রিকশার বিকল্প হিসেবে ঢাকায় সাইকেল সেবা, মিনিটে মাত্র ১ টাকায় গন্তব্যে যাওয়ার সুযোগমিনিটে মাত্র ১ টাকায় ঢাকায় সাইকেল রাইড ঢাকা মেট্রোরেলের যাত্রীদের স্টেশন থেকে গন্তব্যে পৌঁছানোর ভোগান্তি কমাতে নতুন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অ্যাপভিত্তিক বাইসাইকেল শেয়ারিং প্ল্যাটফর্ম ‘জোবাইক’ ঢাকা মাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) সঙ্গে চুক্তির মাধ্যমে মেট্রোরেল স্টেশনগুলোতে বাইসাইকেল সেবা চালু করতে যাচ্ছে। ডিএমটিসিএলের উন্মুক্ত দরপত্রে অংশ নিয়ে কার্যাদেশ পাওয়ার পর গত ৬ আগস্ট দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক চুক্তি স্বাক্ষর হয়। প্রথম ধাপে এমআরটি লাইন-৬-এর তিনটি স্টেশনে পরীক্ষামূলকভাবে এই সেবা চালু করা হবে। জোবাইক জানিয়েছে, শুরুতে উত্তরা উত্তর, উত্তরা সেন্টার ও উত্তরা দক্ষিণ মেট্রো স্টেশনে ১৫০ থেকে ৩০০টি প্যাডেল বাইসাইকেল রাখা হবে। ছয় মাসের পাইলট প্রকল্পের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে পরবর্তী সময়ে অন্যান্য মেট্রো স্টেশনেও এ সেবা সম্প্রসারণ করা হতে পারে। নতুন এই সেবার মাধ্যমে মেট্রোরেল ব্যবহারকারীরা স্টেশন থেকে কাছাকাছি গন্তব্যে সহজে যাতায়াত করতে পারবেন। বিশেষ করে উত্তরা রাজউক অ্যাপার্টমেন্ট প্রজেক্ট, উত্তরা রূপায়ণ সিটি, মেট্রো ডিপোর কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং আশপাশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা এ সুবিধা পাবেন। জোবাইকের বাইসাইকেল ব্যবহার প্রক্রিয়াও রাখা হয়েছে সহজ। যাত্রীরা নির্ধারিত পার্কিং এলাকা বা জোবাইক হাব থেকে অ্যাপের মাধ্যমে কিউআর কোড স্ক্যান করে সাইকেল আনলক করতে পারবেন। গন্তব্যে পৌঁছানোর পর নির্ধারিত যেকোনো জোবাইক পার্কিং স্থানে সাইকেল রেখে দেওয়া যাবে। সেবাটির জন্য প্রতিটি রাইডে আনলকিং ফি দিতে হবে ২ টাকা। এর সঙ্গে প্রতি মিনিটের ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ১ টাকা। জোবাইকের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মেহেদী রেজা বলেন, প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষ মেট্রোরেলে যাতায়াত করেন। তবে স্টেশন থেকে চূড়ান্ত গন্তব্যে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত পরিবহন সুবিধার অভাব রয়েছে। বাইসাইকেল শেয়ারিং সেবা এই সমস্যা সমাধানে একটি পরিবেশবান্ধব ও সাশ্রয়ী বিকল্প হতে পারে। তিনি বলেন, বাইসাইকেল ব্যবহারের মাধ্যমে যানজট ও কার্বন নিঃসরণ কমানোর পাশাপাশি নগর পরিবহন ব্যবস্থায় নতুন সুযোগ তৈরি হবে। জোবাইক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রতিষ্ঠানটি ২০১৮ সালে কক্সবাজারে পরিবেশবান্ধব স্মার্ট রাইড শেয়ারিং প্ল্যাটফর্ম হিসেবে যাত্রা শুরু করে। করোনাভাইরাস মহামারির কারণে কার্যক্রমে বাধা এলেও পরবর্তীতে নতুনভাবে কার্যক্রম শুরু করে প্রতিষ্ঠানটি। চলতি বছরের জুনে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ই-বাইক সেবা চালুর পর এবার রাজধানীর মেট্রোরেল ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত হয়ে বড় পরিসরে ফিরছে জোবাইক। নগর পরিবহন বিশেষজ্ঞদের মতে, মেট্রোরেলের সঙ্গে বিকল্প ছোট দূরত্বের পরিবহন ব্যবস্থা যুক্ত হলে যাত্রীদের সুবিধা বাড়বে এবং ব্যক্তিগত গাড়ির ওপর চাপ কিছুটা কমতে পারে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জেলা শহরের কাউতুলি এলাকায় তাজুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তির হারিয়ে যাওয়া অর্ধলক্ষ টাকা ফেরত দিয়েছে সদর ট্রাফিক পুলিশ। রবিবার (১৬ আগস্ট) বিকালে তথ্য প্রমাণের মাধ্যমে ওই ব্যক্তির কাছে টাকা বুঝিয়ে দেয় পুলিশ। পুলিশ জানায়, বিকালে তাজুল ইসলাম তার মেয়ের বিয়ের বাজার করার জন্য জেলার নবীনগর উপজেলার রসুলপুর গ্রাম থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে শহরের কাউতুলি মোড়ে আসে। অটোরিকশা থেকে নেমে ভাড়া দিয়ে চলে যান। এ সময় তার সাথে থাকা ব্যাগে ৫০ হাজার টাকা সড়কে পড়ে যায়। তখন সড়কে দায়িত্বরত ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর ট্রাফিক পুলিশের এটিএসআই নুরুল আমিন একটি ব্যাগ দেখতে পেয়ে তার হাতে নেন। পরে খুলে দেখা যায় এতে ৫০ হাজার টাকা রয়েছে। এ বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর ট্রাফিক পুলিশের সার্জেন্ট রাসেলুর রহমান বলেন, ওই ব্যক্তির হারিয়ে যাওয়া টাকা পেয়ে এটিএসআই নরুল আমিন আমাকে জানায়। পরে বিষয়টি আমাদের স্যারদের জানাই। হারিয়ে যাওয়া টাকা পাওয়ার খবর পেয়ে ওই ব্যক্তি আমাদের কাছে আসে। পরে তাদের তথ্য প্রমাণের মাধ্যমে ৫০ হাজার টাকা বুঝিয়ে দেওয়া হয়। হারিয়ে যাওয়া টাকা পেয়ে বৃদ্ধ তাজুল ইসলাম বলেন, আমার মেয়ে বিয়ের বাজার করার জন্য গ্রাম থেকে জেলা শহরে এসেছিলাম। পরে দেখি আমার সব টাকা সড়কে পড়ে যায়। দীর্ঘসময় খোঁজাখুঁজির পর খবর পায়, এক পুলিশ অফিসার আমার টাকাগুলো পেয়েছে। আমার টাকাগুলোর তথ্য প্রমাণ দিলে তারা আমাকে বুঝিয়ে দিয়েছে। তিনি আরো বলেন, পৃথিবীতে এখনও সৎ মানুষ ও সৎ পুলিশ অফিসার আছে। যার কারণে আমি বড় বিপদ থেকে উদ্ধার হয়েছি। তা না হলে বিয়ে দিতে অনেক কষ্ট হয়ে যেত। হারানো টাকা ফিরে পেয়ে আমি মহান আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করছি।
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে একটি লাগেজ থেকে খেলনা সদৃশ (ডামি) পিস্তল, ৫০ রাউন্ড বুলেট ও একটি চাকু উদ্ধার করা হয়েছে। গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যের ভিত্তিতে বিমানবন্দর কাস্টমস ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার সদস্যরা অভিযান চালিয়ে এসব জব্দ করেন। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত ২৭ জুলাই বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের রোম থেকে ঢাকাগামী বিজি-৩৫৬ ফ্লাইটে দেশে আসেন যাত্রী আবুল বাশার। বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর তার একটি লাগেজ হারিয়ে যায়। পরে গত ১৫ আগস্ট বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বিজি-২০২ ফ্লাইটে ওই লাগেজটি ঢাকায় আসে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে আজ সোমবার বিকেল ৪টার দিকে আবুল বাশার তার মিসিং লাগেজটি সংগ্রহ করে গ্রিন চ্যানেল-২ দিয়ে বিমানবন্দর থেকে বের হওয়ার সময় তাকে থামানো হয়। পরে কাস্টমস প্রিভেন্টিভ টিম ও কাস্টমস সদস্যরা লাগেজটি স্ক্যান করেন। স্ক্যানিংয়ে পিস্তল সদৃশ একটি বস্তু দেখা গেলে লাগেজটি খুলে তল্লাশি করা হয়। তল্লাশিতে খেলনা সদৃশ একটি ডামি পিস্তল, ৫০ রাউন্ড বুলেট (গান পাউডার) এবং একটি চাকু পাওয়া যায়। পরে এসব পণ্য জব্দ করা হয়।
নারায়ণগঞ্জে ছিনতাইকারীদের ছুরিকাঘাতে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী মো. ওয়াজেদ সীমান্ত হত্যার ঘটনায় করা মামলায় তিন আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। সোমবার (১৭ আগস্ট) জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. আবু শামীম আজাদ আসামিদের উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত তিন আসামি হলেন— অনিক, আকাশ ও চান্ডি বাবু রায় ঘোষণার সময় তারা আদালতে উপস্থিত ছিলেন। দণ্ডপ্রাপ্ত তিন আসামির বিরুদ্ধে এর আগেও ছিনতাই, হত্যা ও মাদকসহ একাধিক মামলা রয়েছে। কোর্ট পুলিশের পরিদর্শক আব্দুস সামাদ মৃত্যুদণ্ডের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। মামলার বিবরণ ও রায়ের নথি থেকে জানা যায়, ওয়াজেদ সীমান্ত আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি-বাংলাদেশের (এআইইউবি) কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন। ২০২৪ সালের ১২ ডিসেম্বর সকাল ৬টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়ার উদ্দেশে বাসা থেকে বের হন তিনি। পথে নারায়ণগঞ্জের দেওভোগের মিন্নত আলী শাহ সাহেবের মাজারের সামনে ছিনতাইকারীদের কবলে পড়েন। এ সময় ছিনতাইকারীরা তাকে ছুরিকাঘাত করে মোবাইল ফোন ও এক হাজার ৮০০ টাকা ছিনিয়ে নেন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৪ ডিসেম্বর রাত ১১টার দিকে তার মৃত্যু হয়। নিহত সীমান্ত দেওভোগ এলাকার মো. আলম পারভেজের ছেলে। আদালত সূত্র জানায়, চাঞ্চল্যকর এ হত্যা মামলায় মোট ২৭ জন সাক্ষীর মধ্যে ২৪ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা শেষে আদালত তিন আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেন।
ঢাকার ডেমরার সারুলিয়ায় বোমা সদৃশ বস্তু দুটি হাতবোমা বলেই নিশ্চিত হয়েছে পুলিশ; যেগুলো নরসিংদীর জেল থেকে পালানো ‘জঙ্গি’ জুয়েল ভুঁইয়া ওরফে ‘ওস্তাদের’ কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। এ দুটো বোমাসহ তাকে গ্রেপ্তারের তথ্য দিয়ে পুলিশ বলছে, এই জুয়েল নব্য জেএমবির আলোচিত বোমার কারিগর নাজমুল হাসান মামুন ওরফে বোমারু মামুনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী। পুলিশ বলছে, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই নরসিংদী কারাগারে দাঙ্গার পর পালিয়ে যাওয়া নয়জন জঙ্গির মধ্যে ছিলেন জুয়েল ভুঁইয়া। ছয়দিন পর ২৫ জুলাই তিনি আবার নরসিংদী জেলা পুলিশের হাতে ধরাও পড়েন। পরে ৫ অগাস্ট সরকার পতনের পর সেপ্টেম্বরের দিকে তিনি জামিনে বেরিয়ে আসেন। সবশেষ রোববার বিকালে বিভিন্ন জায়গা থেকে বোমা উদ্ধার এবং পুলিশের ওপর জঙ্গি হামলার তদন্তের সূত্র ধরে ডেমরার সারুলিয়া এলাকার পশ্চিম নিঝুমবাগ থেকে জুয়েলকে গ্রেপ্তার করা হয়। এসময় তার হেফাজত থেকে দুটি বোমা উদ্ধারের তথ্য দিয়েছে পুলিশ। জঙ্গি নেটওয়ার্কে জুয়েলের ‘কোডনেম’ হচ্ছে ‘ওস্তাদ’। তার বাড়ি নরসিংদীর শিবপুরের কাজীরচরে। ডিএমপির ডেমরা জোনের অতিরিক্ত উপকমিশনার মোহসিন মাসুদ বলেন, “বোমারু মামুনের সহযোগী হিসেবে সন্দেহভাজন জুয়েল ওই এলাকায় অবস্থান করছেন–এমন তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ ও অ্যান্টি টেররিজম ইউনিট (এটিইউ) যৌথভাবে এ অভিযান চালায়। অভিযানে দুটি হাতে তৈরি বোমা উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় একজনকে আটক করা হয়েছে।” পুলিশ বলছে, জুয়েল যে বাড়িতে অবস্থান করছিলেন, পরে সেটি ঘিরে তল্লাশি চালানো হয়। বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের উপস্থিতিতে তল্লাশি শেষে উদ্ধার করা বোমা দুটি নিষ্ক্রিয় করে ঢাকা মহানগর পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের বোম্ব ডিসপোজাল টিম। রাত সাড়ে ১১টার দিকে সিটিটিসির কর্মকর্তারা জুয়েল ভুঁইয়ার বিষয়ে তথ্য দেন। সিটিটিসির একজন কর্মকর্তা বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ‘হিযবুত তাহরীর’ এর সদস্য সন্দেহে ২০২৩ সালে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট এটিইউ জুয়েল ভুঁইয়াকে গ্রেপ্তার করে। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে কোটা সংস্কার আন্দোলনের মধ্যে ১৯ জুলাই কারাগার থেকে আরও কয়েকশ বন্দির সঙ্গে পালিয়ে যান তিনি। এরপর ২৫ জুলাই জেলা পুলিশের হাতে গ্রেপ্তারের পর তাকে পাঠানো হয় কাশিমপুর কারাগারে। সেখানেই বোমারু মামুনের সঙ্গে সখ্যতা হয় তার। এক মাস পরেই সরকার পতনের পর সেপ্টেম্বরে বোমারু মামুনদের সঙ্গে জামিনে বেরিয়ে আসেন জুয়েল। কোটা সংস্কার আন্দোলন ঘিরে সহিংসতায় ১৯ জুলাই বিকেলে নরসিংদী কারাগারে হামলা ও অগ্নিসংযোগ করার ঘটনা ঘটে। আন্দোলনকারীরা কারাগারের ভেতরে ঢুকে সেলের তালা ভেঙে ফেলেন। সেখান থেকে ৯ জঙ্গিসহ ৮২৬ কয়েদি পালিয়ে যান। কারাগারের অস্ত্রাগার ও কারারক্ষীদের কাছ থেকে ৮৫টি অস্ত্র ও ৮ হাজার ১৫০টি গুলি লুট করা হয়। পুলিশ বলছে, গত জুলাইতে সনাতনধর্মীদের ‘উল্টো রথযাত্রার’ পথে মতিঝিল মেট্রো স্টেশনের নিচে ছাতার ভেতর ‘পাইপ বোমা’ ফেলে রাখা এবং আশুলিয়ার চারাবাগে চায়ের দোকানে ‘প্রেশার কুকার’ বোমা ফেলে রাখার ঘটনার পর মামুন-আরিফদের ধরতে তৎপর হয় পুলিশ। এ ধারাবাহিকতায় আরিফ ধরা পড়লেও মামুন এখনো পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। নব্য জেএমবির মূল বোমার কারিগর হিসেবে তাকে চিহ্নিত করছে পুলিশ। সবশেষ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সাভারের শ্যামপুরে বোমারু মামুনের অন্যতম সহযোগী আরিফকে গ্রেপ্তারের পর সাভারের দক্ষিণ শ্যামপুরে তার আস্তানায় অভিযান চালায় পুলিশ। সন্ধ্যা থেকে বাড়িটি ঘিরে রেখে রাত পৌনে ২টা পর্যন্ত অভিযান চলে। সেখান থেকে প্রচুর পাইপ বোমা ও বোমা তৈরির রাসায়নিক ও অন্যান্য সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। এর পরদিনই সাভারের ভারের গোপেরবাড়ি লালটেক ঘোড়া মসজিদের সামনে একটি মাঠে পড়ে থাকা আরেকটি ‘প্রেশার কুকার’ বোমা পাওয়ার কথা জানায় পুলিশ। পুলিশ বলছে, ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ঢাকার কেরানীগঞ্জের একটি মাদ্রাসায় বোমা তৈরির সময় বিস্ফোরণ, এরপর ফেব্রুয়ারিতে রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে তল্লাশির সময় পুলিশকে ছুরিকাঘাত করে বোমার ব্যাগ ফেলে পালানো, মার্চে কুমিল্লার শিব মন্দিরে বিস্ফোরণ এবং একই মাসে রাজধানীর সায়েদাবাদে পুলিশের তল্লাশির সময় বোমা বিস্ফোরণের ঘটনাতেও মামুন ও তার শিষ্য আরিফ ওরফে ইমরানের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে। এই চক্রের সদস্যদের গ্রেপ্তারের ধারাবাহিক অভিযানেই রোববার ডেমরা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় জুয়েল ওরফে ওস্তাদকে। পুলিশ বলছে, হোটেল ওলিও মামলায় গ্রেপ্তার হওয়ার পর আদালতের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছিলেন মামুন। যদিও চলতি বছর অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে ঢাকার একটি আদালত মামুনসহ মামলার ১১ আসামিকেই খালাস দিয়েছে। রায়ের পর্যালোচনায় বিচারক লিখেছেন, “আসামিরা সবাই বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারবিরোধী নেতাকর্মী।” গ্রেপ্তার জুয়েলের বিরুদ্ধে কয়টি মামলা আছে সে বিষয়ে খোঁজ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান কর্মকর্তারা।
বগুড়ায় অনুমোদনহীন ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে নিম্নমানের সার্জিক্যাল পণ্য ও স্যানিটারি ন্যাপকিন তৈরির অভিযোগে এশা এন্টারপ্রাইজ নামের একটি কারখানাকে ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। একই সঙ্গে কারখানার অবৈধ উৎপাদন স্থান সিলগালা করেছে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। রবিবার (১৬ আগস্ট) দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত বগুড়া মহানগরীর ফুলদীঘি উত্তরপাড়া এলাকায় র্যাব-১২ বগুড়া ও জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের যৌথ অভিযানে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়। ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, ফুলদীঘি উত্তরপাড়ার একটি বাসাবাড়িতে অনুমোদন ছাড়াই অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে নারীদের স্যানিটারি ন্যাপকিন, শিশুদের নেবুলাইজার, ব্রেস্ট ফিডার পাম্পসহ বিভিন্ন সার্জিক্যাল সরঞ্জাম তৈরি করা হচ্ছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে এর সত্যতা পাওয়া যায়। পরে প্রতিষ্ঠানের মালিক এমদাদুল হককে ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয় এবং অবৈধ উৎপাদন কার্যক্রম পরিচালিত স্থানটি সিলগালা করে দেওয়া হয়। ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের বগুড়া জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মেহেদী হাসান বলেন, প্রতিষ্ঠানটি বিএসটিআইয়ের বাধ্যতামূলক অনুমোদন ছাড়াই এসব পণ্য তৈরি করছিল। ‘জবা’ ও ‘সেফ কেয়ার’ নামের স্যানিটারি ন্যাপকিনের মোড়কে উৎপাদনস্থল হিসেবে ধামরাইয়ের ঠিকানা ব্যবহার করা হয়েছিল। এটি ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইনের ৪৪ ধারা অনুযায়ী প্রতারণা। তিনি আরো বলেন, অত্যন্ত নিম্নমানের তুলা ও সাধারণ ফ্রেশ টিস্যু মুড়িয়ে স্যানিটারি ন্যাপকিন তৈরি করে মোড়কজাত করা হচ্ছিল। এসব পণ্য নারীদের স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ ও অস্বাস্থ্যকর। অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটিকে জরিমানা করার পাশাপাশি অবৈধ উৎপাদন স্থান সিলগালা করা হয়েছে। মানবস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ এ ধরনের কার্যক্রম বন্ধে নজরদারি অব্যাহত থাকবে। র্যাব-১২ বগুড়ার কম্পানি কমান্ডার ফিরোজ আহম্মেদ বলেন, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বিষয়টি জানতে পেরে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরকে জানানো হয়। পরে তাদের সহযোগিতায় অভিযান পরিচালনা করে জরিমানা ও ক্ষতিকর উৎপাদন স্থান সিলগালা করা হয়েছে। তবে কারখানার যেসব অংশে তুলনামূলক ঝুঁকিমুক্ত অন্যান্য পণ্য তৈরি করা হচ্ছিল, সেসব অংশ সচল রাখার সুযোগ দেওয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, জাতীয় মৎস্য পক্ষ ২০২৬ উপলক্ষে বিশেষ চাহিদা বৃদ্ধি করতে প্রান্তিক জনপদের নদী, বিল ও হাওরে মৎস্য উৎপাদন বাড়াতে হবে। যেসব বিল বা নদী পরিত্যক্ত অবস্থায় আছে, সরকারের পক্ষ থেকে সংস্কার করে সেগুলোতে মাছ চাষ করা হবে। কাজেই তরুণদের মৎস্য চাষের সঙ্গে যুক্ত করতে হবে। বায়ান্নটি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান দ্বিতীয়। এ সময় মৎস্য সম্পদের সঙ্গে পরিবেশকেও উন্নত রাখার আহ্বানও জানান তিনি। রোববার দুপুর আড়াইটায় জাতীয় মৎস্য দিবস উপলক্ষে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার আচমিতা জর্জ ইনস্টিটিউশনের মাঠে জাতীয় মৎস্য পক্ষ ২০২৬ আনুষ্ঠানিকভাবে তিনি কর্মসূচির উদ্বোধনকালে এসব কথা বলেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিগত ছয় মাসে ছয় হাজার বিলিয়ন বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করেছে সরকার। বাংলাদেশের মৎস্য চাষের উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে। যার মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব। সাত হাজার পাঁচ শত একর জমিতে চিংড়ি মাছ উৎপাদনের জন্য একটি উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ কাজে নারী ও যুবকদের সম্পৃক্ত করলে তারা আর্থিকভাবে লাভবান হবে। মৎস্যজীবীদের ভিজিএফ কার্ডের আওতায় আনা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, পাঁচ লক্ষ পাঁচ কোটি টাকা নতুন মৎস্য উদ্যোক্তাদের ঋণ দিয়ে মৎস্য চাষ বৃদ্ধি ও তাদের আর্থিক উন্নতি করার লক্ষ্যে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর আগে কটিয়াদী সরকারি কার্প হ্যাচারিতে আট জাতের পোনা মাছ অবমুক্ত করেন তিনি। মৎস্যমন্ত্রী আমিন উর রশিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, পাট ও বস্ত্র প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম, স্থানীয় সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট জালাল উদ্দিন প্রমুখ। এর আগে পাকুন্দিয়া মির্জাপুর চেয়ারম্যান বাড়ি ঘাট এলাকায় ব্রহ্মপুত্র নদে মাছ অবমুক্ত করেন। উক্ত অনুষ্ঠানে ১৩টি ক্যাটাগরিতে ১৪ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে জাতীয় মৎস্য পদক ও স্বর্ণপদক প্রদান করেন তিনি। উল্লেখ্য যে, ‘রুপালি মৎস্যের স্বনির্ভর দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যে এবার মৎস্য পক্ষ পালিত হচ্ছে। রোববার থেকে ৩০ আগস্ট পর্যন্ত চলা এ কর্মসূচিতে মৎস্য সম্পদ সংরক্ষণ, পোনা অবমুক্তকরণ এবং মৎস্য চাষিদের উৎসাহিত করতে নানা আয়োজন থাকছে।
