জাতীয়

বরখাস্ত-বদলির ঝড়, শুদ্ধি অভিযানে দুদকে আতঙ্ক!

Admin অক্টোবর ০৪, ২০২৫

গত বছরের আগস্টে নাটকীয় রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর থেকে দেশে নানামুখী সংস্কারের পাশাপাশি দুর্নীতি দমন ও প্রতিরোধের কাজও এগিয়ে চলছে। অভিযানের অগ্রভাগে থাকা খোদ দুর্নীতি দমন কমিশনও (দুদক) তার নিজস্ব ঘর গোছাতে বেশ কঠোর হয়েছে এবং কঠোর হতে চলেছে।

দীর্ঘদিন ধরে দুদকের অভ্যন্তরে থাকা দুর্নীতির অভিযোগ আমলে নিয়ে সংস্থাটি এরই মধ্যে অভিযোগ সংশ্লিষ্ট কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীকে শাস্তির আওতায় আনা শুরু করেছে। বিষয়টি দুদকের ভেতরে আতঙ্ক সৃষ্টি করলেও জনআস্থা ফেরাতে এটি ইতিবাচক বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। আর দুদক কর্মকর্তারা বলছেন, অভিযোগের প্রমাণ থাকলে ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে। তবে প্রমাণহীন অভিযোগে কারও বিরুদ্ধে যেন ব্যবস্থা নেওয়া না হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরে এরই মধ্যে ঘুষ, দুর্নীতি, অনৈতিক সুবিধা নেওয়া এবং নির্ধারিত সময়ে অনুসন্ধান প্রতিবেদন জমা না দেওয়াসহ নানা অভিযোগে দুদকের দুই পরিচালকসহ সাত কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। একজনকে চাকরিচ্যুত এবং দুই কর্মকর্তাকে ওএসডি করাসহ রদবদলের মতো শাস্তি দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ পেলেই দুদকের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবদুল মোমেনের নেতৃত্বাধীন কমিশন তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিচ্ছে। এসব ঘটনায় সংস্থাটির ভেতরে আতঙ্ক ও ভীতি কাজ করছে।

এছাড়া, জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত দুদকে বরখাস্ত ও রদবদলের ঝড় বয়ে গেছে। এই সময়ে দুই পরিচালক, তিন উপপরিচালক ও একজন উপসহকারী পরিচালককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে এবং দুই উপসহকারী পরিচালককে রিজার্ভ (ওএসডি) শাখায় বদলি করা হয়েছে। এছাড়া চলতি বছর দুই ডজনের বেশি কর্মকর্তাকে রদবদল করা হয়েছে।

সংস্থাটির ঊর্ধ্বতন সূত্র জানিয়েছে, আগামী কিছুদিনের মধ্যে অন্তত ৩০-এর বেশি কর্মকর্তা-কর্মচারী বিভিন্ন পর্যায়ে শাস্তির মুখোমুখি হতে পারেন।

চলতি বছরে শাস্তি ও বদলির মুখোমুখি হলেন যারা

চলতি বছরের ১৯ মার্চ সাময়িক বরখাস্ত করা হয় দুদকের সহকারী পরিচালক এস এম মামুনুর রশীদকে। তার বিরুদ্ধে ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন ও অসদাচরণের অভিযোগ আনা হয়েছে। মামুনুর রশিদের প্রাক্তন স্ত্রী ফারহানা ইয়াসমিন মিমের করা নারী ও শিশু নির্যাতন মামলা এবং যৌতুকের অভিযোগকে এক্ষেত্রে আমলে নেওয়া হয়েছে। দুদকের আদেশে ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হওয়াসহ দুদক (কর্মচারী) চাকরি বিধিমালা, ২০০৮ এর ২(ঝ) (৫) অনুযায়ী অসদাচরণের অভিযোগ আনা হয়।

গত ১৬ এপ্রিল ঘুষ গ্রহণ ও দুর্নীতির অভিযোগে উপ-সহকারী পরিচালক সুদীপ কুমার চৌধুরীকে চাকুরিচ্যুত করে দুদক। তাকে দুদক (কর্মচারী) চাকুরি বিধিমালা, ২০০৮ এর ৩৯(খ), ৩৯(৪), ৩৯(চ) ও ৪০(১) (খ)(৫) ধারায় চাকরি থেকে স্থায়ী বরখাস্ত করা হয়।

দুদকের নথিপত্রে অভিযোগের বিষয়ে বলা হয়েছে, বগুড়ায় উপসহকারী পরিচালক হিসেবে কর্মরত থাকাকালে সুদীপ কুমার চৌধুরী জেলা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের উপপরিদর্শক আলমগীর হোসেনের সম্পদ বিবরণী যাচাই করেন। সে সময় তাকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে সুদীপ কুমার ৭ লাখ টাকা উৎকোচ দাবি করেন। আলমগীরের খালাতো বোন বেগম সুমাইয়া শিরিন, বগুড়া বারের আইনজীবী মো. কামাল উদ্দিন ও সৈয়দ আসিফুর রহমানের মাধ্যমে তিনি দেড় লাখ টাকার বেশি উৎকোচ গ্রহণ করেন। ব্যক্তিগত মোবাইলে উৎকোচ দাবি ও গ্রহণের কথোপকথনের অডিও রেকর্ড দুদকের ফরেনসিক ল্যাবের মাধ্যমে প্রমাণিত হয়। যার পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৩ সালের ২০ জুলাই তাকে সাময়িক বরখাস্তের পর এখন স্থায়ীভাবে বরখাস্ত করা হয়।

