সারাদেশ

ছবি: সংগৃহীত
রূপগঞ্জে ময়লার ভাগাড় উচ্ছেদ, গাছ লাগালেন প্রতিমন্ত্রী

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের ভুলতা গাউছিয়া সড়কের পাশে ময়লা-আবর্জনার স্তূপ অপসারণ করে বালু ফেলে গাছের চারা রোপণ করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। এ সময় তিনি বলেন, পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সরকার বদ্ধপরিকর। পরিবেশ রক্ষা ও টেকসই উন্নয়নে সবুজায়নের বিকল্প নেই। জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর যেকোনো ময়লার ভাগাড় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অপসারণ করতে হবে।   রোববার সকাল ১০টার দিকে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের রূপগঞ্জ উপজেলার ভুলতা গাউছিয়া সড়কের পাশে গড়ে ওঠা আবর্জনার স্তূপ আংশিক অপসারণ ও বালু ভরাট করে ফুল, ফলদ, ওষুধি ও বনজ গাছের চারা রোপণ করে কর্মসূচির উদ্বোধনের পর সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন। এ সময় নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া (দিপু), রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাইফুল ইসলাম, রূপগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি মাহফুজুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক হাজি বাছির উদ্দিন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।   প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, ‘শুধু ময়লার স্তূপ অপসারণ করলেই হবে না, ভবিষ্যতে যাতে এসব স্থানে আবার বর্জ্য ফেলা না হয়, সেদিকেও নজর রাখতে হবে। পরিবেশ রক্ষার এই আন্দোলনে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সামাজিক সংগঠন এবং সাধারণ জনগণকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। একটি গাছ শুধু পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে না, এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ পৃথিবী গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।’   সংসদ সদস্য মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, সড়কের পাশে ময়লার স্তূপ শুধু সৌন্দর্যহানি নয়, পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্যও ক্ষতিকর। আজকের এই উদ্যোগ এলাকার পরিবেশ উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। গাছ লাগানোর পাশাপাশি সেগুলোর পরিচর্যার দায়িত্বও সবাইকে নিতে হবে। সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি জনগণের অংশগ্রহণ ছাড়া পরিবেশ সংরক্ষণ সম্ভব নয়।   রূপগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ময়লা-আবর্জনার স্তূপ অপসারণ ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে ইউনিয়ন পরিষদের কর্মচারী, স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক ও এলাকাবাসী অংশ নেন। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে ভুলতা গাউছিয়ার ময়লা-আবর্জনার স্তূপ সম্পূর্ণ অপসারণ শেষে বালু ভরাট করে সেখানে গাছের চারা রোপণ করা হবে। পরে ময়লা-আবর্জনার স্তূপের আংশিক সরিয়ে বালু ভরাট করে সেখানে গাছের চারা রোপণ করে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ১৫, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
বিএনপি এমপির বাড়ির পর হাসপাতালসহ দুই সরকারি প্রতিষ্ঠানে চুরি

নাটোর-৩ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ আনোয়ারুল ইসলাম আনুর শহরের বাসভবনে দ্বিতীয় দফা বৈদ্যুতিক তার চুরির ঘটনার দুদিনের মাথায় এবার নাটোর সদর উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের কার্যালয় এবং নাটোর আধুনিক সদর হাসপাতালে চুরির ঘটনা ঘটেছে। সরকারি ছুটির সুযোগে দুর্বৃত্তরা দুটি প্রতিষ্ঠানে হানা দিয়ে কম্পিউটার, আইপিএস, পিসিসহ বিভিন্ন মূল্যবান সামগ্রী চুরি করে নিয়ে গেছে।   নাটোর সদর উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপ-সহকারী প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, গত বৃহস্পতিবার অফিসের কার্যক্রম শেষে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা যথারীতি কার্যালয় বন্ধ করে বাড়ি চলে যান। রোববার সকালে অফিস খুলে তারা দেখতে পান কক্ষের ভেতরের বিভিন্ন জিনিসপত্র তছনছ অবস্থায় পড়ে রয়েছে।   তিনি বলেন, দুর্বৃত্তরা অফিসের জানালার লোহার গ্রিল কেটে ভেতরে প্রবেশ করে। পরে কম্পিউটার, আইপিএস, পিসিসহ বেশ কিছু মূল্যবান মালামাল চুরি করে নিয়ে যায়।   এদিকে একই সময়ে নাটোর আধুনিক সদর হাসপাতালেও চুরির ঘটনা ঘটে। হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. মাহাবুবুর রহমান জানান, চোরেরা হাসপাতালের নতুন ছয়তলা ভবনের ২০১৮ নম্বর কক্ষের জানালার গ্রিল খুলে ভেতরে প্রবেশ করে। ওই কক্ষটিতে নাক, কান ও গলা (ইএনটি) বিভাগের চিকিৎসকরা নিয়মিত রোগী দেখেন।   স্থানীয় সূত্র জানায়, সম্প্রতি একই হাসপাতালের নতুন ভবনে এক শিশু রোগীর মাকে ধর্ষণের অভিযোগে তিন পরিচ্ছন্নতাকর্মী (সুইপার) গ্রেপ্তারের ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছিল। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই হাসপাতালটিতে নতুন করে চুরির ঘটনা উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।   রোববার জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। সভায় নাটোরের সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ মশিউর রহমান বলেন, নাটোর আধুনিক সদর হাসপাতালে ১৫ জন আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করলেও হাসপাতালের সীমানা প্রাচীর অনেক জায়গায় দুর্বল ও অরক্ষিত। ফলে বিভিন্ন দিক দিয়ে সহজেই হাসপাতাল চত্বরে প্রবেশ করা যায়। এ কারণে নানা ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটছে।   তিনি হাসপাতালের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার এবং সীমানা প্রাচীর সংস্কারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।   এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্ত শুরু করেছে। চুরি যাওয়া মালামালের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে এবং জড়িতদের শনাক্তে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করছে বলে জানা গেছে।   সাম্প্রতিক সময়ে একের পর এক চুরি ও নিরাপত্তাজনিত ঘটনার কারণে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ১৫, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
মসজিদের ভেতরে এলোপাতাড়ি গুলি, আহত ২ মুসল্লি

খুলনার দৌলতপুরে ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির জামে মসজিদের ভেতরে প্রবেশ করে এলোপাতাড়ি গুলি করেছে দুর্বৃত্তরা। এতে এ ঘটনায় লোকমান ও আলম নামে দুই মুসল্লি গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।    রোববার (১৪ জুন) ভোর সাড়ে ৫টার পরে ঘটনাটি ঘটে। তাদের উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এর মধ্যে লোকমানের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়া হয়েছে। আহত আলম খুলনা মেডিকেল কলেজ হসাপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।   খুলনার দৌলতপুর থানা পুলিশের (ওসি তদন্ত) জাহিদুল ইসলাম বলেন, ফজরের নামাজ শেষ হলে কয়েকজন দুর্বৃত্ত মসজিদের ভেতর প্রবেশ করে এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়ে। তাদের ছোড়া গুলিতে লোকমান ও আলম নামে দুই ব্যক্তি গুরুতর আহত হন। লোকমান নামাজ শেষে মসজিদের ভেতরে কোরআন তেলোয়াত করছিলেন। স্থানীয় মুসল্লিরা তাদের উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়। তাদের মধ্যে লোকমানের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় প্রেরণ করা হয়। অপরজনকে খুমেকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।   তিনি আরও বলেন, সংবাদ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। বিস্তারিত জানার চেষ্টা করা হচ্ছে। যারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ১৪, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ফ্যামিলি কার্ড ‘পাবেন না’ যারা

দেশের প্রান্তিক, দরিদ্র ও নিম্নবিত্ত পরিবারগুলোকে একটি সমন্বিত ডিজিটাল নিরাপত্তা কাঠামোর আওতায় আনতে ‘ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়ন নীতিমালা ২০২৬’-এর খসড়া প্রস্তুত করা হয়েছে। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন সমাজসেবা অধিদফতর কর্তৃক প্রণীত এই নীতিমালার মূল দর্শন হলো–‘ব্যক্তি নয়, পরিবারই উন্নয়নের মূল একক’। সরকারের ঘোষিত নির্বাচনী ইশতেহার ২০২৬-এর বৈষম্যহীন ও মানবিক ‘সামাজিক কল্যাণ রাষ্ট্র’ প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার বাস্তবায়নে এই উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।   শুক্রবার (১২ জুন) সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে খসড়াটি প্রকাশ করা হয়। একই সঙ্গে এ বিষয়ে জনমত ও পরামর্শ আহ্বান করা হয়েছে। নীতিমালার খসড়া অনুযায়ী, পারিবারিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় নারীর অংশীদারিত্ব ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ফ্যামিলি কার্ডটি সংশ্লিষ্ট পরিবারের মাতা অথবা উপযুক্ত জ্যেষ্ঠ নারী সদস্যের নামে ইস্যু করা হবে। প্রতিটি লক্ষ্যভুক্ত পরিবারের জন্য একটি স্থায়ী ও অনন্য পরিচিতি নম্বর বা ‘ওয়ান-আইডি’ প্রদান করা হবে, যা ‘ফ্যামিলি ট্রি’ রিলেশনল ডেটা মডেলের মাধ্যমে পরিবারের অন্য সদস্যদের আইডির সঙ্গে যুক্ত থাকবে। এর ফলে একই পরিবারের একাধিক সদস্যের নিয়মবহির্ভূতভাবে সমান্তরাল একাধিক সুবিধা বা ‘দ্বৈত সুবিধা’ গ্রহণ রোধ করা সম্ভব হবে।   প্রকৃত অভাবী পরিবার সঠিকভাবে শনাক্তকরণের জন্য জাতীয় পরিচয়পত্র যাচাইয়ের পাশাপাশি বৈজ্ঞানিক ‘প্রক্সি মিন্স টেস্ট’ স্কোরিং পদ্ধতি ব্যবহার করা হবে। এই স্কোরের ভিত্তিতে জনগোষ্ঠীকে পাঁচটি অর্থনৈতিক স্তরে (কোয়াইন্টাইল) বিন্যাস করে অতি দরিদ্র ও দরিদ্রদের আবশ্যিকভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। দুর্গম হাওড়, উপকূলীয় অঞ্চল ও পার্বত্য এলাকার জন্য থাকবে বিশেষ ‘আঞ্চলিক ওয়েটেজ’ বা অতিরিক্ত অগ্রাধিকার পয়েন্ট। এ ছাড়া ডেটাবেজে জালিয়াতি বা অসংগতি প্রতিরোধে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা মেশিন লার্নিং প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে।   বহুমুখী ডুয়াল ইন্টারফেস স্মার্ট কার্ড প্রস্তাবিত ফ্যামিলি কার্ডটি হবে একটি বহুমুখী ডুয়াল ইন্টারফেস (NFC ও চিপ-ভিত্তিক) স্মার্ট কার্ড। এতে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রবর্তিত ‘টাকা পে’ অ্যাপলেট থাকবে, যার মাধ্যমে উপকারভোগীরা যে কোনো এটিএম বুথ থেকে টাকা তুলতে পারবেন। এ ছাড়া ‘ই-আইডি’ অ্যাপলেটের মাধ্যমে কার্ডধারীর ছবি ও পরিবারের তথ্যসহ ২৭টি উপাদান সংরক্ষিত থাকবে, যা অফলাইনেও যাচাই করা যাবে। কার্ডে থাকা কিউআর কোড স্ক্যান করে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা তাৎক্ষণিকভাবে কার্ডের সক্রিয়তা পরীক্ষা করতে পারবেন। এই কর্মসূচির আওতায় কোনো মধ্যস্বত্বভোগী ছাড়াই সরকারি কোষাগার থেকে সরাসরি উপকারভোগীর ব্যাংক বা মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (বিকাশ, নগদ, রকেট ইত্যাদি) অ্যাকাউন্টে অর্থ প্রেরণের আইবাস++ পদ্ধতি ব্যবহার করা হবে। তবে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে একটি ‘নেতিবাচক তালিকা’ রাখা হয়েছে। পরিবারের কোনো সদস্য সরকারি চাকরিজীবী, নিয়মিত পেনশনভোগী, ৫ লাখ টাকার বেশি সঞ্চয়পত্রের মালিক, চার চাকার মোটরযানের অধিকারী, নিয়মিত আয়কর দাতা কিংবা বসতভিটাসহ আবাদি জমির পরিমাণ ০.৫০ একর বা তার বেশি হলে ওই পরিবার ফ্যামিলি কার্ডের সুবিধা পাবে না।   দেশব্যাপী সমন্বিত পরিবার জরিপ ও ডিজিটাল-ফার্স্ট পদ্ধতি একটি বস্তুনিষ্ঠ তথ্যভান্ডর গড়ে তুলতে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর কারিগরি মানদণ্ড অনুসরণে দেশব্যাপী কাগজবিহীন বিশেষ ডিজিটাল পরিবার জরিপ পরিচালনা করা হবে। গণনাকারীরা সরাসরি ‘ফ্যামিলি কার্ড মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন’ ব্যবহার করে সরেজমিন গৃহ পরিদর্শনের সময় বসতবাড়ির জিপিএস জিও-ট্যাগিং এবং স্থিরচিত্র গ্রহণ করবেন। ইন্টারনেট সুবিধা বঞ্চিত দুর্গম অঞ্চলের জন্য অ্যাপটিতে ‘অফলাইন মোড’-এর সুবিধা থাকবে। বাস্তবায়ন ও তদারকিতে উচ্চপর্যায়ের কমিটি নীতিমালা বাস্তবায়নে অর্থমন্ত্রীর সভাপতিত্বে ‘সামাজিক নিরাপত্তা কার্যক্রম সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি’ প্রধান নীতিনির্ধারণী কর্তৃপক্ষ হিসেবে কাজ করবে। এ ছাড়া সমাজকল্যাণ সচিবের নেতৃত্বে ‘কেন্দ্রীয় পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন কমিটি’ এবং সমাজসেবা অধিদফতরের মহাপরিচালকের নেতৃত্বে ‘জাতীয় কারিগরি ও ব্যবস্থাপনা কমিটি’ দায়িত্ব পালন করবে। তৃণমূল পর্যায়ে যোগ্য পরিবার নির্বাচন ও তদারকির জন্য জেলা, উপজেলা, পৌরসভা এবং ইউনিয়ন পর্যায়ে পৃথক বাস্তবায়ন ও আপিল কমিটি গঠন করা হবে। পার্বত্য চট্টগ্রামের জন্য হেডম্যান ও কারবারিদের প্রথাগত মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে বিশেষ বাস্তবায়ন কমিটি গঠন করার কথা নীতিমালায় উল্লেখ রয়েছে। খসড়া নীতিমালায় আরও জানানো হয়, প্রতিবছর জানুয়ারি ও জুলাই মাসে মৃত বা ভুয়া উপকারভোগী বাদ দিতে ফেসিয়াল রিকগনিশন প্রযুক্তির মাধ্যমে ‘লাইভ ভেরিফিকেশন’ করা হবে। কোনো পরিবার অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হয়ে দারিদ্র্যসীমা অতিক্রম করলে পদ্ধতিগত মূল্যায়নপূর্বক উক্ত কর্মসূচি হতে তাদের সফল উত্তরণ ঘটানো হবে এবং শূন্য আসনে নতুন যোগ্য পরিবারকে প্রতিস্থাপন করা হবে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ১৪, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
দুধ দিয়ে গোসল করে জামায়াত ছাড়ার ঘোষণা বাগেরহাটের যুবকের

বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলায় দুধ দিয়ে গোসল করে দল ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর এক কর্মী।   উপজেলার বাহিরদিয়া-মানসা ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বুড়ির বটতলা এলাকার বাসিন্দা শেখ খালিদ হাসান তারেকের (৩০) এমন কাণ্ডের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেইসবুকে ছড়িয়েছে।   তারেক শনিবার সাংবাদিকদের বলেন, তিনি ২০১১ সাল থেকে জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে ঢাকায় আন্দোলন-সংগ্রামে অংশ নিয়েছেন। বিগত জাতীয় নির্বাচনেও তিনি বুড়ির বটতলা কেন্দ্রে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর এজেন্ট ছিলেন।   কিন্তু দলে মূল্যায়ন পাইনি। মন্দির পাহারা দেওয়া নিয়ে আমি আপত্তি জানাইছিলাম। তাই নিয়ে ইউনিয়ন আমিরের সঙ্গে আমার একটা বিরোধ হইছিল। তার পর থেকে আমারে একটু অবহেলার পাত্র হিসেবে রাইখে দিছে। তাই ক্ষোভে-দুঃখে আমি ভাবলাম আর কী দল করবো? তখন সিদ্ধান্ত নেই, দুধ-পানি দিয়ে গোসল করে দল ত্যাগ করব। প্রয়োজনে আর কোনো দলই করবো না।   তিনি বলেন, শুক্রবার জুমার নামাজের আগে বুড়ির বটতলা এলাকায় সড়কের পাশে দুধ দিয়ে গোসল করে ভিডিও ধারণ করি। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছেড়ে দেই। ওই ভিডিওতে তারেককে বলতে শোনা যায়, “প্রয়োজনে আওয়ামী লীগ করব, তো জামায়াত আর করব না। দল ত্যাগ করে দিছি, জামায়াত ইসলাম করতাম সারা জীবন। তবে তারেকের দাবির বিষয়ে ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামী ফকিরহাট উপজেলা কমিটির সেক্রেটারি আবুল আল মাসুম। তিনি বলেন, ওই ব্যক্তি জামায়াতের কোনো কর্মী নন। তিনি জামায়াতকে ভালোবাসতেন মাত্র।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ১৪, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
গোপনে দ্বিতীয় বিয়ে করতে গিয়েছিলেন ছাত্রদল নেতা, প্রথম স্ত্রীর ফোনে সব পণ্ড

প্রথম বিয়ের তথ্য গোপন রেখে দ্বিতীয় বিয়ে করতে গিয়ে বিপাকে পড়েছেন নেত্রকোনার মদন উপজেলা ছাত্রদলের এক নেতা। বিয়ের আনুষ্ঠানিকতার ঠিক আগে প্রথম স্ত্রীর পরিবারের লোকজন বিষয়টি জানালে বিয়ে পণ্ড হয়ে যায়। পরে ক্ষুব্ধ স্থানীয় লোকজন বর ও তাঁর পক্ষের কয়েকজনকে আটকে রাখেন। দীর্ঘ আলোচনার পর ক্ষতিপূরণ দিয়ে গভীর রাতে তাঁরা মুক্তি পান।   ঘটনাটি ঘটেছে গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় কেন্দুয়া উপজেলার পাইকুড়া ইউনিয়নের একটি গ্রামে। অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতার নাম সাব্বির আহমেদ (২৫)। তিনি মদন উপজেলার তিয়শ্রী ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি। তিনি উপজেলার বাঘমারা গ্রামের বাসিন্দা ও উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি আসাদুজ্জামান আজাদের ছেলে।   স্থানীয় বাসিন্দা, সংশ্লিষ্ট পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, প্রায় চার বছর আগে প্রতিবেশী এক তরুণীকে গোপনে বিয়ে করেন সাব্বির আহমেদ। বিষয়টি দীর্ঘদিন গোপন রাখা হয়। এ অবস্থায় পারিবারিকভাবে কেন্দুয়া উপজেলার কৃষক দলের এক নেতার কলেজপড়ুয়া মেয়ের সঙ্গে তাঁর বিয়ে ঠিক হয়।   নির্ধারিত তারিখ অনুযায়ী শুক্রবার বিকেলে আত্মীয়স্বজন ও বন্ধুদের নিয়ে বরযাত্রীসহ কনের বাড়িতে যান সাব্বির। বরযাত্রীদের আপ্যায়ন ও খাবার পরিবেশনের পর সন্ধ্যায় বিয়ে পড়ানোর প্রস্তুতি চলছিল। এ সময় প্রথম স্ত্রী মুঠোফোনে কনের বাবাকে সাব্বিরের আগের বিয়ের বিষয়টি জানান। পরে প্রথম স্ত্রীর পরিবারের কয়েকজন সদস্যও সেখানে উপস্থিত হন।   একাধিক সূত্রে জানা যায়, বিষয়টি জানাজানি হলে কনের পরিবারের সদস্যরা বিয়ের আয়োজন স্থগিত করেন। একপর্যায়ে স্থানীয় লোকজন বরপক্ষের কয়েকজনকে আটকে রাখেন। পরে দুই পক্ষের মধ্যে কয়েক দফা আলোচনা হয়। বিয়ের আয়োজন বাবদ হওয়া খরচের কিছু অংশ ক্ষতিপূরণ হিসেবে দেওয়ার পর দিবাগত রাত দুইটার দিকে বরপক্ষের লোকজন ছাড়া পান।   কনের বাবা কৃষক দলের নেতা বলেন, ‘ছেলেটি আগে বিয়ে করেছে—এ তথ্য আমাদের জানা ছিল না। বিষয়টি জানার পর মেয়ের বিয়ে আর দেওয়া সম্ভব হয়নি। তাই অনুষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।’ জরিমানার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।   এদিকে বিয়ে পণ্ড হওয়ার ঘটনার জের ধরে আজ শনিবার সকালে প্রথম স্ত্রীর বাড়িতে হামলার অভিযোগ উঠেছে সাব্বির আহমেদের সমর্থকদের বিরুদ্ধে। হামলায় তাঁর স্ত্রীর বড় বোন আহত হন। পরে তাঁকে উদ্ধার করে মদন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।   সাব্বির আহমেদের প্রথম স্ত্রী বলেন, ‘২০২২ সালে আমাদের বিয়ে হয়। সাব্বিরের অনুরোধে বিষয়টি এত দিন গোপন রাখা হয়েছিল। কিন্তু তিনি আবার বিয়ে করতে গেলে বাধ্য হয়ে বিষয়টি জানাই। পরে আমাদের বাড়িতে হামলা করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ৯৯৯ নম্বরে ফোন করতে হয়েছে।’   অভিযোগের বিষয়ে জানতে সাব্বির আহমেদের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সংযোগ বন্ধ পাওয়া যায়। তবে তাঁর বাবা আসাদুজ্জামান আজাদ বলেন, ‘ছেলে যে আগে বিয়ে করেছে, সেটা আমার জানা ছিল না। আগে জানলে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হতো না। ক্ষতিপূরণ হিসেবে আমাকে একটা বড় অঙ্কের টাকা দিতে হয়েছে।’   মদন থানার পরিদর্শক (তদন্ত) অসীম কুসার দাস বলেন, ৯৯৯ নম্বরে ফোন পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। বিয়েকে কেন্দ্র করে এক নারীকে মারধরের অভিযোগ পাওয়া গেছে। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মোঃ ইমরান হোসেন জুন ১৪, ২০২৬
বাগানে বিভিন্ন জাতের আম দেখাচ্ছেন রেজাউল করিম খন্দকার
মৌলভীবাজারে রেজাউলের শখের বাগানে ৫০-এর বেশি জাতের আম

