জাতীয়

দুর্ঘটনার পর ঝুঁকি নিয়ে চলে ২ ট্রেন, নকশা পুনর্মূল্যায়ন চান বিশেষজ্ঞরা

আক্তারুজ্জামান অক্টোবর ২৭, ২০২৫ 0
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর ফার্মগেট এলাকায় মেট্রোরেলের একটি পিলারের বিয়ারিং প্যাড খুলে পড়ে এক পথচারী নিহত হওয়ার ঘটনায় তদন্তে নেমেছে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়। ইতোমধ্যে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মেট্রোরেলের পুরো প্রকল্প পুনর্মূল্যায়ন করে নকশাগত ত্রুটি খতিয়ে দেখা এখন সময়ের দাবি।

 

এদিকে অভিযোগ উঠেছে, বিয়ারিং প্যাড খুলে পড়ার পরও সতর্কতা উপেক্ষা করে ঝুঁকিপূর্ণভাবে ওই পথে আরও দুটি ট্রেন চালানো হয়। এই অভিযোগ উঠেছে মেট্রোরেলের অপারেশন কন্ট্রোল সেন্টারের (ওসিসি) বিরুদ্ধে।

 

এমআরটি লাইন–৬–এর একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘটনাস্থলের কাছাকাছি তিনটি ট্রেন চলছিল। প্রথম ট্রেনের অপারেটর ওসিসিকে জানান, ফার্মগেট স্টেশনে প্রবেশের সময় ট্রেন ‘লাফ’ দিয়েছে। তবে দ্বিতীয় ট্রেনের জন্য কোনো সতর্কতা দেওয়া হয়নি। দ্বিতীয় ট্রেন প্রবেশের সময় ডেবে গিয়ে আবার লাফিয়ে ওঠে। যাত্রীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। এরপরও ট্রেন চলাচল বন্ধ না করে আরও একটি ট্রেন ফার্মগেট থেকে বিজয় সরণির দিকে চালানো হয়। পরে ওসিসি থেকে ট্রেনগুলোকে প্ল্যাটফর্মে থামার নির্দেশ দেওয়া হয়।

 

ঘটনার পর পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, পড়ে যাওয়া বিয়ারিং প্যাডটি দীর্ঘদিন ধরে ধীরে ধীরে ক্ষয়প্রাপ্ত হচ্ছিল। এর এক প্রান্ত পাতলা ও অন্য প্রান্ত মোটা হয়ে যায়, ফলে ট্রেনের চাপ পড়ায় সেটি খুলে পড়ে। রক্ষণাবেক্ষণ দল বিষয়টি নজরে নেয়নি বলে ধারণা করা হচ্ছে।

 

ডিএমটিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফারুক আহমেদ বলেন, সম্ভবত ট্রেনের ধাক্কা বা স্লিপের কারণে বিয়ারিং প্যাডটি সরে পড়ে গেছে। আমরা কন্ট্রাক্টরদের মাধ্যমে তদন্ত শুরু করেছি। বাইরে থেকে বিশেষজ্ঞ এনে বিষয়টি পর্যালোচনা করা হবে।

 

যোগাযোগ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ফার্মগেট ও খামারবাড়ি এলাকার মেট্রোরেল অংশে নকশাগত ত্রুটির কারণে বারবার দুর্ঘটনা ঘটছে। কার্ভ সেকশনগুলো হাই–স্পিড চলাচলের উপযোগী নয় এবং বিয়ারিং প্যাডের গাইডিং মেকানিজম দুর্বল থাকতে পারে। তারা স্ক্রু–লক বা সুরক্ষিত কাঠামো ব্যবহার এবং নিরপেক্ষ বিশেষজ্ঞ প্যানেল দিয়ে প্রকল্পের পূর্ণাঙ্গ অডিট করার পরামর্শ দিয়েছেন।

 

বুয়েটের অধ্যাপক ড. মো. হাদিউজ্জামান বলেন, ঢাকা মেট্রোরেলকে হাই–স্পিড করিডর ঘোষণা দেওয়া হলেও কার্ভ অংশে নকশাগত সীমাবদ্ধতার কারণে গতি কমাতে হচ্ছে, যা প্রকল্পের নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা দুটোই ক্ষুণ্ন করছে।

 

