গাজীপুরে বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার বিস্ফোরণের পর একটি বহুতল ভবনে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। এতে তিনজন দগ্ধ হয়েছেন। বুধবার (১১ মার্চ) রাত পৌনে ১১টার দিকে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার মাওনা চৌরাস্তায় ‘সাহিদ সুপার ভিউ’ নামের একটি ভবনের সামনে এ ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হঠাৎ বিকট শব্দে বৈদ্যুতিক খুঁটির ট্রান্সফরমারটি বিস্ফোরিত হয়। বিস্ফোরণের সঙ্গে সঙ্গে আগুনের ফুলকি চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে এবং মুহূর্তের মধ্যেই এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে সেই আগুনের ফুলকি পাশের বহুতল ভবনের কয়েকটি কক্ষে গিয়ে পড়লে সেখান থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়। দগ্ধরা হলেন—রবিউল ইসলাম (২৫), জাকির হোসেন (৩২) ও ইয়াসিন (৩৭)। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে প্রথমে শ্রীপুরের আল হেরা হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়। পরে তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল হয়ে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দারা জানান, ‘সাহিদ সুপার ভিউ’ ভবনের নিচতলায় বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এর মধ্যে একটি বেসরকারি ব্যাংকের শাখাও রয়েছে। ভবনের তৃতীয় তলা থেকে সপ্তম তলা পর্যন্ত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের গুদাম ও ভাড়া দেওয়া ফ্ল্যাট রয়েছে। ট্রান্সফরমার বিস্ফোরণের পর আগুনের ফুলকি ছিটকে ভবনের কয়েকটি কক্ষে গিয়ে পড়ায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় আশপাশে থাকা লোকজন আতঙ্কিত হয়ে ছুটাছুটি শুরু করলে তিনজন দগ্ধ হন এবং আরও কয়েকজন সামান্য আহত হন। ঘটনার পর মাওনা-শ্রীপুর আঞ্চলিক সড়কে প্রায় এক ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ ছিল। এতে এলাকায় তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়। নিরাপত্তাজনিত কারণে সাময়িকভাবে আশপাশের এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগও বিচ্ছিন্ন করা হয়। ফলে কিছু সময়ের জন্য ইন্টারনেট সেবাও বিঘ্নিত হয় বলে স্থানীয়রা জানান। খবর পেয়ে শ্রীপুর ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। প্রায় আধা ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। শ্রীপুর ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কর্মকর্তা নূরুল করিম জানান, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পাঠানো হয় এবং দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। দগ্ধ ব্যক্তিদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। শ্রীপুর থানার পরিদর্শক (অপারেশন) সঞ্জয় সাহা জানান, ট্রান্সফরমার বিস্ফোরণের পর আগুনের ফুলকি ছিটকে পড়ায় কয়েকজন দগ্ধ হন। আতঙ্কের কারণে ছুটাছুটি করতে গিয়ে আরও কয়েকজন সামান্য আহত হয়েছেন। ঘটনার পর এলাকায় কিছু সময়ের জন্য আতঙ্ক তৈরি হলেও বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। ট্রান্সফরমার বিস্ফোরণের সঠিক কারণ জানতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্ত করছে।
মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সৌদি আরবের মক্কায় সড়ক দুর্ঘটনায় মফিজুর রহমান (৬৫) নামে এক প্রবাসী বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) রাতে তারাবির নামাজ শেষে বাসায় ফেরার পথে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত মফিজুর রহমান চট্টগ্রাম জেলার পটিয়া পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মাঝের ঘাটা এলাকার বাসিন্দা। জীবিকার তাগিদে তিনি দীর্ঘদিন ধরে মক্কায় বসবাস ও কর্মরত ছিলেন। নিহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার রাতে তারাবির নামাজ আদায় শেষে বাসায় ফিরছিলেন মফিজুর রহমান। এ সময় একটি দ্রুতগামী গাড়ি তাকে ধাক্কা দিলে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। জানা গেছে, এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি সৌদি আরবে কর্মরত ছিলেন। প্রবাসে মফিজুর রহমানের আকস্মিক মৃত্যুর খবর এলাকায় পৌঁছালে পটিয়া পৌরসভার মাঝের ঘাটা এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। দেশে তার স্ত্রী, দুই ছেলে, চার মেয়ে এবং নাতি-নাতনিসহ অসংখ্য স্বজন-শুভাকাঙ্ক্ষী রয়েছেন। নিহতের পরিবার মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য বাংলাদেশ দূতাবাসের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
