জাতীয়

বরখাস্ত-বদলির ঝড়, শুদ্ধি অভিযানে দুদকে আতঙ্ক!

Admin অক্টোবর ০৪, ২০২৫ 0

গত বছরের আগস্টে নাটকীয় রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর থেকে দেশে নানামুখী সংস্কারের পাশাপাশি দুর্নীতি দমন ও প্রতিরোধের কাজও এগিয়ে চলছে। অভিযানের অগ্রভাগে থাকা খোদ দুর্নীতি দমন কমিশনও (দুদক) তার নিজস্ব ঘর গোছাতে বেশ কঠোর হয়েছে এবং কঠোর হতে চলেছে।

দীর্ঘদিন ধরে দুদকের অভ্যন্তরে থাকা দুর্নীতির অভিযোগ আমলে নিয়ে সংস্থাটি এরই মধ্যে অভিযোগ সংশ্লিষ্ট কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীকে শাস্তির আওতায় আনা শুরু করেছে। বিষয়টি দুদকের ভেতরে আতঙ্ক সৃষ্টি করলেও জনআস্থা ফেরাতে এটি ইতিবাচক বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। আর দুদক কর্মকর্তারা বলছেন, অভিযোগের প্রমাণ থাকলে ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে। তবে প্রমাণহীন অভিযোগে কারও বিরুদ্ধে যেন ব্যবস্থা নেওয়া না হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরে এরই মধ্যে ঘুষ, দুর্নীতি, অনৈতিক সুবিধা নেওয়া এবং নির্ধারিত সময়ে অনুসন্ধান প্রতিবেদন জমা না দেওয়াসহ নানা অভিযোগে দুদকের দুই পরিচালকসহ সাত কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। একজনকে চাকরিচ্যুত এবং দুই কর্মকর্তাকে ওএসডি করাসহ রদবদলের মতো শাস্তি দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ পেলেই দুদকের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবদুল মোমেনের নেতৃত্বাধীন কমিশন তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিচ্ছে। এসব ঘটনায় সংস্থাটির ভেতরে আতঙ্ক ও ভীতি কাজ করছে।

এছাড়া, জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত দুদকে বরখাস্ত ও রদবদলের ঝড় বয়ে গেছে। এই সময়ে দুই পরিচালক, তিন উপপরিচালক ও একজন উপসহকারী পরিচালককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে এবং দুই উপসহকারী পরিচালককে রিজার্ভ (ওএসডি) শাখায় বদলি করা হয়েছে। এছাড়া চলতি বছর দুই ডজনের বেশি কর্মকর্তাকে রদবদল করা হয়েছে।

সংস্থাটির ঊর্ধ্বতন সূত্র জানিয়েছে, আগামী কিছুদিনের মধ্যে অন্তত ৩০-এর বেশি কর্মকর্তা-কর্মচারী বিভিন্ন পর্যায়ে শাস্তির মুখোমুখি হতে পারেন।

চলতি বছরে শাস্তি ও বদলির মুখোমুখি হলেন যারা

চলতি বছরের ১৯ মার্চ সাময়িক বরখাস্ত করা হয় দুদকের সহকারী পরিচালক এস এম মামুনুর রশীদকে। তার বিরুদ্ধে ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন ও অসদাচরণের অভিযোগ আনা হয়েছে। মামুনুর রশিদের প্রাক্তন স্ত্রী ফারহানা ইয়াসমিন মিমের করা নারী ও শিশু নির্যাতন মামলা এবং যৌতুকের অভিযোগকে এক্ষেত্রে আমলে নেওয়া হয়েছে। দুদকের আদেশে ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হওয়াসহ দুদক (কর্মচারী) চাকরি বিধিমালা, ২০০৮ এর ২(ঝ) (৫) অনুযায়ী অসদাচরণের অভিযোগ আনা হয়।

গত ১৬ এপ্রিল ঘুষ গ্রহণ ও দুর্নীতির অভিযোগে উপ-সহকারী পরিচালক সুদীপ কুমার চৌধুরীকে চাকুরিচ্যুত করে দুদক। তাকে দুদক (কর্মচারী) চাকুরি বিধিমালা, ২০০৮ এর ৩৯(খ), ৩৯(৪), ৩৯(চ) ও ৪০(১) (খ)(৫) ধারায় চাকরি থেকে স্থায়ী বরখাস্ত করা হয়।

