নির্দিষ্ট সময়ে স্কুলে যাওয়া, পড়ালেখা, আর বাসায় ফেরা প্রতিদিনের রুটিন ছিল ১০ বছরের আবিদুর রহিম আবিদের। হঠাৎ এক বিপর্যয় যে তার শরীর ও মনে ক্ষত তৈরি করে দিল, তা ঠিক হল না বছর ঘুরেও। ছোট্ট শরীর পোড়ার অসহ্য যন্ত্রণা নিয়ে টানা ছয় মাস হাসপাতালের বিছানায় কেটেছে উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের এ শিক্ষার্থীর। ছোট-বড় মিলিয়ে ৩৬টি অস্ত্রোপচার আর ১৮ ব্যাগ রক্ত লেগেছে। তার ঝলসানো হাত-পা আর মুখ এখনো মাইলস্টোন ট্র্যাজেডির চিহ্ন বহন করছে, যে দুর্ঘটনায় প্রাণ গেছে স্কুলটির ২৮ শিক্ষার্থীসহ ৩৬ জনের। উত্তরার ওই স্কুলটিতে বিমান আছড়ে পড়ার ঘটনার বছর ঘুরেছে, আবিদের বয়সও বেড়ে এখন ১১। তবে এখনো সে স্কুলে ফিরতে পারেনি। শিক্ষকরা অনলাইনে পড়ালেখার বিষয়বস্তু দিয়ে দিচ্ছেন, বাসাতে শিক্ষকের কাছেও পড়তে হচ্ছে। এভাবেই চলছে দিন। ছোট্ট আবিদের কথায়, “যখন স্কুলে যাইতাম, পড়তাম, সারা দিন একটা ডেইলি রুটিন ছিল। এখন ওরকম কোনো রুটিন নাই। একটু ব্যায়াম করলাম, এটা-সেটা করলাম। “স্কুলে গেলে একটা সময় কেটে যাইত। হাসলাম, পড়লাম, এখন কী করতেছি না করতেছি, কোনো ঠিকঠিকানা নাই।” বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের সঙ্গে আলাপে এসব কথা বলতে গিয়েই কেঁদে ফেলে আবিদ। স্কুলে বিমান বিধ্বস্তের মুহূর্তে কী হয়েছিল, এখনো তার স্পষ্ট মনে আছে। উড়োজাহাজ উড়ে যাওয়ার শব্দেও কিছুদিন আঁতকে উঠত সে। তবে এখন সেই ভয় কেটেছে। এখনো ফলোআপ চিকিৎসা নিতে হচ্ছে নিয়মিত। তা যে কবে শেষ হবে, জানে না আবিদের পরিবার। ২০২৫ সালের ২১ জুলাই ঢাকার দিয়াবাড়িতে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভেতরে বিধ্বস্ত হয় বিমান বাহিনীর একটি যুদ্ধ বিমান। ওই ঘটনায় শিক্ষক-শিক্ষার্থী আর কর্মচারী ও পরিচালকসহ ৩৬ জনের প্রাণ যায়। আহত হন দেড় শতাধিক। ওই ঘটনার পর বছর ঘুরেছে। এখনো আবিদের পরিবারের মত হতাহতদের পরিবার সেই শোক আর স্মৃতি সামলে উঠতে পারেনি। স্কুল বাদ দিয়ে শিক্ষার্থীদের এখনো ছুটতে হচ্ছে হাসপাতালে। ‘টিফিন খাওয়ার সময় বিকট শব্দ, এরপর চারপাশ অন্ধকার’ দুর্ঘটনার দিন কী হয়েছিল, সেই স্মৃতি ভোলেনি আবিদ। তার কথায়, “দুপুরে টিফিন খেতে খেতে হঠাৎই বিকট শব্দ, চারপাশ অন্ধকার হয়ে গেল। আমি দেখলাম সবাই পেছনের দিকে চলে গেছে। আমিও যেতে গেলাম, তখন দেখি আমার একটা ফ্রেন্ড, ও বাইরে পানি ভরতে গিয়েছিল। ক্র্যাশটা হয় তখনই। “ও বাইরে থেকে ভেতরে আসে, দেখি ওর গায়ে আগুন। আমার পানির পটে একটু পানি ছিল, ওইটা ওর গায়ে ঢেলে দেই। ঢালার পরও ও বলতেছিল, ‘আমাকে বাঁচাও, আমাকে বাঁচাও’। আবিদের গায়ে তখনো আগুন লাগেনি, তবে উত্তাপে শরীর ঝলসে গেছে। আবিদ বলে, “কিছুক্ষণ পর আগুনটা একটু নিভানো হয়, কিন্তু পুরো অন্ধকার, একবার ধোঁয়ায় কালো কিটকিটে অন্ধকার হয়ে গেছে। তারপর একটা ভাইয়া টর্চ নিয়ে আসে, বলে ‘আমাকে ফলো করো’। একটা গেইট ছিল, এক দিকে সিঁড়ি ছিল না, উঁচু জায়গা থেকে ঝাঁপ দিয়েছি।” এরপর স্কুলের ক্লিনিক হয়ে স্থানীয় একটা হাসপাতালে, সেখান থেকে অ্যাম্বুলেন্সে করে বার্ন হাসপাতালে। এরপর ছয় মাস আবিদের দিন কেটেছে এমারজেন্সি, এইচডিইউ, আইসিইউ, আবার এইচডিইউ, তারপর কেবিন। ‘বাসায় ফেরার পর আসল লড়াই’ আবিদের বাবা মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ বলেন, “অ্যাক্সিডেন্ট হওয়ার পরে আবিদ সবচেয়ে বেশি সময় হাসপাতালে ছিল ৬ মাসের বেশি, ১৮৩ দিন। এই ৬ মাসের মধ্যে ওর ৩৬টা অপারেশন হয়েছে। ১৮ ব্যাগ রক্ত দেওয়া হয়েছে। রিলিজের সময়েও ওর হাতে-পায়ে সব জায়গায় ঘা ছিল। “ছয় মাস পর যখন বাসায় ফেরে আবিদ, তখনই আমাদের আসল লড়াই শুরু হয়। সরকারের পক্ষ থেকে বা স্কুলের পক্ষ থেকে থেরাপি বিভিন্ন জায়গায় ২ মাস, ৪ মাস পর্যন্ত ফ্রি ছিল। কিন্তু ও যখন ঘা নিয়ে হাসপাতালে, সেই ফ্রি সময়টা তখনই পার হয়ে যায়। পরে ওকে থেরাপি দেওয়ার প্রয়োজন হলে সিআরপিতে, উত্তরায় যেসব জায়গায় ফ্রি ছিল, সেই ব্যবস্থা আমি পাইনি। যার পরিপ্রেক্ষিতে ওকে বাসায় থেরাপি দিতে হয়েছে। বেশ কয়েক লাখ টাকা এর পেছনে গেছে।” এক বছর পরও আবিদের বাম হাত অচল। মুষ্টি করতে পারে না। আবিদের বাবা বলেন, “শেষ ২১ দিন ভর্তি ছিলাম যে বাম হাতটা সার্জারি করবে। কিন্তু শেষ মুহূর্তে সার্জারির সিদ্ধান্তটা হয়নি। এখন ওয়াক্স থেরাপি, অকুপেশনাল থেরাপি বিভিন্ন থেরাপিতে ওকে রাখতে হয় সবসময়। ডাক্তাররা বলছেন এই থেরাপিতে যদি ৮০-৯০% ভালো হয়, তাহলে সার্জারিতে যাবে না।” আজাদ বলেন, “মুখে-হাতে থেকে যাওয়া দাগ নিয়ে এত টেনশন করি না, কিন্তু অন্তত বাম হাতটা তো কাজ করতে হবে। বাম হাতটা যদি কাজ না করে তাহলে তো পঙ্গুর মত হয়ে থাকবে।” রোদে গেলে পোড়া জায়গায় সমস্যা হয় বলে আবিদকে নিয়মিত স্কুলে পাঠানো হয় না। শিক্ষকরা হোয়াটসঅ্যাপে পড়া পাঠান, বাসায় প্রাইভেট শিক্ষক পড়ান। “শিক্ষকদের পক্ষ থেকে বেশ সহযোগিতা আছে, প্রথমদিকে অনেক শিক্ষক আসতেন, দেখা করতেন। প্রথমদিকে কিছু সহপাঠীও আসত। কিন্তু এই শেষ পর্যায়ে এসে তেমন কেউ খোঁজ রাখে না। তারপরও স্কুলে ফেরার আগ্রহ আবিদের কমেনি। শিক্ষকরা স্কুলের পড়া অনলাইনে পাঠিয়ে দেন, আমরা সেভাবেই আবিদকে পড়াচ্ছি,” বলেন আবিদের বাবা। ‘প্রয়োজন পুনর্বাসন ও ফ্রি চিকিৎসা’ দুর্ঘটনার পর সরকারের পক্ষ থেকে ৫ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে চাইলেও তা নেয়নি আবিদের পরিবার। তার বাবা বলেন, “স্কুল থেকে ডেকেছিল যে টাকাটা দেওয়া হবে, কনফার্ম করতে হবে, নাহলে রিটার্ন যাবে। আমাদের ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সবার পক্ষ থেকে এটা গ্রহণ করা হয়নি। কারণ ওদের ক্ষতির তুলনায় এটা সামান্যই সামান্য। এই ৫ লাখ টাকা হয়ত ওর কয়েকদিনের চিকিৎসার খরচ। “একটা স্বাভাবিক ছেলে যেভাবে স্কুলে যায়, ওরা তো রোদের মধ্যে যেতে পারবে না কত বছর এটা ডাক্তাররাও বলতে পারবেন না। স্বাভাবিক চলাফেরা ওদের জন্য নিষেধ। একজন স্বাভাবিক ছেলের সঙ্গে ওরা পেরে উঠতে পারবে না।” তিনি বলেন, “এই কারণেই সরকারের কাছে আমাদের দাবি, চিকিৎসার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থান ও পুনর্বাসনের নিশ্চয়তা। আজীবন চিকিৎসার জন্য সরকারি স্বাস্থ্য কার্ড। “ওদের যার যার যোগ্যতা অনুযায়ী সরকারের পক্ষ থেকে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা উচিত। কিন্তু এই বিষয়ে এখনো আমরা কোনো সাড়া পাইনি। এই ঘটনায় স্কুল, বিমানবাহিনী ও সরকার কারো দায় এড়ানোর সুযোগ নেই।”
গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) লস্ট অ্যান্ড আইডেন্টিফিকেশন সেলের (এলআইসি) উদ্যোগে হারিয়ে যাওয়া ও চুরি হওয়া ৫৪টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে। পরে উদ্ধার করা মোবাইল ফোনগুলো প্রকৃত মালিকদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। রোববার (২০ জুলাই ২০২৬) গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ সদর দপ্তরের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে মোবাইল ফোনগুলো সংশ্লিষ্ট মালিকদের হাতে তুলে দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন এবং উপ-পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম-উত্তর) এস এম শফিকুল ইসলাম। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, জিএমপির পুলিশ কমিশনার মো. ইসরাইল হাওলাদারের দিকনির্দেশনায় এলআইসি শাখা তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় বিভিন্ন সময় হারিয়ে যাওয়া ও চুরি হওয়া মোবাইল ফোনের অবস্থান শনাক্ত করে। এরই ধারাবাহিকতায় ৫৪টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা সম্ভব হয়। মোবাইল ফোন ফিরে পেয়ে অনেকেই আনন্দ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তারা জানান, হারিয়ে যাওয়া মোবাইল ফোন ফিরে পাবেন, এমন আশা করেননি। জিএমপির এ ধরনের উদ্যোগ সাধারণ মানুষের মধ্যে পুলিশের প্রতি আস্থা ও বিশ্বাস আরও বাড়াবে বলে তারা মনে করেন। জিএমপি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জনগণের সেবায় এ ধরনের কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। হারানো বা চুরি হওয়া মোবাইল ফোন উদ্ধারে প্রযুক্তিনির্ভর কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে।
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিল সমর্থকদের মধ্যে দফায় দফায় হামলা, বাড়িঘর ভাঙচুর ও বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের নারী-পুরুষসহ অন্তত ৮ জন আহত হয়েছেন। সোমবার (২০ জুলাই) রাত ১০টায় ফতুল্লার হাজীগঞ্জ ঈদগাহ সড়কে এ ঘটনা ঘটে। আহতদের নাম-পরিচয় তাৎক্ষনিক পাওয়া যায়নি। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হাজীগঞ্জ ঈদগাহ সড়ক এলাকার বাসিন্দা ফারুক মিয়ার ছেলে অপূর্ব ব্রাজিল সমর্থক। তার সঙ্গে ওই এলাকার আরও অর্ধশত ব্রাজিল সমর্থক রয়েছে। একই এলাকার জাহাঙ্গীর মিয়ার ছেলে হাবিব (২০) আর্জেন্টিনার সমর্থক। তার সঙ্গেও প্রায় অর্ধশত আর্জেন্টিনার সমর্থক রয়েছে। ব্রাজিল হেরে যাওয়ার রাতে আর্জেন্টিনার সমর্থক হাবিব ও তার সঙ্গের লোকজন আনন্দ-উল্লাস করেন। এতে ব্রাজিলের সমর্থক অপূর্ব ও তার লোকজন বিষয়টি মনে রাখেন। সোমবার ফাইনালে আর্জেন্টিনা হেরে যাওয়ায় অপূর্ব ও তার লোকজনও আনন্দ উল্লাস করেন। এতে হাবিব ও তার লোকজন ক্ষিপ্ত হয়ে ব্রাজিল সমর্থকদের ধাওয়া দেয়। এরপর ব্রাজিল সমর্থকরা দলবল বাড়িয়ে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের বাড়িঘর ভাঙচুর করে ব্যাপক লুটপাট চালায় এবং নারীসহ কয়েকজনকে মারধর করে। এরপর চলে যাওয়ার সময় কয়েকটি হাত বোমার বিস্ফোরণও ঘটায়। তখন আর্জেন্টিনার সমর্থকদের সঙ্গে এলাকাবাসী যোগ দিয়ে ব্রাজিলের বেশ কয়জন সমর্থককে মারধর করেন। ফতুল্লা মডেল থানার ওসি মাহবুব আলম জানান, বিশ্বকাপ খেলা নিয়ে যারা সংঘর্ষে জড়িয়েছে তারা সবাই কিশোর। খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি এবং উভয় গ্রুপের লোকজনকে গ্রেফতারের চেষ্টা করেছি। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে উভয় গ্রুপের লোকজন পালিয়েছে।
ফুটপাথে পানি বিক্রি করে বাবাকে পবিত্র হজে পাঠানোর স্বপ্ন দেখা সংগ্রামী কিশোর সুজনের পাশে দাঁড়িয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সুজনের স্বপ্নপূরণ ও সুন্দর ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হককে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় সোমবার রাজধানীর জিয়া উদ্যানে সুজনের হাতে আর্থিক অনুদান তুলে দেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গণমাধ্যমে সুজনের পানি বিক্রির একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। একটি বেসরকারি টিভিতে প্রচারিত ওই ভিডিওতে সুজন পানি বিক্রি করে উপার্জিত অর্থ দিয়ে বাবাকে পবিত্র হজে পাঠানোর ইচ্ছা প্রকাশ করে। বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর নজরে এলে তিনি সুজনের পাশে দাঁড়ানোর নির্দেশনা দেন। অনুদান হস্তান্তরের সময় প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক সুজনকে ঝুঁকিপূর্ণ বা কায়িক শ্রমে না পাঠিয়ে নিয়মিত বিদ্যালয়ে পাঠানোর জন্য পরিবারের প্রতি অনুরোধ জানান। একই সঙ্গে সুজনের পড়াশোনার সব খরচ বহনের ঘোষণা দেন তিনি। প্রতিমন্ত্রীর আশ্বাসের পর সুজনের বাবা আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, তাঁর ছেলেকে আর রাস্তায় পানি বিক্রি করতে দেবেন না এবং দ্রুত বিদ্যালয়ে ভর্তি করাবেন। আমিনুল হক বলেন, প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত সংবেদনশীল একজন মানুষ। গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উঠে আসা মানবিক বিষয়গুলো তাঁর নজর এড়ায় না। সমাজের প্রান্তিক মানুষের বিষয়ে জানতে পারলে তিনি দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, ‘সুজন পানি বিক্রি করে তার বাবাকে হজে পাঠাতে চায়—এটি অত্যন্ত মহৎ একটি নিয়ত। তবে আমরা চাই, সে ফুটপাথে পানি বিক্রি না করে ভালোভাবে পড়াশোনা করে বড় হোক। নিজের যোগ্যতায় উপার্জন করে একদিন সে তার বাবা-মায়ের স্বপ্ন পূরণ করবে।’ প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, সুজনের অসুস্থ মায়ের চিকিৎসা এবং পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম বাবার কষ্টের বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। এখন থেকে সুজনকে আর রাস্তায় নামতে হবে না। তার পড়াশোনা ও পরিবারের সুন্দরভাবে চলার জন্য প্রতি মাসে নির্দিষ্ট অঙ্কের আর্থিক সহায়তা সুজনের বাবার কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সুজন পড়াশোনা করে মানুষের মতো মানুষ হয়ে একদিন তার লালিত স্বপ্ন পূরণ করবে।
