাদ হোসেন (৪৬), হরিপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক এবং ৮ নম্বর ওয়ার্ড সভাপতি। আদালতের রায়ে বলা হয়, মামলাটি মিথ্যা প্রমাণিত হওয়ায় তাকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানার অর্থ মামলায় কারাভোগ করা দুই আসামির মধ্যে সমানভাবে ভাগ করে দেওয়া হবে। নির্ধারিত সাত দিনের মধ্যে জরিমানা পরিশোধ না করলে তাকে এক মাসের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।   মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ২৩ আগস্ট দামকুড়া থানা-এ মামলাটি করেন সাজ্জাদ হোসেন। এতে আওয়ামী লীগ ও স্থানীয় ইউপি নেতাসহ ১৩ জনকে আসামি করা হয়। এজাহারে অভিযোগ করা হয়, ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন ভোট দিতে গেলে তাকে মারধর ও গুলি করার চেষ্টা করা হয়।   তবে তদন্ত ও আদালতের পর্যবেক্ষণে প্রমাণিত হয়, ঘটনার দিন সাজ্জাদ হোসেন নিজেই কারাগারে বন্দি ছিলেন। ফলে তার করা অভিযোগ ভিত্তিহীন ও অসত্য বলে প্রতীয়মান হয়। রাজশাহী মহানগর পুলিশের আদালত পরিদর্শক আব্দুর রফিক জানান, ঘটনার তারিখে তিনি কারাগারে থাকায় অভিযোগটি অসত্য প্রমাণিত হয়েছে।   অন্যদিকে সাজ্জাদ হোসেন আদালতের রায় প্রসঙ্গে বলেন, বিষয়টি ভুলবশত হয়েছিল এবং রাজনৈতিক মামলার কারণে তিনি তখন কারাগারে ছিলেন। এ ঘটনায় দুইজন আসামি আগে থেকেই জেল খেটেছেন বলে জানা গেছে।

মোঃ ইমরান হোসেন এপ্রিল ১২, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
৬ লাখ টাকা নিয়েও চাকরি নয়, প্রতারণার অভিযোগে শিক্ষক গ্রেপ্তার

গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলা-এ চাকরি দেওয়ার নামে বিপুল অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে এক স্কুলশিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযুক্ত জাহিদুল ইসলাম স্থানীয় মথরপাড়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়-এর প্রধান শিক্ষক।   রোববার (১২ এপ্রিল) গাইবান্ধা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-১ তার জামিন আবেদন নাকচ করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এর আগে শনিবার রাতে সাঘাটা থানা পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করে। পুলিশ জানায়, আফজাল হোসেন নামে এক ভুক্তভোগীর দায়ের করা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, তার ছেলে রবিউল ইসলাম-কে ‘ল্যাব সহকারী’ পদে চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ৬ লাখ টাকা নেন জাহিদুল ইসলাম। কিন্তু পরে নিয়োগ না দিয়ে কৌশলে নিজের ছেলেকেই ওই পদে চাকরি দেন।   ভুক্তভোগী পরিবার টাকা ফেরত চাইলে নানা টালবাহানা শুরু করেন তিনি। দীর্ঘদিন চেষ্টা করেও টাকা ফেরত না পেয়ে ২০২৫ সালে আদালতের শরণাপন্ন হন আফজাল হোসেন। সেই মামলার প্রেক্ষিতেই অবশেষে আইনের আওতায় আনা হয় অভিযুক্ত শিক্ষককে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ইতোমধ্যে আরও ৩ থেকে ৪ জন ভুক্তভোগী তার বিরুদ্ধে মামলা করেছেন এবং অন্যরা মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। অভিযোগ রয়েছে, বিভিন্ন পদে চাকরি দেওয়ার নাম করে অন্তত ১০ জনের কাছ থেকে কোটি টাকারও বেশি অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন তিনি।   এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে মো. মাহাবুর আলম বলেন, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং অন্যান্য ভুক্তভোগীদের আইনি সহায়তার বিষয়টিও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