তিনি আরও বলেন, বিয়ারিং প্যাডের সঠিক গাইডিং মেকানিজম নেই, ফলে সময়ের সঙ্গে স্থানচ্যুত হয়ে দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি করছে। পুরো লাইন পুনরায় অডিট করে বিশেষজ্ঞ কমিটি দিয়ে নকশা পুনর্মূল্যায়ন করা উচিত।

 

সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান জানিয়েছেন, সেতু বিভাগের সচিব মোহাম্মদ আব্দুর রউফকে আহ্বায়ক করে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে দুই সপ্তাহের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

 

তিনি বলেন, পিলার থেকে বিয়ারিং প্যাড খুলে পড়ার ঘটনায় নাশকতার আশঙ্কাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

ছবি : সংগৃহীত
দরিদ্র বাড়িয়ে বিদায় দারিদ্র্যের জাদুকরের

শান্তিতে নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের একটি বিখ্যাত দর্শন হচ্ছে ‘দারিদ্র্যকে জাদুঘরে পাঠানো’।   বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব নিয়ে দারিদ্র্য বিমোচনের একটি দারুণ সুযোগ পেয়েছিলেন তিনি। বাস্তবতা হচ্ছে- সে সুযোগটি তিনি কাজে লাগাতে পারেননি। তার আমলে দেশে নতুন করে ৩০ লাখ লোক দরিদ্র হয়েছেন।   বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন থেকে সৃষ্ট গণ অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে শপথ নেন। ঠিকভাবে দায়িত্ব সামাল দিতে নিজের পছন্দমতো উপদেষ্টা পরিষদ ও বিশেষ সহকারী নিয়োগ দেন। উপরন্তু বিএনপি-জামায়াত-এনসিপিসহ অভ্যুত্থানের পক্ষের রাজনৈতিক ও ছাত্র শক্তিগুলোর ব্যাপক সমর্থন ছিল তাঁর প্রতি। যে কারণে ঘুনে ধরা রাষ্ট্রীয় কাঠামোয় ব্যাপক সংস্কারের মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচন, দুর্নীতি প্রতিরোধ, ব্যবসাবাণিজ্যসহ আর্থিক খাতে স্থিতিশীলতা আনার পাশাপাশি প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা তৈরির ব্যাপক সুযোগ ছিল ড. ইউনূসের। তিনি সেই সুযোগ নিতে ব্যর্থ হয়েছেন।   বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি প্রফেসর আবদুল বায়েস বলেন, তিনি একজন অর্থনীতিবিদ হিসেবে সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার পর দেশের মানুষের প্রত্যাশা ছিল বিপর্যস্ত অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াবে। অথচ তাঁর সময়ে অর্থনীতি মুখ থুবড়ে পড়েছে। প্রবাসী আয় ও রিজার্ভ বৃদ্ধি ছাড়া অর্থনীতির সব সূচকই ছিল নিম্নমুখী। ব্যবসাবাণিজ্যে ছিল আস্থার সংকট। শিল্প-কারখানাগুলোর উৎপাদন ছিল নিম্নমুখী। না ছিল কোনো নতুন উদ্যোগ, না এসেছে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ। উল্টো দেশে বেকারত্ব ও গরিব মানুষের সংখ্যা বেড়েছে। আন্তর্জাতিক সংস্থা বিশ্বব্যাংকের হিসাবে প্রায় ৩০ লাখ নতুন দরিদ্র্য হয়েছে ড. ইউনূসের আমলে।   ব্যক্তি খাতের গড় বিনিয়োগ চার দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন : ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত বেসরকারি খাতের গড় বিনিয়োগ হার ছিল জিডিপির ২৪ শতাংশ। ২০২৫ সালের জুনে তা কমে ২২ দশমিক ৪৮ শতাংশে নেমে আসে। বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ এক বছরে প্রায় ১ দশমিক ৫ শতাংশ পয়েন্ট পতনের ঘটনাটি ছিল গত চার দশকের মধ্যে নজিরবিহীন।   ১০ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন এডিপি : শুধু যে বেসরকারি বিনিয়োগ কমেছে তা নয়, সরকারি বিনিয়োগ গত ১০ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে। বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সিপিডির প্রতিবেদন অনুযায়ী, বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি বা এডিপি বাস্তবায়ন ছিল গত ১০ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। সরকারি বিনিয়োগ হিসেবে প্রচলিত এডিপি বাস্তবায়নের হার জুলাই থেকে নভেম্বর পর্যন্ত ছিল সাড়ে ১১ শতাংশ। গত ১০ বছরে এর চেয়ে কম এডিপি বাস্তবায়ন হয়নি।    