গত ৬ আগস্ট দুদকের উপপরিচালক মো. আহসানুল কবীর পলাশকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ হলো সময়মতো অনুসন্ধান প্রতিবেদন দাখিল না করা। এ বিষয়ে দুদকের আদেশে বলা হয়, অভিযোগের বিষয়ে ২০২৩ সালের নভেম্বর থেকে আহসানুল কবীর পলাশকে অনুসন্ধান কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। কিন্তু তিনি সংশ্লিষ্ট নথি বিষয়ক কোনো প্রতিবেদন জমা না দেওয়ায় এবং সময় বৃদ্ধির আবেদনও না করায় দুর্নীতি দমন কমিশনের কর্মচারী বিধিমালা, ২০০৮ অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। গত ১৬ জুলাই কমিশন সভায় ৪৩(১) বিধি মোতাবেক তাকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্তের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

একই কারণে গত ১৭ জুলাই সাময়িক বরখাস্ত করা হয় প্রধান কার্যালয়ের উপপরিচালক কমলেশ মন্ডলকে। বরখাস্তের আদেশে বলা হয়, তার বিরুদ্ধে কর্মকালীন সময়ে ঢাকা ওয়াসার ঢাকা ওয়াটার সাপ্লাই নেটওয়ার্ক ইমপ্রুভমেন্ট প্রজেক্টের পিডি ও অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আখতারুজ্জামানসহ অন্যান্যদের বিরুদ্ধে এ প্রকল্পে মাঠপর্যায়ে লোকবল নিয়োগ এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আঁতাত করে দুর্নীতি করার অভিযোগের অনুসন্ধান প্রতিবেদন সময়মতো দাখিল করতে না পারার অভিযোগ রয়েছে।

ওই অভিযোগের বিষয়ে ২০২২ সালের ৪ ডিসেম্বর থেকে ২০২৫ সালের ১০ এপ্রিল পর্যন্ত অনুসন্ধান প্রতিবেদন দাখিল না করা এবং সময় বৃদ্ধির আবেদন না করায় দুর্নীতি দমন কমিশনের কর্মচারী বিধিমালা, ২০০৮ অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে ১০ জুলাই কমিশন সভায় ৪৩(১) বিধি মোতাবেক তাকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

চলতি বছরের জুলাই ও আগস্ট মাসেও ডজনের বেশি কর্মকর্তাকে নানা কারণে বদলি করার ঘটনা ঘটেছে। দুদক কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় পদক্ষেপ নেওয়া হয় গত সেপ্টেম্বর মাসে। ওই মাসে সবচেয়ে বেশি ও বড় পদের কর্মকর্তাদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। এর মধ্যে, গত ৪ সেপ্টেম্বর দুর্নীতির মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার নাম করে অর্থ আত্মসাৎসহ অনৈতিক সুবিধা গ্রহণ ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে উপপরিচালক মাহবুবুল আলম এবং উপসহকারী পরিচালক মোহাম্মদ জুলফিকারকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

ওই আদেশে বলা হয়েছে, দুদকের মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার নাম করে বিভিন্ন সময়ে আর্থিক সুবিধা গ্রহণ ও কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৭ আগস্ট তারিখে অনুষ্ঠিত কমিশন সভায় অভিযোগের গুরুত্ব ও রাষ্ট্রীয় স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (কর্মচারী) চাকরি বিধিমালা, ২০০৮ মোতাবেক তাদের চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্তের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। তাদের বিরুদ্ধে বিধিমালার ৪৩(১) বিধি অনুযায়ী এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

পরে ৮ সেপ্টেম্বর বরখাস্ত হন দুদকের পরিচালক ড. খান মো. মীজানুল ইসলাম। তার বিরুদ্ধে এভারকেয়ার হাসপাতালের পরিচালক মাহাবুবুল আনামের কাছ থেকে অনৈতিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। আদেশে বলা হয়, কমিশনের গোপন তথ্যানুসন্ধানে দেখা গেছে— তিনি গত ১৭ আগস্ট রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি হওয়া এবং চিকিৎসা শেষে গত ২০ আগস্ট বকেয়া চিকিৎসা বিল বাবদ দুই লাখ চার হাজার ১৩২ টাকা নিজে পরিশোধ করেননি। অভিযোগ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি মাহবুবুল আনাম কর্তৃক এ টাকার জিম্মা (গ্যারান্টি) প্রদানপূর্বক হাসপাতাল থেকে ডিসচার্জ হওয়ার বিষয়টির প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া যায়। ৪ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত দুর্নীতি দমন কমিশনের ‘অভ্যন্তরীণ দুর্নীতি দমন কমিটি’র সভায় অভিযোগটি উপস্থাপন করা হয়। সভায় তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এরই মধ্যে ব্যক্তিগত শুনানি শেষ হয়েছে।

অপরদিকে একই দিন তিন পরিচালক মো. রফিকুজ্জামান, মো. কামরুজ্জামান ও খন্দকার জাকির হোসেনকে প্রধান কার্যালয়ের তিন দপ্তরে অদল-বদল করে বদলি করা হয়েছে। এরপর গত ২১ সেপ্টেম্বর এক প্রজ্ঞাপনে পরিচালক পদমর্যাদার একমাত্র সিস্টেম অ্যানালিস্ট মো. রাজিব হাসানকেও সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। তার বিরুদ্ধে দুদক ও রাষ্ট্রের স্বার্থ বিরোধী কর্মকাণ্ডে লিপ্তসহ অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে।

