শারীরিক স্বাস্থ্যের মতোই মানসিক স্বাস্থ্যও সমান গুরুত্বপূর্ণ, তবুও আমাদের অজান্তেই অনেক দৈনন্দিন অভ্যাস মানসিক সুস্থতার উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। যদিও এসব অভ্যাস প্রায়ই নিরীহ বলে মনে হয়, কিন্তু সময়ের সাথে সাথে এগুলো মানসিক চাপ, উদ্বেগ, অবসাদ এবং আবেগগত ক্লান্তির কারণ হতে পারে। ‘ইন্ডিয়া টিভি’র এক প্রতিবেদনে ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট অনুষ্কা মোদি এমন কিছু অস্বাস্থ্যকর অভ্যাসের কথা বলেছেন যা মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষতি করে।সেই সাথে কীভাবে সার্বিকভাবে ভালো থাকা সে কথাও উল্লেখ করেছেন। যেমন- সকালে স্ক্রল করা ঘুম থেকে ওঠার সাথে সাথেই ফোন হাতে তুলে নিলে, দিন শুরু হওয়ার আগেই আপনার মস্তিষ্ক অতিরিক্ত উত্তেজিত হয়ে উঠতে পারে। অবিরাম নোটিফিকেশন, সোশ্যাল মিডিয়ার আপডেট এবং অপ্রয়োজনীয় খবর মানসিক জঞ্জাল তৈরি করতে পারে। স্ক্রিন ব্যবহার করার আগে অন্তত ৩০ মিনিট অপেক্ষা করুন। শরীরচর্চা করুন, ডায়েরি লিখুন অথবা দিনের সূচনা উপভোগ করুন। নিজের সবচেয়ে বড় সমালোচক হওয়া যে অভ্যাসগুলো মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষতি করতে পারে তার মধ্যে অন্যতম হলো নিজের সাথে নেতিবাচক কথা বলা। ক্রমাগত নিজের সমালোচনা করলে আত্মবিশ্বাস কমে যেতে পারে, আত্ম-সন্দেহ বাড়তে পারে এবং আপনাকে মানসিকভাবে আটকে রাখতে পারে। নিজের সাথে কঠোরভাবে কথা বলার পরিবর্তে, ধৈর্য এবং সহানুভূতি দেখান। কঠিন সময়ের মধ্যে দিয়ে যাওয়া কোনো ঘনিষ্ঠ বন্ধুকে আপনি যেভাবে সমর্থন করতেন, নিজের সাথেও ঠিক সেভাবেই আচরণ করুন। একসাথে একাধিক কাজ করা অনেকে মনে করেন, একসাথে একাধিক কাজ করলে তারা বেশি কাজ করতে পারেন, কিন্তু প্রায়ই এর ফল হয় উল্টো। একসাথে একাধিক কাজ করলে আপনার মনোযোগ কমে যেতে, কর্মদক্ষতা হ্রাস পেতে এবং মস্তিষ্ক ক্লান্ত হয়ে পড়তে পারে। একাগ্রতা এবং মানসিক স্বচ্ছতার জন্য একবারে একটি কাজে সম্পূর্ণ মনোযোগ দিন। বিরতি না নেওয়া বিরতি না নিয়ে একটানা কাজ করলে তা অবসাদ, উদ্বেগ এবং ক্রমাগত মানসিক ক্লান্তির কারণ হতে পারে। ব্যস্ত থাকলে নিজেকে সক্রিয় মনে হলেও, আপনার মস্তিষ্কেরও বিশ্রাম এবং শক্তি সঞ্চয়ের জন্য সময়ের প্রয়োজন। সারাদিন ধরে ছোট ছোট বিরতি নিলে তা শক্তি পুনরুদ্ধার করতে এবং মনোযোগ বাড়াতে সাহায্য করতে পারে। বাইরে না যাওয়া সারাদিন ঘরের ভেতরে কাটালে উদ্বিগ্ন, অলস এবং বিচ্ছিন্ন বোধ করতে পারেন। কয়েক মিনিটের জন্য বাইরে গেলেও মন ভালো লাগবে। যখনই সম্ভব বাইরের আলো-বাতাস গায়ে লাগান। এতে আপনার মেজাজ ভালো থাকবে। মানসিক চাপও কমবে। অভিযোগ করা ক্রমাগত অভিযোগ করা নেতিবাচক চিন্তাগুলিতে আরও শক্তিশালী করে । সেই সঙ্গে প্রতিবন্ধকতা থেকে এগিয়ে যাওয়াকে আরও কঠিন করে তোলে। আপনার আবেগ চেপে রাখার বা বারবার সমস্যা নিয়ে ভাবার পরিবর্তে, মনের কথা প্রকাশ করুন। এক্ষেত্রে ডায়েরি লেখা, বিশ্বস্ত কোনো বন্ধুর সাথে কথা বলা বা একজন থেরাপিস্টের সাহায্য নেওয়া স্বাস্থ্যকর উপায় হতে পারে। সব কিছুতে হ্যাঁ বলা সবকিছুতে হ্যাঁ বলা সহায়ক বলে মনে হতে পারে, কিন্তু এই অভ্যাস মানুষকে মানসিকভাবে ক্লান্ত এবং ভারাক্রান্ত করে তোলে। অতিরিক্ত প্রতিশ্রুতি অপ্রয়োজনীয় চাপ এবং বিরক্তি তৈরি করতে পারে। মানসিক স্বাস্থ্য ভালো রাখতে না বলতে শিখুন।
এখন বড়দের মতো অনেক তরুণও কিডনির পাথরের সমস্যায় ভোগেন। আবার অনেকে ভোগেন মূত্রথলির পাথরের সমস্যায়। এ ধরনের সমস্যা গুরুতর পর্যায়ে পৌঁছানোর আগেই চিকিৎসা নেওয়া উচিত। কিডনিতে পাথরের লক্ষণ শুরুতেই বুঝতে পারলে লাইফস্টাইল পরিবর্তন করলে অনেকটা ঠিক হয়ে যায়। সমস্যা হলো অনেকেই লক্ষণগুলো অবহেলা করেন। পরে তা জীবনকে নিয়ে যায় হুমকির মুখে। কিডনি পাথরের পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণের কথা বলা হয়েছে ভারতের গণমাধ্যম 'নিউজ১৮'-এর একটি প্রতিবেদনে। পরামর্শ দিয়েছেন দিল্লির ম্যাক্স সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের ইউরোলজিস্ট অনিল কুমার বার্ষ্ণেয়। পিঠের ব্যথা যাদের কিডনিতে পাথর হয়, তাদের প্রায়শই পিঠের নিচের অংশে বা মেরুদণ্ডের দুই পাশে তীব্র ব্যথা হয়। ব্যথা শ্রোণী অঞ্চল পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে। এই ব্যথা পেট ও শ্রোণীতে ছড়িয়ে যায়, যার ফলে দাঁড়ানো বা হাঁটা কঠিন হয়ে পড়ে। এই লক্ষণগুলো দ্রুত বুঝতে পারলে চিকিৎসা নিন। প্রস্রাবের সময় ব্যথা বা জ্বালা যখন কিডনি ও মূত্রাশয়ের সংযোগকারী নালীর মাঝে পাথর আটকে যায়, তখন প্রস্রাবের সময় আপনি ব্যথা অনুভব করতে পারেন। এই অস্বস্তি বেশ বিরক্তিকর হতে পারে। চিকিৎসকরা একে ডিসইউরিয়া বলে থাকেন। সঠিক চিকিৎসা পাওয়ার জন্য এই লক্ষণগুলো আগেই শনাক্ত করা জরুরি। প্রস্রাবে রক্ত কিডনিতে পাথর হলে প্রস্রাবের সঙ্গে রক্ত যাওয়া একটি সাধারণ লক্ষণ, যা হেমাটুরিয়া নামে পরিচিত। এই রক্তলাল, গোলাপি বা বাদামী রঙের হতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে, রক্তকণিকাগুলো এতটাই ছোট হয় যে মাইক্রোস্কোপ ছাড়া দেখা যায় না। বমি বমি ভাব ও বমি কিডনিতে পাথর হলে বমি বমি ভাব এবং বমি হওয়া সাধারণ লক্ষণ। এই উপসর্গগুলো কিডনি এবং পরিপাকতন্ত্রের মধ্যে থাকা আন্তঃসংযুক্ত স্নায়ু থেকে উদ্ভূত হয়। কিডনিতে পাথর থাকলে তা পরিপাকতন্ত্রের এই স্নায়ুগুলোকে সক্রিয় করে তুলতে পারে, যার ফলে পেটে অস্বস্তি হয়। এছাড়াও, তীব্র ব্যথার প্রতিক্রিয়ায় বমি বমি ভাব হতে পারে। এমনকি বমি হতে পারে। জ্বর ও কাঁপুনি জ্বর ও কাঁপুনি কিডনি বা মূত্রনালীর সংক্রমণের আরো একটি লক্ষণ। কিডনিতে পাথর হলেও এমনটা হতে পারে। এ লক্ষণগুলো অন্যান্য গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যারও ইঙ্গিত দিতে পারে। জ্বরের সঙ্গে ব্যথা হলে সময়মতো চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। এই লক্ষণগুলো দ্রুত শনাক্ত করা গেলে সঠিক চিকিৎসা নেওয়া সম্ভব।
সুস্থ, কর্মক্ষম ও প্রাণবন্ত জীবনযাপনের জন্য সুষম খাদ্যের কোনো বিকল্প নেই। আর সেই সুষম খাদ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো ভিটামিন বি-৩ বা নিয়াসিন (Niacin)। শরীরে শক্তি উৎপাদন থেকে শুরু করে হৃদযন্ত্র, মস্তিষ্ক, স্নায়ুতন্ত্র এবং ত্বকের সুস্থতা—প্রায় প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ কাজেই এই ভিটামিন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। যেহেতু এটি একটি পানিতে দ্রবণীয় ভিটামিন, তাই শরীর অতিরিক্ত ভিটামিন বি-৩ জমিয়ে রাখতে পারে না। ফলে প্রতিদিনের খাবারের মাধ্যমে এর চাহিদা পূরণ করা অত্যন্ত জরুরি। ভিটামিন বি-৩ কী এবং কেন গুরুত্বপূর্ণ? ভিটামিন বি-৩ বা নিয়াসিন একটি পানিতে দ্রবণীয় (Water-soluble) ভিটামিন। এর অতিরিক্ত অংশ শরীরে সঞ্চিত না থেকে প্রস্রাবের মাধ্যমে বের হয়ে যায়। তাই শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রম সচল রাখতে প্রতিদিন পর্যাপ্ত পরিমাণে ভিটামিন বি-৩ গ্রহণ করা প্রয়োজন। ভিটামিন বি-৩-এর প্রধান