ফ্যাসিস্ট সরকারের রেখে যাওয়া অবহেলিত স্বাস্থ্যখাতের শৃঙ্খলা ফেরাতে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেন, ‘১৭ বছর সকল খাতে লুটপাট করা হয়েছে, চিকিৎসা খাতেও ব্যাপক লুটপাট হয়েছে।স্বাস্থ্য খাতে পরিবর্তন আনতে সরকার শিগগিরই চিকিৎসকসহ ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দিচ্ছে।’ রবিবার (১৬ আগস্ট) সকালে এক আকস্মিক ঝটিকা সফরে ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘স্বাস্থ্য সেবা সহজলভ্য ও মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেয়ার লক্ষ্যে কি কি পদক্ষেপ নেওয়া যায় তা সরাসরি দেখার জন্য সারা দেশে আকস্মিকভাবে হাসপাতাল পরিদর্শন করা হচ্ছে।ইতোমধ্যে সকল উপজেলা হাসপাতালকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করা হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘দেশের স্বাস্থ্যখাতকে নতুন একটি শৃঙ্খলার মধ্যে চিকিৎসা পদ্ধতিকে আমরা নিয়ে আসতে চাচ্ছি। চিকিৎসক সংকট, ওষুধ সংকট ও রোগীদের সেবা সহজীকরণে আমরা দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা হাতে নিয়েছি। সরকারি স্বাস্থ্যসেবার প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা ফেরাতে আমরা পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কোনো ছাড় দেবো না।’ স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘নিকট ভবিষ্যতে উপজেলা হাসপাতালে ১০ শয্যার ডায়ালাইসিস ইউনিট চালু করা হবে। গত ১৭ বছরে ফ্যাসিস্ট সরকার স্বাস্থ্য সেবায় তেমন কোন পদক্ষেপ নেয়নি। বতর্মানে প্রয়োজনীয় ওষুধ, পরিবার পরিকল্পনা সামগ্রী ও ভ্যাকসিন পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে।’ মন্ত্রী জানান, উপজেলা পর্যায়ে আধুনিক প্যাথলজি ও ফিজিওথেরাপি সেবা সম্প্রসারণের পাশাপাশি ভবিষ্যতে সেখানে ডায়ালাইসিস–সুবিধাও চালু করা হবে। ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও ইউনিয়ন পরিবারকল্যাণ কেন্দ্রের সেবার মানোন্নয়নে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।পাশাপাশি শিগগিরই স্বাস্থ্য কার্ড কার্যক্রম শুরু হবে বলেও জানান তিনি। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, মহেশপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাজ্জাদ হোসেন, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক দবির উদ্দিন বিশ্বাস, উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক জিয়াউর রহমান জিয়া, উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. হেলেনা আক্তার নিপা, প্রশাসনের কর্মকর্তা ও দলীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
ফরিদপুরের নগরকান্দায় ধর্মীয় ও সামাজিকভাবে বিয়ে সম্পন্ন হওয়ার দাবি করা এক কিশোরীকে অপহরণের পর ধর্ষণের অভিযোগে রুমন খন্দকার (২১) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত প্রায় দেড় মাস ধরে তিনি কারাগারে রয়েছেন। তবে রুমনের পরিবারের দাবি, চলতি বছরের ২২ মে দুই পরিবারের সম্মতিতে সামাজিক ও ধর্মীয় রীতিতে ওই কিশোরীর সঙ্গে তার বিয়ে হয়। বিয়েতে গায়ে হলুদ, বরযাত্রী, খাওয়া-দাওয়া ও বিয়ের আনুষ্ঠানিকতাসহ বিভিন্ন আয়োজন করা হয়েছিল। কিশোরীর বয়স ১৮ বছরের কম হওয়ায় বিয়ে নিবন্ধন করা হয়নি বলেও দাবি তাদের। অন্যদিকে কিশোরী ও তার পরিবারের দাবি, কোনো বিয়ে হয়নি। তাদের অভিযোগ, গত ১৯ জুন কিশোরীকে অপহরণ করে রুমনদের বাড়িতে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করা হয়। এ অভিযোগে ২ জুলাই নগরকান্দা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন কিশোরীর দাদি জহুরন খাতুন (৫২)। রুমন খন্দকার নগরকান্দা উপজেলার তালমা ইউনিয়নের মনোহরপুর গ্রামের বিল্লাল খন্দকারের ছেলে। তিনি পেশায় কাঠমিস্ত্রি। রুমনের পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, ২২ মে ডাঙ্গী ইউনিয়নের শংকরপাশা গ্রামের মিরাজ মাতুব্বরের মেয়ে মিলার সঙ্গে রুমনের সামাজিকভাবে বিয়ে হয়। বিয়েতে প্রায় ৪০ জন বরযাত্রী অংশ নেন। পরে কনের বাড়ি থেকেও প্রায় ২৫ জন অতিথি রুমনের বাড়িতে যান। বিয়ের বিভিন্ন আয়োজনের ছবি ও ভিডিও তাদের কাছে রয়েছে বলে দাবি পরিবারের। রুমনের মামা হাফিজুর রহমান বলেন, বিয়ের পর থেকেই নবদম্পতির মধ্যে মনোমালিন্য শুরু হয়। পরে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মধ্যস্থতায় কয়েকবার বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও কিশোরী আর রুমনের বাড়িতে ফিরতে রাজি হয়নি। একপর্যায়ে পারিবারিক বিরোধের জেরে বিষয়টি থানায় গড়ায় বলে তার দাবি। তিনি আরও বলেন, গত ২ জুলাই গভীর রাতে পুলিশ রুমনকে গ্রেপ্তার করে। পরদিন থানায় গিয়ে তারা জানতে পারেন, ধর্ষণের মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে মামলার বাদী জহুরন খাতুন ও কিশোরী বিয়ের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। তাদের ভাষ্য, গত ১৯ জুন বিকাল ৫টার দিকে বাড়ির পাশ থেকে কিশোরীকে একটি মাইক্রোবাসে করে অপহরণ করা হয়। পরে রুমনদের বাড়িতে নিয়ে গিয়ে রাতভর ধর্ষণ করা হয় এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করা হয়। পরদিন সেখান থেকে পালিয়ে এসে পরিবারকে বিষয়টি জানায় কিশোরী। পরে তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে চিকিৎসা দেয়া হয় বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। নগরকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাসুল সামদানি আজাদ বলেন, ২ জুলাই কিশোরীকে সঙ্গে নিয়ে তার দাদী থানায় আসেন এবং ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারের চিকিৎসা সংক্রান্ত কাগজপত্র দেন। সেখানে ধর্ষণের বিষয় উল্লেখ থাকায় লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করা হয়। ওসি বলেন, মামলার এজাহারে বিয়ের কোনো বিষয় উল্লেখ করা হয়নি এবং পুলিশকেও আগে এ বিষয়ে জানানো হয়নি। কিশোরীর বয়স ১৮ বছরের কম হওয়ায় আইনগতভাবে বিয়ের সুযোগ নেই। মামলাটি তদন্ত করছেন উপপরিদর্শক শহিদুল ইসলাম। তদন্ত শেষে আদালতে পুলিশ প্রতিবেদন দেয়া হবে। নগরকান্দা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মুহম্মদ আল ফাহাদ বলেন, কিশোরীর পরিবার চিকিৎসা সংক্রান্ত কাগজপত্রসহ থানায় অভিযোগ করায় মামলা নেয়া হয়েছে। বিষয়টি পুলিশ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং তদন্ত কর্মকর্তা নিয়মিতভাবে মামলার অগ্রগতি জানাচ্ছেন। এদিকে বিয়ে নিবন্ধিত না হওয়ায় ঘটনাটির প্রকৃত ধরণ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। রুমনের পরিবার দাবি করেছে, কিশোরীর বয়স কম হওয়ায় প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর বিয়ে নিবন্ধনের সিদ্ধান্ত ছিল দুই পরিবারের। তবে ডাঙ্গী ইউনিয়নের কাজী মৌলভী বিএম ফজলুর রহমান মণ্ডল এ বিয়ের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার কথা অস্বীকার করেছেন। তিনি জানান, এ বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না এবং কনের বাড়িতেও তিনি উপস্থিত ছিলেন না। ফরিদপুর জজ কোর্টের আইনজীবী মো. ফারুক হোসেন বলেন, ১৮ বছরের কম বয়সী কারও বিয়ে আইনগতভাবে গ্রহণযোগ্য নয়। তবে একই সঙ্গে কোনো ঘটনার প্রকৃত তথ্য নির্ধারণে তদন্ত ও সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে। নগরকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজওয়ানা আফরিন বলেন, বিয়ের ক্ষেত্রে সামাজিক ও আইনগত সুরক্ষার জন্য নিবন্ধন গুরুত্বপূর্ণ। তার ভাষ্য, কিশোরীর বয়স কম হলে বাল্যবিয়ের বিষয়টিও আইনের আওতায় আসতে পারে। কোনো বিয়ে নিবন্ধক এ ধরনের বিয়েতে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধেও আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে। পুলিশ জানিয়েছে, মামলাটি তদন্তাধীন। তদন্তে বিয়ে, অপহরণ ও ধর্ষণের অভিযোগসহ সংশ্লিষ্ট সব বিষয় যাচাই করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের চেষ্টা করা হচ্ছে।
দক্ষিণ আফ্রিকার ইস্টার্ন কেপ প্রদেশের সমো এলাকার মা ক্যাশ অ্যান্ড ক্যারি সুপারশপে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত ছয় বাংলাদেশি প্রবাসীর দাফন সম্পন্ন হয়েছে। শনিবার (১৫ আগস্ট) বাদ জোহর কুইন্সটাউন জামে মসজিদে দুই দফায় জানাজা শেষে কুইন্সটাউনের ইজিবিলিনি মুসলিম কবরস্থানে তাদের দাফন করা হয়। জানাজায় স্থানীয় মুসল্লিদের পাশাপাশি স্থানীয় মুসলিম কমিউনিটির শীর্ষ নেতা ডা. মাকাদা, বাংলাদেশি চিকিৎসক ডা. ইউনুস, সোমালিয়া ও ইথিওপিয়ান কমিউনিটির প্রতিনিধিসহ দক্ষিণ আফ্রিকার বিভিন্ন শহর থেকে আসা প্রবাসী বাংলাদেশি, বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিরা অংশ নেন। জানাজা শেষে নিহতদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয় এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানানো হয়। কুইন্সটাউন বাংলাদেশি কমিউনিটির নেতা শহিদুল হক হেলালের সার্বিক তত্ত্বাবধানে এবং দোকান মালিকপক্ষের সহযোগিতায় দাফনের সব কার্যক্রম সম্পন্ন হয়। মরদেহগুলোর পৃথক পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব না হওয়ায় ছয়জনকে তিনটি কবরে, প্রতি কবরে দুজন করে দাফন করা হয়। স্থানীয় কমিউনিটি নেতা মাহমুদুর রহমান জানান, আগুনের তীব্রতায় মরদেহগুলো সম্পূর্ণ পুড়ে যাওয়ায় কোনটি কার মরদেহ তা শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। পরিচয় নিশ্চিত করতে ডিএনএ পরীক্ষার প্রয়োজন হলেও সেই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে দীর্ঘ সময় লাগতে পারে। পাশাপাশি মরদেহ দেশে পাঠানোর আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়াও জটিল হওয়ায় নিহতদের পরিবার ও স্বজনদের সম্মতিতে দক্ষিণ আফ্রিকাতেই তাদের দাফনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। দোকান মালিক আলমগীর হোসেন বলেন, আগুনের তীব্রতা এতটাই ছিল যে মরদেহগুলো দেখে কাউকে শনাক্ত করার কোনো উপায় ছিল না। কমিউনিটি নেতা জুলফিকার আলী টুটুল ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী মরদেহগুলো কঙ্কালে পরিণত হয়েছিল এবং প্রতিটি মরদেহের অবশিষ্টাংশ ছিল খুবই সামান্য। ফলে ডিএনএ পরীক্ষা ছাড়া পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। উল্লেখ্য, গত ২৮ জুলাই ভোররাতে সমো এলাকার "মা ক্যাশ অ্যান্ড ক্যারি" সুপারশপের আবাসিক অংশে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় দোকানের পেছনের কক্ষে ঘুমিয়ে থাকা সাত বাংলাদেশির মধ্যে নারায়ণগঞ্জের মো. ফয়সাল (২৬), মো. ফাহিম (২৯), শামীম হাসান (৩০), মোহাম্মদ আপন (২৩), নূর মোহাম্মদ (৫৫) এবং মুন্সীগঞ্জের রাজিক বেপারী (৫৫) ঘটনাস্থলেই নিহত হন। একই ঘটনায় মো. সুমন আহত হলেও তিনি জানাজা ও দাফনে অংশগ্রহণ করেন। দুর্ঘটনার পর বাংলাদেশ হাইকমিশনার শাহ আহমেদ শফীর নেতৃত্বে দূতাবাসের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং দক্ষিণ আফ্রিকার পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম সম্পন্ন করেন। একই সঙ্গে অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদঘাটনে পুলিশের তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। মর্মান্তিক এ ঘটনায় দক্ষিণ আফ্রিকাজুড়ে বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। জানাজায় অংশ নেওয়া শত শত মুসল্লি নিহতদের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