দুদকের এ সংক্রান্ত আদেশে বলা হয়, গোয়েন্দা তথ্যানুসন্ধানে দুদক ও রাষ্ট্রের স্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত থেকে স্বীয় স্বার্থ হাসিল করে মো. রাজিব হাসান বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন বলে প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া যায়। গত ১৮ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত অভ্যন্তরীণ দুর্নীতি দমন কমিটির সভায় অভিযোগটি উপস্থাপিত হয় এবং তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত হয়। অভিযোগের গুরুত্ব ও রাষ্ট্রীয় স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (কর্মচারী) চাকরি বিধিমালা, ২০০৮ অনুযায়ী তাকে সাময়িক বরখাস্তের সিদ্ধান্ত হয়।

একই দিন অপর আদেশে সহকারী পরিচালক মাসুম আলী, মো. ইসমাইল, উপসহকারী পরিচালক মো. আল-আমিন ও মোহাম্মদ আলী হায়দারকে বদলি করা হয়।

২৩ সেপ্টেম্বরের আরেক আদেশে বাগেরহাটের উপসহকারী পরিচালক মো. আবুল হাসেমকে ওএসডি (রিজার্ভ শাখা) করে প্রধান কার্যালয়ে বদলি করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে ১০ লাখ টাকা ঘুষ দাবির অভিযোগ রয়েছে। ইতোমধ্যে বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়েছে। একই দিন অপর এক আদেশে সহকারী পরিদর্শক মো. রুহুল আমিন, গাড়িচালক শাহরিয়ার হাসান ও মো. আল আমিন খানকে ঢাকা ও সিলেট থেকে বদলি করা হয়েছে।

এরপর গত ২৮ সেপ্টেম্বর বদলি ও ওএসডি করা হয়েছে তিন কর্মকর্তাকে। যার মধ্যে সহকারী পরিচালক মো. আনিছুর রহমানকে ঢাকা থেকে বাগেরহাট, মোহাম্মদ মনিরুল ইসলামকে ঢাকা থেকে পিরোজপুর এবং উপসহকারী পরিচালক মো. আব্দুল্লাহ আল মামুনকে প্রধান কার্যালয়ে রিজার্ভ শাখায় দেওয়া হয়েছে। একই দিন পরিচালক আবুল হোসেন ঢাকায় ও রিজিয়া রহমানকে চট্টগ্রামের দুদক অফিসে বদলি করার তথ্য রয়েছে।

সর্বশেষ গত ২৯ সেপ্টেম্বর দুদকের তিন উপপরিচালক ও একজন উপসহকারী পরিচালককে বদলি করা হয়েছে।

‘উড়ো অভিযোগ’ নয়, সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পেলে ব্যবস্থার পক্ষে কর্মকর্তারা

অনিয়ম বা রাষ্ট্রের স্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িতদের শাস্তির মুখোমুখি করাকে কমিশনের ভেতরে-বাইরে সবাই স্বাগত জানাচ্ছে। তবে দুদক কর্মকর্তাদের মতে, অভিযোগ ওঠা আর প্রমাণ পাওয়া দুটি ভিন্ন বিষয়। শুধু অভিযোগ উঠলেই কাউকে দোষী ভাবা ঠিক নয়; গুরুতর অভিযোগ ও সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেলে তবেই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

দুদকের একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে ঢাকা পোস্টকে বলেন, আমরা কখনোই অপরাধের বিচার বা শাস্তির বিপক্ষে নই। তবে আমরা যে ধরনের কাজ করি, তা কখনোই কারও জন্য শুভকর বা স্বস্তিদায়ক নয়। অভিযোগ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অনেক ক্ষমতাধর হন। তাদের বিরুদ্ধে কাজ করাই বড় চ্যালেঞ্জের। সুবিধা না পেয়ে তারা বিভিন্ন সময় বেনামি ও উড়ো অভিযোগ করে থাকে। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ অনেক সময় তা সঙ্গে সঙ্গে আমলে নেয়। অনেক সময় কোনো ধরনের কারণ দর্শানোর নোটিশ ছাড়াই বিভাগীয় শাস্তি পেতে হয়। অপরাধের প্রমাণ পাওয়ার পর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিলে আপত্তি নেই।

‘এমনও দেখা গেছে, অভিযোগের ভিত্তিতে জাতীয় টাস্কফোর্সের আওতায় গঠিত যৌথ টিমের সদস্যকেও প্রত্যাহার করা হয়েছে। অথচ যৌথ টিম গঠনের সময় বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে অনুরোধ বা নির্দেশনা ছিল যে কোনো সদস্যকে অহেতুক যেন বদলি করা না হয়।’

কর্মকর্তা ও কর্মচারী পর্যায়ে আরও কয়েকজন ঢাকা পোস্টকে বলেছেন, দুদকের ভাবমূর্তি অক্ষুণ্ন রাখা আমাদের সবার দায়িত্ব। কমিশনের ভেতরে কেউ যদি অনিয়ম বা স্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ে, তবে তাকে ছাড় দেওয়া উচিত নয়।

‘সম্প্রতি যেসব কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে বা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে কমিশন সবচেয়ে ভালো বলতে পারবে। তবে অভিযোগ ওঠা আর প্রমাণ পাওয়া— দুটি বিষয় এক নয়। কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ এলেই তাকে দোষী ভাবা যায় না। গুরুতর ও সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেলে অবশ্যই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।’