উপকারিতা ১. শরীরে শক্তি উৎপাদনে সহায়তা আমরা প্রতিদিন যে খাবার খাই, তা থেকে শক্তি উৎপাদনের প্রক্রিয়ায় ভিটামিন বি-৩ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এটি খাদ্যকে ভেঙে শরীরের প্রয়োজনীয় শক্তিতে রূপান্তর করতে সহায়তা করে, ফলে দৈনন্দিন কাজ করার জন্য শরীর পর্যাপ্ত শক্তি পায়। ২. হৃদযন্ত্রকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে ভিটামিন বি-৩ রক্তে ভালো কোলেস্টেরল (HDL)-এর মাত্রা বাড়াতে এবং খারাপ কোলেস্টেরল (LDL) ও ট্রাইগ্লিসারাইড কমাতে সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে। এর ফলে হৃদরোগ ও হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমাতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। ৩. মস্তিষ্ক ও স্নায়ুতন্ত্রের কার্যকারিতা উন্নত করে সুস্থ স্নায়ুতন্ত্র বজায় রাখতে নিয়াসিন অপরিহার্য। এটি মস্তিষ্কের স্বাভাবিক কার্যক্রমে সহায়তা করে এবং মানসিক অবসাদ কমিয়ে কর্মক্ষমতা বৃদ্ধিতেও ভূমিকা রাখতে পারে। ৪. ত্বকের স্বাস্থ্য ও ঔজ্জ্বল্য বজায় রাখে ভিটামিন বি-৩ ত্বককে সূর্যের ক্ষতিকর অতিবেগুনি (UV) রশ্মির প্রভাব থেকে সুরক্ষা দিতে এবং ত্বকের কোষের ডিএনএ মেরামতে সহায়তা করে। শরীরে দীর্ঘদিন এ ভিটামিনের ঘাটতি থাকলে ‘পেলাগ্রা’ (Pellagra) নামক গুরুতর রোগ দেখা দিতে পারে, যার প্রধান লক্ষণ হলো ত্বকের সমস্যা, ডায়রিয়া এবং মানসিক বিভ্রান্তি। ভিটামিন বি-৩ সমৃদ্ধ খাবার ভিটামিন বি-৩-এর উৎস প্রধানত দুই ধরনের—প্রাণিজ ও উদ্ভিজ্জ। প্রাণিজ উৎস মুরগির মাংস কলিজা রুই, কাতলা, ইলিশ, মাগুর ও ভেটকি মাছ ডিম উদ্ভিজ্জ উৎস চিনাবাদাম সূর্যমুখীর বীজ মাশরুম সবুজ মটরশুঁটি লাল চাল নারকেল কারা তুলনামূলকভাবে কম ঝুঁকিতে থাকেন? যাদের প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় পর্যাপ্ত পরিমাণে প্রোটিন বা আমিষজাতীয় খাবার থাকে, তাদের শরীরে সাধারণত ভিটামিন বি-৩-এর ঘাটতি কম দেখা যায়। কারণ প্রোটিনে থাকা ট্রিপটোফ্যান (Tryptophan) নামের একটি অ্যামিনো অ্যাসিডকে যকৃৎ সহজেই ভিটামিন বি-৩-এ রূপান্তর করতে পারে। ফলে শরীর স্বাভাবিকভাবেই নিয়াসিনের একটি অংশ তৈরি করে নিতে সক্ষম হয়। ভিটামিন বি-৩ শরীরের শক্তি উৎপাদন, হৃদযন্ত্রের সুরক্ষা, মস্তিষ্ক ও স্নায়ুতন্ত্রের কার্যকারিতা এবং ত্বকের সুস্থতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। যেহেতু শরীর এই ভিটামিন সঞ্চয় করে রাখতে পারে না, তাই প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় নিয়াসিনসমৃদ্ধ খাবার রাখা অত্যন্ত জরুরি। সুষম ও বৈচিত্র্যময় খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুললে অধিকাংশ মানুষ সহজেই দৈনিক ভিটামিন বি-৩-এর চাহিদা পূরণ করতে পারেন। তাই সুস্থ ও কর্মক্ষম জীবনযাপনের জন্য আজ থেকেই প্রতিদিনের খাবারের মেন্যুতে ভিটামিন বি-৩ সমৃদ্ধ খাদ্য অন্তর্ভুক্ত করার অভ্যাস গড়ে তুলুন।
ডিম আমাদের প্রতিদিনের খাদ্যতালিকার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও পুষ্টিকর উপাদান। তবে অনেক সময় একসঙ্গে কেনা ডিম দীর্ঘদিন ফ্রিজে সংরক্ষণ করার কারণে কিছু ডিম নষ্ট হয়ে যেতে পারে। আর রান্নার সময় যদি ভালো ডিমের সঙ্গে একটি নষ্ট ডিমও মিশে যায়, তাহলে পুরো খাবারই নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে। সুখবর হলো— খুব সহজ কয়েকটি উপায়ে ডিম ভাঙার আগেই বোঝা সম্ভব সেটি খাওয়ার উপযোগী কি না। চলুন জেনে নেওয়া যাক চারটি কার্যকর পরীক্ষা। ১. ডিমের খোসার রং ও গন্ধ লক্ষ্য করুন ফ্রিজ থেকে বের করার পর প্রথমেই ডিমের বাইরের অংশ ভালোভাবে দেখুন। সাধারণত সাদা ডিমের খোসা উজ্জ্বল ও স্বাভাবিক সাদা থাকে। যদি খোসায় অস্বাভাবিক গোলাপি বা বিবর্ণ আভা দেখা যায়, তবে সতর্ক হোন। ডিম ভাঙার পর যদি দুর্গন্ধ বা অস্বাভাবিক গন্ধ বের হয়, তাহলে সেটি কোনোভাবেই ব্যবহার করবেন না। পরামর্শ: এমন ডিম সঙ্গে সঙ্গে ফেলে দিন। ২. পানিতে ভাসিয়ে পরীক্ষা করুন এটি সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং নির্ভরযোগ্য পরীক্ষাগুলোর একটি। যেভাবে করবেন— একটি গভীর বাটিতে ঠান্ডা পানি নিয়ে ডিমটি আস্তে করে ডুবিয়ে দিন। ফলাফল— একেবারে নিচে ডুবে গেলে — ডিমটি টাটকা। নিচে দাঁড়িয়ে থাকলে বা মাঝামাঝি ভাসলে — ডিমটি কিছুটা পুরোনো, তবে সাধারণত খাওয়ার উপযোগী। সম্পূর্ণ ভেসে উঠলে — ডিমটি অনেক পুরোনো এবং নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। এটি ব্যবহার না করাই নিরাপদ। ৩. কানের কাছে নিয়ে ঝাঁকিয়ে দেখুন এটি একটি সহজ ও মজার কৌশল। ডিমটি কানের কাছে ধরে আস্তে আস্তে ঝাঁকান। যদি ভেতর থেকে তরল নড়াচড়ার শব্দ শোনা যায়, তাহলে ডিমটি অনেক পুরোনো বা নষ্ট হয়ে থাকতে পারে। যদি কোনো শব্দ না হয়, তাহলে ডিমটি সাধারণত ভালো অবস্থায় রয়েছে। ৪. ভেঙে কুসুম ও সাদা অংশ পরীক্ষা করুন ডিম ভাঙার পরও এর মান সহজেই বোঝা যায়। ভালো ডিমের বৈশিষ্ট্য— কুসুমটি গোল ও উঁচু থাকবে। সাদা অংশ ঘন হবে এবং কুসুমের চারপাশে লেগে থাকবে। নষ্ট বা অতিরিক্ত পুরোনো ডিমের লক্ষণ— কুসুম চ্যাপ্টা বা সহজেই ছড়িয়ে পড়ে। সাদা অংশ একেবারে পানির মতো পাতলা হয়ে যায়। দুর্গন্ধ থাকলে সেটি অবশ্যই ফেলে দিতে হবে। মনে রাখুন— ডিম কেনার পর যত দ্রুত সম্ভব ব্যবহার করার চেষ্টা করুন। ফ্রিজে নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় সংরক্ষণ করুন। ব্যবহার করার আগে প্রতিটি ডিম আলাদা পাত্রে ভেঙে নিলে পুরো রান্না নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি থাকে না। একটি নষ্ট ডিম পুরো রান্নার স্বাদ ও মান নষ্ট করে দিতে পারে। কিন্তু সামান্য সচেতনতা এবং এই চারটি সহজ পরীক্ষার মাধ্যমে খুব সহজেই ভালো ও নষ্ট ডিম আলাদা করা সম্ভব। তাই রান্নার আগে মাত্র কয়েক সেকেন্ড সময় নিয়ে ডিম পরীক্ষা করুন। এতে খাবারের অপচয় যেমন কমবে, তেমনি পরিবারও থাকবে নিরাপদ ও সুস্থ।
বাঙালির খাবারের পাত থেকে শাক যেন হারিয়ে যাওয়ার নয়। ভাতের সঙ্গে এক মুঠো শাক শুধু স্বাদই বাড়ায় না, শরীরের জন্যও বয়ে আনে নানা উপকার। প্রাচীনকাল থেকেই বাঙালির রান্নাঘরে থাকা বিভিন্ন শাক এখনো স্বাস্থ্যসচেতন মানুষের পছন্দের তালিকায় রয়েছে। লালশাক, পুঁইশাক, কলমিশাক, কচুশাক কিংবা পালংশাক—প্রতিটি শাকের রয়েছে আলাদা পুষ্টিগুণ। কারও মধ্যে রয়েছে রক্ত বাড়ানোর উপাদান, কেউ আবার হজমশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে। জেনে নেওয়া যাক কোন শাকে কী উপকার। পুঁই শাক: হজমে সহায়ক পুঁই শাকে রয়েছে প্রচুর পানি ও আঁশ। এটি কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতে সাহায্য করে। পাশাপাশি এতে ভিটামিন এ, ভিটামিন সি, ফলিক অ্যাসিড ও প্রোটিন রয়েছে। শাকভাজা, চচ্চড়ি বা সবজির সঙ্গে রান্না করে খাওয়া যায়। হেলেঞ্চা শাক: শরীর পরিষ্কারে উপকারী হেলেঞ্চা শাক রক্তের দূষিত পদার্থ দূর করতে এবং যকৃতের সুস্থতায় সহায়ক বলে পরিচিত। এটি বদহজম, বুকজ্বালা, কোষ্ঠকাঠিন্যসহ নানা সমস্যায় উপকারী হতে পারে। ভাজি বা বড়া করে খাওয়া যায় এই শাক। সরিষা