সারাদেশ

আটক শিবির কর্মী। ছবি : সংগৃহীত
প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে ‘শিবির কর্মী’ আটক

মাগুরার মহম্মদপুরে প্রবাসীর স্ত্রীর ঘর থেকে আপত্তিকর অবস্থায় ইব্রাহিম সরদার নামের এক যুবককে আটক করে পুলিশে দিয়েছে এলাকাবাসী। শুক্রবার (১৫ মে) রাত ১১টার দিকে উপজেলার চৌবাড়ীয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।   অভিযোগ উঠেছে, ইব্রাহিম সরদার ছাত্রশিবিরের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। ছাত্রশিবির জানায়, ইব্রাহিম সরদার সংগঠনের কোনো পদে নেই। তবে নির্বাচনে ছাত্রশিবিরের হয়ে কাজ করেছে। জানা গেছে, গৃহবধূর স্বামী প্রবাসে থাকেন। এ সুযোগে ইব্রাহিম সরদার গৃহবধূর সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। বিষয়টি গৃহবধূর পরিবারের সদস্যরা জানতে পেরে ইব্রাহিমের পরিবারকে অবগত করে। এরপরও কোনো প্রতিকার পায়নি প্রবাসীর পরিবার। গত শুক্রবার রাতে প্রবাসীর স্ত্রীর ঘরে প্রবেশ করলে বাড়ির সদস্যরা দেখতে পেয়ে স্থানীয় লোকজনকে জানায়। পরে তারা দুজনকে বেঁধে রেখে পুলিশে খবর দেয়। প্রবাসীর স্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আমার স্বামী দেশের বাইরে অবস্থান করছেন। এ সুযোগে ইব্রাহিম সরদারের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে ওঠে। আমাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে যোগাযোগ ও সম্পর্ক ছিল। মাগুরা জেলা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি ইনামুল বলেন, অভিযুক্ত ইব্রাহিম সরদার নির্বাচনকালীন সময়ে আমাদের দলীয় প্রার্থীর হয়ে নিজ এলাকাতে কাজ করেছেন। কিন্তু আমাদের ওই এলাকাতে যেহেতু কোনো ওয়ার্ড কমিটি নাই, তাই তিনি আমাদের দায়িত্বশীল বা পদধারী কোনো নেতা না। মহম্মদপুর থানার ওসি মো. আশরাফুজ্জামান বলেন, তাদেরকে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

মোঃ ইমরান হোসেন মে ১৭, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
‘কক্সবাজারের কর্তৃত্ব বাংলাদেশের নাকি জাতিসংঘের?’

কক্সবাজারে রোহিঙ্গা সংকট ঘিরে আন্তর্জাতিক সংস্থা ও জাতিসংঘের কার্যক্রম নিয়ে এবার প্রকাশ্যে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, নাগরিক সমাজ ও এনজিও নেতারা। তাদের প্রশ্ন, ‘কক্সবাজারে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে কারা? বাংলাদেশ সরকার নাকি জাতিসংঘের কয়েকটি সংস্থা?’ সোমবার (১১ মে) কক্সবাজার প্রেসক্লাবে আয়োজিত ‘কক্সবাজারে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠা করতে হবে, রোহিঙ্গা ত্রাণ কার্যক্রমে স্থানীয় সরকার ও জনগণের অংশগ্রহণ জরুরি’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে ধরা হয়। সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে কক্সবাজার সিএসও-এনজিও ফোরাম (সিসিএনএফ)। বক্তারা অভিযোগ করেন, রোহিঙ্গা সংকট ব্যবস্থাপনার নামে একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত স্থানীয় সরকার, জনপ্রতিনিধি ও জনগণকে পাশ কাটিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এতে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব, জাতীয় নিরাপত্তা ও স্থানীয় স্বার্থ উপেক্ষিত হচ্ছে। সংবাদ সম্মেলন পরিচালনা করেন সিসিএনএফের কো-চেয়ার রেজাউল করিম চৌধুরী। তিনি বলেন, বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে সীমান্তে কঠোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। রোহিঙ্গাদের নতুন অনুপ্রবেশ বন্ধে বিজিবির পাশাপাশি সেনাবাহিনীর উপস্থিতি বাড়াতে হবে। সীমান্ত নিরাপদ না হলে কক্সবাজারে স্থিতিশীলতা ফিরবে না। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ইস্যুতে আসিয়ান ফোরামে কূটনৈতিক চাপ অব্যাহত রাখতে হবে এবং প্রয়োজনে আরাকান আর্মির সঙ্গেও আলোচনায় বসতে হবে। একইসঙ্গে কক্সবাজারের সংসদ সদস্যদের জাতীয় সংসদে রোহিঙ্গা সংকট ও জাতীয় নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো জোরালোভাবে উপস্থাপনের আহ্বান জানান তিনি। সংবাদ সম্মেলনে সবচেয়ে বেশি সমালোচনা হয় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে স্থায়ী অবকাঠামো নির্মাণ নিয়ে। বক্তাদের দাবি, সম্প্রতি ইউএনএইচসিআর ব্র্যাক ও ইনফিনিক্সের মাধ্যমে ক্যাম্প এলাকায় স্থায়ী ধরনের শেল্টার নির্মাণ করছে। অথচ এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার, জনপ্রতিনিধি কিংবা রাজনৈতিক নেতৃত্বের সঙ্গে কোনো আলোচনা করা হয়নি। সিসিএনএফের সদস্য সচিব জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘পৃথিবীর কোথাও শরণার্থীদের জন্য এমন স্থায়ী অবকাঠামো নির্মাণের নজির নেই। এতে প্রত্যাবাসনের পরিবর্তে স্থায়ী বসবাসের বার্তা যায়। ফলে ভবিষ্যতে আরও রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের ঝুঁকি বাড়বে। নির্মাণে ব্যবহৃত প্লাস্টিকনির্ভর উপকরণ পরিবেশবান্ধব নয় এবং ভবিষ্যতে ভয়াবহ বর্জ্য সংকট তৈরি করতে পারে।’ আন্তর্জাতিক অর্থায়ন নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করে সিসিএনএফ সদস্য মো. হেলাল উদ্দিন বলেন, সম্প্রতি ইউএনওসিএইচএ রোহিঙ্গা মানবিক সহায়তার জন্য ১৫০ মিলিয়ন ডলারের তহবিল দিয়েছে। এর ৯২ শতাংশ গেছে জাতিসংঘ সংস্থাগুলোর কাছে এবং ৮ শতাংশ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর কাছে। স্থানীয়করণের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী স্থানীয় এনজিওগুলো ২৫ শতাংশ অর্থ পাওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে তারা সরাসরি কিছুই পাচ্ছে না কেন? তিনি দাবি জানান, জাতীয় সংসদে এমন আইন করা হোক যাতে স্থানীয় এনজিওকে বাদ দিয়ে কোনো আন্তর্জাতিক সংস্থা সরাসরি প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে না পারে। পাশাপাশি জেআরপি কাঠামো স্থানীয় এনজিওগুলোর জন্য উন্মুক্ত করার আহ্বান জানান তিনি। কোস্ট ফাউন্ডেশনের সহকারী পরিচালক মো. শাহিনুর ইসলাম বলেন, স্থানীয় এনজিওদের জন্য গঠিত ফান্ডের বড় অংশ জাতীয় এনজিওগুলো পাচ্ছে। এতে স্থানীয় সংগঠনগুলো বঞ্চিত হচ্ছে। কক্সবাজারে কর্মরত বহু আইএনজিও ও জাতিসংঘ সংস্থার শীর্ষ পদে একটি নির্দিষ্ট দেশের নাগরিকদের আধিপত্য রয়েছে। তার ভাষায়, “এটি জাতীয় নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগজনক। এসব পদে বাংলাদেশি, বিশেষ করে কক্সবাজারের যোগ্য ব্যক্তিদের নিয়োগ দিতে হবে। বাংলাদেশ একটি সার্বভৌম রাষ্ট্র। এখানে কোনো আন্তর্জাতিক সংস্থা জবাবদিহির ঊর্ধ্বে থাকতে পারে না। জাতিসংঘের সংস্থাগুলোকে জেলা প্রশাসন ও বাংলাদেশ সরকারের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। সিইএইচআরডিএফের প্রধান নির্বাহী ও পরিবেশ আন্দোলনকর্মী মো. ইলিয়াস মিয়া বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্প স্থাপনের জন্য প্রায় ৮ হাজার একর বনভূমি ধ্বংস হয়েছে। এতে কক্সবাজারের পরিবেশ মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে। ভূগর্ভস্থ পানির স্তর দ্রুত নিচে নেমে যাচ্ছে। ক্যাম্পে প্রতিদিন কোটি কোটি লিটার পানি উত্তোলনের ফলে উখিয়া-টেকনাফের বহু টিউবওয়েল শুকিয়ে যাচ্ছে, কোথাও লবণাক্ত পানি উঠছে। সমাধান হিসেবে নাফ নদীর পানি পরিশোধন করে সরবরাহ এবং বড় পরিসরে পুকুর খননের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। রাজাপালং ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ইঞ্জিনিয়ার হেলাল উদ্দিন বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বর্জ্যে স্থানীয় অন্তত ৩০০ একর কৃষিজমি নষ্ট হয়েছে। কিন্তু এসব জমি পুনরুদ্ধারে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেই। কক্সবাজার এমনিতেই খাদ্যঝুঁকিপূর্ণ এলাকা। কৃষিজমি নষ্ট হলে এর প্রভাব ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বহন করতে হবে। সংবাদ সম্মেলনে সীমান্ত নিরাপত্তা দুর্বল হয়ে পড়ার অভিযোগও ওঠে। বক্তারা বলেন, সীমান্ত এলাকায় মাদক, অস্ত্র ও মানবপাচার আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। তাদের দাবি, সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া, নাফ নদীতে জোরালো নৌ টহল এবং পর্যাপ্ত বিজিবি ও সেনা মোতায়েন নিশ্চিত করতে হবে। কম্বাইন হিউম্যান রাইটস ওয়ার্ল্ডের কেন্দ্রীয় বিশেষ প্রতিনিধি ইঞ্জিনিয়ার রবিউল হাসান অভিযোগ করে বলেন, ভেন্ডরশিপ কার্যক্রমের মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী করা হচ্ছে। যা দীর্ঘমেয়াদে নতুন সংকট তৈরি করতে পারে। বর্তমানে কক্সবাজারে ১৩ লাখের বেশি রোহিঙ্গা অবস্থান করছে বলে দাবি করেন বক্তারা। তাদের মতে, গত দুই বছরেই নতুন করে আরও দুই লাখের বেশি রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ করেছে। এই বাস্তবতায় বক্তারা একটি স্বাধীন ‘রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন কমিশন’ গঠনের দাবি জানান। তারা বলেছেন, এই কমিশন প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ার অগ্রগতি নিয়মিতভাবে জনগণের সামনে তুলে ধরবে এবং আন্তর্জাতিক মহলের ওপর কার্যকর চাপ তৈরি করবে। সংবাদ সম্মেলনের শেষভাগে বক্তারা বলেন, ‘কক্সবাজার বাংলাদেশের ভূখণ্ড। এখানে সিদ্ধান্ত হবে বাংলাদেশের জনগণের মতামতের ভিত্তিতে। স্থানীয়দের বাদ দিয়ে আন্তর্জাতিক কোনো এজেন্ডা বাস্তবায়নের সুযোগ দেওয়া যাবে না।’