চরফ্যাশনে জীবিত থাকা সত্ত্বেও জাতীয় পরিচয়পত্রে (এনআইডি) মৃত দেখানোয় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন এক কৃষক। ফলে বিভিন্ন সেবা গ্রহণে বিপাকে পড়েছেন তিনি। ভুক্তভোগী ওই ব্যক্তির নাম মো. ইসমাইল (৩৭)। তিনি চরফ্যাশন উপজেলার হাজারীগঞ্জ ইউনিয়নের চর ফকিরা গ্রামের মৃত আলি হোসেনের ছেলে। জানা গেছে, প্রায় চার মাস আগে চরফ্যাশন উপজেলা সদরের ফ্যাশন স্কয়ারের একটি দোকানে সিম কিনতে গেলে এনআইডি যাচাইয়ের সময় দোকানদার তাকে জানান যে, জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য অনুযায়ী আঙুলের ছাপ মিলছে না। পরে তিনি বিষয়টি নিয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাচন অফিসে যোগাযোগ করেন। তারা জানান, ‘তিনি জাতীয় পরিচয়পত্রে মৃত।’ বিষয়টি শুনে তিনি হতভম্ব হয়ে পড়েন। পরে নিজেকে জীবিত প্রমাণ করতে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ ২ মাস ধরে নির্বাচন অফিসে ঘুরলেও এখনো তিনি জীবিত হতে পারেননি। ফলে জীবিত থেকেও নিজেকে জীবিত প্রমাণ করতে বারবার নির্বাচন অফিসে যেতে হচ্ছে তাকে। চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আলীমুদ্দিন জানান, ‘বিষয়টি সমাধানের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। অনলাইন অনুমোদনের জন্য অপেক্ষা করা হচ্ছে। কেন্দ্রীয় অনুমোদন পেলেই ডাটাবেজে তাকে জীবিত দেখানো সম্ভব হবে।’ চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এমদাদুল হোসেন এ ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, ‘বিষয়টি অত্যন্ত অনাকাঙ্ক্ষিত। দ্রুত এই সমস্যার সমাধানে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’
সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী সকাল ৯টায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অফিসে উপস্থিত থাকতে হবে। এ বিষয়টি তদারকি করতে মানিকগঞ্জ জেলার সিংগাইর উপজেলায় কোনো রকম প্রটোকল ছাড়াই আকস্মিক সফর করেছেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী। বুধবার (১১ মার্চ ) সকাল ৯টায় সিংগাইর উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্সে তিনি এ আকস্মিক পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনের সময় দেখা যায়, উপজেলা নির্বাহী অফিসার, সিংগাইর, মানিকগঞ্জসহ অন্যান্য দপ্তরের প্রায় সকল কর্মকর্তা- কর্মচারী তাদের নিজ নিজ দপ্তরে যথাসময়ে উপস্থিত রয়েছেন। এ সময় উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে উপস্থিত বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে প্রতিমন্ত্রীর সংক্ষিপ্ত মতবিনিময় হয়। এসময় এলাকার সমস্যা, সম্ভাবনা ও প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুত কর্মসূচি বাস্তবায়ন বিষয়ে আলোচনা হয়। উপস্থিত কর্মকর্তারা জানান, সৌহার্দ্যপূর্ণ টিম স্পিরিট নিয়ে তারা কাজ করছেন।
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে সজিব নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন। নিহত সজিব মিরসরাই উপজেলার মঘাদিয়া ইউনিয়নের খোরমাওয়ালা গ্রামের শাহ আলামের ছেলে। তিনি মুরাদপুর ইউনিয়ন যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক শাহাবুদ্দিনের গ্যারেজে চাকরি করতেন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সকাল ১০টার দিকে মুরাদপুর ইউনিয়ন পরিষদের সামনে যুবদল নেতা শাহাবুদ্দিন ও আলিমের মধ্যে বাগবিতণ্ডা হয়। পরে ওই ঘটনার জেরে সন্ধ্যার দিকে শাহাবুদ্দিনের সমর্থকরা আলিমের ওপর হামলা চালায়। একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়। এ বিষয়ে আলিমের স্ত্রী তাহমিনা আক্তার অভিযোগ করে বলেন, এলাকাবাসী তার স্বামীকে আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার জন্য উৎসাহ দিচ্ছে। তবে ইউনিয়ন যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক শাহাবুদ্দিন তার স্বামীর জনপ্রিয়তা মেনে নিতে পারছেন না। মঙ্গলবার পরিষদে চাল বিতরণকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে বাগবিতণ্ডা হয়। তিনি আরও বলেন, সন্ধ্যায় শাহাবুদ্দিনের অনুসারীরা চারটি সিএনজি ও দুটি মোটরসাইকেল নিয়ে এসে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করে এবং হামলা চালায়। এ সময় এলাকাবাসী তাদের প্রতিহত করতে গেলে কয়েকজন আহত হন। আহতদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। অন্যদিকে শাহাবুদ্দিন বলেন, এলাকায় একটি রিকশার ব্যাটারি চুরির ঘটনায় সালিশি বৈঠক হয়েছিল। সেখানে তিনি ভুক্তভোগীর পক্ষে ছিলেন এবং আলিম চোরের পক্ষ নিয়েছিলেন। একপর্যায়ে ২০ হাজার টাকার মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসা হলে ১৫ দিনের জন্য ওই টাকার জামিনদার হন আলিম। কিন্তু দীর্ঘদিনেও টাকা না দেওয়ায় তাকে জিজ্ঞাসা করলে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। তিনি দাবি করেন, মঙ্গলবার তার এলাকায় একটি ইফতার মাহফিলের আয়োজন করা হয়। ইফতারের পর সজিবসহ কয়েকজন সমর্থক সিএনজিতে করে গোপ্তাখালীর দিকে যাওয়ার সময় আলিমের অনুসারীরা তাদের ওপর হামলা চালায়। ওই হামলাতেই সজিব নিহত হন। সীতাকুণ্ড মডেল থানার কর্মকর্তা মহিনুর ইসলাম বলেন, আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে সজিব নামে একজন নিহত হয়েছেন এবং ৭–৮ জন আহত হয়েছেন। সজিবের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। তিনি আরও জানান, ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে পুলিশ কাজ করছে।