শাক: রোগ প্রতিরোধে সহায়ক সরিষা শাকে রয়েছে ভিটামিন এ ও সি। এটি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। এতে থাকা সালফার শরীরের ক্ষতিকর পদার্থ দূর করতে এবং যকৃত ভালো রাখতে সহায়তা করে। কচু শাক: রক্ত ও চোখের জন্য ভালো কচুশাকে রয়েছে প্রচুর আয়রন, ভিটামিন এ ও ক্যালশিয়াম। এটি রক্তস্বল্পতা প্রতিরোধে এবং দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখতে উপকারী। নারকেল, ছোলা বা মাছের মাথা দিয়ে রান্না করা যায় এই শাক। কলমি শাক: সুগার নিয়ন্ত্রণে সহায়ক কলমি শাকে রয়েছে ভিটামিন সি, পটাশিয়াম, আয়রন, ক্যালশিয়ামসহ নানা পুষ্টি উপাদান। এটি হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে, হজমে সাহায্য করতে এবং রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে। লাল শাক: আয়রনের ভাণ্ডার লাল শাকে প্রচুর আয়রন, ফলেট, ক্যালশিয়াম এবং ভিটামিন এ ও সি রয়েছে। রক্তস্বল্পতা দূর করতে এটি উপকারী। ভাজি বা ডালের সঙ্গে রান্না করে খাওয়া যায়। মেথি শাক: ডায়াবেটিসে উপকারী মেথি শাকে রয়েছে আঁশ, আয়রন, ক্যালশিয়াম ও বিভিন্ন ভিটামিন। এটি রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সহায়ক বলে অনেকের কাছে জনপ্রিয়। অল্প তেলে রান্না করে খাওয়া ভালো। পালং শাক: শরীরের শক্তি বাড়ায় পালং শাকে রয়েছে আয়রন, ফলেট, ভিটামিন এ ও সি। বিশেষ করে রক্তস্বল্পতায় ভুগছেন এমন মানুষের জন্য এটি উপকারী হতে পারে। ঢেঁকি শাক: হৃদযন্ত্র ও চোখের যত্নে ঢেঁকি শাকে রয়েছে পটাশিয়াম, ভিটামিন এ ও সি। এটি উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে এবং হৃদযন্ত্র ভালো রাখতে সাহায্য করতে পারে। পাশাপাশি চোখের স্বাস্থ্যের জন্যও উপকারী। মুলা শাক: রোগ প্রতিরোধে সহায়ক মুলা শাকে রয়েছে ভিটামিন সি, আঁশ ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট। এটি হজমশক্তি বাড়ায়, কোষ্ঠকাঠিন্য কমায় এবং শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। কুমড়ো শাক: ত্বক ও চোখের জন্য ভালো কুমড়ো শাকে থাকা ভিটামিন এ ও সি চোখের দৃষ্টি ভালো রাখতে এবং ত্বক ও চুলের উজ্জ্বলতা ধরে রাখতে সাহায্য করে। এতে থাকা ক্যালশিয়াম ও ফসফরাস হাড় ও দাঁত শক্ত রাখে। লাউ শাক: হাড় মজবুত রাখতে সহায়ক লাউ শাকে রয়েছে ক্যালশিয়াম ও ম্যাগনেশিয়াম। নিয়মিত খাদ্যতালিকায় থাকলে এটি হাড় ও দাঁতের জন্য উপকারী হতে পারে। পাট শাক: হজমে সাহায্য করে পাট শাকে রয়েছে প্রচুর আঁশ, ভিটামিন সি ও আয়রন। এটি হজমশক্তি বাড়াতে, কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। শাক শুধু খাবারের স্বাদ বাড়ায় না, বরং শরীরের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টির উৎস। তবে যেকোনো খাবারের মতোই পরিমাণ বুঝে এবং পরিষ্কারভাবে রান্না করে খাওয়াই সবচেয়ে ভালো। নিয়মিত খাবারের তালিকায় বিভিন্ন ধরনের শাক রাখলে শরীর পেতে পারে নানা প্রয়োজনীয় পুষ্টি।
শরীরের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ হল লিভার। এটি খাদ্য হজমে সহায়তা এবং শরীরের রক্ত বিশুদ্ধ করে। লিভার শক্তিশালী হলে খাবার হজম করার ক্ষমতা বাড়ে। লিভারের সাহায্যে শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ দূর হয়। অনেক সময় লিভার আমাদের বর্তমান জীবনযাত্রার সাথে তাল মেলাতে পারে না, যার ফলে আমরা মাঝে মাঝে অলস এবং অসুস্থ বোধ করি। শরীরের ইন্দ্রিয় এবং শক্তির স্তরকে পুনরুজ্জীবিত করতে চাইলে লিভার ডিটক্স করা প্রয়োজন। প্রাকৃতিকভাবে লিভার পরিষ্কার করতে চাইলে কিছু টিপস অনুসরণ করতে পারেন। যেমন- রসুন খান রান্নাঘরে থাকা রসুন লিভার পরিষ্কার করতে সাহায্য করতে পারে। এটি ভিটামিন ও খনিজে ভরপুর এমন এক উপাদান যা এনজাইম সক্রিয় করতে পারে। এর ফলে শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ দূর করা সহজ হয়। এতে থাকা অ্যালিসিন এবং সেলেনিয়াম লিভারের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সহায়তা করে। শরীর থেকে দ্রুত বিষাক্ত পদার্থ বের করে দেওয়ার জন্য সপ্তাহে অন্তত এক কোয়া রসুন খাওয়ার চেষ্টা করুন অথবা রান্নায় ব্যবহার করুন। বিষাক্ত খাবার বাদ দিন আজকাল অনেকেই প্রক্রিয়াজাত খাবার খান। দীর্ঘদিন এ ধরনের খাবার খেলে শরীরের ভেতরে বিষাক্ত পদার্থ জমা হয়। স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের অভ্যাস না করলে লিভারের স্বাস্থ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। লেবু যোগ করুন শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ বের করতে চাইলে খাদ্যতালিকায় লেবুর মতো সাইট্রাস ফল যোগ করুন। এসব ফল ভিটামিন সি-এর অন্যতম সেরা উৎস। আপনার লিভারকে সক্রিয় করতে লেবু মেশানো পানি পান করুন। শরীর শোধনে প্রক্রিয়া এখান থেকেই শুরু হয়, কারণ লেবুর পানি আপনার শরীরের বিষাক্ত পদার্থগুলোকে সংশ্লেষণ করতে পারে, যাতে সেগুলো প্রস্রাবের মাধ্যমে বেরিয়ে যায়। পটাশিয়াম সমৃদ্ধ খাবার খান আমাদের সকলেরই প্রতিদিন ৪,৭০০ মিলিগ্রাম পটাশিয়ামের প্রয়োজন। সমস্যা হলো, আমরা যে ধরনের খাদ্যাভ্যাস অনুসরণ করি, তাতে প্রয়োজনীয় পরিমাণটুকু ঠিকমতো পূরণ হয় না। এর ফলে উচ্চ রক্তচাপ এবং কোলেস্টেরলের মাত্রা বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। এটি লিভারের ঠিকমতো কাজ করতে না পারারও একটি কারণ। এ কারণে আপনার খাদ্যতালিকায় পটাশিয়ামে সমৃদ্ধ খাবার কলা, মিষ্টি আলু, শিম এবং পালং শাক যোগ করুন। ক্রুসিফেরাস সবজি গুরুত্বপূর্ণ লিভার পরিষ্কার করার জন্য আরেকটি পদক্ষেপ হলো খাদ্যতালিকায় আরও বেশি ক্রুসিফেরাস সবজি যোগ করা, কারণ এগুলো লিভারের এনজাইমগুলোকে উদ্দীপিত করে খাবার ভাঙতে এবং এর সাথে শরীরে ঢোকা বিষাক্ত পদার্থ অপসারণ করতে সাহায্য করে। ব্রকলি এবং ফুলকপি হলো দুটি সেরা ক্রুসিফেরাস সবজি যা লিভারকে পরিষ্কার রাখতে ভূমিকা রাখে। সূত্র: হেলদি বিল্ডার্স
অস্বাস্থ্যকর খাবার, শারীরিক কসরত না করা, অতিরিক্ত মদ্যপান এবং অনিয়মিত জীবনযাত্রার কারণে ফ্যাটি লিভার বা লিভার সিরোসিসের মতো মারাত্মক রোগ শরীরে বাসা বাঁধছে। রক্তে শর্করার ভারসাম্য বজায় রাখা, হজমে সাহায্য করা এবং শরীর থেকে টক্সিন বা বিষাক্ত পদার্থ ছেঁকে বের করার মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো লিভার প্রতিদিন করে থাকে। সকালে উঠে মোবাইল নিয়ে সময় নষ্ট না করে মাত্র ৫টি সহজ অভ্যাস রপ্ত করলেই লিভারকে আজীবন সুস্থ ও সতেজ রাখা সম্ভব। পুষ্টিবিদ ও চিকিৎসকদের মতে, লিভার ভালো রাখতে সকালের শুরুটা হওয়া চাই নিয়মতান্ত্রিক। চলুন, জেনে নিই নিয়মগুলো কী। দিনের শুরু হোক হালকা গরম পানি দিয়ে ঘুম থেকে উঠেই এক গ্লাস হালকা গরম পানি খাওয়ার অভ্যাস করুন। দীর্ঘ সময় পর শরীরে পানির ঘাটতি পূরণ করার পাশাপাশি এটি পরিপাকতন্ত্র সচল করে এবং লিভারের ওপর বাড়তি চাপ পড়তে দেয় না। লেবু-পানিকে ‘না’ বলুন অনেকে লিভার ডিটক্স করার জন্য খালি পেটে লেবু-পানি বা অ্যাপেল সাইডার ভিনিগার খান। তবে পুষ্টিবিদরা সতর্ক করে বলছেন, সবার শরীরে এটি সহ্য হয় না। অনেকের ক্ষেত্রে এর ফলে