জাতীয়

বরখাস্ত-বদলির ঝড়, শুদ্ধি অভিযানে দুদকে আতঙ্ক!

Admin অক্টোবর ০৪, ২০২৫

গত বছরের আগস্টে নাটকীয় রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর থেকে দেশে নানামুখী সংস্কারের পাশাপাশি দুর্নীতি দমন ও প্রতিরোধের কাজও এগিয়ে চলছে। অভিযানের অগ্রভাগে থাকা খোদ দুর্নীতি দমন কমিশনও (দুদক) তার নিজস্ব ঘর গোছাতে বেশ কঠোর হয়েছে এবং কঠোর হতে চলেছে।

দীর্ঘদিন ধরে দুদকের অভ্যন্তরে থাকা দুর্নীতির অভিযোগ আমলে নিয়ে সংস্থাটি এরই মধ্যে অভিযোগ সংশ্লিষ্ট কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীকে শাস্তির আওতায় আনা শুরু করেছে। বিষয়টি দুদকের ভেতরে আতঙ্ক সৃষ্টি করলেও জনআস্থা ফেরাতে এটি ইতিবাচক বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। আর দুদক কর্মকর্তারা বলছেন, অভিযোগের প্রমাণ থাকলে ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে। তবে প্রমাণহীন অভিযোগে কারও বিরুদ্ধে যেন ব্যবস্থা নেওয়া না হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরে এরই মধ্যে ঘুষ, দুর্নীতি, অনৈতিক সুবিধা নেওয়া এবং নির্ধারিত সময়ে অনুসন্ধান প্রতিবেদন জমা না দেওয়াসহ নানা অভিযোগে দুদকের দুই পরিচালকসহ সাত কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। একজনকে চাকরিচ্যুত এবং দুই কর্মকর্তাকে ওএসডি করাসহ রদবদলের মতো শাস্তি দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ পেলেই দুদকের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবদুল মোমেনের নেতৃত্বাধীন কমিশন তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিচ্ছে। এসব ঘটনায় সংস্থাটির ভেতরে আতঙ্ক ও ভীতি কাজ করছে।

এছাড়া, জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত দুদকে বরখাস্ত ও রদবদলের ঝড় বয়ে গেছে। এই সময়ে দুই পরিচালক, তিন উপপরিচালক ও একজন উপসহকারী পরিচালককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে এবং দুই উপসহকারী পরিচালককে রিজার্ভ (ওএসডি) শাখায় বদলি করা হয়েছে। এছাড়া চলতি বছর দুই ডজনের বেশি কর্মকর্তাকে রদবদল করা হয়েছে।

সংস্থাটির ঊর্ধ্বতন সূত্র জানিয়েছে, আগামী কিছুদিনের মধ্যে অন্তত ৩০-এর বেশি কর্মকর্তা-কর্মচারী বিভিন্ন পর্যায়ে শাস্তির মুখোমুখি হতে পারেন।

চলতি বছরে শাস্তি ও বদলির মুখোমুখি হলেন যারা

চলতি বছরের ১৯ মার্চ সাময়িক বরখাস্ত করা হয় দুদকের সহকারী পরিচালক এস এম মামুনুর রশীদকে। তার বিরুদ্ধে ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন ও অসদাচরণের অভিযোগ আনা হয়েছে। মামুনুর রশিদের প্রাক্তন স্ত্রী ফারহানা ইয়াসমিন মিমের করা নারী ও শিশু নির্যাতন মামলা এবং যৌতুকের অভিযোগকে এক্ষেত্রে আমলে নেওয়া হয়েছে। দুদকের আদেশে ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হওয়াসহ দুদক (কর্মচারী) চাকরি বিধিমালা, ২০০৮ এর ২(ঝ) (৫) অনুযায়ী অসদাচরণের অভিযোগ আনা হয়।

গত ১৬ এপ্রিল ঘুষ গ্রহণ ও দুর্নীতির অভিযোগে উপ-সহকারী পরিচালক সুদীপ কুমার চৌধুরীকে চাকুরিচ্যুত করে দুদক। তাকে দুদক (কর্মচারী) চাকুরি বিধিমালা, ২০০৮ এর ৩৯(খ), ৩৯(৪), ৩৯(চ) ও ৪০(১) (খ)(৫) ধারায় চাকরি থেকে স্থায়ী বরখাস্ত করা হয়।

