সৌদি আরবের জেদ্দা থেকে চট্টগ্রামগামী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে অসুস্থ হয়ে ছানোয়ারা বেগম (৫৫) নামে এক নারী যাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। তাঁকে হাসপাতালে নেওয়ার জন্য ফ্লাইটটি ওমানের মাসকট বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করে। পরে বিমানবন্দরের চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। বুধবার শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইব্রাহীম খলিল এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বিজি-১৩৬ ফ্লাইটটি জেদ্দা বিমানবন্দর থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশে উড্ডয়নের পর ছানোয়ারা বেগম অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে ফ্লাইটটি মাসকট বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করে। সেখানে বিমানবন্দরের চিকিৎসকের কাছে নেওয়া হলে তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয়। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, ওই যাত্রীর মরদেহ বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে দেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইব্রাহীম খলিল গণমাধ্যমকে বলেন, যাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়ার পর ফ্লাইটটি মাসকটে অবতরণ করে। পরে ফ্লাইটটি আবার চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা হয়েছে। বুধবার দুপুরের পর এটি চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে অবতরণের কথা রয়েছে। ওই নারী যাত্রীর মৃত্যুর বিস্তারিত কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
শরীয়তপুরে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে তিন সাংবাদিকের ওপর হামলা এবং পরে সাংবাদিকদের হুমকি দেওয়ার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও তীব্র নিন্দা জানিয়েছে হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস)। বুধবার (২৬ আগস্ট) বিবৃতিতে এসব তথ্য জানিয়েছে এইচআরএসএস। সংগঠনটি বলছে, মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) শরীয়তপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে ডেইলি স্টারের শরীয়তপুর ও মাদারীপুর প্রতিনিধি জাহিদ হাসান রনি, নিউজ টোয়েন্টিফোরের জেলা প্রতিনিধি বিধান মজুমদার অনি এবং দৈনিক এদিনের প্রতিনিধি বরকত উল্লাহ হামলার শিকার হন। তাদের অভিযোগ, জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আরিফুজ্জামান মোল্লাসহ কয়েকজন তাদের ওপর হামলা করেন। পরে এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলে একজন সাংবাদিককে হুমকি দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। এইচআরএসএস মনে করে, সাংবাদিকদের ওপর হামলা, পেশাগত কাজে বাধা প্রদান, সংবাদ সংগ্রহের সরঞ্জাম ছিনিয়ে নেওয়া বা ফুটেজ মুছে ফেলতে বাধ্য করা এবং ভয়ভীতি বা হুমকি প্রদান মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ও জনগণের তথ্য জানার অধিকারের ওপর সরাসরি আঘাত। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে কোনও ব্যক্তি, রাজনৈতিক দল বা সংগঠনের নেতা-কর্মী সাংবাদিকদের সংবাদ প্রকাশের কারণে শারীরিকভাবে আক্রমণ বা হুমকি দেওয়ার অধিকার রাখেন না। বিশেষভাবে উদ্বেগের বিষয় হলো রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের পক্ষ থেকে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে সহিংসতা বা হুমকির ঘটনা ঘটলে তা শুধু ভুক্তভোগী সাংবাদিকের নিরাপত্তাকেই হুমকির মুখে ফেলে না; বরং অন্যান্য সাংবাদিকের মধ্যেও ভীতি ও আত্মনিয়ন্ত্রণের পরিবেশ তৈরি করতে পারে। এর ফলে স্বাধীন সাংবাদিকতা বাধাগ্রস্ত হয় এবং জনগণের তথ্যপ্রাপ্তির অধিকার ক্ষুণ্ণ হয়। মানবাধিকার সংগঠনটি মনে করে, কোনও সাংবাদিকের সংবাদ বা প্রতিবেদন নিয়ে আপত্তি থাকলে তার প্রতিকারের একমাত্র গ্রহণযোগ্য পথ হলো আইনসম্মত ও শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ, তথ্য-প্রমাণসহ প্রতিবাদলিপি, সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যম কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ অথবা আইনগত প্রক্রিয়া। হামলা, হুমকি, ভয়ভীতি প্রদর্শন কিংবা জবরদস্তি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এইচআরএসএস দাবি জানায় যে, শরীয়তপুরে সাংবাদিকদের ওপর হামলার অভিযোগের দ্রুত, নিরপেক্ষ ও কার্যকর তদন্ত করতে হবে। তদন্তে হামলা, হুমকি, পেশাগত কাজে বাধা বা সাংবাদিকদের সরঞ্জাম ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে দোষী ব্যক্তিদের রাজনৈতিক পরিচয় বা পদমর্যাদা বিবেচনা না করে আইনের আওতায় আনতে হবে। হামলার শিকার সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা সৃষ্টি, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও সহিংসতার বিরুদ্ধে সরকারকে শূন্য-সহনশীলতার নীতি গ্রহণ করতে হবে। এছাড়া রাজনৈতিক দলগুলোর শীর্ষ নেতৃত্বকে তাদের নেতা-কর্মীদের সাংবাদিকদের স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালনের অধিকার ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার প্রতি সম্মান দেখানোর জন্য সুস্পষ্ট নির্দেশনা দিতে হবে। সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও হুমকির ঘটনায় দায়মুক্তির সংস্কৃতি বন্ধ করতে প্রতিটি ঘটনার স্বচ্ছ তদন্ত, জবাবদিহি ও কার্যকর বিচার নিশ্চিত করতে হবে। সংগঠনটি মনে করে, একটি গণতান্ত্রিক ও মানবাধিকারভিত্তিক রাষ্ট্রে সাংবাদিকের কলমকে ভয় দেখিয়ে থামিয়ে দেওয়া যায় না। সাংবাদিকের নিরাপত্তা রক্ষা করা মানে শুধু একজন পেশাজীবীকে সুরক্ষা দেওয়া নয়; বরং জনগণের জানার অধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং গণতন্ত্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভকে সুরক্ষা দেওয়া।
নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলা পরিষদে সংসদ সদস্যদের পরিদর্শন কক্ষ উদ্বোধনকে কেন্দ্র করে নামফলক নিয়ে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য হাফেজ আব্দুল মুনতাকিম ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্য বিলকিস ইসলামের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডার ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) বিকেলে উপজেলা পরিষদ চত্বরে এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয়ভাবে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। জানা যায়, মঙ্গলবার বিকেলে সৈয়দপুর উপজেলা পরিষদ চত্বরে সংসদ সদস্যদের জন্য নির্ধারিত পরিদর্শন কক্ষ উদ্বোধনের আয়োজন করা হয়। এ সময় জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য হাফেজ আব্দুল মুনতাকিম সেখানে উপস্থিত হয়ে উদ্বোধন কার্যক্রমে অংশ নেন। পরে বিষয়টি জানতে পেরে বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য বিলকিস ইসলাম সেখানে উপস্থিত হন। পরিদর্শন কক্ষের নামফলকে শুধু সংসদ সদস্য আব্দুল মুনতাকিমের নাম দেখতে পেয়ে বিলকিস ইসলাম এর প্রতিবাদ করেন। পরিদর্শন কক্ষটি সব সংসদ সদস্যের জন্য হওয়ায় সেখানে শুধু একজন সংসদ সদস্যের নাম কেন রাখা হয়েছে এ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। এ সময় দুই সংসদ সদস্যের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডার সৃষ্টি হয়। বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য বিলকিস ইসলাম বলেন, উপজেলা পরিষদে সংসদ সদস্যদের জন্য একটি করে পরিদর্শন কক্ষ থাকবে। এটি মূলত তাদের বসার জায়গা। অন্য জায়গা থেকে কোনো মন্ত্রী এলে তারাও সেখানে বসতে পারবেন। উদ্বোধনে বিষয়ে আগে জানতাম না। তিনি আরও বলেন, জামায়াতের এমপি বলেছেন, তিনি এটি উদ্বোধন করবেন। তবে তিনি এককভাবে এটি উদ্বোধন করতে পারেন না। কারণ, তিনি সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য এবং দল তাকে নীলফামারী-৪ ও নীলফামারী-৩ আসনের দায়িত্ব দিয়েছে। তিনি দলের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট বলেও উল্লেখ করেন। তার অভিযোগ, প্রশাসন জামায়াতের এমপিকে মহিলা সংসদ সদস্যের সঙ্গে কথা বলতে বললেও তারা তা করেননি। পরে তিনি খবর পেয়ে সেখানে গিয়ে দেখেন উদ্বোধনের জন্য স্থাপিত নামফলকে শুধু মুনতাকিমের নাম রয়েছে। তখন তিনি প্রতিবাদ করেন। তার দাবি, এটি শুধু মুনতাকিমের নামে হতে পারে না। সব সংসদ সদস্যের জন্য নির্ধারিত কক্ষে শুধু একজনের নামফলক থাকার সুযোগ নেই। তিনি আরও বলেন, জামায়াতের এমপি দাবি করেছেন, এটি তার ভৌগোলিক এলাকার মধ্যে। কিন্তু সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে আমার দায়িত্ব পুরো বাংলাদেশজুড়ে। কিশোরগঞ্জ ও জলঢাকায়ও পরিদর্শন কক্ষ রয়েছে, সেখানকার নামফলকে কারও নাম নেই বলেও জানান তিনি। এ বিষয়ে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য আব্দুল মুনতাকিম বলেন, বিষয়টি কী হয়েছে, তা সাক্ষাতে বলবেন। ফোনে কোনো কথা বলা হলে সেটি লিখে দেওয়ার বিষয়টি তিনি খেয়াল করছেন। তাই এ বিষয়ে সরাসরি সাক্ষাতে কথা বলবেন। এ বিষয়ে বিএনপির সৈয়দপুর রাজনৈতিক জেলা শাখার সভাপতি আব্দুল গফুর সরকার বলেন, এখানে জামায়াতের সংসদ সদস্যের নামে নামফলক রয়েছে। সেখানে দুজনের নাম রাখার কথা ছিল। শুধু একজনের নাম রাখা হয়েছে, এটি হয়তো ইউএনও সাহেবের ভুল হয়েছে। এখানের জামায়াতের সংসদ সদস্য বলছেন, এটি নীলফামারী-৪ ভৌগোলিক এলাকার হওয়ায় এখানে তার নাম থাকবে। অন্যদিকে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য দাবি করছেন, এই আসনসহ সৈয়দপুর, কিশোরগঞ্জ ও জলঢাকা দেখার জন্য তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ফলে তিনিও এখানে বসবেন। সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারাহ ফাতেহা তাকলিমা বলেন, পরিদর্শন কক্ষটি মূলত সংসদ সদস্যদের এখতিয়ারের মধ্যে। কক্ষটি তাদের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। এটি একান্তই তাদের বিষয়।
ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে দুই দেশের মধ্যে আমদানি-রপ্তানিসহ বন্দর ও কাস্টমসের কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। বেনাপোল সিএন্ডএফ এজেন্টস স্টাফ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আব্দুস সবুর শেখ জানান, বুধবার ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে সরকারি ছুটি থাকায় বেনাপোল-পেট্রাপোল বন্দর দিয়ে আমদানি-রপ্তানিসহ আমদানি-রপ্তানিসহ বন্দর ও কাস্টমসের কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে যথানিয়মে আমদানি-রপ্তানিসহ কাস্টমস ও বন্দরের কার্যক্রম চলবে বলে জানান তিনি। বেনাপোল-পেট্রাপোল বন্দর দিয়ে বুধবার বাণিজ্যিক কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে পাসপোর্টযাত্রী পারাপার স্বাভাবিক থাকবে বলে বেনাপোল আন্তর্জাতিক চেকপোস্ট ইমিগ্রেশনের ওসি ফেরদৌস হোসেন খান জানিয়েছেন। বেনাপোল স্থলবন্দরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক রুহুল আমিন বলেন, বুধবার একদিনের জন্য বেনাপোল-পেট্রাপোল বন্দরের মধ্যে আমদানি-রপ্তানিসহ কাস্টমস ও বন্দরের কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। তবে বেনাপোল বন্দরে পণ্য খালাসের পর ভারতীয় খালি ট্রাকগুলো নিজ দেশে ফিরে যেতে পারবে। বেনাপোল স্থলবন্দর ও বেনাপোল আন্তর্জাতিক চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ জানায়, প্রতিদিন বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে ভারতের সঙ্গে প্রায় ৬০০ ট্রাক বিভিন্ন ধরনের পণ্য আমদানি-রপ্তানি হয়ে থাকে। পাশাপাশি চিকিৎসা, ব্যবসা ও বিভিন্ন প্রয়োজনে প্রতিদিন দেড় হাজারের বেশি পাসপোর্টধারী যাত্রী এ পথে যাতায়াত করেন।
প্রিপেইড মিটার স্থাপনের কার্যক্রম বাতিল, অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল প্রত্যাহার ও আগের ডিজিটাল মিটার বহাল রাখার দাবিতে নারায়ণগঞ্জে গণ–অনশন করেছেন নাগরিক অধিকার ফোরামের নেতা–কর্মীরা। পরে নারায়ণগঞ্জ–৫ আসনের সংসদ সদস্য আবুল কালাম সংসদে বিষয়টি উত্থাপনের আশ্বাস দিলে অনশন ভাঙেন তাঁরা। আজ মঙ্গলবার বেলা ১১টা থেকে ১টা পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণে এই কর্মসূচি পালিত হয়। গণ–অনশন চলাকালে বেলা পৌনে একটার দিকে সেখানে এসে আন্দোলনকারীদের পানি পান করিয়ে অনশন ভাঙান সংসদ সদস্য আবুল কালাম। বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী ৭৬ হাজার কোটি টাকার বিদ্যুৎ খাতের দুর্নীতির দায় গ্রাহকদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এর প্রতিবাদেই গণ–অনশনের কর্মসূচি দেওয়া হয়েছে বলে জানান নাগরিক অধিকার ফোরামের আহ্বায়ক মাহবুবুর রহমান (ইসমাইল)। তিনি বলেন, প্রিপেইড মিটার এখন গ্রাহকদের ‘গলার কাঁটা’ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই মিটার বাতিল ও প্রত্যাহার করতে হবে। প্রিপেইড মিটারের স্ল্যাবের (আবাসিক গ্রাহকদের বিদ্যুৎ ব্যবহারের পরিমাণের ওপর ভিত্তি করে প্রিপেইড মিটারের বিল কাটার প্রক্রিয়া) নামে গ্রাহকদের কাছ থেকে দুই থেকে পাঁচ গুণ বেশি টাকা নেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। গ্রাহকদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া অতিরিক্ত অর্থ প্রত্যাহারের দাবি জানান তিনি। নারায়ণগঞ্জবাসীর পক্ষ থেকে এই গণ–অনশনের আয়োজন করা হয়েছে বলে জানান সংগঠনের প্রধান উপদেষ্টা মাহবুবুর রহমান (মাসুম)। তিনি বলেন, নারায়ণগঞ্জবাসী তাঁদের দাবির সঙ্গে একাত্ম। তাঁরা প্রিপেইড মিটার লাগাবেন না। পাড়া–মহল্লায় যেখানেই প্রিপেইড মিটার স্থাপনের জন্য আসা হবে, সেখানেই তা প্রতিহত করা হবে। প্রিপেইড মিটার স্থাপনের ‘ষড়যন্ত্র’ রুখে দেওয়ার ঘোষণা দেন তিনি। গণ–অনশনে বক্তারা বলেন, যেসব গ্রাহকের আগের ডিজিটাল মিটার খুলে প্রিপেইড মিটার লাগানো হয়েছে, তাঁদের আগের মিটার পুনঃস্থাপন করতে হবে। প্রিপেইড মিটার স্থাপনের কার্যক্রম বাতিল করা না হলে আরও কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন তাঁরা। এর আগে ১১ আগস্ট একই দাবিতে নারায়ণগঞ্জ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সমাবেশ ও গণমিছিল করেছিল নাগরিক অধিকার ফোরাম। ওই কর্মসূচি থেকে প্রিপেইড মিটার স্থাপন বন্ধ না হলে হরতালসহ বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছিল। এর ধারাবাহিকতায় আজ গণ–অনশন কর্মসূচি পালন করা হয়। গণ–অনশন চলাকালে নারায়ণগঞ্জ–৫ আসনের সংসদ সদস্য আবুল কালাম প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণে আসেন। তিনি প্রিপেইড মিটার স্থাপন বন্ধের দাবিতে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেন। শহরের একজন বাসিন্দা হিসেবে তিনিও এ বিষয়ে ভুক্তভোগী। তবে প্রিপেইড মিটার স্থাপন সরকারি নীতিনির্ধারণের বিষয় হওয়ায় তিনি বিষয়টি সরকারের কাছে ও জাতীয় সংসদে তুলে ধরবেন বলে জানান। আবুল কালাম বলেন, ‘আশা করি, সরকার বিষয়টি বিবেচনা করে ব্যবস্থা নেবে।’ চলতি সংসদ অধিবেশনেই আন্দোলনকারীদের দাবির বিষয়টি তিনি সংসদে উত্থাপনের চেষ্টা করবেন বলে জানান। পরে তাঁর আহ্বানে আন্দোলনকারীরা পানি পান করে গণ–অনশন ভাঙেন।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) নতুন মুখপাত্র হয়েছেন উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. আকতার হোসেন। তাকে ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস বিভাগের ডিসি করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) ডিএমপি হেডকোয়ার্টার্স থেকে এ সংক্রান্ত অফিস আদেশ জারি করা হয়। ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ স্বাক্ষরিত এ অফিস আদেশে তিনিসহ আরও একজন কর্মকর্তাকে পদায়ন করা হয়েছে। আদেশ অনুযায়ী, ডিএমপির ডিসি মো. তৌহিদুল আরিফকে পিওএম দক্ষিণ বিভাগের ডিসি ও ডিসি মো. আকতার হোসেনকে মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস বিভাগের ডিসি করা হয়েছে। বেশ কয়েক মাস ধরে ডিএমপি ডিসি মিডিয়া পদটি খালি ছিল।