বুক জ্বালা, গ্যাস বা অ্যাসিডের সমস্যা হতে পারে। তাই শুধু গরম পানি পান করাই যথেষ্ট। সময়মতো সকালের নাস্তা ব্যস্ততার কারণে অনেকেই সকালে না খেয়ে বাড়ি থেকে বের হন কিংবা বেলা করে নাস্তা করেন। এই অভ্যাস লিভারের মারাত্মক ক্ষতি করে। ঘুম থেকে ওঠার ২ থেকে ৩ ঘণ্টার মধ্যে সকালের নাস্তা সেরে ফেলা উচিত। বেশি সময় খালি পেটে থাকলে রক্তে সুগারের মাত্রা বাড়ে, যা সামলাতে লিভারকে দ্বিগুণ খাটতে হয়। খালি পেটে চা-কফি পরিহার সকালে উঠেই খালি পেটে চা বা কফি খাওয়ার অভ্যাস অনেকেরই আছে। এটি হজমপ্রক্রিয়া নষ্ট করে এবং গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা বাড়ায়, যা পরোক্ষভাবে লিভারের ক্ষতি করে। তাই সকালে গরম পানি খাওয়ার পর হালকা কিছু মুখে দিয়ে তবেই চা-কফি খাওয়া উচিত। সকালের শুরু হোক শান্ত মনে অতিরিক্ত মানসিক চাপ বা স্ট্রেসের সরাসরি প্রভাব পড়ে লিভারের ওপর। ঘুম থেকে উঠেই ফোনে অফিসের মেইল বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ঘাটলে স্ট্রেস হরমোন বেড়ে যায়। তাই দিনের শুরুতে তাড়াহুড়ো না করে কিছুটা সময় শ্বাসের ব্যায়াম বা যোগাসন করুন, যাতে মন শান্ত থাকে। পরামর্শ চিকিৎসকদের মতে, বড়দের পাশাপাশি শিশুদের মধ্যেও ছোটবেলা থেকে এই সুস্থ জীবনশৈলীর অভ্যাস গড়ে তোলা উচিত। তবেই ভবিষ্যৎ প্রজন্মের লিভারের অসুখে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি কমবে। সূত্র : আনন্দবাজার
ওজন কমানোর জার্নিতে অনেকেই যে ভুলটি সবচেয়ে বেশি করেন, তা হলো রাতের খাবার বা ডিনার পুরোপুরি বাদ দেওয়া। ভাবেন, না খেয়ে থাকলেই বুঝি দ্রুত মেদ ঝরবে! চিকিৎসাবিজ্ঞান কিন্তু বলছে ভিন্ন কথা। রাতের খাবার একদম বন্ধ করে দিলে শরীরের মেটাবলিজম বা বিপাক প্রক্রিয়া ধীর হয়ে যায়, যা ওজন কমানোর প্রক্রিয়াকে আরও কঠিন করে তোলে। আসল রহস্য লুকিয়ে আছে না খেয়ে থাকায় নয়, বরং সঠিক খাবার বেছে নেওয়ায়। রাতে এমন কিছু খাবার খাওয়া উচিত যা একদিকে ক্যালোরিতে কম, অন্যদিকে দীর্ঘক্ষণ পেট ভরিয়ে রাখতে সাহায্য করবে। চলুন জেনে নেওয়া যাক, রাতের খাবারের তালিকায় কোন তিনটি খাবার রাখলে ক্ষুধার কষ্ট ছাড়াই ওজন কমানো সম্ভব— দই দই প্রোটিনসমৃদ্ধ এবং হজমে সহায়ক। বিশেষ করে চিনি ছাড়া টক দই রাতে খেলে দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা থাকে এবং অপ্রয়োজনীয় ক্ষুধা কমে। এতে থাকা প্রোবায়োটিক অন্ত্রের স্বাস্থ্যও ভালো রাখে। সেদ্ধ ডিম ডিম উচ্চমানের প্রোটিনের উৎস। রাতে একটি বা দুটি সেদ্ধ ডিম খেলে সহজেই ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। এটি শরীরের পেশি গঠনে সাহায্য করে এবং অতিরিক্ত ক্যালোরি গ্রহণের প্রবণতা কমায়। সবজি স্যুপ কম ক্যালোরি ও বেশি পুষ্টিগুণের কারণে সবজি স্যুপ ওজন কমানোর জন্য দারুণ একটি খাবার। গাজর, লাউ, ব্রকলি, টমেটো বা অন্যান্য সবজি দিয়ে তৈরি স্যুপ শরীরকে হাইড্রেটেড রাখে এবং পেট ভরিয়ে দেয়। পরামর্শ- রাতে অতিরিক্ত ভাজাপোড়া ও মিষ্টিজাতীয় খাবার এড়িয়ে চলুন। ঘুমানোর অন্তত ২ থেকে ৩ ঘণ্টা আগে রাতের খাবার খেয়ে নিন। পর্যাপ্ত পানি পান করুন। নিয়মিত ব্যায়াম ও স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখুন।
তাপমাত্রা ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছালে তা মানুষের হার্ট, কিডনি ও মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতার ওপর মারাত্মক এবং দীর্ঘমেয়াদি ‘নীরব ক্ষতি’ সৃষ্টি করে। এই চরম আবহাওয়ায় দীর্ঘ সময় থাকলে কোনো দৃশ্যমান লক্ষণ ছাড়াই শরীরের অভ্যন্তরীণ অঙ্গপ্রত্যঙ্গগুলো বিকল হতে শুরু করে। তীব্র গরমে শরীরের গুরুত্বপূর্ণ তিনটি অঙ্গ যেভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যা নীরব ঘাতকের রূপ ধারণ করে। আগে গ্রীষ্ম অবকাশ বলে টানা এক মাস ছুটি থাকত স্কুল। গরমের দাপট বাড়লে সেই ছুটির মেয়াদ আরও সপ্তাহখানেক চলত। কিন্তু এখন নিয়ম পাল্টে গেছে। গত কয়েক দশক ধরে গ্রীষ্মকালে তাপপ্রবাহ নির্দিষ্ট কোনো মাসে আবদ্ধ নেই। দিনের পর দিন গরম যেভাবে তার রেকর্ড গড়ছে, তাতে অদূর ভবিষ্যতে মারাত্মক জীবনঝুঁকিতে ফেলবে ফলে হিটস্ট্রোক দেখা দেবে। এ বিষয়ে চিকিৎসকরা বলছেন, দিনের পর দিন যে পরিমাণ গরম সহ্য করতে করতে মানুষের শরীরের অভ্যন্তরীণ অঙ্গগুলোর দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি হচ্ছে। শরীর সেই ধকল কাটিয়ে ওঠার জন্য পর্যাপ্ত সময়ও পাচ্ছে না। একটানা এ পরিমাণ গরমের সংস্পর্শে থাকলে মানুষের হৃদযন্ত্র, কিডনি, মস্তিষ্ক এবং পরিপাকতন্ত্র মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে বয়সভেদে ঝুঁকির ধরন আলাদা। মানবদেহের নিজস্ব কিছু মেকানিজম রয়েছে। গরম বাড়লে সে নিজেকে ঠান্ডা করার জন্য অতিরিক্ত ঘাম উৎপন্ন করে এবং রক্ত সঞ্চালনের গতি বাড়িয়ে দেয়। ফলে শরীরে তরল ও ইলেক্ট্রোলাইটের ঘাটতি, ক্লান্তি, মাথাব্যথা এবং চরম অবসাদ তৈরি হয়। সে জন্য প্রবল গরমের মধ্যে শুধু পানি খেলে শরীর পুরোপুরি সুরক্ষিত থাকে না। কারণ ঘামের সঙ্গে শরীর থেকে প্রচুর লবণ ও প্রয়োজনীয় খনিজ বেরিয়ে যায়। তাই ওআরএস, ডাবের পানি, লবণ-চিনির পানি, ঘোল কিংবা বাটারমিল্ক এবং পুদিনাপাতা বা লেবু ইনফিউজড ওয়াটার নিয়মিত খেতে হবে। ঘরের তাপমাত্রা খুব বেশি হলে শুধু ফ্যান চালিয়ে লাভ হয় না। সে ক্ষেত্রে ঘরের ভেন্টিলেশন কিংবা বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা ঠিক রাখতে হয়। শরীর অতিরিক্ত গরম মনে হলে ঘাড়, হাত-পা এবং বুকে ঠান্ডা পানি দিয়ে স্পঞ্জ করা যেতে পারে। আর একটানা রোদে ঘোরাঘুরি বা অতিরিক্ত গরমে কাজ করার ফলে শরীরে বারবার ডিহাইড্রেশন কিংবা পানির ঘাটতি দেখা দেয়। ফলে রক্তে টক্সিন বা বর্জ্য পদার্থের ঘনত্ব বেড়ে যায় এবং কিডনি তার স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা হারাতে শুরু করে। চিকিৎসকরা বলছেন, অতিরিক্ত গরমের কারণে পেশি নষ্ট হয়ে যায়, লিভারের ওপর চাপ পড়ে এবং রক্তে বিপজ্জনক ইলেক্ট্রোলাইট ইমব্যালেন্সও দেখা দেয়। তীব্র গরমের মধ্যে থাকা শ্রমিক ও চাকরিজীবীদের মধ্যে এখন কিডনিতে পাথর এবং ক্রনিক কিডনি ডিজিজ আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। নিজেকে ঠান্ডা রাখতে শরীর রক্তপ্রবাহকে ত্বকের দিকে পাঠাতে চেষ্টা করে। তখন হার্টকে স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি পাম্প করতে হয়। সে কারণে হৃদস্পন্দনের গতি বা হার্ট রেট স্বাভাবিকের চেয়ে অনেকটা বেড়ে যায়। মাসের পর মাস এ অবস্থা চলতে থাকলে কার্ডিওভাসকুলার সিস্টেম বা সংবহনতন্ত্রের ওপর প্রচণ্ড চাপ পড়ে, যা পরবর্তীকালে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়িয়ে তোলে। আবার তীব্র গরমের মধ্যেও যদি কোনো ব্যক্তির ঘাম না হয়, তবে বুঝতে হবে— শরীরের নিজস্ব কুলিং সিস্টেম পুরোপুরি বিকল হয়ে গেছে এবং ওই ব্যক্তি হিটস্ট্রোকের শিকার হতে পারেন। মানুষের শরীর রাতের ঘুমের সময় স্বাভাবিক নিয়মেই নিজেকে ঠান্ডা করে এবং ব্রেন ও হরমোন নেটওয়ার্ককে পুনরুজ্জীবিত করে। কিন্তু রাতের তাপমাত্রা বেশি থাকলে ঘুমের