মারিয়া রহমান মে ১৭, ২০২৬
ভাঙচুর করা হয় হাসপাতালের জরুরি বিভাগ।
চিকিৎসককে পিটিয়ে আহতের ঘটনায় মামলা, গ্রেপ্তার ৬

চিকিৎসাধীন এক রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় এক চিকিৎসককে পিটিয়ে ও মাথায় পাথর দিয়ে আঘাত করে গুরুতর আহত করা হয়েছে। তাঁকে রক্ষা করতে গিয়ে হাসপাতালের অফিস সহায়ক, পাঁচ আনসার সদস্যসহ আরও ছয়জন আহত হয়েছেন।  গত শুক্রবার রাতে হাসপাতালের ইমার্জেন্সি অবজারভেশন ওয়ার্ডে এই ঘটনা ঘটে। হামলায় গুরুতর আহত জরুরি বিভাগের চিকিৎসক নাসির ইসলামকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হেলিকপ্টারে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় মামলার পর ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। হাসপাতাল ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শরীয়তপুর পৌরসভার উত্তর বিলাসখান এলাকার লাল মিয়া কাজী (৪৫) হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে শুক্রবার রাত ১০টার দিকে সদর হাসপাতালে ভর্তি হন। রাত ১২টা ৪০ মিনিটে তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয়। এরপর চিকিৎসকের অবহেলায় রোগীর মৃত্যু হয়েছে –এমন অভিযোগ তুলে রাত ১টার দিকে নিহতের স্বজনদের ৭০ থেকে ৮০ জনের একটি দল জরুরি বিভাগে ঢুকে হামলা চালায়।  আহত চিকিৎসক নাসির ইসলাম বলেন, ‘রোগীর অবস্থা খারাপ দেখে আমি ঢাকা মেডিকেলে রেফার করেছিলাম কিন্তু স্বজনরা রাতে যেতে রাজি হয়নি। মৃত্যুর পর আচমকা তারা কক্ষে ঢুকে আমার মাথায় পাথর দিয়ে আঘাত করে।’   অন্যদিকে, মৃতের পুত্রবধূ লাকি আক্তারের অভিযোগ, রোগীর অবস্থা খারাপ হলে বারবার ডাকা সত্ত্বেও চিকিৎসক কেবিনে আসেননি। প্রায় এক ঘণ্টা পর এসে জানান, রোগী মারা গেছেন। হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার মিতু আক্তার জানান, আহত চিকিৎসকের অবস্থা আশঙ্কাজনক। পালং মডেল থানার ওসি শাহ আলম জানান, গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় হাসপাতালের অর্থোপেডিক্স বিভাগের চিকিৎসক ডা. মোহাম্মদ আকরাম এলাহী বাদী হয়ে ১১ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ৪০ থেকে ৫০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। 

মারিয়া রহমান মে ১৭, ২০২৬
চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সম্মেলন কক্ষে মতবিনিময় সভায় বক্তব্যে দেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
ডিসেম্বরের মধ্যে চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা ৯০ শতাংশ কমবে : প্রতিমন্ত্রী

চট্টগ্রামের দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা নিরসনে সরকার সমন্বিতভাবে কাজ করছে এবং চলমান কার্যক্রম সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে নগরীর ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ জলাবদ্ধতা কমে আসবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। শনিবার (১৬ মে) বিকেলে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সম্মেলন কক্ষে বিভিন্ন সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত ১৯ সদস্যবিশিষ্ট কমিটির সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় গঠিত শক্তিশালী কমিটি ইতোমধ্যে মাঠপর্যায়ে কাজ শুরু করেছে এবং নগরবাসীর দুর্ভোগ কমাতে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থা একযোগে কাজ করছে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী নিজেও চান চট্টগ্রামের মানুষ যেন জলাবদ্ধতার কষ্ট থেকে মুক্তি পায়। একেবারে শতভাগ সমাধানের নিশ্চয়তা না দিলেও আমরা দৃঢ়ভাবে কাজ করছি। তিনি জানান, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়, ভূমি মন্ত্রণালয়, পরিকল্পনা ও অর্থ মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর প্রতিনিধিদের নিয়ে বিভিন্ন খাল ও নদীর সংযোগস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। খালের মুখগুলোতে ড্রেজিং ও পরিষ্কার কার্যক্রম যথাযথভাবে হচ্ছে কিনা তা পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা সমস্যাকে ‘অত্যন্ত ক্রিটিক্যাল’ উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, চট্টগ্রামের ভৌগোলিক অবস্থান, জোয়ার ভাটার প্রভাব এবং অতিবৃষ্টির কারণে বিষয়টি প্রযুক্তিগতভাবে জটিল। এজন্য বিভিন্ন স্থানে আধুনিক স্লুইস গেট নির্মাণ করা হয়েছে, যেখানে পানির চাপ অনুযায়ী গেট স্বয়ংক্রিয়ভাবে খুলবে ও বন্ধ হবে। এছাড়া খালের পাড়ে ওয়াকওয়ে নির্মাণ এবং ময়লা আবর্জনা রোধে নেটিং ব্যবস্থাও চালু করা হবে। নগরবাসীকে আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, খালে ময়লা না ফেলে নির্ধারিত স্থানে ফেলতে হবে এবং সিটি কর্পোরেশন তা সংগ্রহ করবে। সাংবাদিকদেরও সচেতনতা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি। প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ড, সিটি কর্পোরেশন, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ও বন্দর কর্তৃপক্ষসহ সব সংস্থা একসঙ্গে কাজ করছে। চলমান কার্যক্রম অব্যাহত থাকলে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে নগরবাসী জলাবদ্ধতা পরিস্থিতিতে বড় ধরনের স্বস্তি পাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, চট্টগ্রামে অতিবৃষ্টির রেকর্ড ৩৩০ মিলিমিটার পর্যন্ত রয়েছে। এত ভারী বৃষ্টিপাত হলে সাময়িক জলজট তৈরি হওয়া স্বাভাবিক, তবে দ্রুত পানি নিষ্কাশনের সক্ষমতা বাড়াতে কাজ চলছে। প্রয়োজনে নিচু এলাকাগুলোতে রাস্তা উঁচু করা এবং ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়নও করা হবে বলে জানান তিনি। সভায় আলোচনায় অংশ নেন চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) চেয়ারম্যান মো. নুরুল করিম, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা, ওয়াসা, পুলিশসহ বিভিন্ন সেবা সংস্থার শীর্ষ কমকর্তাবৃন্দ।

মারিয়া রহমান মে ১৭, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
রাজধানীর মাজারে হামলার ঘটনায় তিনজন গ্রেপ্তার