শখ থেকেই দেশ-বিদেশ থেকে আমের চারা সংগ্রহ করে বাড়িটির সীমানার মধ্যে রোপণ করা হয়। ৫০–এর অধিক আমের জাত এখন ওই বাড়ির বাগানে। কয়েক বছর ধরেই বিভিন্ন গাছে, বিভিন্ন জাতের আম আসছে। এতে ওই বাড়ির লোকজনের আমের চাহিদাই শুধু পূরণ হচ্ছে না, আমের বৈচিত্র্যপূর্ণ স্বাদের সঙ্গেও তাঁদের পরিচিত করছে। এবার টানা খরার কবলে পড়ে বাগানটি, তারপরও গাছে গাছে ধরেছে প্রায় ৩৭ জাতের আম। নানা আকার, রং ও স্বাদের আম এখন গাছের ডালে ডালে ঝুলছে। এতেই ‘শৌখিন চাষি’ রেজাউল করিম খন্দকারের মন ভরে উঠেছে। শুধু আমই নয়, অন্য সব ফলও আছে রেজাউলের বাগানে। তবে এখন আমের মৌসুম, তাই আমটাই বেশি চোখে পড়ে। ধীরে ধীরে ভিন্ন ভিন্ন স্বাদের আম পাকছে। এভাবেই আরও একটা মাস নানা বৈচিত্র্য ও স্বাদের আম রেজাউল করিমের শ্রম ও আকাঙ্ক্ষার পূর্ণতা দিতে থাকবে। রেজাউলের বাড়ি মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউনিয়নের সরিয়া গ্রামে। সরিয়া গ্রামের টিলামতো বাড়িটি এখন অনেক রকমের ফল-ফুলে অনেকটা বুনো চেহারা নিতে শুরু করেছে। বৃষ্টি পেয়ে সবুজ হয়ে উঠছে পুরো বাড়ি। প্রায় দুই একরের বাড়ির যেদিকে তাকানো যায়, নানারকম ফল গাছেরই সমারোহ চোখে পড়ে। এরমধ্যে আমই বেশি। কোনো গাছে আম এখনো কাঁচা-সবুজ, কোনোটিতে পাক ধরেছে। কোনোটি পেকে গেছে। আম পাকার এই ধারা পর্যায়ক্রমে এক মাস ধরে চলবে। রেজাউল করিম বাড়ির বাগানে ফল চাষের শুরুটাও করেছিলেন আমের চারা রোপণের মাধ্যমে। ২০১৭ সালে শখ থেকে বাড়ি লাগোয়া একটি টিলায় আমের চারা রোপণ করেন। সেই থেকে ফল রোপণের শুরু, ধীরে ধীরে আমের জাত ও গাছের সংখ্যা বেড়েছে। যত দিন গেছে—নানা স্বাদ ও রঙের বৈচিত্র্য তাঁকে আমের প্রতি আরও আগ্রহী করে তুলেছে। দেশ-বিদেশের নানা প্রান্ত থেকে আমের চারা সংগ্রহ করেছেন। আমের জাত ছাড়িয়েছে ৫০–এর অধিক। রেজাউল করিম গত শুক্রবার জানিয়েছেন, তিনি একটি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। এই চাকরির বাইরে যেটুকু অবসর পান, তার বেশির ভাগ সময় ওই বাগানেই ব্যয় করে থাকেন। এটি কোনো বাণিজ্যিক উদ্যোগ নয়, এটি তাঁর শখের, ভালো লাগার, ভালোবাসার একটি উদ্যান। যখনই গাছে আমের এমন সমারোহ দেখেন, গাছের দিকে তাকান—তাঁর মন ভরে যায়। এখন আমের মৌসুম। গাছের শাখা-প্রশাখায় কাঁচা–পাকা আম ঝুলছে। এসব আমের মধ্যে আছে আলফানসো, আমেরিকান কেন্ট, হিমসাগর, চেং মাই, পাকিস্তানি চোষা, আমেরিকান পালমা, সামার বেহেস্ত, সূর্যডিম, নাচ ১, নাচ ২, নাচ ৩, বৈশাখী, বান্দি নুড়ি, গৌর মতি, কাটিমন, থাই কাঁচা মিঠা, কুনাই, বাউ ৩, বারি ১১, নাম ডাক মাই, হাঁড়িভাঙা, ব্লাকস্টোন, মহাচনক, কিউজাই, ব্রুনাই কিং, ব্যানানা, আম্রপালি, হানিডিউ, বারি ৪, ঝাই সাই, ন্যাম ডকমাই ইয়েলো, ন্যাম ডকমাই মুন, সীতাভোগ, অম্বিকা, ভ্যালেন্সিয়া প্রাইড, অস্টিন, সাদা পুনাই, সি-মুয়াং, সারেংগা ইত্যাদি। রেজাউল করিম জানিয়েছেন, এবার ফলন মোটামুটি ভালো হয়েছে। লম্বা খরার কবলে না পড়লে গাছে প্রচুর আম থাকত। খরায় অনেক আম ঝরে পড়েছে। খরার সময় তাঁর সেচের মোটরটি নষ্ট হয়ে যায়। এটি ঠিক করাতে দুই দিন সময় যায়। এতে অনেক ক্ষতি হয়ে গেছে। এবার নাচ ১ ও নাচ ৩, সামার বেহেস্ত, আমেরিকান কেস্ট ও আমেরিকান পালমা জাতের আম বেশি এসেছে। খরার সময় ব্যানানা জাতের এক গাছে ২০০ আম গুনে দেখেছেন। ব্রুনাই কিং জাতের একটি আম এখনই গাছে দুই কেজি ওজন হয়েছে। এখনো কাঁচা রয়েছে। গত বছর একই জাতের একটি আম সাড়ে তিন কেজি ওজন হয়েছিল। এবার দুই কেজির আমটি পাঁচ কেজির মতো হতে পারে বলে আশা করছেন। নিজের বাগানের আম নিয়ে শৌখিন এই চাষির ভাষ্য, বাগানে যে আম আছে, সব গাছের সেই আম পাকতে এক মাসের মতো সময় লাগবে। এতে ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন স্বাদের আম খেতে পারবেন তিনি। তাঁর বাগানের আম বিক্রি করার ইচ্ছা নেই। এই বাগান তৈরি করায় নিজের পরিবারের আমের চাহিদা পূরণ হচ্ছে। সেই সঙ্গে বৈচিত্র্যপূর্ণ আম খেতে পারছেন পরিবারের সদস্যরা। আত্মীয়স্বজনকে দিতে পারছেন নতুন ধরনের, নতুন স্বাদের আম। তাঁর আমবাগান দেখতে প্রায়ই পরিচিত লোকজন এসে থাকেন। রেজাউল করিম জানান, এই আম চাষে চারা রোপণ শেষে তাঁর তেমন কোনো বাড়তি খরচ নেই। গাছে কোনো ধরনের রাসায়নিক সার ব্যবহার করেন না। নিজে প্রয়োজনীয় জৈব সার তৈরি করেন—এই সারই ব্যবহার করেন। তিনি আরও বলেন, ‘আমি দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আমের চারা সংগ্রহ করা ছাড়াও ভারত থেকেও চারা এনেছি। আমের জাত আরও বাড়ানোর ইচ্ছা আছে। এবার বিভিন্ন স্থান থেকে আরও চারা আনাব। বাড়ির মধ্যে বাগান তৈরি ও আম চাষে আমার তেমন কোনো সমস্যা হয় না। তবে প্রায়ই তিন-চারটা বানর আসে, এ ছাড়া বেশি সমস্যা করে কাঠবিড়ালি ও বাঁদুড়। নানা কায়দায় তাদের তাড়ানোর ব্যবস্থা করি। সমস্যা বলতে এটুকুই।’ রেজাউলের বাড়িতে নানা জাতের আমের সমাহারে মুগ্ধ স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তারাও। বড়লেখা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মনোয়ার হোসেন বলেন, ‘গত সপ্তাহেও আমি ওই বাড়িতে গিয়েছিলাম। এবার মোটামুটি ফলন ভালো হয়েছে। আমের অনেক ধরনের ভেরাইটি আছে। কোনো জাতের ভালো হয়েছে, কোনো জাতের কিছুটা কম। ফলন খুব ভালো না, আবার একেবারে খারাপ না। উনি তো শুধু বাংলাদেশ না বাইরের অনেক দেশ থেকে আমের জাত, চারা এনেছেন।’

মারিয়া রহমান জুন ১৪, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
ফতুল্লায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে আ.লীগের ২৭ জনের নামে মামলা

ফতুল্লায় সরকারবিরোধী মিছিল করায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগের ২৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে পুলিশ।  মামলায় আরও দেড়শ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে। শনিবার সকালে এসআই মশিউর রহমান বাদী হয়ে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে ফতুল্লা মডেল থানায় এ মামলা করেন।  মামলায় শাকিল হোসেন ওরফে রাব্বি ও মো. আফজাল হোসেনকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। মামলায় একজনের রাজনৈতিক পদ উল্লেখ করা হয়েছে।  অন্য আসামিরা হলেন- তানভীর, জীবন, রাকিব, রকি, মোজাহের মোল্লা, আরিয়ান খান ওরফে আদর, রবি রায়হান, শেখ রাসেল, ক্রীড়াচক্র কুতুবপুর ইউনিয়নের সভাপতি জাহিদ, নেহাল, ইকবাল, রাজিব তালুকদার, অপু, শাকিল, বাবু, জসিম, রাসেল, রিয়াজ, ইমরান, সুমন, তুষার, সফিক, রিয়াজুল, মালেক, সুমন, জিহাদ প্রমুখ।  মামলায় উল্লেখ করা হয়, শুক্রবার দুপুরে আদর্শনগর এলাকায় তানিন কুঞ্জ সড়কে কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগ এবং এর অঙ্গ সংগঠন ছাত্রলীগ-যুবলীগ নেতাকর্মীরা সরকারবিরোধী মিছিল করেন।  এ সময় ধাওয়া করে স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় দুজনকে আটক করে পুলিশ।  আটকরা পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেন তারা নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগ-যুবলীগ ও আওয়ামী লীগের সক্রিয় সদস্য ও সমর্থক। থানার ওসি মাহবুব আলম বলেন, সন্ত্রাস প্রতিরোধ আইনে মামলা গ্রহণ করা হয়েছে। পলাতক আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

মারিয়া রহমান জুন ১৪, ২০২৬
শনিবার বিকালে চট্টগ্রাম নগরের লালদীঘি ময়দানে ১১ দলীয় ঐক্যের বিভাগীয় সমাবেশে বক্তব্য দেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান
গণভোটের রায় না মানলে ১৯৯৬-এর পরিস্থিতি হবে: জামায়াত আমির

বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘দেশের প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষের রায়কে অগ্রাহ্য করে কোনও সরকার দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকতে পারে না। জনগণের মতামতকে উপেক্ষা করা গণতন্ত্রের চেতনার পরিপন্থি। জনগণ তাদের ভোটাধিকার ও গণরায়ের যথাযথ প্রতিফলন দেখতে চায়। সরকার যদি জনগণের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয়, তাহলে জনগণই তার জবাব দেবে।’ শনিবার (১৩ জুন) বিকালে চট্টগ্রাম নগরের লালদীঘি ময়দানে আয়োজিত ১১ দলীয় ঐক্যের বিভাগীয় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জনদুর্ভোগ নিরসন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন ও দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের দাবিতে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়। শফিকুর রহমান বলেন, ‘দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সেক্টরে যোগ্য, সৎ ও দেশপ্রেমিক লোকদের মূল্যায়ন না করে ভিন্ন মতাবলম্বীদের দমন এবং দলীয়করণের মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালনা করা হচ্ছে। সংসদে জনগণের সমস্যা, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও জাতীয় স্বার্থের বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলতে গেলেও নানা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হচ্ছে। অথচ সংসদ জনগণের কথা বলার জায়গা।’ শফিকুর রহমান বলেন, ‘সরকারকে গণভোটের গণরায় মেনে নিতে হবে। সরকার যদি বর্তমান গণভোটের রায় বা জনদাবি স্বেচ্ছায় মেনে না নেয়, তবে শেষ পর্যন্ত ১৯৯৬ সালের মতো পরিস্থিতি তৈরি হবে। ১৯৯৬ সালে নিজেরাই যেভাবে তত্ত্বাবধায়ক সরকার বিল এনে পাস করাতে বাধ্য হয়েছিল, এবারও গণভোটের রায় বাস্তবায়নে তা করতে বাধ্য হবেন। ভালোয় ভালোয় মেনে নিন। জনগণকে রাজপথে ঠেলে দেবেন না। সময় খুব সীমিত। সময় ফুরিয়ে আসছে। এই সময়ের মধ্যে পরিবর্তন না হলে পরিণতির জন্য প্রস্তুত হতে হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থ কোনও ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা বিদেশি শক্তির কাছে ইজারা দেওয়া হবে না। দেশের ১৮ কোটি মানুষ ঐক্যবদ্ধভাবে এই দেশকে রক্ষা করবে। আমরা জাতির সঙ্গে বেঈমানি করবো না; জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজন হলে সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করতেও প্রস্তুত আছি।’ দেশে চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি আজ প্রাতিষ্ঠানিক রূপ লাভ করেছে উল্লেখ করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘নির্বাচিত ও জবাবদিহিমূলক সরকার প্রতিষ্ঠিত হলে এসব অপসংস্কৃতির অবসান ঘটবে। জনগণের ন্যায্য অধিকার আদায়, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা ও দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গঠনের সংগ্রাম চলবে সংসদেও, রাজপথেও। ভয়ভীতি, মামলা-হামলা কিংবা কারাবাসের হুমকি দিয়ে জনগণের আন্দোলন দমিয়ে রাখা যাবে না।’ সমাবেশে সভাপতির বক্তব্য দেন এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব) অলি আহমদ। আরও বক্তব্য দেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, চট্টগ্রাম-১৫ আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী, জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ শাহজাহান, জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির মুখপাত্র রাশেদ প্রধান, আমার বাংলাদেশ পার্টির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান এ কে এম আনোয়ারুল ইসলাম, ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ও জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ প্রমুখ।

মারিয়া রহমান জুন ১৪, ২০২৬
বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের লোগো। ছবি : সংগৃহীত
গাইবান্ধায় রামমূর্তি নির্মাণ স্থগিতের ঘটনায় পূজা পরিষদের উদ্বেগ

গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলায় কয়েকটি মন্দির ও দেবমূর্তি নির্মাণকে কেন্দ্র করে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে গভীর উদ্বেগ ও শঙ্কা প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ। শনিবার (১৩ জুন) বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের দপ্তর সম্পাদক শচীন্দ্র নাথ বাড়ৈ স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়। পরিষদের সভাপতি বাসুদেব ধর ও সাধারণ সম্পাদক সন্তোষ শর্মা এবং মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির সভাপতি জয়ন্ত কুমার দেব ও সাধারণ সম্পাদক ড. তাপস চন্দ্র পাল যুক্ত বিবৃতিতে বলেন, মন্দির ও দেবমূর্তি নির্মাণ নিয়ে একটি মহল সনাতন ধর্মকে অশালীন ভাষায় আক্রমণ ও উসকানিমূলক অবমাননা করে চলেছে, যা হিন্দু সম্প্রদায়কে এক নাজুক অবস্থা ও দেশকে অস্থিতিশীল পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দিতে পারে। আন্তর্জাতিকভাবেও বিষয়টি বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে। বিবৃতিতে বলা হয়, সম্প্রতি মিছিলে ধর্মীয় উসকানিমূলক বক্তব্য প্রদান ও ভগবান শ্রীরামচন্দ্রের ছবির প্রতি জুতানিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে, যা হিন্দু সম্প্রদায়কে গভীরভাবে মর্মাহত করেছে। এ ঘটনায় হিন্দু ধর্মকেও অবমাননা করা হয়েছে। তবে আশার কথা সরকার ও দায়িত্বশীল রাজনৈতিক শক্তি তাৎক্ষণিকভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইতিবাচক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়। এতে আরও বলা হয়, দেড় বছরের দুঃসহ অবস্থার পর নির্বাচনের মাধ্যমে দেশ যখন ইতিবাচক ধারার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, এ সময়ে ধর্ম নিয়ে ফের বিরূপ অবাঞ্চিত পরিস্থিতি সৃষ্টি অগণতান্ত্রিক ও সাম্প্রদায়িক শক্তির হাতকেই শক্তিশালী করবে। এ অবস্থায় সরকার, নাগরিক সমাজ ও গণতান্ত্রিক শক্তিকেই সম্প্রীতি অক্ষুণ্ন রেখে দেশের অগ্রগতি নিশ্চিত করতে জাতীয় স্বার্থে ভূমিকা রাখতে হবে।

মারিয়া রহমান জুন ১৪, ২০২৬
ফাইল ছবি
সীমান্তে বিজিবির গুলিতে ভারতীয় চোরাকারবারি আহত

মৌলভীবাজারের বড়লেখা সীমান্তে বিজিবির গুলিতে এক ভারতীয় চোরাকারবারি আহত হয়েছে। আহত ব্যক্তিসহ সঙ্গে থাকা অন্য এক চোরাকারবারি দেশটির ভেতরে পালিয়ে গেছে ।  শনিবার (১৩ জুন) রাত সাড়ে ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।  বিজিবি ৫২ ব্যাটেলিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আতাউর রহমান সুজন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, শনিবার রাত সাড়ে ১০টায় বড়লেখা সীমান্ত এলাকায় নিয়মিত টহল কার্যক্রম পরিচালনা করছিল বিজিবি ৫২ ব্যাটালিয়নের টহলদল। এ সময় দুজন সন্দেহভাজন ভারতীয় চোরাকারবারিকে চ্যালেঞ্জ করে টহলদল। তারা ধারালো অস্ত্র নিয়ে টহলদলের ওপর আক্রমণের চেষ্টা করে। আত্মরক্ষার্থে ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য বিজিবি সদস্যরা গুলি ছুঁড়ে। এতে এক চোরাকারবারি আহত হয়। পরে তার সঙ্গে থাকা অন্য চোরাকারবারি ভারতে পালিয়ে যায়।  এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় গোয়েন্দা অনুসন্ধান ও আইনি কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলে জানান কর্নেল আতাউর রহমান সুজন। একইসঙ্গে বিজিবি সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান প্রতিরোধ ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় সর্বদা দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।

মারিয়া রহমান জুন ১৪, ২০২৬
গাজীপুরে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেছেন জেলা প্রশাসক মো. নূরুল করিম ভূঁইয়া।
কোদাল হাতে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন ডিসির

বর্তমান সরকারের দেশব্যাপী ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে গাজীপুর জেলায় শুরু হয়েছে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি।  ‘আমি গেরামের (গ্রাম) ছেলে, দেন কোদাল দেন’- বলে কোনো রকম আনুষ্ঠানিকতার গণ্ডিতে আটকে না থেকে, চিরায়ত গ্রামীণ আবহে নিজ হাতে কোদাল তুলে নিয়ে এ কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন করেছেন জেলা প্রশাসক মো. নূরুল করিম ভূঁইয়া।  একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার এমন মাটির কাছাকাছি স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিত সবাইকে দারুণভাবে অনুপ্রাণিত করেছে। এ কর্মসূচির অংশ হিসেবে জেলা প্রশাসন ও ঢাকা বন বিভাগের উদ্যোগে শনিবার (১৩ জুন) গাজীপুর সদর উপজেলাস্থ কালেক্টরেট স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং সিভিল সার্জন অফিস প্রাঙ্গণে বিভিন্ন মৌসুমী ফলের চারা রোপণ করা হয়। একই সঙ্গে নতুন প্রজন্মের মাঝে পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধি ও সবুজায়নে উদ্বুদ্ধ করতে শিক্ষার্থীদের মাঝে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা বিতরণ করা হয়।  এ সময় ঢাকা বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. বশিরুল আলম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. শাহরিয়ার নজির, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (সদর) মো. সাজ্জাত হোসেন, জেলা প্রশাসন ও বন বিভাগের অন্যান্য কর্মকর্তা, কালেক্টরেট স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং সুধীজন উপস্থিত ছিলেন।

মারিয়া রহমান জুন ১৪, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
অভিযানে আ.লীগের ৬ নেতা-কর্মী আটক

ঢাকার কেরানীগঞ্জে বিশেষ অভিযান চালিয়ে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের ছয় নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি-দক্ষিণ)।   শনিবার (১৩) জুন দুপুরে জেলা গোয়েন্দা শাখার (দক্ষিণ) অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সফিকুল ইসলাম সুমন এই তথ্য জানান।   গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, কলাতিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মো. আবুল কাশেম (৬০), কলাতিয়া ইউনিয়ন যুবলীগের কর্মী জহিরুল ইসলাম (৩৮), কলাতিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক আমান মিয়া (৬১), কলাতিয়া ইউনিয়ন যুবলীগের সদস্য মো. সাদ্দাম হোসেন (৪০), কলাতিয়া ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সদস্য শেখ আতিকুল ইসলাম (৪০) এবং চুড়াইন ইউনিয়ন কৃষক লীগের সভাপতি কবির মোল্লা (৫৫)।   তিনি জানান, শুক্রবার (১২ জুন) দিবাগত রাত দেড়টা থেকে সাড়ে ৩টা পর্যন্ত কেরানীগঞ্জ মডেল থানার কলাতিয়া বাজার এলাকায় ডিবি পুলিশের একটি দল অভিযান পরিচালনা করে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।   তিনি আরও জানান, গ্রেপ্তারকৃতরা নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের সক্রিয় সদস্য হিসেবে সংগঠনটির কার্যক্রম পরিচালনার সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তাদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় দায়ের করা সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। পরবর্তীতে তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।   এ বিষয়ে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (দক্ষিণ) ইনচার্জ সফিকুল ইসলাম সুমন জানান, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং নিষিদ্ধ সংগঠনের যেকোনো ধরনের সাংগঠনিক কার্যক্রম প্রতিরোধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

মোঃ ইমরান হোসেন জুন ১৪, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
মুন্সিগঞ্জে ৪০০ পিস ইয়াবাসহ মাদক কারবারি গ্রেফতার

মুন্সিগঞ্জে ডিবি পুলিশের অভিযানে কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী ও একাধিক মামলার আসামি ‘শান্তির ছেলে’ খ্যাত মো. বাবু সরকার ওরফে আব্দুল জব্বার (৩৭)কে ৪০০ পিস ইয়াবাসহ গ্রেফতার করা হয়েছে।   শনিবার (১৩ জুন) রাত ৯টা ১০ মিনিটে মাদক ও সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালনার অংশ হিসেবে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) সদর থানার বৈখর পশ্চিমপাড়া এলাকায় অভিযান চালায়। এ সময় বাদল মন্ডলের বসতবাড়ি সংলগ্ন রাস্তা থেকে তাকে আটক করা হয়।   গ্রেফতারকৃত বাবু সরকার ওরফে আব্দুল জব্বার বৈখর পশ্চিমপাড়া এলাকার মৃত অফিজ উদ্দিন সরকার এবং শান্তি বেগমের সন্তান। তিনি স্থানীয়ভাবে ‘শান্তির ছেলে’ নামে পরিচিত।   পুলিশ জানায়, গ্রেফতারকৃত বাবুর বিরুদ্ধে হত্যা, অস্ত্র ও মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধে মোট ২৪টি মামলা রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি এলাকায় মাদক ব্যবসা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে।     আরও জানা যায়, এর আগেও গত বছরের ২ ডিসেম্বর তাকে ২ কেজি গাঁজা ও ৮০ পিস ইয়াবাসহ গ্রেফতার করা হয়েছিল। পরবর্তীতে তিনি জামিনে মুক্তি পেয়ে পূর্ব শত্রুতার জেরে এক ব্যক্তির হাতের কবজি কেটে দেওয়ার ঘটনায় পুনরায় আলোচনায় আসেন।   অবশেষে শনিবার রাতে মুন্সিগঞ্জ জেলা ডিবি পুলিশের একটি চৌকস দল অভিযান চালিয়ে তাকে পুনরায় গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। উদ্ধার করা ইয়াবা জব্দ করা হয়েছে এবং এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।   পুলিশের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, মাদক ও সন্ত্রাস দমনে তাদের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে কঠোর অবস্থান বজায় রাখা হবে।