চট্টগ্রাম নগরের যানজটের অন্যতম কারণ হিসেবে বেসরকারি হাসপাতালগুলোর অপর্যাপ্ত পার্কিং ব্যবস্থাকে চিহ্নিত করেছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)। অনুমোদিত নকশা ও ইমারত নির্মাণ বিধিমালা অনুযায়ী পর্যাপ্ত পার্কিং ব্যবস্থা না থাকলে সংশ্লিষ্ট হাসপাতালের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সিডিএ চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন। সোমবার (২০ জুলাই) নগরের কয়েকটি বেসরকারি হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি। সকালে সিডিএর একটি উচ্চপর্যায়ের দল নগরের মেট্রোপলিটন হাসপাতাল, রয়েল হাসপাতাল, মেডিকেল সেন্টার ও সিএসসিআর হাসপাতালসহ কয়েকটি বেসরকারি হাসপাতাল পরিদর্শন করে। এ সময় সিডিএর প্রধান প্রকৌশলী আহমেদ আনোয়ারুল নজরুল, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. সেলিম, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের প্রকল্প পরিচালক মাহফুজুর রহমান, অথরাইজড অফিসার-১ কাজী কাদের নেওয়াজ এবং অথরাইজড অফিসার-২ মো. তানজীব হোসেন উপস্থিত ছিলেন। পরিদর্শন শেষে সিডিএ চেয়ারম্যান বেলায়েত হোসেন বলেন, ‘নগরের যানজটের অন্যতম কারণ বেসরকারি হাসপাতালগুলোর অপর্যাপ্ত পার্কিং ব্যবস্থা। অনেক হাসপাতাল ভবন নির্মাণের সময় অনুমোদিত নকশা ও ইমারত নির্মাণ বিধিমালা অনুসরণ করেনি। ফলে রোগী ও স্বজনদের গাড়ি সড়কের ওপর রাখতে হচ্ছে। এতে যানজটের পাশাপাশি জনদুর্ভোগও বাড়ছে।’ তিনি বলেন, ‘মেট্রোপলিটন হাসপাতালের পার্কিং ব্যবস্থা তুলনামূলকভাবে ভালো হলেও হাসপাতালের প্রয়োজনের তুলনায় তা পর্যাপ্ত নয়। অন্যদিকে সিএসসিআর হাসপাতাল, মেডিকেল সেন্টার ও রয়েল হাসপাতালের পার্কিং ব্যবস্থা সন্তোষজনক নয়। এসব প্রতিষ্ঠানকে অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী দ্রুত পর্যাপ্ত পার্কিং সুবিধা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’ সিডিএ চেয়ারম্যান বলেন, ‘অনেক বেসরকারি হাসপাতাল পর্যাপ্ত পার্কিং ব্যবস্থা ছাড়াই বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। আংশিক পার্কিং ব্যবস্থা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। হাসপাতালের আয়তন ও রোগীর চাপ বিবেচনায় নিয়ে পর্যাপ্ত ও স্থায়ী পার্কিং ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ নগরের যানজট নিরসনে সিডিএ, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন, চট্টগ্রাম ওয়াসা ও চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) সমন্বিতভাবে কাজ করছে। নগরবাসীর দুর্ভোগ কমাতে এ বিষয়ে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না বলে জানান সিডিএ চেয়ারম্যান।
গণশুনানির মাধ্যমে বগুড়ার শিবগঞ্জ ও মোকামতলা উপজেলার আলোচিত সেই তিন ইউনিয়নের নতুন নামকরণ করা হয়েছে। রোববার জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমান নতুন নাম ঘোষণা করেন। এর মধ্যে শিবগঞ্জ উপজেলার মীরবাড়ি ইউনিয়নকে বেতগাড়ী ইউনিয়ন; মোকামতলা উপজেলার সীমান্ত ইউনিয়নের পরিবর্তে জগন্নাথপুর ইউনিয়ন এবং দিগন্ত ইউনিয়নের নতুন নাম রহবল ইউনিয়ন করা হয়েছে। জেলা প্রশাসক বলেন, প্রশাসনের সমন্বয় সভায় তিনটি ইউনিয়নের নতুন নাম অনুমোদন করা হয়েছে। এখন প্রস্তাবটি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের পর নতুন নামগুলো গেজেট আকারে প্রকাশ করা হবে। এর আগে ১৪ জুন জারি করা সরকারি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে শিবগঞ্জ ও মোকামতলা উপজেলায় তিনটি নতুন ইউনিয়ন গঠন করা হয়। এগুলোর নাম রাখা হয় মীরবাড়ি ইউনিয়ন, সীমান্ত ইউনিয়ন ও দিগন্ত ইউনিয়ন। এর মধ্যে ‘মীরবাড়ি’ নামটি বগুড়া-২ আসনের সংসদ সদস্য ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের পৈতৃক বাড়ির নাম। অন্যদিকে সীমান্ত ইউনিয়ন ও দিগন্ত ইউনিয়ন প্রতিমন্ত্রীর দুই ছেলে মীর শাকরুল আলম সীমান্ত ও মীর সাকলাইন আলম দিগন্তের নামের সঙ্গে মিলে যায়। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। বিষয়টি জাতীয় সংসদ পর্যন্ত গড়ায়। দুই নতুন ইউনিয়নের নামের সঙ্গে এ নিয়ে মিল থাকায় সংসদে প্রশ্ন তোলেন বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মো. শফিকুল ইসলাম। সেদিন প্রতিমন্ত্রী ইউনিয়ন করার ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, তার নির্বাচনি এলাকা বগুড়ার মোকামতলা উপজেলার সৈয়দপুর ও দেউলী ইউনিয়ন দুটি আয়তনে অনেক বড় ছিল। “স্থানীয় প্রশাসন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং জেলা প্রশাসক যাচাই-বাছাই করে, গণশুনানি করে সৈয়দপুর ইউনিয়নটি যেহেতু গাবতলী ও সোনাতলা উপজেলা সীমান্তে, সে কারণে সীমান্তবর্তী হওয়ায় নতুন ইউনিয়নের নাম করেছে ‘সীমান্ত ইউনিয়ন’।” দেউলী ইউনিয়নের নামকরণের বিষয়ে তিনি বলেন, “এটি গাইবান্ধার একদম কাছে এবং অনেক দূরবর্তী হওয়ায় স্থানীয় প্রশাসন ও জনগণের শুনানির ভিত্তিতে সেই ইউনিয়নের নাম রাখা হয়েছে ‘দিগন্ত ইউনিয়ন’।” শাহে আলম বলেন, “মিরাকল হচ্ছে, আমার সন্তানদের নামের সঙ্গে মিলে গেছে ঠিকই। কিন্তু আমার সন্তানদের নাম হচ্ছে মীর সীমান্ত, মীর দিগন্ত।” বিষয়টি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার মধ্যেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নাম পরিবর্তনের জন্য জেলা প্রশাসনকে নির্দেশ দেন। তারপর ২৩ ও ২৫ জুন দুই দফায় গণশুনানি করে জেলা প্রশাসন।
পুলিশের ইউনিফর্ম পরে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার অভিযোগে ট্যুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি মো. মনিরুজ্জামানকে বাধ্যতামূলক অবসর দিয়েছে সরকার। সোমবার (২০ জুলাই) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ২০২৪ সালের ২৯ এপ্রিল ঝিনাইদহ-১ আসনের উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী তার ভাইয়ের সঙ্গে ধানমন্ডিতে দলীয় কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় তিনি পুলিশের ইউনিফর্ম পরিহিত অবস্থায় উপস্থিত ছিলেন। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে শিষ্টাচারবহির্ভূত আচরণ, নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা এবং পুলিশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অভিযোগে বিভাগীয় মামলা করা হয়। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় এবং বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) সম্মতির ভিত্তিতে রাষ্ট্রপতির অনুমোদনক্রমে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা অনুযায়ী তাকে ‘বাধ্যতামূলক অবসর’ দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ২০২৪ সালের ১১ আগস্ট তিনি স্বেচ্ছায় অবসরের আবেদন করেন।
