জাতীয়

নারীকে জড়িয়ে ভয়ংকর অপতথ্যের জাল

Unknown অক্টোবর ১৫, ২০২৫

নারীকে জড়িয়ে সমাজমাধ্যমের বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম থেকে শুরু করে দেশের অখ্যাত বিভিন্ন অনলাইন মিডিয়াতে ছড়িয়ে পড়ছে ভয়ংকর অপতথ্যের জাল।

 

আগে সাধারণ নারীরা অপতথ্যের ভুক্তভোগী ছিলেন। কিন্তু এখন আধুনিক প্রযুক্তি যেমন আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে অন্তর্বর্তী সরকারের নারী উপদেষ্টা থেকে শুরু করে রাজনৈতিক ব্যক্তি, জুলাই আন্দোলনের নারী সমন্বয়ক এবং নারী তারকাদের মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর ছবি-ভিডিও তৈরি করে তাদের বিব্রত করা হচ্ছে। ফ্যাক্ট চেকিং প্রতিষ্ঠান রিউমর স্ক্যানারের বিশ্লেষণে জানা যায়, চলতি বছরের ৯ মাসে শনাক্ত হওয়া ভুয়া তথ্যের ২১ শতাংশ ক্ষেত্রে জড়ানো হয়েছে নারীদের।

 

এ সময়ে ২৭৬ জন নারীকে জড়িয়ে ৫৬৭টি অপতথ্য শনাক্ত হয়। ২৫ জন নারী রাজনীতিবিদকে জড়িয়ে ছড়ানো হয় ২৩৭টি অপতথ্য। এর মধ্যে দুই নারী উপদেষ্টাকে জড়িয়েও ছড়িয়েছে অপতথ্য।

 

বিনোদন জগতের ২৯ জন নারী তারকাকে জড়িয়ে ৬৮টি অপতথ্য শনাক্ত হয়েছে। আর সমন্বয়কের ভুয়া পরিচয় দিয়ে ক্রমাগত ভিন্ন নারীর ভুয়া ভিডিও-ছবি প্রচার করা হয়েছে। নারীকে জড়িয়ে ধর্ষণ সংক্রান্ত ৪৪টি ঘটনায় অপতথ্য শনাক্ত হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অনেক সময় নারীদের নামে ভুয়া কনটেন্ট তৈরি করে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়।

 

যার উদ্দেশ্য কখনো চরিত্রহনন, কখনো তাকে হেয়প্রতিপন্ন করা, কখনো বা জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি করা। এসব অপতথ্য শুধু ব্যক্তিগত ক্ষতিই করে না, নারীর সামাজিক অবস্থান, নিরাপত্তা ও অংশগ্রহণকেও প্রশ্নের মুখে ফেলে।

 

 

গত ৯ মাসে দেশের অন্তত সাতটি রাজনৈতিক দল ও তাদের অঙ্গ সংগঠনের ২৫ জন নারী নেতা-কর্মীকে জড়িয়ে ২৩৭টি অপতথ্য প্রচার করা হয়েছে। এর মধ্যে কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্ট নারীদের জড়িয়ে সবচেয়ে বেশি ১৮৮টি অপতথ্যের প্রচার দেখা যায়।

 

সবচেয়ে বেশি গুজব ছড়ানো হয়েছে দলটির সভাপতি শেখ হাসিনাকে জড়িয়ে। এসব অপতথ্যের প্রায় ৮৮ শতাংশ ক্ষেত্রেই শেখ হাসিনাকে ইতিবাচকভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। শেখ হাসিনা ছাড়াও তার পরিবারের আরও তিন নারী সদস্যকে (মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুল, বোন শেখ রেহানা, বোনের মেয়ে টিউলিপ সিদ্দিক) জড়িয়ে আরও ২১টি অপতথ্যের প্রচার ছিল এই ৯ মাসে।

 

এ ছাড়া দলটির নেত্রী দীপু মনি, মমতাজ বেগম, সেলিনা হায়াৎ আইভী এবং জান্নাত আরা হেনরীকে জড়িয়ে প্রচার হওয়া অপতথ্য শনাক্ত করা হয়েছে।

 