দুদকের নথিপত্রে অভিযোগের বিষয়ে বলা হয়েছে, বগুড়ায় উপসহকারী পরিচালক হিসেবে কর্মরত থাকাকালে সুদীপ কুমার চৌধুরী জেলা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের উপপরিদর্শক আলমগীর হোসেনের সম্পদ বিবরণী যাচাই করেন। সে সময় তাকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে সুদীপ কুমার ৭ লাখ টাকা উৎকোচ দাবি করেন। আলমগীরের খালাতো বোন বেগম সুমাইয়া শিরিন, বগুড়া বারের আইনজীবী মো. কামাল উদ্দিন ও সৈয়দ আসিফুর রহমানের মাধ্যমে তিনি দেড় লাখ টাকার বেশি উৎকোচ গ্রহণ করেন। ব্যক্তিগত মোবাইলে উৎকোচ দাবি ও গ্রহণের কথোপকথনের অডিও রেকর্ড দুদকের ফরেনসিক ল্যাবের মাধ্যমে প্রমাণিত হয়। যার পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৩ সালের ২০ জুলাই তাকে সাময়িক বরখাস্তের পর এখন স্থায়ীভাবে বরখাস্ত করা হয়।

গত ৬ আগস্ট দুদকের উপপরিচালক মো. আহসানুল কবীর পলাশকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ হলো সময়মতো অনুসন্ধান প্রতিবেদন দাখিল না করা। এ বিষয়ে দুদকের আদেশে বলা হয়, অভিযোগের বিষয়ে ২০২৩ সালের নভেম্বর থেকে আহসানুল কবীর পলাশকে অনুসন্ধান কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। কিন্তু তিনি সংশ্লিষ্ট নথি বিষয়ক কোনো প্রতিবেদন জমা না দেওয়ায় এবং সময় বৃদ্ধির আবেদনও না করায় দুর্নীতি দমন কমিশনের কর্মচারী বিধিমালা, ২০০৮ অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। গত ১৬ জুলাই কমিশন সভায় ৪৩(১) বিধি মোতাবেক তাকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্তের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

একই কারণে গত ১৭ জুলাই সাময়িক বরখাস্ত করা হয় প্রধান কার্যালয়ের উপপরিচালক কমলেশ মন্ডলকে। বরখাস্তের আদেশে বলা হয়, তার বিরুদ্ধে কর্মকালীন সময়ে ঢাকা ওয়াসার ঢাকা ওয়াটার সাপ্লাই নেটওয়ার্ক ইমপ্রুভমেন্ট প্রজেক্টের পিডি ও অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আখতারুজ্জামানসহ অন্যান্যদের বিরুদ্ধে এ প্রকল্পে মাঠপর্যায়ে লোকবল নিয়োগ এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আঁতাত করে দুর্নীতি করার অভিযোগের অনুসন্ধান প্রতিবেদন সময়মতো দাখিল করতে না পারার অভিযোগ রয়েছে।

ওই অভিযোগের বিষয়ে ২০২২ সালের ৪ ডিসেম্বর থেকে ২০২৫ সালের ১০ এপ্রিল পর্যন্ত অনুসন্ধান প্রতিবেদন দাখিল না করা এবং সময় বৃদ্ধির আবেদন না করায় দুর্নীতি দমন কমিশনের কর্মচারী বিধিমালা, ২০০৮ অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে ১০ জুলাই কমিশন সভায় ৪৩(১) বিধি মোতাবেক তাকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

চলতি বছরের জুলাই ও আগস্ট মাসেও ডজনের বেশি কর্মকর্তাকে নানা কারণে বদলি করার ঘটনা ঘটেছে। দুদক কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় পদক্ষেপ নেওয়া হয় গত সেপ্টেম্বর মাসে। ওই মাসে সবচেয়ে বেশি ও বড় পদের কর্মকর্তাদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। এর মধ্যে, গত ৪ সেপ্টেম্বর দুর্নীতির মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার নাম করে অর্থ আত্মসাৎসহ অনৈতিক সুবিধা গ্রহণ ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে উপপরিচালক মাহবুবুল আলম এবং উপসহকারী পরিচালক মোহাম্মদ জুলফিকারকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

ওই আদেশে বলা হয়েছে, দুদকের মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার নাম করে বিভিন্ন সময়ে আর্থিক সুবিধা গ্রহণ ও কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৭ আগস্ট তারিখে অনুষ্ঠিত কমিশন সভায় অভিযোগের গুরুত্ব ও রাষ্ট্রীয় স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (কর্মচারী) চাকরি বিধিমালা, ২০০৮ মোতাবেক তাদের চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্তের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। তাদের বিরুদ্ধে বিধিমালার ৪৩(১) বিধি অনুযায়ী এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