রাজধানীর মিরপুরের সুলতানুল আউলিয়া হযরত শাহ্ আলী বাগদাদী (রহ.)-এর মাজারে আগতদের ওপর হামলার ঘটনায় করা মামলায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মামলার এজাহারে ৯ জনের নাম ও অজ্ঞাত ১০০-১৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে।   শনিবার রাতে শাহ আলী থানা এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তাররা হলেন, মামলার ৬ নম্বর এজাহারনামীয় আসামি শেখ মো. সাজ্জাদুল হক রাসেল (৩৮), তদন্তে প্রাপ্ত আসামি মো. আরমান দেওয়ান (২৯) ও এজাহারনামীয় ৫ নম্বর আসামি মো. আজম (২৬)।   মামলার এজাহারনামীয় অন্য আসামিরা হলেন, মো. আলী আকবর (৪৮), মো. বাপ্পা (৩৫), মো. বাবু (৪৫), মো. কাউসার (২৬), আজম (৪০), শেখ মো. রাসেল (৩৮), কাজী জহির (৫২), মো. মিজান (৩৮) ও কাজী পনির (৫০)।   গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ডিএমপির মিরপুর বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. মোস্তাক সরকার। তিনি জানান, শাহ আলী মাজারে আগতদের ওপর হামলার ঘটনায় এক নারীর মামলায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন।   এর আগে বৃহস্পতিবার মাদক সেবনের অভিযোগে মাজারে আসা কিছু ব্যক্তিকে মারধর করে বের করে দেওয়ার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় শুক্রবার রাতে শাহ আলী থানায় ৯ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ১০০-১৫০ জনকে আসামি করে মামলা করেন মোসাম্মৎ রেসমি বেগম (৪০)।   মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়, গত ১৪ মে রাত ১২টার দিকে আসামিরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে লাঠিসোটা নিয়ে মাজারে প্রবেশ করে জিয়ারতকারী ও মানতকারীদের ওপর হামলা চালায়। এতে অনেকেই আহত হন এবং মাজারের বিভিন্ন ধর্মীয় উপকরণ ভাঙচুর করা হয়। পরে বাধা দিতে গেলে মামলার বাদীও হামলার শিকার হন।

মো: দেলোয়ার হোসাইন মে ১৭, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ভালুকায় উচ্ছেদ অভিযানকে ঘিরে উত্তেজনা, ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও যান চলাচল বন্ধ

ময়মনসিংহের ভালুকায় মহাসড়কের পাশের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের পর পুনরায় উচ্ছেদ করতে গিয়ে ধাওয়া খেয়ে পালালেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফিরোজ হোসেন। এ সময় ইউএনওর নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা এক আনসার সদস্য (গানম্যান) আহত হয়েছেন। আহত গানম্যানের নাম রুবেল মিয়া (২৮), তাকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।   শনিবার সন্ধ্যায় উপজেলার সিডস্টোর বাজার এলাকায় ঘটনাটি ঘটেছে।   উপজেলা নির্বাহী অফিসার ধাওয়া খেয়ে পালানোর পর উত্তেজিত ব্যবসায়ীরা লাকড়ি দিয়ে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে দেড় ঘণ্টারও বেশি সময় যান চলাচল বন্ধ থাকে। ফলে সড়কের দুই পাশে কয়েক কিলোমিটার লম্বা যানজটের সৃষ্টি হয়।   স্থানীয় ও পুলিশ সূত্র জানায়, শনিবার উপজেলা স্কয়ার মাস্টারবাড়ি বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেন ইউএনও ফিরোজ হোসেন। ফেরার পথে সিডস্টোর বাজারে উচ্ছেদকৃত জায়গায় পুনরায় অবৈধ দোকানীদের দোকান সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেন। এ সময় ইউএনওর সঙ্গে থাকা কয়েক জন আনসার সদস্য ফুটপাত ব্যবসায়ীদের মালামাল মিনি ট্রাকে উঠানোর চেষ্টা করেন। এতে বাধা দেয় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে আশপাশের ব্যবসায়ীরা ক্ষিপ্ত হয়ে ইউএনওসহ উচ্ছেদ অভিযানে থাকা টিমকে ধাওয়া করে ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে।   এ সময় ইউএনও নিরাপদে ফিরে গেলেও তার গানম্যান আনসার সদস্য রুবেল মিয়া (২৮)। গানম্যানের পিতার নাম জালাল উদ্দিন। তাকে উপজেলা কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনায় সিডস্টোর বাজারের ব্যবসায়ীরা সড়কে নেমে এসে লাকড়ি ফেলে আগুন দেয়। ফলে সন্ধ্যা ৭টা থেকে সাড়ে ৮টা পর্যন্ত যান চলাচল বন্ধ থাকে। খবর পেয়ে ভালুকা মডেল থানা ও হাইওয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।   অপর এক সূত্র জানায়, জ্বালানি তেল সংকটের সময় উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফিরোজ হোসেন উপজেলার ধীতপুর এলাকার মেসার্স হক ফিলিং স্টেশনের সামনে বাইক চালকদের রোষানলে পড়লে সেখান থেকে সেনাবাহিনী ও পুলিশ তাকে উদ্ধার করেন। এ ছাড়াও ইউএনও এর আচরণে ক্ষুব্ধ হয়ে ভালুকা পৌর সদরের এআর ফিলিং স্টেশনের সামনে বাইকারদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা হয়। ইউএনও এর প্রতি ক্ষুব্ধ হয়ে বাইক চালকরা মহাসড়ক অবরোধ করে রাখেন। তিনি ভালুকায় যোগদান করার পর থেকে স্থানীয় সংবাদকর্মীসহ শিক্ষকসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষের সঙ্গে দূরত্বের সৃষ্টি হয়েছে।   ভালুকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেও জরুরি বিভাগের চিকিৎসক শেখ জান্নাতুল তাসলিমা বলেন, আনসার সদস্য রুবেল মিয়া হাটুতে আঘাত পেয়ে আহত হয়েছেন। তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।   এসব বিষয়ে কথা বলার জন্য উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সরকারি নম্বরে ফোন দিলেও তিনি রিসিভ করেননি, পরবর্তীতে ফোন বন্ধ করে দেন।   ভালুকা মডেল থানার ওসি জাহিদুল হাসান জানান, ইউএনও সুস্থ আছেন। তার গাড়ির কোনো ক্ষতি হয়নি। যান চলাচল স্বাভাবিক করা হয়েছে।   উচ্ছেদ অভিযানে গিয়ে ধাওয়ার বিষয়ে ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক সাইফুর রহমানের কাছে জানাতে চাইলে তিনি জানান, বিষয়টি আমি অবগত নই। খোঁজ নিয়ে জানাতে হবে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন মে ১৭, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
প্রথম দিনেই সরবরাহের চাপে কমে গেলো হিমসাগরের দাম