চাঁদপুরের হাইমচরে আদালতের নির্দেশে সরকারি একটি মৎস্য ঘেরের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব পাওয়া থানার তৎকালীন ওসি মোহাম্মদ নাজমুল হাসানের বিরুদ্ধে নিয়ম না মেনে ৫-৭ লাখ টাকা মূল্যের মাছ বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, কোনো ধরনের উন্মুক্ত নিলাম ছাড়াই গত ১৫ আগস্ট ঘের থেকে ১২-১৪ মণ মাছ আহরণ করে বিক্রি করে দেওয়া হয়। তবে অভিযুক্ত ওসির দাবি, তিনি ঘেরে থাকা পোনা মাছের পরিমাণ পরীক্ষা করতে জাল ফেলেছিলেন। হাইমচর উপজেলার নীলকমল ইউনিয়নের মাঝের চরের এই মৎস্য ঘেরটি সরকারি সম্পত্তি। স্থানীয় সূত্র জানায়, সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির ভাই জেআর ওয়াদুদ টিপু দীর্ঘদিন ধরে ঘেরটি দখলে রেখেছিলেন। এ নিয়ে বিরোধ আদালত পর্যন্ত গড়ালে সম্পত্তিটির রক্ষণাবেক্ষণের জন্য হাইমচর থানার ওসিকে মাসিক দুই হাজার টাকা সম্মানিতে রিসিভার হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, দায়িত্ব পাওয়ার পর গত ১৫ আগস্ট ওসি নাজমুল হাসান নিজে উপস্থিত থেকে জেলেদের সহযোগিতায় ঘের থেকে বিপুল পরিমাণ মাছ আহরণ করেন। তাদের দাবি, প্রায় ১২-১৪ মণ মাছ তুলে নেওয়া হয়, যার আনুমানিক বাজারমূল্য ৫ থেকে ৭ লাখ টাকা। নিয়ম অনুযায়ী সরকারি সম্পত্তির মাছ উন্মুক্ত নিলামে বিক্রি করে প্রাপ্ত অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার কথা থাকলেও তা করা হয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। অভিযোগের বিষয়ে মোহাম্মদ নাজমুল হাসান বলেন, ঘেরে কী পরিমাণ পোনা মাছ আছে, তা পরীক্ষা করার জন্য জাল ফেলা হয়েছিল। সামান্য কিছু মাছ পাওয়া যায়। পরে কমিটির মাধ্যমে মাছগুলো বিক্রি করে ৩০-৩২ হাজার টাকা পাওয়া গেছে। তবে বিক্রির অর্থ এখনো সরকারি কোনো অ্যাকাউন্টে জমা হয়নি বলে তিনি স্বীকার করেন। হাইমচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অমিত রায় এ বিষয়ে বলেন, মাছ বিক্রির বিষয়ে কোনো নিলামের অফিশিয়াল চিঠি বা দাপ্তরিক তথ্য আমার দপ্তরে আসেনি। মাছ বিক্রি হয়ে থাকলে ওই অর্থ কোন কোষাগারে জমা হয়েছে, তা আমার জানা নেই।
সারা দেশে ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে ৫ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়েছে এক হাজার ৭৭টি শিশু। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) বিকালে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাম-বিষয়ক হালনাগাদ প্রতিবেদনে জানানো হয় এ তথ্য। এতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে কোনো শিশুর মৃত্যু হয়নি। এনিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে ৮৪৪টি শিশুর। আর হামে আক্রান্ত হয়ে আরও ৯৯টি শিশু প্রাণ হারিয়েছে। অর্থাৎ হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে এই সময়ে মারা গেছে ৯৪৩টি শিশু। গত ২৪ ঘণ্টায় ৯১টি শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে, আর হামের উপসর্গজনিত রোগীর সংখ্যা ৯৮৬। একই সময়ে ৮৯০টি শিশু নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে আর হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছে ৮৯০টি শিশু। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, ১৫ মার্চ থেকে আজ পর্যন্ত সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা এক লাখ ৫১ হাজার ৬৩৮ আর নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ১৮ হাজার ৫৭৮। এর মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে এক লাখ ৩২ হাজার ৫৫৪ রোগী, যাদের মধ্যে এক লাখ ২৭ হাজার ৮১১ জন ছাড়পত্র পেয়ে ইতিমধ্যে বাড়ি ফিরেছে।
ঝিনাইদহের মহেশপুর সীমান্তের ইছামতী নদী থেকে উদ্ধার করা আফগান নাগরিক হাসমত মোহাম্মদির দাফনের সাড়ে চার মাস পর লাশ নিতে বাংলাদেশে এসেছেন তার ভাই ইমাল মোহাম্মদি। তিনি দেড় মাসের বেশি সময় ধরে বাংলাদেশে অবস্থান করলেও দাপ্তরিক জটিলতায় কবর থেকে লাশ উত্তোলনের বিষয়টি আটকে রয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমতির পর নিহতের ভাই প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্তসহ সোমবার ঝিনাইদহে এসে পৌঁছালেও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা না পাওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছে হাসমত মোহাম্মদির পরিবার। ইমাল মোহাম্মদির বাংলাদেশি আইনজীবী অ্যাডভোকেট মাহমুদুল হাসান মাসুম জানান, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বহিরাগমন শাখা-১-এর উপসচিব কাজী আরিফুর রহমান গত ১১ আগস্ট (স্মারক নং-৮১৯) পররাষ্ট্রসচিব, ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার বরাবর পাঠানো এক চিঠিতে নিহতের লাশ কবর থেকে উত্তোলন করে আফগানিস্তানে পাঠানোর বিষয়ে অনাপত্তি প্রকাশ করেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। তবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আনুষ্ঠানিক অনুমতির চিঠি না পাওয়ায় ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে লাশ উত্তোলনের প্রক্রিয়াটি থমকে রয়েছে। ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসন সূত্রে জানানো হয়েছে, যেহেতু বিষয়টির সঙ্গে বিদেশি রাষ্ট্রের এক নাগরিক জড়িত, সে কারণে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের চিঠির পাশাপাশি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে সুনির্দিষ্ট আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা না পাওয়া পর্যন্ত মরদেহ উত্তোলন ও হস্তান্তর করা সম্ভব হচ্ছে না। মহেশপুর থানার ওসি মেহেদী হাসান জানান, গত ১৩ এপ্রিল ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার পলিয়ানপুর সীমান্তের ইছামতী নদী থেকে এক অজ্ঞাত ব্যক্তির ভাসমান লাশ উদ্ধার করে পুলিশ ও বিজিবির যৌথ দল। পরবর্তীতে পিবিআই মরদেহের আঙুলের ছাপ নিয়ে বাংলাদেশি জাতীয় পরিচয়পত্রের ডাটাবেজে মেলাতে না পারায় লাশটি বেওয়ারিশ হিসেবে আঞ্জুমান মফিদুল ইসলামের মাধ্যমে গত ১৪ এপ্রিল ঝিনাইদহ পৌর গোরস্থানে দাফন করা হয়। এ ঘটনায় ১৪ এপ্রিল মহেশপুর থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা (মামলা নম্বর: ২০) দায়ের করা হয়। একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাশের ছবি দেখে নিহতের স্বজনেরা নিশ্চিত হন যে লাশটি আফগানিস্তানের কাবুলের পাঞ্জাশির এলাকার কন্দুস গ্রামের ইয়াসিন মোহাম্মদি ও সকিনা মোহাম্মদি দম্পতির ছেলে হাসমত মোহাম্মদির। লাশ উদ্ধারের পর তার লন্ডনপ্রবাসী ভাই মীর ওয়াইস মোহাম্মদী লন্ডন থেকে ঝিনাইদহে আসলেও আইনি জটিলতার কারণে লাশ না পেয়ে ফিরে যেতে বাধ্য হন। দাফনের ৪ মাস ১০ দিন পর গত সোমবার (২৪ আগস্ট ২০২৬) নিহতের আরেক ভাই ইমাল মোহাম্মদী নিজ সহোদরের লাশ আফগানিস্তানে ফিরিয়ে নিতে ডিএনএ টেস্টের নথিপত্র, মন্ত্রণালয়ের চিঠি ও পরিচয়পত্রসহ ঝিনাইদহে আসেন। বর্তমানে ঝিনাইদহের একটি আবাসিক হোটেলে অবস্থানত ইমাল মোহাম্মদি বলেন, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে তার ভাই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। তারা কেবল চান ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী লাশটি নিজ দেশে ফিরিয়ে নিয়ে দাফন করতে। এমন শোকার্ত অবস্থায় এক দপ্তর থেকে অন্য দপ্তরে ঘুরতে হওয়া স্বজনদের জন্য অত্যন্ত যন্ত্রণাদায়ক। এ বিষয়ে ঝিনাইদহের জেলা প্রশাসক নোমান হোসেন জানান, ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসন সব ধরনের সহযোগিতার জন্য প্রস্তুত রয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আনুষ্ঠানিক চিঠি পাওয়া মাত্রই লাশ উত্তোলনের পর হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু করা হবে।
হবিগঞ্জ শহরে ‘চাঁদের হাসি হাসপাতাল লিমিটেড’ নামে একটি ক্লিনিকে ভুল চিকিৎসায় জেলা বিএনপির প্রবীণ নেতা ও হবিগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোস্তফা রফিকের মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সোমবার (২৪ আগস্ট) সন্ধ্যা ৬টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। দৈনিক হবিগঞ্জ সমাচার পত্রিকার সম্পাদক গোলাম মোস্তফা রফিকের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই হাসপাতাল প্রাঙ্গণে সাংবাদিক, রাজনৈতিক নেতাকর্মী, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও নিহতের স্বজনসহ সর্বস্তরের উৎসুক জনতা ভিড় জমান। ভুল চিকিৎসায় মৃত্যুর অভিযোগে সেখানে চরম ক্ষোভ ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। ঘটনার পর পরই চিকিৎসক, নার্স ও স্টাফরা হাসপাতাল থেকে সটকে পড়েন। এদিকে, ভুল চিকিৎসায় জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ইউনিটের আহ্বায়ক গোলাম মোস্তফা রফিকের মৃত্যু হয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখতে হবিগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. রত্নদীপ বিশ্বাসকে প্রধান করে চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। সোমবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে জেলা প্রশাসক ড. জি এম সরফরাজ স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন- জেলা প্রশাসকের প্রতিনিধি, পুলিশ সুপারের প্রতিনিধি এবং হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালের প্রতিনিধি। তদন্ত কমিটিকে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বীর মুক্তিযোদ্ধা রফিকের স্বজনদের অভিযোগ, শারীরিক অসুস্থতার