পরে ৮ সেপ্টেম্বর বরখাস্ত হন দুদকের পরিচালক ড. খান মো. মীজানুল ইসলাম। তার বিরুদ্ধে এভারকেয়ার হাসপাতালের পরিচালক মাহাবুবুল আনামের কাছ থেকে অনৈতিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। আদেশে বলা হয়, কমিশনের গোপন তথ্যানুসন্ধানে দেখা গেছে— তিনি গত ১৭ আগস্ট রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি হওয়া এবং চিকিৎসা শেষে গত ২০ আগস্ট বকেয়া চিকিৎসা বিল বাবদ দুই লাখ চার হাজার ১৩২ টাকা নিজে পরিশোধ করেননি। অভিযোগ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি মাহবুবুল আনাম কর্তৃক এ টাকার জিম্মা (গ্যারান্টি) প্রদানপূর্বক হাসপাতাল থেকে ডিসচার্জ হওয়ার বিষয়টির প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া যায়। ৪ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত দুর্নীতি দমন কমিশনের ‘অভ্যন্তরীণ দুর্নীতি দমন কমিটি’র সভায় অভিযোগটি উপস্থাপন করা হয়। সভায় তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এরই মধ্যে ব্যক্তিগত শুনানি শেষ হয়েছে।

অপরদিকে একই দিন তিন পরিচালক মো. রফিকুজ্জামান, মো. কামরুজ্জামান ও খন্দকার জাকির হোসেনকে প্রধান কার্যালয়ের তিন দপ্তরে অদল-বদল করে বদলি করা হয়েছে। এরপর গত ২১ সেপ্টেম্বর এক প্রজ্ঞাপনে পরিচালক পদমর্যাদার একমাত্র সিস্টেম অ্যানালিস্ট মো. রাজিব হাসানকেও সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। তার বিরুদ্ধে দুদক ও রাষ্ট্রের স্বার্থ বিরোধী কর্মকাণ্ডে লিপ্তসহ অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে।

দুদকের এ সংক্রান্ত আদেশে বলা হয়, গোয়েন্দা তথ্যানুসন্ধানে দুদক ও রাষ্ট্রের স্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত থেকে স্বীয় স্বার্থ হাসিল করে মো. রাজিব হাসান বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন বলে প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া যায়। গত ১৮ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত অভ্যন্তরীণ দুর্নীতি দমন কমিটির সভায় অভিযোগটি উপস্থাপিত হয় এবং তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত হয়। অভিযোগের গুরুত্ব ও রাষ্ট্রীয় স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (কর্মচারী) চাকরি বিধিমালা, ২০০৮ অনুযায়ী তাকে সাময়িক বরখাস্তের সিদ্ধান্ত হয়।

একই দিন অপর আদেশে সহকারী পরিচালক মাসুম আলী, মো. ইসমাইল, উপসহকারী পরিচালক মো. আল-আমিন ও মোহাম্মদ আলী হায়দারকে বদলি করা হয়।

২৩ সেপ্টেম্বরের আরেক আদেশে বাগেরহাটের উপসহকারী পরিচালক মো. আবুল হাসেমকে ওএসডি (রিজার্ভ শাখা) করে প্রধান কার্যালয়ে বদলি করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে ১০ লাখ টাকা ঘুষ দাবির অভিযোগ রয়েছে। ইতোমধ্যে বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়েছে। একই দিন অপর এক আদেশে সহকারী পরিদর্শক মো. রুহুল আমিন, গাড়িচালক শাহরিয়ার হাসান ও মো. আল আমিন খানকে ঢাকা ও সিলেট থেকে বদলি করা হয়েছে।

এরপর গত ২৮ সেপ্টেম্বর বদলি ও ওএসডি করা হয়েছে তিন কর্মকর্তাকে। যার মধ্যে সহকারী পরিচালক মো. আনিছুর রহমানকে ঢাকা থেকে বাগেরহাট, মোহাম্মদ মনিরুল ইসলামকে ঢাকা থেকে পিরোজপুর এবং উপসহকারী পরিচালক মো. আব্দুল্লাহ আল মামুনকে প্রধান কার্যালয়ে রিজার্ভ শাখায় দেওয়া হয়েছে। একই দিন পরিচালক আবুল হোসেন ঢাকায় ও রিজিয়া রহমানকে চট্টগ্রামের দুদক অফিসে বদলি করার তথ্য রয়েছে।