রাজধানীর বাড্ডার পূর্বাঞ্চলে দেয়াল ধসে দুই শিশু নিহত হয়েছে। বুধবার (১১ মার্চ) বেলা সাড়ে ১১টার পূর্বাঞ্চল ১০ নম্বর লেনে এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত দুই শিশু হলো আয়েশা মনি (১০) ও নুসরাত জাহান মরিয়ম (৫)। এর মধ্যে আয়েশার বাড়ি কুমিল্লা জেলার বরুরা উপজেলায়। বাবা-মায়ের সঙ্গে সে পূর্বাঞ্চল ৮ নম্বর লেনে থাকেন। আর মরিয়মের বাড়ি কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার শালুয়াদি গ্রামে। হাসপাতালে মৃত আয়েশার বাবা মো. ইকবাল হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, দুপুরে বাসায় ছিলেন তিনি। এ সময় রাস্তায় খেলা করছিল শিশু দুটি। তাদের বাসার পাশেই একটি পুরাতন বাড়ি ভেঙে নতুন করে বাড়ি নির্মাণের কাজ চলছিল। বাড়িটির প্রাচীরের দেয়াল ভাঙা হয়নি। দেয়ালের ভেতরের দিকে রাখা ছিল ইট, বালু। শিশু দুটি যখন পাশে রাস্তায় খেলছিল, তখনই দেয়াল ধসে তাদের ওপর পড়ে। এতে চাপা পড়ে আয়েশা ও মরিয়ম। সঙ্গে সঙ্গে পথচারীরা তাদের দেয়ালের নিচ থেকে বের করেন। প্রথমে তাদের নিয়ে যাওয়া হয় স্থানীয় হাসপাতালে। সেখান থেকে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে এলে চিকিৎসক মৃত বলে জানান। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) মো. ফারুক গণমাধ্যমকে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, লাশ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে রাখা হয়েছে।
শরীয়তপুরের চরভাগা এলাকায় পদ্মা নদীর ডান তীর রক্ষা বাঁধের ‘সোনার বাংলা অ্যাভিনিউ’ অংশ থেকে জিওব্যাগ চুরির ঘটনায় জড়িতদের আগামী ১২ ঘণ্টার মধ্যে জিওব্যাগ ফিরিয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন শরীয়তপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য সফিকুর রহমান কিরণ। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জিওব্যাগ ফেরত না দিলে সংশ্লিষ্টদের বাড়ি বাড়ি তল্লাশি চালানো হবে এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সতর্ক করেন তিনি। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) শরীয়তপুরের সখিপুর থানা বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত ইফতার ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি সখিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)কে ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। সফিকুর রহমান কিরণ বলেন, পদ্মা নদীর ভয়াবহ ভাঙন থেকে চরভাগাসহ আশপাশের জনপদ রক্ষায় সরকার ডান তীর রক্ষা বাঁধ নির্মাণ ও সংরক্ষণে বিপুল অর্থ ব্যয় করছে। বাঁধের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে স্থাপন করা জিওব্যাগ নদীর তীব্র স্রোতের চাপ কমিয়ে বাঁধকে স্থিতিশীল রাখতে সহায়তা করে। কিন্তু কিছু অসাধু ব্যক্তি রাতের আঁধারে এসব জিওব্যাগ চুরি করে নিয়ে যাচ্ছে, যা বাঁধের নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি তৈরি করছে। তিনি আরও বলেন, যারা এই জিওব্যাগ চুরির সঙ্গে জড়িত, তাদের দ্রুত এসব অপকর্ম বন্ধ করতে হবে। অন্যথায় প্রশাসনের মাধ্যমে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং প্রয়োজন হলে অভিযান চালিয়ে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে। সংসদ সদস্য কিরণ বলেন, গত ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের আগে জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি তিনি অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করবেন। বিএনপির নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, দলের কেউ যদি কোনো অপকর্মে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে তদন্ত সাপেক্ষে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং দল থেকেও বহিষ্কার করা হবে। সখিপুর থানা বিএনপির আহ্বায়ক এস এম হামিদের সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব মাজহারুল ইসলামের সঞ্চালনায় আয়োজিত ইফতার ও দোয়া মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন শরীয়তপুর জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মাহফুজুর রহমান বাচ্চু সরকার, নড়িয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি মুন্সি শামসুল আলম দাদন, সখিপুর থানা যুবদলের সভাপতি মোস্তাক আহমেদ মাসুম বালা, সাধারণ সম্পাদক কামরুল হাসান রাজীব সরদারসহ নড়িয়া ও সখিপুরের বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। এছাড়াও বিভিন্ন ইউনিয়নের জনপ্রতিনিধি, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, সাংবাদিকসহ প্রায় পাঁচ হাজার মানুষ অনুষ্ঠানে অংশ নেন। ইফতার পূর্বে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনায় বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড প্রায় ৫৯২ কোটি টাকা ব্যয়ে ৫ দশমিক ৮ কিলোমিটার স্থায়ী ডান তীর রক্ষা বাঁধ নির্মাণকাজ শুরু করে, যা বর্তমানে চলমান রয়েছে।
নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁ–সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নান বলেছেন, দেশের ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের মূল শক্তি হলো যুবসমাজ। তরুণদের সংগঠিত ও সুসংহত একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তাই মাদক ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে সরকারের ঘোষিত জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়নে যুবদলকে অগ্রণী ভূমিকা রাখতে হবে। মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় সোনারগাঁ উপজেলার বারদী খেলার মাঠে উপজেলা যুবদলের উদ্যোগে আয়োজিত ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। আজহারুল ইসলাম মান্নান বলেন, মাদক সমাজকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে এবং তরুণ প্রজন্মকে বিপথে নিয়ে যাচ্ছে। এই ভয়াবহ সামাজিক ব্যাধি থেকে দেশকে মুক্ত করতে যুবদলসহ সচেতন যুবসমাজকে একযোগে সোচ্চার হতে হবে। তিনি বলেন, যুবদলের নেতাকর্মীরা যদি ঐক্যবদ্ধভাবে মাদক ও অপরাধের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়, তবে সমাজ থেকে মাদক অনেকাংশেই