কারণে প্রবীণ এই সাংবাদিক এক দিন ধরে হবিগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। সোমবার বিকেলে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তিনি প্রাইভেটভাবে চিকিৎসা নিতে চাঁদের হাসি হাসপাতালে ডা. সোলাইমানের কাছে যান। সেখানে ডাক্তারের সহকারী আল-আমিনের ভুল চিকিৎসা ও কর্তব্যের অবহেলায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে হবিগঞ্জ-৩ আসনের এমপি ও জাতীয় সংসদের হুইপ জি কে গউছ, হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক ড. জিএম সরফরাজ, সিভিল সার্জন ডা. রত্নদীপ বিশ্বাস ও পুলিশ সুপার তারেক মাহমুদসহ প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতারা চাঁদের হাসি হাসপাতালে ছুটে যান৷ ঘটনাস্থলে স্বজনদের সমবেদনা জানিয়ে জাতীয় সংসদের হুইপ জি কে গউছ বলেন, ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোস্তফা রফিক ছিলেন জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান। তার এই মৃত্যুকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা কাম্য নয়। চিকিৎসায় কোনো ভুল বা অবহেলা ছিল কি না তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। প্রতিবেদনের আলোকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) দুপুর ২টায় হবিগঞ্জ কেন্দ্রীয় শাহী ঈদগাহ মাঠে বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোস্তফা রফিকের জানাজা হবে। জানাজায় পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।
যশোরের কেশবপুরে মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমদের জন্য সরকারের বরাদ্দকৃত সম্মানীর তালিকা তৈরিতে অনিয়মের অভিযোগে জামায়াতে ইসলামীর দুই স্থানীয় নেতাকে সাংগঠনিক সব দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। রোববার (২৩ আগস্ট) রাতে তাদের অব্যাহতি দেওয়া হয়। অব্যাহতি পাওয়া নেতারা হলেন উপজেলার ৭ নম্বর পাঁজিয়া ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি মাসুদ কামাল এবং ২ নম্বর ওয়ার্ড সভাপতি আব্দুল মুতালেব মোল্লা। দলীয় সূত্রে জানা যায়, সরকারি সম্মানীর তালিকা প্রণয়নে অনিয়মের অভিযোগ ওঠার পর বিষয়টি নিয়ে প্রাথমিক তদন্ত পরিচালনা করা হয়। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় সংগঠনের ভাবমূর্তি রক্ষায় উপজেলা জামায়াত এই সিদ্ধান্ত নেয়। কেশবপুর উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সাইদুর রহমান সাঈদ বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ওই দুই নেতাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। এখন থেকে তারা জামায়াতের কোনো ধরনের সাংগঠনিক কার্যক্রম বা দায়িত্বে সম্পৃক্ত থাকতে পারবেন না।
রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়ায় অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী ও তার পরিবারের চার সদস্যকে হত্যাকাণ্ডের ঘটনার তদন্তভার কোতোয়ালি থানা পুলিশের কাছ থেকে বদলি করে গোয়েন্দা বিভাগে (ডিবি) দেওয়া হয়েছে। অধিকতর স্বচ্ছ তদন্ত ও দ্রুত চার্জশিট দেওয়ার জন্যই তদন্ত সংস্থা বদল করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। সোমবার (২৪ আগস্ট) রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপকমিশনার ও গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) প্রধান সনাতন চক্রবর্তী। তিনি বলেন, সোমবার বিকালে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মিলন চ্যাটার্জী গোয়েন্দা পুলিশের অফিসে গিয়ে মামলার নতুন তদন্ত কর্মকর্তা মহানগর গোয়েন্দা বিভাগের ওসি জিনাত আলীর কাছে প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত ও নথিপত্র হস্তান্তর করেন। বিকালে পুরাতন ও নতুন দুই তদন্ত কর্মকর্তাই ঘটনাস্থল মাছুয়াপাড়ায় শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী জুয়েলের বাড়ি পরিদর্শন করেন। প্রথম তদন্ত কর্মকর্তা ঘটনাস্থলের বিষয়ে ব্রিফ করেন নতুন তদন্ত কর্মকর্তাকে। এখন ডিবি ঘটনা তদন্ত করে আদালতে প্রতিবেদন দেবে। সনাতন চক্রবর্তী বলেন, রবিবার রাত পর্যন্ত দুই অভিযুক্ত ১৬৪ ধারায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। আমরা যেটা আদালত সূত্রে জানতে পেরেছি আসামিরা তারা অ্যাজ ইট ইজ অর্থাৎ আমাদের কমিশনার স্যার ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের যেটা বলেছেন, দেশবাসীকে যেটা জানিয়েছেন, একই ঘটনা তারা বলেছেন। তারা কিছু কিছু ক্ষেত্রে যুক্তও করেছে, যেটা আমাদেরকে বলেনি। সনাতন চক্রবর্তী আরও বলেন, মামলাটি ডিবিতে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং গোয়েন্দা বিভাগের পুলিশ পরিদর্শক জিন্নাত আলী, তিনি এখন হচ্ছে এই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করার জন্যই তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। গত শনিবার রাতে বাসা থেকে গণপতি চক্রবর্তী জুয়েল (৬৫), তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী বালা (৫০), স্নাতকোত্তর শ্রেণির শিক্ষার্থী মেয়ে আগামী চক্রবর্তী প্রার্থী (২৫) এবং পঞ্চম শ্রেণি পড়ুয়া ছেলে আয়ুস চক্রবর্তী প্রিয়মের (১২) মরদেহ উদ্ধার হয়। তাদের সবাইকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় রবিবার ভোরে দুজনকে গ্রেফতার করা হয়। তারা হলো- নগরীর মাছুয়াপাড়া এলাকার কানুদাসের ছেলে মুগ্ধ দাস (২৩) ও বিনয় চন্দ্র দাসের ছেলে সিদ্ধার্থ দাস (১৯)। এদিন দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার (ডিআইজি) আবদুল মাবুদ জানান, বাসার ছাদে ইয়াবা সেবনে বাধা দেওয়ায় শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ তার স্ত্রী ও ছেলে-মেয়েকে হত্যা করা হয়েছে। রবিবার বিকালে নিহত চার জনের মরদেহের ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে রাত সাড়ে ১০টার দিকে নগরীর দখিগঞ্জ শ্মশানে তাদের শেষকৃত্য হয়। রবিবার রাতে রংপুর মহানগর মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রফিকুল ইসলামের আদালতে দুই আসামি ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয় বলে জানায় পুলিশ। এর আগে রাত ৮টায় কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে তাদের আদালতে তোলা হয়। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ওসি (তদন্ত) নির্মল চন্দ্র এ তথ্য জানিয়েছেন।
বহুল আলোচিত মাগুরার আট বছরের শিশু আছিয়া হত্যা ও ধর্ষণ মামলায় আসামি হিটু শেখের ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের ওপর শুনানি শেষ হয়েছে। সোমবার (২৪ আগস্ট) বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার হাইকোর্ট বেঞ্চ শুনানি শেষে রায়ের জন্য আগামীকাল (মঙ্গলবার) দিন ধার্য করেছেন। আদালতে আসামিপক্ষে রয়েছেন রাষ্ট্র নিযুক্ত আইনজীবী হাফিজুর রহমান খান। রাষ্ট্রপক্ষে রয়েছেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ইমাম হোসেন তারেক। গত বছরের ৫ মার্চ রাতে মাগুরা শহরের নিজনান্দুয়ালী এলাকায় বোনের বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে ধর্ষণের শিকার হয় শিশুটি। বোনের শ্বশুর হিটু শেখ মেয়েটিকে শুধু ধর্ষণই করেননি, হত্যারও চেষ্টা চালান। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে মৃত্যু হয় আট বছর বয়সী শিশুটির। এ ঘটনায় ভিকটিমের মা বাদী হয়ে হিটু শেখসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। পরে তাদের সবাইকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ২০২৫ সালের ১৩ এপ্রিল আলোচিত এ মামলায় অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। ২৩ এপ্রিল অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে বিচার কার্যক্রম শুরু হয়। সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয় ২৭ এপ্রিল। মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে ২৯ জন সাক্ষ্য দেন। গত বছরের ৭ মে এ মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। মাত্র ১৩ কার্যদিবসে শেষ হয় আলোচিত এ মামলার বিচারিক কার্যক্রম। এক বছর আগে ১৩ মে মাগুরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এম জাহিদ হাসানের আদালতে মামলার শেষ দিনের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয়। যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে একই বছরের ১৭ মে রায় ঘোষণা করা হয়। শিশু ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় প্রধান আসামি হিটু শেখকে (৪৭) মৃত্যুদণ্ড দেন মাগুরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল। একইসঙ্গে তাকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। রায়ে বাকি তিন আসামিকে খালাস দেওয়া হয়। খালাসপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন, নিহত শিশুর বোনের স্বামী সজীব শেখ (১৯), সজীব শেখের ছোট ভাই (১৭) এবং সজীবের মা জাহেদা বেগম (৪০)। ফৌজদারি কার্যবিধি অনুসারে বিচারিক আদালতে মৃত্যুদণ্ডাদেশ হলে তা অনুমোদনের জন্য মামলার যাবতীয় কার্যক্রম উচ্চ আদালতে পাঠাতে হয়। সে অনুসারে এ মামলার নথিও গত বছরের ২১ মে উচ্চ আদালতে পাঠানো হয়। পরে সব যাচাই-বাছাই শেষে পেপারবুক তৈরির জন্য বিজি প্রেসে পাঠানো হয়। প্রস্তুতের পর পেপারবুক ৮ জুন হাইকোর্টে পাঠানো হয়। এরপর শুনানির জন্য বিশেষায়িত বেঞ্চের কার্যতালিকাভুক্ত হয়।