সর্বশেষ গত ২৯ সেপ্টেম্বর দুদকের তিন উপপরিচালক ও একজন উপসহকারী পরিচালককে বদলি করা হয়েছে।

‘উড়ো অভিযোগ’ নয়, সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পেলে ব্যবস্থার পক্ষে কর্মকর্তারা

অনিয়ম বা রাষ্ট্রের স্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িতদের শাস্তির মুখোমুখি করাকে কমিশনের ভেতরে-বাইরে সবাই স্বাগত জানাচ্ছে। তবে দুদক কর্মকর্তাদের মতে, অভিযোগ ওঠা আর প্রমাণ পাওয়া দুটি ভিন্ন বিষয়। শুধু অভিযোগ উঠলেই কাউকে দোষী ভাবা ঠিক নয়; গুরুতর অভিযোগ ও সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেলে তবেই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

দুদকের একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে ঢাকা পোস্টকে বলেন, আমরা কখনোই অপরাধের বিচার বা শাস্তির বিপক্ষে নই। তবে আমরা যে ধরনের কাজ করি, তা কখনোই কারও জন্য শুভকর বা স্বস্তিদায়ক নয়। অভিযোগ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অনেক ক্ষমতাধর হন। তাদের বিরুদ্ধে কাজ করাই বড় চ্যালেঞ্জের। সুবিধা না পেয়ে তারা বিভিন্ন সময় বেনামি ও উড়ো অভিযোগ করে থাকে। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ অনেক সময় তা সঙ্গে সঙ্গে আমলে নেয়। অনেক সময় কোনো ধরনের কারণ দর্শানোর নোটিশ ছাড়াই বিভাগীয় শাস্তি পেতে হয়। অপরাধের প্রমাণ পাওয়ার পর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিলে আপত্তি নেই।

‘এমনও দেখা গেছে, অভিযোগের ভিত্তিতে জাতীয় টাস্কফোর্সের আওতায় গঠিত যৌথ টিমের সদস্যকেও প্রত্যাহার করা হয়েছে। অথচ যৌথ টিম গঠনের সময় বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে অনুরোধ বা নির্দেশনা ছিল যে কোনো সদস্যকে অহেতুক যেন বদলি করা না হয়।’

কর্মকর্তা ও কর্মচারী পর্যায়ে আরও কয়েকজন ঢাকা পোস্টকে বলেছেন, দুদকের ভাবমূর্তি অক্ষুণ্ন রাখা আমাদের সবার দায়িত্ব। কমিশনের ভেতরে কেউ যদি অনিয়ম বা স্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ে, তবে তাকে ছাড় দেওয়া উচিত নয়।

‘সম্প্রতি যেসব কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে বা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে কমিশন সবচেয়ে ভালো বলতে পারবে। তবে অভিযোগ ওঠা আর প্রমাণ পাওয়া— দুটি বিষয় এক নয়। কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ এলেই তাকে দোষী ভাবা যায় না। গুরুতর ও সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেলে অবশ্যই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।’

তারা আরও বলেন, অনুসন্ধান ও তদন্তের কাজে দুদকের প্রতিটি কর্মকর্তা অতিরিক্ত চাপে থাকেন। বিশেষ করে ৫ আগস্টের পর দ্রুতগতিতে মামলা ও চার্জশিট দেওয়ার যে চাপ রয়েছে, তাতে অনেক কর্মকর্তা মানসিকভাবে বিধ্বস্তের মতো অবস্থায় আছেন। সীমিত লজিস্টিক সাপোর্ট ও জনবল নিয়ে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। তার ওপর দুদকের নিজস্ব কর্মকর্তাদেরই প্রকৃত কাজের দায়িত্ব নিতে হয়। ডেপুটেশনে যারা আসেন, তাদের অধিকাংশই তদারককারী ও বুদ্ধিদাতা হিসেবে কাজ করে থাকেন।