সাতক্ষীরা জেলার পূর্বঘোষিত ‘আম ক্যালেন্ডার’ অনুযায়ী শুক্রবার (১৫ মে) থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বাজারজাত শুরু হয়েছে বিশ্বখ্যাত সুস্বাদু হিমসাগর আম। তবে মৌসুমের প্রথম দিনেই বাজারে ব্যাপক সরবরাহের কারণে দুপুরের পর আমের দামে বড় ধরনের পতন হয়। কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে মণপ্রতি দাম কমেছে ৮০০ টাকা পর্যন্ত।   শুক্রবার সকালে জেলার সবচেয়ে বড় আমের মোকাম সুলতানপুর বড় বাজারে গিয়ে দেখা যায়, আমবোঝাই শত শত ভ্যানের দীর্ঘ সারি। জেলা প্রশাসনের নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী প্রথম দিনেই চাষিরা একযোগে বাগান থেকে হিমসাগর জাতের আম নামিয়ে বাজারে আনায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। সকালে যে হিমসাগর প্রতি মণ ২ হাজার ৬০০ টাকায় বিক্রি হয়, দুপুরের পর তা নেমে আসে ১ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার টাকার ঘরে। কোথাও কোথাও ১ হাজার ৬০০ টাকাতেও আম বিক্রি হতে দেখা গেছে।   চাষিদের চোখে হতাশার ছাপ ফলন ভালো হলেও প্রথম দিনেই দামের এমন আকস্মিক পতনে হতাশ প্রান্তিক চাষিরা। সদরের কুখরালী এলাকার আম চাষি শফিকুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, ‘সকাল পর্যন্ত বাজার স্থিতিশীল ছিল। কিন্তু দুপুরের পর সবাই একসঙ্গে আম নিয়ে আসায় দাম ভেঙে পড়ে। ধাপে ধাপে আম বাজারে এলে এমন ক্ষতি হতো না।’   আরেক চাষি সোনা মিয়া জানান, ‘সার, কীটনাশক ও শ্রমিকের বাড়তি খরচের পর যদি শুরুতেই দাম পড়ে যায়, তাহলে কৃষকদের টিকে থাকা দায়।’   চাষিদের অভিযোগ, আগাম বাজার ধরার প্রতিযোগিতা, ঝড়ের শঙ্কা এবং বড় ব্যাপারীদের তুলনায় অনলাইন ব্যবসায়ীদের ওপর নির্ভরতা বাড়ায় স্থানীয় বাজারে পাইকারি দরে এই অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।   সদরের চাঁদপুর এলাকার আমচাষি আলতাফ হোসেন বলেন, ‘গাছে এবার আম প্রচুর। কিন্তু আকারে একটু ছোট। তার ওপর কয়েকদিন ধরে আকাশে যে মেঘ-বৃষ্টির খেলা চলছে, তাতে ঘূর্ণিঝড় আর কালবৈশাখির ভয়ে বুক কাঁপে। ঝড়ে সব পড়ে যাওয়ার চেয়ে কম দামে বিক্রি করাও ভালো মনে করে সবাই একযোগে আম নামাতে শুরু করেছে। ফলন বেশি হলেও আকার ছোট হওয়ায় বাইরের পাইকাররা দাম হাঁকতে সাহস পাচ্ছে না।’   বাগান মালিক কামরুল ইসলাম অভিযোগ করেন, ‘বাজারে আসার পর দেখি অন্য চিত্র। আড়তগুলোতে নানা উছিলায় অতিরিক্ত টাকা কাটা হচ্ছে। তার ওপর বাজার সিন্ডিকেট তো আছেই। সবাই মিলে একজোট হয়ে দাম কমিয়ে দিয়েছে। আমরা সাধারণ চাষিরা অসহায়, আম তো আর বাড়িতে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার উপায় নেই। তাই বাধ্য হয়ে লোকসান করে আম বিক্রি করেছি।’   অনলাইন ব্যবসা ও বড় ব্যাপারীদের দ্বন্দ্ব বড় বাজারের আড়তদার ঈদ্রিস আলী জানান, এবার বড় বড় ব্যাপারীরা আম কিনছে খুব মেপে মেপে। কারণ হিসেবে তারা বলছে, ফেসবুক আর অনলাইনে ছোট ছোট ব্যবসায়ীরা সরাসরি বাগান থেকে আম কুরিয়ার করায় পাইকারি বাজারে টান পড়েছে। বড় ব্যবসায়ীরা আগের মতো ট্রাক লোড করতে ভয় পাচ্ছে। এর চাপ এসে পড়ছে সাধারণ চাষিদের ওপর।   তবে সুলতানপুর বড় বাজারের আড়তদার কবির হোসেনের মতে, সরবরাহের আধিক্যই দাম কমার প্রধান কারণ।   তিনি দাবি করেন, প্রথম দিনেই সব বাগানের আম একসঙ্গে আসায় বাজারে চাপ তৈরি হয়েছে। তবে হিমসাগরের চাহিদা সবসময়ই থাকে, কয়েকদিন পর বাজার আবার স্বাভাবিক হবে বলে আশা করছি।   টাঙ্গাইল থেকে আসা অনলাইন ব্যবসায়ী আব্দুর রহিম বলেন, সাতক্ষীরার হিমসাগর স্বাদে ও ঘ্রাণে অনন্য। প্রথম দিকে দাম একটু কম থাকলেও প্রিমিয়াম সাইজের আমের জন্য আরও কয়েকদিন অপেক্ষা করতে হবে। তখন দামও বাড়বে।   তিনি বলেন, আমরা অনলাইনে প্রতিযোগিতা করে আম বিক্রি করছি। যখন বাগান থেকে আম সংগ্রহ করছি তখন ভালো দাম দিয়েই নিচ্ছি।   বড় বাজারের শ্রমিক সাকিল হোসেন জানিয়েছেন, এবার সবকিছুর দাম বাড়তি। লেবার খরচ বেড়েছে, ভ্যান ও ট্রাক ভাড়াতো আকাশছোঁয়া। আম প্যাকেজিং করার ক্যারেট আর কুরিয়ার খরচও গতবারের চেয়ে বেশি। আমের দাম কমলেও আমাদের খরচ কিন্তু কমেনি।   সুলতানপুর বড় বাজারের কাঁচামাল ব্যবসায়ী সমিতির নেতা মিরাজ হোসেন মন্তব্য করেন, সবাই চায় প্রথম দিনের চড়া বাজার ধরতে। এই প্রতিযোগিতার কারণেই একদিনে বাজারে কয়েক হাজার মণ আম ঢুকে পড়েছে। হঠাৎ এত আম নামানোর ফলে সরবরাহ ও চাহিদার ভারসাম্য নষ্ট হয়েছে। তবে এর সঙ্গে কুরিয়ার সার্ভিসের বাড়তি রেট যুক্ত হওয়ায় বাইরের জেলাগুলোতে আম পাঠানো এখন অনেক ব্যয়বহুল হয়ে পড়েছে।   সাতক্ষীরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সাইফুল ইসলাম জানান, প্রথম দিনে চাষিরা একযোগে বাজারে আম আনায় সরবরাহের তুলনায় স্থানীয় ক্রেতা কিছুটা কম ছিল, যে কারণে দামে ওঠানামা হয়েছে। তবে আমাদের আমের আন্তর্জাতিক বাজার খুবই উজ্জ্বল। আজ প্রথম চালানেই ২ মেট্রিক টন আম দুবাই গেছে। চলতি মৌসুমে মোট ১০০ মেট্রিক টন আম বিদেশে রফতানির লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে।   তিনি আরও বলেন, ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের বাজারে সাতক্ষীরার বিষমুক্ত আমের বিশেষ চাহিদা আছে। রফতানি প্রক্রিয়া পুরোদমে শুরু হলে এবং বাইরের জেলাগুলো থেকে বড় পাইকাররা বাজারে সক্রিয় হলে কয়েক দিনের মধ্যেই দাম স্থিতিশীল হবে। চাষিরা যাতে ন্যায্যমূল্য পান, সেজন্য আমরা বাজার পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করছি।   সাতক্ষীরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে জেলায় ৪ হাজার ১৪০ হেক্টর জমিতে প্রায় ৪৫ হাজার ৭৫০ জন কৃষক আম চাষ করেছেন। এ বছর ৭০ হাজার ৯০০ মেট্রিক টন আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, যার বড় একটি অংশ হিমসাগর। এছাড়া এ বছর ১০০ মেট্রিক টন আম বিদেশে রপ্তানির লক্ষ্য রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, চলতি মৌসুমে জেলায় প্রায় ৩৫০ কোটি টাকার আম কেনাবেচা হবে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন মে ১৭, ২০২৬
আটক নিহত প্রবাসীর স্ত্রী আসমা আক্তার। ছবি : সংগৃহীত
জীবনে একটা পিঁপড়াও মারিনি—স্বামীর খুন-টুকরো করার পর স্ত্রী আসমার স্বীকারোক্তি

‘আমার স্বামী ফোনে অন্য মেয়েদের সঙ্গে কথা বলত। আর এ বিষয়ে কিছু বলতে গেলে প্রায়ই আমাকে মারধর করতেন। কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে তাকে মাথায় রড দিয়ে আঘাত করলে তিনি মাটিতে পড়ে যান। আমি বুঝতে পারিনি এত জোরে আঘাত লাগবে। পরে চাকু দিয়ে লাশ টুকরো টুকরো করে কয়েক জায়গায় ফেলে দিই। আমি জীবনে কখনো একটা পিঁপড়াও মারিনি। কিন্তু এ ঘটনা কীভাবে ঘটে গেল, বুঝতে পারিনি।’ পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদের স্বামীকে হত্যার কথা স্বীকার করে স্ত্রী আসমা আক্তার কথাগুলো বলেন। শরীয়তপুরে পারিবারিক কলহের জেরে স্বামীকে হত্যা করে মরদেহ টুকরো টুকরো করে ড্রামে ভরে রাখেন তিনি। পরে দেহের অংশ বিভিন্ন স্থানে ফেলে দিয়ে মাংস ফ্রিজে রাখতে গিয়ে স্থানীয়দের সন্দেহে ধরা পড়েন তিনি। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সদর উপজেলার চন্দ্রপুর এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন মালয়েশিয়া প্রবাসী জিয়া সরদার ও তার স্ত্রী আসমা আক্তার। প্রায় আট বছর আগে মোবাইল ফোনে পরিচয়ের মাধ্যমে তাদের বিয়ে হয়। উভয়েরই এটি দ্বিতীয় বিয়ে ছিল। জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে তাদের দাম্পত্য জীবনে কলহ চলছিল। সম্প্রতি সেই বিরোধ চরম আকার ধারণ করে। গত মঙ্গলবার রাতে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে আসমা আক্তার তার স্বামী জিয়া সরদারের মাথায় লোহার রড দিয়ে আঘাত করেন। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। এরপর হত্যাকাণ্ড গোপন করতে আসমা মরদেহটি ছুরি দিয়ে কয়েক টুকরো করে হাড় ও মাংস আলাদা করেন। দেহাংশ একটি ড্রামে ভরে বাসায় রেখে দেন প্রায় তিন দিন। পরে শুক্রবার সন্ধ্যায় একটি অটোরিকশা ভাড়া করে দেহের কিছু অংশ বস্তায় ভরে বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেন। পুলিশ জানায়, দেহের মাংসের অংশগুলো তিনি শরীয়তপুর শহরের পালং এলাকার তার আগের ভাড়া বাসায় নিয়ে গিয়ে ফ্রিজে রাখতে চান। কিন্তু তীব্র দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। পরে তারা জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে আটক করে। পরে জিজ্ঞাসাবাদে আসমা আক্তার হত্যার বিষয়টি স্বীকার করেন। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শুক্রবার (১৫ মে) রাত সাড়ে ৯টার দিকে সদর উপজেলার আটং বৃক্ষতলা এলাকা থেকে মরদেহের খণ্ডিত অংশ উদ্ধার করে পুলিশ। পালং মডেল থানার ওসি শাহ আলম বলেন, ‘স্বামীকে হত্যার পর মরদেহ টুকরো করে ড্রামে ভরে রাখে ওই নারী। পরে দেহাংশ বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেয়। স্থানীয়দের তথ্যের ভিত্তিতে তাকে আটক করা হয়। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী মরদেহের বিভিন্ন অংশ উদ্ধার করা হয়েছে।’ তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত আছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