মোঃ ইমরান হোসেন জুন ১৪, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার নাম পরিবর্তন হচ্ছে

গুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার নাম পরিবর্তন করে “মহাস্থান উপজেলা” রাখা হচ্ছে। শুক্রবার (১৩ জুন) রাতে বগুড়ার শিবগঞ্জ ও মোকামতলা উপজেলায় বাজেটকে স্বাগত জানিয়ে আনন্দ মিছিল শেষে এক সমাবেশে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এ ঘোষণা দেন।   তিনি বলেন, দেশে শিবগঞ্জ নামে আরও একটি উপজেলা আছে, যা চাঁপাইনবাবগঞ্জে অবস্থিত। একই নামে দুইটি উপজেলা থাকায় সরকারি কাজকর্মে জটিলতা তৈরি হচ্ছে। এ কারণে শিবগঞ্জবাসীর সমর্থন পেলে উপজেলার নাম পরিবর্তন করে মহাস্থান রাখা হবে।   ভৌগোলিকভাবে বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলা জেলার ১২টি উপজেলার মধ্যে বৃহৎ। এর আয়তন ৩১৫ বর্গ কিলোমিটার। জেলা শহর থেকে প্রায় ১৯ কিলোমিটার উত্তরে গাংনই নদীর তীরে এর অবস্থান। উত্তরে গাইবান্ধা জেলা, দক্ষিণে বগুড়া সদর, কাহালু ও দুপচাঁচিয়া উপজেলা, পূর্বে সোনাতলা ও গাবতলি উপজেলা এবং পশ্চিমে কালাই ও ক্ষেতলাল উপজেলা।   এর আগে চলতি বছরের ১২ এপ্রিল মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব ইমতিয়াজ মোরশেদ বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার মোকামতলা বন্দরকে নতুন উপজেলা ঘোষণার অনুমোদন দেন। শিবগঞ্জ উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়ন—মোকামতলা, দেউলী, সৈয়দপুর, ময়দানহাট্টা এবং শিবগঞ্জ সদর—নিয়ে মোকামতলা উপজেলা গঠন করা হয়েছে, যার আয়তন ১২৮ দশমিক ৭৪ বর্গ কিলোমিটার এবং জনসংখ্যা প্রায় দেড় লাখ।   শিবগঞ্জ উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবদুল ওহাব বলেন, সরকারি কাজকর্মে জটিলতা এড়াতেই নাম পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং খুব শিগগিরই তা বাস্তবায়ন হতে পারে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ১৪, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
কুষ্টিয়ায় বিএডিসির ‘ভেজাল ও নিম্নমানের’ পাটবীজে ক্ষতিগ্রস্ত চাষি, দায় কার?