ঢাকা মহানগরে শব্দদূষণ কমাতে নীরব (সাইলেন্ট) এলাকায় অপ্রয়োজনীয় হর্ন বাজানো নিরুৎসাহিত করতে সংশ্লিষ্ট ট্রাফিক কর্মকর্তাদের নতুন নির্দেশনা দিয়েছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ। এ লক্ষ্যে নীরব এলাকায় স্পষ্ট সাইনবোর্ড স্থাপন, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং সমন্বিত ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার ওপর জোর দিয়েছেন তিনি। রোববার (১৯ জুলাই) রাজধানীর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাকে আরও কার্যকর, আধুনিক ও নাগরিকবান্ধব করতে ডিএমপি হেডকোয়ার্টার্সে ট্রাফিক বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন তিনি। এ সভায় এসব নির্দেশনা দেন ডিএমপি কমিশনার। সভায় ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন, যানজট নিরসন, সড়কে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা, ট্রাফিক আইন বাস্তবায়ন, প্রযুক্তিনির্ভর কার্যক্রম সম্প্রসারণ এবং জনসেবার মানোন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালনকালে বিভিন্ন সমস্যা, চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাব্য সমাধানের বিষয়ও তুলে ধরেন ট্রাফিক বিভাগের কর্মকর্তারা। তাদের বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শোনার পর ডিএমপি কমিশনার কার্যকর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে নগরবাসীকে আরও উন্নত, মানসম্মত ও জনবান্ধব ট্রাফিকসেবা দিতে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ বলেন, শব্দদূষণ শুধু পরিবেশের জন্য নয়, জনস্বাস্থ্যের জন্যও একটি গুরুতর হুমকি। তাই নীরব এলাকায় সুস্পষ্ট সাইনবোর্ড স্থাপন এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে অপ্রয়োজনীয় হর্ন বাজানো নিরুৎসাহিত করতে হবে। সভায় ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মো. আনিছুর রহমানসহ ট্রাফিক বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
গ্যাস লাইন প্রতিস্থাপন কাজের জন্য আগামীকাল রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকবে। সোমবার (২০ জুলাই) এক বার্তায় তিতাস গ্যাস জানায়, ফ্রি স্কুল স্ট্রিট, হাতিরপুল, পুকুরপাড়, ধানমন্ডি, ঢাকা এলাকায় লিকেজযুক্ত পুরাতন বিতরণ লাইন পরিবর্তন ও সার্ভিস লাইন প্রতিস্থাপন কাজের জন্য মঙ্গলবার দুপুর ১২টা থেকে রাত ৮টা ঘটিকা পর্যন্ত মোট ৮ ঘণ্টা ফ্রি স্কুল স্ট্রিট, ভূতের গলি, কিচেন রোড, আল আমিন রোড, কাঁঠালবাগান এলাকায় বিদ্যমান আবাসিক ও বাণিজ্যিক শ্রেণির গ্রাহকের গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকবে। এছাড়া আশপাশের এলাকায় গ্যাসের স্বল্পচাপ বিরাজ করতে পারে। গ্রাহকবৃন্দের সাময়িক অসুবিধার জন্য তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ আন্তরিকভাবে দুঃখিত।
দ্বিতীয় বিবাহবার্ষিকীর আনন্দ তখনো শেষ হয়নি। স্ত্রী নিঝুম ইমাকে (২২) নিয়ে নতুন স্বপ্ন বুনছিলেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্য মো. সাকিব ইমন (২৬)। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস সেই আনন্দের মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সড়ক দুর্ঘটনায় ঝরে গেল একটি তাজা প্রাণ। মুহূর্তেই উৎসবের হাসি পরিণত হলো আজীবনের কান্নায়। রোববার (১৯ জুলাই) রাতে কক্সবাজারের ঝিলংজা দরগাপাড়া স্টেশনের পূর্ব পাশে ট্রেনিং পয়েন্ট এলাকায় মোটরসাইকেলে যাওয়ার সময় একটি ট্রাকের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। রাত সাড়ে ১১টার দিকে সংঘটিত এ দুর্ঘটনায় তিনি গুরুতর আহত হন। স্থানীয় লোকজন দ্রুত তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত বলে ঘোষণা করেন। এর কয়েক ঘণ্টা আগেই স্ত্রীকে নিয়ে দ্বিতীয় বিবাহবার্ষিকী উদযাপন করেছিলেন ইমন। কে জানত, সেটিই হবে তাদের একসঙ্গে কাটানো শেষ আনন্দের দিন! নিহত সেনাসদস্য মো. সাকিব ইমন বাগেরহাট সদর উপজেলার বেমরতা ইউনিয়নের শহরতলীর চরগ্রামের সাবেক সেনা সদস্য কবির ডাকুয়ার একমাত্র পুত্র। মাত্র দুই বছর আগে তার বিয়ে হয়েছিল। তাদের কোনো সন্তান নেই। ইমনকে হারিয়ে তার মা-বাবা এখন শোকে বাকরুদ্ধ। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পুরো বাড়ির পরিবেশ। যে সন্তানকে ঘিরে ছিল তাদের জীবনের সব আশা-ভরসা, সেই সন্তান আজ চিরবিদায় নিয়েছেন। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে সোমবার (২০ জুলাই) পরিবারের কাছে মৃত্যুর সংবাদ আসে। জানা গেছে, ময়নাতদন্ত শেষে ক্যান্টনমেন্টে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় জানাজা সম্পন্ন করে আজ হেলিকপ্টারযোগে মরদেহ বাগেরহাটে পাঠানো হবে।
কক্সবাজারের টেকনাফ উপকূলে আরও এক অজ্ঞাত যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ নিয়ে গত ১২ দিনের ব্যবধানে টেকনাফ উপকূলের বিভিন্ন স্থান থেকে মোট পাঁচটি মরদেহ উদ্ধার করা হলো। ধারাবাহিকভাবে মরদেহ ভেসে আসার ঘটনায় সমুদ্রপথে মানবপাচার কিংবা মালয়েশিয়াগামী ট্রলারডুবির ঘটনার সঙ্গে যোগসূত্র থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। রোববার (১৯ জুলাই) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে শাহপরীর দ্বীপ জেটিঘাটসংলগ্ন বিজিবি বিওপির সামনে নাফ নদীর তীর থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। সাবরাং ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান জানান, স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে নিহত ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। শাহপরীর দ্বীপ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই সনজীব জানান, দীর্ঘ সময় পানিতে থাকায় মরদেহটির চেহারা বিকৃত হয়ে গেছে। মৃত ব্যক্তির পরনে গাঢ় নীল রঙের হাফ প্যান্ট ও হালকা সবুজ রঙের জার্সি ছিল। মুখে হালকা দাড়ি-গোঁফ রয়েছে এবং বয়স আনুমানিক ৩০ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে হতে পারে। প্রাথমিকভাবে শরীরে