‘অনুসন্ধান ও তদন্ত অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং ধন্যবাদ অযোগ্য কাজ। দুদকের কাজে জীবনের ঝুঁকি ও চাকরির ভয় সবসময় থাকে। তাই ছোটখাটো ও অনিচ্ছাকৃত ভুল-ত্রুটি মার্জনার চোখে দেখা উচিত। যারা সততার সঙ্গে ভালো কাজ করছেন, তাদের পুরস্কৃত করাসহ বাড়তি সুযোগ-সুবিধার আওতায় আনা উচিত। শাস্তি ও পুরস্কার— দুটিই সমানভাবে কার্যকর হলে প্রতিষ্ঠান আরও শক্তিশালী ও জনআস্থার প্রতীক হয়ে উঠতে পারবে। আমরা চাই, কমিশনের প্রতিটি কর্মকর্তা নিরপেক্ষতা, সততা ও স্বচ্ছতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করুন, যাতে জনগণের আস্থা আরও দৃঢ় হয়।’

অনুসন্ধান ও তদন্তের পর চূড়ান্ত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে : দুদক মুখপাত্র

দুদকের অভ্যন্তরীণ শুদ্ধি অভিযান সম্পর্কে সম্প্রতি দুদক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবদুল মোমেন বলেন, ‘দুর্নীতি দমন কমিশনের অফিস যদি দুর্নীতিমুক্ত না হয়, তাহলে অন্য অফিসকে বলার নৈতিক অধিকারই থাকে না যে— তোমরা কেন দুর্নীতি করো? আমাদের নিজেদের মধ্যে যেটুকু দুর্নীতি রয়েছে, সেটা মুক্ত করতে হবে। আমরা সেটাই করার চেষ্টা করছি।’

এ বিষয়ে দুদকের মুখপাত্র ও মহাপরিচালক মো. আক্তার হোসেন ঢাকা পোস্টকে বলেন, ‘কারো বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে তা দুদকের অভ্যন্তরীণ দুর্নীতি নির্মূল কমিটির সভায় আলোচনা ও পর্যালোচনা হয়। অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেলে, তারপর তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থার সুপারিশ করে কমিটি। সুপারিশের ভিত্তিতে সাময়িক বরখাস্তকরণসহ বিভিন্ন আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে যদি অভিযোগ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বা কর্মচারীর বিরুদ্ধে ফৌজদারি কোনো অপরাধ পাওয়া যায়, সে বিষয়ে অনুসন্ধান ও তদন্ত হওয়ার পর চূড়ান্ত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এটা একটি চলমান প্রক্রিয়া।’

দুদক যদি দুর্নীতিমুক্ত হয় তাহলে দেশের দুর্নীতি এমনিতেই কমে যাবে

আইনজীবীসহ একাধিক পেশাজীবী দুদকের এমন পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। তারা বলছেন, দুদক নিজেদের অভ্যন্তরীণ দুর্নীতির বিরুদ্ধেও পদক্ষেপ নিচ্ছে, তা অত্যন্ত ইতিবাচক উদ্যোগ। এই বার্তা সবার কাছে পরিষ্কার হওয়া দরকার যে, অনিয়ম করলে কেউ রেহাই পাবে না। আমরা চাই এই ধারা অব্যাহত থাকুক। দুদকের শুদ্ধি অভিযানকে আমরা সাধুবাদ জানাই।

এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী নাদিম মাহমুদ ঢাকা পোস্টকে বলেন, দুদকের অভ্যন্তরীণ শুদ্ধি অভিযানকে অবশ্যই সাধুবাদ জানাই। নিরপেক্ষভাবে ভিন্ন সংস্থা দিয়ে তদন্ত করে দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে পারলে সবচেয়ে ভালো হয়। দুদক যদি দুর্নীতিমুক্ত হয় ও সঠিকভাবে কাজ করতে পারে, তাহলে দেশের দুর্নীতি এমনিতেই কমে যাবে।

‘আমরা চাই সরকারের নির্ধারিত মূল্যে সরকারি সেবা নিশ্চিত হোক। কোথাও ঘুষ ছাড়া কাজ হয় না। প্রয়োজনে দুদকের জনবল ও লজিস্টিক সহায়তা বৃদ্ধি করা হোক। দুদককে জনগণের যথাযথ সেবা নিশ্চিত করতে হবে’- বলেন নাদিম মাহমুদ।  

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

ছবি: সংগৃহীত
ডেঙ্গু মোকাবিলায় তরুণদের সক্রিয় হওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