মারিয়া রহমান মে ১৬, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
টুঙ্গিপাড়ায় মোটরসাইকেল-কাভার্ডভ্যান সংঘর্ষে নারী নিহত

গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় মোটরসাইকেল ও কাভার্ডভ্যান মুখোমুখি সংঘর্ষে সীমা সরকার (৪০) নামে এক নারী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় মোটরসাইকেল চালক গুরুতর আহত হয়েছেন। শনিবার সকাল ৯টায় টুঙ্গিপাড়া উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের জোয়ারিয়া বাজারে এ দুর্ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত কাভার্ডভ্যান চালক শামীম শেখকে (৩৫) আটক করেছে পুলিশ। নিহত সীমা সরকার পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার নৈলতলা গ্রামের সবুজ সরকারের স্ত্রী। আহত মোটরসাইকেল চালক মানিক সরকার (৩০) একই এলাকার নিরঞ্জন সরকারের ছেলে। তারা দুজন সম্পর্কে দেবর-বৌদি। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন টুঙ্গিপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আইয়ুব আলী। টুঙ্গিপাড়া থানা সূত্রে জানা যায়, শনিবার সকালে মানিক সরকার বৌদি সীমা সরকারকে নিয়ে পিরোজপুর থেকে রওনা দিয়ে মোটরসাইকেলে চালিয়ে টুঙ্গিপাড়া হয়ে বরিশালের গৌরনদী যাচ্ছিলেন। তারা টুঙ্গিপাড়ার জোয়ারিয়া এলাকায় পৌঁছালে কোটালীপাড়ার মাঝবাড়ি থেকে ছেড়ে আসা একটি পণ্যবাহী কাভার্ডভ্যানের সঙ্গে মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এসময় সীমা সরকার মোটরসাইকেল থেকে ছিটকে পড়ে মাথায় আঘাত পেয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান। মোটরসাইকেল চালক মানিক গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে টুঙ্গিপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। টুঙ্গিপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আইয়ুব আলী বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে কাভার্ডভ্যান চালক শামীম শেখকে আটক করে। এ ঘটনায় এখনো কোনও মামলা হয়নি। তবে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

মারিয়া রহমান মে ১৬, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
আজ টানা ১০ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না যেসব এলাকায়

দেশের কয়েকটি এলাকায় শনিবার (১৬ মে) সকাল থেকে টানা ১০ ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে। এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে নাটোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২।   বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বনপাড়া গ্রিড উপকেন্দ্র নতুন ৩৩ কেভি লাইন নির্মাণ কাজ করা হবে শনিবার। এজন্য বড়াইগ্রাম উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সাময়িকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে। প্রতিষ্ঠানটির সদর দপ্তর অফিসের অধীন বড়াইগ্রাম-১ (বনপাড়া) উপকেন্দ্রের ১, ৪, ৬, ৭ ও ৮ নম্বর ফিডারের আওতাধীন বনপাড়া পৌরসভার আংশিক এলাকা এবং জোয়াড়ি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় শনিবার সকাল ৭টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকতে পারে। বিদ্যুৎ বন্ধের কারণে গ্রাহকদের সাময়িক অসুবিধার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছে কর্তৃপক্ষ। তবে বাস্তব কাজের অগ্রগতির ওপর নির্ভর করে নির্ধারিত সময় কিছুটা কম-বেশি হতে পারে বলেও জানানো হয়েছে। অন্যদিকে, নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই পিএলসি (নেসকো) রাজশাহীর নির্বাহী প্রকৌশলীর দপ্তরের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নেসকো রাজশাহীর বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-৫-এর আওতাধীন বিদ্যুৎ গ্রাহকদের অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, আসন্ন ঈদুল আজহায় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের লক্ষ্যে ৩৩ কেভি ও ১১ কেভি লাইনের নিকটবর্তী গাছের শাখা-প্রশাখা কর্তন কাজের জন্য শনিবার সকাল ৮টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত কয়েকটি এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে। এ সময় বনগ্রাম ফিডারের (সোর্স থেকে মোহনপুর আইসোলেটর পর্যন্ত) আওতাধীন হাজরাপুকুর, কালিয়াপাড়া, মোহনপুর হাজামপাড়া ও মধ্য বুধপাড়া এলাকায় বিদ্যুৎ থাকবে না। সাময়িক এ অসুবিধার জন্য সংশ্লিষ্ট এলাকার গ্রাহকদের কাছে আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেছে নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই পিএলসি রাজশাহীর নির্বাহী প্রকৌশলীর দপ্তর। নাটোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২-এর বাঘা জোনাল অফিস জানিয়েছে, বাঘা ৩৩ কেভি লাইনে জরুরি উন্নয়নমূলক কাজের জন্য শনিবার সকাল ৯টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত বাঘা জোনাল অফিসের সব এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে। গ্রাহকদের সাময়িক অসুবিধার জন্য কর্তৃপক্ষ আন্তরিকভাবে দুঃখিত।

মো: দেলোয়ার হোসাইন মে ১৬, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
আজ থেকেই বাজারে মিলবে সাতক্ষীরার জনপ্রিয় হিমসাগর আম

আজ থেকে বাজারে মিলছে সাতক্ষীরার জনপ্রিয় আম হিমসাগর। প্রশাসনের ঘোষিত আম ক্যালেন্ডার অনুযায়ী জেলার আম চাষীরা আজ শুক্রবার (১৫ মে) গাছ থেকে হিমসাগর আম ভাঙা শুরু করেছেন।   শহরের কুকরালী এলাকার আম চাষি হাফিজুল ইসলাম খোকার বাগান থেকে ইংল্যান্ড ও ইতালী যাচ্ছে হিমসাগর। চাষি খোকা জানান, আজ শুক্রবার চার টন হিমসাগর আম আমার বাগান থেকে বিদেশ যাবে। বায়ারদের নিকট প্রতিমণ আম তিন হাজার টাকায় বিক্রি করেছি।  এ বিষয়ে সাতক্ষীরা সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মনির হোসেন জানান, হিমসাগর আম এখন পরিপক্ব। আজ শুক্রবার থেকে চাষীরা বাজারজাত করতে পারবেন। আগামী ২৭ মে ল্যাংড়া ও ৫ জুন আম্রপালি জাতের আম বাজারজাত করা যাবে। এ বছর জেলায় ৭০ হাজার মেট্রিক টন আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। বিদেশ রপ্তানি আশা রয়েছে একশো মেট্রিকটন আম। এদিকে শহরের সুলতানপুর বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতিমণ হিমসাগর আম আকার প্রকারভেদে ১৫শ থেকে ২৫শ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। 

মোঃ ইমরান হোসেন মে ১৬, ২০২৬
স্বামী ও সন্তানের সঙ্গে নিহত তারিন আক্তার। ছবি: সংগৃহীত
মোটরসাইকেল থেকে ছিটকে পড়ে ২ বছরের শিশু, বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ গেল মা-সন্তানের

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে ছিটকে পড়ে যাওয়া দুই বছরের শিশুকন্যাকে বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন মা তারিন আক্তার। দুর্ঘটনায় আহত শিশুটিকেও হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যায়।   শুক্রবার (১৫ মে) রাত ৮টার দিকে ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কের সীতাকুণ্ড উপজেলার ভাটিয়ারী ইউনিয়নের বিএমএ গেট এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত তারিন আক্তার চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের অফিস সহকারী-কাম-কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক ছিলেন। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, স্বামীর সঙ্গে মোটরসাইকেলে করে ২ বছর বয়সী সন্তান ইয়াসাকে নিয়ে ভাটিয়ারীর একটি মেলায় ঘুরতে গিয়েছিলেন তারিন আক্তার। রাতে বাসায় ফেরার পথে শিশু সন্তানকে মাঝখানে বসিয়ে পেছনে বসেছিলেন তারিন। তবে অসাবধানতাবশত শিশু ইয়াসা মোটরসাইকেল থেকে পড়ে যায়। সন্তানকে বাঁচাতে গিয়ে তারিনও সড়কে পড়ে যান। এ সময় মোটরসাইকেলের পেছনে থাকা দ্রুতগতির একটি কাভার্ডভ্যান তাকে চাপা দিলে ঘটনাস্থলে তার মৃত্যু হয়। আহত শিশু ইয়াসাকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। ‎সীতাকুণ্ড উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, তারিন অত্যন্ত বিনয়ী ও দায়িত্বশীল একজন কর্মী ছিলেন। তার এ মৃত্যু অত্যন্ত বেদনাদায়ক। নিজের জীবন দিয়েও আদরের মেয়েকে বাঁচাতে পারলো না। বার আউলিয়া হাইওয়ে থানার ওসি এমএ হক বলেন, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। গাড়িটি শনাক্ত করা যায়নি কিন্তু চেষ্টা চলছে।

