ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে গঠিত ১১ দলীয় নির্বাচনী জোট অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। আসন সমঝোতা নিয়ে দলগুলোর মধ্যে অস্বস্তি দিনদিন স্পষ্ট হচ্ছে। ৩০০ সংসদীয় আসনে এই জোটভুক্ত দলগুলো থেকে ৬০০-এর বেশি মনোনয়নপত্র জমা পড়ায় দলগুলোর মধ্যে দরকষাকষির সমীকরণ আরও জটিল আকার নিয়েছে। প্রতিটি দলই নিজেদের শক্ত অবস্থান ধরে রাখতে চাইছে, ফলে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অনিশ্চয়তা কাটছে না। এমন টানাপোড়েনের মধ্যেই জোটের অভ্যন্তরীণ সমঝোতা সংকট ঘিরে নানান জল্পনা ও আলোচনা ছড়িয়েছে। কেউ কেউ এতে ‘তৃতীয় শক্তি’র ইন্ধন জোগানোর আশঙ্কাও করছেন। ফলে ঐক্যের বার্তা থাকলেও বাস্তবে ১১ দলীয় জোট এখনো বিশ্বাস আর অবিশ্বাসের দোলাচলে দাঁড়িয়ে আছে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান গত রোববার জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত জরুরি সংবাদ সম্মেলনে ভোটের মাঠে লড়তে ১০ দলীয় জোটের ঘোষণা দেন। জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) ও বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি আগে থেকেই এই জোটে ছিল। কর্নেল (অব.) অলি আহমদের নেতৃত্বাধীন এলডিপি, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এবং আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি) নতুন করে জোটে যুক্ত হয়।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে সারা দেশে ৩০০ সংসদীয় আসনে মোট ২ হাজার ৫৮২টি মনোনয়নপত্র জমা পড়েছে। এর মধ্যে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের ৬০০-এর বেশি প্রার্থী ৩০০ আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। জোটের মধ্যে জামায়াতে ইসলামী ২৭৬ এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ২৬৮টি আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছে। অন্য দলগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ৯৪টি, খেলাফত মজলিস ৬৮টি, এবি পার্টি ৫৩টি, এনসিপি ৪৪টি এবং এলডিপি ২৪টি আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছে।
জোটভুক্ত কয়েকটি দলের দায়িত্বশীল নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আসন সমঝোতা চূড়ান্ত না হওয়ায় দরকষাকষির কৌশল হিসেবে অতিরিক্ত প্রার্থী রাখা হয়েছে। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন পর্যন্ত এই দরকষাকষি চলবে। নেতারা মনে করছেন, আগেই সমঝোতা হয়ে গেলে একই আসনে একাধিক দলের মনোনয়ন জমা দেওয়ার ঘটনা ঘটত না এবং সন্দেহ ও অবিশ্বাস তৈরি হতো না।
সর্বশেষ আলোচনায় জানা গেছে, জামায়াত শরিকদের জন্য প্রায় ১১০টি আসন ছাড়ার চিন্তা করছে। এর মধ্যে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ৩০, এনসিপি ৩০, খেলাফত মজলিস ১৫, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ১০, এবি পার্টি ৩, এলডিপি ৩, বিডিপি ২, জাগপা ৩, খেলাফত আন্দোলন ৪ এবং নেজামে ইসলাম পার্টির জন্য ২টি আসনের প্রস্তাব রয়েছে। তবে এখনো এটি চূড়ান্ত হয়নি।