তারা আরও বলেন, অনুসন্ধান ও তদন্তের কাজে দুদকের প্রতিটি কর্মকর্তা অতিরিক্ত চাপে থাকেন। বিশেষ করে ৫ আগস্টের পর দ্রুতগতিতে মামলা ও চার্জশিট দেওয়ার যে চাপ রয়েছে, তাতে অনেক কর্মকর্তা মানসিকভাবে বিধ্বস্তের মতো অবস্থায় আছেন। সীমিত লজিস্টিক সাপোর্ট ও জনবল নিয়ে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। তার ওপর দুদকের নিজস্ব কর্মকর্তাদেরই প্রকৃত কাজের দায়িত্ব নিতে হয়। ডেপুটেশনে যারা আসেন, তাদের অধিকাংশই তদারককারী ও বুদ্ধিদাতা হিসেবে কাজ করে থাকেন।

‘অনুসন্ধান ও তদন্ত অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং ধন্যবাদ অযোগ্য কাজ। দুদকের কাজে জীবনের ঝুঁকি ও চাকরির ভয় সবসময় থাকে। তাই ছোটখাটো ও অনিচ্ছাকৃত ভুল-ত্রুটি মার্জনার চোখে দেখা উচিত। যারা সততার সঙ্গে ভালো কাজ করছেন, তাদের পুরস্কৃত করাসহ বাড়তি সুযোগ-সুবিধার আওতায় আনা উচিত। শাস্তি ও পুরস্কার— দুটিই সমানভাবে কার্যকর হলে প্রতিষ্ঠান আরও শক্তিশালী ও জনআস্থার প্রতীক হয়ে উঠতে পারবে। আমরা চাই, কমিশনের প্রতিটি কর্মকর্তা নিরপেক্ষতা, সততা ও স্বচ্ছতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করুন, যাতে জনগণের আস্থা আরও দৃঢ় হয়।’

অনুসন্ধান ও তদন্তের পর চূড়ান্ত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে : দুদক মুখপাত্র

দুদকের অভ্যন্তরীণ শুদ্ধি অভিযান সম্পর্কে সম্প্রতি দুদক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবদুল মোমেন বলেন, ‘দুর্নীতি দমন কমিশনের অফিস যদি দুর্নীতিমুক্ত না হয়, তাহলে অন্য অফিসকে বলার নৈতিক অধিকারই থাকে না যে— তোমরা কেন দুর্নীতি করো? আমাদের নিজেদের মধ্যে যেটুকু দুর্নীতি রয়েছে, সেটা মুক্ত করতে হবে। আমরা সেটাই করার চেষ্টা করছি।’

এ বিষয়ে দুদকের মুখপাত্র ও মহাপরিচালক মো. আক্তার হোসেন ঢাকা পোস্টকে বলেন, ‘কারো বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে তা দুদকের অভ্যন্তরীণ দুর্নীতি নির্মূল কমিটির সভায় আলোচনা ও পর্যালোচনা হয়। অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেলে, তারপর তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থার সুপারিশ করে কমিটি। সুপারিশের ভিত্তিতে সাময়িক বরখাস্তকরণসহ বিভিন্ন আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে যদি অভিযোগ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বা কর্মচারীর বিরুদ্ধে ফৌজদারি কোনো অপরাধ পাওয়া যায়, সে বিষয়ে অনুসন্ধান ও তদন্ত হওয়ার পর চূড়ান্ত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এটা একটি চলমান প্রক্রিয়া।’

দুদক যদি দুর্নীতিমুক্ত হয় তাহলে দেশের দুর্নীতি এমনিতেই কমে যাবে

আইনজীবীসহ একাধিক পেশাজীবী দুদকের এমন পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। তারা বলছেন, দুদক নিজেদের অভ্যন্তরীণ দুর্নীতির বিরুদ্ধেও পদক্ষেপ নিচ্ছে, তা অত্যন্ত ইতিবাচক উদ্যোগ। এই বার্তা সবার কাছে পরিষ্কার হওয়া দরকার যে, অনিয়ম করলে কেউ রেহাই পাবে না। আমরা চাই এই ধারা অব্যাহত থাকুক। দুদকের শুদ্ধি অভিযানকে আমরা সাধুবাদ জানাই।

এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী নাদিম মাহমুদ ঢাকা পোস্টকে বলেন, দুদকের অভ্যন্তরীণ শুদ্ধি অভিযানকে অবশ্যই সাধুবাদ জানাই। নিরপেক্ষভাবে ভিন্ন সংস্থা দিয়ে তদন্ত করে দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে পারলে সবচেয়ে ভালো হয়। দুদক যদি দুর্নীতিমুক্ত হয় ও সঠিকভাবে কাজ করতে পারে, তাহলে দেশের দুর্নীতি এমনিতেই কমে যাবে।

‘আমরা চাই সরকারের নির্ধারিত মূল্যে সরকারি সেবা নিশ্চিত হোক। কোথাও ঘুষ ছাড়া কাজ হয় না। প্রয়োজনে দুদকের জনবল ও লজিস্টিক সহায়তা বৃদ্ধি করা হোক। দুদককে জনগণের যথাযথ সেবা নিশ্চিত করতে হবে’- বলেন নাদিম মাহমুদ।  