নির্মূল করা সম্ভব। তিনি আরও বলেন, মাদক ব্যবসা ও চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িতদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না। যেখানেই তাদের উপস্থিতি পাওয়া যাবে, সেখানেই প্রতিহত করতে হবে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে তুলে দিতে হবে। অপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে বলেও জানান তিনি। প্রশাসনের উদ্দেশ্যে এমপি মান্নান বলেন, মাদক ও অপরাধ দমনে প্রশাসনকে আরও কঠোর ভূমিকা পালন করতে হবে। কোনো তদবির বা প্রভাবের কাছে নতি স্বীকার না করে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে। অপরাধীদের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। ইফতার মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সোনারগাঁ উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ হোসেন, সিনিয়র সহ-সভাপতি কাজী নজরুল ইসলাম টিটু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সেলিম হক রুমি, নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবদলের আহ্বায়ক সাদেকুর রহমান সাদেক এবং সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক খাইরুল ইসলাম সজিবসহ স্থানীয় বিএনপি ও যুবদলের নেতাকর্মীরা।
বগুড়ায় ধানের তুষ ও নিম্নমানের পচা মরিচ সংরক্ষণের অভিযোগে দুই প্রতিষ্ঠানকে ৭০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) বেলা ১১টায় জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের অভিযানে এ জরিমানা করা হয়। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মেহেদী হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মঙ্গলবার (১০ মার্চ) বেলা ১১টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত বগুড়া জেলার ফতেহ আলী বাজারের ছাতা পট্টির গলিতে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, র্যাব-১২ ও পুলিশের যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়। তিনি বলেন, অভিযানকালে দোলন নামের একটি খুচরা মসলা বিক্রির দোকানে এক বস্তা ধানের তুষ এবং এক বস্তা পচা ও নিম্নমানের মরিচ সংরক্ষিত অবস্থায় পাওয়া যায়। এসব অপরাধের স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে দোকানের মালিক দোলনকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। অভিযানের সময় ‘মৌরী হলুদ’ নামে আরেকটি প্রতিষ্ঠানে নষ্ট ও নিম্নমানের হলুদ ভালো হলুদের সঙ্গে মিশ্রণ করতে দেখা যায়। এ অপরাধে প্রতিষ্ঠানটির মালিক রোকনুজ্জামানকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। তিনি আরও জানান, অভিযুক্ত দুই প্রতিষ্ঠানের কোনো ধরনের লাইসেন্স ছিল না। অভিযানে সার্বিক সহযোগিতা করেন কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)-এর সাধারণ সম্পাদক ফজিলাতুন্নেসা ফৌজিয়া। এ সময় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে সরকারের আইন ও বিধি মেনে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়।
চাঁদপুর-২ (মতলব উত্তর ও দক্ষিণ) আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ ড. মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন বলেছেন, অপরাধী যত প্রভাবশালীই হোক না কেন, কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়। মতলবের মাটিতে অপরাধ করে কেউ পার পাবে না। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) মতলব উত্তর উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের হরিনা গ্রামে স্কুলছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে নিহত জাকির হোসেনের বাড়ি পরিদর্শন শেষে তিনি এসব কথা বলেন। ড. মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন বলেন, সম্প্রতি মতলব এলাকায় ঘটে যাওয়া কয়েকটি অপ্রীতিকর ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে এ ক্ষেত্রে কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যেন হয়রানির শিকার না হন, সেদিকেও সতর্ক থাকতে হবে। তিনি আরও বলেন, মতলবের মাটিতে কোনো চাঁদাবাজ বা দুর্নীতিবাজের স্থান নেই। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসনকে কঠোর অবস্থানে থাকার আহ্বান জানান তিনি। এ সময় তিনি নিহত জাকির হোসেনের বাড়িতে গিয়ে শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং তাদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। নিহতের পরিবারকে ব্যক্তিগত তহবিল থেকে ২ লাখ টাকা সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দেন তিনি। এছাড়া জেলা বিএনপির সহ-কোষাধ্যক্ষ বশির সরকার নিহতের পরিবারকে ১ লাখ টাকা সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দেন। পরে বিকেলে তিনি মতলব উত্তর উপজেলার বাগানবাড়ী ইউনিয়নের রায়েরকান্দি গ্রামে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর চাঁদার দাবিতে হামলার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ বিষয়ে তিনি বলেন, হামলার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে কঠোর বিচারের মুখোমুখি করতে হবে। ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। এর আগে তিনি মতলব উত্তর উপজেলার ইসলামাবাদ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মরহুম মফিজুল ইসলাম মিয়াজীর কবর জিয়ারত করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় মতলব উত্তর থানার ওসি মো. কামরুল হাসান, জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ব্যারিস্টার ওবায়দুর রহমান টিপু, ছেংগারচর পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম প্রধান, উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি আ. গনি তফাদার, সাংগঠনিক সম্পাদক মিয়া মনজুর আমিন স্বপন, জেলা যুবদলের সহসভাপতি খায়রুল হাসান বেনু, উপজেলা যুবদলের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক রাশেদ জামান টিপু এবং পৌর যুবদলের আহ্বায়ক উজ্জ্বল ফরাজীসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে হবিগঞ্জ জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পরিবহন মালিক ও শ্রমিক সমিতির নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করেছে জেলা পুলিশ প্রশাসন। সভায় ঈদকে কেন্দ্র করে যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় না করার নির্দেশ দিয়েছেন হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার মোছা. ইয়াছমিন খাতুন। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) বিকেলে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় পুলিশ সুপার মোছা. ইয়াছমিন খাতুন বলেন, ঈদ উপলক্ষে যাত্রী হয়রানি কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের কোনো অভিযোগ পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিকভাবে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, ঈদের সময় সব পরিবহনে নির্ধারিত ভাড়াই আদায় করতে হবে। একইসঙ্গে লাইসেন্সপ্রাপ্ত চালক ও হেল্পার দিয়ে যানবাহন পরিচালনা এবং মহাসড়কে যানজট নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য পরিবহন মালিক ও শ্রমিক সমিতির নেতাদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। মতবিনিময় সভায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) সারোয়ার আলম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) শহিদুল হক মুন্সি, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বানিয়াচং সার্কেল) প্রবাশ কুমার সিংহ, পুলিশ পরিদর্শক (ট্রাফিক) আব্দুর নূরসহ জেলা পুলিশ প্রশাসনের কর্মকর্তারা এবং পরিবহন মালিক ও শ্রমিক সমিতির নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
সৌদি আরবে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত প্রবাসী বাচ্চু মিয়ার শোকসন্তপ্ত পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে নিহতের পরিবারের জন্য আর্থিক সহায়তা পাঠানো হয়েছে। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার জালালপুর ইউনিয়নের পশ্চিম ফেকামারা গ্রামে বাচ্চু মিয়ার বাড়িতে গিয়ে কিশোরগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো. জালাল উদ্দিন প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে এ সহায়তা তুলে দেন এবং তাদের খোঁজখবর নেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন- উপজেলা বিএনপির সভাপতি তোফাজ্জল হোসেন খান দিলীপ, সাধারণ সম্পাদক আরিফুর রহমান কাঞ্চন, পৌর বিএনপির সভাপতি আশরাফুল হক দাদন, জালালপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. রফিকুল ইসলাম রফিক, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মাহবুবুর রহমান মাসুদসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। মো. জালাল উদ্দিন জানান, প্রধানমন্ত্রী তার মাধ্যমে বাচ্চু মিয়ার পরিবারের খোঁজখবর নিচ্ছেন। বাচ্চু মিয়ার লাশ দেশে আনার জন্য যাবতীয় খরচ সরকার বহন করবে এবং বিদেশ থেকে ক্ষতিপূরণ আদায়েরও চেষ্টা করা হবে। তিনি বলেন, প্রবাসে কর্মরত অবস্থায় দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা একজন প্রবাসীর এমন মর্মান্তিক মৃত্যু অত্যন্ত দুঃখজনক। সরকার সবসময় প্রবাসী ও তাদের পরিবারের পাশে রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে। বাচ্চু মিয়ার পরিবার প্রধানমন্ত্রীর এ সহানুভূতি ও সহায়তার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে তারা দিশেহারা হয়ে পড়েছিল। এ অবস্থায় প্রধানমন্ত্রীর সহায়তা তাদের কিছুটা হলেও সাহস ও সান্ত্বনা জুগিয়েছে। উল্লেখ্য, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের সন্নিকটে মার্কিন সামরিক ঘাঁটির কাছে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় সৌদি প্রবাসী বাচ্চু মিয়া (৪০) নিহত হন। রোববার ইফতারের পূর্বে রিয়াদের নিকটবর্তী আল খারিজ এলাকায় আল তোয়াইক বলদিয়া কোম্পানির একটি শ্রমিক ক্যাম্পের ওপর মিসাইল হামলা হলে বাচ্চু মিয়াসহ কয়েকজন শ্রমিক নিহত হন।
বিয়ে না দেওয়ায় অভিমানে আত্মহত্যা করেছেন মুক্তারুল ইসলাম নামে এক যুবক। এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এ সংক্রান্ত স্ট্যাটাস দেন তিনি। সোমবার (৯ মার্চ) ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গীতে এ ঘটনা ঘটে। তাকে দিনাজপুর এম. আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার সময় পথিমধ্যে মারা যান। এর আগে উপজেলার ভানোর ইউনিয়নের করিয়া গ্রামের নিজ বাড়িতে ইঁদুর মারা গ্যাস ট্যাবলেট খান মুক্তারুল। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, একটি মেয়ের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক ছিল মুক্তারুল ইসলামের। ওই মেয়েটিকে বিয়ে করার জন্য তিনি পরিবারকে বারবার অনুরোধ করেন। তবে পরিবার তাকে আগে কোনো কাজ বা উপার্জনের ব্যবস্থা করার পর বিয়ে করার পরামর্শ দেয়। এ নিয়ে পরিবার ও তার মধ্যে মনোমালিন্য সৃষ্টি হয়। সোমবার রাতে তার দুলাভাই তাকে বোঝানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু কোনো কথা না শুনে রাতে কোনো একসময় মুক্তারুল ফেসবুকে ‘দেখা হবে হাসরের ময়দানে’ লিখে একটি স্ট্যাটাসে দেন। এরপর তিনি ইঁদুর মারা গ্যাস ট্যাবলেট সেবন করেন। পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে দিনাজপুর এম. আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। বালিয়াডাঙ্গী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বুলবুল ইসলাম জানান, পরিবারের আবেদনের প্রেক্ষিতে মরদেহ তাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