এই সমঝোতা নিয়ে সবচেয়ে বেশি অসন্তোষ রয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মধ্যে। দলটি শুরুতে ১২০-১৫০টি আসনের দাবি করলেও পরে তা কমিয়ে ৭০ আসনের কথা জানায়। জামায়াতের পক্ষ থেকে কম আসনের প্রস্তাব আসায় দলটির মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। ইসলামী আন্দোলন সারা দেশে ১৪৩টি আসনকে নিজেদের জন্য শক্ত অবস্থান হিসেবে বিবেচনা করছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইসলামী আন্দোলনের এক শীর্ষ নেতা বলেন, ঐক্য ভাঙা তাদের লক্ষ্য নয়, তবে আসন সমঝোতা হতে হবে ন্যায্যতার ভিত্তিতে। দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আলোচনা চলমান রয়েছে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হবে।
এনসিপির ক্ষেত্রেও আসন সমঝোতা নিয়ে অসন্তোষ রয়েছে। ৩০টি আসনে সমঝোতার কথা বলা হলেও দলটি ৪৪টি আসনে মনোনয়নপত্র জমা দেয়। শীর্ষ কয়েকজন নেতার আসন নিশ্চিত হলেও বাকিরা এখনো অনিশ্চয়তায় রয়েছেন। এতে দলের ভেতরে বিভ্রান্তি ও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে বলে জানা গেছে।
এবি পার্টির পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে, প্রাথমিকভাবে তিনটি আসনের কথা বলা হলেও বাকি আসনগুলো নিয়ে আলোচনা চলছে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের পর জোটে থাকা বা না থাকার বিষয়ে অবস্থান জানানো হবে।
জামায়াতের নেতারা বলছেন, মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের আগেই সবকিছু চূড়ান্ত হবে এবং বড় কোনো সংকট নেই। আলোচনার মাধ্যমেই সব সমস্যার সমাধান হবে বলে তারা আশাবাদী।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বড় জোটে আসনকেন্দ্রিক বিরোধ স্বাভাবিক ঘটনা। তবে এসব অস্বস্তি দীর্ঘস্থায়ী হলে নির্বাচনের মাঠে তার প্রভাব পড়তে পারে। নির্বাচনী জোট মূলত আদর্শের চেয়ে বাস্তব কৌশলের ওপর দাঁড়িয়ে গড়ে ওঠে এবং মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত এই দরকষাকষি চলতে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
গলায় সুগন্ধি ব্যবহারে যতটা ভালো লাগে, বাস্তবে তা ততটাই ক্ষতিকর হতে পারে। কারণ গলার ঠিক নিচেই রয়েছে থাইরয়েড গ্রন্থি। এই গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ শরীরের বিপাকক্রিয়া, শক্তির মাত্রা, দেহের তাপমাত্রা ও হরমোনের ভারসাম্য নিয়ন্ত্রণ করে। এ ছাড়া গলা লিম্ফ্যাটিক ড্রেনেজের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। এখানে রয়েছে বড় বড় লিম্ফ নোড ও লিম্ফ নালি, যেগুলো শরীর থেকে বিষাক্ত উপাদান ছেঁকে ফেলতে এবং রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। গলায় পারফিউম স্প্রে করা নিঃশব্দে হরমোনের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে এবং ধীরে ধীরে নানা শারীরিক সমস্যার কারণ হতে পারে। পরের বার সুগন্ধি ব্যবহারের আগে জানা জরুরি কিভাবে সিন্থেটিক সুগন্ধি এন্ডোক্রাইন সিস্টেমে বিঘ্ন ঘটাতে পারে। অনেক সিন্থেটিক পারফিউমে ফথালেটস থাকে, যা শরীরের স্বাভাবিক হরমোনের অনুকরণ করতে পারে বা সেগুলোর কাজ আটকে দিতে পারে। সংবেদনশীল অংশে নিয়মিত ব্যবহার করলে দীর্ঘমেয়াদে হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে। এর প্রভাব পড়তে পারে প্রজনন ক্ষমতা এবং শক্তির মাত্রার ওপরও। গলার ঠিক ওপরেই থাইরয়েড গ্রন্থি। সেখানে সরাসরি পারফিউম স্প্রে করলে গ্রন্থির কার্যকারিতা ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। দীর্ঘদিন ধরে অল্প পরিমাণে শোষিত হলেও থাইরয়েডের কাজের ওপর সূক্ষ্ম কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব পড়তে পারে। যেহেতু থাইরয়েড বিপাকক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে, তাই এর প্রভাব গোটা শরীরেই ছড়িয়ে পড়ে। গলার ত্বক তুলনামূলকভাবে পাতলা, ফলে এখানে রাসায়নিক দ্রুত শোষিত হয়। পারফিউমের ক্ষতিকর উপাদান রক্তপ্রবাহে ঢুকে সময়ের সঙ্গে বিভিন্ন হরমোনাল পথকে প্রভাবিত করতে পারে। এই সংবেদনশীল জায়গায় ঘন ঘন ব্যবহার ঝুঁকি আরো বাড়ায়। ফথালেটস ও সিন্থেটিক কেমিক্যালের সংস্পর্শে মুড সুইং, ক্লান্তি কিংবা ওজন বাড়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। দীর্ঘমেয়াদে ঘুমের সমস্যাও তৈরি হতে পারে। গলার সংবেদনশীল ত্বকে পারফিউমের কারণে র্যাশ, লালচে ভাব কিংবা কালচে দাগ পড়তে পারে। বারবার ব্যবহার করলে অ্যালার্জি বা দীর্ঘস্থায়ী ত্বকের সমস্যা হওয়ার আশঙ্কা থাকে, বিশেষ করে যাদের ত্বক সংবেদনশীল। বার্গামটের মতো কিছু উপাদান ত্বককে সূর্যালোকের প্রতি বেশি সংবেদনশীল করে তোলে। এর ফলে পিগমেন্টেশন, কালো দাগ বা ত্বকের রং অসম হয়ে যেতে পারে। দীর্ঘদিন ধরে এমন হলে সান ড্যামেজ আরো বেড়ে যায়। হরমোনের ক্ষতি এড়াতে প্রাকৃতিক সুগন্ধির দিকে ব্যবহার করা ভালো। এসেনশিয়াল অয়েলের ব্লেন্ড বা অ্যালকোহল-ফ্রি রোল-অন ব্যবহার করলে সুগন্ধ বজায় থাকবে, অথচ থাইরয়েড, ত্বক ও সামগ্রিক হরমোন স্বাস্থ্যের ক্ষতি হবে না।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষার দায়িত্বে থাকা এক শিক্ষককে শনিবার (১০ জানুয়ারি) দুপুরে শারীরিকভাবে হেনস্তা করে টেনে নিয়ে প্রক্টর কার্যালয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের সামনে চাকসুর চার নেতার নেতৃত্বে ওই শিক্ষককে পরীক্ষা কেন্দ্র থেকে বের করে আনা হয়। এ সময় ঘটনাস্থলে তার মোবাইল ফোনেও তল্লাশি চালানো হয়। হেনস্তার শিকার শিক্ষক হলেন আইন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হাসান মোহাম্মদ। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক সহকারী প্রক্টর। ঘটনার একটি ভিডিওতে দেখা যায়, কয়েকজন শিক্ষার্থী তাকে জোরপূর্বক নিয়ে যাচ্ছেন। ওই সময় চাকসুর কয়েকজন সম্পাদকও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। হাসান মোহাম্মদ জানান, পরীক্ষা কেন্দ্রে দায়িত্ব পালনের সময় শিক্ষক ও কর্মচারীরা পরিস্থিতি অনুকূল নয় বলে তাকে সতর্ক করেছিলেন। তিনি কেন্দ্র থেকে বের হওয়ার পর চাকসু নেতারা তাকে ধাওয়া করলে ভয়ে দৌড়ান। এরপর তাকে আটক করে ভিড় তৈরি করা হয়। চাকসুর নেতারা ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, হাসান মোহাম্মদ গণতান্ত্রিক আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়ার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তাদের দাবি, ঘটনাস্থলে গেলে শিক্ষক ভয় পেয়ে দৌড়ান এবং গাছের গুঁড়িতে আঘাত পান। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে হাসান মোহাম্মদ বলেন, জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের সময় তিনি কোনো দায়িত্বে ছিলেন না এবং কোনো শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার বা মামলা দেওয়ার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। পরীক্ষা সংক্রান্ত বিষয়ে ‘বি’ ইউনিটের সমন্বয়কারী মো. ইকবাল শাহীন খান বলেন, তদন্ত চলমান থাকলেও কোনো শিক্ষক বরখাস্ত না হওয়া পর্যন্ত তিনি পরীক্ষা দায়িত্বে থাকতে পারেন। প্রক্টর অধ্যাপক হোসেন শহীদ সরওয়ার্দী ও ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক মো. সাইফুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তবে ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে তারা অনিশ্চয়তা প্রকাশ করেছেন।