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

ছবি: সংগৃহীত
প্রতারণা মামলায় তৌহিদ আফ্রিদি ফের গ্রেপ্তার

  রাজধানীর ওয়ারী থানায় প্রতারণার অভিযোগে করা মামলায় মাইটিভির চেয়ারম্যান নাসির উদ্দিন সাথীর ছেলে ‘কনটেন্ট ক্রিয়েটর’ তৌহিদ আফ্রিদিকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।   সোমবার (১৫ জুন) পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. হাসান শাহাদাতের আদালত এ আদেশ দেন।   রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সৈয়দ গোলাম মুর্তজা ইবনে ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এর আগে, আসামিকে আদালতে হাজির করে এই মামলায় নতুন করে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ওয়ারী থানার উপপরিদর্শক মো. মাহফুজুর রহমান।   আবেদনে বলা হয়, এই মামলায় তদন্তে সন্দেহভাজন আসামি নিশাদুজ্জামান নিশাদকে জিজ্ঞাসাবাদে তৌহিদ উদ্দিন আফ্রিদির সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে জানা গেছে। মামলাটির তদন্ত স্বার্থে আসামিকে গ্রেপ্তার দেখানো একান্ত প্রয়োজন।   আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সৈয়দ গোলাম মুর্তজা ইবনে ইসলাম গ্রেপ্তার দেখানোর পক্ষে শুনানি করেন। আসামি পক্ষের আইনজীবী ইকবাল মাহমুদ শোভনের বিরোধিতা করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত তাকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেন।   উল্লেখ্য, গত বছরের ২৪ আগস্ট রাতে বরিশাল থেকে তৌহিদ আফ্রিদিকে গ্রেপ্তার করে সিআইডি পুলিশ। এরপর তাকে একাধিক মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে রিমান্ডে নেওয়া হয়। এখন পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে হত্যা মামলাসহ তিনটি মামলা চলমান।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জুন ১৫, ২০২৬

ঢাকা বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনাল উদ্বোধন ১৬ ডিসেম্বর: বিমান প্রতিমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

দিল্লিতে জাহেদ উর রহমান ইস্যুতে ব্যবস্থা নেবে ঢাকা: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