মোঃ ইমরান হোসেন মে ১৬, ২০২৬
প্যারোলে মুক্তি পেয়েও পড়া হলো না জানাজা, মায়ের লাশ ছুঁয়ে কাঁদলেন যুবলীগ নেতা
প্যারোলে মুক্তি পেয়েও পড়া হলো না জানাজা, মায়ের লাশ ছুঁয়ে কাঁদলেন যুবলীগ নেতা

প্যারোলে মুক্তি পেলেও শেষ পর্যন্ত মায়ের জানাজায় অংশ নিতে পারলেন না ময়মনসিংহের গৌরীপুর পৌর যুবলীগের সাবেক সভাপতি ও গৌরীপুর সরকারি কলেজের সাবেক জিএস মজিবুর রহমান। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পৌঁছাতে না পারায় জানাজা না পেলেও মায়ের দাফনে অংশ নেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন তিনি। দাফন প্রক্রিয়া শেষে পুলিশি পাহারায় তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মজিবুর রহমানের মা হাজেরা খাতুন (৯০) বৃহস্পতিবার (১৪ মে) রাত ৯টা ১৫মিনিটে পৌর শহরের বঙ্গবন্ধু সড়ক বাজার পশ্চিম মহল্লার নিজ বাসায় বার্ধক্যজনিত কারণে মারা যান। মায়ের শেষ বিদায়ে অংশ নিতে পরিবারের পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে প্যারোলে মুক্তির আবেদন করা হয়। আবেদনের প্রেক্ষিতে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাইফুর রহমান শুক্রবার বেলা সাড়ে ১২টা থেকে বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত তিন ঘণ্টার জন্য তার মুক্তি মঞ্জুর করেন। কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে পুলিশি পাহারায় মজিবুর রহমান যখন এলাকায় পৌঁছান, ততক্ষণে জানাজা শেষ হয়ে যায়। পরে তিনি দাফন কাজে অংশ নেন। এ সময় মায়ের মরদেহ ছুঁয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। দাফন শেষে মজিবুর রহমান বলেন, ‘রাজনীতি করলে জেল খাটতে হয়, তা নিয়ে আমার দুঃখ নেই। কিন্তু আফসোস একটাই, চব্বিশের অভ্যুত্থানের পর আমি ঢাকায় ছিলাম। মায়ের অসুস্থতার খবর শুনে বাড়িতে আসার পরই গ্রেফতার হই| শেষ সময়ে মায়ের সেবা করতে না পারার কষ্ট আমাকে সারাজীবন বয়ে বেড়াতে হবে।’   গৌরীপুর থানার ওসি মো. হাবিবুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আদালতের নির্দেশে তিন ঘণ্টার প্যারোলে মুক্তি শেষে জানাজা ও দাফন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তাকে যথাযথ পুলিশি পাহারায় আবারও কারাগারে পাঠানো হয়েছে। উল্লেখ্য, গত ২০২৪ সালের নভেম্বরে বিশেষ ক্ষমতা আইনে দায়ের করা একটি বিস্ফোরক মামলায় অভিযুক্ত হয়ে ২০২৫ সালের ২২ ডিসেম্বর নিজ বাসার সামনে থেকে গ্রেপ্তার মজিবুর রহমান। বর্তমানে তিনি সেই মামলায় কারাগারে আছেন।

মারিয়া রহমান মে ১৫, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
ভারতে আটক ২ বাংলাদেশি যুবককে ফেরত দিল বিএসএফ

কুড়িগ্রামের রৌমারী সীমান্তে অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে আটক বাংলাদেশি দুই যুবককে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এর কাছে হস্তান্তর করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। পরে বিজিবি ওই দুই যুবককে রৌমারী থানায় সোপর্দ করে। শুক্রবার (১৫ মে) রৌমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাওছার আলী বিষয়টি কালবেলাকে নিশ্চিত করেছেন। আটক ব্যক্তিরা হলেন, পটুয়াখালী জেলার গলাচিপা থানার দক্ষিণ চর বিশ্বাস গ্রামের আলমগীর কবিরের ছেলে মো. সুজন কবির (৩৫) ও নাটোর জেলার রামনগর গ্রামের আকবর আলীর ছেলে মো. রবিউল ইসলাম রাজু (৩০)। বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (১৪ মে) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলার বাংলাবাজার বিওপি এলাকায় বিজিবি ও বিএসএফ-এর মধ্যে এক পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বিজিবির পক্ষে নেতৃত্ব দেন বাংলাবাজার বিওপির কোম্পানি কমান্ডার সুবেদার মো. ঠান্ডু মিয়া এবং বিএসএফ-এর পক্ষে নেতৃত্ব দেন ভারতের আসাম রাজ্যের মাইনকারচর ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার এসআই ভাজন সিং। বৈঠক শেষে আন্তর্জাতিক মেইন পিলার ১০৬৫-এর কাছে চর নতুনবন্দর জিরোপয়েন্ট এলাকায় ওই দুই যুবককে বিজিবির কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়। পুলিশ ও বিজিবি জানায়, গত ২০ এপ্রিল শেরপুর সীমান্ত দিয়ে সুজন কবির এবং ৩০ এপ্রিল সিলেট সীমান্ত দিয়ে রবিউল ইসলাম রাজু কাজের আশায় অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেন। গত ৯ মে ভারতের মাইনকারচর থানা পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করে। পরবর্তীতে আইনি প্রক্রিয়া শেষে বিএসএফ-এর মাধ্যমে তাদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়। রৌমারী থানার ওসি কাওছার আলী জানান, বিজিবি ওই দুই যুবককে থানায় সোপর্দ করার পর তাদের পরিচয় যাচাই-বাছাই করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদের পরিবারের সদস্যদের জিম্মায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

মোঃ ইমরান হোসেন মে ১৫, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
সিলেট বিভাগে পরিবহন ধর্মঘটের ডাক

নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহার করা না হলে আগামী মঙ্গলবার(১৯ মে) থেকে সিলেট বিভাগে পরিবহন ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে  শ্রমিক ফেডারেশন। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) রাতে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন সিলেট বিভাগীয় কমিটির সভা শেষে এ ঘোষণা দেন নেতারা।  সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন সিলেট বিভাগীয় কমিটির (ভারপ্রাপ্ত) সভাপতি দেলোয়ার হোসেনের সভায় সভাপতিত্ব করেন। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সজিব আলীর পরিচালনায় অনুষ্ঠানে সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার সড়ক পরিবহন শ্রমিক সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। সভায় নেতারা দাবি করেন, গত ২৭ এপ্রিল সিলেটের কদমতলী বাস টার্মিনালে একটি অনাকাঙিক্ষত ঘটনাকে কেন্দ্র করে পরিবহন শ্রমিকদের শীর্ষ সংগঠনের বিভাগীয় সভাপতি ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকসহ শ্রমিক নেতাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। অনাকাঙ্খিত এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। ঘটনার দিন ফেডারেশনের বিভাগীয় সভাপতি ময়নুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আলী আকবর রাজন, কোষাধ্যক্ষ আব্দুস শহিদসহ শীর্ষস্থানীয় নেতারা নাজিরবাজারে শ্রমিক সংগঠনের নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন। কিন্তু তাদেরকেও মামলায় অভিযুক্ত করা হয়েছে। এ সময় নেতার আগামী সোমবার (১৮ মে) নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে করা মামলা প্রত্যাহার করা না হলে পরদিন সকাল ৬টা থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য ধর্মঘটের পালনের হুঁশিয়ারি দেন। উল্লেখ্য, গত ২৭ এপ্রিল সিলেট কদমতলী বাস টার্মিনালে শ্রমিকদের দুই পক্ষের সংঘর্ষে দুই জন মারা যান। এ ঘটনায় ৫ মে মৃত্যুবরণ করা শ্রমিক ছাবলু মিয়ার বাবা দক্ষিণ সুরমা থানায় মামলা করেন। ওই মামলায় সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন সিলেট বিভাগীয় কমিটির সভাপতি ময়নুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আলী আকবর রাজন, কোষাধ্যক্ষ আব্দুস শহিদ, সাবেক কোষাধ্যক্ষ সামছুল হক মানিক ও সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক নুর মিয়াসহ ২৯ নামের উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ৬০ জনকে আসামি করা হয়।

মোঃ ইমরান হোসেন মে ১৫, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
সুন্দরবনে অভিযান, অস্ত্রসহ তিন বনদস্যু গ্রেপ্তার

