অন্তর্বর্তী সরকারের ১৭ মাসে দেশের সড়ক, রেল, নৌ ও আকাশপথ মিলিয়ে দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ১৩ হাজার ৪০৯ জন। একই সময়ে আহত হয়েছেন ৬০ হাজারের বেশি মানুষ। প্রাণহানির বড় অংশই ঘটেছে সড়কপথে—যেখানে নিহতের সংখ্যা ১২ হাজার ৬৯৪ জন।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) রাজধানীর ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (ক্র্যাব) মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য তুলে ধরে ‘সেভ দ্য রোড’। সংগঠনটির মহাসচিব শান্তা ফারজানা প্রতিবেদনের মূল তথ্য উপস্থাপন করেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ে সারা দেশে ৫৭ হাজার ৭৯৬টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। এসব দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন ৫৮ হাজার ৪৯১ জন। সড়কে শৃঙ্খলার অভাব, ট্রাফিক আইন উপেক্ষা, অপরিকল্পিত পরিবহন ব্যবস্থা এবং অবৈধ যান চলাচলকে দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
সংগঠনটির মতে, এই সময়ে সড়কে নতুন করে প্রায় দুই লাখ মোটরসাইকেল যুক্ত হয়েছে। পাশাপাশি পাঁচ লাখের বেশি অবৈধ ব্যাটারিচালিত রিকশা চলাচল করছে, যা দুর্ঘটনার ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়েছে।
মোটরসাইকেল ও উল্টোপথের যানবাহনে বাড়তি ঝুঁকি
ঢাকাসহ সারা দেশে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা হয়েছে ১৩ হাজার ৮২৩টি। এতে নিহত হয়েছেন ২ হাজার ৬৩৮ জন এবং আহত হয়েছেন ১৩ হাজার ৮৩২ জন।
অন্যদিকে, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, নসিমন, করিমন ও পিকআপসহ উল্টোপথে চলাচলকারী যানবাহনের কারণে ২১ হাজার ৬৩১টি দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ৩ হাজার ৬৪৮ জন। এসব ঘটনায় আহত হয়েছেন ২৩ হাজার ৬০৩ জন।
বাস ও ভারী যানেও উল্লেখযোগ্য প্রাণহানি
প্রতিবেদনে বলা হয়, নির্ধারিত গতিসীমা অমান্য, চালকদের দীর্ঘ সময় বিশ্রামহীনভাবে গাড়ি চালানো এবং নিয়ম ভাঙার কারণে ১২ হাজার ৭৪৬টি বাস দুর্ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৩ হাজার ৭৮৪ জন, আহত হয়েছেন ১১ হাজার ৬৯৭ জন।
ট্রাক ও লরিসহ ভারী যানবাহনের দুর্ঘটনা হয়েছে ৮ হাজার ৯৬৮টি। এতে নিহত ২ হাজার ৬২৪ জন এবং আহত ৯ হাজার ৩৫৯ জন। নিহত ও আহতদের বড় অংশই ছিলেন পথচারী ও স্থানীয় বাসিন্দা।
রেল, নৌ ও আকাশপথের চিত্র
১৭ মাসে নৌপথে ২ হাজার ৫২টি দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ১৮৭ জন, আহত ১ হাজার ৭৫৪ জন এবং নিখোঁজ রয়েছেন ৪৬ জন।
রেলপথে ১ হাজার ১০৬টি দুর্ঘটনায় প্রাণ গেছে ৪৯২ জনের, আহত হয়েছেন ১ হাজার ৭৬ জন।
এ সময় আকাশপথে একটি দুর্ঘটনায় ৩৬ জন নিহত এবং ১৭২ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া বিমানবন্দরে দায়িত্বে থাকা কর্মীদের দ্বারা হয়রানির শিকার হওয়ার অভিযোগ করেছেন ১৭ জন।
সড়ক ও নৌপথে অপরাধও উদ্বেগজনক