দুদকের নথিপত্রে অভিযোগের বিষয়ে বলা হয়েছে, বগুড়ায় উপসহকারী পরিচালক হিসেবে কর্মরত থাকাকালে সুদীপ কুমার চৌধুরী জেলা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের উপপরিদর্শক আলমগীর হোসেনের সম্পদ বিবরণী যাচাই করেন। সে সময় তাকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে সুদীপ কুমার ৭ লাখ টাকা উৎকোচ দাবি করেন। আলমগীরের খালাতো বোন বেগম সুমাইয়া শিরিন, বগুড়া বারের আইনজীবী মো. কামাল উদ্দিন ও সৈয়দ আসিফুর রহমানের মাধ্যমে তিনি দেড় লাখ টাকার বেশি উৎকোচ গ্রহণ করেন। ব্যক্তিগত মোবাইলে উৎকোচ দাবি ও গ্রহণের কথোপকথনের অডিও রেকর্ড দুদকের ফরেনসিক ল্যাবের মাধ্যমে প্রমাণিত হয়। যার পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৩ সালের ২০ জুলাই তাকে সাময়িক বরখাস্তের পর এখন স্থায়ীভাবে বরখাস্ত করা হয়।

গত ৬ আগস্ট দুদকের উপপরিচালক মো. আহসানুল কবীর পলাশকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ হলো সময়মতো অনুসন্ধান প্রতিবেদন দাখিল না করা। এ বিষয়ে দুদকের আদেশে বলা হয়, অভিযোগের বিষয়ে ২০২৩ সালের নভেম্বর থেকে আহসানুল কবীর পলাশকে অনুসন্ধান কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। কিন্তু তিনি সংশ্লিষ্ট নথি বিষয়ক কোনো প্রতিবেদন জমা না দেওয়ায় এবং সময় বৃদ্ধির আবেদনও না করায় দুর্নীতি দমন কমিশনের কর্মচারী বিধিমালা, ২০০৮ অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। গত ১৬ জুলাই কমিশন সভায় ৪৩(১) বিধি মোতাবেক তাকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্তের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

একই কারণে গত ১৭ জুলাই সাময়িক বরখাস্ত করা হয় প্রধান কার্যালয়ের উপপরিচালক কমলেশ মন্ডলকে। বরখাস্তের আদেশে বলা হয়, তার বিরুদ্ধে কর্মকালীন সময়ে ঢাকা ওয়াসার ঢাকা ওয়াটার সাপ্লাই নেটওয়ার্ক ইমপ্রুভমেন্ট প্রজেক্টের পিডি ও অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আখতারুজ্জামানসহ অন্যান্যদের বিরুদ্ধে এ প্রকল্পে মাঠপর্যায়ে লোকবল নিয়োগ এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আঁতাত করে দুর্নীতি করার অভিযোগের অনুসন্ধান প্রতিবেদন সময়মতো দাখিল করতে না পারার অভিযোগ রয়েছে।

ওই অভিযোগের বিষয়ে ২০২২ সালের ৪ ডিসেম্বর থেকে ২০২৫ সালের ১০ এপ্রিল পর্যন্ত অনুসন্ধান প্রতিবেদন দাখিল না করা এবং সময় বৃদ্ধির আবেদন না করায় দুর্নীতি দমন কমিশনের কর্মচারী বিধিমালা, ২০০৮ অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে ১০ জুলাই কমিশন সভায় ৪৩(১) বিধি মোতাবেক তাকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

চলতি বছরের জুলাই ও আগস্ট মাসেও ডজনের বেশি কর্মকর্তাকে নানা কারণে বদলি করার ঘটনা ঘটেছে। দুদক কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় পদক্ষেপ নেওয়া হয় গত সেপ্টেম্বর মাসে। ওই মাসে সবচেয়ে বেশি ও বড় পদের কর্মকর্তাদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। এর মধ্যে, গত ৪ সেপ্টেম্বর দুর্নীতির মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার নাম করে অর্থ আত্মসাৎসহ অনৈতিক সুবিধা গ্রহণ ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে উপপরিচালক মাহবুবুল আলম এবং উপসহকারী পরিচালক মোহাম্মদ জুলফিকারকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

ওই আদেশে বলা হয়েছে, দুদকের মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার নাম করে বিভিন্ন সময়ে আর্থিক সুবিধা গ্রহণ ও কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৭ আগস্ট তারিখে অনুষ্ঠিত কমিশন সভায় অভিযোগের গুরুত্ব ও রাষ্ট্রীয় স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (কর্মচারী) চাকরি বিধিমালা, ২০০৮ মোতাবেক তাদের চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্তের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। তাদের বিরুদ্ধে বিধিমালার ৪৩(১) বিধি অনুযায়ী এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