নেত্রকোনার মদনে ১১ বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় জন্ম নেওয়া কন্যাশিশুর জৈবিক বাবা হিসেবে মামলার আসামি মাদ্রাসাশিক্ষক আমান উল্লাহ মাহমুদী সাগরকে শনাক্ত করা হয়েছে। ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদনে এ তথ্য নিশ্চিত হওয়ার পর আদালতে প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করা হয়েছে। সোমবার (২৪ আগস্ট) নেত্রকোনার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদন উপস্থাপনের পর বিষয়টি নিশ্চিত করেন রাষ্ট্রপক্ষের পাবলিক প্রসিকিউটর নুরুল কবীর রুবেল। তিনি জানান, মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে অভিযুক্ত মাদ্রাসা শিক্ষক আমান উল্লাহ মাহমুদী সাগরের ডিএনএ নমুনা এবং পরবর্তীতে শিশুটির গর্ভে জন্ম নেওয়া নবজাতকের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষার প্রতিবেদনে নবজাতকের বাবা হিসেবে আমান উল্লাহ মাহমুদী সাগরই শনাক্ত হয়েছেন। সোমবার মামলার আসামি সাগরকে আদালতে হাজির করা হয় এবং ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদন আদালতে উপস্থাপন করা হয়। মামলাটির বিচার কার্যক্রম দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে জানিয়ে রাষ্ট্রপক্ষের এই আইনজীবী আশা প্রকাশ করেন, আগামী ৬০ দিনের মধ্যে মামলার বিচার শেষ করা সম্ভব হবে। মামলা ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, প্রায় চার বছর আগে আমান উল্লাহ মাহমুদী সাগর একটি মহিলা কওমি মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন। শিশুটির বাবা-মায়ের বিচ্ছেদের পর সে তার নানার বাড়িতে থেকে ওই মাদ্রাসায় পড়াশোনা করতো। অন্যদিকে, তার মা জীবিকার তাগিদে সিলেটে গৃহপরিচারিকার কাজ করতেন। এরই মধ্যে শিশুটির শারীরিক অবস্থায় পরিবর্তন দেখা দেয়। পাশাপাশি সে অসুস্থতাও অনুভব করতে থাকে। বিষয়টি জানতে পেরে গত ১৮ এপ্রিল তার মা মেয়েকে নিয়ে মদন পৌর শহরের একটি ক্লিনিকে যান। সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসক জানান, ১১ বছর বয়সী শিশুটি অন্তঃসত্ত্বা। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর গত ২৩ এপ্রিল শিশুটির মা বাদী হয়ে মাদ্রাসা শিক্ষক আমান উল্লাহ মাহমুদীর বিরুদ্ধে মদন থানায় মামলা করেন। মামলার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযুক্তকে গ্রেফতারে অভিযান শুরু করে। পরে ৬ মে ময়মনসিংহের গৌরীপুর এলাকা থেকে র্যাবের হাতে গ্রেফতার হন আমান উল্লাহ মাহমুদী। পরদিন তাকে আদালতে হাজির করা হলে আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রিমান্ড শেষে তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পর মামলার তদন্তের স্বার্থে অভিযুক্তের ডিএনএ পরীক্ষার নির্দেশ দেন আদালত। এদিকে, শিশুটির নিরাপত্তা, চিকিৎসা এবং ভবিষ্যতের কথা বিবেচনায় নিয়ে আদালতের নির্দেশে গত ১২ মে তাকে সমাজসেবা অধিদফতরের অধীন সিলেটের একটি সেফ হোমে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় পরিচর্যার মধ্যে গত ২ জুলাই একটি কন্যাশিশুর জন্ম দেয় সে। পাশাপাশি নবজাতকের পিতৃত্ব নিশ্চিত করতে পরে ডিএনএ পরীক্ষার উদ্যোগ নেয় পুলিশ। গত ৯ জুলাই নবজাতকের ডিএনএ পরীক্ষা করার অনুমতি চেয়ে আদালতে আবেদন করা হয়। আদালতের নির্দেশ পাওয়ার পর ২৮ জুলাই সিলেটের ওই সেফ হোমে নবজাতকের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। পরবর্তীতে ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদন হাতে আসে। সেই প্রতিবেদনে নবজাতকের জৈবিক বাবা হিসেবে মামলার আসামি মাদ্রাসা শিক্ষক আমান উল্লাহ মাহমুদী সাগরকে শনাক্ত করা হয়। ডিএনএ প্রতিবেদনের মাধ্যমে শিশুটির পিতৃত্বের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ায় মামলার তদন্ত ও বিচারিক কার্যক্রমে এটি গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এখন আদালতে উপস্থাপিত প্রতিবেদনসহ অন্যান্য সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে মামলাটির বিচার এগিয়ে নেওয়া হবে।
ভোলার চরফ্যাশনে বৈরী আবহাওয়ার মধ্যে গভীর সাগরে মাছ ধরার একটি ট্রলার ডুবির ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় মো. নিরব (৫৫) নামে ট্রলারের এক মিস্ত্রি নিখোঁজ রয়েছেন। এসময় ট্রলারে থাকা ১৫ জন জেলেকে অন্য একটি ট্রলার এসে উদ্ধার করলেও নিরব মিস্ত্রি এখনও নিখোঁজ রয়েছে। রোববার (২৩ আগস্ট) বিকালে কলাপাড়ার মহিপুর ঘাট থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরে সাগরের গভীরে বৈরী আবহাওয়া ও উত্তাল ঢেউয়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে। গত ১৯ ডিসেম্বর চরফ্যাশন নতুন সুইস ঘেট ঘাটের ইউসুফ মালের ট্রলারে করে জেলেরা সাগরে মাছ ধরতে গিয়ে ট্রলার ডুবির ঘটনা ঘটে। নিখোঁজ ব্যক্তিকে উদ্ধার করতে কোস্টগার্ড ও পরিবারের স্বজনরা মিলে উদ্ধার কাজ চলমান রয়েছে বলে জানান চরফ্যাশন উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা জয়ন্ত কুমার অপু। সোমবার রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন নিখোঁজ নিরবের বড় ছেলে শাহিন। নিখোঁজ নিরব মিস্ত্রি চরফ্যাশন উপজেলার আসলামপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওর্য়াডের বাসিন্দা। তার স্ত্রীসহ দুই ছেলে ও ১ মেয়ে। এই ঘটনায় নিখোঁজ নিরব মিয়ার পরিবারে স্বজনরা চরম উৎকন্ঠের মধ্যে দিয়ে দিন কাটাচ্ছে। এছাড়া এ ঘটনায় উদ্ধার ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন- ট্রলার মালিক ইউসুফ মাল, ট্রলারের মাঝি মো. নুরনবী, জেলে ইয়াছিন ও মাসুদসহ অন্যান্য জেলেরা। তারা সকলেই আসলামপুরের বিভিন্ন গ্রামের বাসিন্দা। নিখোঁজের পরিবার ও সংশ্লিষ্টরা জানান, বঙ্গোপসাগরের গভীরে মাছ ধরার উদ্দেশ্যে গত ১৯ আগস্ট চরফ্যাশন আসলামপুর ইউনিয়নের নতুন স্লুইসগেট এলাকা থেকে ১৬ জন মাঝিমাল্লাকে নিয়ে ট্রলারটি সাগরে গিয়ে মাছ ধরা শুরু করে। এরমধ্যে বৈরী আবহাওয়া শুরু হওয়ায় সাগর থেকে ট্রলারটি নিয়ে সাগরের তীরের দিকে আসছিল। একপর্যায়ে ঝড়ের কবলে পড়ে উল্টে ডুবে যায় ট্রলারটি। এরপর ট্রলারের জেলে ও মাঝিমাল্লাদের আশপাশে থাকা অন্য ট্রলারের জেলেরা উদ্ধার করলেও নিখোঁজ হন ট্রলারের মিস্ত্রি মো. নিরব। চরফ্যাশন উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা জয়ন্ত কুমার অপু বলেন, ‘বঙ্গোপসাগরে ট্রলারডুবিতে চরফ্যাশনের মো. নিরব নামে একজন নিখোঁজ রয়েছেন, বাকিরা উদ্ধার হয়েছেন, কোস্টগার্ডকে অবহিত করছি।’ চরফ্যাশন থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল মো. মাহামুদ আল ফরিদ ভুঁইয়া বলেন, ‘এ ঘটনায় নিখোঁজের পরিবার লিখিতভাবে এখনও কিছু জানায়নি। তারপরও আমরা খোঁজ নিচ্ছি।’