বিএনপি ও তার অঙ্গ সংগঠনের অন্তত আটজন নারী নেতা-কর্মীকে জড়িয়ে গত ৯ মাসে ২৩টি অপতথ্য শনাক্ত হয়েছে। দলটির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক রুমিন ফারহানাকে জড়িয়ে প্রচার হয়েছে ৯টি অপতথ্য। এ ছাড়া বেগম খালেদা জিয়াকে নিয়ে ৮টি, ডা. জুবাইদা রহমান ও তার মেয়ে জাইমা রহমানকে নিয়ে একটি করে অপতথ্যসহ আরও বেশ কয়েকটি অপতথ্য ছড়ানো হয়।

 

নতুন আত্মপ্রকাশ করা রাজনৈতিক দল এনসিপির নারী নেত্রীদের জড়িয়ে নিয়মিত অপপ্রচার লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এর ভুক্তভোগী দলটির নেতৃস্থানীয় পর্যায়ের একাধিক নারী সদস্য। এনসিপি ও এর অঙ্গসংগঠনের সাত নারী নেত্রীকে জড়িয়ে ৯ মাসে অন্তত ৩২টি অপতথ্য শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে দলটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব তাসনিম জারাকে জড়িয়েই প্রচার হয়েছে ১৯টি অপতথ্য।

 

অন্তর্বর্তী সরকারের দুজন নারী উপদেষ্টাকে জড়িয়ে গত ৯ মাসে ১০টি অপতথ্য শনাক্ত হয়েছে। এদের মধ্যে একজন সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানকে নিয়ে ৯টি আর ফরিদা আখতারকে জড়িয়ে একটি অপতথ্য প্রচারের প্রমাণ মিলেছে।

 

ডিজিটাল মাধ্যমে অপতথ্যের বড় শিকার বিনোদন জগতের নারীরা। অভিনেত্রী, মডেল, উপস্থাপক ও সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সারদের নাম পরিচয় ও ছবি ব্যবহার করে ছড়ানো হচ্ছে বিভ্রান্তিকর তথ্য। এর মধ্যে আছে ভুয়া ভিডিও, এআই দিয়ে তৈরি কনটেন্ট ও মৃত্যুর গুজব। চলতি বছরের প্রথম ৯ মাসে বিনোদন জগতের ২৯ জন নারী তারকাকে জড়িয়ে অন্তত ৬৮টি অপতথ্য শনাক্ত করে রিউমর স্ক্যানার।

 

জুলাই আন্দোলনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশ নেওয়া নারী নেত্রীদের মধ্যে অন্তত আটজনকে জড়িয়ে চলতি বছর ৩২টি অপতথ্য প্রচার করা হয়। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক তানজিনা তাম্মিম খবর ৭১ কে বলেন, আগের চেয়ে নারীদের রাজনীতিতে সম্পৃক্ততা বাড়লেও দুঃখজনকভাবে আন্দোলন পরবর্তী সময়ে এসে নারীরা সাইবার বুলিংয়ের শিকার হচ্ছে। তারা নানাভাবে হেনস্তার শিকার।

 

এ ছাড়া চলতি বছর নারীদের জড়িয়ে ছড়ানো ভুয়া তথ্যগুলোর মধ্যে ৪৪টি ঘটনায় ধর্ষণের বিষয় ছিল। এসব অপতথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায় ৪৮ শতাংশ ক্ষেত্রেই ধর্ষণের কোনো আলামত ছিল না। তবু ধর্ষণের ঘটনা হিসেবে দাবিগুলো ছড়িয়ে দেওয়া হয়। রিউমর স্ক্যানারের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও ডেপুটি এডিটর মো. ছাকিউজ্জামান বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যে নারীরাই বিভিন্ন ইস্যুতে ভাইরাল হচ্ছেন তাদের এআই প্রযুক্তির কারণে বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে। এআই প্রযুুক্তি প্রতিনিয়ত পরিবর্তন হওয়ার কারণে সাধারণ মানুষদের কাছে এআই দিয়ে তৈরি করা কনটেন্ট শনাক্ত করা কিছুটা কঠিন। প্রয়োজনে তারা ফ্যাক্ট চেকিং ওয়েবসাইট ও ফ্যাক্ট চেকারদের সহায়তা নিতে পারেন।

 