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, সড়কে ৪১১টি ডাকাতির ঘটনায় ২৫৭ জন আহত ও ২ জন নিহত হয়েছেন। একই সময়ে নারী শ্লীলতাহানির ঘটনা ঘটেছে ৮২৫টি, ধর্ষণের ঘটনা ১৫টি এবং ছিনতাইয়ের সংখ্যা ১৭ হাজার ৪১২টির বেশি।
নৌপথে দায়িত্বে অবহেলার সুযোগ নিয়ে ২১৬টি ডাকাতির ঘটনায় আহত হয়েছেন ১৮৮ জন এবং নিহত হয়েছেন একজন।
পুরোনো দাবিই আবারও তুলেছে সেভ দ্য রোড
নতুন কোনো দাবি না তুলে সেভ দ্য রোড তাদের দীর্ঘদিনের সাত দফা দাবি পুনর্ব্যক্ত করেছে। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—
দুর্ঘটনামুক্ত পথ দিবস ঘোষণা, পাঠ্যবইয়ে সড়ক, রেল, নৌ ও আকাশপথে চলাচলের নিয়ম অন্তর্ভুক্ত করা, প্রতি তিন কিলোমিটার অন্তর পুলিশ বুথ স্থাপন, দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবারকে ১০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ, ট্রান্সপোর্ট পুলিশ ব্যাটালিয়ন গঠন এবং ফিটনেসবিহীন যান চলাচল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা।
সংগঠনটির চেয়ারম্যান মো. আখতারুজ্জামান জানান, প্রতিষ্ঠাতা ও সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান মোমিন মেহেদী, মহাসচিব শান্তা ফারজানা এবং গবেষণা সেলের তত্ত্বাবধানে ১৭টি জাতীয় দৈনিক, ২০টি টেলিভিশন চ্যানেল ও ২২টি নিউজ পোর্টাল থেকে সংগৃহীত তথ্য বিশ্লেষণ করে এ প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
নারায়ণগঞ্জের বন্দরে আকিজ সিমেন্ট কারখানায় বয়লার বিস্ফোরণে আটজন দগ্ধ হয়েছেন। শনিবার (১০ জানুয়ারি) রাতে উপজেলার নবীগঞ্জ এলাকায় উইলসন রোডে অবস্থিত আকিজ পলিফাইবার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড কারখানায় এই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। দগ্ধরা হলেন: প্রকৌশলী তারেক (২৬), মেকানিক মো. খোরশেদ (৩৫), মেকানিক ফেরদৌস (৩৫), অপারেটর মো. মঞ্জুর (২৮), অপারেটর হাবিব (৪৩), অপারেটর মো. রাকিবুল (২৫) এবং গাড়িচালক মো. হান্নান (৪৬)। দগ্ধদের রাজধানীর জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম মোস্তফা। স্থানীয়রা জানান, রাত ৮টার দিকে কারখানার ভেতরে বয়লার বিস্ফোরণের বিকট শব্দ পাওয়া যায়। এ সময় সেখানে আট কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শ্রমিক দগ্ধ হন। পরে কারখানা কর্তৃপক্ষ দগ্ধদের দ্রুত রাজধানীর জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে নিয়ে যায়। এ সময় আতঙ্কে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে কারখানার সামনে জড়ো হন। কারখানার ব্যবস্থাপক মো. শুভ জানান, বিস্ফোরণে বেশ কয়েকটি জানালার কাঁচ ভেঙে যায় এবং হিট এক্সচেঞ্জার মেশিনের বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এই বিস্ফোরণে প্রায় ৩০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি কারখানা কর্তৃপক্ষের। এ বিষয়ে বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম মোস্তফা আশরাফ উদ্দিন বলেন, ‘খবর পেয়ে পুলিশ ও বন্দর ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে যায়। সেখানে গিয়ে কারখানা কর্তৃপক্ষের লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানতে পারি সিমেন্ট কারখানার ভেতরে বয়লার বিস্ফোরণ হয়েছে। এতে আটজন আহত হয়েছেন।’ দগ্ধদের তাৎক্ষণিক রাজধানীর জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে পাঠানো হয়। তবে বর্তমানে তাদের অবস্থা আশঙ্কামুক্ত বলে জানান ওসি। নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপ-সহকারী পরিচালক আবদুল্লাহ আল আরেফিন বলেন, ‘বিস্ফোরণের খবর পেয়ে আমাদের বন্দর ফায়ার সার্ভিসের লোকজন ঘটনাস্থলে যায়। তবে দগ্ধদের কাউকে সেখানে পাওয়া যায়নি। তাদের ঢাকার বার্ন ইনস্টিটিউতে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রাথমিকভাবে আমরা জানতে পেরেছি কারখানার ভেতরে বয়লার বিস্ফোরণ হয়েছে। এতে আটজন দগ্ধ হয়েছেন।’
রাজধানীর মিরপুর রোডে একটি গ্যাসের ভালভ ফেটে লিকেজ সৃষ্টি হওয়ায় শহরের একাংশে গ্যাসের মারাত্মক স্বল্পচাপ বিরাজ করছে। শনিবার (১০ জানুয়ারি) তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ এ তথ্য জানিয়েছে। বার্তায় বলা হয়, মিরপুর রোডে গণভবনের সামনে ৪ ইঞ্চি ব্যাসের ভালভ ফেটে যাওয়ায় লিকেজ তৈরি হয়। সমস্যা মেরামতের জন্য বিতরণ নেটওয়ার্কের কয়েকটি ভালভ বন্ধ করা হয়েছে, যার ফলে ধানমন্ডি, মোহাম্মদপুর, শ্যামলী, নিউমার্কেট, হাজারীবাগ, গাবতলীসহ সংলগ্ন এলাকায় গ্যাসের চাপ মারাত্মকভাবে কমে গেছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে ভালভ পরিবর্তনের কাজ শুরু করা হয়েছে। গ্রাহকদের সাময়িক অসুবিধার জন্য তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেছে। রাজধানীতে গত কয়েকদিন ধরে গ্যাসের স্বল্পচাপ সমস্যা চলছিল। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে তিতাস জানায়, মালবাহী ট্রলারের নোঙরের আঘাতে আমিনবাজারে তুরাগ নদীর তলদেশে ক্ষতিগ্রস্ত বিতরণ পাইপলাইন মেরামত করা হলেও মেরামতের সময় পাইপে পানি প্রবেশ করেছে। এছাড়া শহরে গ্যাস সরবরাহের ঘাটতি থাকায় ঢাকা মহানগরীতে বর্তমানে গ্যাসের মারাত্মক স্বল্পচাপ বিরাজ করছে।
নির্বাচন কমিশনের অনুরোধের প্রেক্ষিতে বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি তারেক রহমানের উত্তরাঞ্চল সফর স্থগিত করা হয়েছে। সিদ্ধান্তটি দলের অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানানো হয়েছে। প্রতিবেশী জেলার বিভিন্ন নেতাদের সঙ্গে বৈঠক এবং নির্বাচনী কার্যক্রমের অংশ হিসেবে পরিকল্পিত সফরটি পরে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। দলের দিক থেকে বলা হয়েছে, দেশের শান্তিপূর্ণ ও অবাধ নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিত করার স্বার্থে ইসি এই পরামর্শ দিয়েছেন। এই স্থগিতাদেশের ফলে তারেক রহমানের পূর্বনির্ধারিত সকল সভা ও ভ্রমণ কার্যক্রম পুনঃনির্ধারণ করা হবে। বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব জানিয়েছে, তারা ইসির নির্দেশনা মেনে চলবে এবং প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেবে যাতে নির্বাচনী কার্যক্রম শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা যায়।