পরে ৮ সেপ্টেম্বর বরখাস্ত হন দুদকের পরিচালক ড. খান মো. মীজানুল ইসলাম। তার বিরুদ্ধে এভারকেয়ার হাসপাতালের পরিচালক মাহাবুবুল আনামের কাছ থেকে অনৈতিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। আদেশে বলা হয়, কমিশনের গোপন তথ্যানুসন্ধানে দেখা গেছে— তিনি গত ১৭ আগস্ট রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি হওয়া এবং চিকিৎসা শেষে গত ২০ আগস্ট বকেয়া চিকিৎসা বিল বাবদ দুই লাখ চার হাজার ১৩২ টাকা নিজে পরিশোধ করেননি। অভিযোগ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি মাহবুবুল আনাম কর্তৃক এ টাকার জিম্মা (গ্যারান্টি) প্রদানপূর্বক হাসপাতাল থেকে ডিসচার্জ হওয়ার বিষয়টির প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া যায়। ৪ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত দুর্নীতি দমন কমিশনের ‘অভ্যন্তরীণ দুর্নীতি দমন কমিটি’র সভায় অভিযোগটি উপস্থাপন করা হয়। সভায় তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এরই মধ্যে ব্যক্তিগত শুনানি শেষ হয়েছে।

অপরদিকে একই দিন তিন পরিচালক মো. রফিকুজ্জামান, মো. কামরুজ্জামান ও খন্দকার জাকির হোসেনকে প্রধান কার্যালয়ের তিন দপ্তরে অদল-বদল করে বদলি করা হয়েছে। এরপর গত ২১ সেপ্টেম্বর এক প্রজ্ঞাপনে পরিচালক পদমর্যাদার একমাত্র সিস্টেম অ্যানালিস্ট মো. রাজিব হাসানকেও সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। তার বিরুদ্ধে দুদক ও রাষ্ট্রের স্বার্থ বিরোধী কর্মকাণ্ডে লিপ্তসহ অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে।

দুদকের এ সংক্রান্ত আদেশে বলা হয়, গোয়েন্দা তথ্যানুসন্ধানে দুদক ও রাষ্ট্রের স্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত থেকে স্বীয় স্বার্থ হাসিল করে মো. রাজিব হাসান বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন বলে প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া যায়। গত ১৮ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত অভ্যন্তরীণ দুর্নীতি দমন কমিটির সভায় অভিযোগটি উপস্থাপিত হয় এবং তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত হয়। অভিযোগের গুরুত্ব ও রাষ্ট্রীয় স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (কর্মচারী) চাকরি বিধিমালা, ২০০৮ অনুযায়ী তাকে সাময়িক বরখাস্তের সিদ্ধান্ত হয়।

একই দিন অপর আদেশে সহকারী পরিচালক মাসুম আলী, মো. ইসমাইল, উপসহকারী পরিচালক মো. আল-আমিন ও মোহাম্মদ আলী হায়দারকে বদলি করা হয়।

২৩ সেপ্টেম্বরের আরেক আদেশে বাগেরহাটের উপসহকারী পরিচালক মো. আবুল হাসেমকে ওএসডি (রিজার্ভ শাখা) করে প্রধান কার্যালয়ে বদলি করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে ১০ লাখ টাকা ঘুষ দাবির অভিযোগ রয়েছে। ইতোমধ্যে বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়েছে। একই দিন অপর এক আদেশে সহকারী পরিদর্শক মো. রুহুল আমিন, গাড়িচালক শাহরিয়ার হাসান ও মো. আল আমিন খানকে ঢাকা ও সিলেট থেকে বদলি করা হয়েছে।

এরপর গত ২৮ সেপ্টেম্বর বদলি ও ওএসডি করা হয়েছে তিন কর্মকর্তাকে। যার মধ্যে সহকারী পরিচালক মো. আনিছুর রহমানকে ঢাকা থেকে বাগেরহাট, মোহাম্মদ মনিরুল ইসলামকে ঢাকা থেকে পিরোজপুর এবং উপসহকারী পরিচালক মো. আব্দুল্লাহ আল মামুনকে প্রধান কার্যালয়ে রিজার্ভ শাখায় দেওয়া হয়েছে। একই দিন পরিচালক আবুল হোসেন ঢাকায় ও রিজিয়া রহমানকে চট্টগ্রামের দুদক অফিসে বদলি করার তথ্য রয়েছে।