ডেঙ্গু প্রতিরোধে সরকারের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিশেষ করে শিক্ষার্থী ও তরুণ প্রজন্মকে নিজেদের বাসাবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং আশপাশের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার কাজে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।   শনিবার (১৭ অক্টোবর) রাজধানীর রাজউক উত্তরা মডেল কলেজে ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিদর্শনকালে বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (বিএনসিসি) ও স্কাউট সদস্যদের উদ্দেশে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।   ডেঙ্গু পরিস্থিতি, চিকিৎসাসেবার মান এবং পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম সরেজমিনে দেখতে এদিন রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সরকারি ভবন আকস্মিক পরিদর্শন করেন তিনি।   হাসপাতাল পরিদর্শন, পরিচ্ছন্নতায় সাত দিনের সময় দিনের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী রাজধানীর কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী সরকারি হাসপাতাল পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি চিকিৎসাধীন রোগীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাঁদের চিকিৎসাসেবার খোঁজখবর নেন। হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্র (আইসিইউ), অস্ত্রোপচারকক্ষসহ বিভিন্ন বিভাগ ঘুরে দেখেন তিনি। হাসপাতালের সার্বিক ব্যবস্থাপনা ও পরিচ্ছন্নতা পরিস্থিতি দেখে অসন্তোষ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। পরিবেশ ও পরিচ্ছন্নতা ব্যবস্থার উন্নয়নে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে সাত দিনের সময় দেন তিনি। পরে রাজউক উত্তরা মডেল কলেজে গিয়ে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, বিএনসিসি ও স্কাউট সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার গুরুত্ব তুলে ধরেন তিনি।   প্রতিরোধই ডেঙ্গু মোকাবিলার কার্যকর উপায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, বছরের এই সময়ে, বিশেষ করে নভেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়তে পারে। প্রতিবছর এ রোগে বহু মানুষ আক্রান্ত হন এবং অনেকে প্রাণ হারান। তাই ডেঙ্গু মোকাবিলায় প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধের ওপর বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘ডেঙ্গুর সঙ্গে লড়াই করতে হলে সবচেয়ে ভালো উপায় হচ্ছে প্রতিরোধ। আর এ জন্য আমাদের চারপাশ পরিষ্কার রাখতে হবে। এই কাজে আমি তোমাদের সাহায্য চাই।’ তিনি আরও বলেন, দেশের বিপুলসংখ্যক তরুণ যদি নিজ নিজ বাসা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও আশপাশ পরিচ্ছন্ন রাখার দায়িত্ব নেয়, তাহলে ডেঙ্গু প্রতিরোধের পাশাপাশি পরিবেশ রক্ষায়ও ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব।   পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে নাগরিকদেরও দায়িত্ব নিতে হবে ঢাকার পরিচ্ছন্নতা পরিস্থিতি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঢাকা একটি বিশাল শহর, যেখানে দুই থেকে আড়াই কোটির বেশি মানুষের বসবাস। সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা নিয়মিত কাজ করলেও তাঁদের সক্ষমতার সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তাই শুধু সিটি করপোরেশন বা প্রশাসনের ওপর নির্ভর না করে নাগরিকদেরও দায়িত্ব পালন করতে হবে। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘তোমরা স্কাউট, গার্ল গাইড কিংবা রেড ক্রিসেন্টের সদস্য হও বা না হও, তোমরা সবাই এ দেশের নাগরিক। তোমরাই দেশের ভবিষ্যৎ। তাই নিজের বাসা, স্কুল, পাড়া ও আশপাশ পরিষ্কার রাখার দায়িত্ব তোমাদেরও নিতে হবে।’ যত্রতত্র ময়লা ফেলার প্রবণতা বন্ধে সামাজিক সচেতনতা তৈরির ওপরও গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী। কেউ নির্ধারিত স্থানের বাইরে ময়লা ফেললে তাকে সচেতন করার আহ্বান জানান তিনি। প্রধানমন্ত্রী জানান, নগরীর বিভিন্ন স্থানে ময়লা ফেলার জন্য ডাস্টবিন স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে অনেক জায়গা থেকে এসব ডাস্টবিন চুরি হচ্ছে। একইভাবে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে বিভিন্ন স্থানে লাগানো গাছের চারাও চুরি হচ্ছে। এসব কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে নাগরিকদের আরও সচেতন ও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।   জন্মদিনে একটি করে গাছ লাগানোর পরামর্শ পরিবেশ রক্ষা ও নগরীর সবুজায়ন বাড়াতে শিক্ষার্থীদের নিজেদের এবং পরিবারের সদস্যদের জন্মদিনে অন্তত একটি করে গাছ লাগানোর পরামর্শ দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘তোমার জন্মদিনে, ভাইবোনের জন্মদিনে কিংবা নানা-নানির জন্মদিনে একটি করে গাছ লাগানোর চেষ্টা করবে। সেটা তোমার বাসায় হতে পারে, স্কুলে হতে পারে কিংবা গ্রামের বাড়িতে হতে পারে। গাছগুলো যখন বড় হবে, তোমরাও তখন বড় হবে।’ রাজধানীতে তাপমাত্রা বৃদ্ধি ও সবুজের ঘাটতি নিয়েও কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। নিজের শৈশবের স্মৃতিচারণা করে তিনি জানান, একসময় ঢাকায় অনেক গাছপালা ও খোলা জায়গা ছিল। সময়ের সঙ্গে বহুতল ভবন বেড়েছে, কমেছে গাছপালা। ফলে শহরে গরমের অনুভূতিও বেড়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘গাছ যত বাড়বে, আমরা তত বুক ভরে শ্বাস নিতে পারব। গাছের পাতার ঝিরঝির শব্দ আমার খুব ভালো লাগে। আমরা সবাই মিলে গাছ লাগালে শহরের তাপমাত্রাও কিছুটা কমিয়ে আনা সম্ভব।’   পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য নগর গড়তে তরুণদের ভূমিকা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলাপচারিতায় প্রধানমন্ত্রী ডেঙ্গু প্রতিরোধ, পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং সবুজায়ন বাড়ানোর ক্ষেত্রে তরুণদের সক্রিয় অংশগ্রহণের ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি শিক্ষার্থীদের কাছে জানতে চান, নিজেদের স্কুল, বাসা, পাড়া ও আশপাশ পরিচ্ছন্ন রাখতে তাঁদের সহযোগিতা পাওয়া যাবে কি না। এ সময় শিক্ষার্থীরা ইতিবাচক সাড়া দেয়। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারের উদ্যোগের পাশাপাশি নাগরিকদের সচেতনতা ও সম্মিলিত প্রচেষ্টাই একটি পরিচ্ছন্ন, সবুজ ও বাসযোগ্য নগর গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