সুন্দরবনের চাদপাই রেঞ্জের শ্যালা নদীর মরাচান মিয়া খাল এলাকায় বনদস্যু করিম শরীফ বাহিনীর সাথে কোস্টগার্ডের বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় অস্ত্র, গুলি ও যোগাযোগ সরঞ্জামসহ তিন বনদস্যুকে আটক করেছে কোস্টগার্ড।    শুক্রবার দুপুরে কোস্টগার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য নিশ্চিত করেন।  আটকরা হলেন, মেহেদী হাসান (২৫), রমজান শরীফ (১৯) ও এনায়েত (২৫)। এরমধ্যে মেহেদী হাসান ও রমজান শরীফের বাড়ি বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলায় ও  এনায়েতের বাড়ি ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায়।  কোস্টগার্ড আরো জানান, বনদস্যু করিম শরীফ বাহিনীর সদস্যরা সুন্দরবনের শ্যালা নদীর মরাচান মিয়া খাল এলাকায় অবস্থান করছে এমন গোপনসংবাদের  ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার বিকেলে ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’-এর আওতায় অভিযান চালায় কোস্টগার্ড। এ সময় কোস্টগার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে বনদস্যুরা গুলি বর্ষণ শুরু করলে আত্মরক্ষার্থে কোস্টগার্ডও পাল্টা গুলি চালায়। গোলাগুলির এক পর্যায়ে ধাওয়া দিয়ে বনদস্যু বাহিনীর তিন সদস্যকে আটক করা হয়।  এ সময় ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালিয়ে তিনটি একনলা বন্দুক, একটি দেশীয় পিস্তল, ৪৯ রাউন্ড তাজা গুলি, ১৮৭ রাউন্ড এয়ারগানের গুলি, দুটি ওয়াকিটকি ও চারটি ওয়াকিটকি চার্জার উদ্ধার করা হয়।  প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটকরা দীর্ঘদিন ধরে বনদস্যু করিম শরীফ বাহিনীর হয়ে সুন্দরবনে জেলে ও বাওয়ালিদের জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায়ের সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে কোস্টগার্ড। 

মোঃ ইমরান হোসেন মে ১৫, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
ওমানে একে একে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন চট্টগ্রামের ৪ আপন ভাই, নেপথ্যে কী

যে বাড়িতে বিয়ের সানাই বাজার কথা ছিল, সেই বাড়িতে চলছে কান্নার রোল। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর শুক্রবার (১৫ মে) দুই ভাইয়ের দেশে ফেরার কথা ছিল। কিন্তু সেই সেই দুই ভাইয়ের সঙ্গে আরও দুই ভাই দেশে ফিরছেন নিথর দেহ হয়ে। চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ার রাশেদ, শাহেদুল, সিরাজ ও শহিদ নামের চার আপন ভাই ওমানের মুলাদ্দাহ এলাকায় গাড়ির এসি থেকে নির্গত বিষাক্ত কার্বন-মনোক্সাইড গ্যাসে দম বন্ধ হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন। তারা সবাই উপজেলার লালানগর ইউনিয়নের বান্দারাজার পাড়া এলাকায় মৃত জামাল উদ্দিনের ছেলে। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার রাতে অসুস্থ বড় ভাই রাশেদকে চিকিৎসক দেখাতে ওমানের মুলাদ্দাহ এলাকার একটি ক্লিনিকে নিয়ে যান বাকি তিন ভাই। সিরিয়াল পেতে দেরি হওয়ায় তারা গাড়ির ভেতর এসি চালিয়ে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন। দীর্ঘক্ষণ গাড়ির দরজা-জানালা বন্ধ থাকায় ভেতরে বিষাক্ত কার্বন-মনোক্সাইড গ্যাস ছড়িয়ে পড়লে চারজনই একে একে অচেতন হয়ে পড়েন। মৃত্যুর ঠিক আগমুহূর্তে এক ভাই তার বন্ধু পারভেজকে একটি ভয়েস মেসেজ পাঠান। চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষায় সেই আর্তনাদ ছিল— 'পারভেজ তুরা কোথায়? আমার বদ্দাকে (বড় ভাইকে) ডাক্তারের কাছে এনেছি, এখন আমরা গাড়ি থেকে নামতে পারছি না... আমাদের চারজনকেও নিয়ে যাও...।' কিন্তু সাহায্য পৌঁছানোর আগেই নিভে যায় চার রেমিট্যান্স যোদ্ধার প্রাণ। ওমানে বাংলাদেশ দূতাবাসের লেবার কাউন্সিলর রাফিউল ইসলাম জানান, ময়নাতদন্তের প্রাথমিক প্রতিবেদনে গাড়ির এসি থেকে নির্গত বিষাক্ত গ্যাসকেই মৃত্যুর কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। মরদেহগুলোতে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। বর্তমানে মরদেহগুলো ওমান পুলিশের তত্ত্বাবধানে রয়েছে। প্রয়োজনীয় দাপ্তরিক কাজ শেষে আগামী রোববার বা সোমবারের মধ্যে মরদেহগুলো দেশে পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে। এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ওমানে বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে প্রবাসীদের উদ্দেশে সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে— দীর্ঘক্ষণ গাড়িতে এসি চালিয়ে বসে থাকলে জানালার গ্লাস অবশ্যই সামান্য খোলা রাখতে হবে। বৃহস্পতিবার সকালে রাঙ্গুনিয়ার লালানগর এলাকায় গিয়ে দেখা যায় হৃদয়বিদারক দৃশ্য। যে বাড়িতে আজ উৎসব হওয়ার কথা ছিল, সেখানে এখন চার লাশের অপেক্ষা। অসুস্থ মা ফরিদা বেগমকে এখনো ছেলেদের মৃত্যুর খবর পুরোপুরি জানানো হয়নি। পরিবারের একমাত্র বেঁচে থাকা ভাই এনাম শোকে বাকরুদ্ধ। ওমানের চট্টগ্রাম সমিতির সভাপতি মো. ইয়াসিন চৌধুরী এই ঘটনাকে প্রবাসের ইতিহাসে অন্যতম বড় ট্র্যাজেডি হিসেবে উল্লেখ করেছেন। পুরো রাঙ্গুনিয়াজুড়ে এখন শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

মারিয়া রহমান মে ১৫, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
জঙ্গি সন্দেহে মৌলভীবাজারের দুর্গম টিলা থেকে সাবেক সেনা সদস্য গ্রেপ্তার

মৌলভীবাজারের বড়লেখার দুর্গম এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে উগ্রবাদী সংগঠন ‘মাকতাবাহ আল হিম্মাহ আদদাওয়াতুল ইসলামিয়াহ’র এক সদস্যকে গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছে পুলিশ।   বড়লেখা থানার ওসি মনিরুজ্জামান বলছেন, প্রায় ১২ ঘণ্টা ধরে অভিযানের এক পর্যায়ে বৃহস্পতিবার বেলা আড়াইটার দিকে বোবারথল ষাইটঘরি এলাকার একটি দুর্গম টিলা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার রাহেদ হোসেন মাহেদ (২৩) সিলেট জেলার বিশ্বনাথ উপজেলার দশঘর এলাকার নূর মিয়ার ছেলে। তিনি উগ্রবাদী সংগঠন ‘মাকতাবাহ আল হিম্মাহ আদদাওয়াতুল ইসলামিয়াহ’র সদস্য এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একজন চাকরিচ্যুত সদস্য বলে মৌলভীবাজার জেলা পুলিশের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে। সেখানে বলা হয়, মাহেদ দীর্ঘদিন ধরে আত্মগোপনে ছিলেন এবং অবৈধভাবে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন। বড়লেখা থানার ওসি মনিরুজ্জামান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, গত ২৩ এপ্রিল পুলিশ সদর দপ্তর থেকে জাতীয় সংসদসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর সম্ভাব্য উগ্রবাদী হামলার পরিকল্পনার বিষয়ে গোয়েন্দা সতর্কতা জারি করা হয়। এ বিষয়ে তদন্তের মধ্যে পুলিশ জানতে পারে, উগ্রবাদী সংগঠনের সদস্য রাহেদ হোসেন মাহেদ বাংলাদেশ সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতে পালানোর চেষ্টা করছেন। ওসি বলেন, “এরপর থেকে মৌলভীবাজারের পুলিশ সুপার মো. রিয়াজুল ইসলামের নির্দেশে আমরা সতর্ক অবস্থানে থাকি। এরই মধ্যে সীমান্ত এলাকায় সন্দেহভাজন ব্যক্তির উপস্থিতির গোপন সংবাদ পেয়ে আমরা অভিযানে যাই।” জেলা পুলিশ সুপার মো. রিয়াজুল ইসলাম বলেন, গ্রেপ্তারের পর যাচাই-বাছাই শেষে গ্রেপ্তার ব্যক্তিকে তারা রাহেদ হোসেন মাহেদ হিসেবে শনাক্ত করেন। “সে ঢাকার শাহবাগ থানার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি মামলার আসামি। কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট সেই মামলার তদন্ত করছে।” পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য রাহেদ হোসেন মাহেদকে বৃহস্পতিবার রাতেই সিটিটিসির কাছে হস্তান্তর করার কথা জানিয়েছেন পুলিশ সুপার। তিনি বলেন, “প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তি জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ততার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন।”