খেলাপি ঋণের হার বিশ্বে সর্বোচ্চ : ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর প্রান্তিক শেষে (৩০ সেপ্টেম্বর) দেশের ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণের স্থিতি ৬ লাখ ৪৪ হাজার ৫১৫ কোটি টাকায় ঠেকেছে, যা বিতরণকৃত ঋণের ৩৫ দশমিক ৭৩ শতাংশ। আগের বছরের ডিসেম্বর শেষেও বিতরণকৃত ঋণের ২০ দশমিক ২ শতাংশ খেলাপি ছিল। এর মধ্যেই ব্যাংক খাতে যে পরিমাণ খেলাপি ঋণ বেড়েছে তা নজিরবিহীন। গবেষণা সংস্থার তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, বাংলাদেশের ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের হার এখন বিশ্বে সর্বোচ্চ।   ২৩ লাখ কোটি টাকার ঋণের বোঝা : নির্বাচিত সরকারের ঘাড়ে ২৩ লাখ কোটি টাকা ঋণের বোঝা রেখে বিদায় নিলেন ড. ইউনূস। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যানুসারে, ২০২৪-২৫ অর্থবছর শেষে দেশি-বিদেশি উৎস থেকে নেওয়া সরকারি ঋণের পরিমাণ ছিল ২২ লাখ ৫০ হাজার ৯০৪ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরের জুলাই-ডিসেম্বর মেয়াদে ব্যাংকিং উৎস থেকে ৬১ হাজার ১৪৮ কোটি টাকা নিয়েছে ড. ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার। এ ছাড়া আলোচ্য সময়ে আরও প্রায় ১৩ হাজার কোটি টাকার বিদেশি ঋণ নেওয়া হয়েছে।   মজুরি হারের চেয়ে মূল্যস্ফীতি বেশি : ডিসেম্বরে মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৮ দশমিক ৫ শতাংশ। একই সময়ে মজুরি বৃদ্ধির হার ছিল ৮ দশমিক ১ শতাংশের নিচে। দেখা যাচ্ছে, ভোক্তার মজুরি বাড়ার হারের চেয়ে মূল্যস্ফীতির হার এখনো বেশি। এ কারণে মানুষের আয়ের চেয়ে খরচ হচ্ছে বেশি। কমেছে ক্রয়ক্ষমতা। অথচ মূল্যস্ফীতি কমাতে সরকার নীতিনির্ধারণী সুদের হার বাড়িয়ে রেখেছে। এর ফলে ব্যাংক ঋণের সুদের হার বেড়ে গেছে। বেসরকারি খাতের ঋণ সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে গেছে। বেড়েছে ব্যবসাবাণিজ্যে পরিচালন ব্যয়।   অর্থনীতির সব সূচকে যখন বিপর্যয় নেমে এসেছে তখন বেড়েছে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার মজুত। ড. মুহাম্মদ ইউনূস তাঁর বিদায়ি ভাষণে এ রিজার্ভ বৃদ্ধির বিষয়টি গৌরবের সঙ্গে উল্লেখ করেছেন। অর্থনৈতিক অবস্থার বর্ণনা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘এখন যাওয়ার সময় স্বস্তি পাচ্ছি যে, আমরা অবস্থার মোকাবিলা করতে পেরেছি।   আমাদের রিজার্ভের পরিমাণ এখন ৩৪ বিলিয়ন ডলার। প্রবাসীদের রেমিট্যান্সের টাকায় রিজার্ভ বাড়ছে। খাদ্য মূল্যস্ফীতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।’   ড. ইউনূসের এ রিজার্ভ রাজনীতির সমালোচনা করে যুক্তরাজ্যে বসবাসরত শিক্ষক ও গবেষক ড. লুবনা তুরীন তার ফেসবুক পোস্টে উল্লেখ করেন, রিজার্ভ কোনো রাষ্ট্রের লক্ষ্য না, এটা একটা উপকরণ। লক্ষ্য হওয়া উচিত উৎপাদন সক্ষমতা, কর্মসংস্থান, খাদ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তা এবং সর্বোপরি নীতিগত স্বাধীনতা। রিজার্ভ বাড়ছে কি না এ প্রশ্নের চেয়েও কনসার্নিং হচ্ছে, এ রিজার্ভ কোন দামে তৈরি হচ্ছে, কার ক্ষতির বিনিময়ে এবং ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রকে কোন কাঠামোয় আটকে রেখে। এ গবেষকের মতে, বিদ্যুৎ উৎপাদন কমিয়ে, আমদানি সংকুচিত করে, শিল্প খাতকে চাপে ফেলে এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়িয়ে রাষ্ট্রকে ‘শক্ত’ দেখানের জন্যই রিজার্ভ বাড়ানোর দিকে মনোযোগী ছিলেন ড. ইউনূস।   