চরম অব্যবস্থাপনা, অনিয়ম ও সংকটের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক একটি অন্ধকার সময় অতিক্রম করছে। এই ধারাবাহিকতার নতুন সংযোজন হিসেবে আলোচনায় এসেছে মহান বিজয় দিবস–২০২৫ উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত প্রস্তুতি সভা।
ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী এবং জনসংযোগ ও প্রটোকল বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক কে. এম. হাবিবুন্নবীর স্বাক্ষরিত সদ্য প্রকাশিত এক চিঠি থেকে জানা যায়, গত ১১ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে বিজয় দিবস উদযাপন উপলক্ষে প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় উপস্থিত ছিলেন উপব্যবস্থাপনা পরিচালকগণ, প্রধান কার্যালয়ের মহাব্যবস্থাপকগণ, সংশ্লিষ্ট উপমহাব্যবস্থাপকগণ এবং বিকেবির তথাকথিত সভাপতি দাবি করা সাবেক পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও সাধারণ সম্পাদক দাবি করা মিরাজ হোসেন।
তথ্য অনুসন্ধানে জানা গেছে, উল্লিখিত দুজনের কোনো বৈধ স্বীকৃতি নেই এবং তারা হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত ফেরারি আসামি। এছাড়া চিঠিতে জাতীয়তাবাদী ফোরামের প্রধান সমন্বয়ক দাবি করা জাহিদ হোসেনের উপস্থিতির কথাও উল্লেখ রয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানান, জাতীয়তাবাদী ফোরাম নামে পরিচিত সংগঠনটির কোনো দলীয় স্বীকৃতি নেই। এটি আওয়ামী পুনর্বাসনের লক্ষ্যে গঠিত একটি স্বঘোষিত সংগঠন, যার প্রধান ও একমাত্র পৃষ্ঠপোষক বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী।
তথ্য অনুযায়ী, এই তথাকথিত জাতীয়তাবাদী ফোরামের কোনো সাংগঠনিক অস্তিত্ব নেই। সংগঠনটির প্রধান সমন্বয়ক জাহিদ হোসেন ৫ আগস্টের পর মানবসম্পদ বিভাগে জোরপূর্বক ক্ষমতা দখল করেন। বিএনপির সঙ্গে তার কোনো সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া যায়নি; বরং চাকরিকালে বিভিন্ন সময়ে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা ও ঘনিষ্ঠতার একাধিক প্রমাণ মিলেছে।
এদিকে, বিজয় দিবস–২০২৫ উদযাপন সংক্রান্ত প্রস্তুতি সভার কার্যবিবরণীতে রাষ্ট্রীয় পতাকা সংক্রান্ত People’s Republic of Bangladesh Flag Rules-কে বিকৃতভাবে ‘দি ফ্ল্যাগ রুলস’ বা ‘পতাকা বিধি’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া জাতীয় স্মৃতিসৌধে ‘পুষ্পস্তবক’ অর্পণের পরিবর্তে ‘পুষ্পার্ঘ্য’ শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে, যা সরকার ঘোষিত কর্মসূচির সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক অতীতে ফ্যাসিস্ট সহযোগী ও তাবেদার কর্মকর্তাদের পুনর্বাসনের ক্ষেত্রে জাতীয় পর্যায়ে আলোচিত প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জাতীয় পতাকা ও রাষ্ট্রীয় কর্মসূচি সংক্রান্ত বিকৃত তথ্য এবং ধর্মীয় উপাসনায় ব্যবহৃত শব্দের ব্যবহার একটি রাষ্ট্র মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের নীতিনির্ধারকদের দায়িত্বহীনতা ও চরম অবহেলার পরিচায়ক। এটি ব্যাংকসহ দেশের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার জন্য উদ্বেগজনক ও অশনি সংকেত বলেও মন্তব্য করেন তারা।
এছাড়া বিজয় দিবসের মতো জাতীয় তাৎপর্যপূর্ণ অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি সভায় কোনো বৈধ সংগঠনের প্রতিনিধি না থাকা এবং বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের জিয়া পরিষদের কাউকে আমন্ত্রণ না জানানোয় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রধান কার্যালয়ের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা অভিযোগ করেন, “বৈধতাহীন সিবিএ কমিটি ও নবগঠিত অবৈধ জাতীয়তাবাদী ফোরাম ৫ আগস্টের পর থেকে ব্যাংকে নজিরবিহীন লুটপাট চালাচ্ছে। বারবার অভিযোগ করা হলেও ব্যবস্থাপনা পরিচালক কোনো ব্যবস্থা নেননি; বরং তাদের পৃষ্ঠপোষকতা দিয়ে যাচ্ছেন।”