কোনো দৃশ্যমান আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। টেকনাফ নৌ পুলিশের এসআই সুমন চন্দ্র নাথ বলেন, মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হচ্ছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে। তিনি জানান, মৃত ব্যক্তি বাংলাদেশি নাকি রোহিঙ্গা—তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পরিচয় শনাক্তে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এদিকে সম্প্রতি জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) ও শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) জানিয়েছে, মালয়েশিয়াগামী দুটি নৌকা বঙ্গোপসাগরে ডুবে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, জুনের শেষ দিকে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে যাত্রা শুরু করা দুটি নৌকায় মোট পাঁচ শতাধিক যাত্রী ছিলেন, যাদের বেশির ভাগই রোহিঙ্গা। তাদের মধ্যে কিছু বাংলাদেশে অবস্থানরত শরণার্থী শিবির থেকেও যাত্রা করেছিলেন। এর আগে ৮ জুলাই টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ, সেন্ট মার্টিন ও রাজারছড়া সৈকত থেকে তিন অজ্ঞাত নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে ১০ জুলাই শাহপরীর দ্বীপসংলগ্ন সৈকত থেকে একটি মানবকঙ্কাল উদ্ধার করে পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া মরদেহগুলোর সঙ্গে সাম্প্রতিক ট্রলারডুবির কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার আগে বলা সম্ভব নয়। স্থানীয়দের মতে, কয়েক দিনের বৈরী আবহাওয়া ও উত্তাল বঙ্গোপসাগরের কারণে নাফ নদী ও উপকূলীয় এলাকায় আরও মরদেহ ভেসে আসার আশঙ্কা রয়েছে।
বিশ্বকাপ ফুটবলের ফাইনালকে ঘিরে রাজধানী ঢাকায় তৈরি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ। ফুটবলপ্রেমীদের জন্য বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, উন্মুক্ত মাঠ, পার্ক, হোটেল ও কনভেনশন সেন্টারে বড় পর্দায় আর্জেন্টিনা-স্পেনের শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচ দেখার আয়োজন করা হয়েছে। রবিবার (১৯ জুলাই) দিবাগত রাত ১টায় যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে বহুল প্রতীক্ষিত এই ফাইনাল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় সবচেয়ে বড় আয়োজন করেছে কোকা-কোলা বাংলাদেশ। তাদের সহযোগিতায় টিএসসিতে হাজারো দর্শকের জন্য বড় পর্দায় খেলা দেখানো হবে। এছাড়া হাজী মুহম্মদ মহসীন হলে বিশেষ ওয়াচ পার্টির আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন জাতীয় ফুটবল দলের অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া ও জাতীয় দলের ফুটবলার শেখ মোরসালিন। একই সঙ্গে জগন্নাথ হল ও হলপাড়া এলাকাতেও থাকবে বড় পর্দার ব্যবস্থা। মিরপুরের দর্শকদের জন্য মিরপুর সিটি ক্লাব মাঠ এবং মিরপুর ডিওএইচএস সেন্ট্রাল ফিল্ডে খেলা দেখার সুযোগ রাখা হয়েছে। বনানীর কামাল আতাতুর্ক পার্কেও থাকছে বিশেষ আয়োজন। ম্যাচ শুরুর আগে সেখানে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ফিফা বিশ্বকাপের অফিশিয়াল অ্যালবামের শিল্পী সঞ্জয় সংগীত পরিবেশন করবেন। এ ছাড়া মোহাম্মদপুরের তিন রাস্তার মোড়, ধানমন্ডির পুরাতন ১৯ নম্বর সড়ক এবং পশ্চিম রামপুরার ওমর আলী লাইসিয়াম গ্রামার স্কুলের সামনেও বড় পর্দায় ম্যাচ উপভোগ করতে পারবেন দর্শকরা। তবে ধানমন্ডি ও রামপুরার এসব স্থানে বসার ব্যবস্থা থাকবে না। আরও আরামদায়ক পরিবেশে খেলা দেখতে চাইলে রাজধানীর কয়েকটি পাঁচতারকা হোটেলেও বিশেষ আয়োজন রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও ঢাকা, দ্য আলট্রাস ফেস্টিভ্যাল (গুলশান), লেকশোর গ্র্যান্ড, হোটেল আমারি ঢাকা, লে মেরিডিয়ান ঢাকা এবং ক্রাউন প্লাজা। এ ছাড়া এলিট কনভেনশন হল (গুলশান-১), আর্টিসান ওয়াচ পার্টি (তেজগাঁও) এবং আইসিসিএল কনভেনশন হল (মিরপুর টেকনিক্যাল মোড়ের পাশে) সহ কয়েকটি বাণিজ্যিক ভেন্যুতেও বড় পর্দায় ফাইনাল ম্যাচ দেখানো হবে। তবে এসব স্থানে প্রবেশের জন্য নির্ধারিত টিকিট বা ফি পরিশোধ করতে হবে। ফাইনাল উপলক্ষে দর্শকদের ব্যাপক সমাগমের সম্ভাবনা থাকায় আয়োজকরা ম্যাচ শুরুর অন্তত এক ঘণ্টা আগে ভেন্যুতে পৌঁছানোর পরামর্শ দিয়েছেন। পাশাপাশি গভীর রাতে যাতায়াতের সময় নিরাপত্তার বিষয়েও সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
ভোলার লালমোহন উপজেলায় অভিযান চালিয়ে এক মুদি দোকানির বসতঘরের খাটের নিচ থেকে ৩৩ বস্তা সরকারি চাল উদ্ধার করা হয়েছে। শনিবার (১৮ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ ও মৎস্য বিভাগের যৌথ অভিযানে উপজেলার ফরাজগঞ্জ ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সাতানি বাজার এলাকার মুদি দোকানি জসিমের বাড়ি থেকে এসব চাল উদ্ধার করা হয়। উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ জানায়, শনিবার বিকেল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান ব্যবসায়ী জসিমের বাড়িতে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযান চলাকালে জসিমের বসতঘরের খাটের নিচ থেকে ৩৩ বস্তা সরকারি চাল উদ্ধার করা হয়। এরমধ্যে ৩০ কেজির ২৪ বস্তা ও ৫০ কেজির ৯ বস্তা চাল রয়েছে। এবং জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ব্যবসায়ীর স্ত্রী রোকেয়া বেগমকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করে লালমোহন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সিফাত বিন সাদেক বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগ যৌথভাবে অভিযানটি পরিচালনা করেন। পরে মুদি ব্যবসায়ী মো. অভিযানে মুদি দোকানি জসিমের বসতঘরের খাটের নিচে লুকিয়ে রাখা ৩৩ বস্তা সরকারি চাল উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি বলেন, উদ্ধার হওয়া চাল মৎস্য বিভাগের হেফাজতে রয়েছে, নিয়ে বিষয়টি তদন্ত চলছে। এবং তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল বলেছেন, একাত্তরে একটি গোষ্ঠী আমাদের মা-বোনদের পাক হানাদার বাহিনীর হাতে তুলে দিয়েছে। বাংলাদেশকে মেধাশূন্য করার জন্য বুদ্ধিজীবীদের তুলে দিয়েছে হত্যার করার জন্য। সেই রাজাকারদের রাজনৈতিক গোষ্ঠীকে বর্জন করতে হবে। নয়তোবা এ বাংলাদেশ থাকবে না। তিনি বলেন, রাজাকার ও পাক হানাদারদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে আমরা দেশ স্বাধীন করেছি। বাংলাদেশের বিরুদ্ধে এখনো ষড়যন্ত্র হচ্ছে। তাই আজকের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের স্বাধীনতার সঠিক ইতিহাস তুলে ধরতে হবে। শনিবার (১৮ জুলাই) বিকেলে নরসিংদীর মনোহরদীর গাংকুলকান্দী ভূইয়া বাজার মাঠ সংলগ্ন মাঠে নব দিগন্ত ক্লাব আয়োজিত মেধা বৃত্তি প্রদান ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। নবদিগন্ত ক্লাবের চেয়ারম্যান প্রফেসর মোস্তাক আহমেদ ভূইয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন- মনোহরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এম এ মুহাইমিন আল জিহান, সহকারী কমিশনার ভূমি সজীব মিয়া, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হাসান মোহাম্মদ জুনায়েদ, মনোহরদী উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আমিনুর রহমান সরকার দোলন, সদস্য গোলাম মোস্তফা, উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব মাসুদুর রহমান সোহাগ, লেবুতলা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি জাকির হোসেন শাহীন মোড়ল, সাধারণ সম্পাদক দিদারুল ইসলাম ফরহাদ। অনুষ্ঠানে ৪০ জন শিক্ষার্থীদের মেধা বৃত্তির ক্রেস্ট ও নগদ অর্থ তোলে দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল।
কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার বড়শালঘর ইউনিয়নের বাসিন্দাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ। এ সময় স্থানীয় আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। সভায় আওয়ামী লীগ নেতারা উপস্থিত থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন দেবীদ্বার উপজেলা বিএনপি এবং অঙ্গ সংগঠন । শুক্রবার (১৭ জুলাই) দুপুরে উপজেলার সংচাইল এলাকায় অবস্থিত স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা ও বড়শালঘর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ্ব আউয়াল চেয়ারম্যানের প্রভাতী ফিসারিজ অফিস কক্ষে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সভায় বড়শালঘর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ্ব আউয়াল চেয়ারম্যান, সাধারণ সম্পাদক আহসানুর রশিদ শামীম, ছোটশালঘর আওয়ামী লীগের নেতা মো. শাজাহান মাস্টারসহ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন ওয়ার্ডের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় স্থানীয় জনগণের বিভিন্ন সমস্যা, অবকাঠামো উন্নয়ন, যোগাযোগ ব্যবস্থা ও জনসেবাসংক্রান্ত বিষয় নিয়ে উপস্থিত ব্যক্তিদের বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শোনেন এমপি হাসনাত আব্দুল্লাহ। তিনি আলোচনায় উত্থাপিত বিভিন্ন সমস্যার বিষয় নিজ হাতে একটি ডায়েরিতে নোট করে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেন। এদিকে, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত এ সভার খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় বিএনপি এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে বলে একাধিক স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় রাজনৈতিক মহলে নানা আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। দেবিদ্বার উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক জসিম উদদীন সরকার দৈনিক আমার দেশ কে বলেন, হাসনাত আব্দুল্লাহর কথার সাথে কাজের কোন মিল নেই । সে মাঠে বলে একরকম কাজ করে আর একরকম । সে কিভাবে আওয়ামী লীগের ইউনিয়ন সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক নিয়ে মিটিং করে । জনগণ তার এমন আচরণে ক্ষুব্ধ। এই বিষয়ে বড়শালঘর ইউনিয়নের আওয়ামীলীগ সভাপতি আউয়াল চেয়ারম্যানকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নিয়ে বৈঠক করেছেন এ বিষয়ে জানতে চাইলে কুমিল্লা -৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ কে হোয়াটসঅ্যাপে খোদে বার্তা পাঠিয়ে কোন উত্তর পাওয়া যায় নি এবং তিনি ফোন ধরেননি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, আমি রাষ্ট্রীয় কাজে বিদেশে থাকার কারণে বন্যার মূল সময়ে আপনাদের কাছে ছুটে আসতে পারিনি, সে জন্য আপনাদের কাছে ক্ষমা চাচ্ছি। পরে উপস্থিত জনতার উদ্দেশ্যে তিনি প্রশ্ন করেন, আপনারা নিশ্চয়ই আমাকে ক্ষমা করে দিয়েছেন? এ সময় তিনি জোর দিয়ে বলেন, বর্তমান সরকার সবসময় জনগণের পাশে রয়েছে এবং যে কোনো দুর্যোগে সাধারণ মানুষের সহায়তায় কাজ করে যাচ্ছে। শুক্রবার (১৭ জুলাই) বিকেলে কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার লক্ষ্যারচর এলাকায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) আয়োজিত বন্যাদুর্গতদের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠান শেষে তিনি এসব কথা বলেন। সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, মেজর মোজাফফর আহমদ শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত একজন পলাতক আসামি। তিনি এতদিন পলাতক ও আত্মগোপনে ছিলেন। তার হদিস পাওয়া মাত্রই আমাদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাকে গ্রেপ্তার করেছে। বর্তমানে তাকে সেনা হেফাজতে দেওয়া হয়েছে, যেন যে আইনি প্রক্রিয়ায় তাদের বিচার করা হয়েছিল- সে আইনেই তার বিচার সম্পন্ন করা যায়। বিষয়টি সেনাবাহিনী দেখছে। চকরিয়া উপজেলার ফাঁসিয়াখালী এলাকায় বন্যাদুর্গতদের মাঝে ত্রাণ বিতরণকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ আরও বলেন, বিএনপি হচ্ছে জনগণের সরকার এবং দলটি সবসময় জনগণের পাশে থাকবে। যেকোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় সরকারের সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে। বন্যাদুর্গত ও ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় বর্তমানে সরকারিভাবে জরিপ চলছে। এই জরিপের ভিত্তিতে দুর্গত মানুষের সহায়তায় সরকারি ও বেসরকারি সব ধরনের পুনর্বাসন উদ্যোগ অব্যাহত রাখা হবে। মন্ত্রী জানান, দেশের যেসব এলাকা বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, সেসব এলাকায় জরিপ কার্যক্রম শেষ হওয়ার পর ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বেড়িবাঁধসহ বিভিন্ন অবকাঠামো দ্রুত সংস্কার করা হবে। একইসঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পুনর্বাসনে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা দেওয়া হবে, যেন তারা দ্রুত স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যেতে পারেন। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, নারী সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শামিম আরা স্বপ্না, বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মো. আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী, বিজিবির কক্সবাজার রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আকসার খান, সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মো. মহিউদ্দিন আহমেদ, কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আব্দুল মান্নান, পুলিশ সুপার মো. সাজেদুর রহমান, জেলা পরিষদের প্রশাসক এটিএম নুরুল বশর চৌধুরী, চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. শাহিন দেলোয়ার, জেলা ও উপজেলা বিএনপির নেতারা এবং স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা।
‘এটা কোনো রাজনৈতিক মঞ্চ না, আপনার বহু আগে আমি ঢাকায় ছাত্রদল করে আসছি’ কুমিল্লায় জুলাই শহীদ দিবসের আলোচনা সভায় মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সভাপতির এক অভিযোগের জবাবে এভাবেই ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) মো. আনিসুজ্জামান। বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ওই আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন। সভায় কুমিল্লা মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ফখরুল ইসলাম মিঠু পুলিশ সুপারকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘আপনি কুমিল্লা আসার পরে ফ্যাসিস্টরা কুমিল্লায় চলে এসেছে। আপনি তাদের গ্রেপ্তার করছেন না।’ জবাবে পুলিশ সুপার আনিসুজ্জামান বলেন, রাজনৈতিক বক্তব্য দেওয়ার পরিবর্তে তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে কথা বলা উচিত। আপনি এভাবে কথা বলতে পারেন না। এটা কোনো রাজনৈতিক মঞ্চ নয়; কথা বললে তথ্য নিয়ে বলবেন। নিজের ছাত্রজীবনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ছাত্রদল আমি নিজেও করেছি। আপনার বহু আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদল করে এসেছি। পুলিশের বিরুদ্ধে ঢালাও অভিযোগ না তোলার আহ্বান জানিয়ে আনিসুজ্জামান বলেন, যাকে আপনার পছন্দ হয় না, তাকেই ফ্যাসিস্ট বানিয়ে দেন! মামলায় কাকে গ্রেপ্তার করব, সেটা আইন অনুযায়ী নির্ধারণ হবে। ওসি কাকে গ্রেপ্তার করবে, সে নির্দেশ আপনারা দিতে পারেন না। তিনি আরও বলেন, কথা বলার আগে চিন্তা করবেন। একটি বাহিনী সম্পর্কে মন্তব্য করার আগে বাস্তবতা জানা দরকার। ৫ আগস্টের পর এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল যখন কোথাও পুলিশ ছিল না। সেই নড়বড়ে অবস্থা থেকে পুলিশ আবার ঘুরে দাঁড়িয়েছে। ক্ষোভ প্রকাশ করে পুলিশ সুপার বলেন, গত ১৭ বছরে দেশের বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানকে দুর্বল করে দেওয়া হয়েছে। বর্তমান সরকারকে পুনর্গঠনের সময় দিতে হবে। একটি সরকারের বয়স মাত্র চার মাস। তাদের কাজ করার জন্য প্রয়োজনীয় সময় দিতে হবে। বিচারহীনতার অভিযোগের জবাবে তিনি বলেন, বিচার হয় না এ কথা মোটেই ঠিক নয়। বিভিন্ন আলোচিত মামলায় বিচারক রায় দিয়েছেন, অনেকের ফাঁসির আদেশ হয়েছে এবং অনেকের বিরুদ্ধে বিচার প্রক্রিয়া এখনো চলমান। আমি নিজেই অনেককে গ্রেপ্তার করেছি এবং চার্জশিট দিয়েছি।
আমাদের প্রতিদিনই বিভিন্ন প্রয়োজনে মার্কেটে যেতে হয়। তবে রাজধানী ঢাকায় একেক দিন একেক এলাকার মার্কেট ও দোকানপাট বন্ধ থাকে। আজ আপনি হয়তো প্রস্তুতি নিচ্ছেন আপনার পছন্দের কোনো মার্কেটে যাবেন। যদিও সেই মার্কেট খোলা আছে কি-না, তা হয়তো জানা নেই। আসুন জেনে নেয়া যাক শনিবার (১৮ জুলাই) রাজধানীর কোন কোন এলাকায় দোকানপাট, শপিংমল ও দর্শনীয় স্থান বন্ধ থাকে। বন্ধ থাকবে যে সব এলাকার দোকান শ্যামবাজার, বাংলাবাজার, চাঁনখারপুল, গুলিস্তানের দক্ষিণ অংশ, জুরাইন, করিমউল্লাহবাগ, ধোলাইখাল, জয়কালী মন্দির, যাত্রাবাড়ীর দক্ষিণ-পশ্চিম অংশ, টিপু সুলতান রোড, ধূপখোলা, গেন্ডারিয়া, নবাবপুর, সদরঘাট, তাঁতিবাজার, লক্ষ্মীবাজার, দয়াগঞ্জ, ওয়ারী, স্বামীবাগ, আহসান মঞ্জিল, লালবাগ, কোতোয়ালি থানা, পোস্তগোলা, শ্যামপুর, মীরহাজারীবাগ, দোলাইপাড়, বংশাল, পাটুয়াটুলী, ফরাশগঞ্জ, শাঁখারী বাজার। বন্ধ থাকবে যে সব মার্কেট ইসলামপুর কাপড়ের দোকান, ছোট কাটরা, বড় কাটরা হোলসেল মার্কেট, নয়াবাজার, গুলিস্তান হকার্স মার্কেট, সামাদ সুপার মার্কেট, রহমানিয়া সুপার মার্কেট, ইদ্রিস সুপার মার্কেট, দয়াগঞ্জ বাজার, ফরাশগঞ্জ টিম্বার মার্কেট, শ্যামবাজার পাইকারি দোকান, কাপ্তান বাজার, রাজধানী সুপার মার্কেট, দয়াগঞ্জ সিটি করপোরেশন মার্কেট, ধূপখোলা মাঠবাজার, চকবাজার, ফুলবাড়িয়া মার্কেট, সান্দ্রা সুপার মার্কেট, বাবুবাজার, শারিফ ম্যানসন ও আজিমপুর সুপার মার্কেট।
জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের বরিশাল বিভাগীয় সমাবেশ আজ। শনিবার (১৮ জুলাই) দুপুর ২টায় কেন্দ্রীয় হেমায়েত উদ্দিন ঈদগাহে অনুষ্ঠাতব্য এই সমাবেশে অংশ নেবেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। এছাড়াও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি), বাংলাদেশ খেলাফত মসজিল, আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি), বাংলাদেশ লেবার পার্টি, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জগপা) সহ ১১ দলীয় ঐক্যের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ অংশগ্রহণ করবেন। বিভাগীয় সমাবেশ সফল করতে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে সমাবেশ বাস্তবায়ন কমিটি। সমাবেশ স্থলে মঞ্চ তৈরির পাশাপাশি বরিশালজুড়ে পোস্টার, বিলবোর্ড লাগানো হয়েছে। দফায় দফায় বৈঠক করেছেন ১১ দলীয় ঐক্যের স্থানীয় নেতারা। জামায়াতে ইসলামীর বরিশাল অঞ্চল পরিচালক ও দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট মুয়ায্যম হোসাইন হেলাল জানিয়েছেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জনদুর্ভোগ নিরসন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ ও যোগাযোগ ব্যবস্থাসহ অবহেলিত দক্ষিণাঞ্চলের সার্বিক উন্নয়নের দাবিতে ১১ দলীয় ঐক্যের বরিশাল বিভাগীয় সমাবেশ আয়োজন করা হয়েছে। সমাবেশে প্রায় পাঁচ লাখ মানুষের