দিনাজপুরের হিলিতে জ্বালানি তেল বিক্রিতে অনিয়মের অভিযোগে দুই ব্যবসায়ীকে মোট ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। ওজনে কম দেওয়া এবং লাইসেন্স ছাড়া খোলা তেল বিক্রির দায়ে তাদের বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়। সোমবার বিকেলে হিলি বাজার ও হিলি স্থলবন্দরের চারমাথা মোড় এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করেন হাকিমপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অশোক বিক্রম চাকমা। অভিযানে সহযোগিতা করেন বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশনের দিনাজপুর কার্যালয়ের পরিদর্শক মীর মোহাম্মদ সাইফ আলী। অভিযান সূত্রে জানা যায়, ওজনে কম দিয়ে তেল বিক্রির দায়ে হিলি বাজারের ‘ফজলু ট্রেডার্স’ নামের একটি দোকানকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। একই সঙ্গে হিলি স্থলবন্দরের চারমাথা মোড় এলাকায় লাইসেন্স ছাড়া খোলা তেল বিক্রি করার অভিযোগে আরেক ব্যবসায়ীকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অশোক বিক্রম চাকমা জানান, দেশে তেলের সংকটকে কেন্দ্র করে কিছু ব্যবসায়ী লাইসেন্স ছাড়া খোলা তেল বিক্রি করছেন এবং কোথাও কোথাও ওজনে কম দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। এসব অভিযোগের ভিত্তিতেই ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সঠিক সরবরাহ ও ভোক্তাদের স্বার্থ রক্ষায় এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও নিয়মিতভাবে পরিচালনা করা হবে।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধী দলের চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানই বর্তমান সরকারের বৈধতার ভিত্তি। এই বৈধতা জুলাই সনদ আদেশের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। কোনো নির্বাচিত সরকার যেন এটি উপেক্ষা না করে। সোমবার (৯ মার্চ) বিকেলে খুলনা জেলা স্টেডিয়ামে এনসিপির প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দলটির খুলনা বিভাগীয় সাংগঠনিক কমিটির আয়োজিত ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। নাহিদ ইসলাম বলেন, যদি জাতীয় সংসদে পুরনো সংবিধানের দোহাই দিয়ে সংস্কার কার্যক্রম থেকে সরে দাঁড়ায় বা শপথ গ্রহণ এড়িয়ে যায়, তাহলে দেশে শুধু রাজনৈতিক সংকটই তৈরি হবে না, জুলাই গণঅভ্যুত্থান, নির্বাচন এবং অন্তর্বর্তী সরকারের বৈধতাও প্রশ্নবিদ্ধ হবে। এমন কোনো পদক্ষেপ জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া হাজারো মানুষের আত্মত্যাগ ও রক্তের সঙ্গে সরাসরি বেঈমানির শামিল হবে। তিনি আরও বলেন, ইফতার মাহফিলে যেভাবে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল একত্রিত হয়ে ঐক্যের বার্তা দিয়েছে, ঠিক একইভাবে সংসদেও ঐক্যবদ্ধ অবস্থান নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা সব অধ্যাদেশ বাস্তবায়ন করতে হবে। জুলাই সনদ আদেশ কার্যকর করেই নতুন বাংলাদেশ গঠনের পথে এগোতে হবে। উক্ত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার, খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু, এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, এমপি হাসনাত আব্দুল্লাহসহ অনেকে।
ঝিনাইদহ জেলা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক সাইদুর রহমানসহ সাতজনকে বাসে অগ্নিসংযোগের অভিযোগে আটক করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। রোববার দিবাগত রাত দুইটার দিকে শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়। আটকরা হলেন—সাইদুর রহমান (আহ্বায়ক), আশিকুর রহমান জীবন (সদস্য সচিব), তৌফিক হাসান (সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক), অন্তর হোসেন রিজু (যুগ্ম আহ্বায়ক), আবু হাসনাত তানাঈম (‘দ্য রেড জুলাই’-এর আহ্বায়ক), হুমায়ুন কবির (সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক) এবং একজন অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তি। ঝিনাইদহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহফুজ আলম জানান, বাসে আগুন দেওয়ার ঘটনায় সাতজনকে আটক করা হয়েছে। তারা কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জড়িত কি না তা যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। প্রসঙ্গত, শনিবার রাতে শহরের কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকার তাজ ফিলিং স্টেশনে একটি ঘটনায় যুবক নিরব হোসেন গুরুতর আহত হন এবং হাসপাতালে নেওয়ার পর তিনি মৃত্যুবরণ করেন। ঘটনার সূত্রপাত বোতলে তেল দেওয়ার ঘটনায় বাকবিতণ্ডা ও মারধর থেকে।