মোঃ নাহিদ হোসেন এপ্রিল ১২, ২০২৬ 0
সংগৃহীত ছবি
কোস্টগার্ডের পৃথক অভিযানে ১০ জলদস্যু ও ৮ পাচারকারী আটক

  কক্সবাজার উপকূলে পৃথক তিনটি অভিযানে জলদস্যু পারভেজ বাহিনীর ১০ সদস্য ও ৮ পাচারকারীকে আটক করেছে বাংলাদেশ কোস্টগার্ড। একই সঙ্গে জলদস্যুদের কবল থেকে জিম্মি ৩ জেলেসহ গভীর সমুদ্রে ভাসমান ৯ বাংলাদেশী নাগরিককে উদ্ধার করা হয়েছে। শনিবার (১১ এপ্রিল) দুপুরে কক্সবাজার কোস্টগার্ড স্টেশনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান কোস্টগার্ডের লেফটেন্যান্ট কমান্ডার আরাফাত হোসেন। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, শুক্রবার রাত ৯টার দিকে কলাতলী বিচসংলগ্ন সমুদ্রে কোস্টগার্ডের একটি আভিযানিক দল অভিযান চালায়। এ সময় একটি সন্দেহভাজন ফিশিং বোট পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে ধাওয়া করে সেটি আটক করা হয়। বোটটি তল্লাশি করে ২টি দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্র, ২ রাউন্ড তাজা কার্তুজ এবং অন্যান্য দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় পারভেজ বাহিনীর সক্রিয় ১০ ডাকাত সদস্যকে আটক করা হয় এবং তাদের কবল থেকে জিম্মি ৩ জেলেকে উদ্ধার করা হয়। অপরদিকে, শুক্রবার দিবাগত রাত ও শনিবার ভোরে বাঁকখালী নদীর মোহনা এবং চট্টগ্রাম উপকূলে পৃথক অভিযান চালায় কোস্টগার্ড। এসব অভিযানে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে মিয়ানমারে পাচারের সময় ৫ হাজার লিটার ডিজেল, লুব্রিকেন্ট ও গ্যাস সিলিন্ডারসহ ৫ পাচারকারীকে আটক করা হয়। এছাড়া ৪৫০ বস্তা সিমেন্টসহ আরো ৩ পাচারকারীকে আটক করা হয়। জব্দ করা মালামালের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ১০ লাখ টাকা। এছাড়া মালয়েশিয়া যাওয়ার পথে নৌকাডুবির শিকার ৯ বাংলাদেশী নাগরিককে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। গত ১ এপ্রিল আন্দামান দ্বীপপুঞ্জের কাছে গভীর সমুদ্রে ভাসমান অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে এমটি মেঘনা প্রাইড নামের একটি বাংলাদেশী জাহাজ। পরে শুক্রবার দিবাগত রাত ২টায় উদ্ধারকৃতদের কোস্টগার্ড জাহাজ মনসুর আলীর কাছে হস্তান্তর করা হয়। কোস্টগার্ড কর্মকর্তা আরাফাত হোসেন জানান, আটক জলদস্যু ও পাচারকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। পাশাপাশি উদ্ধারকৃতদের স্বজনদের কাছে হস্তান্তরের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া করা হয়েছে।

মারিয়া রহমান এপ্রিল ১২, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
জেন-জি প্রজন্মের ওপর আস্থা রাখার কথা বললেন মনিরুল হক চৌধুরী

কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী বলেছেন, বর্তমান প্রজন্মকে আমরা সম্মান করি, কারণ তারা সাহসী এবং যুগের চাহিদা পূরণে সক্ষম। জেন-জি প্রজন্মের ওপর তাদের পূর্ণ আস্থা রয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। তারা জাতির আগামী দিনের কান্ডারী।   শনিবার (১১ এপ্রিল) কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের জিয়া মিলনায়তনে ছাত্র-শিক্ষকদের সমন্বয়ে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। মনির হক চৌধুরী বলেন, তার মেয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. চৌধুরী সায়মা ফেরদৌস জুলাই আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের পক্ষে সরাসরি মাঠে নেমে সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছেন। তিনি পুলিশকে উদ্দেশ করে প্রশ্ন করেন—“আমার ছাত্রকে গ্রেফতার করার সাহস কীভাবে হয়?” তিনি আরও বলেন, তিনি ভিক্টোরিয়ান হিসেবে গর্বিত। এ কলেজের ইতিহাস ও ঐতিহ্য সমৃদ্ধ হলেও বর্তমানে এটি নানা সমস্যায় জর্জরিত। জলাবদ্ধতা বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। হোস্টেলে পানি জমে থাকার মধ্যেই শিক্ষার্থীদের থাকতে হচ্ছে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। দীর্ঘদিনেও কলেজের কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন হয়নি বলেও মন্তব্য করেন তিনি। ১৯৯৩ সালে একটি বাস দেওয়া হলেও সেটিই এখনো একমাত্র পরিবহন হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এত বছরেও নতুন বাস কেন আসেনি—এ প্রশ্নও তোলেন তিনি। তিনি অভিযোগ করে বলেন, গত ১৭ বছরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন হয়নি, বরং শিক্ষা নিয়েও ব্যবসা করা হয়েছে। বরাদ্দ কোথায় গেছে—তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তিনি ঘোষণা দেন, আগামী এক মাসের মধ্যে কলেজে তিনটি বাস বরাদ্দ দেওয়া হবে এবং পর্যায়ক্রমে পাঁচটি বাসে উন্নীত করা হবে। পাশাপাশি ক্যাফেটেরিয়া সমস্যার সমাধান এবং ক্লাসরুম সংকট নিরসনে দুটি বহুতল একাডেমিক ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান। তিনি আরও বলেন, কলেজের সমস্যাগুলো তিনি নিজ উদ্যোগে অধ্যক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে জেনেছেন এবং দ্রুত সমাধানে কাজ করা হবে। কলেজের অধ্যক্ষের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ মতবিনিময় সভায় উপাধ্যক্ষ, শিক্ষক পরিষদের সম্পাদকসহ শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। পরে তিনি কুমিল্লার দুটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নেন।

মো: দেলোয়ার হোসাইন এপ্রিল ১২, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
বিএনপি নেতার ছেলের বিরুদ্ধে শিশু ধর্ষণের অভিযোগ

জামালপুরে বিএনপি নেতার ছেলের বিরুদ্ধে ৫ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী শিশুটি স্থানীয় একটি নূরানী মাদ্রাসার প্লে-শ্রেণির ছাত্রী।   এ ঘটনায় শনিবার (১১ এপ্রিল) বিকালে শিশুটির বাবা শাহজাহান মিয়া বাদী হয়ে জামালপুর থানায় একটি ধর্ষণ মামলা করেন। অভিযুক্তের নাম মো. অনিক (১৬)। সে সদর উপজেলার শ্রীপুর ইউনিয়নের হায়াৎপুর গ্রামের মজিবর রহমানের ছেলে। মজিবুর রহমান উপজেলার শ্রীপুর ইউনিয়ন বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। মামলা সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (১০ এপ্রিল) সকাল ১০টার দিকে অনিক শিশুটিকে আখ খাওয়ানোর কথা বলে ডেকে নিয়ে যায়। পরে একটি প্লোট্রি ফার্মে নিয়ে গিয়ে হাত বেঁধে তাকে ধর্ষণ করে। শিশুটি চিৎকার করলে অভিযুক্ত কিশোর তার হাত খুলে বাড়িতে নিয়ে আসার পথে শিশুটির মায়ের সঙ্গে দেখা হয়। এসময় শিশুটি খেলতে গিয়ে ব্যথা পেয়েছে বলে জানায় ওই কিশোর। কিন্তু শারীরিক অবস্থা খারাপ হলে এদিন রাতে ভুক্তভোগী শিশুটিকে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এদিকে আইনের আশ্রয় না নেওয়ার জন্য বিএনপি নেতা মজিবুর দলীয় প্রভাব দেখিয়ে চাপ দেয় বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগীর বাবা। ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি জাকির হোসেন খোকন জানান, মজিবুর ইউনিয়ন বিএনপির সম্পাদক মণ্ডলীর সদস্য। এর বাইরে বেশি কিছু বলতে রাজি হননি তিনি। এ বিষয়ে জামালপুর সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি সফিউর রহমান শফি কালবেলাকে বলেন, অভিযুক্ত কিশোরের শাস্তি চাই। সেইসঙ্গে মজিবুরের বিরুদ্ধে দ্রুত সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে। জামালপুরের অতিরিক্তি পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. ইয়াহিয়া আল মামুন বলেন, শিশু ধর্ষণের ঘটনার অভিযোগ পেয়েছি। ভুক্তভোগী শিশুর প্রয়োজনীয় মেডিকেল চেক-আপ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতকে গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন এপ্রিল ১২, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
আধিপত্য বিস্তারকে ঘিরে সংঘর্ষ, গুলিতে আহত ১