সর্বশেষ গত ২৯ সেপ্টেম্বর দুদকের তিন উপপরিচালক ও একজন উপসহকারী পরিচালককে বদলি করা হয়েছে।

‘উড়ো অভিযোগ’ নয়, সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পেলে ব্যবস্থার পক্ষে কর্মকর্তারা

অনিয়ম বা রাষ্ট্রের স্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িতদের শাস্তির মুখোমুখি করাকে কমিশনের ভেতরে-বাইরে সবাই স্বাগত জানাচ্ছে। তবে দুদক কর্মকর্তাদের মতে, অভিযোগ ওঠা আর প্রমাণ পাওয়া দুটি ভিন্ন বিষয়। শুধু অভিযোগ উঠলেই কাউকে দোষী ভাবা ঠিক নয়; গুরুতর অভিযোগ ও সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেলে তবেই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

দুদকের একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে ঢাকা পোস্টকে বলেন, আমরা কখনোই অপরাধের বিচার বা শাস্তির বিপক্ষে নই। তবে আমরা যে ধরনের কাজ করি, তা কখনোই কারও জন্য শুভকর বা স্বস্তিদায়ক নয়। অভিযোগ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অনেক ক্ষমতাধর হন। তাদের বিরুদ্ধে কাজ করাই বড় চ্যালেঞ্জের। সুবিধা না পেয়ে তারা বিভিন্ন সময় বেনামি ও উড়ো অভিযোগ করে থাকে। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ অনেক সময় তা সঙ্গে সঙ্গে আমলে নেয়। অনেক সময় কোনো ধরনের কারণ দর্শানোর নোটিশ ছাড়াই বিভাগীয় শাস্তি পেতে হয়। অপরাধের প্রমাণ পাওয়ার পর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিলে আপত্তি নেই।

‘এমনও দেখা গেছে, অভিযোগের ভিত্তিতে জাতীয় টাস্কফোর্সের আওতায় গঠিত যৌথ টিমের সদস্যকেও প্রত্যাহার করা হয়েছে। অথচ যৌথ টিম গঠনের সময় বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে অনুরোধ বা নির্দেশনা ছিল যে কোনো সদস্যকে অহেতুক যেন বদলি করা না হয়।’

কর্মকর্তা ও কর্মচারী পর্যায়ে আরও কয়েকজন ঢাকা পোস্টকে বলেছেন, দুদকের ভাবমূর্তি অক্ষুণ্ন রাখা আমাদের সবার দায়িত্ব। কমিশনের ভেতরে কেউ যদি অনিয়ম বা স্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ে, তবে তাকে ছাড় দেওয়া উচিত নয়।

‘সম্প্রতি যেসব কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে বা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে কমিশন সবচেয়ে ভালো বলতে পারবে। তবে অভিযোগ ওঠা আর প্রমাণ পাওয়া— দুটি বিষয় এক নয়। কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ এলেই তাকে দোষী ভাবা যায় না। গুরুতর ও সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেলে অবশ্যই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।’

তারা আরও বলেন, অনুসন্ধান ও তদন্তের কাজে দুদকের প্রতিটি কর্মকর্তা অতিরিক্ত চাপে থাকেন। বিশেষ করে ৫ আগস্টের পর দ্রুতগতিতে মামলা ও চার্জশিট দেওয়ার যে চাপ রয়েছে, তাতে অনেক কর্মকর্তা মানসিকভাবে বিধ্বস্তের মতো অবস্থায় আছেন। সীমিত লজিস্টিক সাপোর্ট ও জনবল নিয়ে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। তার ওপর দুদকের নিজস্ব কর্মকর্তাদেরই প্রকৃত কাজের দায়িত্ব নিতে হয়। ডেপুটেশনে যারা আসেন, তাদের অধিকাংশই তদারককারী ও বুদ্ধিদাতা হিসেবে কাজ করে থাকেন।