ব্যাঘাত ঘটে, যা মেলাটোনিন হরমোনের উৎপাদন কমিয়ে দেয়। এর ফলে মনোযোগের অভাব, ভুলে যাওয়া, উদ্বেগ, খিটখিটে মেজাজ এবং মানসিক অবসাদ দেখা দেয়। শিশু ও কিশোরদের ক্ষেত্রে ভিন্ন লক্ষণ দেখা যায়। শিশুদের শরীর বড়দের তুলনায় দ্রুত গরম হয় এবং তারা প্রচণ্ড ঘামে। ফলে দ্রুত ডিহাইড্রেশনের শিকার হয়। অতিরিক্ত ক্লান্তি, খিটখিটে ভাব, প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যাওয়া, খাওয়ার অনিচ্ছা ও অলসতা। নবজাতকদের ক্ষেত্রে চোখ বসে যাওয়া, কান্নার সময় চোখ দিয়ে পানি না পড়া বা শরীর অতিরিক্ত গরম কিন্তু ত্বক শুকনো থাকা অত্যন্ত বিপজ্জনক লক্ষণ। আর বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা কমে যায়। তাই ৪৫ ডিগ্রি গরমে প্রবীণদের স্ট্রোক, হার্ট অ্যাটাক এবং অ্যারিদমিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে সবচেয়ে বেশি। ডিমেনশিয়া বা স্নায়ুরোগে আক্রান্ত প্রবীণরা অনেক সময় তৃষ্ণা অনুভব করার ক্ষমতাও হারিয়ে ফেলেন। হঠাৎ বিভ্রান্তি, অসংলগ্ন কথাবার্তা, দ্রুত শ্বাস-প্রশ্বাস বা হ্যালুসিনেশনও হতে পারে।
সারাদিন রোজা রাখার পর সারা বিশ্বের কোটি রোজদার খেজুর দিয়ে রোজা ভাঙেন। এটি ইফতারের অন্যতম প্রধান উপকরণ। মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)–এর সময় থেকেই খেজুর দিয়ে ইফতারের প্রচলন রয়েছে। মহানবী (সা.) নিজে খেজুর ও পানি দিয়ে ইফতার করতেন। ধর্মীয় তাৎপর্যের পাশাপাশি খেজুরের পুষ্টিগুণও গুরুত্বপূর্ণ। এটি মানবদেহের জন্য খুবই উপকারী। বিশেষজ্ঞদের মতে, রোজা ভাঙার পর শরীর তাৎক্ষণিকভাবে গ্লুকোজ তৈরির চেষ্টা করে, কারণ শরীরে জ্বালানি হিসেবে এটির প্রয়োজন হয়। খেজুরে প্রচুর পরিমাণে চিনি থাকায় অন্যান্য খাবারের তুলনায় রক্তে শর্করার মাত্রা অনেক দ্রুত বৃদ্ধি করে। খেজুরে শর্করা এবং জটিল কার্বোহাইড্রেট থাকায় এই ফলটি শরীরকে প্রচুর পরিমাণে শক্তি সরবরাহ করে। যারা দীর্ঘ সময় ধরে কিছু না খেয়ে থাকেন তাদের জন্য এটি আদর্শ। খেজুর ভিটামিন এ, কে, বি৬ এবং আয়রনে সমৃদ্ধ। এছাড়া অল্প সময়ের মধ্যে শরীরকে প্রয়োজনীয় সমস্ত পুষ্টি সরবরাহ করতেও সহায়তা করে এই ফল। পুষ্টিবিদদের মতে, খেজুর একটি শুকনো ফল হলেও, এটি মানুষের শরীরকে হাইড্রেটেড রাখতে সাহায্য করে। সারা দিন পানি না খাওয়ার ফলে শরীরে যে ঘাটতি থাকে, তা পূরণ করে। প্রাকৃতিকভাবেই এতে ইলেক্ট্রোলাইট পটাসিয়াম থাকে, যা পানির জন্য চুম্বকের মতো কাজ করে, শরীরের কোষগুলোকে পানিতে পরিপূর্ণ করে তোলে। রোজাদারদের অনেকেই কোষ্ঠকাঠিন্য এবং পেট ফাঁপার সমস্যায় ভোগেন। খেজুর ফাইবারের একটি চমৎকার উৎস, যা শরীরের বর্জ্য পদার্থকে অন্ত্রের মধ্য দিয়ে আরও সহজে বেরিয়ে যেতে সাহায্য করে। সেই সঙ্গে হজমে সহায়তা করে।
আমাদের শরীরের বিষাক্ত পদার্থ বের করে দেওয়া এবং খাবার হজমে লিভারের ভূমিকা অপরিসীম। কিন্তু ভুল জীবনযাপন আর অস্বাস্থ্যকর খাবারের কারণে বর্তমানে ফ্যাটি লিভারের সমস্যা অনেক বেড়ে গেছে। শুরুর দিকে এর কোনো লক্ষণ বোঝা যায় না বলে একে নিঃশব্দ ঘাতকও বলা হয়। চলুন, জেনে নিই লিভার সুস্থ রাখতে যেসব খাবার উপকারী। ব্ল্যাক কফি চিনি ছাড়া ব্ল্যাক কফি লিভারে চর্বি জমতে বাধা দেয় এবং প্রদাহ কমায়। এটি লিভারের রোগ প্রতিরোধে বেশ কার্যকর। ব্লুবেরি ব্লুবেরিতে থাকা বিশেষ উপাদান লিভারের কোষের ক্ষতি হওয়া আটকায় এবং ফোলা ভাব কমাতে সাহায্য করে। আমলকি প্রতিদিন অন্তত দুটি আমলকি খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন বিশেষজ্ঞরা।এর ভিটামিন-সি লিভারকে সচল রাখে এবং ভেতর থেকে পরিষ্কার করে। অ্যাভোকাডো এতে থাকা শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট লিভারের নষ্ট হয়ে যাওয়া কোষ মেরামত করে নতুন কোষ তৈরিতে সাহায্য করে। হলুদ ও গোলমরিচ হলুদের সঙ্গে সামান্য গোলমরিচ মিশিয়ে খেলে তা লিভারের জন্য মহৌষধ হিসেবে কাজ করে। এটি লিভারের ভেতরের প্রদাহ দ্রুত কমায়। সুস্থ থাকার বাড়তি টিপস: ব্যায়াম: নিয়মিত শরীরচর্চা করতে হবে। ঘুম: পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুমানো জরুরি। চিনি বর্জন: খাবারে চিনির পরিমাণ কমিয়ে দিন। সমস্যা গুরুতর মনে হলে অবশ্যই অভিজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। সূত্র : এবিপি
ঈদের আনন্দ, ভালোবাসা ও ঐতিহ্যের গল্পকে আরও রঙিন করে তুলতে দেশের ফ্যাশন ব্র্যান্ড ‘ভারগো’ নিয়ে এসেছে ‘ঈদ কালেকশন ২০২৬’। এবারের আয়োজনে উৎসবের প্রাণের সঙ্গে সমসাময়িক ফ্যাশনের এক অপূর্ব মেলবন্ধন ঘটানো হয়েছে। আরাম ও স্টাইলের নিখুঁত ভারসাম্য নিশ্চিত করতে প্রতিটি পোশাকে ব্যবহার করা হয়েছে প্রিমিয়াম মানের ফেব্রিক ও নান্দনিক নকশা। ফ্যাশন কেবল ট্রেন্ড নয়, এটি শেকড়, সংস্কৃতি ও ব্যক্তিত্বেরও প্রকাশ। সেই ভাবনা থেকেই মেয়েদের জন্য ভারগো এনেছে জর্জেট ফেব্রিকের ওপর আভিজাত্যপূর্ণ কারচুপি ও এমব্রয়ডারি করা সালোয়ার কামিজ, টু-পিস, কো-অর্ড সেট, কুর্তি, টপস ও টিউনিক। উৎসবের ভিড়ে স্বাচ্ছন্দ্যে চলাফেরার জন্য ডিজিটাল প্রিন্টেড ও ভিসকস ফেব্রিকের কামিজ এবং রিলাক্স প্যান্টেরও দারুণ কালেকশন থাকছে এবার। ছেলেদের ঈদ আয়োজনে প্রাধান্য পেয়েছে কটন ও ব্যাম্বু ফেব্রিকের তৈরি ইউনিক এমব্রয়ডারি করা প্রিমিয়াম ও ক্যাজুয়াল পাঞ্জাবি, কাবলি সেট এবং কটি। পাশাপাশি ভার্সেটাইল স্টাইলিংয়ের জন্য ১০০% সুতির ক্যাজুয়াল, ফরমাল, পোলো ও টি-শার্টের সঙ্গে থাকছে আরামদায়ক ডেনিম, চিনোস ও রিলাক্স প্যান্টের নানা রঙের অপশন। ঈদের আনন্দে শিশুদের জন্য ভারগো সাজিয়েছে স্টাইলিশ ডিজাইনের পাঞ্জাবি, শার্ট, টি-শার্ট, সালোয়ার কামিজ, টু-পিস, কুর্তি ও ফ্রকের এক সমৃদ্ধ সম্ভার। এই আয়োজনের অন্যতম বড় আকর্ষণ হিসেবে এবার অন্যান্য পোশাকের পাশাপাশি ভারগোর স্পেশাল ‘নিউবর্ন’ বা নবজাতক কালেকশনও পাওয়া যাবে। নান্দনিক এসব পোশাক পাওয়া যাচ্ছে রাজধানী ঢাকার উত্তরা, মোহাম্মদপুর, হাসনাবাদ, বসুন্ধরা সিটির (দুটি শাখা) পাশাপাশি খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম (হালিশহর ও কোহিনূর মিরিডিয়ান সিটি), ফেনী, বগুড়া, নরসিংদী, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ ও নওগাঁসহ ভারগোর সকল স্টোরে। এ ছাড়া ঘরে বসেই অনলাইনে তাদের এই ঈদ কালেকশন কেনার সুযোগ রয়েছে।