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস ও জালিয়াতির অভিযোগ তুলে ঢাকায় অবস্থিত প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর ঘেরাওয়ের ঘোষণা দিয়েছেন চাকরিপ্রার্থীরা। নিয়োগ পরীক্ষা বাতিল করে নতুন করে প্রশ্নপত্র প্রণয়ন ও পুনরায় পরীক্ষা নেওয়ার দাবিতে রোববার (১১ জানুয়ারি) এ কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এর আগে শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) বিকাল ৩টা থেকে সাড়ে ৪টা পর্যন্ত পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলা বাদে দেশের ৬১ জেলায় একযোগে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশ নেন ১০ লাখ ৮০ হাজারের বেশি পরীক্ষার্থী। পরীক্ষার কয়েকদিন আগ থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্নফাঁসের গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। পরীক্ষা চলাকালে ও পরে ব্যাপক জালিয়াতি ও অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ রয়েছে, আর্থিক লেনদেন ও জালিয়াত চক্রের মাধ্যমে ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহার করে অনেকে পরীক্ষায় অংশ নেন। দেশের বিভিন্ন জেলায় শতাধিক পরীক্ষার্থী হাতেনাতে ধরা পড়েন। ঠাকুরগাঁওয়ে লিখিত পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বনের অভিযোগে ছয়জনকে আটক করে ভ্রাম্যমাণ আদালত। এদের মধ্যে পাঁচজনকে বিভিন্ন মেয়াদে বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং একজনকে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। বরগুনায় ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহারের অভিযোগে দুই পরীক্ষার্থীকে আটক করে পুলিশ। জামালপুরে একই অভিযোগে চার পরীক্ষার্থীকে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ ছাড়া গাইবান্ধায় ৫৩ জন, নওগাঁয় ১৮ জন, দিনাজপুরে ১৮ জন, কুড়িগ্রামে ১৬ জন এবং রংপুরে দুইজনসহ সারাদেশে শতাধিক পরীক্ষার্থী জালিয়াতির অভিযোগে ধরা পড়েছেন। তবে জালিয়াতি চক্র সক্রিয় থাকলেও পরীক্ষা সুষ্ঠু হয়েছে বলে দাবি করেছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। অধিদপ্তরের পলিসি অ্যান্ড অপারেশনস বিভাগের পরিচালক এ কে মোহাম্মদ সামছুল আহসান বলেন, কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে এবারের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় এটি সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ ছিল। শিগগিরই পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হবে বলেও জানান তিনি। উল্লেখ্য, প্রথম ধাপে রাজশাহী, রংপুর, সিলেট, খুলনা, বরিশাল ও ময়মনসিংহ বিভাগে ১০ হাজার ২১৯টি শূন্য পদের বিপরীতে আবেদন জমা পড়ে ৭ লাখ ৪৫ হাজার ৯২৯টি। দ্বিতীয় ধাপে ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগে ৪ হাজার ১৬৬টি পদের বিপরীতে আবেদন জমা পড়ে ৩ লাখ ৩৪ হাজার ১৫১টি। তবে মোট কতজন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন এবং কতজন অনুপস্থিত ছিলেন, সে তথ্য এখনো নিশ্চিত করেনি অধিদপ্তর।