প্রতিশ্রুতি, দায় ও সুবিধা গ্রহণ : দায়িত্ব গ্রহণ করে জাতির উদ্দেশে দেওয়া প্রথম ভাষণে ড. ইউনূস প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, গণতন্ত্রকে সুসংহত করতে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করবেন, ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ নিশ্চিত করবেন, ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানকে সফল পরিণতি দিতে প্রশাসন, বিচার বিভাগ, নির্বাচন কমিশন ও নির্বাচনি ব্যবস্থা, আইনশৃঙ্খলা খাত এবং তথ্যপ্রবাহে প্রয়োজনীয় সংস্কার সম্পূর্ণ করে অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজন করবেন, যার লক্ষ্য হবে দুর্নীতি, লুটপাট ও গণহত্যার বিরুদ্ধে একটি জবাবদিহিমূলক রাজনৈতিক বন্দোবস্তের সূচনা। সংশ্লিষ্টদের মতে, একটি শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠান ছাড়া তিনি তাঁর দেওয়া সব প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে পারেননি। তাঁর  আমলে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে নিয়োজিত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। দুর্নীতির অভিযোগ তাঁর সরকারের উপদেষ্টার ব্যক্তিগত কর্মকর্তাকে সাসপেন্ড করাও হয়েছে। দুদক অভিযোগ তদন্ত করছে। অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টারা যে সম্পদের হিসাব দিয়েছেন তা নিয়েও রয়েছে জনমনে সন্দেহ ও বিস্তর প্রশ্ন। এমনকি তিনি প্রধান উপদেষ্টা পদে আসীন থেকে তার স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে কর ছাড়াসহ বিভিন্ন সুবিধা দেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে। ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে থাকা শ্রম আইন লঙ্ঘন ও অর্থ পাচারের মামলা দ্রুত খারিজ হয়ে যাওয়ায় স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তাঁর প্রতিষ্ঠিত গ্রামীণ ব্যাংকের কর মওকুফ ও সরকারিভাবে ব্যাংকে শেয়ারের পরিমাণ ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করা হয়েছে। এ ছাড়া গ্রামীণ গ্রুপের কয়েকটি প্রতিষ্ঠান দ্রুত সরকারি অনুমোদন ও বিশেষ সুবিধা পায়। এর মধ্যে রয়েছে ঢাকা শহরে গ্রামীণ ইউনিভার্সিটির অনুমোদন, গ্রামীণ এমপ্লয়মেন্ট সার্ভিসেসের জনশক্তি রপ্তানির লাইসেন্স, গ্রামীণ টেলিকমের ডিজিটাল ওয়ালেট চালুর অনুমতি।   সচেতন মহলের অভিমত, ড. ইউনূস বিদায়ি ভাষণে কতগুলো অধ্যাদেশ জারি করেছেন আর কী কী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন তা প্রচার করলেও এসব সুবিধা নেওয়ার বিষয়ে কোনো জবাব দেননি। ১৮ মাস অন্তর্বর্তী সরকারপ্রধানের দায়িত্বে থাকলেও তিনি দেশের গণমাধ্যমের সঙ্গে সরাসরি কোনো সংবাদ সম্মেলন করেননি। কেবলমাত্র তাঁর পছন্দের কিছু সাংবাদিকের সঙ্গে তিনি কথা বলেছেন, সাক্ষাৎকার দিয়েছেন। ১১টি সংস্কার কমিশন করে হাজার হাজার পৃষ্ঠার সুপারিশ নিয়ে রাষ্ট্রের টাকায় ঢাউস সাইজের গ্রন্থ প্রণয়ন করলেও সেসব সংস্কারে কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেননি। তাঁর আমলে দেশের দুটি প্রধানসারির গণমাধ্যমে ভিতরে সাংবাদিক রেখে মব সৃষ্টি করে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এ সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে তিনি সরাসরি কোনো নির্দেশনা দিতে ব্যর্থ হয়েছেন। ভিন্ন মত পোষণের কারণে তাঁর আমলেও একাধিক সাংবাদিককে জেলে পাঠানো হয়েছে। ধর্মীয় ঘৃণা ছড়ানোর পাশাপাশি মাজার-মন্দির ভাঙার ঘটনা ঘটেছে। ঘটেছে বিচারবহির্ভূত হত্যকাণ্ড। ধর্মের দোহাই দিয়ে মানুষ পুড়িয়ে হত্যা করা হয়েছে। তাঁর সময়ে মব সৃষ্টির মাধ্যমে দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রমাণ ও নথিপত্রসহ অনেক ভাস্কর্য বিনষ্ট হলেও তিনি নীরব থেকেছেন। তিনি বিশ্বব্যাপী যে ‘তিন শূন্য’ (শূন্য দারিদ্র্য, শূন্য বেকারত্ব, শূন্য কার্বন নিংসরণ) নিয়ে প্রচারণা চালিয়েছেন, নিজে সরকার প্রধানের দায়িত্বে থেকেও তা অর্জন করতে পারেননি। বরং তার সময়ে দারিদ্র্য ও বেকারত্ব দুটোই বেড়েছে। এসব কিছুর পর ড. ইউনূস যখন আবারও তার পুরোনো কর্মে ফিরে যাবেন তখনো কি তিনি এই ‘তিন শূন্য’ অর্জনে বিশ্বকে মনোযোগ দেওয়ার কথা দৃঢ়তার সঙ্গে বলতে পারবেন? সচেতন মহলের এখন সেটিই জিজ্ঞাসা। 