আক্তারুজ্জামান অক্টোবর ১৭, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ভোলায় নিষেধাজ্ঞা ভেঙে ইলিশ শিকার, ৩৮ জেলে আটক ও বিপুল পরিমাণ জাল জব্দ

ছবি: সংগৃহীত

টঙ্গীর প্রেসক্লাব মার্কেটে ভয়াবহ আগুন, পুড়ে ছাই ৯ দোকান

ছবি: সংগৃহীত

সরকার ও বিরোধী দলের ভূমিকায় রাষ্ট্রসংস্কার নিয়ে অনিশ্চয়তা: টিআইবি

ছবি: সংগৃহীত
আজারবাইজানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে হুমায়ুন কবির

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির আজারবাইজানের রাজধানী বাকুতে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী জেহুন বায়রামভের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেছেন।   শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে তুরস্কে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এম আমানুল হক উপস্থিত ছিলেন।   তিনি একই সঙ্গে আজারবাইজানেও বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন।   বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে বিমান যোগাযোগ, দক্ষ জনশক্তি অভিবাসন ও জ্বালানি সরবরাহসহ বিভিন্ন খাতে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা আরও জোরদার করার বিষয়ে আলোচনা করেন দুই মন্ত্রী।   আজারবাইজানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশকে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি আগামী দিনগুলোতে দুই দেশের সম্পর্ক আরও গতিশীল করার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।   এ ছাড়া সিআইসিএ শীর্ষ সম্মেলনে অংশগ্রহণের জন্য পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান তিনি।   অন্যদিকে, চলমান সংঘাতের মধ্যে ইরান থেকে আটকে পড়া বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপদে সরিয়ে আনার ক্ষেত্রে সহযোগিতা করায় আজারবাইজানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান হুমায়ুন কবির।

মো: দেলোয়ার হোসাইন অক্টোবর ১৭, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