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

বাংলাদেশ একবারই স্বাধীন হয়েছে, জুলাই সেই স্বাধীনতা রক্ষার লড়াই: ইশরাক

  বাংলাদেশ একবারই স্বাধীন হয়েছে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে উল্লেখ করে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন বলেছেন, মহান মুক্তিযুদ্ধ আমাদের একটি স্বাধীন রাষ্ট্র, একটি সার্বভৌম ভূখণ্ড এবং একটি গর্বিত পতাকা দিয়েছে। জুলাই সেই স্বাধীনতাকে রক্ষা করার এক রক্তাক্ত লড়াই। জুলাই স্বাধীন বাংলাদেশের মানুষের অধিকার, মর্যাদা ও গণতান্ত্রিক মালিকানা পুনঃপ্রতিষ্ঠার সংগ্রাম। মহান মুক্তিযুদ্ধ আমাদের জাতির ভিত্তি।   বুধবার (৫ আগস্ট) জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।     ইশরাক হোসেন বলেন, সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচারের যে আকাঙ্ক্ষা মুক্তিযুদ্ধের মূল প্রেরণা ছিল জুলাইয়ের ছাত্র জনতার কণ্ঠে সেই আকাঙ্ক্ষাই আবার উচ্চারিত হয়েছে। সার্বভৌমত্ব শুধু মানচিত্র ও সীমান্তের বিষয় নয়। সার্বভৌমত্বের অর্থ বাংলাদেশের সিদ্ধান্ত নেবে বাংলাদেশের জনগণ। বাংলাদেশ কোনও দেশীয় স্বৈরশক্তির কাছে মাথা নত করবে না। কোনও বিদেশি হস্তক্ষেপের কাছেও মাথা নত করবে না। বাংলাদেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনও আপস হবে না। কিন্তু মানুষের এই অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য আমাদের অত্যন্ত ভারী মূল্য দিতে হয়েছে।   তিনি বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে নিরস্ত্র ছাত্রজনতার ওপর নির্বিচারে গুলি চালানো হয়। মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। আহতদের উপর নির্যাতন করা হয়েছে। রাজপথে হাসপাতালে এবং মানুষের ঘরে ঘরে ভয় ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। জুলাই শহীদদের পরিবারের সদস্যদের আমি বলতে চাই আপনারা একা নন। আপনারা রাষ্ট্রের কাছে অনুগ্রহপ্রার্থী নন বরং রাষ্ট্র আপনাদের কাছে ঋণী। আপনাদের সন্তান ভাই বোন, স্বামী কিংবা পিতা শুধু একটি পরিবারের সদস্য নন। তারা সমগ্র জাতির গর্ব। তাদের রক্তের ঋণ, শুধু বক্তব্য, স্মরণসভা কিংবা ফুল দিয়ে শোধ করা যাবে না। সেই ঋণ শোধ করতে হবে সত্য প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে, তাদের পরিবারের মর্যাদা নিশ্চিত করার মাধ্যমে এবং হত্যাকারীদের বিচার সম্পন্ন করার মাধ্যমে।   