সমাগমের প্রস্তুতি রয়েছে তাদের। দুপুর ২টায় কেন্দ্রীয় হেমায়েত উদ্দিন ঈদগাহে সমাবেশ শুরু হবে। তিনি জানান, বিভাগীয় সমাবেশে জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখবেন। সভাপতিত্ব করবেন কেন্দ্রীয় কমিটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট মুয়ায্যম হোসাইন হেলাল। এছাড়াও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, এলডিপির চেয়ারম্যান ড. কর্নেল অলি আহমদ-বীর বিক্রম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির আল্লামা মামুনুল হক, এবি পার্টির চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান মঞ্জু, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জাগপা’র সহ-সভাপতি ও মুখপাত্র ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির ভারপ্রাপ্ত আমির আল্লামা আবদুল কাইয়ুম সুবহানী এবং বিডিপি’র চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট একেএম আনোয়ারুল ইসলাম চাঁনসহ ঐক্য জোটের কেন্দ্রীয় এবং স্থানীয় নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখবেন। মুয়ায্যম হোসাইন হেলাল বলেন, বিরোধী দলীয় নেতা ও আমিরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমান শনিবার সকালে সড়ক পথে বরিশাল এসে পৌঁছাবেন। নগরীর প্রবেশদ্বার গড়িয়ারপার থেকে শুরু করে নথুল্লাবাদ, হাতেম আলী চৌমাথা, আমতলার মোরসহ সার্কিট হাউস পর্যন্ত সড়কের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে দলীয় নেতাকর্মীরা তাকে বরণ এবং সংবর্ধনা জানাবেন। তিনি বলেন, সমাবেশ বাস্তবায়ন এবং সুশৃঙ্খল করতে বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন জেলা থেকে আগত পরিবহন ও নৌযান নোঙরের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সমাবেশে আগত নেতাকর্মীদের জন্য পর্যাপ্ত নিরাপত্তা, চিকিৎসা সহায়তা ও পয়োনিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সমাবেশে আগত নেতাকর্মীদের যেকোনো সমস্যা সমাধানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ স্থানসমূহে পর্যাপ্ত স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুত রাখা হয়েছে। সমাবেশের নিরাপত্তায় দায়িত্বপালন করা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য ও মিডিয়া কর্মীদের পেশাগত দায়িত্ব পালনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের সুগন্ধা পয়েন্টে আচমকা আঘাত হেনেছে একটি মিনি টর্নেডো। এতে সৈকতে পর্যটকদের বসার জন্য রাখা ৫২টি কাঠের চেয়ার ও ৬১টি ছাতা দুমড়ে-মুচড়ে যায়। তবে এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। শুক্রবার (১৭ জুলাই) বিকেল পৌনে ৩টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, টর্নেডোটি ৩ থেকে ৫ মিনিট স্থায়ী ছিল। সাগরের মাঝখান থেকে কালো মেঘের মতো একটি ঘূর্ণি দ্রুত সুগন্ধা পয়েন্টের বালুচরের দিকে ধেয়ে আসে। মুহূর্তেই সৈকতে থাকা পর্যটকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং তারা নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য ছোটাছুটি শুরু করেন। কক্সবাজার কিটকট ব্যবসায়ী মালিক সমিতির সভাপতি মাহবুবুর রহমান বলেন, সাগর থেকে সৃষ্ট শক্তিশালী ঘূর্ণিটি ধীরে ধীরে বালুচরের দিকে এগিয়ে এসে সুগন্ধা পয়েন্টে আঘাত হানে। এতে ব্যবসায়ীদের ৫২টি কাঠের চেয়ার ও ৬১টি ছাতা ভেঙে যায়। ঘটনার সময় সৈকতে থাকা পর্যটক মেহেদী হাসান বলেন, ‘মুহূর্তের মধ্যে সাগরের মাঝ থেকে কুণ্ডলী পাকিয়ে বাতাসটি বিচের দিকে ধেয়ে আসে। চোখের সামনে চেয়ার-ছাতাগুলো বাতাসে উড়তে দেখে সবাই দিগ্বিদিক ছুটতে শুরু করে।’ এদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ঘটনার একটি ভিডিওতে এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, এটি সাগর থেকে পানি টেনে আনা একটি ঘূর্ণি, যা তীরে এসে বালির ঘূর্ণিবাত বা ছোট টর্নেডোর রূপ নেয়। তার ভাষ্য, এটি কোনো বড় সামুদ্রিক ঘূর্ণিঝড় নয়; বরং তীরবর্তী এলাকায় মেঘ ও বাতাসের তারতম্যের কারণে এমন স্বল্পস্থায়ী ঘূর্ণির সৃষ্টি হতে পারে।
নরসিংদীর মাধবদীতে দুই মাস বয়সী শিশু রিজিকের পা মুচড়ে নির্যাতনের ঘটনায় মামলার প্রধান আসামি চাচি ফারজানা আক্তার লতা (৩২)কে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-১১। শুক্রবার (১৭ জুলাই) রাত সাড়ে ৮টায় এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান র্যাব-১১ নরসিংদী সিপিএসসির ক্যাম্প কমান্ডার ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আরিফুল ইসলাম। তিনি জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া নির্যাতনের ভিডিওর সূত্র ধরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা ও গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে শুক্রবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে এক আত্মীয়ের বাসা থেকে লতাকে গ্রেপ্তার করা হয়। র্যাব জানায়, নরসিংদীর মাধবদী থানার আমদিয়া ইউনিয়নের পাইকারদি গ্রামের বাসিন্দা জহির মিয়া ও সাইফা আক্তারের দুই মাস বয়সী ছেলে রিজিকের ওপর নির্যাতনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর দেশজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। ভিডিওতে দেখা যায়, পারিবারিক বিরোধের জেরে শিশুটির পা মুচড়ে গুরুতর আঘাত করা হয়। এ ঘটনায় গত ১৪ জুলাই রাতে জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের প্রবেশন কর্মকর্তা রিজা আক্তার বাদী হয়ে মাধবদী থানায় মামলা করেন। মামলার পর র্যাব-১১ ছায়া তদন্ত শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা, গোয়েন্দা নজরদারি এবং বিভিন্ন সূত্র যাচাই-বাছাই শেষে নিশ্চিত হওয়া যায়, প্রধান আসামি ফারজানা আক্তার লতা আত্মগোপনে রয়েছেন। পরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। র্যাবের ভাষ্য, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে লতা ঘটনার সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন এবং নিজের কর্মকাণ্ডের জন্য অনুতাপ প্রকাশ করেছেন। পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাকে মাধবদী থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এর আগে একই মামলায় লতার স্বামী কাউছার আহম্মেদ ও তার বাবা আলমাছ মিয়াকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।