যানবাহনের নিয়ম মেনে চলা ও সুশৃঙ্খল পথচারী পারাপার নিশ্চিত করতে ঢাকার সড়কে প্রসার ঘটছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নিয়ন্ত্রিত সিগন্যাল ব্যবস্থার। গেল বছরের মাঝামাঝি সময়ে পরীক্ষামূলকভাবে ঢাকার ১৩টি ইন্টারসেকশনে সেমি অটোমেটেড ও এআই ট্রাফিক সিগন্যাল বসানোর পর এবার আরও ৫০টি স্থানে এই প্রযুক্তি যুক্ত করা হচ্ছে। দুই সিটি করপোরেশন এলাকার নতুন ৫০টি পয়েন্টের মধ্যে ২৮টি বসছে ঢাকা উত্তর এবং ২২টি বসছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে। বুয়েটের তত্ত্বাবধানে তৈরি এই বিশেষ প্রযুক্তি চালকদের মধ্যে নিয়ম মানার প্রবণতা বাড়াতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে বলে জানা গেছে। নতুন ট্রাফিক ব্যবস্থার সুফল সম্পর্কে যোগাযোগ বিশেষজ্ঞরা জানান, সম্পূর্ণ অটোমেটেড এই সিগন্যালগুলো চালাতে আলাদা কোনো অপারেটরের প্রয়োজন পড়বে না। এটি সড়কের যানবাহনের চাপের ওপর ভিত্তি করে অটোমেটিক কাজ করবে। পাশাপাশি ট্রাফিক পুলিশের সদস্যরা চাইলে হাতের ট্যাব ব্যবহার করেও সিগন্যাল পরিবর্তন করতে পারবেন। সড়কে এই প্রযুক্তির ব্যবহার চালকদের মানসিকতায় পরিবর্তন আনছে বলে মনে করছেন চালকেরা। অনেক চালক জানান, মামলা খাওয়ার ভয় ও সতর্ক থাকার তাগিদ থেকে এআই সিগন্যাল মেনে চলার এই উদ্যোগ বেশ কার্যকর। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার প্রতিনিধিরাও প্রযুক্তিভিত্তিক এই উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. আনিছুর রহমান জানান, মানুষকে পুরোনো অভ্যাস থেকে বের করে এনে শৃঙ্খলায় ফেরানো সহজ নয়। তবে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে এই ব্যবস্থার প্রতি ইতিবাচক সাড়াদান পাওয়া যাচ্ছে। তবে সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে এআই ক্যামেরার সক্ষমতা নিয়ে কিছুটা মিশ্র অভিজ্ঞতাও রয়েছে। মাঠপর্যায়ের ট্রাফিক কর্মকর্তারা বলছেন, ফুটপাত দখল, যত্রতত্র পথচারীদের রাস্তা পারাপার এবং ফিটনেসবিহীন ও ব্যাটারিচালিত রিকশার উপস্থিতির কারণে অনেক সময় এআই সিস্টেম সঠিকভাবে কাজ করতে সমস্যার মুখে পড়ে। প্রযুক্তিগত এই সেবা সার্বক্ষণিক পরিচালনা করতে নতুন লোকবল নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। সিগন্যালিং ব্যবস্থা সচল রাখা ও দক্ষ তদারকির জন্য ট্রাফিক পুলিশের পক্ষ থেকে 'ট্রাফিক টেকনিক্যাল ইউনিট' নামে একটি বিশেষায়িত ইউনিটকে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দিয়ে প্রস্তুত করা হচ্ছে।
নাটোরের লালপুরে প্রতারণার শিকার আব্দুলপুর সরকারি কলেজের সেই ৮ শিক্ষার্থী অবশেষে এইচএসসি পরীক্ষার প্রথম বিষয়ের পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছেন। সোমবার (২৪ আগস্ট) সকাল ১০টায় রাজশাহী নিউ গভর্নমেন্ট ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রে বিশেষ ব্যবস্থাপনায় তারা বাংলা প্রথমপত্র পরীক্ষায় অংশ নেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আব্দুলপুর সরকারি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. মামদুদুর রহমান। তিনি জানান, গত বুধবার শিক্ষা বোর্ড থেকে প্রতারণার শিকার এসব শিক্ষার্থীর পরীক্ষা গ্রহণের নির্দেশনা কলেজে পৌঁছায়। পরবর্তীতে দ্রুত শিক্ষার্থীদের বিষয়টি জানানো হয় এবং বোর্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়। শিক্ষার্থী ইসরাত জাহান সূচির বাবা ইমামুল হক বলেন, বাড়ি থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার দূরে কেন্দ্র হওয়ায় মেয়েকে নিয়ে রাজশাহীতে আত্মীয়ের বাসায় অবস্থান করতে হচ্ছে। নতুন পরিবেশে মানিয়ে নিতে তার কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। তবে নিজ জেলার বাইরে পরীক্ষা কেন্দ্র নির্ধারণ করায় শিক্ষার্থীদের কিছুটা ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে। রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর ইফফাত জেরিন জানান, আব্দুলপুর সরকারি কলেজের আট শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন জেলার মোট ৪৬ শিক্ষার্থী বিশেষ ব্যবস্থায় পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন। বাংলা, পদার্থ বিজ্ঞান, যুক্তিবিদ্যাসহ বিভিন্ন বিষয়ের পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারা শিক্ষার্থীদের জন্য বোর্ডের নিকটবর্তী কেন্দ্রে এ বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। জানা যায়, আব্দুলপুর সরকারি কলেজের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের এসব শিক্ষার্থী ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণের সময় সার্ভার জটিলতায় পড়েন। পরে গত ১২ মার্চ বিলম্ব ফি-সহ ফরম পূরণের জন্য কলেজে গেলে গ্রন্থাগারের অফিস সহায়ক অমিত কুমার সরকার তাদের ফরম পূরণের আশ্বাস দিয়ে প্রত্যেকের কাছ থেকে সাড়ে তিন হাজার টাকা করে নেন। কিন্তু পরবর্তীতে জানা যায়, তাদের ফরম পূরণই করা হয়নি। ফলে প্রবেশপত্র না পাওয়ায় গত ৩ জুলাই শুরু হওয়া এইচএসসি পরীক্ষার বাংলা প্রথমপত্র পরীক্ষায় তারা অংশ নিতে পারেননি। বিষয়টি প্রকাশিত হলে তা শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের নজরে আসে। তার নির্দেশনায় বিশেষ ব্যবস্থায় শিক্ষার্থীদের ফরম পূরণ সম্পন্ন করে প্রবেশপত্র দেওয়া হয় এবং তারা পরবর্তী পরীক্ষাগুলোতে অংশগ্রহণের সুযোগ পান। তবে প্রথম পরীক্ষায় অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকলেও বিভিন্ন মাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর অবশেষে শিক্ষা বোর্ডের উদ্যোগে আজ তারা বাংলা প্রথমপত্র পরীক্ষায় অংশ নিতে সক্ষম হন। এদিকে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রতারণার ঘটনায় তদন্ত সাপেক্ষে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. মামদুদুর রহমান। তবে এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।
চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের খাটরা বিলওয়াই এলাকার তরুণ জুম্মান তপদার এখন যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী (ইউএস আর্মি)-এর সদস্য। বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এই তরুণের এমন অর্জনে আনন্দিত তার পরিবার, স্বজন ও এলাকাবাসী। জুম্মান তপদার খাটরা বিলওয়াই গ্রামের তপদার বাড়ির বাসিন্দা। তিনি বিল্লাল হোসেন তপদার ও শাহনাজ বেগম দম্পতির ছোট ছেলে। পাঁচ সদস্যের পরিবারে তাঁর দুই বোন ও এক ভাই। পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জীবিকার তাগিদে ২০২৩ সালের জুনে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান জুম্মান। নতুন দেশে গিয়ে নিজের ভবিষ্যৎ গড়ার পাশাপাশি ইউএস আর্মিতে যোগ দেওয়ার স্বপ্ন দেখেন তিনি। সেই লক্ষ্য পূরণে কঠোর পরিশ্রম ও অধ্যবসায়ের পাশাপাশি ইউএস আর্মিতে যোগদানের জন্য প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়াগুলো সম্পন্ন করেন জুম্মান। একপর্যায়ে সফলভাবে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার সুযোগ পান তিনি। জুম্মানের এই অর্জনে উচ্ছ্বসিত তার পরিবার ও স্বজনেরা। স্থানীয় বাসিন্দারাও তাঁর সাফল্যকে হাজীগঞ্জের জন্য গর্বের বিষয় হিসেবে দেখছেন। তাঁরা জুম্মানের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ ও কর্মজীবনের সাফল্য কামনা করেছেন। জুম্মানের পরিবারের সদস্যরা বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন। তাঁর এই অর্জন শুধু ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, পরিবার ও নিজ এলাকার জন্যও সম্মানের বলে মনে করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
নির্দলীয় প্রতীকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নিতে চায় জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনে সরকার ও নির্বাচন কমিশনকে নিরপেক্ষ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন বিরোধীজোটের শীর্ষ নেতারা। একইসঙ্গে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের নির্বাচন করার সুযোগ বহাল রাখার আহ্বান জানান জামায়াতের সেক্রেটারি জেনালের মিয়া গোলাম পরওয়ার। ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ভেঙে পড়ে স্থানীয় প্রশাসন। সিটি কর্পোরেশন ও জেলা পরিষদসহ স্থানীয় সরকারের নানা পর্যায়ে প্রশাসক নিয়োগ দেয় অন্তবর্তী সরকার। পরে সেসব পদে দলীয় নেতাদের নিয়োগ দেয় বিএনপি সরকার। এমন পরিস্থিতিতে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের কথা বলছে সরকার। এ জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে ৬ হাজার কোটি টাকা। স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম বলেন, পাঁচটি নির্বাচন করার জন্য; সিটি কর্পোরেশন, জেলা পরিষদ, উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়নের জন্য টাকা রাখা আছে। নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নির্দলীয় প্রতীকে নির্বাচন করতে চায় জামায়াত ইসলামী। এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের নির্বাচন করার সুযোগ রাখার আহ্বান দলটির। জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, নির্বাচনমুখী দল হিসেবে আমরা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করব। সে নির্বাচন হতে হবে নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ। কিন্তু আমরা এখন সন্দেহের মধ্যে আছি। আস্থা রাখতে পারছি না, যতক্ষণ না পর্যন্ত সরকার নির্বাচন নিরপক্ষে করার ক্ষেত্র তৈরি করবে। তারা নির্বাচন কমিশনেই দলীয় নিয়োগ দিয়ে ফেলেছে। দলীয় প্রশাসকদের সরিয়ে সুষ্ঠু ভোটের পরিবেশ তৈরির আহ্বান জানিয়েছেন এনসিপি নেতা আখতার হোসেন। তিনি বলেন, জেলা পরিষদ, ইউনিয়ন পরিষদেও তারা তাদের লোককে বসিয়েছে। এর বাইরে সাংবিধানিক, স্বায়ত্তশাসিত ও বিভিন্ন যে সংস্থা আছে এসব জায়গায় তাদের দলীয় লোক আছে। এর আগে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী সাংবাদিকদের জানান, এবার স্থানীয় সরকার নির্বাচন হবে নির্দলীয় প্রতীকে।