প্রতিমন্ত্রী বলেন, আজ এই রাষ্ট্রীয় মঞ্চ থেকে আমি স্পষ্টভাবে ঘোষণা করতে চাই— জুলাই গণহত্যার পরিকল্পনাকারী, নির্দেশদাতা, বাস্তবায়নকারী ও সহযোগী কেউই বিচারের বাইরে থাকতে পারবে না। যে হাত গুলি চালিয়েছে যে মুখ হত্যার নির্দেশ দিয়েছে, যে শক্তি গণহত্যার পরিকল্পনা করেছে, যারা আলামত নষ্ট করেছে এবং যারা অপরাধীদের আশ্রয় কিংবা পালিয়ে যেতে সহযোগিতা করেছে প্রত্যেককে জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। এই বিচার প্রতিশোধের বিচার হবে না, এই বিচার হবে প্রমাণভিত্তিক, স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ এবং আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য। আমরা আংশিক বিচার চাই না, পূর্ণাঙ্গ বিচার চাই। আমরা দীর্ঘসূত্রতা চাই না। কিন্তু যৌক্তিক সময়ের মধ্যে গ্রহণযোগ্য বিচার চাই। কারণ বিচারের অযৌক্তিক বিলম্ব শহীদ পরিবারগুলোর প্রতি আরেকটি অন্যায় হবে।      তিনি বলেন, জুলাই গণহত্যার বিচার সম্পন্ন করা শুধু একটি সরকারের রাজনৈতিক অঙ্গীকার নয়। এটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের নৈতিক ও সাংবিধানিক দায়িত্ব। আমাদের আহত জুলাই যোদ্ধাদের অনেকেই আজও অসহনীয় কষ্ট করে চলেছেন। কেউ দৃষ্টি শক্তি হারিয়েছেন, কেউ হাত কিংবা পা হারিয়েছেন। আবার কেউ স্থায়ীভাবে পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন। আমি তাদের বলতে চাই আপনারা অসহায় নন। আপনারা কারও বোঝা নন। আপনারা এই জাতির সম্মানিত যোদ্ধা। আপনাদের চিকিৎসা, পুনর্বাসন, শিক্ষা, প্রশিক্ষণ, কর্মসংস্থান ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। কোনও আহত জুলাই যোদ্ধা চিকিৎসার অভাব পাবেন না। কোনও শহীদ পরিবার অবহলিত থাকবেন না। এটাই আমাদের আগামী দিনের অঙ্গীকার। জুলাইয়ের ইতিহাসকে আমরা হারিয়ে যেতে দেবো না। ইতিহাস বিকৃত করতে দেবো না। শহীদদের আত্মত্যাগ সংকীর্ণ রাজনীতির স্বার্থে ব্যবহার করতে দেবো না। শহীদ ও আহতদের পরিচয় তাদের সাক্ষ্য এবং জুলাইয়ের প্রত্যেকটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা হবে। ভবিষ্যত প্রজন্ম জানতে পারবে কীভাবে বাংলাদেশের ছাত্রজনতা অন্যায়ের বিরুদ্ধে বুক পেতে দাঁড়িয়েছিল। প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় জুলাই শহীদ পরিবার ও আহত জুলাই যোদ্ধাদের পাশে থাকবে। মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব থেকে এবং আপনাদেরই একজন হিসেবে আমি আজ আবারো জাতির সামনে অঙ্গীকার করছি শহীদদের রাষ্ট্রীয় মর্যাদা নিশ্চিত করা হবে। আহত জুলাই যোদ্ধাদের চিকিৎসা পুনর্বাসন ও সম্মান নিশ্চিত করা হবে। জুলাইয়ের ইতিহাস সংরক্ষণ করা হবে এবং গণহত্যায় জড়িত প্রত্যেক অপরাধীর বিচার সম্পন্ন করা হবে।   তিনি বলেন, ১৯৭১ আমাদের শিখিয়েছে পরাধীনতার কাছে মাথা নত করা যায় না। জুলাই আমাদের স্মরণ করিয়ে দিয়েছে স্বাধীন দেশে স্বৈরাচার ও অন্যায়ের কাছেও মাথা নত করা যায় না। বাংলাদেশ কোনও ব্যক্তি পরিবার দল কিংবা দেশ শক্তির সম্পত্তি নয়। বাংলাদেশ তার জনগণের বাংলাদেশের মালিক বাংলাদেশের জনগণ।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি আগস্ট ০৫, ২০২৬