রংপুরের পীরগাছায় প্রথম বিবাহবার্ষিকীর দিনে মোটরসাইকেলে বাবার বাড়ি যাওয়ার পথে ট্রাকচাপায় লিজা আক্তার (২০) নামে এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় তার স্বামী শামীম মিয়া গুরুতর আহত হয়েছেন। শনিবার (১৫ আগস্ট) রাত ৮টার দিকে উপজেলার সাতদরগা-রংপুর সড়কের কালিস্থান এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত লিজা আক্তার উপজেলার গুয়াবাড়ি গ্রামের ব্যবসায়ী লাভলু মিয়ার মেয়ে। জানা গেছে, এক বছর আগে উপজেলার অন্নদানগর ইউনিয়নের বামনসর্দার গ্রামের শামীম মিয়ার সঙ্গে লিজার বিয়ে হয়। শনিবার ছিল তাদের প্রথম বিবাহবার্ষিকী। এ উপলক্ষে সন্ধ্যায় স্বামীর মোটরসাইকেলে বাবার বাড়িতে যাচ্ছিলেন লিজা। পথে কালিস্থান এলাকায় পৌঁছালে একটি বেপরোয়া ট্রাক তাদের মোটরসাইকেলকে চাপা দেয়। পরে স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় দুজনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পথে লিজার মৃত্যু হয়। আহত শামীম মিয়াকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা ঘাতক ট্রাকটি আটক করতে সক্ষম হলেও চালক ও তার সহকারী পালিয়ে যায়। পীরগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম মালিক জানান, দুর্ঘটনায় একজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
বরিশালের গৌরনদীতে সৌদি প্রবাসীর বসতঘরের দরজা ভেঙে দেশীয় অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা লুট করে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (১৫ আগস্ট) দুপুরে প্রবাসীর স্ত্রী বাদি হয়ে অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। প্রবাসী খোকন হালদারের স্ত্রী জানান, শুক্রবার (১৪ আগস্ট) রাত আনুমানিক ২টার দিকে আমার টিনশেড বসতঘরের দরজা ভেঙে ৫-৬ জনের একটি সশস্ত্র দল ঘরে প্রবেশ করে। তারা আমাকে ও আমার ৮ বছর বয়সী মেয়ের গলায় রামদা ধরে জিম্মি করে ফেলে। আমি চিৎকার দিতে চাইলে মেরে ফেলার হুমকি দেয় এবং আসবাবপত্র তছনছ করে ফেলে। তিনি আরও জানান, তারা আমার কাছে আলমারির চাবি চায়। চাবি দিতে না চাইলে আমার মেয়েকে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। একপর্যায়ে আমি আলমারির চাবি দিতে বাধ্য হই। পরে সেখানে থাকা ৪ ভরি স্বর্ণ, ৩ ভরি রৌপ্য ও নগদ ১ লাখ টাকা লুট করে নিয়ে যায় তারা। তারা চলে যাওয়ার পর আমার চিৎকারে আশপাশের লোকজন এসে আমাদের উদ্ধার করেন। ঘটনার পর থেকে আমরা আতঙ্কে রয়েছি। গৌরনদী মডেল থানার কর্মকর্তা (ওসি) তারিক হাসান রাসেল বলেন, এ ঘটনায় থানায় চুরির অভিযোগ করা হয়েছে। ঘটনার তদন্তে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা চলমান রয়েছে।
নারায়ণগঞ্জের বন্দরে তীব্র গ্যাস সংকটে চরম বিপাকে পড়েছেন শিল্প মালিকরা। বুধবার থেকে গ্যাসের অভাবে পোশাক খাতসহ অর্ধশতাধিক ছোট-বড় শিল্পকারখানার উৎপাদন কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। এতে প্রতিদিন প্রায় ২৫ কোটি টাকার আর্থিক লোকসান গুনতে হচ্ছে প্রতিষ্ঠানগুলোকে। বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) পরিচালক ও পূর্বাঞ্চল শিল্পমালিক সমিতির সভাপতি এম জামাল উদ্দিন জানান, বন্দর এলাকার শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোতে বর্তমানে এক ভয়াবহ সংকট বিরাজ করছে। গ্যাস না থাকায় নিয়মিত শিপমেন্ট ও পণ্য সরবরাহ মারাত্মক ব্যাহত হচ্ছে। নির্ধারিত সময়ে বিদেশি ক্রেতাদের অর্ডার সরবরাহ করা সম্ভব না হওয়ায় তারা মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন, যা সামগ্রিক জাতীয় অর্থনীতির জন্য এক চরম অশনি সংকেত। তিনি জানান, তার মালিকানাধীন ‘জাহিন নিটওয়্যার’ কারখানায় প্রতিদিন গড়ে ২৩ টন পোশাক উৎপাদিত হতো, যা এখন পুরোপুরি বন্ধ। তার এই একটি কারখানাতেই দৈনিক লোকসান হচ্ছে প্রায় ৪০ লাখ টাকা। একইভাবে মদনপুর এলাকার ইউনাইটেড অ্যাপারেলস, ইপিলিয়ন ও ল্যারিজ ফ্যাশনের মতো বৃহৎ শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর উৎপাদনও চার দিন ধরে বন্ধ।
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারিতে গ্যাস নিঃসরণজনিত দুর্ঘটনায় নয়জনের প্রাণহানির এক দিন পরও ফেরদৌস স্টিল শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডের জাহাজটির বিষাক্ত হাইড্রোজেন সালফাইড গ্যাসমুক্ত করার কাজ শেষ হয়নি। শনিবার দিনভর চেষ্টার পরেও ওই জাহাজের দুর্ঘটনা ঘটা অংশে গ্যাস ‘বিপজ্জনক মাত্রার নিচে’ নামানো সম্ভব হয়নি। বিকালে বিশেষজ্ঞরা গ্যাস মুক্ত করার কাজ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেন। রোববার আবার ওই কাজ শুরু হবে। প্রাণহানির ওই ঘটনায় শিল্প মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটি শনিবার সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে সভা করেছে। ১১ সদস্যের ওই কমিটি রোববার ফেরদৌস শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডে জাহাজটি পরিদর্শনে যাবে। শনিবার দুপুরে ফেরদৌস স্টিল শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ড পরিদর্শনে গিয়ে শিল্প সচিব আব্দুন নাসের খান বলেন, “আমরা দেখছি কেন ঘটনাটা ঘটল। যদি এখানে কারও কোনো অবহেলা থেকে থাকে, দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে ভবিষ্যতে যেন এরকম ঘটনা না ঘটে।” ‘ওয়াটার ট্যাংকে জমেছিল’ বিষাক্ত গ্যাস ২৮০ মিটার দৈর্ঘে্যর এলএনজিবাহী ‘এমটি রাসি’ নামের জাহাজটি ভাঙার জন্য ২০২৫ সালের জুলাই মাসে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার ভাটিয়ারি স্টেশন রোড এলাকার ফেরদৌস স্টিল শিপ ব্রেকিং অ্যান্ড রিসাইক্লিং ইয়ার্ডে নিয়ে আসা হয়। শুক্রবার সকালে ওই জাহাজের নিচের দিকের একটি অংশে কাটার কাজ চলছিল। একটি ট্যাংকারের একাংশ কাটার পর সেটি সরিয়ে নিতে গেলে গ্যাসের প্রভাবে অচেতন হয়ে যান কয়েকজন। পরে তাদের উদ্ধারে গিয়ে বাকিরাও অচেতন হয়ে যান। ওই ঘটনায় নয়জনের প্রাণ যায়; চিকিৎসাধীন আছেন ৭ জন। জাহাজটি কাটার আগে অনুমোদন নেওয়ার বিষয়ে বিস্ফোরক অধিদপ্তর চট্টগ্রামের পরিদর্শক এস এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, “জাহাজ বিচিং (তীরে ভেড়ানো) এর সময় আমরা কার্গো ট্যাংক পরীক্ষা করে থাকি। তেল ও গ্যাস কার্গো ট্যাংক পরিদর্শন শেষে আমরা অনুমতি দিই। “এটারও কার্গো ট্যাংক পরিদর্শন করা হয়েছিল। কার্গো ট্যাংকে কিছু হয়নি। যে ঘটনা ঘটেছে সেটা ওয়াটার ট্যাংকে। তাতে গ্যাস জমে গিয়েছিল। সেটা কীভাবে ও কেন হয়েছে, তা তদন্ত শেষে জানা যাবে।” শনিবার দুপুরে সাখাওয়াত হোসেন বলেন, “শুক্রবার বিকালে আমরা দুর্ঘটনা এলাকা পরিদর্শন করি। মাল্টি গ্যাস ডিটেক্টরের মাধ্যমে হাইড্রোজেন সালফাইড অতিরিক্ত মাত্রায় ছিল বলে শনাক্ত করতে পেরেছি। আমাদের ধারণা ঘটনার মূল কারণ হাইড্রোজেন সালফাইডের বিষাক্ততা।” তিনি বলেন, “সমন্বিত যে কমিটি হয়েছে, কমিটির মাধ্যমে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, যে হাইড্রোজেন সালফাইডের উপস্থিতি আমরা পেয়েছি সেটাকে বের করে নিরাপদ করা হবে। পরে অন্য কোনো কারণ আছে কিনা খতিয়ে দেখা হবে।” ফায়ার সার্ভিস ও বিস্ফোরক অধিদপ্তরের বিশেষজ্ঞ দল জাহাজের ওই অংশে যান। তারা শনিবার বিকাল পর্যন্ত সেখানে কাজ করেন। রাতে বিস্ফোরক অধিদপ্তরের পরিদর্শক সাখাওয়াত হোসেন বলেন, “হাইড্রোজেন সালফাইড পানিতে মিশে থাকে এমন একটি ভারী গ্যাস। এই গ্যাস সরাতে হলে পানি দিয়ে বের করতে হবে। কিন্তু এটা করার মত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা সেখানে নেই। তাই আজ কাজ স্থগিত রাখা হয়েছে। আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “২০ পিপিএম (পার্টস পার মিলিয়ন) পর্যন্ত হাইড্রোজেন সালফাইড সহনীয়। ২০-১০০ পিপিএম হল বিপজ্জনক মাত্রার। ১০০ পিপিএম এর উপর এই গ্যাস প্রাণঘাতী।” স্থানীয়রা বলছেন, শুক্রবার দুর্ঘটনার পর অচেতন হয়ে পড়াদের উদ্ধারে যারা জাহাজের ওই অংশে গিয়েছিল তারাও অচেতন হয়ে পড়ে। আর যারা ওই জাহাজটির কাছাকাছি এগিয়ে গিয়েছিলেন তারাও তীব্র গ্যাসের গন্ধ পেয়েছেন। ফায়ার সার্ভিস চট্টগ্রাম অঞ্চলের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ তৌফিকুল ইসলাম ভুঁইয়া বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আজ (শনিবার) বিকালে পরিবেশ অধিদপ্তর মাল্টি ডিটেকটর দিয়ে পরিমাপ করে দেখেছে। সেখানে ৮৪ পিপিএম, মানে উচ্চমাত্রার গ্যাস রয়ে গেছে। “গ্যাসের এরকম উপস্থিতি থাকায় আজ আর কাজ করা হয়নি। কাল আবার কাজ শুরু হবে।” বাংলাদেশ শিপ রিসাইক্লিং বোর্ড (বিএসআরবি) এর মহাপরিচালক এ এস এম শফিউল আলম তালুকদার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “দুর্ঘটনাস্থলে পানি দিলে বিষাক্ত গ্যাস সরে যাচ্ছিল। পরে আবার গ্যাসের অস্তিত্ব পাওয়ায় আজ (শনিবার) কাজ স্থগিত রাখা হয়েছে।” জাহাজটি সাগরের তীরে ভিড়িয়ে ভাঙার কাজ চলছে। জাহাজের দুর্ঘটনা যে অংশে ঘটেছে সেখানে জোয়ারের পানি আসা-যাওয়া করে। সংশ্লিষ্টদের ধারণা, দুর্ঘটনাস্থলে জমা হাইড্রোজেন সালফাইড গ্যাস জোয়ারের পানিতে মিশে আশেপাশে ছড়িয়ে আছে। মামলা হয়েছিল ফেরদৌস স্টিল শিপ ইয়ার্ডে শ্রমিকদের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ঘাটতি থাকায় গত জুলাই মাসে মামলা করেছিল কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর। শ্রমিকদের নিরাপত্তা বিষয়ে যথেষ্ট সচেতন না করা, ঝুঁকি মূল্যায়নের প্রতিবেদন না দেওয়া এবং নির্ধারিত সময়ের বেশি কাজ করালেও অতিরিক্ত সময়ের টাকা না দেওয়ার অনিয়ম ধরা পড়ে ওই শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডে। চলতি বছরের শুরুর দিকে পরিদর্শনে অনিয়ম ধরা পড়ে। বিষয়গুলো সংশোধনে প্রতিষ্ঠানটিকে একাধিকবার নোটিশ দেয় কলকারখানা অধিদপ্তর। তবে যথাযথ জবাব না পেয়ে জুলাই মাসে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে শ্রম আদালতে মামলা করা হয়। কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মোহাম্মদ মাহবুবুল হাসান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমরা নিয়মিত বিভিন্ন কারখানা পরিদর্শন করি। সেখানে শ্রমিকরা যাযথ বেতন-বোনাস ও চাকরির বেনিফিট পান কিনা, নিরাপত্তার জন্য সরঞ্জাম আছে কিনা এবং আরো কিছু বিষয় আমরা দেখি। “এরকম নিরাপত্তাজনিত কিছু বিষয়ে ঘাটতি থাকায় নিয়মিত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই তাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছিল।” কোনো জাহাজ কাটার আগে গ্যাস মুক্ত করেই তা কাটতে হয় জানিয়ে তিনি বলেন, “এক্ষেত্রে সেটা হয়েছে কিনা, তা টেকনিক্যাল পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর বিশেষজ্ঞরা বলতে পারবেন। তদন্ত কমিটি হয়েছে। কমিটি তথ্য সংগ্রহ ও তদন্ত শেষে প্রতিবেদন দেবে।” জাহাজটিতে গ্যাস নিঃসরণজনিত দুর্ঘটনায় নয়জনের প্রাণহানির পর ফেরদৌস স্টিল শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডের কার্যক্রম স্থগিত রাখার নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ শিপ রিসাইক্লিং বোর্ড। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ইয়ার্ডটির সব কার্যক্রম বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে।