নেত্রকোনার মদনে নেশার টাকা যোগাতে নিজের শ্বশুর বাড়িতে চুরি করতে গিয়ে বাবাসহ আটক হয়েছেন জামাই। রোববার রাত এগারটায় মদন পৌর শহরের শ্যামলী এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। আটক ব্যক্তিরা হলেন ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার মধ্যবাজার এলাকার বরুণ চন্দ্র কর্মকার (৪৫) এবং তার ছেলে তরুণ চন্দ্র কর্মকার (২২)। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় দেড় বছর আগে তরুণ চন্দ্র কর্মকারের বিয়ে হয় অমূল্য চন্দ্র দাসের মেয়ের সঙ্গে। বিয়ের দুই মাস পর তিনি স্ত্রী ও বাবাকে নিয়ে শ্বশুরালয়ে চলে আসেন। পরে শ্যামলী রোডে ভাড়া বাসায় বসবাস শুরু করেন। অভিযোগ রয়েছে, তরুণ মাদকাসক্ত হয়ে পড়েন এবং এক সপ্তাহ আগে বাবার সঙ্গে মিলে শ্বশুরের বাসা থেকে লক্ষাধিক টাকার স্বর্ণালংকার চুরি করেছিলেন। রোববার রাতে পুনরায় নেশার টাকার জন্য শ্বশুরের ঘরে চুরি করতে গেলে স্থানীয়রা তাদের আটক করে পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ তাদের থানায় নিয়ে যায়। চুরি করা বিষয়ে তরুণ চন্দ্র কর্মকার বলেন, আমি আগে নেশা করতাম, এখন আর ইয়াবা খাই না। বাবা এক সপ্তাহ আগে শ্বশুরের ঘর থেকে স্বর্ণালংকার চুরি করেছিলেন। এটি আমাদের ঠিক হয়নি।” বাবা বরুণ চন্দ্র কর্মকার জানান, “টাকার চাপের কারণে স্বর্ণালংকার চুরি করেছি। এটি সঠিক হয়নি। ভুক্তভোগী অমূল্য চন্দ্র দাস বলেন, আমার জামাই নেশাগ্রস্ত। বিয়ের পর থেকে সে আমার মেয়ের সব স্বর্ণালংকার বিক্রি করেছে। এখন আবার বাবাসহ চুরি করেছে। মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছি। মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসনাত জামান বলেন, ঘটনাটি আত্মীয়দের মধ্যে হওয়ায় প্রাথমিকভাবে ভুক্তভোগী কোনো অভিযোগ দেননি। তারা আপস করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ভুক্তভোগীদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার বটতলা বাজার এলাকায় কর্মজীবী এক নারীকে প্রাইভেট কারে তুলে অপহরণের চেষ্টার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারীর বাড়িতে গিয়ে খোঁজখবর নিয়েছেন মৌলভীবাজার-৪ (কমলগঞ্জ–শ্রীমঙ্গল) আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ মুজিবুর রহমান চৌধুরী (হাজি মুজিব)। এ ঘটনায় জড়িত আসামিকে দ্রুত শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করতে পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। সোমবার (৯ মার্চ) ইফতারের পর তিনি দক্ষিণ বালিগাঁও এলাকার ভুক্তভোগী ফাতেমা পারভেজ নিশির বাড়িতে যান। এসময় স্থানীয় নেতাকর্মী, সাংবাদিক ও এলাকাবাসীকে সঙ্গে নিয়ে তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং বটতলা বাজারের সিসিটিভি ক্যামেরা-সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করেন। ঘটনাস্থল থেকে তিনি মৌলভীবাজারের পুলিশ সুপারকে (এসপি) ফোন করে অপহরণের চেষ্টার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় নিয়ে আসার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি স্থানীয়দের এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এমপি হাজি মুজিব বলেন, ‘ভুক্তভোগী মেয়েটি আমার এলাকার, আমার বোনের মতো। আমি পুলিশ সুপারকে বলেছি, দ্রুত ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। এ ধরনের অপরাধের বিষয়ে আমরা জিরো টলারেন্স।’
সংযুক্ত আরব আমিরাতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত মৌলভীবাজারের বড়লেখার বাসিন্দা সালেহ উদ্দিন ওরফে আহমদ আলীর মরদেহ গ্রামে পোঁছেছে। সোমবার (৯ মার্চ) সকালে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আহমদ আলীর মরদেহ পৌঁছালে তা গ্রহণ করেন শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। পরে প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে তিনি নিজেই মরদেহ মৌলভীবাজারের বড়লেখা পৌরসভার গাজিটেকা গ্রামে পৌঁছে দেন এবং পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করেন। এসময় দাফন-কাফনের জন্য প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ৮৫ হাজার টাকা, মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ১ লাখ টাকা এবং বড়লেখা উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ২০ হাজার টাকার অনুদানের চেক নিহতের পরিবারের হাতে তুলে দেন আরিফুল হক চৌধুরী। মরদেহ হস্তান্তরের পর আরিফুল হক চৌধুরী জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে তিনি দুবাইয়ে নিহত বড়লেখার সালেহ উদ্দিন ওরফে আহমদ আলীর মরদেহ নিয়ে তার বাড়িতে এসেছেন। সালেহ উদ্দিনের মৃত্যুর পর থেকেই পরিবারের খোঁজ-খবর নেওয়া হচ্ছে এবং মরদেহ দেশে আনার জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। মন্ত্রী বলেন, নিহত সালেহ উদ্দিনের পরিবারের জীবিকার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে সরকার। তার ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়া থেকে শুরু করে কর্মক্ষম সদস্যদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে। পরিবারের এক ছেলে অসুস্থ এবং স্ত্রী প্রতিবন্ধী। ছেলের চিকিৎসা ও স্ত্রীর প্রতিবন্ধী ভাতার ব্যবস্থা নিতে জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, প্রবাসে যারা আছেন, যুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন, আমরা সবাই বিষয়টি মনিটরিং করছি। যারা অসুস্থ আছেন, তাদের চিকিৎসা চলছে সেখানের (বিদেশে) হাসপাতালে। আরও তিনটা মরদেহ আছে। সেগুলো পরে আসবে। আমরা তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করব। তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানসহ আমাদের সরকার সবসময় প্রবাসীদের পাশে আছে। ভবিষ্যতেও থাকবে, ইনশাল্লাহ। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, সালেহ উদ্দিন ওরফে আহমদ আলী জীবিকার তাগিদে প্রায় ২৭ বছর আগে সংযুক্ত আরব আমিরাতে পাড়ি জমান। সেখানে তিনি আজমান শহরে বসবাস করতেন এবং পানি সরবরাহের গাড়ি চালানো কাজ করতেন। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইফতারের পর পানি সরবরাহ করতে গিয়ে ইরানের ছোড়া একটি ক্ষেপণাস্ত্র তার গাড়িতে পড়ে। এতে সালেহসহ আরও কয়েকজন গুরুতর আহত হন। পরে তাদের উদ্ধার করে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা সালেহকে মৃত ঘোষণা করেন।
