স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা আজিজুর রহমান মুসাব্বির হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় প্রধান শুটারসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)। ডিবির এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) গভীর রাতে মানিকগঞ্জ ও গাজীপুরে পৃথক অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারদের মধ্যে রয়েছেন মামলার প্রধান শুটার জিনাত এবং হত্যাকাণ্ডের সন্দেহভাজন পরিকল্পনাকারী বিল্লাল। অপর গ্রেপ্তার ব্যক্তির পরিচয় যাচাই করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এর আগে বুধবার (৭ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ৮টার দিকে রাজধানীর কারওয়ান বাজার এলাকায় তেজতুরী বাজারের স্টার হোটেলের গলিতে দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত হন স্বেচ্ছাসেবক দল ঢাকা মহানগর উত্তরের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমান মুসাব্বির (৪৫)। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী সুরাইয়া বেগম বাদী হয়ে তেজগাঁও থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলাটি তদন্তের অংশ হিসেবে গ্রেপ্তারদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে এবং হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্যদের শনাক্তে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে ডিবি।
চট্টগ্রামের খুচরা বাজারে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলপিজি) সিলিন্ডারের তীব্র সংকট এখনো চলছেই। সরকারের কর ও ভ্যাট হ্রাস এবং ব্যবসায়ীদের ধর্মঘট প্রত্যাহারের পরও সাধারণ ভোক্তাদের স্বস্তি ফেরেনি। শুক্রবার সকাল থেকে শহরের অধিকাংশ খুচরা দোকানে গ্যাস সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছিল না, তবে সীমিত সংখ্যক সিলিন্ডার কিছু দোকানে বিক্রি হচ্ছিল সরকার নির্ধারিত মূল্যের ৫০০-৬০০ টাকা বেশি। সংকটের কারণে হোটেল-রেস্টুরেন্ট, ক্ষুদ্র ব্যবসা ও স্বল্প আয়ের মানুষদের জীবনে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। রান্না ও ব্যবসার খরচ বেড়ে যাওয়ায় ভোক্তা ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে হতাশা ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। নগরের কোতোয়ালি, বাকলিয়া, লালদিঘি, কল্পলোক আবাসিক, বায়েজিদ, পতেঙ্গাসহ অন্যান্য এলাকায় সরেজমিন দেখা গেছে, অধিকাংশ খুচরা দোকানে সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছেনা। খুচরা দোকানিরা অভিযোগ করেছেন, ডিলাররা সরবরাহ কমাচ্ছে বা দাম বাড়িয়ে বিক্রি করছে। ডিলারদের দাবি, সরকার নির্ধারিত দাম কার্যকর হতে দু-এক দিন সময় লাগে। নতুন সিলিন্ডার সরবরাহ হলে দাম স্বাভাবিক হয়ে যাবে। অন্যদিকে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো বলছে, সরবরাহে কোনো সমস্যা নেই, তারা সরকার নির্ধারিত মূল্যে ডিলারদের কাছে বিক্রি করছেন। বাকলিয়ার কল্পলোক আবাসিকের ব্যবসায়ী শওকত হোসেন জানিয়েছেন, চলতি সপ্তাহে ১২ কেজির একটি সিলিন্ডার ১,৩০০ টাকায় কিনেছিলেন। পরে নতুন সরবরাহ না থাকায় ১,৫৫০ টাকায় কিনতে বাধ্য হয়েছেন। ভোক্তা ইসমাইল সিকদার জানিয়েছেন, অনেক দোকানে গ্যাস সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছিল না; শেষ পর্যন্ত তুলাতলী থেকে ১,৮০০ টাকায় একটি সিলিন্ডার কিনতে হয়েছে। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শাহীন বলেন, গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির কারণে নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ সামলানো কঠিন হয়ে যাচ্ছে। চট্টগ্রাম কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন অভিযোগ করেছেন, এলপিজি ব্যবসায়ীরা জনমানুষকে জিম্মি করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করছে। সরকারের নজরদারি ও বাজার মনিটরিং কার্যক্রমে কালোবাজারি সিন্ডিকেট ভেঙে গেছে, তবে কিছু অসাধু ডিলার এখনও দামে কৃত্রিম উত্থান ঘটাচ্ছে। চট্টগ্রাম মিরসরাই জোনের এলপিজির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রিজবী আহমেদ জানিয়েছেন, সরকার নির্ধারিত মূল্যে সরবরাহ করা হচ্ছে এবং চাহিদা অনুযায়ী কোনো সমস্যা নেই। সরকার এলপিজি সংকট ও মূল্য অস্থিরতা মোকাবিলায় আমদানি ও স্থানীয় উৎপাদনের ক্ষেত্রে ভ্যাট ও কর কমিয়েছে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয় থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করে আমদানি করা এলপিজির ওপর ভ্যাট ১৫% থেকে ১০% করা হয়েছে। স্থানীয় উৎপাদিত এলপিজির ভ্যাট নামানো হয়েছে ৭.৫%-এ। এছাড়া ব্যাংক ঋণ ও এলসি খোলার প্রক্রিয়া সহজ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
লাইন সংস্কার ও মেরামতের কাজের কারণে জামালপুর শহরের ১১ কেভি ভিআইপি ফিডারে বিদ্যুৎ সরবরাহ সাময়িকভাবে বন্ধ থাকবে। জামালপুর বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) রাত ৯টায় এই তথ্য মাইকিং করে জানায়। মাইকিংয়ে বলা হয়েছে, শনিবার (১০ জানুয়ারি) সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত ফিডারে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে। জামালপুর বিদ্যুৎ বিতরণ বিভাগের সহকারী প্রকৌশলী খন্দকার হানিফুল ইসলাম জানিয়েছেন, জেলা সেটেলমেন্ট অফিস, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, জেলা পুলিশ, থানা, আদালত, জেনারেল হাসপাতাল, বিজিবি ক্যাম্পসহ সংশ্লিষ্ট এলাকা ১১ কেভি ভিআইপি ফিডারের আওতাভুক্ত সকল স্থানে বিদ্যুৎ বন্ধ থাকবে। যদিও বিকাল ৫টার কথা বলা হয়েছে, সমস্যার ত্বরান্বিত সমাধান হলে আগেই বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করা হবে। তিনি আরও জানান, ফিডার বন্ধের কাজটি লাইন-সংক্রান্ত সমস্যা সমাধান ও মেরামতের জন্য করা হয়। যেহেতু শনিবার সাধারণত ছুটি, তাই এই দিন কাজ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিদ্যুৎ বিভাগের পক্ষ থেকে সাময়িক অসুবিধার জন্য দুঃখ প্রকাশ করা হয়েছে।