ভোরের আলো ফোটার আগেই রিকশা নিয়ে বেরিয়ে পড়তেন আয়নাল হক। দিনের পর দিন রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে প্যাডেল ঘুরিয়েছেন। রাতে ঘামে ভেজা শরীর নিয়ে ফিরেছেন বাড়িতে। রিকশার আয়েই চলেছে সংসার, তবুও শত কষ্টের মাঝে পড়াশোনা করিয়েছেন দুই ছেলেকে। সামর্থ্য সীমিত হলেও সন্তানদের স্বপ্নের সীমা কখনো বেঁধে দেননি তিনি। বগুড়ার শেরপুর উপজেলার খামারকান্দি গ্রামের সেই রিকশাচালক আয়নাল হকের বড় ছেলে মো. নাজমুল হাসান এখন পাড়ি দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন সুদূর সুইডেনে। ইউনিভার্সিটি অব স্কোভডেতে ‘মাস্টার্স ইন বায়োসায়েন্স’ পড়ার সুযোগ পেয়েছেন তিনি। পেয়েছেন শতভাগ টিউশন ফি মওকুফসহ পূর্ণ বৃত্তি। তবে বৃত্তি পাওয়ার পরও বিদেশযাত্রার খরচ হয়ে দাঁড়িয়েছিল বড় বাধা। সে-ই সংকটের সময় পাশে দাঁড়িয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গত বুধবার (১২ আগস্ট) বাবাকে সঙ্গে নিয়ে বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন নাজমুল। তার সংগ্রাম, পড়াশোনা ও সুইডেনে উচ্চশিক্ষার সুযোগ পাওয়ার বিষয়টি শুনে প্রধানমন্ত্রী তাকে আর্থিক অনুদান দেন। একইসঙ্গে মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করে নিজেকে দক্ষ বিশেষজ্ঞ হিসেবে গড়ে তোলা এবং ভবিষ্যতে দেশের মানুষের জন্য কাজ করার পরামর্শ দেন। নাজমুলের গল্পটা অবশ্য সুইডেনের বৃত্তি পাওয়ার মধ্য দিয়ে শুরু হয়নি। এর পেছনে আছে দীর্ঘ সংগ্রাম, বাবার ঘাম আর নিজের অদম্য পরিশ্রম। খামারকান্দি গ্রামের সাধারণ পরিবারে নাজমুলের বেড়ে ওঠা। বাবা আয়নাল হক রিকশাচালক, মা নারজিনা খাতুন গৃহিণী। সংসারে সচ্ছলতা ছিল না। প্রতিদিনের আয় দিয়ে সংসার চালানোর পাশাপাশি দুই ছেলের পড়াশোনার খরচ জোগানোই ছিল বাবার বড় চ্যালেঞ্জ। কিন্তু অর্থকষ্ট সন্তানদের পড়াশোনার পথে বাধা হোক, এটি মানতে চাননি বাবা আয়নাল হক। রিকশা চালিয়ে যে আয় করেছেন, তা দিয়ে কোনোভাবে সংসার সামলেছেন, সন্তানদের পড়াশোনা চালিয়ে গেছেন। বাবার সেই সংগ্রাম নাজমুলও কাছ থেকে দেখেছেন। ফলে নিজের পড়াশোনার খরচ মেটাতে তাকেও কাজ করতে হয়েছে। কখনো রাজমিস্ত্রির সহযোগী, কখনো হোটেল কিংবা দোকানের কর্মচারী হিসেবে কাজ করেছেন। দিনের বেলায় শ্রম দিয়েছেন, আর সুযোগ পেলেই বই হাতে নিয়েছেন। অনেক রাত কেটেছে পড়ার টেবিলে। দারিদ্র্য তাকে থামাতে পারেনি। বরং প্রতিকূলতাই তাকে আরও দৃঢ় করেছে। গ্রামের প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে শিক্ষাজীবন শুরু করে একসময় জায়গা করে নেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণরসায়ন ও অনুপ্রাণ বিজ্ঞান (Biochemistry and Molecular Biology) বিভাগে। ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের এই শিক্ষার্থী বর্তমানে মাস্টার্সের থিসিস করছেন। পড়াশোনার পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সামাজিক ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডেও যুক্ত ছিলেন তিনি। উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার প্রতি আগ্রহ থেকেই বিদেশে পড়ার স্বপ্ন দেখতে শুরু করেন নাজমুল। দীর্ঘ চেষ্টা শেষে সেই স্বপ্নের দুয়ার খুলে যায় সুইডেনে। ইউনিভার্সিটি অব স্কোভডেতে ‘মাস্টার্স ইন বায়োসায়েন্স’ পড়ার জন্য শতভাগ টিউশন ফি মওকুফসহ পূর্ণ বৃত্তি পান তিনি। জীবনের বড় অর্জন হলেও আনন্দের সঙ্গে যুক্ত হয় নতুন দুশ্চিন্তা। বৃত্তির আওতায় টিউশন ফি ও স্বাস্থ্যবিমার সুবিধা থাকলেও বিমানভাড়া, আবাসন এবং শুরুতে জীবনযাপনের খরচ বহন করার মতো সামর্থ্য ছিল না পরিবারের। রিকশা চালিয়ে যে আয় করেন আয়নাল হক, তা দিয়ে সংসার চালানো এবং দুই সন্তানের পড়াশোনার খরচ বহন করাই কঠিন। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তির সুযোগ পাওয়ার পরও নাজমুলের সুইডেনযাত্রা অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। একদিকে বহু বছরের পরিশ্রমে অর্জিত বৃত্তি, অন্যদিকে বিদেশযাত্রার প্রয়োজনীয় অর্থের সংকট, এই দুইয়ের টানাপোড়েনে থমকে যাওয়ার উপক্রম হয় তার স্বপ্ন। এই পরিস্থিতিতে নাজমুলের উচ্চশিক্ষার বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর নজরে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়। শেরপুরের ডা. মনজুর রশিদের সহযোগিতায় প্রধানমন্ত্রীর সহকারী চিকিৎসক ডা. এএনএম মনোয়ারুল কাদির বিটুর মাধ্যমে তার আবেদনপত্র প্রধানমন্ত্রীর কাছে পৌঁছায়। এরপর বাবাকে সঙ্গে নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন নাজমুল। সেখানে নিজের শৈশব, পরিবারের আর্থিক সংকট, পড়াশোনার সংগ্রাম এবং সুইডেনে উচ্চশিক্ষার সুযোগ পাওয়ার বিষয়টি তুলে ধরেন তিনি। নাজমুলের কথা শুনে তার উচ্চশিক্ষার জন্য আর্থিক সহযোগিতা করেন প্রধানমন্ত্রী। একইসঙ্গে ভবিষ্যতে মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করে একজন দক্ষ বিশেষজ্ঞ হিসেবে নিজেকে গড়ে তোলা এবং দেশের মানুষের কল্যাণে কাজ করার পরামর্শ দেন। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের অনুভূতি জানিয়ে নাজমুল কালবেলাকে বলেন, ছোটবেলা থেকেই তারেক রহমান তার অনুপ্রেরণার একজন মানুষ। সরাসরি সাক্ষাৎ করে নিজের সংগ্রামের কথা বলা এবং তার কাছ থেকে পরামর্শ পাওয়া তার জীবনের স্মরণীয় একটি ঘটনা। নাজমুল জানান, তার বাবা একজন রিকশাচালক। বাবার উপার্জনের ওপর নির্ভর করেই তাদের পড়াশোনা এগিয়েছে। সুইডেনে শতভাগ বৃত্তি পাওয়ার পরও বিমানভাড়া ও সেখানে থাকা-খাওয়ার প্রাথমিক খরচ পরিবারের পক্ষে বহন করা সম্ভব হচ্ছিল না। প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতায় সেই অনিশ্চয়তা কেটে গেছে। তিনি আরো জানান, প্রধানমন্ত্রী আন্তরিকভাবে তার কথা শুনেছেন এবং মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করে দক্ষ বিশেষজ্ঞ হওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতে দেশের মানুষের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করার পরামর্শ দিয়েছেন। এই সহযোগিতা তাকে আরও দায়িত্বশীলভাবে এগিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা দিয়েছেন বলেও জানান তিনি। নাজমুলের বাবা আয়নাল হক বলেন, সন্তানদের পড়াশোনা করানোর জন্য তিনি সবসময় কষ্ট করেছেন। রিকশা চালিয়ে সংসার চালানো সহজ ছিল না, তবু ছেলেদের পড়াশোনা বন্ধ করেননি। বড় ছেলে এতদূর যেতে পারায় তার দীর্ঘদিনের কষ্ট সার্থক হয়েছে বলে মনে করেন তিনি। ছেলে বিদেশে গিয়ে ভালোভাবে পড়াশোনা করে দেশের জন্য কিছু করার প্রত্যাশাও রয়েছে তার। নাজমুলের ছোট ভাই মো. আতিক হাসানও পড়াশোনা করছেন। এবার তিনি শেরপুর সরকারি কলেজে এইচএসসি শিক্ষার্থী। দুই ছেলেকে ঘিরেই আয়নাল হক ও নারজিনা খাতুনের স্বপ্ন। নাজমুল তার এই পথচলায় পরিবারের পাশাপাশি যারা বিভিন্ন সময়ে সহযোগিতা করেছেন, তাদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। বিশেষভাবে ডা. এএনএম মনোয়ারুল কাদির বিটু, ডা. মনজুর রশিদ এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি আরিফ ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক সর্দার জহুরুলসহ সংশ্লিষ্টদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন তিনি। খামারকান্দির মেঠোপথ থেকে সুইডেনের বিশ্ববিদ্যালয়, নাজমুলের এই যাত্রা কেবল একটি শিক্ষার্থীর বিদেশে উচ্চশিক্ষার গল্প নয়। এর ভেতরে আছে একজন রিকশাচালক বাবার ঘাম, একজন মায়ের ত্যাগ, সন্তানের অদম্য চেষ্টা এবং সংকটের সময়ে পাওয়া সহযোগিতার গল্প। যে রিকশার প্যাডেল ঘুরিয়ে আয়নাল হক বছরের পর বছর সংসারের চাকা সচল রেখেছেন, সেই রিকশার আয়ের একটি অংশেই গড়ে উঠেছে ছেলের ভবিষ্যৎ। আজ সেই ছেলে নতুন স্বপ্ন নিয়ে পাড়ি দিতে যাচ্ছেন সুদূর সুইডেনে। নাজমুলের সামনে এখন নতুন লড়াই, উচ্চশিক্ষা, গবেষণা এবং নিজেকে একজন দক্ষ বিশেষজ্ঞ হিসেবে গড়ে তোলা। তার পেছনে থাকবে খামারকান্দির সেই ছোট ঘর, রিকশার প্যাডেলে জমে থাকা বাবার ঘাম আর একটি পরিবারের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন। এই গল্প যেন আবারও মনে করিয়ে দেয়, অভাব মানুষের পথ কঠিন করে দিতে পারে, কিন্তু স্বপ্নের পথ বন্ধ করে দিতে পারে না। শ্রম, মেধা, অধ্যবসায় আর একটু সহযোগিতা পেলে রিকশাচালকের ঘর থেকেও তৈরি হতে পারে আন্তর্জাতিক অঙ্গনের স্বপ্নবাজ তরুণ।