মো: দেলোয়ার হোসাইন ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত

দায়িত্বে ৪৯ মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ১০ উপদেষ্টা

ছবি : সংগৃহীত

ওবায়দুল কাদেরসহ ৭ জনের বিচার শুরু

ছবি : সংগৃহীত

স্মৃতিসৌধে ৩ স্তরের নিরাপত্তা, যান চলাচলে সাময়িক নিয়ন্ত্রণ

ছবি : সংগৃহীত
আজ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের যত কর্মসূচি

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার মন্ত্রিপরিষদের সদস্যরা বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদনসহ একাধিক কর্মসূচিতে অংশ নেবেন।   প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সকাল ১০টায় গুলশানের বাসভবন থেকে সাভারের উদ্দেশে রওনা হবেন তারেক রহমান। সকাল ১০টা ৫৫ মিনিটে জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন। সকাল ১১টা ৩০ মিনিটে তিনি ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়ে সোয়া ১২টার দিকে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ ও জিয়ারত করবেন।  দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটে তিনি সচিবালয়ের উদ্দেশে রওনা হবেন। দুপুর ১টায় সচিবালয়ে পৌঁছে মধ্যাহ্নভোজ ও নামাজ আদায় করবেন। বিকাল ৩টায় মন্ত্রিসভার বৈঠকে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর।  দিনের কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিকাল ৪টায় সচিবদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় অংশ নেবেন তিনি।  প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় জানিয়েছে, কর্মসূচি বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০২৬ 0
নতুন সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের শপথ পাঠ। ছবি: সংগৃহীত

আজ সচিবালয়ে প্রথম কার্যদিবস শুরু করবেন নতুন প্রধানমন্ত্রী

ছবি : সংগৃহীত

নতুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ভারত সফরের আমন্ত্রণ

জাতীয় সংসদ ভবন । ছবি : সংগৃহীত

বিরোধীদলীয় নেতা, উপনেতা ও হুইপ হলেন যারা

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত
তারেক রহমানের রাষ্ট্রনায়ক হয়ে ওঠার পথপরিক্রমা

 ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির রাত। টেলিভিশনের পর্দায় লাখ লাখ মানুষের চোখ। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল জানতে উন্মুখ দেশের মানুষ। সারাদেশের বিভিন্ন আসনের ফলাফল একের পর এক প্রকাশিত হচ্ছে, আর মানুষের হৃদস্পন্দন বাড়ছে। পছন্দের প্রার্থী জয়ী হলে এক পক্ষের উল্লাস, আরেক পক্ষের হতাশা। তবে সবকিছু ছাপিয়ে যে বিষয়টি উজ্জ্বল হয়ে উঠে, তা হলো গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। দীর্ঘ ১৭ বছর পর দেশের মানুষ এবার অবাধ, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পেয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে মানুষ এমন প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ উৎসবমুখর নির্বাচনের স্বপ্ন দেখেছিল। অবশেষে এ মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে তাদের সেই স্বপ্ন পূরণ হলো এবং তারা সত্যিকারের নির্বাচিত সরকার পেলেন। আর সেই সরকারের প্রধানমন্ত্রী হলেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তারেক রহমানের ক্যারিশম্যাটিক নেতৃত্বে বিএনপি এবারের নির্বাচনে এককভাবে ২১১ আসনে ভূমিধস বিজয় পেয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) পর্যবেক্ষক দলসহ বিশ্বব্যাপী এ নির্বাচন স্বীকৃতি পেয়েছে। ইইউ পর্যবেক্ষকরা নির্বাচনকে অবাধ ও বিশ্বাসযোগ্য বলেছেন। তারা জানিয়েছেন, কোনো ধরনের জালিয়াতি বা ভোট কারচুপির ঘটনা পাওয়া যায়নি। পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে পরপর তিনটি নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে না পেরে দেশের মানুষ নির্বাচনী প্রক্রিয়ার ওপর আস্থা হারিয়ে ফেলেছিল। ২০১৪ সালের ভোটারবিহীন নির্বাচন, ২০১৮ সালের রাতের নির্বাচন এবং ২০২৪ সালের প্রহসনের নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে ফ্যাসিবাদী শাসনব্যবস্থা কায়েম করেছিল শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকার। ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার রক্তক্ষয়ী অভ্যুত্থানে তাদের পতনের পর এবারের নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে গণতান্ত্রিক ধারা ফিরে এসেছে। মহান স্বাধীনতার ঘোষক ও শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার পুত্র তারেক রহমান গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সত্যিকারের রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন। তবে তাঁর রাষ্ট্রনায়ক হয়ে ওঠার পথ মোটেও সহজ ছিল না। দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসিত জীবন এবং কণ্টকাকীর্ণ রাজনৈতিক পথ পাড়ি দিয়ে তারেক রহমান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করলেন। নির্বাসনে থেকেও তিনি দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন, গণতান্ত্রিক আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছেন। জনগণের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা, ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনার জন্য স্বৈরাচারী সরকারের বিরুদ্ধে তিনি বিরামহীন সংগ্রাম করেছেন। যার ফলশ্রুতিতে ২০২৪ সালে জুলাই গণঅভ্যুত্থান সংঘটিত হয় এবং সম্প্রতি দেশে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলো। তারেক রহমানের জন্ম ১৯৬৫ সালের ২০ নভেম্বর। তিনি এমন এক পারিবারিক পরিবেশে বড় হয়েছেন, যেখানে সর্বোচ্চ নৈতিক মূল্যবোধ চর্চা করা হত, যা এখনো তাঁর দৈনন্দিন জীবনে প্রতিফলিত হয়। তিনি ১৯৮৮ সালে গাবতলী উপজেলা বিএনপির প্রাথমিক সদস্যপদ গ্রহণের মাধ্যমে রাজনীতিতে নিজেকে আত্মপ্রকাশ করেন। গাবতলী উপজেলা হলো তার পিতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ঐতিহাসিক জন্মস্থান, যা উত্তরবঙ্গের বগুড়া জেলায় অবস্থিত। তারেক রহমান ১৯৯৩ সালে বগুড়া জেলা বিএনপির সদস্য হন। ১৯৯১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি তাঁর দলের পক্ষে জনমত গঠনের সুযোগ পান। বেগম খালেদা জিয়া যে পাঁচটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন, দলের ‘ন্যাশনাল ক্যাম্পেইন স্ট্র্যাটেজি কমিটি’র সদস্য হিসেবে তারেক রহমান সেসব আসনের নির্বাচনী প্রচারণা সমন্বয় করেন। ওই পাঁচ আসনে তাঁর মায়ের নিরঙ্কুশ বিজয় প্রমাণ করে, তিনি একজন দক্ষ সংগঠক এবং ভবিষ্যতে দলের নেতৃত্বে আসার যোগ্য। তারেক রহমান তাঁর শৈশব থেকেই দেশ ও জনগণের কল্যাণে রাজনীতি শিখেছেন। তিনি কাছ থেকে দেখেছেন, তাঁর মমতাময়ী মা বেগম খালেদা জিয়া মানুষের জন্য কত ত্যাগ স্বীকার করেছেন, কত উদার ছিলেন এবং স্বৈরশাসক এরশাদের শাসনের বিরুদ্ধে গণতন্ত্রের জন্য তিনি কীভাবে সংগ্রাম করেছেন। তিনি তাঁর বাবা-মায়ের কাছ থেকে উত্তরাধিকারসূত্রে আদর্শ রাজনৈতিক মূল্যবোধ অর্জন করেছেন। তারেক রহমান ২০০১ সালের নির্বাচনেও প্রচারণার দায়িত্ব পালন করেন। তিনি আবারও তাঁর  দক্ষ নেতৃত্বের প্রমাণ দেন। সারা দেশে ‘ধানের শীষ’ প্রতীকের পক্ষে জনমত সৃষ্টিতে তাঁর কৌশল সফল হয়। বিএনপি প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সেই নির্বাচনে জয়লাভ করে। বিজয়ের পর ২০০২ সালে বিএনপির স্থায়ী কমিটি সর্বসম্মতিক্রমে তাঁকে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব হিসেবে মনোনীত করেন। রাজনীতিতে তারেক রহমান যখন বিকশিত হচ্ছিলেন, তখন তাঁকে চিরতরে শেষ করে দেওয়ার ষড়যন্ত্র শুরু হয়। এরপর আসে কুখ্যাত সেনা-সমর্থিত অবৈধ ১/১১ তত্ত্বাবধায়ক সরকার। আওয়ামী লীগ এবং তাদের দেশি-বিদেশি দোসরদের ষড়যন্ত্রের শিকার হন তারেক রহমান। ১/১১ সরকার নিষ্ঠুর, কূটকৌশল ও ষড়যন্ত্রমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তাঁকে রাজনীতি থেকে দূরে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে।  রাজনীতি থেকে তারেক রহমানকে নিবৃত্ত রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে তাঁকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হয়। এক পর্যায়ে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয় এবং দেশের আইনকে উপেক্ষা করে মাসের পর মাস অমানবিকভাবে নির্যাতন করা হয়। নির্মম নির্যাতনে মেরুদণ্ডের গুরুতর আঘাত নিয়ে তিনি চিকিৎসার জন্য লন্ডনে চলে যান এবং বাধ্য হয়ে নির্বাসনে থাকার পথ বেছে নেন। কিন্তু তাঁর অদম্য মনোবল এবং জনগণের প্রতি অটল প্রতিশ্রুতি তাঁকে থামতে দেয়নি; বরং তিনি যুক্তরাজ্য থেকে অনলাইনে নেতা-কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে দেশের মানুষের মুক্তির জন্য সংগ্রাম চালিয়ে গেছেন। তারেক রহমান তাঁর দলের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে তাদের মনোবল চাঙা রেখেছেন এবং স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যেতে দিক নির্দেশনা দিয়েছেন। হাসিনার ফ্যাসিবাদী শাসনকালে তারেক রহমানের বিরুদ্ধে তাঁর অনুপস্থিতিতে ১৭টি মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়। এর উদ্দেশ্য ছিল- তাঁকে রাজনীতি থেকে দূরে রাখা। তিনি ছিলেন ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনার ফ্যাসিবাদী সরকারের রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার। এমনকি শেখ হাসিনার সরকার জিয়া পরিবারকে হয়রানির উদ্দেশ্যে তাদের সেনানিবাসের বাড়ি ভেঙে ফেলে। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও অপপ্রচারের পরও তারেক রহমানের জনপ্রিয়তা বাড়তে থাকে। তারেক রহমান জনগণের নেতা হিসেবে রাজনৈতিক ময়দানে অবিচল ছিলেন। তিনি তাঁর পিতার উত্তরাধিকারীর প্রকৃত দাবিদার। তিনি তাঁর বাবার প্রতিষ্ঠিত দলকে ঐক্যবদ্ধ রেখেছেন এবং তাঁর নেতৃত্বে জনসমর্থনের মাধ্যমে দলের তৃণমূলভিত্তি ক্রমাগত বিস্তৃত ও সুদৃঢ় হয়েছে। ২০১৮ সালে যখন তাঁর মা বেগম খালেদা জিয়া মিথ্যা অভিযোগে কারাগারে বন্দী হন, তখন তাঁকে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মনোনীত করা হয়। কেবল উত্তরাধিকার সূত্রে নয়, বরং তাঁর রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও নেতৃত্বের উৎকর্ষতার কারণে এ পদে তাঁকে মনোনীত করা হয়। তখন থেকেই তিনি স্বৈরাচার শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে গণতান্ত্রিক আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন। নির্বাসনে থাকলেও জনগণের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে তারেক রহমান থেমে থাকেননি। তাঁর দীর্ঘদিনের সংগ্রাম ও আহ্বান অবশেষে জাতিকে জাগিয়ে তোলে। জনগণ ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগ শাসনের বিরুদ্ধে অভ্যুত্থান ঘটিয়ে শেখ হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করে এবং তাকে দেশত্যাগে বাধ্য করে। এর মাধ্যমে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট তাদের প্রায় ১৬ বছরের স্বৈরশাসনের অবসান ঘটে, যা বাংলাদেশের ইতিহাসে নতুন দিনের সূচনা করে। ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তারেক রহমানের প্রিয় মাতৃভূমিতে ফেরার পথ সুগম হয়। এরপর আসে ২০২৫ সালের ২৫ ডিসেম্বরের ঐতিহাসিক দিন, যেদিন তিনি বীরের বেশে দেশের মাটিতে পা রাখেন, খালি পায়ে হেঁটে দেশের মাটি ছুঁয়ে দেখেন এবং হৃদয়ের গভীরে বাংলাদেশকে অনুভব করেন। এরপর বিশাল জনসমুদ্রে তাঁর প্রাণবন্ত কণ্ঠে ধ্বনিত হয়, ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান ফর দ্য পিপল অ্যান্ড ফর দ্য কান্ট্রি।’ প্রায় ১৭ বছর পর তাঁকে ফিরে পেয়ে পুরো জাতি যখন বিজয়ের আনন্দে ভাসছিল, তখন বাংলাদেশ আরেকটি দুঃসংবাদ পেল- দেশে ফেরার মাত্র পাঁচ দিন পর তাঁর মমতাময়ী মা বেগম খালেদা জিয়া মৃত্যুবরণ করেন। এরপর ২০২৬ সালের ৯ জানুয়ারি তারেক রহমান দলের চেয়ারম্যান হন, যা অনেক বিশ্লেষকের মতে তাঁর অনিবার্য উত্থান। তারেক রহমানের রাজনৈতিক উত্থান উত্তরাধিকার সূত্রে হয়নি, বরং তিনি তাঁর নেতৃত্বগুণ, রাজনৈতিক দূরদর্শিতা, অন্তর্দৃষ্টি, নিষ্ঠা ও প্রজ্ঞার কারণে রাষ্ট্র পরিচালনার শীর্ষে ওঠে এসেছেন। কঠোর পরিশ্রম, দক্ষতা ও ধৈর্যের সমন্বয়ে তিনি কোটি কোটি মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন। তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন জাতিকে অপশাসন, অরাজকতা, নিপীড়ন, জোর-জবরদস্তি ও দমন-পীড়নের অচলাবস্থা থেকে বের করে আনবেন। তিনি জনগণকে সেই অধিকার ফিরিয়ে দেবেন, যা তারা দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে বঞ্চিত হয়েছে। তাঁর প্রতিশ্রুতি মানুষের হৃদয় জয় করেছে এবং এর ফলেই জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি বিশাল জয় পেয়েছে।  বাংলাদেশ আজ আবারো একটি গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে এবং তারেক রহমানের হাত ধরে পুনরায় গণতান্ত্রিক পথচলা শুরু হয়েছে।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০২৬ 0

মাদারীপুরে বিনামূল্যে পেঁয়াজ বীজ ও সার বিতরণ

আ ন ম এহসানুল হক মিলন। ছবি : সংগৃহীত

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেলেন আ ন ম এহসানুল হক মিলন

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত

তারেক রহমানের হাত ধরে দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা ফের শুরু

0 Comments