কুষ্টিয়ায় বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন-বিএডিসির সরবরাহ করা পাটবীজ বপনের পর ক্ষতির মুখে পড়েছেন চাষিরা। প্রতিষ্ঠানটির বীজ ভেজাল ও নিম্নমানের বলে দাবি কৃষকের। তবে এমন অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলছে বিএডিসি কর্তৃপক্ষ।   অভিযোগ রয়েছে ভারত থেকে হ্যাচারি ফিড হিসেবে স্বল্প মূল্যে আমদানি করা পাটবীজ প্রথমে গুদামে সরবরাহ করা হয়। এরপর অসাধু ব্যবসায়ী এবং বিএডিসির কর্মকর্তাদের যোগসাজশে এসব বীজ প্যাকেটজাত করে তা চাষিদের হাতে তুলে দেওয়া হয়।   এতে পাটবীজ সংগ্রহে কৃষি মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ এক কোটি ৮০ লাখ টাকা গচ্চা যাওয়ার পাশাপাশি ব্যর্থ হতে বসেছে সরকারের কৃষি প্রণোদনা কার্যক্রম। তবে এতে দায় কার, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।   এমন পরিস্থিতিতে সরকারের কৃষি প্রণোদনা কার্যক্রমে অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার কারণে মাঠ পর্যায়ে আস্থা হারাচ্ছেন চাষিরা। এমন পরিস্থিতে ভারতীয় পাটবীজ ক্রয় ও রোপণে ঝুঁকছেন কৃষকরা।   তবে পাটবীজ নিয়ে সব অভিযোগ নাকচ করে বিএডিসি কুষ্টিয়ার পাটবীজ বিভাগের উপপরিচালক মনিরা খাতুন বলেন, বিষয়টি সংশ্লিষ্ট বিভাগের বড় স্যারেরা দেখছেন। তবে আমাদের বীজের গুণগত মান নিয়ে ওঠা অভিযোগ দেওয়ার এখতিয়ার কারও নেই।   সরকারিভাবে কৃষি উপকরণ সরবরাহের সিংহভাগ কার্যক্রম করে থাকে বিএডিসি। কৃষি খাতের উন্নয়নে রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগের বিপুল অর্থও বরাদ্দ হয়ে থাকে বিএডিসির নানাবিধ খাতে। বিশেষ করে মাঠ পর্যায়ে সার বীজ ও সেচ সরবরাহ খাতে বিএডিসি এসব অর্থ ব্যয় করে থাকে।   বিএডিসি পাটবীজ বিভাগ থেকে জানা গেছে, চলতি অর্থ বছরে কৃষি পুনর্বাসন সহায়তা খাতের আওতায় পাট উৎপাদন বৃদ্ধিতে প্রণোদনা কর্মসূচির অনুকূলে ১৮০ টন পাটবীজ ক্রয় ও সংগ্রহে কৃষি মন্ত্রণালয় বরাদ্দ দেয় এক কোটি ৮০ লাখ টাকা।   যদিও কুষ্টিয়া জোনের পাটবীজ বিভাগের দাবি, তারা এ বছর ২৮৩ টন পাটবীজ সংগ্রহ করেছেন; যা প্যাকেটজাতের পর বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হয়। তবে তাদের সরবরাহ করা বীজের প্রায় সাড়ে ২৪ টন ফরিদপুর পাটবীজ বিভাগ কর্তৃক বাতিল করে কুষ্টিয়ায় ফেরত পাঠায়।   ফরিদপুর পাটবীজ বিপণন বিভাগের উপপরিচালক সৈয়দ কামরুল হক স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে বীজের কাঙ্ক্ষিত জার্মিনেশন বা চারা না গজানোয় ফেরত দেওয়ার কথা বলা হয়।   তবে চিঠির অভিযোগ মানতে নারাজ কুষ্টিয়ার উপপরিচালক মনিরা খাতুন। তার দাবি, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ডিল করছেন।   ওই চিঠি ধরে বিএডিসির এসব বীজের মান নিয়ে সরেজমিনে অনুসন্ধান করা হয়। এতে বীজ ক্রয়, সংগ্রহ, প্রক্রিয়াকরণ ও বিপণনে নানা অনিয়মসহ ভেজালের তথ্য উঠে আসে। কুষ্টিয়া জোনের পাটবীজ গুদামে সংরক্ষিত বীজের হাল দেখে প্রকৃত চিত্র উঠে আসে।   কুষ্টিয়া জোনের পাটবীজ গুদাম মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার চিৎলায় অবস্থিত। সেখানে গিয়ে দেখা যায়, একই স্থানে স্তূপ করে রাখা প্রতি কেজি প্যাকেটজাত বীজের মধ্যে ভিন্নতা রয়েছে। একটু লক্ষ্য করলেই বোঝা যায়, প্যাকেট ও প্যাকেটজাত বীজের ভিন্নতা; যা দেখেই বোঝা যায় এখানে আসলে ভালো-মন্দের মিশ্রণ রয়েছে।   বিষয়টি নিয়ে সংবাদকর্মীরা অনুসন্ধান করছেন, এমন তথ্য জানতে পেরে বিপুল পরিমাণ বীজ গুদামের পিছনে জঙ্গলের মধ্যে ফেলে দেওয়া হয়। নিয়মানুযায়ী, আগে থেকে তালিকাভুক্ত চাষিদের নানাবিধ প্রণোদনা, পরামর্শ ও প্রত্যক্ষ সহযোগিতার মাধ্যমে বীজ সরকারি প্রত্যয়ন এজেন্সির মাধ্যমে নমুনা পরীক্ষা করে গুণগত মান নিশ্চিত হলে সেগুলো প্রক্রিয়াজাত ও বিপণন করার কথা। কিন্তু পাটবীজ গুদামে তা মানা হয়নি।   নাম প্রকাশ না করার শর্তে গাংনী উপজেলার এক উদ্যোক্তা পাটবীজ চাষি বলেন, “উনারা বলছেন ২৮৩ টন পাটবীজ ক্রয় করেছেন। কিন্তু বিপুল এ বীজ কোথাকার কোন উদ্যোক্তার কাছে থেকে নিয়েছেন দেখাতে বলেন?   আমার জানা মতে, কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর, ঝিনাইদহ, মাগুরাসহ আশপাশের ১০ জেলা কুড়িয়েও ৫০ টন পাটবীজ উৎপাদন করতে পারেননি উদ্যোক্তা চাষিরা। তাহলে এত বীজ কোথা থেকে কোন মানদণ্ডে তারা ক্রয় করেছেন?   আসলে সিংহভাগ বীজ পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত থেকে হ্যাচারি ফিড হিসেবে স্বল্প মূল্যে আমদানি করা হয়। অসাধু বীজ ব্যবসায়ী এবং বিএডিসির কর্মকর্তাদের যোগসাজশে এসব পাটবীজ সংগ্রহের পর প্রথমে গুদামে সরবরাহ করা হয়। পরে প্যাকেটজাত করে চাষিদের হাতে তুলে দেওয়া হয়।   কৃষি বিভাগ নিম্নমানের বীজ নতুন করে প্যাকেটে ভরে চাষিদের দিচ্ছে এমন অভিযোগ করে কুষ্টিয়া সদর উপজেলার বটতৈল গ্রামের পাটচাষি আলাউদ্দিন মণ্ডল বলেন, এবার তিনি পাট চাষের জন্য এক বিঘা জমি প্রস্তুত করতে ১২ হাজার টাকা খরচ করেছিলেন। পরে এই বীজ বপন করার পর আর চারা গজায়নি।   একদিকে আমার একটা বতর (মৌসুম) জমি পাকাল পড়ে থাকল, আবার গাট্যের ট্যেকাও খরচ হইলু। ইর দায় নিবি কিডা? এই বটতৈল ইউনিয়নে যত চাষি সরকারের এই পাটের বেচন (বীজ) বোনেছে, তারা কেউ দেখাতে পারবে না যে চারা গজায়ছে, বলেন তিনি।   চলতি মৌসুমে বিএডিসি থেকে চাষিদের সরবারহ করা প্রণোদনার পাটবীজের চারা ক্ষেতে গজায়নি বলে অভিযোগ করেছেন বটতৈল ইউনিয়নের সহকারী কৃষি কর্মকর্তা রেজাউল ইসলাম।   মিরপুর উপজেলার আমলা বাজারের বীজ ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম বলেন, “বিএডিসির বীজ ভেজালের সঙ্গে বিশাল চক্র জড়িত। কয়জনকে নিয়ন্ত্রণ করবেন? এরা বাজারের ব্রান্ডিং কোম্পানির বীজের নমুনা প্রত্যয়ন এজেন্সির মাধ্যমে পরীক্ষা করিয়ে অনুমোদন পাওয়ার পরপর আমদানি করা নিম্নমানের বীজ প্যাকেটজাত করেন।   এরপর প্রত্যয়ন এজেন্সির নকল ট্যাগ লাগিয়ে সবকিছু ঠিকঠাক করে বিএডিসির গুদামের সরবরাহ করেন। সেখান থেকে সারাদেশে এসব বীজ সরবরাহ করা হয়।   ‘সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলন’ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য কারশেদ আলম বলেন, শুধুমাত্র এ বছরই বিএডিসির পাটবীজ নিয়ে এত কথা হচ্ছে তা নয়। গত বছর বিএডিসির পিঁয়াজ বীজ নিয়ে সারা দেশের চাষিরা চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। সরকার এককভাবে বিএডিসির উপর বীজের দায়িত্ব দেওয়ায় প্রতিষ্ঠানটি বছরের পর বছর যাচ্ছে তাই করেই যাচ্ছে।   তিনি বলেন, নিম্নমানের পচা, মেয়াদ উত্তীর্ণ ও বাতিল করা বীজ নামমাত্র মূল্যে ক্রয় করে প্যাকেটজাতের মাধ্যমে বিপণন ও সরবরাহ করায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন চাষিরা। এতে কৃষি খাতে সরকারি প্রণোদনা কর্মসূচিকে শূন্য নামছে। আর প্রতিবছর কৃষি খাতে সরকারের বিপুল অর্থ তসরূপ হচ্ছে।   এ বছর পাটবীজের ঘটনার মধ্যদিয়ে বেড়িয়ে আসা অনিয়ম তদন্ত করে এর সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন সামাজিক আন্দোলনের এই নেতা।   কুষ্টিয়া জেলা বীজ প্রত্যয়ন এজেন্সির কর্মকর্তা এ কে এম কামরুজ্জামান বলেন, “চাষি যাতে গুণগত মানসম্পন্ন বীজ পায় এবং বীজ নিয়ে যাতে প্রতারিত না হয় সেজন্য বীজ প্রত্যায়ন এজেন্সি কাজ করে। বীজ উৎপাদন, সংগ্রহ, প্রক্রিয়াকরণ ও বাজারজাত পর্যন্ত আমরা নানা বিচ্যুতির ঘটনা পাই।   সেক্ষেত্রে এজেন্সির পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্টদের সঠিক পরামর্শ দেওয়া ছাড়াও আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়। চলতি বছর ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে বীজ বিক্রয় ও সরবরাহ সংশ্লিষ্টদের বিধি বহির্ভূত কার্যক্রমে যুক্ত থাকা প্রায় ১৭টি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে জরিমানাসহ নানা পদক্ষেপ নেওয়া হয়।   এ বিষয়ে কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসক মো. তৌহিদ বিন হাসান বলেন, চাষিদের অভিযোগের ভিত্তিতে পাটবীজ নিয়ে তদন্ত করে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য একজন নির্বাহী হাকিমকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালকসহ তদন্ত করা হবে।   অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।   ভারতীয় বীজে ঝুঁকছেন মেহেরপুরের কৃষক   বিএডিসির সরবরাহ করা পাটবীজে জারমিনেশন বা অঙ্কুরোদগমের মাত্রা কম হওয়ায় ভারতীয় পাটবীজ ক্রয় ও রোপণে ঝুঁকছেন মেহেরপুরের কৃষকরা।   পাটবীজ ডিলাররা বলছেন, মেহেরপুরের চিৎলা পাটবীজ খামারের বীজে জারমিনেশন মাত্রা কম হওয়ায় ভারতীয় বীজের চাহিদা বেড়েছে।   তবে প্রণোদনার পাটবীজে জারমিনেশন মাত্রা একটু কম থাকলেও কৃষক খুব বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি বলে দাবি মেহেরপুর সদর উপজেলা পাট উন্নয়ন কর্মকর্তা ইমান আলীর।   দেশের সবচেয়ে বড় পাটবীজ উৎপাদনকারী সরকারি প্রতিষ্ঠান চিৎলা পাটবীজ খামার। প্রায় সাড়ে ৪০০ একর জমির উপর গড়ে তোলা এ খামার থেকে দেশের প্রায় ৬০ ভাগ পাটবীজের চাহিদা মেটানো হয়। গুনে মানে ভাল হওয়ায় এ খামারের বীজের চাহিদাও ছিল বেশ।   সম্প্রতি সরকারি এই প্রতিষ্ঠানটি বীজ উৎপাদন এবং বীজের গুণগত মান রক্ষায় ব্যর্থ হওয়ায় চাষিরা ভারতীয় বীজের দিকে ঝুঁকছেন। সেইসঙ্গে প্রতিষ্ঠানটিও তাদের সুনাম হারাচ্ছে। খামার অভ্যন্তরে দুর্নীতির কারণে প্রতিবছর লোকসান গুণছে সরকার।   এ জেলায় ধানের পরই দ্বিতীয় অর্থকরী ফসল পাট। বাজারে দাম ভালো থাকার কারণে এবার জেলায় পাটের উৎপাদনও বেশি। কিন্তু দেশি বীজের মন্দাবস্তার কারণে চাষিরা এবার চড়া দামে ভারতীয় পাটবীজ কিনেছেন। তাহলে ভাল মানের পাটবীজ সরবরাহকারী সরকারি এ প্রতিষ্ঠানের কাজ কি?   একই প্রশ্নে বারাদী গ্রামের পাটচাষি আশরাফুল ইসলাম বলেন, তিনি ১০ বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছেন। দেশি বীজ ভাল না হওয়ায় ভারতের শঙ্কর জাতের বীজ কিনে বপন করেছেন তিনি। এবার পাটের মণ চার থেকে পাঁচ হাজার টাকা।   প্রতি বিঘায় ১০ থেকে ১২ মণ পাট হবে। বিঘায় ১০ থেকে ১২ হাজার খরচের পরও এবার পাটে ভালোই লাভ হবে। এ ছাড়া পাটকাঠির চাহিদা বাড়ার কারণে শুধু পাটকাঠি বিক্রি করে উৎপাদন খরচ উঠে যায়।   তিনি বলেন, দেশি পাটবীজ লাগানো গেলে উৎপাদন আরও বেশি হত। কিন্তু চিৎলা পাটবীজ খামার থেকে বেশ কয়েক বছর ধরে ভালোমানের বীজ পাওয়া যাচ্ছে না। কৃষককে ভাল বীজ সহায়তা দিতে সরকারি এই প্রতিষ্ঠানটি কোনো কাজে আসছে না।   মেহেরপুরের পাটবীজ ব্যবসায়ী ‘চৌগাছা পাটবীজ ভাণ্ডারের’ মালিক হাসান আলী বলেন, এবার সরকারি পাটবীজ ভালো হবে ভেবে পাঁচ টন বীজ কেনার জন্য পে-অর্ডার করার পর তা আবার ফেরৎ নিয়েছি। পে-অর্ডার করার পর চিৎলা পাটবীজ খামারের একজন কর্মকর্তা জানালেন এবার বীজে জারমিনেশন কম ধরা পড়েছে।   এই বীজ নিলে এবারও অঙ্কুরোদম কম হবে। চাষি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। সেটা জানার পর আট টন ভারতীয় শঙ্কর, চক্র, এনএসসি জাতের পাটবীজ কিনি। সরকারি পাটবীজের বাজার এভাবেই নষ্ট হচ্ছে।   অপর পাটবীজ ডিলার ‘আরমান ট্রেডার্সের’ মালিক আরমান আলী বলেন, “একসময় চিৎলা পাটবীজের খুবই সুখ্যাতি ছিল। তখন ভারতীয় বীজ এ অঞ্চলে বিক্রি হত না। চলতি মৌসুমে ১০ টন চিৎলা বীজ খামারের সবুজ সোনা ও তুষা জাতের বীজ কিনেছেন।   সেইসঙ্গে ভারতীয় বিভিন্ন জাতের বীজ কিনেছি ২০ টন। শুনেছি, এবার কৃষককে বিনামূল্যে দেওয়া চিৎলার প্রণোদনার বীজের মান খারাপ। জারমিনেশন কম থাকায় কৃষক সেই বীজ বপন করে ঠকেছেন। অনেক কৃষক সেই বীজ না লাগিয়ে ভারতীয় বীজ কিনে লাগিয়েছেন।   প্রণোদনার বীজে জারমিনেশন নিয়ে কৃষকের কাছ থেকে জোরালো কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি দাবি মেহেরপুর সদর উপজেলা পাট উন্নয়ন কর্মকর্তা ইমান আলীর বলেন, প্রতি বিঘায় ৬ থেকে ৭ গ্রাম বীজ লাগে। কৃষককে চাহিদামতো বীজ দেওয়া হয়।   প্রতিবার বীজের পাশাপাশি বিঘাপ্রতি ১২ কেজি সার এবং কৃষক প্রশিক্ষণ দেওয়া হত। তবে এবার বীজ ছাড়া কৃষককে কোনও সাপোর্ট দেওয়া হয়নি।   প্রণোদনার পাটবীজ নিয়ে জোরাল অভিযোগ নেই চুয়াডাঙ্গায়   চুয়াডাঙ্গায় বিএডিসির প্রণোদনার পাটবীজ নিয়ে জোরাল কোনও অভিযোগ নেই। তবে কোথাও কোথাও চারা না গজানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে।   কৃষকরা বলেছেন, বীজ থেকে ঠিকমত চারা গজিয়েছে। তবে ভূট্টা কেটে চাষ করতে গিয়ে কোথাও কোথাও নাবি হয়ে গেছে। কোনো কোনো কৃষক বলেছেন, চারা ভাল হয়েছে, পাটের গুণগত মান কেমন হবে তা এখনি বলা যাচ্ছে না।   সদর উপজেলার কাথুলি গ্রামের কৃষক আমজাদ হোসেন বিএডিসির প্রণোদনার বীজ পেয়েছেন। তিনি বলেন, ভূট্টা কেটে নিয়ে সেই জমিতে পাট চাষ করেছি। মে মাসের প্রথম দিকে পাট চাষ করি। কিছুটা নাবি হয়ে গেছে। সামান্য ফলন বিঘ্নিত হতে পারে।   একই গ্রামের নাজমুলও পেয়েছেন প্রণোদনার বীজ। তিনি বলেন, চারা গজিয়েছে, কোনও সমস্যা হয়নি।   চুয়াডাঙ্গা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মাসুদুর রহমান সরকার বলেন, এ জেলায় দুই হাজার ২০০ জন কৃষককে পাট চাষে প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে। প্রত্যেক কৃষক এক বিঘা জমিতে পাট চাষ করবেন, সেই হিসেবেই বীজ ও সার প্রণোদনা দেওয়া।   এর মধ্যে সদরে ৩০০, আলমডাঙ্গায় ৬০০, দামুড়হুদায় ৮০০ ও জীবননগরে ৫০০ কৃষককে পাটচাষে প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।   চুয়াডাঙ্গা বিএডিসির বীজ বিপণন শাখার স্টোর কিপার মোহাম্মদ ওয়ালিদ বলেন, প্রণোদনার জন্য পাটের বীজ আমাদের কাছে এসেছিল কুষ্টিয়া থেকে। দুই হাজার ২০০ কৃষককে দেওয়ার জন্য আমরা তা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরকে সরবরাহ করি।   একই দপ্তরের জ্যেষ্ঠ সহকারী পরিচালক নাজমুল হাসান বলেন, বীজ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে কৃষকদের কাছ থেকে কোনও অভিযোগ যাওয়া যায়নি।   চুয়াডাঙ্গা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মাসুদুর রহমান সরকার বলেন, প্রণোদনার পাটবীজ পাওয়ার পর আমরা জার্মিনেশন পরীক্ষা করেছিলাম। তারপর তা কৃষকদের মাঝে বিতরণ করেছি। চুয়াডাঙ্গা জেলায় কোনও সমস্যা হয়নি। বরং দেশের অন্য অনেক জেলার চেয়ে চুয়াডাঙ্গায় পাট চাষ আগে হওয়ায় ফলন ভাল হবে। কৃষকদের কাছ থেকে কোনো অভিযোগ আসেনি।   বিএডিসির পাটবীজে দেশের কোথাও কোথাও সমস্যা দেখা দিয়েছে এমন প্রসঙ্গ তুললে তিনি বলেন, সব লটে সমস্যা না-ও হতে পারে। তবে চুয়াডাঙ্গার লট ভাল ছিল।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ১৪, ২০২৬
মায়ের লাশ ফেরত দেওয়ার শর্তে হাসপাতালের পরিচালকের কার্যালয়ের একটি কক্ষে ছেলেকে কান ধরে ওঠবস করানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে | ছবি: সংগৃহীত
‘ছেলেকে কান ধরে ওঠবস করিয়ে’ মায়ের মরদেহ ফেরত দিলেন চিকিৎসকরা

রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এক রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে দুজন চিকিৎসককে মারধরের অভিযোগ উঠেছে রোগীর ছেলে রিফাত হোসেনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনার পর চিকিৎসক ও শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে মরদেহ আটকে রাখার অভিযোগ ওঠে। স্বজনদের দাবি, পরে রিফাত হোসেনকে কান ধরে ওঠবস করানোর পর তার মায়ের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেন চিকিৎসকরা। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।   শনিবার (১৩ জুন) দুপুর সোয়া ২টার দিকে হাসপাতালের পরিচালকের কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। এর আগে সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কার্যক্রম বন্ধ ছিল।   রোগীর স্বজন ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, নগরীর জুম্মাপাড়া এলাকার নূর নাহার বেগমকে শনিবার ভোরে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হৃদরোগ বিভাগে ভর্তি করা হয়। ভর্তির কিছু সময় পর তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় চিকিৎসকদের অবহেলার অভিযোগ তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তার ছোট ছেলে রিফাত হোসেন। একপর্যায়ে কর্তব্যরত চিকিৎসকদের সঙ্গে স্বজনদের কথা-কাটাকাটি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।   এ সময় ইন্টার্ন চিকিৎসক নাইম বকশী ও ইনডোর মেডিকেল অফিসার ডা. রাকিব হাসান মারধরের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ ওঠে।   এ ঘটনার প্রতিবাদে ইন্টার্ন চিকিৎসক ও শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামেন। একপর্যায়ে তারা হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কার্যক্রম বন্ধ করে দেন। ফলে সকাল ১১টা থেকে প্রায় দুই ঘণ্টা জরুরি বিভাগের চিকিৎসাসেবা বন্ধ থাকে। পরে দুপুর ১টার দিকে কার্যক্রম পুনরায় চালু হয়। এ সময় অভিযুক্ত রিফাত হোসেনকে হাসপাতালে এনে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের কাছে ক্ষমা চাওয়ানোর দাবি জানান আন্দোলনকারীরা।   অন্যদিকে রোগীর স্বজনদের অভিযোগ, নূর নাহার বেগমের মৃত্যুর পর তার মরদেহ হাসপাতালের আইসিইউতে রাখা হয় এবং পরিবারের সদস্যদের কাউকে দেখতে দেওয়া হয়নি। পরে মরদেহ অ্যাম্বুলেন্সে তুলে বাড়িতে নেওয়ার প্রস্তুতির সময় কয়েকজন ইন্টার্ন চিকিৎসক ও শিক্ষার্থী বাধা দেন। একপর্যায়ে অ্যাম্বুলেন্স থেকে মরদেহ নামিয়ে হাসপাতালের মর্গে নিয়ে রাখা হয় বলে অভিযোগ করেন তারা।   তবে মরদেহ আটকে রাখার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ইন্টার্ন চিকিৎসক ডা. মোহাম্মদ আসিফ। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘চিকিৎসকদের মারধরের ঘটনায় জড়িতদের শাস্তির দাবিতে আমরা আন্দোলন করছি। তবে কোনো মরদেহ আটকে রাখা হয়নি।’   পরে চিকিৎসক মারধরের ঘটনায় অভিযুক্ত রিফাত হোসেন হাসপাতালের পরিচালকের কার্যালয়ে অবস্থান করছেন—এমন খবর পেয়ে সেখানে জড়ো হন ইন্টার্ন চিকিৎসক ও শিক্ষার্থীরা। এ সময় তারা পরিচালক কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়ে রিফাত হোসেনকে প্রকাশ্যে কান ধরে ওঠবসকরানোর দাবি জানান।   স্বজনদের দাবি, পরবর্তীতে পরিচালকের কার্যালয়ের ভেতরে রিফাত হোসেনকে কান ধরে ওঠবসকরানোর পর তার মায়ের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।   এদিকে মরদেহ হস্তান্তরের দাবিতে রোগীর স্বজনরা রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রধান ফটকের সামনে রংপুর-দিনাজপুর মহাসড়ক অবরোধ করেন।   এ সময় মৃতের ছেলে নুরুজ্জামান রিন্টু সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমার মা ভোরে মারা গেছেন, অথচ এখন পর্যন্ত তার মুখটা দেখতে পারিনি। তারা লাশ অ্যাম্বুলেন্স থেকে নিয়ে মর্গে রেখেছে। আমরা বারবার ক্ষমা চেয়ে মরদেহ চেয়েছি, কিন্তু তারা দিচ্ছিল না।’   দুপুর আড়াইটার দিকে হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আশিকুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, হাসপাতালের সিসিটিভি ফুটেজে চিকিৎসকদের মারধরের ঘটনা দেখা গেছে। এটি অত্যন্ত অমানবিক ঘটনা।   মরদেহ আটকে রাখা এবং জরুরি বিভাগের কার্যক্রম বন্ধ রাখার অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এ ধরনের ঘটনা কাম্য নয়। তবে অনেক সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। মরদেহ অ্যাম্বুলেন্সে তোলার সময় সেখানে অতিরিক্ত মানুষের ভিড় ছিল। নিরাপত্তার স্বার্থে মরদেহটি মরচুয়ারিতে সরিয়ে রাখা হয়েছিল। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ায় মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।’   তিনি আরও বলেন, ‘এ বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমরা অভিযোগ দাখিল করব, এজাহার দেব। অভিযুক্তকে পুলিশের দায়িত্বে দেওয়া হয়েছে।’   রংপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম নাজমুল কাদের বলেন, এ ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ১৪, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
জরুরি সেবা কল পেয়ে লঞ্চে অসুস্থ শিশুকে চিকিৎসা সহায়তা দিল কোস্ট গার্ড

জরুরি সেবা নম্বর ১৬১১১-এ কল পেয়ে যাত্রীবাহী লঞ্চে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়া এক শিশুকে তাৎক্ষণিক চিকিৎসা সহায়তা দিয়েছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড।   শনিবার (১৩ জুন) বিকেলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন।   বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শনিবার সকাল ১১টার দিকে এক নারী তার ১৪ মাস বয়সী কন্যা শিশুকে নিয়ে বরিশাল থেকে ‘কর্ণফুলী-১০’ নামের যাত্রীবাহী লঞ্চে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেন। দুপুর দেড়টার দিকে লঞ্চটি চাঁদপুর লঞ্চঘাট সংলগ্ন এলাকায় পৌঁছালে হঠাৎ শিশুটির শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে এবং সে সংকটাপন্ন হয়ে পড়ে।   এ সময় শিশুটির মা কোস্ট গার্ডের জরুরি সেবা নম্বর ১৬১১১-এ ফোন করে সহায়তা চান।   খবর পেয়ে কোস্ট গার্ড স্টেশন চাঁদপুর থেকে একটি মেডিক্যাল টিম দ্রুত চাঁদপুর লঞ্চঘাটে পৌঁছে অসুস্থ শিশুটিকে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করে। পরে কোস্ট গার্ডের গাড়িতে করে তাকে চাঁদপুর সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়।   বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, দেশের উপকূলীয় ও নদীবন্দর এলাকায় জরুরি পরিস্থিতিতে মানবিক সহায়তা প্রদানে তারা সর্বদা প্রস্তুত রয়েছে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ১৪, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
মদ-সিগারেটের ট্যাক্স বাড়ানোয় বিরোধী দল নাখোশ : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘বাজেটে মদ-সিগারেট ও বিলাসী পণ্যের ওপর ট্যাক্স বাড়ানোর কারণে বিরোধী দল চরমভাবে নাখোশ হয়েছে। তারা এ বাজেট মানে না দাবি করে মিছিল-সমাবেশ করছে।   কিন্তু নিত্যপ্রয়োজনীয় ৩৭ পণ্যে ট্যাক্স কমানো হলো, সেটা তারা কোথাও বলছে না। এতে কী বোঝা যায়, সাধারণ মানুষ নয়, বিশেষ কিছু শ্রেণির স্বার্থই তাদের কাছে বড়।’ শনিবার (১৩ জুন) কক্সবাজার সদরের পিএমখালীর পাতলী খাল পুনঃখনন উদ্বোধন শেষে আয়োজিত পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন।   প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিরোধী দলের অযৌক্তিক বিরোধিতায় আমরা কান দিচ্ছি না।   সাধারণ জনগণের স্বার্থরক্ষা, প্রত্যন্ত অঞ্চলের সব জমিকে আবাদযোগ্য করে দেশের খাদ্য উৎপাদন বাড়িয়ে স্বাবলম্বী হওয়া নিশ্চিত করা আমাদের সরকারের প্রধান লক্ষ্য।’  তিনি বলেন, ‘বিএনপি আমজনতার দল-সাধারণ মানুষের উন্নয়নে কাজ করতে বিশ্বাসী। দেশের অগ্রগতি নিশ্চিত করতে হলে কৃষক ও সাধারণ মানুষের ভাগ্যোন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে হবে। দরিদ্র কৃষকদের চাষাবাদ ঠিক রাখতে কৃষক কার্ডের মাধ্যমে কৃষি সহায়তা নিশ্চিত করা হবে।   দেশের মানুষের প্রতি অনুরোধ, সরকারের ওপর আস্থা রাখুন।’ সদর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক সুবেদার মেজর আবদুল মাবুদের সভাপতিত্বে ও সদস্যসচিব সাবেক চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন জিকুর সঞ্চালনায় পথসভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, পানিসম্পদমন্ত্রী শহিদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন, পিএমখালী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি প্রমুখ বক্তব্য দেন।   অর্ধশত বছর আগে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান পাতলী খাল খনন করে চাষাবাদ বাড়িয়েছেন। মাঝে খালটি নাব্যতা হারানোর পাশাপাশি বেদখল হয়েছে। এখন পুনঃখনন হচ্ছে, আবারও পূর্বের মতো আবাদের সুযোগ আসবে।   এভাবে সারা বাংলাদেশে ৪০ হাজার মিটার খাল খনন হলে চাষাবাদের সহজলভ্যতা বাড়বে। কৃষক লাভবান হলে দেশ লাভবান হবে। দেশ লাভবান হলে স্বনির্ভরতা আসবে বলেও মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী।

মারিয়া রহমান জুন ১৩, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
ছয় বছর বয়সে হারিয়ে যাওয়া দুলাল, ৫৮ বছর পর খুঁজে পেলেন পরিবার