মো: দেলোয়ার হোসাইন মে ১৫, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
বর্ষাকালীন ফসল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা চূড়ান্ত, আউশ-আমনে বিশেষ গুরুত্ব

দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত ও কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি করতে চলতি বর্ষা মৌসুমের ফসল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা চূড়ান্ত করেছে সরকার। এবার আউশ ও আমন ধানের উৎপাদন বাড়াতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে কৃষি বিভাগ।   কৃষি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অনুকূল আবহাওয়া, উন্নত জাতের বীজ, সারের পর্যাপ্ত সরবরাহ এবং কৃষকদের প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করার মাধ্যমে উৎপাদন বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় সহনশীল জাতের ধান চাষে কৃষকদের উৎসাহিত করা হচ্ছে।   কৃষি মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, এবার আউশ ও আমনের আবাদি জমির পরিমাণ বাড়ানোর পাশাপাশি প্রতি হেক্টরে উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। মাঠপর্যায়ে কৃষি কর্মকর্তাদের তদারকি জোরদার এবং কৃষকদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রমও বাড়ানো হচ্ছে।   বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে বৈশ্বিক খাদ্য সংকট ও জলবায়ুজনিত ঝুঁকির কারণে দেশীয় উৎপাদন বাড়ানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তাই সময়মতো বীজ, সার, সেচ ও কৃষি উপকরণ সরবরাহ নিশ্চিত করা গেলে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হবে।   এদিকে কৃষকদের মধ্যে আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ব্যবহারের প্রবণতা বাড়াতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর মাঠপর্যায়ে নিয়মিত পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তা দিচ্ছে বলেও জানা গেছে।   কৃষি সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ বড় ধরনের বাধা হয়ে না দাঁড়ালে চলতি মৌসুমে আউশ ও আমনের ভালো ফলন হবে এবং দেশের খাদ্য মজুত আরও শক্তিশালী হবে।

মোঃ নাহিদ হোসেন মে ১৫, ২০২৬
'কাল বৈশাখীর তান্ডব'
'কাল বৈশাখীর তান্ডব' এক ঘুর্ণি পাকেই উড়ে গেল বসতঘর

‘সন্ধা নামার একটু বাকী। উত্তর-পশ্চিম আকাশে কালো মেঘের ঘনঘটা। রাস্তা থেকে ছাগল-বকরি নিয়ে দৌড়াচ্ছি। শিশুদের বাড়ীতে আসার জন্য ডাকাডাকি করছি। মৃদুমন্দ বিজলী চমকানোর মধ্যে হঠাৎ উত্তর আকাশ থেকে কানে ভেসে এলো ঝড়ো হাওয়ার গর্জন। মনে হচ্ছিল কোনো একটা বিপদ ঘটতে যাচ্ছে। মুহূর্তের মধ্যে প্রবল বেগে একটা ঘুর্ণিপাক ধেঁয়ে আসলো। বাতাসের গর্জন শুনে ভয়ে দোয়া কালাম পড়তে পড়তে চক্ষু বন্ধ করে ছিলাম। ঝড়ো হাওয়ার প্রথম দফার আঘাতটা যেতে না যেতে চোখ খুলে দেখি বসত ভিটেয় কোনো ঘর নেই। আমাদের মাথার উপর থেকে ঘরটা উঁধাও হয়ে গেছে। প্রবল বাতাস আর ভারী বর্ষণের মধ্যে শিশুদের নিয়ে আশ্রয় খোঁজার জন্য ঝুকলাম। আগ বাড়াতেই শূন্য ভিটের উপর মান্দার গাছটা চোখের সামনে ভেঙে পড়লো। বসত বাড়ী সংলগ্ন কাচা রাস্তার বিপরীত পাশে পদ্মা পারে বাঁধা নৌকার দিকে তাকিয়ে দেখি পরিবারের একমাত্র অবলম্বন মাছ ধরার নৌকাটিও ডুবে গেলো। একটি ঘুর্নি পাকেই চোখের সামনে পরিবারের সবকিছু তছনছ হয়ে গেলো। পরে সর্বস্ব হারিয়ে ঝড়ো হাওয়ার বেগ পারি দিয়ে জান বাচাঁবার আশায় শিশুদের নিয়ে আশ্রয় নিয়েছিলাম পাশের বাড়ীতে।’ এভাবেই কাল বৈশাখীর তান্ডব বিড়বিড় করে বর্ণনা করেছিলেন ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলা সদর ইউনিয়নের হাজীডাঙ্গী গ্রামের পদ্মা পারের বসতি হত-দরিদ্র কামাল খানের স্ত্রী জোসনা আক্তার (৪০)। গত বুধবার বিকেলে কাল বৈশাখীর তান্ডবে একমাত্র বসত ঘর, ভিটের গাছপালা ও মাছ ধরার নৌকা হারানোর পর বৃহস্পতিবার দুপুরে উক্ত গৃহিনী কাল বৈশাখীর ভয়াবহতা বর্ণনা দিতে গিয়ে নিজের চোখ ভিজিয়ে ফেলেন। ঝড়ের পরে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুরাইয়া মমতাজ ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারগুলো ঘুরে ঘুরে পরিদর্শন করেছেন। তিনি বৃহস্পতিবার বিকেলে খোলা আকাশের নিচে বসবাসরত কামাল খানের পরিবারে দুই বান্ডিল ঢেউটিন ও নগদ তিন হাজার টাকা পৌছে দিয়েছেন। এছাড়া কাল বৈশাখীর তান্ডবে ক্ষতিগ্রস্থ পরিবার পার্শ্ববতী বালিয়া ডাঙ্গী গ্রামের জাহাঙ্গীর আলমের পরিবারে এক বান্ডিল ঢেউটিন ও জোসনা মৃধার পরিবারে আরও এক বান্ডিলসহ ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারে মোট চার বান্ডিল ঢেউটিন পৌছে দিয়েছেন ইউএনও। এসব ঢেউটিন বিতরনকালে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুরাইয়া মমতাজ বলেন, ‘উপজেলায় কাল বৈশাখীর তান্ডবে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারে দুই বান্ডিল ঢেউটিন ও নগদ টাকা এবং কম ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারে তালিকা করে এক বান্ডিল করে ঢেউটিন দেওয়া হবে।’ সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আকস্মিক কাল বৈশাখী ঝড়ের তান্ডবে উপজেলার ১৫টি পরিবার ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। ফসলী মাঠের প্রায় ৫০ একর কলা বাগানের গাছগুলো উপড়ে রয়েছে এবং  প্রায় ৮০ একর ভূট্টা ফসল বিনষ্ট হয়েছে। এছাড়া উপজেলার প্রচুর পরিমাণ ফলজ ও বনজ বৃক্ষাদিসহ বৈদ্যুতিক লাইনের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে। 

মারিয়া রহমান মে ১৪, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
ঠাকুরগাঁওয়ে রাস্তায় মিলল ৫০ এসএসসি পরীক্ষার্থীর খাতা

ঠাকুরগাঁও শহরের ঠাকুরগাঁও জেলা স্কুলের বড় মাঠসংলগ্ন এলাকা থেকে এসএসসি পরীক্ষার প্রায় ৫০টি খাতা উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) রাতে রাস্তায় পড়ে থাকা খাতাগুলো দেখতে পেয়ে এক যুবক পুলিশকে খবর দেন। স্থানীয় সূত্র জানায়, রাতে জেলা স্কুলের বড় মাঠের পশ্চিম পাশের রাস্তায় ঘোরাঘুরির সময় ওই যুবকের নজরে আসে বেশ কিছু খাতা। পরে কাছে গিয়ে তিনি বুঝতে পারেন, এগুলো এসএসসি পরীক্ষার খাতা হতে পারে। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তিনি দ্রুত পুলিশকে অবহিত করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে খাতাগুলো উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। তবে কীভাবে গুরুত্বপূর্ণ এসব খাতা রাস্তায় এল, তা নিয়ে রহস্য তৈরি হয়েছে। ঠাকুরগাঁও জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. খোদাদাদ হোসেন জানান, রাতের দিকে একজন ব্যক্তি প্রায় ৫০টি খাতা কুড়িয়ে পান এবং পরে পুলিশকে খবর দেন। উদ্ধার করা খাতাগুলো বর্তমানে থানার হেফাজতে রাখা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, এখন পর্যন্ত খাতাগুলোর মালিক শনাক্ত করা যায়নি। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে এবং শিক্ষা অফিসসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে।

মারিয়া রহমান মে ১৪, ২০২৬
Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

সপ্তাহের সেরা

ছবি: সংগৃহীত
জাতীয়

১ আগস্টের মধ্যে খুলছে জুলাই স্মৃতি জাদুঘর: সংস্কৃতিমন্ত্রী

মোঃ নাহিদ হোসেন মে ১৩, ২০২৬