ফাইল ছবি

ভারতীয় ভিসার অ্যাপয়েন্টমেন্ট প্রক্রিয়ায় নতুন নির্দেশনা জারি

ছবি : সংগৃহীত
র‌্যাব বিলুপ্ত করে নতুন এলিট ফোর্স ‘এসআরবি’ গঠনের উদ্যোগ

আলোচিত-সমালোচিত এলিট ফোর্স র‌্যাবের নাম পরিবর্তন করতে যাচ্ছে সরকার। র‌্যাবের পরিবর্তে নতুন বিশেষায়িত বাহিনী হিসেবে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন’ (এসআরবি) গঠন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে র‌্যাব বিলুপ্ত করার প্রস্তাব করে নতুন আইনের একটি প্রাথমিক খসড়া তৈরি করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। খসড়া আইনের প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, “দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তাকে সুসংহতকরণ এবং সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে সমুন্নত রাখার লক্ষ্যে ‘আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ান অধ্যাদেশ ১৯৭৯’-এর অধীন গঠিত ‘র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ান’ (র‌্যাব) বিলুপ্ত করে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) নামে বাংলাদেশ পুলিশের সহায়ক একটি বিশেষায়িত বাহিনী গঠন, উহার নিয়ন্ত্রণ, পরিচালনা, শৃঙ্খলা ও রক্ষণাবেক্ষণ এবং আনুষঙ্গিক বিষয়ে আইন করা সমীচীন।” খসড়া আইনটি এখনো স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ‘প্রস্তুতি’ পর্যায়ে রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, যে খসড়াটি প্রস্তুত করা হয়েছে এতে সামান্য পরিবর্তন আসতে পারে। তবে মৌলিক কোনো পরিবর্তন করা হবে না। শিগগির খসড়াটি মন্ত্রিপরিষদের বৈঠকে প্রাথমিক অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে। এরপর এটা ভেটিংয়ের জন্য পাঠানো হবে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে। ভেটিংয়ের পর সেটা ফের মন্ত্রিপরিষদের বৈঠকে নীতিগত অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে। নীতিগত অনুমোদনের পর তা সংসদে বিল আকারে উত্থাপন করা হবে। বিল পাস হলেই তা পরিণত হবে আইনে। এর আগে গত মাসে র‍্যাবের ২২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠান শেষে র‌্যাব বিলুপ্তির ইঙ্গিত দিয়েছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। সাংবাদিকদের তিনি বলেছিলেন, ‘মানবাধিকারকে সমুন্নত রেখে এবং জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করে আগামীদিনে একটি আধুনিক ও পেশাদার এলিট ফোর্স গঠনের লক্ষ্যে কাজ করছে সরকার।’ সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, আগে র‌্যাবকে জবাবদিহির আওতায় আনার কোনো উপায় ছিল না। সে জন্য র‌্যাব নানা বিতর্কের জন্ম দেয়। এবার বিশেষায়িত এই বাহিনীকে জবাবদিহি ও গণমুখী করার চিন্তা করছে সরকার। সে জন্য সুনির্দিষ্ট আইন তৈরি করা হচ্ছে। আইনে জবাবদিহির বিষয়টি নিশ্চিত করা হচ্ছে, যাতে এই বিশেষায়িত বাহিনী জনগণের সেবায় কাজ করতে পারে। আর কোনো বিতর্কের জন্ম না দেয়। খসড়া আইনে বলা হয়েছে, এই আইনের অধীন কোনো বিধিমালা জারি না হওয়া পর্যন্ত ‘আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ান’ অধ্যাদেশ ১৯৭৯-এর ধারা ১৪ প্রদত্ত ক্ষমতা বলে জারিকৃত র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (কোর্ট পদ্ধতি ও বিভাগীয় কার্যধারা) বিধিমালা, ২০০৫ এবং এতৎসংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিধিমালা বহাল থাকবে। ওই অধ্যাদেশের অধীন র‌্যাব-এর সকল সম্পদ, অধিকার, ক্ষমতা, কর্তৃত্ব, সুবিধা, তহবিল, নগদ ও ব্যাংকে গচ্ছিত অর্থ, দায়, স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তি উক্ত সম্পত্তিতে যাবতীয় অধিকার ও স্বার্থ, সকল হিসাব বহি, রেজিস্টার, রেকর্ডপত্র এবং এতৎসংক্রান্ত সকল দলিল এই আইনের অধীন গঠিত স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)-এর নিকট তৎক্ষণাৎ স্থানান্তরিত এবং ন্যস্ত হবে। উক্ত আইনের অধীন প্রণীত বিধি বা প্রবিধান, কোনো চুক্তি, আইনগত দলিল বা চাকরির শর্তে যা কিছুই থাকুক না কেন, র‌্যাব এর সকল কর্মকর্তা ও আর্মড পার্সোনেল বা কর্মচারী এই আইনের অধীন স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) এর সদস্য হবেন এবং এই আইন প্রবর্তনের অব্যবহিত পূর্বে তারা যে শর্তাধীনে চাকুরিতে নিয়োজিত ছিলেন, এই আইনের বিধান অনুযায়ী পরিবর্তিত না হওয়া পর্যন্ত, সেই একই শর্তে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) এর চাকুরিতে নিয়োজিত থাকবেন। উক্ত আইনের অধীন র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের সকল দায় ও দায়িত্ব এবং উহার দ্বারা, উহার পক্ষে, বা উহার সহিত সম্পাদিত সকল চুক্তি যথাক্রমে এই আইনের অধীন এসআরবি-এর দায় ও দায়িত্ব এবং এর দ্বারা, এর পক্ষে বা সাথে সম্পাদিত চুক্তি বলে গণ্য হবে। উক্ত আইনের অধীন প্রণীত সকল বিধি, প্রবিধান বা আদেশ যা উক্ত আইন রহিত হওয়ার অব্যবহিত পূর্ব পর্যন্ত কার্যকর ছিল তা এই আইনের অধীন প্রণীত বিধি, প্রবিধান বা আদেশ দ্বারা রহিত বা সংশোধন না হওয়া পর্যন্ত প্রয়োজনীয় অভিযোজনসহ, যতদূর পর্যন্ত এই আইনের বিধানাবলির পরিপন্থি না হয় ততদূর পর্যন্ত, কার্যকর থাকবে। নতুন এই বাহিনীর দায়িত্ব ও কার্যাবলির মধ্যে রয়েছে—দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা রক্ষা; গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ; বেআইনি অস্ত্র ও বিস্ফোরক উদ্ধার; মাদকদ্রব্য উদ্ধার; সন্ত্রাসী কার্যক্রম দমন; অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহায়তা; সরকার বা আদালত কর্তৃক নির্দেশিত তদন্ত বা দায়িত্ব। এ ছাড়া প্রবেশ, তল্লাশি ও গ্রেপ্তারের ক্ষমতাও থাকেছে নতুন এই বাহিনীর। মাদক, অস্ত্র, গোলাবারুদ, অবৈধ কোনো সন্ত্রাসী বাহিনী গঠন বা আশ্রয়স্থল কিংবা সন্দেহজনক স্থান; কাউকে সন্ত্রাসী কার্য বা আমলযোগ্য অপরাধে জড়িত সন্দেহ মৰ্মে; বা অবৈধ অস্ত্ৰ বা সন্ত্রাসী কর্মে ব্যবহৃত উপাদান লুকোনো স্থানে প্রবেশ ও তল্লাশির ক্ষমতা দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া রাষ্ট্রের নিরাপত্তা বিঘ্নকারী কোন অপরাধ; সরকার, বা মহা-পুলিশ পরিদর্শকের নির্দেশমতে, বাহিনী কোনো