‘অনুসন্ধান ও তদন্ত অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং ধন্যবাদ অযোগ্য কাজ। দুদকের কাজে জীবনের ঝুঁকি ও চাকরির ভয় সবসময় থাকে। তাই ছোটখাটো ও অনিচ্ছাকৃত ভুল-ত্রুটি মার্জনার চোখে দেখা উচিত। যারা সততার সঙ্গে ভালো কাজ করছেন, তাদের পুরস্কৃত করাসহ বাড়তি সুযোগ-সুবিধার আওতায় আনা উচিত। শাস্তি ও পুরস্কার— দুটিই সমানভাবে কার্যকর হলে প্রতিষ্ঠান আরও শক্তিশালী ও জনআস্থার প্রতীক হয়ে উঠতে পারবে। আমরা চাই, কমিশনের প্রতিটি কর্মকর্তা নিরপেক্ষতা, সততা ও স্বচ্ছতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করুন, যাতে জনগণের আস্থা আরও দৃঢ় হয়।’

অনুসন্ধান ও তদন্তের পর চূড়ান্ত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে : দুদক মুখপাত্র

দুদকের অভ্যন্তরীণ শুদ্ধি অভিযান সম্পর্কে সম্প্রতি দুদক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবদুল মোমেন বলেন, ‘দুর্নীতি দমন কমিশনের অফিস যদি দুর্নীতিমুক্ত না হয়, তাহলে অন্য অফিসকে বলার নৈতিক অধিকারই থাকে না যে— তোমরা কেন দুর্নীতি করো? আমাদের নিজেদের মধ্যে যেটুকু দুর্নীতি রয়েছে, সেটা মুক্ত করতে হবে। আমরা সেটাই করার চেষ্টা করছি।’

এ বিষয়ে দুদকের মুখপাত্র ও মহাপরিচালক মো. আক্তার হোসেন ঢাকা পোস্টকে বলেন, ‘কারো বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে তা দুদকের অভ্যন্তরীণ দুর্নীতি নির্মূল কমিটির সভায় আলোচনা ও পর্যালোচনা হয়। অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেলে, তারপর তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থার সুপারিশ করে কমিটি। সুপারিশের ভিত্তিতে সাময়িক বরখাস্তকরণসহ বিভিন্ন আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে যদি অভিযোগ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বা কর্মচারীর বিরুদ্ধে ফৌজদারি কোনো অপরাধ পাওয়া যায়, সে বিষয়ে অনুসন্ধান ও তদন্ত হওয়ার পর চূড়ান্ত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এটা একটি চলমান প্রক্রিয়া।’

দুদক যদি দুর্নীতিমুক্ত হয় তাহলে দেশের দুর্নীতি এমনিতেই কমে যাবে

আইনজীবীসহ একাধিক পেশাজীবী দুদকের এমন পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। তারা বলছেন, দুদক নিজেদের অভ্যন্তরীণ দুর্নীতির বিরুদ্ধেও পদক্ষেপ নিচ্ছে, তা অত্যন্ত ইতিবাচক উদ্যোগ। এই বার্তা সবার কাছে পরিষ্কার হওয়া দরকার যে, অনিয়ম করলে কেউ রেহাই পাবে না। আমরা চাই এই ধারা অব্যাহত থাকুক। দুদকের শুদ্ধি অভিযানকে আমরা সাধুবাদ জানাই।

এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী নাদিম মাহমুদ ঢাকা পোস্টকে বলেন, দুদকের অভ্যন্তরীণ শুদ্ধি অভিযানকে অবশ্যই সাধুবাদ জানাই। নিরপেক্ষভাবে ভিন্ন সংস্থা দিয়ে তদন্ত করে দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে পারলে সবচেয়ে ভালো হয়। দুদক যদি দুর্নীতিমুক্ত হয় ও সঠিকভাবে কাজ করতে পারে, তাহলে দেশের দুর্নীতি এমনিতেই কমে যাবে।

‘আমরা চাই সরকারের নির্ধারিত মূল্যে সরকারি সেবা নিশ্চিত হোক। কোথাও ঘুষ ছাড়া কাজ হয় না। প্রয়োজনে দুদকের জনবল ও লজিস্টিক সহায়তা বৃদ্ধি করা হোক। দুদককে জনগণের যথাযথ সেবা নিশ্চিত করতে হবে’- বলেন নাদিম মাহমুদ।  

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

মানবাধিকার সহায়তা সংস্থা হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটির (এইচআরএসএস) সংবাদ সম্মেলন। ছবি : সংগৃহীত
১৭ মাসে রাজনৈতিক সহিংসতায় ঝরেছে ১৯৫ প্রাণ : এইচআরএসএস