আশুলিয়ায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসীদের গুলিতে এক ব্যক্তি আহত হওয়ার ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযানে তাদের কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন ও ৫ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।   শনিবার (১১ এপ্রিল) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে আশুলিয়া থানায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম, অপস ও ট্রাফিক উত্তর) আরাফাতুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেন।   গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— সিয়াম (২১), মিরাজ (২০) এবং রুবেল (৪০)। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ৭ এপ্রিল ভোরে আশুলিয়ার কাঠগড়া এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী মহড়া দেয়। এ সময় সন্ত্রাসীদের গুলিতে পারভেজ নামে এক ব্যক্তি আহত হন।   এ ঘটনার পর আহতের ভাই ফরহাদ হোসেন বাদী হয়ে আশুলিয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার সূত্র ধরে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। শুক্রবার (১০ এপ্রিল) বিকেলে আশুলিয়ার জামগড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রথমে সিয়াম ও মিরাজকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই এলাকা থেকে রুবেলকে গ্রেপ্তার করা হয়। রুবেলের কাছ থেকেই অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করা হয়।   সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ আরও জানায়, ঘটনার সময় শ্যুটার বাপ্পি, কামরুল, জাকির হোসেন, রুবেল ও তৈয়বসহ বেশ কয়েকজন সশস্ত্র অবস্থায় উপস্থিত ছিলেন। গ্রেপ্তার আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে পাঁচদিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে।   এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরাফাতুল ইসলাম।

মো: দেলোয়ার হোসাইন এপ্রিল ১২, ২০২৬ 0
সংগৃহীত ছবি
কুকুর-কুমিরের ঘটনা তদন্ত করে দোষীদের শাস্তির নির্দেশ প্রতিমন্ত্রীর