এলএনজি কার্গো আসায় আপাতত গ্যাস সরবরাহ কিছুটা বাড়লেও দেশের জ্বালানি সংকট একেবারে স্বাভাবিক হচ্ছে না। তৃতীয় এলএনজি টার্মিনাল চালু না হওয়া পর্যন্ত গ্যাসের সরবরাহ স্বাভাবিক পর্যায়ে নিয়ে আসা কঠিন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। সরকারের পক্ষ থেকেও বলা হয়েছে, নতুন একটি টার্মিনাল নির্মাণ ও চালু করতে অন্তত দুই বছর সময় লাগতে পারে। ফলে ততদিন খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়েই চলতে হবে জ্বালানি খাতকে। স্থায়ী সমাধানে নতুন টার্মিনাল নির্মাণের পাশাপাশি গ্যাস অনুসন্ধানেও জোর দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। অগ্নিকাণ্ডের পর প্রকট সংকট গত ২১ জুলাই মহেশখালীর এক্সিলারেট এনার্জির এলএনজি টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ডের পর দেশে জ্বালানি সংকট প্রকট আকার ধারণ করে। একদিকে গ্যাসের সংকট, অন্যদিকে গ্যাসের অভাবে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোও ঠিকমতো চলতে পারেনি। এতে এ খাতের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়। পরে টার্মিনালটি মেরামত করে চালু করা হলেও এলএনজি কার্গো না থাকায় আবার গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। এতে দেশের দৈনিক গ্যাস সরবরাহে বড় ঘাটতি তৈরি হয়। এর প্রভাব পড়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন, শিল্প ও সার্বিক জ্বালানি ব্যবস্থাপনায়। সরকারের পক্ষ থেকে পরিস্থিতি তুলে ধরে জনগণের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করা হয়। খোদ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও দুঃখ প্রকাশ করে বার্তা দেন। এ ঘটনার এক মাস পেরিয়ে গেলেও সংকট এখনও পুরোপুরি কাটেনি। এমনকি আজ রবিবার (২৩ আগস্ট) পেট্রোবাংলার সন্ধ্যা ৬টার হিসাবে, মোট গ্যাস সরবরাহ করা হয়েছে ২ হাজার ৩৮২ মিলিয়ন ঘনফুট। এর মধ্যে দেশীয় উৎস থেকে ১ হাজার ৬২৪ এবং এলএনজি থেকে সরবরাহ আরও বেড়ে ৭৫৮ মিলিয়ন ঘনফুট পাওয়া গেছে। দৈনিক ঘাটতি ১ হাজার ৩০০ মিলিয়ন ঘনফুট পেট্রোবাংলার হিসাবে, এখন দেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৪ হাজার মিলিয়ন ঘনফুট। স্বাভাবিক সময়েও সর্বোচ্চ ২ হাজার ৬০০ থেকে ২ হাজার ৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে। এর মধ্যে এলএনজি থেকে ১ হাজার এবং বাকি ১ হাজার ৬০০ মিলিয়ন আসে দেশীয় গ্যাস থেকে। অর্থাৎ দৈনিক ঘাটতির পরিমাণ ১ হাজার ৩০০ মিলিয়ন ঘনফুট। এই পরিস্থিতিতে দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন আরও কমে গেলে সংকট বাড়তে থাকবে। আবার সরকার মহেশখালীতে একাধিক টার্মিনাল নির্মাণ করবে, সেই ব্যবস্থাও নেই। মহেশখালী থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত যে পাইপলাইন রয়েছে, তা দিয়ে আর ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুটের বেশি গ্যাস আনা সম্ভব নয়। অর্থাৎ মহেশখালীতে তৃতীয়টির পর চতুর্থ টার্মিনাল নির্মাণ করতে হলে একই সঙ্গে নতুন পাইপলাইন নির্মাণেরও উদ্যোগ নিতে হবে। যা ব্যয় ও খরচসাপেক্ষ বলে মনে করা হয়। সরকারের বক্তব্য গত ১৬ আগস্ট এক অনুষ্ঠানে দেশের চলমান বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকট দ্রুত সমাধান হওয়ার সম্ভাবনা নেই বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, ছয় মাস কিংবা এক বছরের মধ্যে এ সংকটের স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে অন্তত ২ বছর সময় লাগতে পারে। তিনি বলেন, ‘গ্যাস ও বিদ্যুৎ নিয়ে সমস্যা হচ্ছে। ৬ মাস কিংবা ১ বছরে এর সমাধান হবে না। ন্যূনতম দুই বছর লাগবে। একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল তৈরি করতেই প্রায় দেড় থেকে দুই বছর সময় লাগতে পারে। ফলে এর আগে গ্যাস সংকটের স্থায়ী সমাধান করা কঠিন।’ এর আগে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু গত ১৩ আগস্ট এক অনুষ্ঠানে বলেন, আগামী ২০২৯ সালের মধ্যে দেশে আরও নতুন এফএসআরইউ স্থাপন এবং অভ্যন্তরীণ গ্যাস অনুসন্ধান বাড়াতে সরকার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে। বর্তমান সংকট সাময়িক এবং সরকার মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধকালীন তৎপরতার মতো পরিস্থিতি কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি আরও বলেন, গত ১৭ বছর অনুসন্ধান না করে শুধু আমদানির ওপর ভিত্তি করে দেশটাকে একটি জায়গায় নিয়ে আসা হয়েছে। আবার আমদানির জন্য হলেও যদি ইনফ্রাস্ট্রাকচারটা তৈরি ঠিকমতো করতো, দুটো এফএসআরইউর জায়গায় যদি চারটি এফএসআরইউ বসাতো, তাহলে আজকে এই সমস্যাটা দেখতে হতো না। আমেরিকা থেকে একটি বড় দল বিনিয়োগের জন্য আসছে, তারা এফএসআরইউতে বিনিয়োগ করতে চায়। তাদের আগ্রহের বিষয়ে দ্রুত চিঠি দিতে অনুরোধ করা হয়েছে। নতুন টার্মিনালে গ্যাস পেতে দুই বছর জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানায়, সরকার মহেশখালীতে নতুন একটি এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে। চীনা কোম্পানি সিএনইসিকে কাজ দেওয়ার বিষয়টি অনুমোদন হলেও এখনও চুক্তি সই হয়নি। চীনা কোম্পানিটি চুক্তি সইয়ের পর ২২ মাসের মধ্যে টার্মিনাল নির্মাণ শেষ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। ফলে দ্রুত চুক্তি হলেও নতুন টার্মিনাল থেকে গ্যাস পেতে প্রায় দুই বছর বা তার চেয়ে বেশি সময় প্রয়োজন হতে পারে। তবে এর মধ্যে দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন কমে গেলে সংকট বাড়তে পারে। দেশীয় গ্যাসেও তাৎক্ষণিক সমাধান নেই নিজস্ব গ্যাস উৎপাদন বাড়িয়েও তাৎক্ষণিক সংকট সমাধানের সুযোগ নেই। স্থলভাগে বড় কোনও গ্যাস খনি পাওয়ার সম্ভাবনা নেই। এমনকি যেসব খনি থেকে গ্যাস তোলা হচ্ছে, প্রায় প্রতিদিনই সেখানকার উৎপাদনের পরিমাণ কমছে। দেশের সবচেয়ে বেশি গ্যাস উৎপাদনকারী বিবিয়ানা গ্যাসক্ষেত্রের উৎপাদন এখন গত তিন বছরের তুলনায় ৪৫০ মিলিয়ন ঘনফুট কমে গেছে। সূত্র জানায়, দেশের দেশীয় গ্যাসক্ষেত্রগুলোর দৈনিক উৎপাদন ক্ষমতা ২ হাজার ৭৫৪ মিলিয়ন ঘনফুট। এর বিপরীতে ২০-২১ আগস্টের হিসাবে এসব গ্যাসক্ষেত্র থেকে গ্যাস উৎপাদন হয়েছে ১ হাজার ৬২৯ দশমিক ৮ মিলিয়ন ঘনফুট। অর্থাৎ মোট উৎপাদন সক্ষমতার প্রায় ৫৯ শতাংশ গ্যাস উত্তোলন করা হয়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি লিমিটেডের (বিজিএফসিএল) গ্যাসক্ষেত্রগুলোর দৈনিক উৎপাদন ক্ষমতা ৮৫১ মিলিয়ন ঘনফুট। এর বিপরীতে উৎপাদন হয়েছে ৪৭৪ দশমিক ১ মিলিয়ন ঘনফুট। সিলেট গ্যাস ফিল্ডস লিমিটেডের (এসজিএফএল) সক্ষমতা ১৪৩ মিলিয়ন ঘনফুট হলেও উৎপাদন হয়েছে ১৩৮ দশমিক ৭ মিলিয়ন ঘনফুট। আর বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেডের (বাপেক্স) গ্যাসক্ষেত্রগুলোর ১৪৫ মিলিয়ন ঘনফুট সক্ষমতার বিপরীতে উৎপাদন হয়েছে ১১০ দশমিক ৩ মিলিয়ন ঘনফুট। আন্তর্জাতিক কোম্পানিগুলোর পরিচালিত জালালাবাদ, মৌলভীবাজার, বিবিয়ানা ও বাঙ্গুরা গ্যাসক্ষেত্র মিলিয়ে এসব ক্ষেত্রের দৈনিক উৎপাদন ক্ষমতা ১ হাজার ৬১৫ মিলিয়ন ঘনফুট। এর বিপরীতে উৎপাদন হয়েছে ৯০৬ দশমিক ৭ মিলিয়ন ঘনফুট। শুধু টার্মিনাল নয়, দরকার গ্যাস অনুসন্ধানও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কেবল টার্মিনাল বানালেই হবে না। গ্যাস কেনার জন্য পর্যাপ্ত অর্থও থাকতে হবে। আমদানি নির্ভরতা যত বাড়বে, জ্বালানি আমদানিতে ব্যয় তত বাড়বে। সে জন্য বিকল্প চিন্তাও করতে হবে। সরকার অবশ্য নবায়নযোগ্য জ্বালানির বিস্তারে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে। তবে সেটিও সময় ও ব্যয়সাপেক্ষ বিষয়। এর বাইরে দেশীয় উৎপাদনও বাড়াতে হবে। যেসব বিদ্যমান খনি রয়েছে, সেখানকার উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি ডিপ ড্রিলিং, নতুন খনি খোঁজা এবং সাগরে অনুসন্ধান জোরদার করতে হবে। যদি সাগরে গ্যাস অনুসন্ধান শুরু হয়, তাহলে ১০ বছরের আগে গ্যাস গ্রিডে আনার সম্ভাবনা ক্ষীণ। জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক এম শামসুল আলম মনে করেন, গ্যাস সংকট কাটাতে নেওয়া বড় উদ্যোগগুলোর সুফল পেতে দুই থেকে পাঁচ, এমনকি সাত বছরও সময় লাগতে পারে। তবে প্রতি বছর পাঁচ-ছয়টি করে গ্যাসকূপ অনুসন্ধান করা গেলে এবং যদি গ্যাস পাওয়া যায়, তাহলে পাঁচ বছরের মধ্যে গ্যাসের অভাব অনেকটাই দূর করা সম্ভব।
সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পদে যোগ দেওয়া কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের আল-হাদিস অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক মো. জাকির হুসাইন মাত্র ১২ বছর বয়সে দাখিল পাস করেছেন। তিনি মাদ্রাসা বোর্ড ঢাকার অধীনে বোয়াইলমারী কামিল মাদ্রাসা পাবনা থেকে ১৯৭৫ সালে ২য় বিভাগে দাখিল পাস করেন। জাতীয় পরিচয় পত্রে অধ্যাপক মো. জাকির হুসাইন জন্ম ১৯৬৩ সালের এক মার্চ। এছাড়াও তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৮৫ সালে বি.এ অনার্স আরবি এবং একই বছরে মাদ্রাসা বোর্ড হতে মাদ্রাসা-ই-আলিয়া থেকে কামিল (স্নাতকোত্তর) শ্রেণিতে তাফসির বিষয়ে ২য় বিভাগ পেয়ে পাস করেছেন। মাত্র ১২ বছর বয়সে তিনি কিভাবে দাখিল পাস করলেন- সেটি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ভিসি প্রার্থীর তালিকায় থাকা একজন শিক্ষক। তবে তিনি তার নাম প্রকাশ করতে চাননি। একজন রেগুলার ছাত্র একই বছরে কিভাবে দুটি ডিগ্রি নিয়েছেন ও উপাচার্য নিয়োগর পাওয়ার জন্য যে গবেষণা থাকা দরকার সেটি উনার নেই বলে জানান ওই শিক্ষক। এসব বিষয়ে সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. জাকির হুসাইন বলেন, ‘‘তখনকার সময় মাদ্রাসা বোর্ডে ১২ বছরে দাখিল পরীক্ষা দেওয়া যেত, আপনি খোঁজ নিয়ে দেখেন। আমি ১২ বছরে দাখিল পাস করেছি। তখনকার সময় মাদ্রাসা শিক্ষা এখনকার মত ছিল না।’’ একই বছরে দুটি পরীক্ষায় পাসের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘‘আনার্স আর তাফসির দুটির সাল এক। আমি আনার্স ফাইনাল পরীক্ষা দিয়েছি ৮৯ সালে আর রেজাল্ট হয়েছে ৯০ সালে। কামিল তাফসির বিষয়ে পাস করেছি ৮৫ সালে। দুটি পরীক্ষার ভর্তির সময়টা এক। আমার সার্টিফিকেটগুলো দেখলে বুঝতে পারবেন।’’ অধ্যাপক মো. জাকির হুসাইন বলেন, ‘‘আগে মাদ্রাসা বোর্ডে দাখিল, আলিম ও ফাজিল পাস করার পর এসএসসির সমমান ধরা হত। বর্তমানে দাখিলকে এসএসসির সমান, আলিম এইচএসসি ও ফাজিল স্নাতক ডিগ্রির সমমান ধরা হয়। তখনকার সময় মাদ্রাসা বোর্ডে এখনকার মত ছিল না।’’ সিলেট সরকারি আলিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ প্রফেসর মুহাম্মদ মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘‘মাদ্রাসা বোর্ড গঠনের পর দাখিলকে এসএসসির সমমান দেওয়া হয়েছে। বোর্ড গঠনের আগে দাখিলকে অষ্টম শ্রেণি ধরা হত।’’ সদ্য ভিসি নিয়োগ পাওয়া এক ভিসি দাবি করেছেন আগে দাখিল-ফাজিল-আলিম সমান এসএসসি ধরা হতো এই বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করতে চাননি। শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকর্ম বিভাগের অধ্যাপক ডক্টর মোহাম্মদ আব্দুল জলিল বলেন, ‘‘সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনে আছে একজন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞ শিক্ষক ভিসি হবেন। কিন্তু যিনি ভিসি হয়েছেন উনি ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষক। সুনামগঞ্জ হাওর অধ্যুষিত এলাকা, উনি হাওরের কৃষ্টি-কালচারের বিষয়টি বুঝবেন না।’’ সুনামগঞ্জের অনেক যোগ্য মানুষ রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘‘‘সরকারের উচিত সুনামগঞ্জের একজন যোগ্য মানুষকে ভিসি নিয়োগ দেওয়া। এতে তিনি সুনামগঞ্জের লিডারশিপ ও স্থানীয়দের মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করতে পারবেন। দেখেন বিশ্ববিদ্যালয়টি বয়স ৬ বছর হলেও এখনও জায়গা নির্ধারণের বিষয়টি সমাধান হয়নি। সুনামগঞ্জের একজন ভিসি হলে এটি দ্রুত সমাধান হয়ে যেত।’’ সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির সদস্য ও জেলা সদরে বিশ্ববিদ্যালয় বাস্তবায়ন পরিষদের সদস্য সচিব মনোজ্জির আলী সুজন বলেন, ‘‘উনি ১২ বছর বয়সে একজন মানুষ দাখিল পাস করেছেন এটা তো অবিশ্বাস্য। ভিসি নিয়োগে আমাদের দাবি ছিল সুনামগঞ্জের যোগ্য একজন মানুষকে ভিসি হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার। আমাদের অনেক যোগ্য মানুষ রয়েছেন। এই বিশ্ববিদ্যালয়টা নতুন, তাই এটাতে সুনামগঞ্জের একজন মানুষ নিয়োগ হলে সবকিছু বুঝতেন।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘দেখেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ভিসি ছিলেন অধ্যাপক ড. ছদরুদ্দিন আহমদ চৌধুরী। তিনি সিলেটের মানুষ হওয়ার কারণে বিশ্ববিদ্যালয়টিকে একটা ভালো অবস্থানে নিয়ে যান প্রথম দিকেই। উনি তো বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির শিক্ষক না, বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনে আছে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির শিক্ষককে ভিসি নিয়োগ দেওয়ার। তারপরও যেহেতে উনার নিয়োগ হয়েছে, আমরা আশা করছি, উনি সবাইকে নিয়ে কাজ করবেন। সুনামগঞ্জের মানুষের বিষয়টি বুঝবেন।’’ এদিকে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে অন্য বিষয়ের অধ্যাপককে উপাচার্য পদে বসিয়েছে সরকার; যা আইনের ‘সাংঘর্ষিক’। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনে উপাচার্য পদে ‘বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রের শিক্ষাবিদকে’ দায়িত্ব দেওয়ার কথা বলা হলেও তা মানা হয়নি। একটি প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পদে বসানো হয়েছে আল-হাদিস বিষয়ের একজন অধ্যাপককে। ‘সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন ২০২০’ এ উপাচার্য নিয়োগের বিষয়টি আছে ১০ নম্বর ধারা। এই ধারার উপধারা-২ এ বলা হয়েছে, “আচার্য (রাষ্ট্রপতি), তৎকর্তৃক নির্ধারিত শর্তে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রে স্বনামধন্য একজন শিক্ষাবিদকে চার বছরের জন্য উপাচার্য পদে নিয়োগ দেবেন। তবে কোনো ব্যক্তি একাদিক্রমে বা অন্য কোনোভাবে দুই মেয়াদের বেশি উপাচার্য পদে যোগ্য হবেন না।” একই ধারার উপধারা-২ এ বলা হয়েছে, “উপধারা ১-এ যা কিছুই থাকুক, আচার্যের সন্তোষ অনুযায়ী উপাচার্য স্বপদে অধিষ্ঠিত থাকবেন।” এ বিষয়ে অধ্যাপক মো. জাকির হুসাইন বলেছেন, “বিশ্ববিদ্যালয় আইনে উপাচার্য নিয়োগের বিষয়ে যাই থাকুক না কেন, চ্যান্সেলর হিসেবে রাষ্ট্রপতি যাকে উপাচার্য পদের দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়ে সম্মত হবেন, তিনিই এ দায়িত্ব পাবেন।” সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইনের উপাচার্য নিয়োগের বিষয়টি তুলে ধরা হলে জাকির হুসাইন বলেন, “আমি তো নিজেই উপাচার্য হইনি। যারা আমাকে এ দায়িত্ব দিয়েছেন, তাদের জিজ্ঞাসা করুন। যারা আমাকে এ দায়িত্ব দিয়েছেন, তারা আইন ও বিধিবিধান পর্যালোচনা করেই দিয়েছেন বলে আমি মনে করি।” সার্চ কমিটির সদস্য ছিলেন ইউজিসির সাবেক সদস্য অধ্যাপক মোহাম্মদ তানজীমউদ্দিন খান। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের এ অধ্যাপক গত ২৩ এপ্রিল ইউজিসির সদস্যপদ থেকে পদত্যাগ করেন। অন্য বিভাগের অধ্যাপককে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পদে বসানোর বিষয়টি ‘আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক’ হিসেবে অভিহিত করেছেন তিনি। তিনি বলেন, “এটি হাস্যকর। এ থেকে বোঝা যায়, যারা বিশ্ববিদ্যালয়টির উপাচার্য পদের দায়িত্ব তাকে দিয়েছেন, তারা বিশ্ববিদ্যালয়টির আইন সম্পর্কে অবগত নন। “একটি প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য পদের দায়িত্ব বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রের একজন শিক্ষাবিদেরই পাওয়া উচিত। যতদূর জানি আইনেও সেরকমটা আছে। কারণ ওই প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়টিকে নেতৃত্ব দিতে সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের যে ধরনের গবেষণা, প্রশিক্ষণ বা যোগ্যতা প্রয়োজন, তা অন্যদের থাকবে না, সেটাই স্বাভাবিক।” তিনি বলেন, “এ থেকে আরও বোঝা যায়, বর্তমান সরকার উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে শৃঙ্খলা ও জবাবদিহিতা ফেরানোর যে কথা মুখে বলছে, বাস্তবে সে পথ থেকে উল্টো দিকেই হাঁটছে। সরকার যদি তার কথায় থাকত, তাহলে এমন ঘটনা আমরা দেখতাম না।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।