জুলাই-পরবর্তী বাংলাদেশকে কোনোভাবেই পরনির্ভরশীল রাষ্ট্র হিসেবে দেখতে চায় না সরকার: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

দেশের জনগণের জন্য গণতন্ত্রকে চিরস্থায়ী করে যাব: ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি

ছবি: সংগৃহীত

‘যে ডকুমেন্টারিতে শহীদ আবু সাঈদের ছবি নেই, সেটা কোনো ডকুমেন্টারি নয়’: ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি

দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

তিনি বলেন, উগ্রবাদ দমন এবং দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গোয়েন্দা সংস্থা ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী সবসময় তৎপর রয়েছে।   পুলিশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এটি পুলিশের নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ। টহল বা দায়িত্ব পালনের সময় কোনো সদস্য যেন একা বা অসতর্ক অবস্থায় না থাকেন, সে জন্য নিয়মিত নির্দেশনা দেওয়া হয়। বিষয়টিকে ভিন্নভাবে দেখার কোনো কারণ নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।   নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দলের কার্যক্রম প্রসঙ্গে সালাহ উদ্দিন আহমদ বলেন, মাঠপর্যায়ে তাদের কোনো প্রভাব নেই। তারা মাঝেমধ্যে বিদেশ থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করলেও দেশে কোনো ধরনের অপতৎপরতা চালানোর সক্ষমতা তাদের নেই।   সাম্প্রতিক সময়ে এনসিপির ওপর হামলার অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, ঘটনাগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত করা হবে এবং তদন্তে যাদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যাবে, তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।   রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এটি নির্বাচন কমিশনের এখতিয়ারভুক্ত বিষয়। এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্বও নির্বাচন কমিশনের।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি আগস্ট ০৫, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

‘তারা নাকি ডিসেম্বরে দেশে আসবে, আসেন রাজপথে দেখা হবে’: ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি

ছবি: সংগৃহীত

প্রয়োজনে আবারও রাজপথে নামব, আমিও থাকব: আসিফ নজরুল

ছবি: সংগৃহীত

জুলাই স্মৃতি জাদুঘর উন্মোচন করবে ফ্যাসিবাদের মুখোশ: প্রধানমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
জুলাই স্মৃতি জাদুঘর গণতান্ত্রিক সংগ্রামের জীবন্ত সাক্ষ্য: সংস্কৃতিমন্ত্রী

সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বলেছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর দেশের গণতান্ত্রিক সংগ্রাম, আত্মত্যাগ এবং ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের এক জীবন্ত দলিল। তিনি বলেন, ‘কোনো ত্যাগ, কোনো সংগ্রাম কোনোদিন বৃথা যায় না। ইতিহাস কখনও মিথ্যা হয় না। জুলাই গণঅভ্যুত্থান তারই উজ্জ্বল প্রমাণ।’   বুধবার (৫ আগস্ট) রাজধানীতে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সংস্কৃতিমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ প্রায় দুই দশকের স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদবিরোধী গণতান্ত্রিক আন্দোলনের চূড়ান্ত পরিণতি ছিল জুলাই গণঅভ্যুত্থান। এ আন্দোলনে শহীদ ও আহতদের আত্মত্যাগ জাতির ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।   তিনি বলেন, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানের গভীরতা, তাৎপর্য ও ব্যাপকতা বিশ্লেষণ করলে বোঝা যায়, কীভাবে গণতন্ত্রের নামে একটি রাষ্ট্র তার গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধ্বংস করে জনগণের ওপর নিপীড়ন, নির্যাতন ও হত্যাযজ্ঞ চালাতে পারে।’ নিতাই রায় চৌধুরী জানান, সেই ইতিহাস ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে সংরক্ষণ ও তুলে ধরার লক্ষ্যেই জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জাদুঘরটির কার্যক্রম শুরু হলেও পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে এটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।   তিনি আরও বলেন, এই জাদুঘরে নিয়মিত গবেষণা হবে। নতুন প্রজন্ম যেন জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা, মানুষের আকাঙ্ক্ষা এবং গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠনের স্বপ্ন সম্পর্কে জানতে পারে, সেই পরিবেশ আমরা গড়ে তুলতে চাই।   জুলাই গণঅভ্যুত্থানের তাৎপর্য তুলে ধরে সংস্কৃতিমন্ত্রী বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান দেখিয়ে দিয়েছে কীভাবে মাত্র ২০ দিনের আন্দোলনে একটি ফ্যাসিবাদী শাসনব্যবস্থা ভেঙে পড়তে পারে। ১৫ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট- এই ২০ দিনেই তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়েছিল ফ্যাসিবাদী শক্তির সাজানো সাম্রাজ্য। জুলাই গণঅভ্যুত্থান সেই ইতিহাসেরই নাম।

মো: দেলোয়ার হোসাইন আগস্ট ০৫, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

জুলাই স্মৃতি জাদুঘর ইতিহাসের নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে: ড. ইউনূস

ছবি: সংগৃহীত

তিস্তার পানি বিপৎসীমার ১৩ সেন্টিমিটার ওপরে

ছবি: সংগৃহীত

জুলাই স্মৃতি জাদুঘর উদ্ধোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

0 Comments