  বাগেরহাটে হজরত খানজাহান (রহ.)-এর মাজার সংলগ্ন দিঘিতে কুমিরের মুখে একটি কুকুরের মৃত্যুর ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত অনেকেই ভিডিও ধারণে ব্যস্ত থাকলেও অসহায় প্রাণীটিকে রক্ষায় কেউ এগিয়ে না আসায় মানবিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিষয়টি মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর দৃষ্টিতে এসেছে। তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের শাস্তির আওতায় আনার নির্দেশ দিয়েছেন। প্রতিমন্ত্রী জানান, বাগেরহাটের ঘটনাটি তাকে গভীরভাবে ব্যথিত করেছে। শুধু সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে নয়, একজন মানুষ হিসেবেও তিনি মর্মাহত। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই দেশকে মানুষ এবং সকল প্রাণের বসবাসের অভয়ারণ্য হিসাবে গড়ে তুলতে বদ্ধপরিকর। সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, এই অমানবিক ঘটনার সঠিক তদন্তের মাধ্যমে দোষী ব্যক্তিকে শাস্তির আওতায় আনতে হবে। ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না হয়, সে জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেন তিনি। এদিকে, প্রতিমন্ত্রীর নির্দেশনার পর বাগেরহাট জেলা প্রশাসন দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। বাগেরহাট সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আতিয়া খাতুনকে প্রধান করে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন- সহকারী কমিশনার (ভূমি) এম. শরীফ খান, উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসার ডা. পলাশ কুমার দাস এবং সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহামুদ-উল-হাসান। বিভিন্ন নৃ-গোষ্ঠীর প্রধান সামাজিক উৎসব এবং বাংলা নববর্ষ সবার জীবনে অনাবিল সুখ ও শান্তি বয়ে আনবে বলেও শুভেচ্ছা বাণীতে আশা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী।

মারিয়া রহমান এপ্রিল ১২, ২০২৬ 0
দুর্ঘটনাকবলিত মাইক্রোবাস।
সড়ক দুর্ঘটনায় চালকসহ নিহত ৩

দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে হাই-এইচ মাইক্রোবাসের সঙ্গে একটি ট্রাকের সংঘর্ষে মাইক্রোবাসের চালকসহ তিনজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও আটজন আহত হয়েছেন। শনিবার (১১ এপ্রিল) সকাল ৬টার দিকে উপজেলার দামোদারপুর শৌলা ও সোনামুখী বাজারের মাঝামাঝি এলাকায় দিনাজপুর-গোবিন্দগঞ্জ মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন- মাইক্রোবাস চালক নাসিম (৩৫), সবুর আলী (৫২) ও আনোয়ার হোসেন (৫০)। এর মধ্যে চালক নাসিম ঘোড়াঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মৃত্যু হয়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সবুর আলী এবং জিয়া হার্ট ফাউন্ডেশনে আনোয়ার হোসেনের মৃত্যু হয়। নিহত সবুর আলী বীরগঞ্জ উপজেলার চকদফর গ্রামের বাসিন্দা এবং অপর দুইজন একই উপজেলার চাগাই গ্রামের বাসিন্দা। স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ভাড়ায় চালিত একটি হাই-এইচ মাইক্রোবাস ১০ জন যাত্রী নিয়ে ময়মনসিংহ থেকে দিনাজপুরে যাচ্ছিল। পথে বিপরীত দিক থেকে আসা ঢাকাগামী শশা বোঝাই একটি ট্রাকের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। এতে মাইক্রোবাসটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং ট্রাকটি রাস্তার পাশে উল্টে পড়ে। খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান চালায়। এ সময় মাইক্রোর ভেতর থেকে চালকসহ ১১ জনকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। আহতদের প্রথমে ঘোড়াঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে সেখানে চালক নাসিমের মৃত হয়। পরে অন্যদের উন্নত চিকিৎসার জন্য দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও জিয়া হার্ট ফাউন্ডেশনে পাঠানো হয়। ঘোড়াঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম জানান, দুর্ঘটনায় প্রথমে চালকের মৃত্যু হয় এবং পরে আরও দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। দুর্ঘটনাকবলিত যানবাহন দুটি পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে এবং এ ঘটনায় সড়ক পরিবহন আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। ঘটনার পর ট্রাক চালক পালিয়েছে।

মারিয়া রহমান এপ্রিল ১২, ২০২৬ 0
Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

সপ্তাহের সেরা

ছবি: সংগৃহীত
আবহাওয়া

দেশজুড়ে ঝড়-বজ্রবৃষ্টির পূর্বাভাস, ৭ জেলায় সতর্ক সংকেত জারি

আক্তারুজ্জামান এপ্রিল ০৯, ২০২৬ 0