সিসিটিভি ফুটেজে ধরা পড়ল সাবেক অতিরিক্ত সচিবের মৃত্যুর ঘটনা

ছবি: সংগৃহীত

পূজামণ্ডপে নারী ও শিশুদের সহায়তায় এসআরবির হেল্প ডেস্ক স্থাপন

ছবি: সংগৃহীত

নির্মাণাধীন অফিসার্স ক্লাব ভবন থেকে সাবেক অতিরিক্ত সচিবের মরদেহ উদ্ধার

ছবি: সংগৃহীত
সংবিধান সব ধর্মাবলম্বীর অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাধ্য: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের পূজা এলেই নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে রাখতে হবে, এমন আলোচনা উঠে—এটি জাতীয় জীবনের জন্য দুঃখজনক। সংবিধান সব ধর্মাবলম্বীর অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাধ্য। অতীতে অনেকেই হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের ব্যবহার করে রাজনৈতিক ফায়দা নিয়েছেন।   শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) রাতে রাজধানীর বনানী পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা সবাই বাংলাদেশের নাগরিক। সবাই সমান অধিকারের অধিকারী। সংবিধানে সব ধর্মের মানুষের স্বাধীনভাবে ধর্মচর্চা, আচার-অনুষ্ঠান পালন ও উপাসনালয় প্রতিষ্ঠার অধিকার দেওয়া হয়েছে। ধর্মের ভিত্তিতে কোনো বৈষম্য করা যাবে না। তারপরও কেন পূজার সময় নিরাপত্তা নিয়ে বিশেষভাবে কথা বলতে হয়, তা জাতীয় জীবনের জন্য দুঃখজনক।’   তিনি জানান, পৃথিবীর সব দেশেই কোনো না কোনো ধর্মের মানুষ সংখ্যাগরিষ্ঠ। তবে সব দেশেই কমবেশি বিভিন্ন ধর্মাবলম্বী মানুষ বসবাস করেন। নাগরিক হিসেবে সবার অধিকার স্বীকৃত। বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবেও প্রত্যেকের সাংবিধানিক অধিকার সুরক্ষিত থাকা উচিত।   সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘অতীতে আপনাদের ব্যবহার করে রাজনৈতিক ফায়দা অনেকেই লুটেছেন। আমরা সেই প্রসঙ্গে যাব না। কিন্তু বাংলাদেশের স্বাধীন নাগরিক হিসেবে আপনারা নিজেরাই বিচার করবেন, কোন সময়ে আপনাদের গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক অধিকার সুরক্ষিত থাকে। হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের কারও ভোটব্যাংক হওয়ার প্রয়োজন নেই।’   তিনি আরও বলেন, সব ধর্মের মানুষের নিজস্ব বিশ্বাস, রীতিনীতি ও আচার-অনুষ্ঠান রয়েছে। এগুলো মানুষের হৃদয়ের কাছাকাছি। তাই প্রত্যেক ধর্মাবলম্বীর উচিত অন্য ধর্মের বিশ্বাস ও ধর্মীয় আচারের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা।   স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, আগামী বছরগুলোতেও দুর্গাপূজাসহ সব ধর্মীয় উৎসব মানুষ স্বাধীনভাবে ও আনন্দের সঙ্গে উদযাপন করতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সরকার সব সময় সহযোগিতা করবে।   বনানী পূজামণ্ডপের আয়োজনের প্রশংসা করে তিনি বলেন, দেশীয় সংস্কৃতি, উপাদান ও নকশায় মণ্ডপটি সাজানো হয়েছে, যা প্রশংসনীয়। তিনি আয়োজকদের উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি, শান্তি ও মঙ্গল কামনা করেন।   ৩৩ হাজারের বেশি পূজামণ্ডপের দায়িত্বে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী: আইজিপি একই অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির বলেন, সারা দেশে ৩৩ হাজারের বেশি পূজামণ্ডপে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এক লাখের বেশি সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। শান্তিপূর্ণভাবে পূজা উদযাপন নিশ্চিত করতে পুলিশ কাজ করছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশনায় সব ধর্মের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা কাজ করে যাচ্ছেন।   আইজিপি বলেন, দায়িত্ব পালনের পরও একটি পক্ষ থেকে পূজার আয়োজন নিয়ন্ত্রিতভাবে পরিচালিত হচ্ছে বলে অভিযোগ করা হচ্ছে, যা দুঃখজনক। যারা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটিয়ে সুযোগ নিতে চায়, তারা এমন চেষ্টা করতেই পারে। তবে সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব। হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান—সব ধর্মের মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন অক্টোবর ১৬, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

মক্কায় ২ বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর: জানানো হয়নি বাংলাদেশকে, তথ্য চেয়ে সৌদিকে চিঠি

ছবি: সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে ৯ মাসে ৪১০টি অপতথ্য প্রচার : প্রেস সচিব

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

ধর্ম যার যার, নিরাপত্তা পাওয়ার অধিকার সবার: প্রধানমন্ত্রী

0 Comments