মাত্র ছয় বছর বয়সে পরিবারের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া এক শিশু প্রায় ৫৮ বছর পর ফিরে পেয়েছেন জন্মপরিচয় ও পরিবারের সদস্যদের। প্রযুক্তির সহায়তা, স্মৃতির খণ্ড খণ্ড চিত্র এবং সন্তানের নিরলস অনুসন্ধানের মধ্য দিয়ে সম্ভব হয়েছে এই পুনর্মিলন।   ঘটনাটি ঘটেছে চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ষাটনল ইউনিয়নের কালিপুর চৌধুরী বাড়িতে। ফিরে আসা ব্যক্তির নাম দেলোয়ার হোসেন দুলাল চৌধুরী। দীর্ঘ ৫৮ বছর পর তাকে ফিরে পেয়ে আবেগাপ্লুত পরিবারের সদস্যরা। মতলব উত্তর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদা কুলসুম মনি বলেন, দীর্ঘ ৫৮ বছর পর পরিবারের সঙ্গে দুলাল চৌধুরীর পুনর্মিলন সত্যিই অত্যন্ত আবেগঘন, বিরল এবং হৃদয়স্পর্শী একটি ঘটনা।  স্বজনরা জানান, ১৯৬৯ সালের দিকে মাত্র পাঁচ থেকে ছয় বছর বয়সে নিখোঁজ হন দুলাল। এরপর পথ হারিয়ে তিনি নারায়ণগঞ্জ হয়ে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি এলাকায় পৌঁছান। সেখানে একটি পালক পরিবারের আশ্রয়ে বড় হন তিনি। নতুন পরিবেশে জীবন গড়ে উঠলেও নিজের প্রকৃত পরিচয়, জন্মস্থান কিংবা পরিবারের সদস্যদের সম্পর্কে কোনো তথ্য জানা ছিল না দুলালের। তবে শৈশবের কিছু অস্পষ্ট স্মৃতি আজীবন তাকে তাড়িয়ে ফিরেছে। নদী, লঞ্চঘাট, একটি বাজার এবং কিছু পরিচিত পরিবেশের কথা তার মনে থাকলেও সেগুলো দিয়ে নিজের শেকড়ের সন্ধান মেলেনি।   ছেলের অনুসন্ধানেই খোলে রহস্যের জট দীর্ঘ সময় ধরে পরিচয়ের খোঁজ চললেও কোনও অগ্রগতি হয়নি। শেষ পর্যন্ত বাবার হারিয়ে যাওয়া অতীত খুঁজে বের করার উদ্যোগ নেন ছেলে ইমাম হোসাইন আকিব। সম্প্রতি কোরবানির ঈদকে ঘিরে পারিবারিক আলোচনার সময় বাবার স্মৃতিতে ভেসে ওঠে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। তিনি নদী, লঞ্চঘাট এবং কালিপুর বাজারের কথা বলেন। এসব তথ্যকে ভিত্তি করে অনুসন্ধান শুরু করেন আকিব। গুগল ম্যাপ ও বিভিন্ন স্থানীয় তথ্য বিশ্লেষণ করে সম্ভাব্য এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করা হয় মেঘনা নদীর তীরবর্তী কালিপুর অঞ্চলকে। পরে স্থানীয় সাংবাদিক ও গবেষকদের সহযোগিতায় যোগাযোগ করা হয় কালিপুরের চৌধুরী পরিবারের সঙ্গে। এরপর সেই পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগের পর কালিপুরে আসেন দুলাল চৌধুরী। সেখানে পৌঁছে তিনি শৈশবের স্মৃতির সঙ্গে মিল খুঁজে পান এলাকার বিভিন্ন স্থাপনা ও পরিবেশের। পুরনো গেইট, খালপথ, আমগাছ এবং লবণ তোলা ঘাটের মতো বিভিন্ন নিদর্শন দেখে তিনি স্মৃতিচারণ করেন। স্থানীয় প্রবীণ ব্যক্তিরাও তার বর্ণনার সঙ্গে এলাকার অতীতের বাস্তবতার মিল খুঁজে পান। সবশেষে জীবিত ভাই মুকুল চৌধুরীর সঙ্গে সাক্ষাতের মধ্য দিয়ে নিশ্চিত হয় তাদের রক্তের সম্পর্ক। প্রায় ছয় দশক পর দুই ভাইয়ের মিলনের মুহূর্তে উপস্থিত সবার চোখেই জল এসে যায়। দুলাল চৌধুরী বলেন, “আমি কখনো ভাবিনি জীবনের এই পর্যায়ে এসে নিজের পরিবারকে খুঁজে পাব। ছোটবেলার স্মৃতি ছাড়া আমার কাছে কিছুই ছিল না। আজ ভাই-বোন, আত্মীয়স্বজনদের কাছে ফিরে এসে মনে হচ্ছে জীবনের বড় একটি শূন্যতা পূরণ হয়েছে।” বাবার মুখে শোনা কিছু অস্পষ্ট তথ্য নিয়েই অনুসন্ধান শুরু করার কথা জানান ছেলে ইমাম হোসাইন আকিব। তিনি বলেন, “গুগল ম্যাপ, স্থানীয় তথ্য ও মানুষের সহযোগিতায় ধীরে ধীরে সঠিক জায়গার সন্ধান পাই। পরিবারের সঙ্গে বাবার পুনর্মিলন আমাদের জন্য জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।” আকিব বলেন, “আমি আমার জীবনের শেকড় খুঁজে বের করেছি। আমি এখন গর্ব করে বলতে পারি- আমার দাদার নাম শামসুল হক চৌধুরী, দাদির নাম সুফিয়া বেগম। “আমার এই প্রাপ্তি কোনও কিছুর মাধ্যমে প্রকাশ করার ভাষা খুঁজে পাচ্ছি না। আল্লাহর রহমতে আমার বাবাকে ফ্যামিলি ফিরিয়ে দিতে পেরেছি।” দীর্ঘদিন পর হারিয়ে যাওয়া দুলাল চৌধুরীকে ফিরে পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন পরিবারের সদস্যরা। ভাই মুকুল চৌধুরী বলেন, “ছোটবেলায় ভাই হারিয়ে যাওয়ার পর আমরা অনেক খোঁজ করেছি। একসময় আশা ছেড়ে দিয়েছিলাম। এত বছর পর আবার তাকে ফিরে পাব, কখনো কল্পনাও করিনি। আজ আমাদের পরিবারের জন্য আনন্দের দিন।” স্থানীয় বাসিন্দা মো. আব্দুস সাত্তার বলেন, এত বছর পর একজন মানুষ পরিবারকে খুঁজে পেয়েছেন- এটি সত্যিই অবিশ্বাস্য। ঘটনাটি সবাইকে আবেগাপ্লুত করেছে। আরেক বাসিন্দা মো. মমিনুল ইসলাম বলেন, প্রযুক্তি মানুষের জীবনকে কতটা বদলে দিতে পারে, এটি তার বড় উদাহরণ। হারিয়ে যাওয়া একজন মানুষ শেষ পর্যন্ত শেকড়ে ফিরে এসেছেন। ইউএনও মাহমুদা কুলসুম মনি বলেন, এত দীর্ঘ সময় বিচ্ছিন্ন থাকার পর আবার পরিবারের সদস্যদের কাছে ফিরে আসা শুধু একটি ব্যক্তিগত আনন্দের বিষয় নয়, এটি পারিবারিক বন্ধন এবং ভালোবাসার এক অসাধারণ দৃষ্টান্ত। এই পুনর্মিলনের মুহূর্তে পরিবারের সদস্যদের আবেগ, আনন্দ ও উচ্ছ্বাস সবাইকে গভীরভাবে স্পর্শ করেছে। বর্তমানে দেলোয়ার হোসেন দুলাল চৌধুরী স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে আবারও যুক্ত হয়েছেন তার জন্মপরিবারের সঙ্গে। নতুন করে আত্মীয়স্বজনদের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার পাশাপাশি তিনি ফিরে পেয়েছেন নিজের হারিয়ে যাওয়া পরিচয়। হারিয়ে যাওয়ার প্রায় ছয় দশক পর এক শিশু পরিবারের কাছে ফিরে আসার ঘটনা এখন চাঁদপুরজুড়ে আলোচনার বিষয়। প্রযুক্তির ব্যবহার, সন্তানের অদম্য প্রচেষ্টা এবং মানুষের আন্তরিক সহযোগিতায় এই পুনর্মিলন অনেকের কাছেই এক অনন্য মানবিক গল্প হয়ে উঠেছে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ১৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
তারাগঞ্জে স্টার্টআপ সায়েন্স প্রজেক্ট ও ইনোভেশন আইডিয়া শোকেসিং প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত

"মেধা, বিজ্ঞান—উদ্ভাবনের দেশ; সবার আগে বাংলাদেশ" এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলা-এ স্টার্টআপ সায়েন্স প্রজেক্ট অ্যান্ড ইনোভেশন আইডিয়া শোকেসিং প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত হয়েছে।   শুক্রবার (১২ জুন) উপজেলা পরিষদ মাঠে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, গণমাধ্যমকর্মী এবং সুধীজন অংশগ্রহণ করেন।   অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. শাহিনুর রহমান। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মো. মোনাব্বর হোসেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), তারাগঞ্জ।   বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মো. সিরাজুল ইসলাম, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) তারাগঞ্জ উপজেলা শাখার সভাপতি; মো. এস এম আলমগীর হোসেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী তারাগঞ্জ উপজেলা শাখার আমির, মো. মেহেদী হাসান শিপু; বিএনপির উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক; মো. আমিনুল ইসলাম, জাতীয় সংসদ সদস্য রংপুর-২ (তারাগঞ্জ-বদরগঞ্জ) আসনের এমপি'র প্রতিনিধি এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর যুব বিভাগের তারাগঞ্জ উপজেলা শাখার সভাপতি মো. কাজী শামছুল হুদা, শিক্ষা অনুরাগী ব্যক্তিত্ব আব্দুল হাকিম সরকার, দেবাশীষ সরকার-সহ অন্যান্য জনপ্রতিনিধি ও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীবৃন্দ।   প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মোনাববর হোসেন বলেন, "বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা বর্তমান বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যাওয়ার অন্যতম হাতিয়ার। শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী চিন্তা, গবেষণামনস্কতা এবং সৃজনশীল দক্ষতা বিকাশে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। আজকের শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনের বিজ্ঞানী, গবেষক ও উদ্ভাবক।   তাদের মেধা ও সৃজনশীলতাকে যথাযথভাবে বিকশিত করতে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং প্রশাসনকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।"তিনি আরও বলেন, "স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে প্রযুক্তিনির্ভর ও উদ্ভাবনী প্রজন্ম গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই। শিক্ষার্থীরা যেন নতুন নতুন ধারণা ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে দেশ ও সমাজের উন্নয়নে অবদান রাখতে পারে, সে লক্ষ্যে সরকার বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে।   অনুষ্ঠানটি আয়োজন করে এডুকেশনাল এক্সিলেন্স সাপোর্ট স্কিম (EESS), এসইডিপি, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর, শিক্ষা মন্ত্রণালয়, ঢাকা। বাস্তবায়ন করে উপজেলা প্রশাসন ও মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস, তারাগঞ্জ।   অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে অংশগ্রহণকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। এতে বিভিন্ন উদ্ভাবনী প্রকল্প ও বিজ্ঞানভিত্তিক প্রদর্শনীর মধ্যে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করে বরাতি উচ্চ বিদ্যালয় এবং প্রথম পুরস্কার লাভ করে।     পুরো আয়োজনটি শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞানমনস্কতা, সৃজনশীল চিন্তা ও উদ্ভাবনী সক্ষমতা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে উপস্থিত অতিথিরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

মারিয়া রহমান জুন ১৩, ২০২৬
Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

সপ্তাহের সেরা

ছবি : সংগৃহীত
জাতীয়

দাড়ি রেখে প্রশংসায় ভাসছেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার

মারিয়া রহমান জুন ১১, ২০২৬