খুলনার খালিশপুরে ডিজেলভিত্তিক ২৩০ মেগাওয়াটের বিদ্যুৎকেন্দ্রটি টানা দুই বছর ধরে এক ছটাক বিদ্যুৎও উৎপাদন করেনি। অথচ এই কেন্দ্রের জন্য প্রতি মাসে সাড়ে ১৬ কোটি টাকার বেশি ক্যাপাসিটি চার্জ দিতে হচ্ছে সরকারকে। একইভাবে ঘোড়াশালের রিজেন্ট ১০৮ মেগাওয়াট কেন্দ্র এক বছরে উৎপাদন সক্ষমতার ৩ শতাংশ বিদ্যুৎও জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করতে পারেনি, তবু মাসে নিচ্ছে সাড়ে ৯ কোটি টাকার বেশি ক্যাপাসিটি চার্জ। এ ধরনের আরও বহু বিদ্যুৎকেন্দ্র কার্যত বসে থাকলেও ক্যাপাসিটি চার্জের নামে সরকারের হাজার হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। প্যারামাউন্ড নামে একটি কোম্পানি প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ ৮৫ টাকা দরে বিক্রি করে মাত্র পাঁচ বছরে নিয়ে গেছে ২ হাজার ৬০০ কোটি টাকার বেশি। বিদ্যুৎ খাতের এই অনিয়ম ও দুর্নীতিতে লাভবান হচ্ছে হাতে গোনা কয়েকটি কোম্পানি, আর চরম চাপের মুখে পড়ছে দেশের অর্থনীতি। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) ও বিদ্যুৎ খাতের বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকেই অতিরিক্ত প্রায় ১০০ কোটি ডলার বা ১২ হাজার কোটি টাকা আদায় করা হচ্ছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ বছরে পিডিবি বিদ্যুৎ কিনতে ৬ লাখ ১৭ হাজার কোটি টাকার বেশি পরিশোধ করেছে। এর মধ্যে শুধু ক্যাপাসিটি চার্জেই গেছে ২ লাখ ৩৭ হাজার কোটি টাকা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অপ্রয়োজনীয় জায়গায় বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন এবং অপরিকল্পিতভাবে উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর সিদ্ধান্তের ফলেই এই সংকট। যেসব কেন্দ্র সক্ষমতার ৪০ শতাংশের কম বিদ্যুৎ উৎপাদন করে, সেগুলোর বাস্তবিক কোনো প্রয়োজন নেই। তবু এসব কেন্দ্র বসিয়ে বসিয়ে ক্যাপাসিটি চার্জ দেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে দেশে মোট ১৩৫টি বিদ্যুৎকেন্দ্র রয়েছে, যার মোট সক্ষমতা প্রায় ২৮ হাজার ৯০০ মেগাওয়াট। এর মধ্যে বহু ফার্নেস অয়েল ও ডিজেলভিত্তিক কেন্দ্র এখন আর প্রয়োজন না হলেও চুক্তির কারণে পিডিবিকে নিয়মিত বিল পরিশোধ করতে হচ্ছে। কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে যেখানে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনে খরচ হয় ১৩–১৪ টাকা, সেখানে ফার্নেস অয়েলভিত্তিক কেন্দ্রে খরচ পড়ে ২২ টাকার বেশি। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বিদ্যুৎ খাতে ব্যাপক অনিয়মের তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে। প্রাথমিকভাবে কয়েকটি কোম্পানির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ চলছে এবং আইপিপিগুলোকে বিদ্যুৎ বিক্রির দাম কমাতে নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে অতীতের অনিয়ম খতিয়ে দেখতে তদন্ত ও পর্যালোচনা কার্যক্রম চলমান রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিকল্পনাহীন বিদ্যুৎ উৎপাদন, বিশেষ আইনের অপব্যবহার এবং প্রতিযোগিতাহীনভাবে চুক্তি দেওয়ার কারণেই বিদ্যুৎ খাতে এই ভয়াবহ লুটপাটের সুযোগ তৈরি হয়েছে। এর লাগাম টানা না গেলে ভবিষ্যতে দেশের অর্থনীতি আরও বড় ঝুঁকির মুখে পড়বে।
ফরিদপুর-২ (সালথা–নগরকান্দা) আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেছেন, আগামী দিনে কোন রাজনৈতিক দল রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নেবে—সে সিদ্ধান্ত সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়েই নিতে হবে। তিনি নেতাকর্মীদের ঐক্য ধরে রাখার আহ্বান জানিয়ে বলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জন্য সবাই যেন দোয়া করেন। তিনি বলেন, “খালেদা জিয়ার মতো নেত্রী বাংলাদেশে আর আসবেন না। গণতন্ত্রের জন্য তিনি আজীবন সংগ্রাম করেছেন। বাংলাদেশের মানুষ তাকে কখনো ভুলবে না। তিনি চিরদিন মানুষের হৃদয়ে বেঁচে থাকবেন।” শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) দুপুরে ফরিদপুরের সালথা উপজেলার আটঘর ইউনিয়নের কৃত্তা মাদ্রাসা মাঠে ইউনিয়ন বিএনপির উদ্যোগে বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় আয়োজিত দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা করতে ব্যর্থ হলে দেশের সব অর্জনই অর্থহীন হয়ে যাবে। তিনি স্মরণ করেন, গত বছরের জুলাই অভ্যুত্থানে বহু ভাই-বোনের রক্ত ঝরেছে। গত ১৭ বছরে গুম-খুনের শিকার হয়েছেন অসংখ্য মানুষ। প্রাণ হারিয়েছেন আবু সাঈদ, মুগ্ধদের মতো সাহসী নেতাকর্মীরা। সম্প্রতি দেশপ্রেমিক হাদির মৃত্যুও জাতিকে নাড়া দিয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। তিনি আরও বলেন, এসব আত্মত্যাগ বৃথা যাবে, যদি আমরা সঠিক রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিতে ব্যর্থ হই। দোয়া মাহফিলে সালথা উপজেলা যুবদল নেতা হাসান আশরাফের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন নগরকান্দা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি বাবুল তালুকদার, সাধারণ সম্পাদক সাইফুজ্জামান মুকুল, সাংগঠনিক সম্পাদক শওকত শরিফ, সালথা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মো. ওহিদুজ্জামান, ভাইস চেয়ারম্যান আসাদ মাতুব্বর, সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খন্দকার আজাদসহ বিএনপি ও এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী। অনুষ্ঠানে আপোষহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবন, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় তার অবদান তুলে ধরা হয় এবং তার রুহের মাগফিরাত কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়।
ঝিনাইদহে মাইক্রোবাস, ভ্যান ও মোটরসাইকেলের ত্রিমুখী সংঘর্ষে মুক্তার হোসাইন (৪০) নামের এক পল্লী চিকিৎসক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছে আরো দুইজন। শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় সদর উপজেলার বাদামতলা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত মুক্তার শৈলকুপা উপজেলার লক্ষনদিয়া গ্রামের আলিবর্দি শেখের ছেলে। স্থানীয় সূত্র জানায়, শুক্রবার সন্ধ্যায় মোটরসাইকেলযোগে মুক্তার হোসাইন তার স্ত্রীর বড় বোনকে নিয়ে ঝিনাইদহ থেকে গ্রামে ফিরছিলেন। পথে ঝিনাইদহ-মাগুরা মহাসড়কের বাদামতলা এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি মাইক্রোবাস ও ভ্যানের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ হয়। এতে মোটরসাইকেল ও ভ্যানের তিনজন গুরুতর আহত হয়। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে দায়িত্বরত চিকিৎসক মুক্তার হোসাইনকে মৃত ঘোষণা করে। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ঝিনাইদহের আরাপপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মৃত্যুঞ্জয় বিশ্বাস কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ধারণা করা হচ্ছে মাইক্রোবাসের বেপরোয়া গতির কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে।’
কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা ও উৎসবমুখর পরিবেশে নারী ক্রিকেট টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। নারীদের খেলাধূলার প্রসার, উন্নয়ন ও জাতীয় পর্যায়ের খেলোয়াড় তৈরির লক্ষ্যে এ আয়োজন করা হয়। শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) বিকেলে কুমারখালী এমএন পাইলট মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে প্রথমবারের মতো এমন আয়োজন করে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ড. নাসের ফাউন্ডেশন। ফাইনাল খেলায় কুমারখালী সরকারি বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয় ক্রিকেট একাদশকে আট উইকেটে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে খোরশেদপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় দল। খেলা শেষে সন্ধ্যায় চ্যাম্পিয়ন ও রানার্সআপ দলের হাতে পুরস্কার তুলে দেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব রেহেনা পারভিন। বিকেলে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, গড়াই নদীর কূলঘেঁষে অবস্থিত এমএন পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে শিলাইদহের খোরশেদপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের খেলোয়াড়রা ব্যাট করছে। আর বল হাতে ছুটছে কুমারখালী সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের দলনেতা ঐশী। বল করতেই চার হাকালেন প্রতিপক্ষের খাদিজা। এসব দেখে মাঠের বাইরে থাকা নানা বয়সি শত শত দর্শক করতালি দিয়ে তাদের উৎসাহ দিচ্ছেন। এ সময় বিকেএমএন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রী আরিফা খাতুন জানায়, ড. নাসের ফাউন্ডেশন চমৎকার আয়োজন করেছে। বৃহস্পতিবার তার দল পরাজিত হয়েছে। তবে শেখার জন্য ফাইনাল খেলা দেখতে এসেছেন তিনি। কুমারখালী সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের খেলোয়াড় মায়া খাতুন জানান, কুমারখালীতে আধুনিক মানের কোনো খেলার মাঠ নেই। সরঞ্জামাদি, প্রশিক্ষক বা তেমন কোনো আয়োজন নেই। এসব থাকলে কুমারখালীর মেয়েরাও একদিন জাতীয় দলে খেলার যোগ্যতা অর্জন করত। কবি ও নাট্যকার লিটন আব্বাস জানান, শিল্প, সাহিত্য, সংস্কৃতি ও খেলাধুলায় কুমারখালীর মাটি উর্বর। তবে প্রয়োজনীয় উদ্যোগের অভাবে প্রতিভা বিকশিত হচ্ছে না। প্রথমবার এমন আয়োজন দেখে তিনি খুবই খুশি। আয়োজন প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ড. নাসের ফাউন্ডেশনের সভাপতি ও বেকার্স ফিল্ড ক্যালিফোর্নিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটির কমিউনিকেশনস বিভাগের চেয়ারপার্সন ড. মো. আবু নাসের কালবেলাকে জানান, বৃহস্পতিবার সকালে ৮টি আন্তঃস্কুলের দল নিয়ে টুর্নামেন্টের যাত্রা শুরু হয়েছিল। ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনায় ফাইনাল অনুষ্ঠিত হয়েছে। নারীদের খেলাধুলার প্রসার, উন্নয়ন ও জাতীয় মানের খেলোয়াড় তৈরির লক্ষ্যে এমন আয়োজন করা হয়েছে। সব শ্রেণিপেশার মানুষের ব্যাপক সাড়া পেয়েছি। ভবিষ্যতেও ক্রিকেটসহ বিভিন্ন খেলাধুলার আয়োজন করা হবে। খেলা শেষে সন্ধ্যায় চ্যাম্পিয়ন ও রানার্সআপ দলের হাতে পুরস্কার তুলে দেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব রেহেনা পারভীন। এ সময় তিনি বলেন, দেশের এমন একটি সময়ে নারী ক্রিকেট টুর্নামেন্টের এ আয়োজন আমাদের শক্তি ও সাহস জোগায়। শীতের পড়ন্ত বিকেলে নারীদের খেলায় আমি মুগ্ধ, অনুপ্রাণিত। ছেলেদের আগে এ দেশের নারীরাও বিশ্বকাপ ছিনিয়ে আনবে বলে প্রত্যাশা করি। তিনি আরও বলেন, পুরুষের পাশাপাশি এ অঞ্চলে নারীরাও শিক্ষায়, সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়ায় অনেক ভালো করবে। তারা তাদের মধ্যে মননশীলতা, সংবেদনশীলতা, সৃষ্টিশীলতা, মানবিকতার পুনঃ স্ফীত ঘটিয়ে সুনিপুণ নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠবে। আজকের এই খেলোয়াড়দের পারফর্ম দেখে আমরা আশাবাদী হতে পারি যে, আমাদের এই প্রিয় মাতৃভূমির বদনখানি কখনো মলিন হতে দেব না। পুরস্কার বিতরণী ও সমাপনী অনুষ্ঠানের সঞ্চালনা করেন ফাউন্ডেশনের কোষাধ্যক্ষ সাংবাদিক আবু নোমান সজিব। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন অবসরপ্রাপ্ত সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ ফউজুল আজিম, কানাডার ইউনিভার্সিটি অব ওয়াটার লুর ভিজিটিং রিসার্চ স্কলার ড. একেএম গোলাম হোসেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক খান, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নাজমুল হক প্রমুখ
বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তের ওপারে আবারও ব্যাপক গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এতে আতঙ্কে রয়েছেন স্থানীয়রা। এদিকে সীমান্তে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। শুক্রবার (০৯ জানুয়ারি) সকালে কক্সবাজারের টেকনাফ হোয়াইক্যাংয়ে উত্তরপাড়া সীমান্তে এ ঘটনা ঘটে। এদিকে গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ওই এলাকায় নাফ নদীতে মাছ ও কাঁকড়া ধরার সময় গুলিতে মো. আলমগীর (৩১) নামে এক জেলে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। গুলিটি মিয়ানমার থেকে এসেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। গুলিবিদ্ধ আলমগীর টেকনাফের হোয়াইক্যং বিজিবি ক্যাম্প সংলগ্ন বালুখালী গ্রামের সৈয়দ আহমদের ছেলে। তাকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইমামুল হাফিজ নাদিম বলেন, হোয়াইক্যং সীমান্তে গোলাগুলি ঘটনায় সীমান্তে বসবাসকারী মানুষদের নিরাপদে থাকতে বলা হয়েছে। গুলিবিদ্ধ জেলের পরিবারের খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। জেলে গুলিবিদ্ধ হওয়ার বিষয়টি জানতে চাইলে উখিয়া বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক (৬৪ বিজিবি) লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. জহিরুল ইসলাম কালবেলাকে বলেন, গতকাল এক জেলে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। শুনেছি, মাছ ধরতে ওই জেলে মিয়ানমার সীমানা পার হয়ে তাদের অভ্যন্তরে ঢুকে পড়েছিল। সেখান থেকে তাকে গুলি করা হয়েছে। তবে আজ সকাল ৬টা থেকে ১০টা পর্যন্ত মিয়ানমার সীমান্তের ওপারে থেমে থেমে গোলাগুলির শব্দ শুনতে পাওয়া যায়। পরে ১১টার পরে আবারও থেমে থেমে গোলাগুলির মিয়ানমার থেকে শব্দ ভেসে আসছে এপারে। সীমান্তে বসবাসকারীদের নিরাপদে থাকতে বলা হয়েছে। আমরা সীমান্তে সতর্ক অবস্থানে রয়েছি। গুলিবিদ্ধ জেলের পরিবার জানায়, বৃহস্পতিবার বিকেলে এক সহযোগীকে নিয়ে নৌকায় করে নাফ নদীতে মাছ ও কাঁকড়া ধরতে যান আলমগীর। তারা নাফ নদীর মধ্যভাগে জেগে ওঠা ‘বিলাসীর দ্বীপ’ নামের জলসীমানায় পৌঁছালে হঠাৎ মিয়ানমারের দিক থেকে গুলি ছোড়া হয়। এ সময় একটি গুলি এসে আলমগীরের বাঁ হাতে লাগে। আলমগীরের ভাই মো. ইউনুছ বলেন, গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর সঙ্গে সঙ্গে তাকে উদ্ধার করে আনা হয়। প্রথমে উখিয়ার কুতুপালংয়ের একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে রাতে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। সীমান্তের স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে নতুন করে উত্তেজনা বেড়েছে। শুক্রবার সকালেও গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। নাফ নদীতে জেগে ওঠা দুটি দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ ও আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দেশটির রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান স্যালভেশন আর্মি (আরসা) ও রোহিঙ্গা নবী হোসেন বাহিনীর মধ্যে প্রায়ই সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। পাশাপাশি আরাকান আর্মির সঙ্গে সশস্ত্র সংঘর্ষে জড়িয়েছে আরএসও। ওপার সীমান্তের তোতার দিয়া, হাসিমের দিয়া, বিলাসী দ্বীপ ও হসের দিয়া এলাকায় দখল ও পুনরুদ্ধার ঘিরে এ ঘটনা ঘটছে। দীর্ঘ এক বছর শান্ত থাকার পর নতুন করে বিস্ফোরণে আতঙ্কে রয়েছেন সীমান্তের অন্তত আট হাজার মানুষ। ঝুঁকিতে পড়েছেন নাফ নদীতে মাছ ধরা হাজারও জেলে। হোয়াইক্যং সীমান্তে বিজিবি বিওপির কাছাকাছি উত্তরপাড়ার বাসিন্দা মোহাম্মদ শহিদ বলেন, আজকেও সকাল থেকে বেশ কয়েকটি গোলার বড় ধরনের বিকট শব্দ পাওয়া গেছে। এছাড়া গতকাল গুলিতে এক জেলে আহত হয়। সব মিলিয়ে এখানকার লোকজন খুব ভয়ভীতির মধ্য আছেন। জানতে চাইলে টেকনাফের হোয়াইক্যং পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) খোকন কান্তি রুদ্র কালবেলাকে বলেন, আজকে সকালেও মিয়ানমার সীমান্তে গুলির শব্দ পাওয়া কথা জানিয়েছে স্থানীয় লোকজন। এ ছাড়া গতকাল হোয়াইক্যং সীমান্তে নাফ নদীতে মাছ ও কাঁকড়া শিকারে গিয়ে বাংলাদেশি এক জেলে গুলিবিদ্ধ হন। এ ছাড়া সীমান্তে ওপারে প্রায় সময় গোলাগুলির শব্দ শুনতে পায় সীমান্তের বাসিন্দারা।
দিনাজপুরে প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় ডিভাইসসহ ১৬ জনকে আটক করা হয়েছে। এ ছাড়া প্রক্সি দিতে এসে দুজনকে আটক করা হয়েছে। এ সময় ১৬টি ডিভাইস জব্দ করা হয়। শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) দিনাজপুরে মোট ৪৫টি পরীক্ষা কেন্দ্রের মধ্যে ১১টি কেন্দ্র থেকে ১৮ জনকে আটক করা হয়। পুলিশ জানায়, আটকদের মধ্যে দিনাজপুরে মোট ৪৫টি পরীক্ষা কেন্দ্রে পরীক্ষার্থী ছিল ৩৩ হাজার ৮৫৬ জন। বিকাল ৩টা থেকে সাড়ে ৪টা পর্যন্ত প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় দিনাজপুর ক্রিসেন্ট কিন্ডারগার্টেন গার্লস হাই স্কুল থেকে দুজন, দিনাজপুর পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট থেকে একজন, কাদের বক্স মেমোরিয়াল কলেজ (কেবিএম) থেকে দুজন, দিনাজপুর কালেক্টরেট স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে একজন, দিনাজপুর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে একজন, দিনাজপুর সরকারি মহিলা কলেজ থেকে একজন, দিনাজপুর জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে একজন, দিনাজপুর মিউনিসিপ্যাল হাইস্কুল (বাংলা স্কুল) থেকে একজন, দিনাজপুর নূরজাহান কামিল মাদরাসা থেকে চারজন, দিনাজপুর কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থেকে একজন, কেরি মেমোরিয়াল হাই স্কুল থেকে একজনকে ডিভাইসহ আটক করা হয়। এ ছাড়া কাদের বক্স মেমোরিয়াল কলেজ (কেবিএম) কেন্দ্রে প্রক্সি দিতে আসা দুজনকে আটক করা হয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আনোয়ার হোসেন (ক্রাইম) বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে আটককৃত পরীক্ষার্থীদের প্রত্যেকের কাছ থেকে ১৫ লাখ টাকা করে নেওয়া হয়েছে। আমরা এই চক্রটিকে ধরার জন্য কাজ করছি। আমাদের কাছে ডিভাইস ব্যবহারের কৌশল আগে থেকেই জানা ছিল। তাদেরকে পরীক্ষাকেন্দ্র থেকে আটক করা হয়েছে। আটকদের বিরুদ্ধে পাবলিক পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
পঞ্চগড়ে প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় ইলেকট্রনিক ডিভাইসসহ রুবিনা আক্তার (৩২) নামে এক পরীক্ষার্থীকে আটক করেছে পুলিশ। শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) বিকেলে ড. আবেদা হাফিজ গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্র থেকে ওই পরীক্ষার্থীকে আটক করা হয়। পরে তাকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের হাতে তুলে দেন কেন্দ্র সচিব। আটক পরীক্ষার্থীর বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে। রুবিনা পঞ্চগড় সদর উপজেলার কামাত কাজলদিঘী ইউনিয়নের দফাদারপাড়া এলাকার আশরাফুল ইসলামের স্ত্রী। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, পঞ্চগড় জেলা শহরের ২০টি কেন্দ্রে একযোগে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা বিকেল ৩টায় শুরু হয়ে চলে সাড়ে ৪টা পর্যন্ত। এই সময়ে ড. আবেদা হাফিজ গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে পরীক্ষা দিচ্ছিলেন রুবিনা আক্তার। পরীক্ষার সময় তার অস্বাভাবিক আচরণ লক্ষ্য করে এক পরীক্ষার্থী অবগত করেন কক্ষ পরিদর্শককে। পরে তার কান থেকে একটি ইলেকট্রনিক ডিভাইস পাওয়া যায়। এ সময় তাকে বহিষ্কার করে পুলিশের সহযোগিতায় কেন্দ্র সচিবের কক্ষে নিয়ে যান কক্ষ পরিদর্শক। পরে কেন্দ্র সচিব ওই নারী পরীক্ষার্থীকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে তুলে দেন। এবার ১৭১টি পদের বিপরীতে ২০টি পরীক্ষা কেন্দ্রে মোট ১০ হাজার ৮১০ জন পরীক্ষার্থী আবেদন করেন। তবে ৮ হাজার ৭৮১ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেন পরীক্ষায়। আর অনুপস্থিত ছিলেন ২ হাজার ২৯ জন। উপস্থিতির হার ৮১.২৩ শতাংশ। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার সভাপতি ও জেলা প্রশাসক কাজী মো সায়েমুজ্জামান বলেন, কানে ডিভাইস ব্যবহার করে পরীক্ষা দেওয়ার সময় এক নারী পরীক্ষার্থীকে কক্ষ পরিদর্শক আটক করেন। পরে কেন্দ্র সচিব ও পুলিশ তাকে দায়িত্বরত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের হাতে তুলে দেন। তিনি স্বামীর সহযোগিতায় এ ধরনের ডিভাইস ব্যবহারের চেষ্টা করছিল বলে জানা গেছে। তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন। এছাড়া কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেনি।
চট্টগ্রামের আতুরের ডিপো এলাকা থেকে ৩৫০ ভরি সোনা ছিনতাই করে নিয়ে যাওয়ার চারদিন পর অভিযান চালিয়ে ২৯০ ভরি স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়েছে। এই সময় চাকুরিচ্যুত এক পুলিশ সদস্যসহ ৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শুক্রবার চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপির) মিডিয়া রুমে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানানো হয়। এর আগে ৮ জানুয়ারি থেকে গতকাল শুক্রবার সকাল পর্যন্ত ঢাকায় এবং চট্টগ্রামে অভিযান চালিয়ে আসামিদের গ্রেপ্তার করেছে নগর গোয়েন্দা পুলিশ (উত্তর) ও পাঁচলাইশ থানা পুলিশ। গ্রেপ্তররাা হলেন সুমন চন্দ্র দাস (৪২), মো. মাসুদ রানা বাইক বাবু (৩০), রফিকুল ইসলাম প্রকাশ ইমন (২২), রবি কুমার দাস (৪০),পান্না রানী দাস (৩৮) ও বিবেক বনিক (৪২)। এর মধ্যে সুমন পুলিশের এএসআই ছিলেন। ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধকর্মে জড়ানোর কারণে পুলিশ থেকে তাকে স্থায়ী বরখাস্ত করা হয়েছিল। সংবাদ সম্মেলনে নগর গোয়েন্দা পুলিশের উপকমিশনার (উত্তর) হাবিবুর রহমান বলেন, গত ৪ জানুয়ারি সবুজ দেবনাথ তাঁর সঙ্গে আরো ২ জনকে নিয়ে ৩৫০ ভরি সোনাসহ একটি সিএনজিযোগে কোতোয়ালি থানার সাবেরিয়া এলাকা থেকে বায়েজিদ বোস্তামি থানাধীন অক্সিজেনের উদ্দেশে রওনা হন। পথিমধ্যে আতুরের ডিপো এলাকায় পৌঁছালে ২টি মোটরসাইকেলে থাকা চারজন ছিনতাইকারী তাঁদের পথরোধ করে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও মারধর করে। এসময় তাঁদের কাছ থেকে ৩৫০ ভরি সোনা ব্যবহৃত ৩টি মোবাইল ফোন ও নগদ টাকা ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় পাঁচলাইশ থানায় মামলা করা হয়। তিনি আরো বলেন, ঘটনার পর পাঁচলাইশ মডেল থানা ও ডিবি (উত্তর) বিভাগের সমন্বয়ে গঠিত একটি চৌকস আভিযানিক দল গোপন সূত্র ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান পরিচালনা করে। এরই ধারাবাহিকতায় গাজীপুর জেলার কাশিমপুর থানার মাধবপুর এলাকা থেকে সুমন চন্দ্র দাস, মো. মাসুদ রানা এবং রফিকুল ইসলাম ইমনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এছাড়া ছিনতাইয়ের মূল পরিকল্পনাকারী একজন এখনো পলাতক রয়েছেন। এরপর সুমনের দেওয়া তথ্যে তার স্ত্রী পান্না রানি দাশ ও রবি কুমার দাসকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর ছিনতাইকারীদের সোনার বার বহনের তথ্য দেওয়ার জুয়েলারি দোকানের কর্মচারী বিবেক বণিককে গ্রেপ্তার করা হয়। পাঁচলাইশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকতা (ওসি) আবদুল করিম বলেন, গ্রেপ্তার সুমন চন্দ্র দাস স্বীকার করেছে তার নেতৃত্বে পূর্বপরিকল্পিতভাবে ছিনতাইয়ের ঘটনা সংঘটিত হয়। সুমনের সঙ্গে দোকান কর্মচারী বিবেকের সম্পর্ক ছিল। বিবেকের দেওয়া তথ্যে ছিনতাই করা হয়। বিবেক তথ্য দেয় দোকানের কর্মচারীরা সোনার বার নিয়ে যাবে। ছিনতাই করে নিয়ে যাওয়ার পর স্বর্ণগুলো সুমন তার স্ত্রী পান্না ও শ্যালক রবির কাছে রাখে। সংবাদ সম্মেলনে নগর পুলিশের উপকশিনার (উত্তর) আমিরুল ইসলাম বলেন, ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধকর্মে জড়ানোর কারণে সুমনে বিভাগীয় শাস্তির আওতায় পুলিশ বাহিনী থেকে স্থায়ী বহিষ্কার করা হয়েছে। সে আগেও সোনার বার ছিনতাইয়ের ঘটনায় জেলে গিয়েছিল। কিন্তু জেল থেকে বেরিয়ে আবার ছিনতাইকাজের নেতৃত্ব দিচ্ছে। ছিনতাইকারীদের কাছ থেকে ছিনতাই কাজে ব্যবহার করা একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে।
কুমিল্লা-৪ আসনে হাসনাত আব্দুল্লাহর মনোনয়ন বাতিল চেয়ে আবেদন করেছেন বিএনপি প্রার্থী মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী। শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) নির্বাচন কমিশনে (ইসি) আবেদন করেন তিনি। আবেদনে উল্লেখ করা হয়, হাসনাত আব্দুল্লাহর মনোনয়নের বিরুদ্ধে হলফনামায় পরস্পরবিরোধী তথ্য, সম্পদ বিবরণে বড় গরমিল, স্ত্রীর আয়কর রিটার্ন না দেওয়া এবং নির্বাচন ব্যয়ের উৎস অস্পষ্ট দেখিয়ে ওই আবেদন করা হয়। আপিলে সবচেয়ে আলোচিত অভিযোগগুলোর একটি হলো সম্পদ বিবরণে বড় ধরনের অসংগতি। এক অংশে ২০ ভরি স্বর্ণের মূল্য শূন্য টাকা দেখানো হলেও অন্য অংশে একই স্বর্ণালংকারের মূল্য ২৬ লাখ টাকা উল্লেখ করা হয়েছে। প্রার্থীর নিজের আয়কর তথ্য দেওয়া হলেও তার স্ত্রীর আয়কর রিটার্ন দাখিল করা হয়নি, যা নির্বাচন আইন অনুযায়ী বাধ্যতামূলক। একই সঙ্গে সম্ভাব্য প্রায় ৩০ লাখ টাকা নির্বাচনী ব্যয়ের উৎস হিসেবে ‘সাধারণ জনগণের অনুদান’ উল্লেখ করা হলেও এর কোনো নির্দিষ্ট ও যাচাইযোগ্য ব্যাখ্যা নেই। নির্বাচনী ব্যয়ের উৎস ও আয়কর সংক্রান্ত ত্রুটি একসঙ্গে থাকলে তা মনোনয়নের ক্ষেত্রে বড় ঝুঁকি তৈরি করে। কুমিল্লা-৪ আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী একই আসনের বিএনপি দলীয় প্রার্থী ও জাতীয় কমিটির সদস্য চারবারের নির্বাচিত সাবেক সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী। এর আগে জানা যায়, ঋণখেলাপির তালিকা থেকে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর নাম বাদ দিয়ে হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত করেছেন চেম্বার আদালত। এর ফলে তিনি ঋণখেলাপি হিসেবে চিহ্নিত হবেন এবং জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা।
ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সদস্য সচিব আজিজুর রহমান মুসাব্বির হত্যাকাণ্ডের দুই দিন পেরিয়ে গেলেও এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট আরও একটি ভিডিও ফুটেজ পুলিশের হাতে এসেছে। নতুন এই ফুটেজ বিশ্লেষণ করে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তেজগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ক্যশৈনু মারমা বলেন, নতুন পাওয়া ভিডিওতে শুটারদের চেহারা আরও স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। এসব ফুটেজ বিশ্লেষণ করে হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। এদিকে হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর বসুন্ধরা শপিংমল এলাকায় স্থানীয় বাসিন্দা ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ করেন। পরে তারা বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে ফার্মগেট হয়ে তেজগাঁও থানার সামনে অবস্থান নেন এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে হত্যাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান। উল্লেখ্য, বুধবার (৭ জানুয়ারি) রাতে রাজধানীর পশ্চিম তেজতুরি পাড়ায় দুর্বৃত্তরা **আজিজুর রহমান মুসাব্বির**কে গুলি করে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার ইলিয়টগঞ্জ এলাকায় বাস উল্টে দুজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় অন্তত সাতজন যাত্রী আহত হয়েছেন। দুর্ঘটনা ঘটে বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) রাত ১১টার দিকে, ইলিয়টগঞ্জ হাইওয়ে থানার কাছের দরানী ইউটার্নে। পুলিশ জানিয়েছে, ঢাকা থেকে ফেনী যাওয়ার পথে স্টার লাইন পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ইউটার্নে উল্টে যায়। দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই দুজন নিহত হন। তবে নিহতদের পরিচয় এখনো নিশ্চিত করা যায়নি। ইলিয়টগঞ্জ হাইওয়ে থানার ওসি রুহুল আমিন জানান, খবর পেয়ে হাইওয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে চান্দিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠিয়েছে। নিহতদের মরদেহও উদ্ধার করা হয়েছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নওগাঁ-৪ (মান্দা) আসনে জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী মো. আব্দুর রাকিবকে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হয়েছে। তার বিরুদ্ধে স্থানীয় খেলার অনুষ্ঠানে জনসম্মুখে ভোটারদের উদ্বুদ্ধ করতে প্রকাশ্যে টাকা প্রদান করার অভিযোগ উঠেছে। সেইসঙ্গে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট চেয়েও বক্তব্য দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) এ আসনের নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির চেয়ারম্যান নওগাঁর সিভিল জজ আদালতের (আত্রাই) বিচারক মো. শিমুল সরকার এ নোটিশ দেন। নোটিশে নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে কেন ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, সে বিষয়ে আগামী ১৫ জানুয়ারি নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির কার্যালয়ে হাজির হয়ে তাকে লিখিতভাবে ব্যাখ্যা জানাতে বলা হয়েছে। কারণ দর্শানোর চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, মো. আব্দুর রাকিব নওগাঁ-৪ আসনে জামায়াতের প্রার্থী। নির্বাচনী অনুসন্ধানী কমিটির কাছে আসা অভিযোগ অনুযায়ী সম্প্রতি একটি খেলার অনুষ্ঠানে জনসম্মুখে ভোটারদের উদ্বুদ্ধ করতে তিনি প্রকাশ্যে টাকা প্রদান করেন। একই সঙ্গে দাঁড়িপাল্লায় ভোট চেয়ে বক্তব্য প্রদান করেন। সেই বক্তব্যের ভিডিও জামায়াতের একজন কর্মীর মাধ্যমে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে প্রচার করিয়েছেন মো. আব্দুর রাকিব। নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে তার এসব কার্যকলাপ সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা, ২০২৫-এর বিধি ৪ ও বিধি ১৮-এর লঙ্ঘন বলে প্রতীয়মান হয়। এ বিষয়ে জামায়াতের অভিযুক্ত প্রার্থী মো. আব্দুর রাকিব জানান, নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির কোনো শোকজের নোটিশ এখনো তিনি হাতে পাননি। খেলার অনুষ্ঠানে ভোটারদের উদ্বুদ্ধ করতে টাকা প্রদান এবং ওই সময়ে দাঁড়িপাল্লায় ভোট চাওয়ার কোনো ঘটনা তার মনে পড়ছে না। শোকজ নোটিশ হাতে পেলে তিনি আদালতে হাজির হয়ে ব্যাখ্যা দেবেন।
গাইবান্ধায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগের লিখিত (এমসিকিউ) পরীক্ষা ঘিরে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। পরীক্ষা সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে এ আদেশ জারি করে জেলা প্রশাসন। বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) রাতে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাসুদুর রহমান মোল্লা স্বাক্ষরিত নোটিশে এ আদেশ জারি করা হয়।