অপরাধস্থল বা অপরাধীকে গ্রেপ্তারের উদ্দেশ্যে কার্যকর যে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবে। এ ব্যাপারে মানবাধিকার ও পরিবেশবাদী সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ  বলেন, ‘দেশীয় ও আন্তর্জাতিক সংগঠনগুলো যখন থেকে র‌্যাবের কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন তোলে, তখন থেকে আমিও র‌্যাবের কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করেছি। বিশেষ করে নারায়ণগঞ্জে সাত খুনের ঘটনার পর র‌্যাবের বিরুদ্ধে সবাই কথা বলতে থাকে। তিনি আরও বলেন, আমার কথা হচ্ছে, র‌্যাব বিলুপ্ত নয়, সরকার নাম পরিবর্তন করতে পারে। কারণ, এই বাহিনীতে অনেক দক্ষ লোক তৈরি হয়েছে। অনেক ভালো কাজও করেছে। সে কারণে যারা এই বাহিনীর ভেতরে থেকে অপরাধ করে, তাদের বিচার হোক। সে জন্য চাই, যে নামেই বাহিনী হোক না কেন, এই বাহিনীর সদস্যদের কাজের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা যেন নিশ্চিত করা হয়। এই বাহিনী দিয়ে আর যেন কোনো মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা না ঘটে।’ মূলত র‌্যাব বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ সন্ত্রাস দমনের উদ্দেশ্যে গঠিত বাংলাদেশ পুলিশের স্পেশাল ইউনিট। বাংলাদেশ পুলিশের অধীনে পরিচালিত এ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ২০০৪ সালের ২৬ মার্চ গঠিত হয় এবং একই বছরের ১৪ এপ্রিল তাদের কার্যক্রম শুরু করে। দ্য আর্মড পুলিশ অর্ডিন্যান্স ১৯৭৯ (সংশোধনী ২০০৪) অনুসারে বাংলাদেশ পুলিশ, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, বাংলাদেশ নৌবাহিনী, বাংলাদেশ বিমানবাহিনী, বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপি, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ, বাংলাদেশ কোস্টগার্ড সদস্যদের নিয়ে র‍্যাব গঠিত হয়। র‍্যাবের সদর দপ্তর ঢাকার উত্তরায় অবস্থিত। র‌্যাব গঠনের পর থেকেই এর কর্মকাণ্ড সমালোচনার মুখে পড়তে থাকে। এটি গঠনের পর র‍্যাবের ‘ক্রসফায়ারে’ ঢাকায় পিচ্চি হান্নানসহ কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় সন্ত্রাসী এবং দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে ‘চরমপন্থি সন্ত্রাসীরা’ একের পর এক নিহত হয়। এসব ঘটনার মধ্য দিয়ে আলোচনায় আসে র‍্যাব। ২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জে সাত খুনের ঘটনায় র‌্যাবের ভূমিকা সবাইকে অবাক করে দেয়। স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর নুর হোসেনের কাছ থেকে অর্থের বিনিময়ে র‍্যাব-১১-এর তৎকালীন অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল তারেক সাঈদসহ ১১ জন র‍্যাব সদস্য এ খুনের ঘটনাগুলোয় জড়িয়েছিলেন। গুম-খুনের কারণে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে সংস্থাটি। দেশীয় গণ্ডি পেরিয়ে এ সমালোচনা চলতে থাকে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো সংগঠনটির কার্যক্রম বন্ধের আহ্বান জানায়। গত দুই দশকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশ সবচেয়ে বেশি সমালোচিত হয়েছে গুম ও ক্রসফায়ারের ঘটনায়। আর এসব গুম ও ক্রসফায়ারের পেছনে বড় ভূমিকা রাখে র‌্যাব। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পরপরই র‍্যাব বিলুপ্ত করার পরামর্শ দিয়েছিল আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ। ২০২১ সালের ১০ ডিসেম্বর মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় র‍্যাবের সাবেক ও বর্তমান সাত কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয় যুক্তরাষ্ট্র। বিগত আওয়ামী ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের আন্দোলন চলাকালে ২০২৪ সালের ১ জুলাই থেকে ১৫ আগস্ট পর্যন্ত বাংলাদেশে সংঘটিত মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলো বিশ্লেষণ ও গুরুতর আহতসহ অনেক বিক্ষোভকারীর সঙ্গে কথা বলে একটি প্রতিবেদন দেয় জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের দপ্তরের (ওএইচসিএইচআর) তথ্যানুসন্ধান দল। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময়কে সামনে রেখে গত বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে ছাত্র-জনতার আন্দোলনে র‍্যাবের বলপ্রয়োগ ও গ্রেপ্তারের কথা উঠে আসে। ওএইচসিএইচআর ওই প্রতিবেদনে র‍্যাব বিলুপ্তির সুপারিশ করে। এমন বাস্তবতায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর গুম-সংক্রান্ত তদন্ত কমিশনও র‍্যাব বিলুপ্তির সুপারিশ করে। গত বছরের ৫ জানুয়ারি গুম-সংক্রান্ত তদন্ত কমিশনের দেওয়া এক হিসাবে উঠে এসেছে, মোট গুমের ঘটনার প্রায় ২৫ শতাংশের সঙ্গেই র‍্যাব জড়িত ছিল। একক বাহিনী হিসেবে এটা সর্বোচ্চ, তা ছাড়া সারা দেশে গুম কমিশন যে ৪০ গোপন বন্দিশালার সন্ধান পেয়েছে, তার মধ্যে ২২ থেকে ২৩টি ছিল র‍্যাবের। পুলিশের বিশেষ শাখার নথিতে সাত বছরে (২০১৫-২১ সাল) ১ হাজার ৭টি ক্রসফায়ারের ঘটনায় ১ হাজার ২৯৩ জন নিহত হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়। নথিগুলো বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, এসব ঘটনার ৬৫১টিতে পুলিশ ও ২৯৩টিতে র‍্যাবের নাম এসেছে। আরও ১০টি ঘটনায় যৌথভাবে পুলিশ, র‍্যাব, বিজিবিসহ বিভিন্ন বাহিনীর নাম এসেছে। ক্ষমতাসীন দল বিএনপিও অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ২০২৪ সালের ১০ ডিসেম্বর সংবাদ সম্মেলন করে র‍্যাবের বিলুপ্তি চেয়েছিল। ওই সংবাদ সম্মেলনে দলের তৎকালীন স্থায়ী কমিটির সদস্য ও বর্তমানে জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেছিলেন, ‘র‍্যাব আন্তর্জাতিকভাবেই এমনভাবে নিন্দিত হয়েছে...আর দেশে তো র‍্যাব মানেই একটা দানব তৈরি করা হয়েছে। তারা যত ধরনের খুন-গুম, যত এক্সট্রা জুডিসিয়াল কিলিং (বিচারবহির্ভূত হত্যা), অধিকাংশই এই র‍্যাব বাহিনীর মাধ্যমে হয়েছে। সে জন্য আমরা এটিকে বিলুপ্ত করার সুপারিশ করেছি।’ সংস্থাটি বিলুপ্ত করা হলে জনগণের কাছে একটা ভালো বার্তা যাবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। সংস্কার না করে বিলুপ্তির পক্ষেও তখন কথা বলেছিলেন তিনি। এবার সরকার সেটাই করতে যাচ্ছে।

