সারাদেশ

জ্বালানি সংকটে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত, দেশজুড়ে ভয়াবহ লোডশেডিং

মোঃ ইমরান হোসেন আগস্ট ০৫, ২০২৬
ফাইল ছবি
ফাইল ছবি

সারা দেশে ৫৩টি বিদ্যুৎকেন্দ্রে তেলের মজুত আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। অনেক তেলভিত্তিক কেন্দ্র তেলশূন্য। অলস বসে আছে। ফলে তেলভিত্তিক এই ৫৩টি কেন্দ্রের বিদ্যুৎ উৎপাদন এক-চতুর্থাংশে নেমে এসেছে। এ কারণে সারা দেশে ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে লোডশেডিং। সংশ্লিষ্টরা জানান, দেশের তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে গড়ে ৭-৮ দিনের বেশি ফার্নেস অয়েল মজুত নেই। অথচ স্বাভাবিক সময়ে এই তেলের মজুত থাকার কথা কমপক্ষে ১৫ দিন। যার কারণে সান্ধ্যকালীন পিক আওয়ারে শুধু তেলভিত্তিক কেন্দ্রগুলো চালানো হচ্ছে। দেশের ৫৩টি তেলভিত্তিক কেন্দ্রের বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা হচ্ছে ৫ হাজার ৪৬২ মেগাওয়াট। মঙ্গলবার দুপুর ২টায় এই কেন্দ্রগুলো থেকে উৎপাদন হয়েছে ১ হাজার ৬৯৮ মেগাওয়াট।

 

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) জানিয়েছে, এমনিতে একটি ভাসমান টার্মিনাল বন্ধ হওয়ার কারণে দেশে গ্যাস উৎপাদন অনেক কমে গেছে। যে কারণে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো আগের চেয়ে অনেক কম গ্যাস পাচ্ছে। সেখানে মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা হচ্ছে তেলভিত্তিক কেন্দ্রগুলোতে ফার্নেস অয়েল বা ডিজেলের মজুত একেবারে তলানিতে নেমে আসার ঘটনা। মূলত বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো-আইপিপি এবং অন্যান্য সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো ৪০ হাজার কোটি টাকার বেশি পাওনা আছে পিডিবির কাছে। এ কারণে বেশির ভাগ আইপিপি তাদের কেন্দ্রের জন্য তেল কিনতে পারছে না।

 

পিডিবির একজন সিনিয়র কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেছেন, দেশে এই মুহূর্তে বিদ্যুতের চাহিদা ১৭ হাজার মেগাওয়াটের বেশি। আর উৎপাদন ক্ষমতা আছে ২৯ হাজার মেগাওয়াট। এরপরও কখনো কখনো ৩৫০০ মেগাওয়াটের বেশি লোডশেডিং হচ্ছে। এর অন্যতম কারণ, সরকার গত ৩-৪ বছর ধরে আইপিপিসহ বিভিন্ন কোম্পানির বকেয়া বিল দিতে পারছে না। এ কারণে অনেক আইপিপি বসিয়ে বসিয়ে ক্যাপাসিটি চার্জ নিচ্ছে। এতে করে একদিকে জনগণ বিদ্যুৎ পাচ্ছেন না, কিন্তু রাষ্ট্র ঠিকই সরকারি-বেসরকারি কোম্পানিগুলোকে বিল পরিশোধ করছে।

 

তেলভিত্তিক বেসরকারি বিদ্যুৎ কোম্পানিগুলোর সংগঠন বাংলাদেশ ইনডিপেনডেন্ট পাওয়ার প্রডিউসার অ্যাসোসিয়েশন-বিপ্পার সভাপতি ডেভিড হাসনাত সোমবার যুগান্তরকে বলেছেন, বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর ৬-৭ মাসের বিল বকেয়া রয়ে গেছে পিডিবির কাছে। এখন টাকা না পেলে ওই কোম্পানিগুলো কীভাবে তেল কিনবে এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনই বা করবে কীভাবে? এ ব্যাপারে বারবার সরকারকে বলা হয়েছে। কিন্তু এখনো বকেয়া বিলের সমস্যা সমাধান হয়নি।

 

প্রতিবছর সরকার বিভিন্ন কোম্পানিকে ৪৮ হাজার কোটি টাকার বেশি ক্যাপাসিটি চার্জ দেয়। এর মধ্যে তেলভিত্তিক কোম্পানিগুলো ১০ থেকে ১২ হাজার কোটি টাকা পায় বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

 

দেশে তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র আছে ৫১টি। এই ৫১টি কেন্দ্রের তেলের মজুতের (৩০ জুলাই পর্যন্ত) তথ্য সংগ্রহ করে দেখা গেছে, অনেক কেন্দ্রে ২-৩ দিনের বেশি তেল নেই। তবে ১০ থেকে ১৮ দিনের তেলের মজুত আছে হাতেগোনা মাত্র কয়েকটি কেন্দ্রের।