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলীকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। উপব্যবস্থাপনা পরিচালক–২ খালেদুজ্জামান জুয়েলকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান।
অন্যদিকে, জিয়া পরিষদের সভাপতি জাকির হোসেন বলেন, দেশের অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের মতো বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকেও পতিত ফ্যাসিস্টের দোসররা অপকর্ম ও ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। বিজয় দিবসের প্রস্তুতি সভায় জিয়া পরিষদকে অন্তর্ভুক্ত না করে তারা আবারও তাদের ফ্যাসিবাদী চরিত্র প্রমাণ করেছে। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিষয়টি সম্পর্কে অবগত। এই নৈরাজ্যের অবসান এখন সময়ের দাবি। আমরা নিজস্ব আয়োজনে মহান বিজয় দিবস–২০২৫ উদযাপন করবো।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
ইন্টারনেট সেবাকে জরুরি পণ্য হিসেবে চিহ্নিত করে এ খাতে আয়কর অব্যাহতি দাবি করেছে ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (আইএসপিএবি)। অনুরূপ দাবি করে ইন্টারনেট সেবাকে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে আনতে শুল্ক কাঠামো পুনর্নির্ধারণের কথা বলছে বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতি (বিসিএস)। শনিবার (২৫ এপ্রিল) জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ভবনে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রণয়ন উপলক্ষে আয়োজিত প্রাক-বাজেট আলোচনায় সংগঠন দুটি এমন দাবি জানায়। এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান অনুষ্ঠানটির সভাপতিত্ব করেন। আইএসপিএবি ইন্টারনেট মডেম, রাউটার, সার্ভার সহ একাধিক পণ্যের ওপর করভার ১৫ শতাংশ থেকে ০ শতাংশ করার প্রস্তাব দিয়েছে। আইএসপিএবি আরও জানায়, এনটিটিএন অপারেটরদের উচ্চ ট্রান্সমিশন খরচ এবং জেলা পর্যায়ে প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর অভাবে তৃণমূল পর্যায়ে উচ্চগতির ইন্টারনেট পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়ছে। ইন্টারনেট সেবাকে সাশ্রয়ী করার পথে প্রধান বাধা ভ্যাট উল্লেখ করে সংগঠনটি জানায়, বর্তমানে গ্রাহক পর্যায়ে ৫ শতাংশ ভ্যাট থাকলেও অফিস ভাড়া এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক ব্যয়ের ওপর আইএসপিগুলোকে ১৫ শতাংশ ভ্যাট দিতে হয়, যার কোনো রেয়াত পাওয়া যায় না। এতে ইন্টারনেটের উৎপাদন খরচ বেড়ে যাচ্ছে। আইএসপিএবি-এর দাবি, ইন্টারনেটের সকল পর্যায়ে ভ্যাট ৫ শতাংশে নামিয়ে আনতে হবে। বিসিএস জানায় আগে একটি মানসম্মত কম্পিউটার ২৫-৩০ হাজার টাকায় পাওয়া যেত, যা ডলারের মূল্যবৃদ্ধি ও উচ্চ শুল্কের কারণে এখন ৬৫ হাজার টাকার নিচে পাওয়া অসম্ভব হয়ে পড়েছে। দেশের ২৭ লাখ বেকার তরুণকে ফ্রিল্যান্সার হিসেবে গড়ে তোলার বড় সুযোগ থাকলেও কম্পিউটারের উচ্চমূল্য এই সম্ভাবনার পথে প্রধান অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। সংগঠনটি ল্যাপটপের ওপর থেকে ভ্যাট প্রত্যাহার করে শুল্ক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার দাবি জানিয়েছে। বিসিএস আরও জানায়, যন্ত্রাংশের শুল্ক ও সাইবার ঝুঁকি শুধু ল্যাপটপ নয়, কম্পিউটারের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ যেমন-মনিটর, এসএসডি এবং মেমোরি কার্ডের ওপর বর্তমানে উচ্চহারে শুল্ক ও কর আরোপ করা আছে। মনিটরের ওপর প্রায় ৪০ শতাংশ এবং মেমোরি কার্ডের ওপর ৩৭ শতাংশ চার্জ থাকায় বাজারে নিম্নমানের ও নকল পণ্যের সয়লাব ঘটেছে। বিশেষ করে এসএসডি এবং মেমোরি কার্ডের মতো সংবেদনশীল পণ্যের উচ্চ শুল্কের কারণে ব্যবহারকারীরা তথ্য হারানোর ঝুঁকিতে পড়ছেন।