রমজান এলেই ইফতারের টেবিলে এক গ্লাস ঠান্ডা শরবত যেন অপরিহার্য। আর সেই শরবতের প্রধান উপাদান লেবু। কিন্তু মৌসুমের শুরুতেই যখন প্রতি পিস লেবুর দাম ২৫ থেকে ৩০ টাকায় ওঠে, তখন অনেক পরিবারের জন্য এটি বাড়তি চাপ হয়ে দাঁড়ায়। প্রতিদিনের ইফতারে লেবু ব্যবহার তখন প্রায় বিলাসিতা। তবে লেবু না থাকলেই ইফতার অসম্পূর্ণ—এ ধারণা ঠিক নয়। একটু পরিকল্পনা করলেই পুষ্টি ও স্বাদের ঘাটতি ছাড়াই মিলতে পারে সাশ্রয়ী বিকল্প। তেঁতুল তেঁতুল দিয়ে তৈরি শরবত বা চাটনি ইফতারে দারুণ মানিয়ে যায়। এতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও হালকা ল্যাক্সেটিভ উপাদান হজমে সহায়ক। ছোলা বা মুড়ির মিশ্রণেও তেঁতুলের টক-মিষ্টি স্বাদ আনা যায়। টমেটো টমেটো সালাদ, স্যুপ বা চাটে টক স্বাদ যোগ করতে পারে। এতে ভিটামিন সি ও লাইকোপেন আছে, যা রোগ প্রতিরোধে সহায়ক। কমলালেবু বা মাল্টা কমলালেবু বা মাল্টা দিয়ে শরবত তৈরি করলে স্বাদে ভিন্নতা আসে। একটি ফল দিয়েই কয়েকজনের জন্য পানীয় বানানো সম্ভব। দই দই হতে পারে সবচেয়ে পুষ্টিকর বিকল্প। প্রোবায়োটিকসমৃদ্ধ দই হজমে আরাম দেয়। টক দইয়ের লাচ্ছি, চাট, বোরহানি বা ঘোল ইফতারে প্রশান্তি আনে। এছাড়া মৌসুমি আনারস, বেল কিংবা কাঁচা আম দিয়েও তৈরি করা যায় সুস্বাদু শরবত। কাঁচা আমে ভিটামিন সি আছে, যা ক্লান্তি কমাতে ও গরমে স্বস্তি দিতে সহায়ক। মনে রাখতে হবে, ভিটামিন সি শুধু লেবুতেই সীমাবদ্ধ নয়; পেয়ারা, কাঁচা আম, কমলালেবু এমনকি কাঁচা মরিচেও এটি পাওয়া যায়। তাই লেবুর দাম বাড়লেও পুষ্টির ঘাটতি হওয়ার আশঙ্কা নেই। বরং বৈচিত্র্য আনলে ইফতার হতে পারে আরও স্বাস্থ্যকর ও সৃজনশীল। রমজান সংযমের মাস। তাই বাজারদরের চাপকে পাশ কাটিয়ে বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে বিকল্প বেছে নিলেই ইফতারের স্বাদ ও স্বস্তি দুটোই বজায় রাখা সম্ভব।
রমজানের কয়েক দিন যেতেই অনেকের সাধারণ অভিযোগ— সারা দিন ভালো থাকলেও ইফতারের পর শরীর ভীষণ ভারী হয়ে আসে, চোখে ঘুম নামে আর পেটে অস্বস্তি শুরু হয়। অনেকেই একে রোজার ক্লান্তি মনে করেন, কিন্তু চিকিৎসাবিজ্ঞানের মতে, এর আসল কারণ আমাদের অন্ত্র বা গাট হেলথের ভারসাম্যহীনতা। আমাদের পরিপাকতন্ত্রে কোটি কোটি উপকারী ব্যাকটেরিয়া থাকে, যাদের বলা হয় গাট মাইক্রোবায়োটা। এরা শুধু খাবার হজমই করে না, শরীরের ৭০ শতাংশ রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতাও নিয়ন্ত্রণ করে।এই ব্যাকটেরিয়ার ভারসাম্য নষ্ট হলেই পেট ফাঁপা, এসিডিটি বা ক্লান্তির মতো সমস্যা দেখা দেয়। কেন ইফতারের পর শরীর খারাপ লাগে? সারা দিন বিরতির পর ইফতারে যখন আমরা একসাথে অনেক ভাজাপোড়া, মিষ্টি বা ভারী খাবার খাই, তখন পাকস্থলী হঠাৎ চাপে পড়ে যায়। দ্রুত খাবার খাওয়ার ফলে অন্ত্রে খাবার স্বাভাবিকভাবে হজম না হয়ে গ্যাস ও প্রদাহ তৈরি করে। ফলে পেট শক্ত হয়ে যায় এবং শরীর নিস্তেজ লাগে।পেটের উপকারী ব্যাকটেরিয়া কমে গেলে শরীর খাবার থেকে শক্তি সংগ্রহ করতে পারে না। ফলে পেট ভরে খেয়েও আপনি দুর্বল বোধ করেন। রোজা কি শরীরের ক্ষতি করে? না, বরং রোজা অন্ত্রের জন্য একটি ক্লিনিং প্রসেস বা পরিষ্কার অভিযান। দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকায় অন্ত্র বাড়তি ব্যাকটেরিয়া ও জমে থাকা খাদ্যকণা সরিয়ে নিজেকে সতেজ করার সুযোগ পায়।কিন্তু ভুল খাদ্যাভ্যাস এই সুযোগকে নষ্ট করে দেয়। সুস্থ থাকার ৫টি সহজ উপায় ১। ধীরগতিতে শুরু : খেজুর ও পানি দিয়ে ইফতার শুরু করে কিছুক্ষণ বিরতি দিন। একবারে বেশি খাবেন না। ২।হালকা খাবার : শুরুতে স্যুপ বা ফলজাতীয় হালকা খাবার বেছে নিন। ভাজাপোড়া যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলুন। ৩। প্রোবায়োটিক যুক্ত করুন : দই বা এ জাতীয় খাবার অন্ত্রের উপকারী ব্যাকটেরিয়া বাড়াতে সাহায্য করে। ৪। সাহরিতে সচেতনতা : সাহরিতে আঁশযুক্ত খাবার (শাকসবজি, লাল চাল) এবং পর্যাপ্ত পানি পান করুন। ৫। মনোযোগ দিয়ে চিবিয়ে খাওয়া : খাবার ভালো করে চিবিয়ে খেলে হজমের কষ্ট অর্ধেক কমে যায়। রমজান শরীরকে নতুন করে গুছিয়ে নেওয়ার একটি সুযোগ। একটু সচেতন হয়ে অন্ত্রের যত্ন নিলে রোজা হবে ক্লান্তির বদলে প্রাণবন্ত ও স্বস্তিদায়ক।
রমজান এলেই ইফতারের টেবিলে ছোলার উপস্থিতি প্রায় অবধারিত। সারাদিন রোজা রাখার পর পুষ্টিকর খাবার হিসেবে অনেকেই ভরসা রাখেন এই সহজলভ্য ডালজাতীয় খাদ্যের ওপর। তবে প্রশ্ন থেকে যায়—ভিজিয়ে কাঁচা ছোলা খাওয়া ভালো, নাকি সেদ্ধ করে? কোনটিতে পুষ্টিগুণ বেশি? পুষ্টিবিদরা বলছেন, দুইভাবেই ছোলা খাওয়া উপকারী, তবে শরীরের অবস্থা ও হজমক্ষমতার কথা ভেবে পদ্ধতি বেছে নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। সম্প্রতি ইমিউনস সাইন্সের এক প্রতিবেদনে ওঠে আসে এ তথ্য। প্রতিবেদনে বলা হয়, ছোলা পুষ্টিগুণে ভরপুর একটি ডালজাতীয় খাদ্য। এতে রয়েছে উচ্চমাত্রার প্রোটিন, ডায়েটারি ফাইবার, ভিটামিন বি-কমপ্লেক্স এবং আয়রন ও ম্যাগনেসিয়ামের মতো গুরুত্বপূর্ণ খনিজ। এসব উপাদান শরীরের শক্তি জোগায়, পেশি গঠনে সাহায্য করে এবং সামগ্রিক স্বাস্থ্যের উন্নতিতে ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে ছোলার উচ্চ ফাইবার উপাদান রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সহায়ক। পুষ্টিবিদদের মতে, ফাইবার হজম প্রক্রিয়াকে ধীর করে দেয়। ফলে গ্লুকোজ ধীরে ধীরে রক্তে প্রবেশ করে এবং হঠাৎ শর্করা বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি কমে। এ কারণে টাইপ-২ ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য ছোলা একটি উপকারী খাদ্য হিসেবে বিবেচিত। এ ছাড়া ছোলা দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখে, যা অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা কমায় এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। নিয়মিত ছোলা খেলে খারাপ কোলেস্টেরল কমাতেও ভূমিকা রাখতে পারে বলে জানান বিশেষজ্ঞরা। চলুন জেনে নেওয়া যাক কাঁচা (ভিজানো) ছোলা কীভাবে খাবেন পুষ্টিবিদদের মতে, কাঁচা ছোলা সরাসরি খাওয়া ঠিক নয়। এতে হজমের সমস্যা বা পেটে অস্বস্তি হতে পারে। তাই ছোলা খাওয়ার আগে তা অন্তত ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা, অথবা সারারাত পানিতে ভিজিয়ে রাখা উচিত। এতে ছোলা নরম হয় এবং হজম করাও সহজ হয়। ভিজিয়ে রাখা ছোলা নরম হলে চাইলে এর খোসা ছাড়ানো যায়। এরপর এতে লবণ, কাঁচা মরিচ, লেবুর রস বা শসা মিশিয়ে সহজেই একটি পুষ্টিকর সালাদ তৈরি করা যায়। এভাবে খেলে স্বাদ যেমন বাড়ে, তেমনি শরীরও পায় প্রয়োজনীয় পুষ্টি। আপনি কী জানেন কাঁচা ছোলা খাওয়ার উপকারিতা কী? ভিজিয়ে রাখা ছোলায় ফাইবার ও প্রোটিনের মাত্রা অক্ষুণ্ণ থাকে, যা শরীরের জন্য অত্যন্ত উপকারী। এটি দ্রুত শক্তি জোগায় এবং দীর্ঘ সময় পেট ভরা অনুভূতি দেয়। ফলে অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা কমে এবং ওজন নিয়ন্ত্রণেও সহায়তা করে। তবে সবার ক্ষেত্রে ভিজানো ছোলা সমানভাবে সহনীয় নাও হতে পারে। কারও কারও ক্ষেত্রে এটি খেলে পেট ফাঁপা বা গ্যাসের সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই যাদের হজমজনিত সমস্যা আছে, তাদের জন্য পরিমাণ বুঝে খাওয়াই ভালো। চলুন জেনে নেওয়া যাক সেদ্ধ ছোলা কীভাবে খাবেন- ছোলা খাওয়ার আরেকটি সহজ ও স্বাস্থ্যকর উপায় হলো ভিজিয়ে রেখে সেদ্ধ করে নেওয়া। এতে ছোলা নরম হয় এবং হজম করতেও সুবিধা হয়। সেদ্ধ করার সময় অল্প লবণ ও সামান্য হলুদ ব্যবহার করলে স্বাদ যেমন বাড়ে, তেমনি হজমেও সহায়ক হয়। সেদ্ধ ছোলা দিয়ে সহজেই পুষ্টিকর সালাদ তৈরি করা যায়। এতে পেঁয়াজ, টমেটো, শসা, ধনেপাতা ও লেবুর রস মিশিয়ে নিলে স্বাদ বাড়ার পাশাপাশি পুষ্টিমানও বৃদ্ধি পায়। এভাবে খেলে এটি ইফতারের টেবিলে স্বাস্থ্যকর ও তৃপ্তিদায়ক একটি পদ হয়ে উঠতে পারে। আপনি কী জানেন সেদ্ধ ছোলা খাওয়ার উপকারিতা কী? সেদ্ধ ছোলা হজমের দিক থেকে তুলনামূলকভাবে বেশি নিরাপদ। ভিজিয়ে সিদ্ধ করার ফলে ছোলার দানাগুলো নরম হয়ে যায়, যা পেটের জন্য সহজপাচ্য হয়। এতে গ্যাস্ট্রিক বা পেট ফাঁপার ঝুঁকিও কম থাকে। বিশেষ করে যাদের হজমের সমস্যা আছে বা কাঁচা ভিজানো ছোলা খেলে অস্বস্তি হয়, তাদের জন্য সেদ্ধ ছোলা নিরাপদ ও উপযোগী একটি বিকল্প হতে পারে। নিয়মিত পরিমিত পরিমাণে সেদ্ধ ছোলা খেলে পুষ্টি পাওয়া যায়, আবার হজমের সমস্যার আশঙ্কাও কম থাকে। সবশেষে পুষ্টিবিদরা বলছেন, ভিজানো ও সেদ্ধ—দুভাবেই ছোলা খাওয়া যায় এবং দুটিই পুষ্টিকর। যারা বেশি শক্তি ও ফাইবার পেতে চান, তাদের জন্য ভিজানো ছোলা ভালো বিকল্প। আর যাদের হজমের সমস্যা আছে, তারা সেদ্ধ ছোলা বেছে নিতে পারেন। তবে যেভাবেই খাওয়া হোক, অতিরিক্ত লবণ বা মশলা এড়িয়ে চলাই স্বাস্থ্যকর। বিশেষ করে যাদের কিডনির সমস্যা রয়েছে, তাদের ছোলা খাওয়ার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