সিলেটের হজরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের ডেগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দীর্ঘায়ু কামনা করে লেখা একটি চিঠি পাওয়া গেছে। চিঠিতে শেখ হাসিনাকে ‘মৃত্যুর মুখ’ থেকে রক্ষা এবং তার হায়াত বাড়ানোর জন্য আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করা হয়েছে। একই সঙ্গে জুলাইয়ের ‘ষড়যন্ত্রমূলক মামলা’ থেকে শেখ হাসিনাকে এবং ‘মিথ্যা হত্যা মামলা’ থেকে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের হেফাজতের আবেদন জানানো হয়েছে। শনিবার (১৫ আগস্ট) সকাল ১০টায় মাজার প্রাঙ্গণে ৩টি ডেগ ও ৩টি বড় দানবাক্স খোলার পর প্রকাশ্যে টাকা গণনার সময় চিঠিটি পাওয়া যায়। প্রশাসন ও সর্বসাধারণের উপস্থিতিতে ৩০ জন স্বেচ্ছাসেবী দানবাক্স ও ডেগের টাকা গণনায় অংশ নেন। চিঠির লেখক হিসেবে ‘সজিব’ নামের এক ব্যক্তির পরিচয় পাওয়া গেছে। চিঠিতে নিজেকে গাজীপুর জেলার বাসিন্দা এবং সিলেট আওয়ামী লীগের সমর্থক হিসেবে উল্লেখ করেছেন তিনি। চিঠিতে শেখ হাসিনার দীর্ঘায়ু কামনা করে তিনি লেখেন, ‘হে আল্লাহ তুমি মহান! আমাদের প্রিয় নেত্রী শেখ হাসিনাকে আমাদের হায়াত কমিয়ে নেত্রীর হায়াত বাড়িয়ে দেন।’ এরপর ‘প্রত্যাবর্তন-২’ শিরোনামে ‘শেখ হাসিনা ডিসেম্বর-২০২৬’ উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি জুলাইয়ের মামলা থেকে শেখ হাসিনা এবং হত্যা মামলা থেকে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের হেফাজতের জন্য প্রার্থনা করা হয়। এদিন ডেগ ও দানবাক্সে বিপুলসংখ্যক টাকার পাশাপাশি আরও কয়েকটি চিঠি পাওয়া যায়। ভিন্ন ভিন্ন ব্যক্তিগত ও পারিবারিক বিষয় নিয়ে এসব চিঠি লেখা হয়েছে। এর মধ্যে ‘হেনা’ নামের এক নারীর লেখা চিঠিও নজর কেড়েছে। স্বামীকে বিপথ থেকে ফিরিয়ে আনতে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেছেন তিনি। একই সঙ্গে যারা তার স্বামীকে বিপথে নিয়েছে তাদের বিচার এবং পৃথিবী থেকে মাদকদ্রব্য নিশ্চিহ্ন করার জন্যও প্রার্থনা করেন। এদিকে বিপুলসংখ্যক টাকা থাকায় দানবাক্স ও ডেগের টাকা গণনা শেষ হতে সন্ধ্যা পর্যন্ত সময় লাগতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
পৃথিবীর সবচেয়ে দামি মরিচ ‘চারাপিতা’ চাষ হচ্ছে কুমিল্লায়। এক কেজি চারাপিতা মরিচের দাম বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ২৮ লাখ টাকা বলে দাবি করা হচ্ছে। দক্ষিণ আমেরিকার দেশ পেরুতে এ মরিচের চাষ হয় বলে জানা গেছে। মরিচটি খুব বেশি ঝাল নয়। তবে এর রয়েছে অদ্ভুত সুন্দর ও মাদকতাময় সুগন্ধ, যা যেকোনো খাবারের স্বাদ বাড়িয়ে দেয়। সম্প্রতি কুমিল্লা নগরীর দেশওয়ালিপট্টির বাসায় এ মরিচের চাষ করেছেন কাজী শারমিন আক্তারসহ নগরীর কয়েকজন সৌখিন চাষি। জানা যায়, আরবের রাজা-বাদশাহদের খাবারে এ মরিচ ব্যবহার করা হতো। মক্কার অনেক দামি হোটেলেও এটি ব্যবহার করা হয় বলে জানা গেছে। কাঁচা অবস্থায় মরিচটি সবুজ থাকে এবং পাকলে হলুদ বা উজ্জ্বল কমলা রং ধারণ করে। দেখতে গোলাকার এই মরিচের চাষ কুমিল্লায় প্রথম শুরু করেন কৃষক আহমেদ জামিল সেলিম। ২০২২ সালে নগরীর ঠাকুরপাড়ার বাগানবাড়িতে তিনি এ মরিচের চাষ শুরু করেন। সরেজমিনে দেখা যায়, কুমিল্লা নগরীর দেশওয়ালিপট্টিতে একটি বাসার কোণে ছোট সবজির মাচা। এর পাশে ছয়টি বালতিতে লাগানো হয়েছে চারাপিতা মরিচের গাছ। বাগানি কাজী শারমিন আক্তার গাছে পানি দিচ্ছেন এবং পরিচর্যা করছেন। চারপাশের বাতাসে ভাসছে মরিচের অদ্ভুত মাদকতাময় ঘ্রাণ। তার মরিচগাছ ও মরিচ দেখতে সেখানে ভিড় করছেন অনেকেই। কৃষক আহমেদ জামিল সেলিম বলেন, বাংলাদেশে সম্ভবত আমিই প্রথম এ মরিচের বীজ লাগাই। আমেরিকা থেকে বীজ সংগ্রহ করি। বস্তার মধ্যে মাটি ভরে সেখানে বীজ রোপণ করি। ৫০টি বীজের মধ্যে মাত্র তিনটি বীজ থেকে চারা গজায়। তিন বছর পর্যন্ত এ গাছ থেকে মরিচ পাওয়া যায়। কৃষক জামিলের দাবি, চারাপিতা মরিচ পৃথিবীর সবচেয়ে দামি মরিচ। প্রতি কেজি মরিচের দাম ২৬ হাজার ডলার। চার বছর আগে চাষ শুরু করলেও এ মরিচ চাষের চেষ্টা তিনি শুরু করেছিলেন প্রায় ১০ বছর আগে। তিনি বলেন, ‘এটির বাজার সৃষ্টি করা হলে দেশের কৃষকরা ভালো আয় করতে পারবেন।’ কাজী শারমিন আক্তার বলেন, আমি আমেরিকায় থাকা এক আত্মীয়ের মাধ্যমে পাকা মরিচ সংগ্রহ করেছি। সেখান থেকে ছয়টি চারা হয়েছে। একটি মরিচে ১৫ থেকে ২০টি বীজ হয়। আমার গাছে প্রচুর মরিচ ধরেছে। আমি প্রতিটি মরিচ ১০ টাকা দরে বিক্রি করছি। তিনি জানান, তার বোনও রানীর দিঘির পাড়ের বাসায় এ মরিচের চাষ করেছেন। চারাপিতা মরিচের বাজার সৃষ্টি করতে কৃষি বিভাগ ভূমিকা রাখতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এ বিষয়ে তিনি কৃষিমন্ত্রী আমিন উর রশিদ ইয়াছিনের সঙ্গে দেখা করবেন বলেও জানান। কৃষি সংগঠক মতিন সৈকত বলেন, বিশ্বের দামি মরিচ বাংলাদেশের আবহাওয়ায় চাষ হচ্ছে—এটি একটি আশাজাগানিয়া খবর। এ বিষয়ে কৃষি বিভাগকে এগিয়ে আসতে হবে। গবেষণা করে দেখতে হবে কৃষক পর্যায়ে এটি বাণিজ্যিকভাবে চাষের সুযোগ রয়েছে কি না। পাশাপাশি এ মরিচের বাজার সৃষ্টি এবং রপ্তানির ব্যবস্থা করতে হবে। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বারি) কুমিল্লা সরেজমিন গবেষণা বিভাগের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. জামাল উদ্দিন বলেন, কুমিল্লায় প্রথম জামিল সাহেব এটি চাষ শুরু করেন। আন্তর্জাতিক গবেষণায় এটিকে দুর্লভ মরিচ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে বাংলাদেশে সর্বোচ্চ কত দামে এটি বিক্রি হয়েছে, তা জানা যায়নি। বাংলাদেশের আবহাওয়া এ মরিচ চাষের জন্য উপযুক্ত কি না, সে বিষয়ে গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে। তিনি আরও বলেন, পেরুর যে মরিচের কথা বলা হচ্ছে, সেটি যদি একই জাতের হয়ে থাকে, তাহলে এটি বাণিজ্যিকভাবে চাষাবাদ করা যায় কি না, তা দেখতে হবে। গবেষণার পর এটিকে মাঠপর্যায়ে দেওয়া হলে কৃষকরা উপকৃত হবেন।
কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্তব্যরত নারী চিকিৎসকদের ‘স্যার’ বা ‘ম্যাডাম’ ছাড়া অন্য কোনো সম্বোধন না করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এ জন্য জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসকের কক্ষের দরজায় হাতে লেখা একটি নির্দেশনাও টানানো হয়। এতে রোগী ও স্বজনদের মধ্যে অসন্তুষ্টি দেখা দিয়েছে। নির্দেশনাটির ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়। আজ শুক্রবার বিকেলে বিষয়টি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের নজরে আসে। পরে নির্দেশনাটি সরিয়ে ফেলা হয়েছে বলে জানান মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার ভারপ্রাপ্ত দায়িত্বে থাকা আবুল কালাম আজাদ। প্রথম আলোকে তিনি বলেন, সরকারি চাকরির বিধিমালায় কোনো চিকিৎসককে ‘স্যার’ বা ‘ম্যাডাম’ বলে সম্বোধন করতেই হবে, এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। জরুরি বিভাগের দরজায় এমন নির্দেশনা লাগানোকে ‘অযৌক্তিক’ বলে মন্তব্য করেছেন আবুল কালাম আজাদ। তিনি বলেন, ‘সরকারি চাকরির বিধিমালায়ও এমন কোনো নির্দেশনা নেই। জরুরি বিভাগের দরজায় লাগানো নির্দেশনাটির বিষয়টি আজ আমার নজরে এসেছে। বিকেলে আমি নিজে স্টাফদের মাধ্যমে সেটি ছিঁড়ে ফেলেছি। একজন চিকিৎসকের সবচেয়ে বড় গুণ হলো তিনি মানবিক হবেন। রোগীদের সেবা দেওয়াই তাঁর সবচেয়ে বড় দায়িত্ব। স্যার ও ম্যাডাম—এভাবে বলতেই হবে, এমন নির্দেশনা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক।’ হাসপাতালের একটি সূত্র জানায়, প্রায় এক মাস আগে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসকের দরজায় হাতে লেখা ওই নির্দেশনা টানানো হয়। বিষয়টি নিয়ে হাসপাতালের ভেতরেও আলোচনা–সমালোচনা ছিল। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নির্দেশনাটির ছবি ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে যাওয়া বেশির ভাগ মানুষই গ্রামের মানুষ। তাঁদের কেউ হতদরিদ্র, কেউ কম শিক্ষিত, আবার কেউ সহজ–সরল প্রকৃতির। আঞ্চলিক ভাষা ও প্রচলিত সামাজিক রীতি অনুযায়ী তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসকদের ‘ভাই’ বা ‘আপা’ বলে সম্বোধন করেন। এতে চিকিৎসকদের অসম্মান করার কোনো উদ্দেশ্য থাকে না বলে তাঁরা জানান। তাঁদের মতে, চিকিৎসা নিতে এসে সম্বোধনের ধরন নিয়ে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়া রোগীদের জন্য অস্বস্তিকর। সম্প্রতি মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেওয়া নবীপুর এলাকার বাসিন্দা ফাতেমা বেগম বলেন, ‘আমরা গ্রামের মানুষ। মহিলাগোরে আপা আর পুরুষদের ভাই বইল্যা ডাকি। এই হাসপাতালের ডাক্তাররারে ভাই বা আপা কইলে তারা চেইত্যা যায়। সেবা দেওনের বদলে উল্টা রাগারাগি করে।’ নাম প্রকাশ না করার শর্তে হাসপাতালের এক কর্মচারী বলেন, কয়েক মাস আগে হাসপাতালে নতুন কয়েকজন নারী চিকিৎসক যোগ দেওয়ার পর এ ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ওই কর্মচারী বলেন, ‘আমিও একবার এক নারী চিকিৎসককে “আপা” বলে সম্বোধন করেছিলাম। এতে তিনি রাগান্বিত হন এবং পরে “ম্যাডাম” অথবা “স্যার” বলে সম্বোধন করতে বলেন।’ তবে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেরই কয়েকজন চিকিৎসক জানান, এমন নির্দেশনার কারণে পুরো হাসপাতালের চিকিৎসকদের নিয়ে যেন নেতিবাচক ধারণা তৈরি না হয়। তাঁদের মতে, চিকিৎসক ও রোগীর মধ্যে পারস্পরিক সম্মান বজায় রাখার পাশাপাশি রোগীবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করাই গুরুত্বপূর্ণ। কোন নারী চিকিৎসকের কারণে ওই নির্দেশনা লাগানো হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত নন বলে জানান উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ। তিনি বলেন, ‘এই হাসপাতালে নবীন কয়েকজন নারী ডাক্তার আছেন। তাঁদের মধ্য থেকে কারও কারণে এমন নির্দেশনা দরজায় লাগানো হয়েছে বলে শুনেছি। তবে নির্দিষ্ট কোনো ডাক্তার বা কোন নারী চিকিৎসকের কারণে এমন অদ্ভুত নির্দেশনা লাগানো হয়েছে, সেটি আমি খতিয়ে দেখছি।’ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটির বিষয়ে খোঁজ নিয়ে দেখবেন বলে জানান কুমিল্লার সিভিল সার্জন আলী নূর মোহাম্মদ বশীর আহমেদ। প্রথম আলোকে তিনি বলেন, ‘আমি চাকরি করি মানুষকে সেবা দেওয়ার জন্য। এটাই আমার দায়িত্ব। আমাকে কেউ “তুই” বলে সম্বোধন করলেও আমি কিছু মনে করি না। মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বিষয়টি আমার জানা নেই। বিষয়টির বিস্তারিত খোঁজ নিয়ে দেখব। কোনো ডাক্তারকে স্যার ও ম্যাডাম বলে ডাকতে হবে, এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই।’