জুলাই অভ্যুত্থানের পর গত ১৭ মাসে দেশে মানবাধিকার পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য অবনতি ঘটেছে বলে জানিয়েছে মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস)।   বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) ১৫টি জাতীয় দৈনিকের প্রতিবেদন ও নিজস্ব অনুসন্ধানের ভিত্তিতে প্রকাশিত এই প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৪ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত রাজনৈতিক ও দলীয় সহিংসতার ১ হাজার ৪১১টি ঘটনায় ১৯৫ জন নিহত এবং ১১ হাজার ২২৯ জন আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীর পাশাপাশি অজ্ঞাত পরিচয় রয়েছেন ১৯ জন। বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাবের আবদুস সালাম হলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ‘জুলাই অভ্যুত্থান-পরবর্তী মানবাধিকার পরিস্থিতি ও প্রাক্-নির্বাচনি সহিংসতা’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। এইচআরএসএসের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৭ মাসে দেশে ১ হাজার ৪১১টি রাজনৈতিক সহিংসতায় কমপক্ষে ১৯৫ জন নিহত ও ১১ হাজার ২১৯ জন আহত হয়েছেন। আধিপত্য বিস্তার, রাজনৈতিক প্রতিশোধ, সমাবেশ ও নির্বাচনকেন্দ্রিক সংঘাত, চাঁদাবাজি ও স্থাপনা দখল এসব ঘটনার প্রধান কারণ। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বিএনপি। দলটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ৭০৪টি ঘটনায় ১২১ জন নিহত এবং ৭ হাজার ১৩১ জন আহত হয়েছেন। একই সময়ে সন্ত্রাসী হামলার ২৩৬টি ঘটনায় ১৫৬ জন নিহত ও ২৪৯ জন আহত হন। এ ছাড়া ৩০০-এর বেশি মানুষ গুলিবিদ্ধ হন এবং শতাধিক রাজনৈতিক কার্যালয় ও ১৩০টির বেশি বাড়িঘর, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও যানবাহনে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে গত অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত তিন মাসে ১৫৫টি নির্বাচনকেন্দ্রিক সহিংসতায় ৭ জন নিহত ও ১ হাজার ৪০৩ জন আহত হয়েছেন। উল্লেখযোগ্য ঘটনার মধ্যে পল্টনে গুলিবিদ্ধ হয়ে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহিদ শরিফ ওসমান বিন হাদি সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ১৭ মাসে মব ভায়োলেন্স ও গণপিটুনির ৪১৩টি ঘটনায় ২৫৯ জন নিহত ও ৩১৩ জন আহত হন। সাংবাদিকদের ওপর ৪২৭টি হামলায় ৬ জন নিহতসহ ৮৩৪ জন নির্যাতন ও হয়রানির শিকার হন। এ সময়ে ৪৯টি মামলায় ২২২ জন সাংবাদিককে অভিযুক্ত করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষ, হেফাজতে থাকা অবস্থায় ও নির্যাতনে ১৭ মাসে ৬০ জন নিহত হয়েছেন। কারাগারে মৃত্যু হয়েছে ১২৭ জন আসামির, যার মধ্যে ৪৪ জন কয়েদি ও ৮৩ জন হাজতি। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর ৫৬টি হামলায় ১ জন নিহত ও ২৭ জন আহত হয়েছেন। এ সময় ১৭টি মন্দির, ৬৩টি প্রতিমা ও ৬৫টি বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। দেশজুড়ে শতাধিক মাজারে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। সীমান্তে ১১০টি ঘটনায় ৪৩ জন বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে হামলায় ৩ জন নিহত হন।   একই সময়ে নারী ও শিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ২ হাজার ৬১৭ জন। এর মধ্যে ধর্ষণের শিকার ১ হাজার ১৬ জন এবং শিশু নির্যাতনের ঘটনায় ৪৭৮ জন প্রাণ হারিয়েছেন। এ ছাড়া শ্রমিক নির্যাতন ও দুর্ঘটনায় শত শত শ্রমিক নিহত ও আহত হয়েছেন।

মোঃ ইমরান হোসেন ফেব্রুয়ারি ০৫, ২০২৬ 0

সামাজিক ন্যায়বিচারের জন্য জনমুখী নীতিমালার আহ্বান বাংলাদেশের

ছবি : সংগৃহীত

নির্বাচনী দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের প্রতারক চক্র থেকে সাবধান থাকার আহ্বান ইসির