মাছ বাজারে গেলেই দেখা যায় বড় বড় পাঙ্গাশ মাছ। চোখে পড়ে বরফের ওপর সাজানো কাটা পাঙ্গাশ মাছও। দাম তুলনামূলক কম, কাঁটা কম, রান্নাও ঝামেলাহীন—এই কারণেই মধ্যবিত্ত বাঙালির রান্নাঘরে পাঙ্গাশ মাছ বেশ জনপ্রিয়। বিশেষ করে পরিবারের ছোটদের কাছে এই মাছের জনপ্রিয়তা চোখে পড়ার মতো। তবে ইদানীং সোশ্যাল মিডিয়ায় পাঙ্গাশ নিয়ে নানা ভয় ছড়াচ্ছে—কেউ বলছেন এই মাছ বিষে ভরা, আবার কেউ বলছেন এতে কোনো পুষ্টিগুণই নেই। তবে প্রশ্ন হলো, এই দাবিগুলোর ভিত্তি কতটা সত্য? পাঙ্গাশ কি আদৌ অস্বাস্থ্যকর? পাঙ্গাশ মূলত একটি চাষের মাছ। এটি দ্রুত বড় হয়, উৎপাদন বেশি হয়, সেই কারণেই বাজারে এর দাম তুলনামূলকভাবে কম। কিন্তু দাম কম মানেই যে পুষ্টিগুণ কম, এমনটা নয়। পাঙ্গাশ মাছে ভালো মাত্রায় প্রোটিন থাকে, যা পেশি গঠন, কোষের ক্ষয়পূরণ এবং শরীরে শক্তি জোগাতে সাহায্য করে। যারা নিয়মিত ডিম বা মাংস খান না, তাদের জন্য পাঙ্গাশ হতে পারে সহজলভ্য প্রোটিনের একটি উৎস। এ ছাড়া এই মাছে কিছু পরিমাণে ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড থাকে। ইলিশ বা সামুদ্রিক মাছের মতো বেশি না হলেও, এটি হৃদ্যন্ত্রের স্বাস্থ্যের পক্ষে সহায়ক এবং খারাপ কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। পাঙ্গাশে আয়রন ও ফসফরাসের মতো গুরুত্বপূর্ণ খনিজও রয়েছে, যা রক্ত ও হাড়ের স্বাস্থ্যের জন্য জরুরি। তাহলে বিতর্কটা কোথায়? সমস্যা মূলত মাছের চাষপদ্ধতি নিয়ে। অনেক ক্ষেত্রে মাছ দ্রুত বড় করতে অ্যান্টিবায়োটিক ও বিভিন্ন রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়। যদি এসব উপাদান নিয়ম মেনে ব্যবহার না করা হয়, তাহলে তা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হয়ে উঠতে পারে। দীর্ঘদিন এই ধরনের দূষিত মাছ খেলে হজমের সমস্যা, অ্যালার্জি এমনকি শরীরে অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স তৈরি হওয়ার আশঙ্কাও থাকে। কিভাবে নিরাপদে পাঙ্গাশ খাবেন? বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, চোখ বুজে কোনো খাবারকে ভালো বা খারাপ বলে দাগিয়ে দেবেন না। পাঙ্গাশ কিনতে হলে— বিশ্বস্ত দোকান থেকে মাছ কিনুন খুব তাজা মাছ বেছে নিন রান্নার আগে ভালো করে ধুয়ে নিন সিদ্ধ, ঝোল বা হালকা মসলায় রান্না করাই সবচেয়ে নিরাপদ অতিরিক্ত তেলে ভেজে খাওয়া এড়িয়ে চলুন কারা সতর্ক থাকবেন গর্ভবতী নারী ও শিশুদের ক্ষেত্রেও মাঝেমধ্যে ভালোভাবে রান্না করা পাঙ্গাশ খাওয়া যেতে পারে। তবে প্রতিদিন একই ধরনের মাছ না খেয়ে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ খেলে পুষ্টির ভারসাম্য বজায় থাকে। আর পাঙ্গাশ খাওয়ার পর যদি কোনো অস্বস্তি বা শারীরিক সমস্যা দেখা দেয়, তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। সব শেষে বলা যায়, পাঙ্গাশ মাছ নিজে থেকে ‘ভয়ের কারণ’ নয়। ভয়ের মূল কারণ হলো অনিয়ন্ত্রিত চাষ ও ভুল রান্নার পদ্ধতি। সচেতনভাবে কেনা, সঠিকভাবে রান্না করা এবং পরিমিত পরিমাণে খেলে পাঙ্গাশ মাছও হতে পারে নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাদ্যের অংশ। সূত্র : টিভি৯ বাংলা
আলু একটি পুষ্টিকর ও শক্তিদায়ক সবজি, যাতে প্রচুর পরিমাণে কার্বোহাইড্রেট, শর্করা, ভিটামিন সি, বি-কমপ্লেক্স, পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম ও ফাইবারের একটি চমৎকার উৎস, যা দ্রুত শক্তি জোগায়, হজমে সহায়তা করে, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে এবং রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে তোলে। খোসাসহ সেদ্ধ কিংবা পোড়া আলু খাওয়া সবচেয়ে উপকারী। তবে স্টার্চের কারণে ডায়াবেটিস ও ওজন নিয়ন্ত্রণে পরিমিত খাওয়া প্রয়োজন। অতিরিক্ত ভাজা বা প্রক্রিয়াজাত আলু ওজন বৃদ্ধি, উচ্চ রক্তচাপ, রক্তে শর্করার মাত্রা বৃদ্ধি এবং ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তবে সবুজ কিংবা পচা আলু খাওয়া ক্ষতিকর। আলুর প্রধান পুষ্টিগুণ ও উপকারিতা ১. আলু শক্তির উৎস: উচ্চ কার্বোহাইড্রেট ও ক্যালরি থাকায় দ্রুত শক্তি জোগায়। ২. হজম ক্ষমতা বৃদ্ধি: আলুতে রয়েছে ফাইবার, যা কোষ্ঠকাঠিন্য কমায় এবং পেটের সমস্যা দূর করতে সাহায্য করে। ৩. হার্ট ও রক্তচাপ: আলুতে রয়েছে পটাশিয়াম, যা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রেখে হার্টের স্বাস্থ্য ভালো রাখে। ৪. ভিটামিন ও খনিজ: আলুতে রয়েছে ভিটামিন বি৬ ও ভিটামিন সি, যা বিপাক প্রক্রিয়ায় ভূমিকা রাখে এবং রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। আলুর অপকারিতা ১. ওজন বৃদ্ধি: অতিরিক্ত ভাজা (ফ্রেঞ্চ ফ্রাই, চিপস) খেলে ওজন বাড়ে। ২. ডায়াবেটিস: উচ্চ কার্বোহাইড্রেট রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়িয়ে দিতে পারে। ৩. বিষাক্ততা: সবুজ রঙ ধারণ করা বা গ্যাঁজ হওয়া আলুতে 'সোলানাইন' নামক বিষাক্ত পদার্থ থাকে, যা বমি, ডায়রিয়া কিংবা মাথাব্যথার কারণ হতে পারে। ৪. কিডনি সমস্যা: পটাশিয়াম বেশি থাকায় কিডনি রোগীর জন্য অতিরিক্ত আলু ক্ষতিকর হতে পারে। অতএব আলু সেদ্ধ কিংবা বেক করে খাওয়া সবচেয়ে স্বাস্থ্যকর। প্রতিদিন পরিমিত পরিমাণে খাওয়া ভালো। কিন্তু অতিরিক্ত খেলে আপনার বিপদের ঝুঁকি হতে পারে। প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে।