মার্কিন-ইরান যুদ্ধের কারণে সরবরাহ বিঘ্ন ও অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির প্রভাবে ২০২৭ সালের শেষ পর্যন্ত তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) বাজারে সংকট থাকতে পারে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ)। প্যারিস থেকে এএফপি এ খবর জানিয়েছে। শুক্রবার প্রকাশিত এক নতুন প্রতিবেদনে প্যারিসভিত্তিক সংস্থাটি জানায়, ‘স্বল্পমেয়াদি সরবরাহ ঘাটতি ও উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধির ধীরগতির কারণে ২০২৬ থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে এলএনজি সরবরাহে সামগ্রিকভাবে প্রায় ১২ হাজার কোটি ঘনমিটারের ঘাটতি হতে পারে।’ প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলে নতুন গ্যাস উৎপাদন প্রকল্পগুলো চালু হলে সময়ের সঙ্গে এ ঘাটতি কিছুটা পুষিয়ে যেতে পারে। তবে এর প্রভাবে ২০২৬ ও ২০২৭ সালজুড়ে বাজারে সরবরাহ সংকট থাকতে পারে বলে সতর্ক করেছে সংস্থাটি।
দিনাজপুর জেলার পার্বতীপুর মেঘনা রেলহেড অয়েল ডিপোতে ভারত থেকে পাইপ লাইনের মাধ্যমে আরও ৭ হাজার টন ডিজেল এসে পৌঁছেছে। এ নিয়ে ভারত-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইন প্রকল্পের রিসিপ্ট টার্মিনালে চলতি মাসে তৃতীয় দফায় ভারত থেকে ডিজেল এসে পৌঁছালো। জেলার পার্বতীপুর রেলহেড মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেডের ম্যানেজার (অপারেশন্স) কাজী রবিউল আলম বাসসকে জানান, আজ সকাল সাড়ে ১০ টায় ভারত থেকে পাইপ লাইনের মাধ্যমে পার্বতীপুর মেঘনা রেলহেড ডিপোতে ৭ হাজার টন তেল এসে পৌঁছেছে। তিনি জানান, গত ২০ এপ্রিল সোমবার রাত ৮টায় ভারতের শিলিগুড়ি নুমালিগড় রিফাইনারি থেকে পাইপ লাইনে ডিজেল পাম্পিং শুরু হয়েছে। ৬৫ থেকে ৭০ ঘণ্টার মধ্যে এসব ডিজেল দিনাজপুর পার্বতীপুর রেলহেড মেঘনা অয়েল ডিপোতে এসে পৌঁছায়। এর আগে গত ১৯ এপ্রিল বাংলাদেশ-ভারত ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইনের মাধ্যমে ৫ হাজার টন ডিজেল ভারতের নুমালিগড় রিফাইনারি লিমিটেড কেন্দ্র থেকে দিনাজপুর পার্বতীপুর রেলহেড অয়েল ডিপোতে এসে পৌঁছায়। এ নিয়ে চলতি মাসে পাইপ লাইনের মাধ্যমে ৩ বারে ২০ হাজার টন ডিজেল পৌঁছেছে। সূত্র জানায়, এই নিয়ে চলতি বছরে সর্বমোট ৪২ হাজার টন ডিজেল ভারত থেকে পাইপ লাইনে এসে পৌঁছেছে। চলতি এপ্রিল মাসে মোট ৪ টি চালানের মাধ্যমে ভারত থেকে ২৫ হাজার টন জ্বালানি তেল আসার কথা রয়েছে। এরমধ্যে গত ১১ এপ্রিল ৮ হাজার টন, ১৯ এপ্রিল ৫ হাজার টন এবং আজ ২৩ এপ্রিল ৭ হাজার টন ডিজেল এসেছে। এর আগে চলতি বছরের মার্চ মাস পর্যন্ত চারটি চালানে ভারত থেকে পাইপ লাইনের মাধ্যমে মোট ২২ হাজার টন ডিজেল এসে পৌঁছায়। পাইপ লাইনে দিনাজপুর পার্বতীপুরে রেলহেড ওয়েল ডিপোতে ভারত-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ পাইপ লাইন প্রকল্পের রিসিপ্ট টার্মিনালে এসব ডিজেল পৌঁছায়। এরপর সেখান থেকে রেলহেড অয়েল ডিপোর পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা এই তিনটি কোম্পানিতে ডিজেল সরবরাহ করা হয়। উল্লেখ্য, উত্তরাঞ্চলের রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের ১৬ জেলায় সারা বছর নিরবচ্ছিন্নভাবে ডিজেল সরবরাহ অব্যাহত রাখতে ভারত থেকে সরাসরি পাইপ লাইনের মাধ্যমে পার্বতীপুরের রেলহেড তেল ডিপোতে জ্বালানি তেল (ডিজেল) সরবরাহ করা হচ্ছে। ২০১৮ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর উভয় দেশের সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরের মাধ্যমে ১৩১ দশমিক ৫৭ কিলোমিটার দীর্ঘ ভূ-গর্ভস্থ এই পাইপ লাইন স্থাপনের কার্যক্রম শুরু হয়। গত ২০২৩ সালের ১৮ মার্চ আনুষ্ঠানিকভাবে ভারত থেকে পাইপ লাইনের মাধ্যমে জ্বালানি তেল আমদানি কার্যক্রম শুরু হয়। দুই দেশের চুক্তি অনুযায়ী, ভারত আগামী ১৫ বছর ডিজেল সরবরাহ করবে এবং বছরে ২ থেকে ৩ লাখ টন জ্বালানি তেল আমদানি করা যাবে। পরে ব্যবহার, খরচ ও চাহিদা অনুযায়ী আমদানির পরিমাণ বাড়ানো হবে। এই পাইপলাইন দিয়ে বছরে ১০ লাখ টন তেল ভারত থেকে আমদানি করা সম্ভব বলেও বিপিসির পক্ষ থেকে জানানো হয়। আগে খুলনা এবং চট্টগ্রাম থেকে রেলওয়ে ওয়াগনের মাধ্যমে উত্তরাঞ্চলে তেল আসতে সময় লাগতো ৬ থেকে ৭ দিন।