মাত্র ১৯ জন শিক্ষার্থী ও দুইজন শিক্ষক নিয়েই চলছে জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলার পলাশবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। গত তিন বছর ধরে চরম শিক্ষার্থী সংকটে ভুগছে বিদ্যালয়টি। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা থাকলেও এখনো কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। সরেজমিনে দেখা যায়, নির্ধারিত সময়ের আগেই বিদ্যালয় বন্ধ করে শিক্ষকরা চলে গেছেন। বিদ্যালয়ের পাশেই প্রধান শিক্ষকের বাড়ি হওয়ায় তিনি বাড়ির সামনে অবস্থান করছিলেন। পরে সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে তিনি বিদ্যালয় খুলে দেন। এ সময় দেখা যায়, বিদ্যালয়টিতে মোট চারটি কক্ষ রয়েছে। এর মধ্যে একটি ছোট কক্ষে ভাঙা চেয়ার-টেবিল রেখে অফিস কক্ষ হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। আরেকটি শ্রেণিকক্ষও অফিস হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে, যা পুরোনো ও অগোছালো আসবাবপত্রে ভর্তি। একটি মাত্র কক্ষে পাঠদান কার্যক্রম চলে, অপর একটি কক্ষ ফাঁকা পড়ে আছে। বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বর্তমানে আধুনিক শৌচাগার নির্মাণের কাজ চলমান। প্রধান শিক্ষক সূত্রে জানা যায়, বিদ্যালয়টি ১৯৯২ সালে স্থাপিত হয়ে ২০১৩ সালে সরকারীকরণ হয়। চলতি শিক্ষাবর্ষে বিদ্যালয়টিতে মাত্র ১৯ জন শিক্ষার্থীর বিপরীতে দুইজন শিক্ষক কর্মরত রয়েছেন। শিক্ষার্থী সংকটের কারণে অনেক সময় নির্ধারিত সময়ের আগেই বিদ্যালয় বন্ধ হয়ে যায়। গত তিন বছর ধরে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ক্রমাগত কমছে। ২০২৫ সালের তুলনায় চলতি বছর শিক্ষার্থী আরও হ্রাস পেয়েছে। এসব বিষয়ে উপজেলা ও জেলা শিক্ষা কর্মকর্তারা অবগত রয়েছেন। সর্বশেষ গত বছরের ১৬ অক্টোবর সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করেন। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, বিদ্যালয় ও শিক্ষার মানোন্নয়নে গত বছর স্লিপ (SLIP) খাত থেকে ৬৩ হাজার ৩৯২ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। এছাড়া সম্প্রতি প্রায় ১৩ লাখ ৩৬ হাজার টাকা ব্যয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য আধুনিক শৌচাগার নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ৮ সেপ্টেম্বর কমসংখ্যক শিক্ষার্থী বিশিষ্ট বিদ্যালয়গুলোর বিষয়ে একটি নির্দেশনা জারি করা হয়। এতে বলা হয়, কোনো বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী সংখ্যা ৫০ জনের নিচে হলে পার্শ্ববর্তী বিদ্যালয়ের সঙ্গে একীভূত করার ব্যবস্থা নিতে হবে। তবে চলতি বছর মাত্র ১৯ জন শিক্ষার্থী থাকা সত্ত্বেও এ বিষয়ে এখনো কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বিদ্যালয়টিতে অনুকূল শিক্ষা পরিবেশ ও মানসম্মত পাঠদানের ঘাটতি রয়েছে। কয়েকজন অভিভাবক প্রধান শিক্ষকের শারীরিক সক্ষমতা ও বিদ্যালয় পরিচালনার দক্ষতা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাদের অভিযোগ, এসব কারণেই গ্রামের অধিকাংশ শিক্ষার্থী এখানে ভর্তি না হয়ে অন্য বিদ্যালয়ে চলে যাচ্ছে। বিদ্যালয়ের পাশের এক অভিভাবক আনিছুর রহমান বলেন, ‘এই বিদ্যালয়ে বর্তমানে শিক্ষার উপযোগী পরিবেশ নেই। সব শ্রেণির পাঠদান একটি কক্ষেই করানো হয়। তাছাড়া একজন কার্যত অক্ষম প্রধান শিক্ষক দিয়ে বিদ্যালয়টি চলছে। তাই বাধ্য হয়ে বাড়ির পাশে বিদ্যালয় থাকা সত্ত্বেও আমার সন্তানকে আক্কেলপুর শহরের একটি কিন্ডারগার্টেন স্কুলে ভর্তি করিয়েছি।’ একই অভিযোগ করেন অভিভাবক রুলি আক্তার। তিনি বলেন, ‘এখানে পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ তৈরির মতো পরিবেশ নেই। সরকারি তদারকিও চোখে পড়ে না। এসব কারণেই গ্রামের শিশুরা অন্য বিদ্যালয়ে চলে যাচ্ছে।’ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সাবেক সহ-সভাপতি মতিউর রহমান বলেন, ‘একসময় বিদ্যালয়টি ভালোভাবেই চলত। কিন্তু বর্তমানে শিক্ষকদের আচরণ, শ্রেণিকক্ষ ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা এবং গ্রামের অভ্যন্তরীণ কিছু বিরোধের কারণে শিক্ষার্থী সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। দ্রুত সমস্যাগুলোর সমাধান করা গেলে আবার বিদ্যালয়টি প্রাণ ফিরে পেতে পারে।’ এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মনোয়ারা বেগম বলেন, ‘গত তিন বছর ধরে শিক্ষার্থী কমে যাচ্ছে। আমরা আমাদের সাধ্যমতো চেষ্টা করছি। আশপাশে বড় বিদ্যালয় থাকায় অনেকেই সেখানে চলে যাচ্ছে। শিক্ষার্থী সংকটের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।’ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘গত বছরেও বিদ্যালয়টিতে শিক্ষার্থী সংখ্যা কম ছিল। বিদ্যালয়ের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে আমরা অবগত এবং নিয়মিত তদারকি করছি। অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ চলছে। প্রয়োজনে সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জেছের আলী বলেন, ‘সরকারি নিদের্শনা অনুযায়ী কম সংখ্যক শিক্ষার্থী বিশিষ্ট বিদ্যালয়ের সংখ্যা আমরা অধিদপ্তরে পাঠিয়েছি। এ বিষয়ে অধিদপ্তর থেকে নীতিগত সিদ্ধান্ত আসবে। সেই অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহন করা হবে।’
রাতের আঁধারে কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার খলিশাকোঠাল সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) কর্তৃক পাকা সড়ক নির্মাণে বাধা দিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) দুপুরে আন্তর্জাতিক মেইন পিলার নম্বর ৯৩৪-এর কাছে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। পতাকা বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে নেতৃত্ব দেন লালমনিরহাট-১৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধীন বালারহাট ক্যাম্প কমান্ডার সুবেদার আবু তাহের এবং ভারতের পক্ষে নেতৃত্ব দেন কোচবিহার জেলার সাহেবগঞ্জ থানার মেঘ নারায়ণের কুঠি ক্যাম্পের ইন্সপেক্টর দীপক কুমার। আধা ঘণ্টার এ বৈঠকে উভয় পক্ষের ৬ জন করে সদস্য উপস্থিত ছিলেন। বিজিবি ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আন্তর্জাতিক সীমান্ত পিলার ৯৩৪-এর ১ এস থেকে ১১ এস পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে সীমান্তঘেঁষা পুরেনো সড়কের পাশে নতুন করে পাকা সড়ক নির্মাণ শুরু করে বিএসএফ। রাতের আঁধারে বিএসএফের উপস্থিতিতে এই নির্মাণকাজ চলছিল। বিজিবি একাধিকবার বাধা দিলেও কাজ বন্ধ হয়নি। খলিশাকোঠাল সীমান্তের বাসিন্দা মজিবর রহমান বলেন, রাতে রাতেই সড়ক নির্মাণ করা হচ্ছিল। বিষয়টি নজরে আসার পর বিজিবি টহল জোরদার করে এবং আজ পতাকা বৈঠক হয়। এ বিষয়ে বালারহাট ক্যাম্প কমান্ডার সুবেদার আবু তাহের জানান, সীমান্তে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে বিজিবি টহল জোরদার রয়েছে। বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে বিএসএফ সদস্যরা সড়ক নির্মাণের কিছু সরঞ্জাম সরিয়ে নিচ্ছে।
নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার চরাঞ্চলে যৌথবাহিনীর পৃথক দুটি অভিযানে হত্যা ও অস্ত্রসহ ১১টি মামলার আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী শুটার ইকবাল (৩৫) ও তার বাবা মো. জালাল উদ্দিনকে আটক করা হয়েছে। এ সময় তাদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ দেশীয় ও আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়। বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) রায়পুরা থানায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান রায়পুরা আর্মি ক্যাম্পের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. আবু বকর সিদ্দিকী। তিনি জানান, রায়পুরার চরাঞ্চলে সম্প্রতি সন্ত্রাসী কার্যক্রম উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। অপরাধ দমনে ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। বুধবার ৯ পদাতিক ডিভিশনের অধীনে রায়পুরা আর্মি ক্যাম্পের নেতৃত্বে পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে শ্রীনগর ইউনিয়নের গোবিনাথপুর এবং বাঁশগাড়ী ইউনিয়নের বালুয়াকান্দি এলাকায় যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযান চলাকালে উপজেলার সায়দাবাদ এলাকার বাসিন্দা শুটার ইকবাল ও তার বাবা মো. জালাল উদ্দিনকে গোবিনাথপুর এলাকা থেকে আটক করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে দুটি একনলা বন্দুক, একটি ওয়ান শুটারগান, একটি রামদা, দুটি ডেগার, চারটি ছুরি, দুটি চাপাতি, আটটি কার্তুজ, পাঁচ রাউন্ড চায়না রাইফেলের গুলি, তিনটি দেশীয় বল্লম, ২২টি পটকা, একটি বুলেটপ্রুফ জ্যাকেটসহ বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া উদ্ধার করা হয় ১৫টি বাটন মোবাইল, ৫টি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল, একটি আইফোন, কাগজপত্রসহ মানিব্যাগ, এনআইডি কার্ড ও অস্ত্রের বিভিন্ন সরঞ্জাম। একই দিন আরেকটি অভিযানে বাঁশগাড়ি ইউনিয়নের বালুয়াকান্দি এলাকায় লাকী বেগমের বাড়িতে বোমা কালামের আস্তানা থেকে একটি দেশীয় ওয়াট শুটারগান ও দুটি শর্টগানের কার্তুজ উদ্ধার করা হয়। লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. আবু বক্কর সিদ্দিকী জানান, শুটার ইকবালের বিরুদ্ধে তিনটি হত্যা মামলাসহ ১১টি মামলা রয়েছে। তার বাবা জালাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে দুইটি হত্যা মামলাসহ মোট চারটি মামলা রয়েছে। আটক দুজনের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তিনি আরো বলেন, ‘চরাঞ্চল থেকে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারে সমন্বিতভাবে অভিযান চলমান থাকবে। এর মাধ্যমে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হবে।’ সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাসুদ রানা, রায়পুরা সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার বায়েজিদ বিন মনসুরসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। নরসিংদী পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল ফারুক বলেন, ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রায়পুরার চরাঞ্চলের ৬টি ইউনিয়নে ভোটকেন্দ্রগুলোতে যেন কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সে লক্ষ্যে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। ইতোমধ্যে চরাঞ্চলে যৌথবাহিনীর সাঁড়াশি অভিযান চলছে এবং ভবিষ্যতে তা আরো জোরদার করা হবে।’
ঢাকা মহানগর উত্তরের স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সদস্য সচিব আজিজুর রহমান মুসাব্বিরকে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় আবু সুফিয়ান ব্যাপারি মাসুদ (৪২) নামে এক ব্যবসায়ী গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়েছেন। বুধবার (৭ জানুয়ারি) রাতে রাজধানীর তেজগাঁও এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর দুর্বৃত্তদের পালিয়ে যাওয়ার একটি সিসিটিভি ফুটেজ পাওয়া গেছে। ফুটেজে দেখা যায়, মুসাব্বিরকে গুলি করার পর হামলাকারীরা দৌড়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা গেছে, মুসাব্বিরকে লক্ষ্য করে দুর্বৃত্তরা পাঁচ রাউন্ড গুলি ছোড়ে। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত মাসুদকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া মো. জাবেদ গণমাধ্যমকে জানান, মাসুদ তেজগাঁও থানার ভ্যানশ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক। তার বাড়ি কেরানীগঞ্জে। রাত আনুমানিক ৮টার দিকে মুসাব্বির ও মাসুদসহ কয়েকজন তেজগাঁওয়ের স্টারের গলিতে আড্ডা দিচ্ছিলেন। এ সময় মোটরসাইকেলে করে আসা কয়েকজন দুর্বৃত্ত মুসাব্বিরকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। তিনি আরও জানান, গুলিবিদ্ধ দুজনকে প্রথমে বিআরবি হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে রাতে মাসুদকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) মো. ফারুক জানান, মাসুদ পেটের বাম পাশে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন এবং জরুরি বিভাগে তার চিকিৎসা চলছে।
চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় ফেসবুকে অস্ত্রের ছবি প্রকাশ করার অভিযোগে শওকত আলী নামে এক যুবককে আটক করেছে সেনাবাহিনী। তার বিরুদ্ধে স্থানীয় থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। সেনাবাহিনী জানিয়েছে, শওকত আলী চন্দ্রঘোনা কদমতলী ইউনিয়নের চারাবটতল এলাকার গোল বক্সের ছেলে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি অবৈধ অস্ত্র নিয়ে প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা করছিলেন। সম্প্রতি তার হাতে পিস্তল নিয়ে তোলা ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরে আসে। মঙ্গলবার ভোরে সেনাবাহিনীর টাস্কফোর্স-৪ ও ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেডের তত্ত্বাবধানে চারাবটতল এলাকার একটি ভবন থেকে তাকে আটক করা হয়। তবে তার কাছ থেকে অস্ত্র উদ্ধার করা যায়নি। সেনাবাহিনী জানিয়েছে, শওকত আলীর বিরুদ্ধে স্থানীয় থানায় একাধিক মামলা রয়েছে এবং অস্ত্র না পাওয়ায় পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার জন্য তাকে রাঙ্গুনিয়া থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।