মারিয়া রহমান জুন ১৫, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

দিল্লির বিমানবন্দর থেকে ফেরত আসছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ডা. জাহেদ

ছবি : সংগৃহীত

গণপরিবহনে জিপিএস বাধ্যতামূলক, ১ আগস্ট থেকে কার্যকর

ছবি: সংগৃহীত

ভোটাধিকার হারানোর শঙ্কায় বন্ধ ও রুগ্ণ কারখানার মালিকরা

সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। ছবি: সংগৃহীত
দেশজুড়ে তিন দিনব্যাপী ‘নজরুল বর্ষ’ শুরু

আগামী ১৮ জুন ২০২৬ থেকে সারা দেশের ৬৪টি জেলা এবং ৭৪টি প্রত্যন্ত ও বিশেষায়িত উপজেলায় একযোগে তিন দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হতে যাচ্ছে ‘নজরুল বর্ষ’র উদ্বোধনী কার্যক্রম। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আগামী ১৮ থেকে ২০ জুন ২০২৬ পর্যন্ত দেশব্যাপী এ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।    রোববার (১৪ জুন) সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আলি নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম ও সচিব কানিজ মওলাসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।   সংবাদ সম্মেলনে সংস্কৃতি মন্ত্রী জানান, গত ২৩ মে ২০২৬ তারিখে ময়মনসিংহের ত্রিশালে জাতীয় কবির ১২৭তম জন্মবার্ষিকী উদযাপনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ২৫ মে ২০২৬ হতে ২৫ মে ২০২৭ পর্যন্ত সময়কালকে রাষ্ট্রীয়ভাবে ‘নজরুল বর্ষ’ হিসেবে ঘোষণা করেছেন। এ ঐতিহাসিক ঘোষণাকে সফল ও সার্থক করতে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানসমূহ সুচারুভাবে আয়োজনের জন্য চলতি অর্থ বছরের বাজেট হতে দেশের প্রতিটি জেলা ও নির্দিষ্ট উপজেলায় ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।      মন্ত্রী গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বিগত ১৭ বছর বাংলা সাহিত্যে ও জাতীয় জীবনে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের অসামান্য অবদান ও দর্শনকে যথাযথভাবে ও মর্যাদার সাথে উপস্থাপন করা হয়নি। অথচ, বাংলাদেশের স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও জাতীয়তাবাদের ইতিহাসে নজরুলের চেতনা সবসময় আমাদের অন্যতম প্রধান শক্তির উৎস হিসেবে কাজ করেছে।    উল্লেখ্য, ১৯৭৬ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান কবি কাজী নজরুল ইসলামকে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে বেগম খালেদা জিয়ার সময়েও জাতীয় কবির সাহিত্যকর্ম ও দর্শন প্রসারে অভূতপূর্ব উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। বর্তমান সরকার কবি নজরুলের সাম্য, মানবতা ও অসাম্প্রদায়িক চেতনাকে নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দিতে বদ্ধপরিকর।    সংবাদ সম্মেলনে ‘নজরুল বর্ষ’ (২৫ মে ২০২৬ হতে ২৫ মে ২০২৭) উদযাপনে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় গৃহীত মূল কর্মপরিকল্পনাসমূহ তুলে ধরা হয়-   ১. জাতীয় কমিটি গঠন: জাতীয় পর্যায়ে অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণভাবে নজরুল বর্ষ পালনের লক্ষ্যে একটি উচ্চপর্যায়ের জাতীয় কমিটি গঠন করা হচ্ছে।   ২. লোগো ও পোস্টার প্রকাশ: নজরুল বর্ষের স্মারক হিসেবে একটি অনন্য ও দৃষ্টিনন্দন অফিসিয়াল লোগো এবং পোস্টার তৈরি করা হচ্ছে।   ৩. বিশেষ ক্যালেন্ডার ও ডাকটিকিট: বছরটিকে স্মরণীয় করে রাখতে ‘নজরুল বর্ষ ক্যালেন্ডার’ প্রণয়ন এবং ডাক বিভাগের মাধ্যমে ‘স্মারক ডাকটিকিট’ প্রকাশ করা হবে।   ৪. গবেষণা ও প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ: নজরুল বর্ষ উদযাপন শুধু উৎসব-অনুষ্ঠানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; কবির সাহিত্যকর্ম, দর্শন ও সঙ্গীত নিয়ে উচ্চতর গবেষণা ও আর্কাইভ সৃষ্টির জন্য বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।   ৫. আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সম্প্রসারণ: পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বাংলাদেশ দূতাবাসগুলোতে নজরুলের কালজয়ী সৃষ্টি ও দর্শনকে অত্যন্ত পেশাদারিত্বের সাথে ছড়িয়ে দেওয়া হবে।     সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, বিদ্রোহী কবি নজরুল ইসলামের সাম্য ও অসাম্প্রদায়িক জীবনদর্শন আজকের বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। এ ‘নজরুল বর্ষ’ উদযাপনকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে সফল করতে আমরা দেশের আপামর জনসাধারণ, বুদ্ধিজীবী মহল এবং সম্মানিত সাংবাদিক ভাই-বোনদের আন্তরিক সহযোগিতা ও সমর্থন কামনা করছি।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ১৫, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

আদ্-দ্বীন থেকে রেফারকৃত রোগীদের জরুরি চিকিৎসার নির্দেশ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের

ছবি: সংগৃহীত

দেশব্যাপী শুরু হচ্ছে ‘নজরুল বর্ষ’ উদযাপন কর্মসূচি

ছবি: সংগৃহীত

সংসদে বিতর্কিত মন্তব্য, সমালোচনার মুখে শামীম কায়সার

0 Comments