লাকসাম পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের মিশ্রী এলাকায় অবস্থিত ছালেহীয়া আলিয়া দ্বীনিয়া মাদরাসা ও এতিমখানা ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। সোমবার (৯ মার্চ) রাত ৯টার দিকে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ১০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। ছালেহীয়া ও আলিয়া দ্বীনিয়া মাদরাসার প্রধান মোহতামিম মোহাম্মদ উল্লাহ অগ্নিকাণ্ডের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এলাকাবাসী, প্রত্যক্ষদর্শী, ফায়ার সার্ভিস ও মাদরাসা কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার সময় শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা মাদরাসার পাশের মসজিদে তারাবির নামাজ পড়ছিলেন। এসময় হঠাৎ এক শিক্ষার্থী মাদরাসায় দাউ দাউ করে আগুন জ্বলতে দেখে চিৎকার দেয়। পরে সবাই বেরিয়ে এসে লাকসাম ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সে সংবাদ দেন। সংবাদ পেয়ে লাকসাম ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে দীর্ঘ প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন। তবে ততক্ষণে আগুনে মাদরাসার ভেতরে থাকা নগদ অর্থ, আসবাবসহ সবকিছু পুড়ে ছাই হয়ে যায়। মাদরাসার বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী জানিয়েছেন, ঈদের জন্য কেনা তাদের নতুন জামা-কাপড়গুলো আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। মাদরাসার প্রধান মোহতামিম মোহাম্মদ উল্লাহ জানান, এই অগ্নিকাণ্ডের কমপক্ষে ১০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে তাদের। তিনি জানান, ঈদের জন্য কেনা শিক্ষার্থীদের নতুন জামা-কাপড়গুলো আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে যাওয়ায় বেশি কষ্ট লাগছে। লাকসাম ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সিনিয়র স্টেশন অফিসার মো. কবিরুল ইসলাম অগ্নিকাণ্ডের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিটের ফলে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। তিনি জানান, অগ্নিকাণ্ডের সংবাদ পেয়ে লাকসাম ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ফায়ার ফাইটাররা তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে পৌঁছে দীর্ঘ প্রচেষ্টায় আগুন নেভাতে সক্ষম হন। এতে অন্তত ১০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।
জ্বালানি তেলের অভাবে চট্টগ্রাম-সন্দ্বীপ নৌরুটে স্পিডবোট চলাচল অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। সোমবার (৯ মার্চ) সকাল থেকে এ রুটে কোনো স্পিডবোট চলাচল করেনি। এতে স্পিডবোটের অপেক্ষায় থাকা অনেক যাত্রী গন্তব্যে যেতে না পেরে ফিরে যেতে বাধ্য হয়েছেন। স্থানীয়দের ভাষ্য, প্রতিদিন এ নৌরুটে যাতায়াতকারী যাত্রীদের প্রায় ৯০ শতাংশই স্পিডবোট ব্যবহার করেন। দ্রুত যাতায়াতের কারণে এটি যাত্রীদের কাছে সবচেয়ে জনপ্রিয় নৌযান। তবে স্পিডবোট বন্ধ থাকলেও এ রুটে ফেরি, ট্রলার এবং এমভি মালঞ্চসহ অন্যান্য নৌযান স্বাভাবিকভাবে চলাচল করছে। হঠাৎ স্পিডবোট চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। কেউ কেউ বিকল্প নৌযানে গন্তব্যে পৌঁছালেও অনেকেই দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পর ফিরে যেতে বাধ্য হয়েছেন। ঢাকা থেকে সন্দ্বীপ যাওয়ার উদ্দেশ্যে রেলযোগে চট্টগ্রাম পৌঁছান যাত্রী মিজানুর রহমান টিটু। কিন্তু ঘাট কর্তৃপক্ষের ফেসবুক স্ট্যাটাসে স্পিডবোট চলাচল বন্ধের ঘোষণা দেখে তিনি হতাশা প্রকাশ করেন। মুঠোফোনে তিনি বলেন, “ঈদের আগে হঠাৎ করে স্পিডবোট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ঘাটে অনেক যাত্রী আটকে পড়ছেন। স্পিডবোট না থাকায় এখন বাধ্য হয়ে কাঠের বোট সার্ভিস বা মালবাহী বোটে করেই সন্দ্বীপ যেতে হবে।” বিআইডব্লিউটিএর অনুমোদিত প্রতিষ্ঠান আদিল এন্টারপ্রাইজের পরিচালক জগলুল হোসেন নয়ন জানান, এ রুটে স্পিডবোট চালাতে প্রতিদিন প্রায় তিন হাজার লিটার অকটেন তেলের প্রয়োজন হয়। তবে সরকারি সংস্থা মেঘনা অয়েল কোম্পানি থেকে তেল সংগ্রহের চেষ্টা করেও তারা তেল পাননি। তিনি বলেন, “আমরা তেল সংগ্রহের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। তবে কবে নাগাদ তেল পাওয়া যাবে তা এখনো নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।” এ বিষয়ে মেঘনা পেট্রোলিয়াম কোম্পানির উপমহাব্যবস্থাপক মো. লুৎফর রহমান বলেন, তেলের সংকট দীর্ঘস্থায়ী হবে না। ইতোমধ্যে চট্টগ্রাম বন্দরে তেলবাহী জাহাজ প্রবেশ করেছে এবং খুব শিগগিরই তেল সরবরাহ স্বাভাবিক হয়ে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।