ছবি: সংগৃহীত

নির্বাচন ও গণভোটের তথ্য পেতে ডায়াল করুন ৩৩৩

ছবি: সংগৃহীত
সাতক্ষীরায় বাণিজ্যিকভাবে কুল চাষে আগ্রহ বাড়ছে চাষীদের

সাতক্ষীরা জেলার একটি প্রসিদ্ধ ফলের নাম ‘কুল’। এ জেলার নামকরণে গাণিতিকভাবে যে সাতটি জিনিস প্রসিদ্ধ তার মধ্যে অন্যতম ফল কুল। সাতক্ষীরা জেলায় বাণিজ্যিকভাবে চাষ করা হচ্ছে বিভিন্ন জাতের কুল।  সাতক্ষীরার বেলে-দোঁয়াশ মাটি ও নাতিশীতোষ্ণ জলবায়ু কুল চাষের উপযোগী। অনুকূল আবহাওয়া আর কম খরচে লাভ বেশি হওয়ায় বাণিজ্যিকভাবে কুল চাষে আগ্রহ বাড়ছে সাতক্ষীরার কৃষকদের। ফলে দিন দিন সাতক্ষীরায় কুলের আবাদ বাড়ছে। খেতে সুস্বাধু হওয়ায় সাতক্ষীরার কুলের চাহিদা রয়েছে দেশজুড়ে। তবে সাতক্ষীরার আমের পাশাপাশি সু-স্বাধু এই কুল বিদেশে রপ্তানি করা সম্ভব হবে বলে মনেকরে কৃষি বিভাগ।  সাতক্ষীরায় অন্যান্য ফসলের তুলনায় কুল চাষে অধিক লাভবান হওয়ায় কৃষকরা এদিকে ঝুঁকে পড়েছেন।  সাতক্ষীরা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে সাতক্ষীরা জেলায় ৮৪৪ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন প্রকার কুলের চাষ হয়েছে। যা থেকে ১৫ হাজার মেট্রিকটন কুল উৎপাদন হবে এবং যার বাজার মূল্য প্রায় ১০০ কোটি টাকা।  সাতক্ষীরার মাটি কুল চাষের জন্য উপযোগী হওয়ায় দিন দিন কুল চাষে আগ্রহ বাড়ছে সাতক্ষীরার কৃষকদের।  ভাল ফলন, কম খরচ আর লাভ বেশি হওয়ায় এ জেলায় বাণিজ্যিকভাবে কুল চাষ শুরু করে চাষীরা। অন্য ফসলের তুলনায় লাভ বেশি হওয়ায় সাতক্ষীরার বেশির ভাগ অনাবাদি জমি এখন সারি সারি কুল গাছে ছেয়ে গেছে। গাছগুলোতে শোভা পাচ্ছে বল সুন্দরী, ভারত সুন্দরী, থাই, আপেল, বাউ কুল, তাইওয়ান কুল, নারিকেল কুল, ঢাকা নাইনটি, টক কুলসহ নানা জাতের কুল। সদর উপজেলার বাঁশদহা ইউনিয়নের ভবানীপুর গ্রামের কৃষক ইমদাদুল হক জানান, তার ভবানীপুর মাঠে ২ বিঘা কুলের বাগানে তিন রকমের কুল রয়েছে। সেগুলো হলো ভারত সুন্দরী, বল সুন্দরী ও টক কুল। গত বছরের তুলনায় তার বাগানে ফলন অনেক ভালো হয়েছে এবং দামও ভালো পাচ্ছেন। তবে দ্রব্যমূল্যের উর্দ্ধগতির কারণে বিশেষ করে কীটনাশক ও সারের যে পরিমাণে দাম তাতে চাষে খরচ বেশী পড়ে যাচ্ছে।  তিনি জানান, তার ২ বিঘা জমিতে কুল চাষে খরচ হয়েছে ৫০ হাজার টাকা এবং প্রায় ১ লাখ টাকার কুল বিক্রি করবেন বলে আশাবাদী। তবে, সার কীট নাশকের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় এবার লাভটা কম হবে বলে তিনি আশঙ্কা করছেন। একই এলাকার কুলচাষী মোরশেদুল আলম জানান, তিনি ৪ বিঘা জমিতে চার প্রকারের কুল চাষ করেছেন।  টক, থাই আপেল, বল আপেল ও বিলাতি কুল।  তিনি জানান, বিলাতি কুল ১৭০-১৮০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। অন্যগুলো ১২০-১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কুল বাগানের শ্রমিক আকছেদ আলী জানান, সারাদিন কুল বাগানে কাজ করে তিনি প্রতিদিন সাড়ে ৩ থেকে ৪’শ টাকা পান। বাঁশদহা ইউনিয়নের উপ-সহকারী কৃষিকর্মকর্তা কামরুল হাসান ডালিম জানান, এই ইউনিয়নে প্রায় ৬০ বিঘা জমিতে এবার কুল চাষ হয়েছে। এসব জমিতে থাই কুল, আপেল কুল, নারিকেল কুল ও টক কুল চাষ হয়েছে।  কৃষি বিভাগ থেকে এসব কুল চাষীদের সব ধরনের সহযোগিতা করা হচ্ছে। সাতক্ষীরা সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মনির হোসেন জানান, চলতি মৌসুমে সাতক্ষীরা জেলায় ৮৪৪ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন প্রকার কুলের আবাদ হয়েছে। যা থেকে ১৫ হাজার মেট্রিকটনের উপরে কুল উৎপাদন হবে এবং যার বাজার মূল্য প্রায় ১০০ কোটি টাকার কাছাকাছি। ইতোমধ্যে এসব কুল বাজারে আসা শুরু করেছে।  তিনি বলেন, সাতক্ষীরার নামকরণে যে সাতটি প্রসিদ্ধ জিনিস রয়েছে তার মধ্যে কুল একটি অন্যতম ফল।  সাতক্ষীরার নামের সঙ্গে কুলের যে ঐতিহ্য জড়িয়ে আছে, সে ঐতিহ্যকে ধারণ করে প্রাকৃতিক দুর্যোগপ্রবণ এ জেলায় উৎপাদিত কুল মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রপ্তানির জন্য কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে বলে জানান এই কৃষি কর্মকর্তা।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি ফেব্রুয়ারি ০৪, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত

বিএনপি কাজে বিশ্বাস করে, সমালোচনায় নয়: মির্জা ফখরুল

বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

তারেক রহমানকে ‘সম্ভাব্য পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী’ আখ্যা দিয়েছে দ্য ডিপ্লোম্যাট

ছবি: সংগৃহীত

গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার সুযোগ কেউ যেন অনৈতিকভাবে নষ্ট করতে না পারে : নজরুল ইসলাম খান

ছবি: সংগৃহীত
লক্ষ্মীপুরে অবৈধ ভোটের সিল তৈরি, প্রেস মালিক আটক

লক্ষ্মীপুরে অবৈধভাবে প্রস্তুত ছয়টি ভোটের সিলসহ সোহেল রানা নামে এক প্রেস মালিককে আটক করেছে পুলিশ। এ সময় সিলসহ একটি মোবাইলফোন ও কম্পিউটার জব্দ করা হয়েছে।   মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে জেলা শহরের পুরাতন আদালত সড়কের ‘মারইয়াম প্রেস’ নামে দোকান থেকে তাকে আটক করা হয়। আটক সোহেল ওই প্রেসের স্বত্বাধিকারী এবং সদর উপজেলার টুমচর এলাকার বাসিন্দা।   পুলিশ জানায়, অবৈধভাবে ভোটের সিল তৈরি করা হচ্ছে এমন গোপন তথ্যের ভিত্তিতে মারইয়াম প্রেসে অভিযান চালানো হয়। এসময় দোকান থেকে ভোটের ব্যালট পেপারে ব্যবহৃত ছয়টি সিল জব্দ করা হয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হাসান মাহমুদ নাহিদ। পরে তার নির্দেশে সিলগুলোসহ একটি মোবাইলফোন ও কম্পিউটার জব্দ করা হয় এবং প্রেস মালিক সোহেলকে আটক করা হয়।   আটক সোহেল রানা জানিয়েছেন, তিনি অর্ডার পেয়ে সিলগুলো তৈরি করেছেন। তবে কে বা কারা ভোটের সিল বানানোর অর্ডার দিয়েছেন তা তিনি প্রকাশ করেননি।   জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হাসান মাহমুদ নাহিদ বলেন, কোনোভাবেই এই প্রেসে ভোটের সিল বানানো যাবে না। এটি সম্পূর্ণ অবৈধ। তিনি আরও জানিয়েছেন, আটক সোহেল রানার নামে নিয়মিত মামলা করা হবে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন ফেব্রুয়ারি ০৪, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত

ভোটকেন্দ্রে ক্যাডেট মোতায়েন বাতিল, পরিবর্তন আনা হয়েছে

ছবি: সংগৃহীত

সিনিয়র সাংবাদিক ফারুক মেহেদীর দুই বইয়ের মোড়ক উন্মোচন

দুই দেশের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষর। ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ-জাপানের মধ্যে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি হস্তান্তর চুক্তি

0 Comments