৪ ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তি পেয়ে মায়ের জানাজায় অংশ নিয়েছেন পাবনা-৩ এলাকার সাবেক এমপি মকবুল হোসেনের পুত্র ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতা গোলাম হাসনাইন রাসেল। রাসেল ভাঙ্গুড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও সাবেক মেয়র। শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে পুলিশের গাড়িতে করে ভাঙ্গুড়া পৌর সদরের সরদারপাড়া মহল্লার নিজ বাড়িতে যান রাসেল। এ সময় সেখানে আগে থেকে বাড়িতে দলীয় নেতাকর্মী সমর্থক স্বজন এলাকাবাসী ভিড় জমায়। গাড়ি থেকে নামার পর বাড়ির উঠোনে ফ্রিজআপ গাড়িতে রাখা মায়ের মুখ শেষবারের মতো দেখেন রাসেল। এ সময় তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন। স্ত্রী সন্তান ও স্বজনদের সাথে কুশল বিনিময় করেন। অনেকে তাকে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়েন। এ সময় হৃদয় বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। এরপর পোশাক পরিবর্তন ও অযু করেন রাসেল। সেখান থেকে আবার পুলিশের গাড়িতে করে ভাঙ্গুড়া ইউনিয়ন স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে জানাজা নামাজ স্থলে পৌঁছান তিনি। এ সময় গাড়ি থেকে নামার পর উপস্থিত সবার উদ্দেশ্যে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান। কেউ তার হাত ধরে কুশল বিনিময় করেন। ভিড় ঠেলে পুলিশি পাহাড়ায় জানাজা নামাজের মাঠে হাজির হয়ে রাসেল সবার উদ্দেশ্যে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন। রাসেল বলেন, আজকে যারা আমার মায়ের জানাজায় হাজির হয়েছেন তাদের মধ্যে এমন কেউ নেই যে আমার মাকে চেনেন না। তিনি পাটুলিপাড়ার মেয়ে। ছোটবেলা থেকে আমাদের যখন জ্ঞান হয়েছে তখন থেকে দেখে আসছি আমার মা রান্নাঘরের চুলাতে। তিনি মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি চুলায় রান্না করে গেছেন। আমার বিশ্বাস যারা আমাদের বাড়িতে গিয়েছেন তারা আমার মায়ের হাতের রান্না করা ডাল ভাত খান নাই এমন কেউ নাই। আমার মা প্রকৃতপক্ষে একজন গৃহিণী ছিলেন। আমার মা আজ পৃথিবীতে নেই। আজকে এই দিনে ভালোবাসার মানুষ যারা এখানে উপস্থিত হয়েছেন তাদের কাছে আমার মায়ের জন্য দোয়া চাই। একজন মানুষের ভুল ত্রুটি থাকা স্বাভাবিক, আল্লাহ যেন তাকে জান্নাতবাসী করেন। আল্লাহ যেন তার কবরের সওয়াল জবাব কে সহজ করে দেন। আমার ছেলে আছে, আমাদের পরিবারের জন্য সবাই আপনারা দোয়া করবেন, আল্লাহ যেন আমাদের হেফাজত করেন। আর এলাকাবাসী যারা এখানে উপস্থিত হয়েছেন আমাদের পরিবার যদি আপনাদের কাছে কোনো ভুল করে থাকে তার জন্য কড়জোরে ক্ষমা চাচ্ছি। আপনারা মাফ করে দিবেন। এরপর মায়ের জানাজা নামাজে অংশ নেন রাসেল। জানাজা নামাজের ভাঙ্গুড়া, চাটমোহর, ফরিদপুর উপজেলাসহ বিভিন্ন এলাকার কয়েক হাজার দলীয় নেতাকর্মী আত্মীয়-স্বজন এলাকাবাসী অংশ নেন। জানাজা নামাজ শেষে তিনি পুলিশি পাহারায় পুলিশের গাড়িতে করে তিনি পার ভাঙ্গুরা কবরস্থানে যান। সেখানে মায়ের কবরে মাটি দিয়ে দোয়ায় অংশ নেন। শেষে পুলিশের গাড়িতে তিনি কারাগারে ফিরে যান। প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সকাল ৯টা ৫৫ মিনিটে ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান রাসেলের মা ও পাবনা-৩ আসনের সাবেক এমপি মকবুল হোসেনের স্ত্রী নুরজাহান রেখা। তিনি দীর্ঘদিন ধরে কিডনিসহ বিভিন্ন জটিল রোগে ভুগছিলেন। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে প্রায় দেড় মাস আগে তাকে ঢাকার একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছিল। এর আগে গত ২০ জুলাই রাতে ঢাকার মিরপুর এলাকা থেকে সাবেক এমপি পুত্র রাসেল ও তার সহযোগী বশিরকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে ভাঙ্গুড়া থানায় দায়ের করা একটি বিস্ফোরক আইনের মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়। সম্প্রতি মায়ের শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন উল্লেখ করে আদালতে জামিনের আবেদন জানান তার আইনজীবী। দীর্ঘ শুনানি শেষে বুধবার (১২ আগস্ট) পাবনা জেলা ও দায়রা জজ ২য় আদালতের বিচারক আফতাবুজ্জামান তার জামিন মঞ্জুর করেন। যথাসময়ে আদালতের জামিনে মুক্তির আদেশ পাবনা জেলা কারাগারে পৌঁছালেও তাকে আর কারামুক্ত করা হয়নি। এর মধ্যেই বৃহস্পতিবার ভোরে মৃত্যুবরণ করেন রাসেলের মা। এর মধ্যে বৃহস্পতিবারেই রাসেলকে আদালতে হাজির করে চাটমোহর থানায় সম্প্রতি দায়ের হওয়া অন্য একটি মামলায় তাকে শোন অ্যারেস্ট দেখায় পুলিশ। ফলে একটি মামলায় আদালতের দেওয়া জামিন কার্যকর হওয়ার আগেই নতুন মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোয় তিনি ফের কারাগারে আটকে পড়েন। এতে নিজের মায়ের জানাজায় শেষবারের মতো অংশ নেওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কায় পড়েন তিনি। এক পর্যায়ে আদালতে থাকা অবস্থায় মায়ের জন্য কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। পরে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও জেলা প্রশাসকের কাছে প্যারোলে মুক্তির আবেদন মঞ্জুর হওয়ার পর মায়ের জানাজায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পান রাসেল।
ফেসবুকে পরিচয় থেকে সুমাইয়া তৃষ্ণার (২৬) সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়ান সাজ্জাদ হোসেন (২৪)। এরপর গড়ে ওঠে ঘনিষ্ঠতা। ধীরে ধীরে আদান-প্রদান হয় ব্যক্তিগত ছবি। একপর্যায়ে এই সম্পর্কের কথা জানতে পারেন তৃষ্ণার স্বামী রোকনুজ্জামান পলাশ (২৬)। এ নিয়ে পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে। শেষপর্যন্ত পরিকল্পনা হয় স্বামী-স্ত্রী মিলেই হত্যা করবেন প্রেমিক সাজ্জাদকে। পরিকল্পনা অনুযায়ী রাজধানীর বছিলার একটি ফাঁকা মেস বাসায় ডেকে তাকে হত্যা করা হয়। মরদেহ ৯ টুকরা করে কার্টনে ভরে ফেলা হয় দুই জেলায়। ঢাকার এক যুবককে হত্যার মামলা তদন্ত করে এসব তথ্য জানিয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। গত বছরের ৩ এপ্রিল নির্মমভাবে খুন হওয়া এই যুবকের নাম সাজ্জাদ হোসেন। তিনি ছিলেন মা-বাবার একমাত্র সন্তান। মা-বাবার সঙ্গে সাভারের হেমায়েতপুরের বাসায় থাকতেন তিনি। স্থানীয় একটি কলেজ থেকে স্নাতক (সম্মান) শেষ করেন। খুন হওয়ার প্রায় এক বছর আগে রাজধানীর বনানীতে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি নিয়েছিলেন। বাসা থেকে আসা-যাওয়া করে চাকরি করতেন। এর মধ্যেই ফেসবুকে পরিচয় থেকে সুমাইয়া তৃষ্ণা নামের ওই তরুণীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন তিনি। সুমাইয়ার বাসা ঢাকার মোহাম্মদপুর এলাকায়। তিনি ঢাকার একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। তার স্বামী রোকনুজ্জামান পলাশও তার সঙ্গে একই বিশ্ববিদ্যালয়ের একই বর্ষের শিক্ষার্থী। বছিলা এলাকায় তার মেসে ডেকে নিয়েই সাজ্জাদকে হত্যা করা হয়। বর্তমানে দুজনই কারাগারে বন্দী। সাজ্জাদকে হত্যার মামলায় তাদের বিচার চলছে। আদালতে জমা দেওয়া পিবিআইয়ের অভিযোগপত্রে সুমাইয়ার সঙ্গে সাজ্জাদের প্রেম এবং পরবর্তী সময়ে সুমাইয়া ও তাঁর স্বামীর ষড়যন্ত্রে সাজ্জাদের খুন হওয়ার এই বিবরণ উঠে এসেছে। মামলাটির তদন্ত শেষে গত বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর ঢাকার আদালতে রোকনুজ্জামান ও সুমাইয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র জমা দেন পিবিআইয়ের ঢাকা জেলার পুলিশ পরিদর্শক জামাল উদ্দীন। বর্তমানে মামলাটি সাক্ষ্য গ্রহণ পর্যায়ে আছে। অভিযোগপত্রে ৪০ জনকে সাক্ষী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ৩১ আগস্ট এই মামলার পরবর্তী সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য ধার্য আছে। ভুয়া ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে পরিচয় পিবিআইয়ের তদন্তে উঠে এসেছে, সাজ্জাদের সঙ্গে সুমাইয়ার পরিচয় হয় একটি ভুয়া ফেসবুক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে। হত্যার প্রায় দুই মাস আগে থেকে তাদের মধ্যে যোগাযোগ ও প্রেমের সম্পর্ক ছিল। তাদের এই সম্পর্ক শারীরিক ঘনিষ্ঠতায়ও গড়ায়। হত্যাকাণ্ডের পর রোকনুজ্জামান ও সুমাইয়া ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন। চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে রোকনুজ্জামানের বাড়ি। জীবননগর সীমান্ত হয়েই দুজন ভারতে পালানোর চেষ্টা করেন। তদন্ত কর্মকর্তা জামাল উদ্দীন জানান, হত্যাকাণ্ডের প্রায় দেড় মাস আগে তাদের মধ্যে অন্তরঙ্গ ছবি আদান-প্রদান হয়। সুমাইয়ার জবানবন্দি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১ মার্চ মেসেঞ্জারে তার স্বামী রোকনুজ্জামান তার কাছে ব্যক্তিগত ছবি চান। ছবি দিতে গিয়ে তিনি ‘সুপ্ত’ নামের একটি আইডিতে দিয়ে দেন। ওই আইডিটি ব্যবহার করতেন সাজ্জাদ। সুমাইয়া দাবি করেন, সেখান থেকেই সুমাইয়া ও সাজ্জাদের মধ্যে কথাবার্তা শুরু হয়। সাজ্জাদ সুমাইয়াকে ব্ল্যাকমেইল করেন। তবে সুমাইয়া ও সাজ্জাদের মধ্যে দুই মাসের প্রেমের সম্পর্ক ছিল বলে জানান তদন্ত কর্মকর্তা। তিনি বলেন, এ সময় দুজন একাধিকবার অন্তরঙ্গ সম্পর্কেও জড়ান। বিষয়টি রোকনুজ্জামান জেনে যাওয়ায় তাদের মধ্যে টানাপোড়েন তৈরি হয়। স্বামীর কাছ থেকে প্রকৃত তথ্য লুকাতেই মিথ্যা বলেন সুমাইয়া। নিজেকে নির্দোষ প্রমাণের জন্যই স্বামীর কথায় রাজি হন হত্যার পরিকল্পনায়। যেভাবে খুন হন সাজ্জাদ পিবিআইয়ের অভিযোগপত্রের তথ্য অনুযায়ী, রোকনুজ্জামান ও সুমাইয়ার মধ্যে উচ্চমাধ্যমিকে লেখাপড়ার সময় থেকেই পরিচয় ছিল। ২০২৩ সালে তারা বিয়ে করেন বলে জানিয়েছেন। তবে তাদের এই বিয়ের কথা দুজনের পরিবারের কেউ জানতেন না। দুজন আলাদা থাকতেন। সুমাইয়া পরিবারের সঙ্গে মোহাম্মদপুরে আর রোকনুজ্জামান বছিলার মেসে থাকতেন। তদন্তে উঠে এসেছে, ঈদের ছুটিতে কেউ মেসে নেই জানিয়ে সাজ্জাদকে ডেকে নেন সুমাইয়া। আর পরিকল্পনা অনুযায়ী ওই মেসের গোসলখানায় লুকিয়ে ছিলেন রোকনুজ্জামান। সাজ্জাদ ওই কক্ষে ঢুকতেই পেছন থেকে এসে ছুরি দিয়ে তাঁর মুখে ও পিঠে আঘাত করেন রোকনুজ্জামান। ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে নিস্তেজ হয়ে পড়ে যান সাজ্জাদ। তদন্ত কর্মকর্তা জামাল উদ্দীন বলেছেন, রোকনুজ্জামান বিভিন্ন সময় সুমাইয়াকে মুখ ঢেকে নগ্ন ছবি ও ভিডিও তৈরিতে বাধ্য করতেন। এ নিয়ে তাদের সম্পর্কের টানাপোড়েনও ছিল। অন্যদিকে সাজ্জাদের সঙ্গে সুমাইয়ার সম্পর্ক এবং তাদের মধ্যে ব্যক্তিগত ছবি আদান-প্রদানের বিষয়টি জানার পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। ২০২৫ সালের ২ এপ্রিল রাতে একজন রিকশাচালককে ৫০০ টাকা দিয়ে মোবাইলের একটি সিম সংগ্রহ করেন রোকনুজ্জামান। সিমটি ওই রিকশাচালকের নামে নিবন্ধিত ছিল। রোকনুজ্জামানের নির্দেশনায় ওই নম্বর থেকেই সাজ্জাদকে ফোন করে পরদিন সকালে বছিলার ফাঁকা মেসে আসতে বলেন সুমাইয়া। রোকনুজ্জামান ওই মেসে থাকতেন। পরদিন সকালে সাজ্জাদ বছিলার একটি ১০ তলা ভবনের সপ্তম তলার ওই মেসে যান। আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে রোকনুজ্জামান বলেন, সাজ্জাদের মৃত্যুর পর কক্ষের মেঝে রক্তে ভেসে যায়। তারা প্রথমে মরদেহ সরানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু তা সম্ভব না হওয়ায় মরদেহ টুকরা করার সিদ্ধান্ত নেন। তদন্তে উঠে এসেছে, মরদেহের খণ্ডগুলো সরিয়ে ফেলার জন্য চালের বস্তা, চটের ব্যাগ, বড় কার্টন ও স্কচটেপ কেনা হয়। পরে খণ্ডিত মরদেহ তিনটি কার্টনে ভরা হয়। স্কচটেপ দিয়ে কার্টনগুলো ভালোভাবে মুড়িয়ে দেওয়া হয়। তদন্ত কর্মকর্তার ভাষ্য, পুরো প্রক্রিয়াটি এমনভাবে করা হয়েছিল, যাতে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে নিজেদের সরাসরি জড়িত থাকার প্রমাণ না থাকে। অভিযোগপত্রে বলা হয়, হত্যার পর লাশ গুম করতে ৪ হাজার ৫০০ টাকা দিয়ে একটি প্রাইভেট কার ভাড়া করেন রোকনুজ্জামান ও সুমাইয়া। তিনটি কার্টনে মরদেহের খণ্ডিত অংশ নিয়ে তারা বছিলা থেকে মুন্সীগঞ্জের মাওয়ার দিকে রওনা হন রাতে। সেখানে রাতের খাওয়া শেষে ফেরার পথে কার্টনগুলো নির্জন স্থানে ফেলে দেন। অভিযোগপত্র অনুযায়ী, একটি কার্টন নিয়ে যাওয়া হয় মুন্সীগঞ্জের পদ্মা সেতু (উত্তর) থানার মেদিনীমণ্ডল এলাকায়। সেখানে একটি নর্দমায় সেটি ফেলে দেওয়া হয়। অন্য দুটি কার্টন নিয়ে যাওয়া হয় কেরানীগঞ্জে। শুভাঢ্যা ইউনিয়নের পাওয়ার হাউস থেকে মালঞ্চ হাসপাতাল সড়কের পাশে একটি নির্জন নিচু জমিতে কার্টন দুটি ফেলে রেখে চলে যান তারা। পরদিন ২০২৫ সালের ৪ এপ্রিল কেরানীগঞ্জে ফেলে যাওয়া একটি কার্টন থেকে কুকুর একটি পোঁটলা টেনে বের করে ছিঁড়ে ফেলে। তখনই বেরিয়ে আসে সাজ্জাদের মরদেহের খণ্ডিত অংশ। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সেগুলো উদ্ধার করে। প্রায় একই সময়ে মুন্সীগঞ্জের পদ্মা সেতু (উত্তর) থানাধীন এলাকা থেকেও অন্য কার্টনটি উদ্ধার করা হয়। মরদেহের খণ্ডিত অংশগুলো স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। ফিঙ্গারপ্রিন্টের পাশাপাশি হাড়, দাঁত ও নখের নমুনা সংগ্রহ করে পিবিআই। পরে ডিএনএ পরীক্ষায় নিশ্চিত হয়, উদ্ধার হওয়া খণ্ডিত অংশগুলো সাজ্জাদের। এদিকে সাজ্জাদের খোঁজ না পেয়ে ২০২৫ সালের ৩ এপ্রিল রাতেই সাভার মডেল থানায় একটি জিডি করেন তার বাবা মোহাম্মদ ইউসুফ আলী। মরদেহ উদ্ধার হওয়ার পর সেটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়। যেভাবে খুনি শনাক্ত সাজ্জাদের খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধারের পর অনেকটা নিজ উদ্যোগে প্রযুক্তিগত তথ্য বিশ্লেষণ শুরু করে পিবিআই। মুঠোফোনের কলের তথ্য, অবস্থান এবং অন্যান্য আলামত বিশ্লেষণ করে হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্তের চেষ্টা চালানো হয়। তদন্ত কর্মকর্তা জামাল উদ্দীন বলেন, এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ছিল একেবারেই ‘ক্লুলেস’। শুরুতে প্রযুক্তির মাধ্যমে মুঠোফোনে কথা বলার নম্বরগুলো যাচাই করা হয়। এর সূত্র ধরে গ্রেফতার হয় ওই রিকশাচালককে। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি জানান, তার কাছ থেকে ৫০০ টাকা দিয়ে সিম কিনে নেন অন্য একজন। বিভিন্ন প্রক্রিয়ার পরে রোকনুজ্জামানের তথ্য পাওয়া যায। ওই সূত্র ধরে আসামি সুমাইয়াকেও শনাক্ত করা হয়। নিজেদের অবস্থান গোপন রাখতে সুমাইয়া তার ব্যবহৃত সিম ফেনীতে গ্রামের বাড়িতে রেখে দেন। এরপর তিনি গাবতলী হয়ে জীবননগরের উদ্দেশে রওনা হন। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তার অবস্থান শনাক্ত করে পুলিশ। এমনকি যে বাসে সুমাইয়া যাচ্ছিলেন, ওই বাসেই যাত্রীবেশে একজন পুলিশ সদস্যও ওঠেন। জীবননগরে বাস থেকে নামার পর ৮ এপ্রিল রাত দেড়টার দিকে সুমাইয়াকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে রোকনুজ্জামানকে গ্রেফতার করা হয়। সুমাইয়ার আইনজীবী মোজ্জাম্মেল হোসেন বলেন, এই মুহূর্তে বিশেষ কিছু বলার নেই। মামলার পূর্ণাঙ্গ বিচারিক কার্যক্রম শুরু হলে বোঝা যাবে। তার দাবি, অভিযোগপত্রের সঙ্গে আসামির ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দির অমিল রয়েছে। ছেলের কথা বলতে গিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন ইউসুফ আলী। তিনি বলেন, সাজ্জাদ তার একমাত্র ছেলে ছিল। ঘটনার দিন সকাল আটটার দিকে ঘুম থেকে উঠে তিনি দেখেন, ছেলে বাসায় নেই। মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করে সেটিও বন্ধ পান। পরে বাসার ক্লোজড সার্কিট (সিসি) ক্যামেরার ফুটেজ দেখে জানতে পারেন, সকাল পৌনে ছয়টার দিকে সাজ্জাদ বাসা থেকে বের হয়ে গেছেন। সারা দিন ছেলের কোনো খোঁজ না পেয়ে সন্ধ্যা সাতটার দিকে থানায় জিডি করেন ইউসুফ আলী। তিনি বলেন, ‘আমার ছেলে খুব ভালো ছিল। ছেলের কোনো শত্রু ছিল না। আমি ছেলে হত্যার বিচার চাই।’
‘ছোটবেলা থেকেই বাবা অনেক কষ্ট করে আমাদের মানুষ করেছেন। সমাজে আমরা অনেক অবহেলা ও বৈষম্যের শিকার হয়েছি। তবুও পড়াশোনা ছাড়িনি। এখন অনার্স দ্বিতীয় বর্ষে পড়ছি। স্বপ্ন দেখি নিজের পায়ে দাঁড়ানোর। বসুন্ধরা শুভসংঘের মাধ্যমে বসুন্ধরা গ্রুপের দেওয়া এই সেলাই মেশিন আমার কাছে শুধু একটি মেশিন নয়, এটি নতুন জীবনের আশা। আমি বিভিন্ন ধরনের পোশাক, ব্লাউজ, ফ্রক, পাজামা ও শিশুদের পোশাক সেলাই করতে পারি। এখন ঘরে বসেই কাজ করে সংসারে আয় করতে পারব, পড়াশোনার খরচও চালাতে পারব। আমি চাই সমাজের বোঝা হয়ে নয়, নিজের যোগ্যতায় মাথা উঁচু করে বাঁচতে।’ তিন মাস প্রশিক্ষণ শেষে বসুন্ধরা গ্রুপের উপহার হিসেবে সেলাই মেশিন পেয়ে কথাগুলো বলছিলেন হরিজন সম্প্রদায়ের তরুণী আলোরাধা। আলোরাধার জীবনটি সংগ্রাম, বঞ্চনা আর ঘুরে দাঁড়ানোর অদম্য ইচ্ছার গল্পে সাজানো। গাইবান্ধা সদর উপজেলার কাচারিবাজার এলাকার হরিজন সম্প্রদায়ের এই তরুণী বর্তমানে অনার্স দ্বিতীয় বর্ষে পড়াশোনা করছেন। দারিদ্র্য ও সামাজিক বৈষম্যের সঙ্গে লড়াই করেও তিনি হার মানেননি। এবার বসুন্ধরা শুভসংঘের দেওয়া একটি সেলাই মেশিন তাঁর স্বপ্নপূরণের পথে নতুন আশার আলো জ্বালিয়েছে। সম্প্রতি গাইবান্ধা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাকক্ষে আলোরাধার মতো দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করা ৩৬ নারীর হাতে বসুন্ধরা গ্রুপের উপহার হিসেবে সেলাই মেশিন তুলে দেওয়া হয়। কালের কণ্ঠের জেলা প্রতিনিধি ও জেলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি অমিতাভ দাস হিমুনের সভাপতিত্বে ও সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়ে গাইবান্ধা সদর, ফুলছড়ি ও সাদুল্যাপুর উপজেলার এই ৩৬ নারীর হাতে সেলাই মেশিন তুলে দেন প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক বসুন্ধরা গ্রুপের উপদেষ্টা ও শুভসংঘের প্রধান ইমদাদুল হক মিলন। তিন মাস বিনামূল্যে প্রশিক্ষণ শেষে দক্ষ হয়ে ওঠা নারীরা সেলাই মেশিন পেয়ে আবেগাপ্লুত হন। ইমদাদুল হক মিলন বলেন, ‘বসুন্ধরা শুভসংঘের দেওয়া এই সেলাই মেশিন আপনাদের আত্মনির্ভরশীল হওয়ার একটি মাধ্যম। এটি কাজে লাগিয়ে নিজের পরিবারের পোশাক তৈরির পাশাপাশি আয়ও করা সম্ভব। আমরা চাই আপনারা এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে স্বাবলম্বী হোন, সন্তানদের শিক্ষিত করুন এবং পরিবারের আর্থিক অবস্থার উন্নয়ন ঘটান।’ অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন গাইবান্ধার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) যাদব সরকার, গাইবান্ধা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুন্নবী টিটুল, গাইবান্ধা সদর থানার ওসি আব্দুল্লাহ আল-মামুন, গাইবান্ধা প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ইদ্রিসুজ্জামান মোনা, নাট্যকর্মী মানিক বাহার প্রমুখ। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) যাদব সরকার বলেন, ‘বসুন্ধরার দেওয়া এই সেলাই মেশিন শুধু একটি যন্ত্র নয়, এটি নারীদের আত্মনির্ভরশীল হওয়ার একটি মাধ্যম। এই উদ্যোগের মাধ্যমে অনেক নারী ঘরে বসেই আয় করার সুযোগ পাবেন এবং পরিবারের আর্থিক অবস্থার উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারবেন। আপনারা নিজেরা স্বাবলম্বী হওয়ার পাশাপাশি আশপাশের অন্য নারীদেরও এই কাজ শেখাবেন। আমরা বিশ্বাস করি, নারীর ক্ষমতায়ন পুরো পরিবার ও সমাজের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।’ গাইবান্ধা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুন্নবী টিটুল বলেন, ‘বসুন্ধরা শুভসংঘের এই সেলাই মেশিন বিতরণ কর্মসূচি দারিদ্র্য নারীদের আত্মনির্ভরশীল করে তোলার একটি উদ্যোগ। আমরা আশা করি, এই মেশিন ব্যবহার করে উপকারভোগীরা আয়মুখী কাজে যুক্ত হবেন এবং এলাকায় অন্য নারীদের জন্যও অনুপ্রেরণা হয়ে উঠবেন। বসুন্ধরা গ্রুপ দীর্ঘদিন ধরে দেশের বিভিন্ন স্থানে এমন জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে নারীরা স্বাবলম্বী হয়ে নিজেদের পরিবারের পাশাপাশি সন্তানদের সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে ভূমিকা রাখবেন।’ অনুষ্ঠানের সার্বিক দায়িত্বে ছিলেন বসুন্ধরা শুভসংঘের সদস্য হুমায়ুন আহম্মেদ বিপ্লব, আহসানিয়া তাসনিম, সুমাইয়া আক্তার, ছামিউল বাসির, আশিদুল ইসলাম, সোহানুর রহমান, আহসান আজিম প্রধান, তৌহিদুল ইসলাম, আফিয়া ইভা, দীবাকর মোদক, সজীব সরকার, সুমাইয়া খাতুন, আবিদা আক্তার, আফরিন আক্তার ও সিনথিয়া আক্তার।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।