মানুষের ধারণা নিয়মিত দাঁত বা মুখ পরিষ্কার করা মানে নিছক দাঁতের সৌন্দর্য। কিন্তু দাঁতের যত্ন না নিলে একজন বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হতে পারে। চিকিৎসকদের মতে, মুখের স্বাস্থ্য সরাসরি হার্টের সঙ্গে যুক্ত। হার্ট সুস্থ রাখতে শুধু ব্যায়াম বা ডায়েট নয়, মুখের স্বাস্থ্যও সমান গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত দাঁত না মাজলে শুধু ক্যাভিটি নয়, ভবিষ্যতে হৃদরোগের ঝুঁকিও বাড়তে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলেন, ‘যখন মুখে প্ল্যাক বা ব্যাকটেরিয়া জমে থাকে, তখন তা মাড়িতে সংক্রমণ তৈরি করে। এই ব্যাকটেরিয়া সহজেই রক্তে ঢুকতে পারে। রক্তে প্রবেশের পর ব্যাকটেরিয়া শরীরের বিভিন্ন স্থানে প্রদাহ বা ইনফ্লামেশন তৈরি করে। দীর্ঘদিন এই প্রদাহ থাকলে ধমনীগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোকের ঝুঁকি বেড়ে যায়। দন্ত চিকিৎসকদের মতে, শুধু দাঁত মাজা যথেষ্ট নয়। দাঁতের ফাঁক বা মাড়ির নিচে জমে থাকা খাবার ও ব্যাকটেরিয়া দূর করার জন্য ফ্লস ব্যবহার করা অত্যন্ত জরুরি। ফ্লস না করলে অনেক জায়গা পরিষ্কার হয় না, যেখানে ব্যাকটেরিয়া জমে থেকে সমস্যা তৈরি করে। গবেষণায় দেখা গেছে, যাদের মাড়ির দীর্ঘমেয়াদি সমস্যা রয়েছে, তাদের হার্টের সমস্যা হওয়ার আশঙ্কা অনেক বেশি। কারণ মুখের ব্যাকটেরিয়া ধমনীর ভেতরে চর্বি জমা ও প্রদাহ বাড়াতে সাহায্য করে। ফলে রক্ত চলাচলে বাধা আসে এবং হার্টের সমস্যা বাড়ে। চিকিৎসকদের পরামর্শ, প্রতিদিন অন্তত দু’বার বিশেষ করে রাতে ঘুমানোর আগে দাঁত মাজতে হবে। নিয়মিত ফ্লস বা ইন্টারডেন্টাল ব্রাশ ব্যবহার করুন। অতিরিক্ত চিনি ও মিষ্টি খাবার কম খান। ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য এড়িয়ে চলুন। ছয় মাসে একবার দন্ত চিকিৎসকের কাছে চেকআপ করান।
এক পায়ে দাঁড়িয়ে থাকা শুনতে সহজ হলেও বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এটি কঠিন হয়ে যায়। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিয়মিত এই সহজ অনুশীলন শরীর ও মস্তিষ্ক—দুইয়ের জন্যই দারুণ উপকারী। বয়স বাড়লে স্বাভাবিকভাবেই পেশিশক্তি কমতে থাকে, যাকে বলা হয় সারকোপেনিয়া। এই পেশি ক্ষয়ের প্রভাব পড়ে ভারসাম্যের ওপর। এক পায়ে দাঁড়ানোর ক্ষমতা তাই শরীরের সামগ্রিক শক্তি ও বার্ধক্যের গতি বোঝার একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে ধরা হয়। যারা নিয়মিত ভারসাম্যের অনুশীলন করেন, তাদের পা ও নিতম্বের পেশি শক্তিশালী থাকে এবং পড়ে যাওয়ার ঝুঁকি কমে। এই ব্যায়াম শুধু পেশির নয়, মস্তিষ্কেরও কাজ। এক পায়ে দাঁড়াতে গেলে চোখ, কানের ভেতরের ভারসাম্য ব্যবস্থা (ভেস্টিবুলার সিস্টেম) এবং স্নায়ুতন্ত্র থেকে পাওয়া তথ্য মস্তিষ্ককে একসঙ্গে প্রক্রিয়াজাত করতে হয়। ফলে মনোযোগ, প্রতিক্রিয়ার গতি এবং সমন্বয় ক্ষমতা উন্নত হয়। কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, যারা নির্দিষ্ট সময় এক পায়ে দাঁড়িয়ে থাকতে পারেন না, তাদের পরবর্তী বছরগুলোতে শারীরিক দুর্বলতা ও জ্ঞানীয় অবক্ষয়ের ঝুঁকি বেশি হতে পারে। বয়স্কদের আঘাতের বড় কারণ হলো পড়ে যাওয়া, যা বেশির ভাগ সময় ভারসাম্য হারানোর ফল। নিয়মিত ‘সিঙ্গেল লেগ ট্রেনিং’ এই ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি মস্তিষ্কের সেই অংশকে সক্রিয় রাখে, যা শরীরের অবস্থান বোঝা ও দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানানোর সঙ্গে জড়িত। ভালো খবর হলো, এই অনুশীলন খুব সহজেই দৈনন্দিন জীবনে যুক্ত করা যায়। দাঁত ব্রাশ করার সময়, রান্নাঘরে দাঁড়িয়ে কাজ করার সময় বা টিভি দেখার ফাঁকে—প্রতিদিন কয়েকবার ১০–২০ সেকেন্ড এক পায়ে দাঁড়ানোর চেষ্টা করা যেতে পারে। পরে পা বদলে একইভাবে অনুশীলন করুন। নিরাপত্তার জন্য শুরুতে দেয়াল বা চেয়ার কাছে রাখা ভালো। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, ৬৫ বছরের বেশি বয়সিদের সপ্তাহে অন্তত কয়েক দিন এই অনুশীলন করা উচিত। নিয়মিত চর্চায় ভারসাম্য, পেশিশক্তি, মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা—সবই উন্নত হতে পারে। ছোট একটি অভ্যাসই বয়সের সঙ্গে সুস্থ ও স্বনির্ভর থাকার বড় সহায়ক হতে পারে। সূত্র : বিবিসি
বলিউড অভিনেত্রী ও গায়িকা সোফী চৌধুরী। বড় পর্দায় তাকে খুব একটা দেখা যায় না, হাতেগোনা কয়েকটি ছবিতে পার্শ্ব চরিত্রে অভিনয় করেছেন। ঝুলিতে নেই কোনো বড় হিট সিনেমা। তবুও তার বিলাসবহুল জীবনযাপন, নামী ব্র্যান্ডের পোশাক আর হাই-প্রোফাইল পার্টিতে নিয়মিত উপস্থিতি প্রায়ই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। সম্প্রতি উদয়পুরে এক রাজকীয় বিয়ের অনুষ্ঠানে গিয়েছিলেন সোফী, যেখানে পারফর্ম করেছিলেন বিশ্বখ্যাত গায়িকা জেনিফার লোপেজ। সেই অনুষ্ঠানে সোফীর উপস্থিতি দেখে নেটিজেনদের একাংশ তাকে কটাক্ষ করতে শুরু করেন। প্রশ্ন ওঠে তার আয়ের উৎস নিয়ে। সোশ্যাল মিডিয়ায় কেউ প্রশ্ন করেন, একটা ছবিতেও তো দেখা যায় না, তাহলে করেনটা কী? আবার কেউ মন্তব্য করেন, ছবি নেই, এদিকে এত টাকা আসে কোথা থেকে? টানা এমন নেতিবাচক মন্তব্য ও কটাক্ষে আর চুপ থাকতে পারেননি সোফী। সটান উত্তর দিয়ে নিজের আয়ের উৎস এবং ক্যারিয়ার নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন এই তারকা। সোফী বলেন, ১৭ বছর ধরে আমি গানের অনুষ্ঠান করছি। আর দেশের এক নম্বর মহিলা সঞ্চালিকা (হোস্ট) আমি। বিভিন্ন করপোরেট অনুষ্ঠান, বিয়েবাড়ি বা লাইভ অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করার জন্য আমাকে ডাকা হয়। বলিউডে টিকে থাকার লড়াইয়ের কথা উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, বলিউডে যে পরিমাণ প্রতিযোগিতা তা সবার জানা। একজন নায়িকার জমি শক্ত করতে অনেক সময় লেগে যায়। তবে সোফীর সবচেয়ে বড় দাবিটি ছিল তার রোজগার নিয়ে। তিনি স্পষ্ট জানান, সিনেমার পর্দায় তাকে কম দেখা গেলেও উপার্জনের দিক থেকে তিনি পিছিয়ে নেই। সোফীর ভাষ্যমতে, বলিউডের অনেক প্রথম সারির নায়িকারাও অত রোজগার করেন না, যত রোজগার আমি করি।
বলিউডের আইকন, সাবেক বিশ্বসুন্দরী ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চন আর নীরব থাকলেন না। জনপরিসরে নারীদের ওপর বাড়তে থাকা হয়রানি ও কটাক্ষের বিরুদ্ধে তিনি তুললেন কণ্ঠ। এক গভীর, দৃঢ় বার্তায় তারকাখ্যাত এই অভিনেত্রী স্পষ্ট করে দিলেন, নারীর পোশাক, সাজসজ্জা কিংবা আচরণ কোনোভাবেই হেনস্তার ন্যায্যতা দিতে পারে না। বরং তিনি নারীদের আহ্বান জানালেন মাথা উঁচু করে চলতে, নিজেদের অধিকার ও মর্যাদার জন্য প্রয়োজনে সংগ্রামে নামতে। মুহূর্তেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায় তার এই শক্তিশালী অবস্থান, নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসে নারীর নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষার প্রশ্ন। ভারতীয় গণমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি একটি আন্তর্জাতিক প্রসাধনী দ্রব্যের বিজ্ঞাপনী দূত হিসেবে এক অনুষ্ঠানে যোগ দেন ঐশ্বরিয়া। সেখানে তাকে প্রশ্ন করা হয়, রাস্তাঘাটে নারীরা কীভাবে হয়রানি মোকাবিলা করবেন? সঙ্গে সঙ্গেই ঐশ্বরিয়া পাল্টা প্রশ্ন ছুড়ে বলেন, ‘অপর প্রান্তের মানুষটির চোখের দিকে না তাকালেই পার পেয়ে যাবেন ভাবছেন? তাহলে বলি, একদম নয়। মোকাবিলা করতে হেনস্তাকারীর চোখের দিকে সোজাসুজি তাকাতে শিখুন। মাথা উঁচু করে হাঁটুন।’ নারী হয়রানি মোকাবিলায় ঐশ্বরিয়া আত্মবিশ্বাসের ওপর জোর দিয়ে বলেন, নারীদের ভাবতে শেখা উচিত- ‘আমার শরীর, আমার সম্পদ।’ নিজের মূল্য নিয়ে কখনোই আপস করবেন না বা দ্বিধা-দ্বন্দ্বে ভুগবেন না। আত্মবিশ্বাস ধরে রাখুন এবং প্রয়োজনে নিজের জন্য নিজে উঠে দাঁড়ান ও লড়ুন।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।