 

পিডিবির তিতাস ৫০ মেগাওয়াট কেন্দ্রে মজুত আছে মাত্র ১২৬ টন ফার্নেস অয়েল। যা দিয়ে একদিনও ওই কেন্দ্র চলবে না। তেলভিত্তিক পিডিবির বিদ্যুৎকেন্দ্র আছে ১০টি। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি তেলের মজুত আছে ভেড়া ৭০ মেগাওয়াট কেন্দ্রে। সেখানে তেল ছিল (৩০ জুলাই) ১ হাজার ১১৮ টন। যা দিয়ে প্রায় ১২ দিন চলবে।

 

কোন কেন্দ্রে কী পরিমাণ তেল আছে : পিডিবি ছাড়া সরকারি-বেসরকারি খাতে তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র আছে ৪৩টি। যেগুলোর উৎপাদন ক্ষমতা ৪ হাজার ৭৪১ মেগাওয়াট। এই ৪৩টি কেন্দ্রের মধ্যে বেশির ভাগ কেন্দ্রে নামমাত্র তেলের মজুত আছে। কোনো কোনোটিতে একেবারে নেই। যেমন গাজীপুর ১০২ মেগাওয়াট কেন্দ্রে এক ছটাক তেলও নেই। এটিকে বসিয়ে বসিয়ে ক্যাপাসিটি চার্জ দেওয়া হচ্ছে। অথচ গাজীপুর, ময়মনসিংহ এলাকায় দিনে-রাতে ১২ ঘণ্টাও বিদ্যুৎ থাকে না। আরপিজিসিএলের গাজীপুর ১০৫ মেগাওয়াট কেন্দ্রে তেল মজুত আছে ৪৫২ টন। যা দিয়ে দেড় দিনের মতো কেন্দ্র চালানো যাবে। তবে একই প্রতিষ্ঠানের গাজীপুর ৩২ মেগাওয়াটের কেন্দ্রে তেল মজুত আছে ১২ দিনের।

 

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, সরকারি প্রতিষ্ঠান বিআর পাওয়ার জেনের কড্ডা কেন্দ্রে তেল আছে কয়েক ঘণ্টার (একদিনের কম), মানিকগঞ্জ ১৬২ মেগাওয়াটের কেন্দ্রে আছে সাড়ে ৪ দিনের, ওরিয়নের মেঘনাঘাট কেন্দ্রে আছে মাত্র ৩২ টন ফার্নেস অয়েল। যা দিয়ে ২-৩ ঘণ্টাও চলবে না। ইউনাইটেড আনোয়ারা ৩০০ মোগওয়াটের কেন্দ্রে আছে ১ হাজার ৯৬১ টন। যা দিয়ে চলবে ২ দিনের একটু বেশি। অ্যাক্রোনের জুলদা কেন্দ্রে তেল মজুত আছে ২ দিনের কম। দেশ এনার্জির ২০০ মেগাওয়াটের চাঁদপুর কেন্দ্রে এক ছটাক তেলও মজুত নেই। সুতরাং এই কেন্দ্র থেকে কোনো বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে না। ফেনী ১১৪ মেগাওয়াট কেন্দ্রে আছে ৩৯ টন তেল। যা দিয়ে চলবে ১-২ ঘণ্টা। কুমিল্লা জাঙ্গালিয়া ৫২ মেগাওয়াট কেন্দ্রে আছে ১০০ টন তেল। এই তেল দিয়ে একদিনও চলবে না। ইউনাইটেড পাওয়ারের জামালপুর ১১৫ মেগাওয়াট কেন্দ্রে মজুত ছিল ৩৪৬ টন। যা দিয়ে চলবে ১ দিনের একটু বেশি। একই কোম্পানির ময়মনসিংহ ২০০ মেগাওয়াট কেন্দ্রে তেল মজুত আছে ৬০৬ টন। এই তেল দিয়ে ২ দিনও চলবে না। পিডিবি জানায়, দেশের সবচেয়ে বেশি লোডশেডিং হয় ময়মনসিংহ এবং গাজীপুর এলাকায়। অথচ এই সব এলাকায় মাঝারি আকারের কেন্দ্র থাকলেও তেলের অভাবে চলছে না। মোল্লারহাটে মধুমতি ১০৫ মেগাওয়াট কেন্দ্রে তেল মজুত দেখানো হয়েছে ২৫৬ টন। এই তেল দিয়ে ১ দিনেরও বেশি চলবে না। ওরিয়নের খুলনা ১০৫ মেগাওয়াট কেন্দ্রে এক ছটাক তেল মজুত নেই। এই কেন্দ্র থেকে অনেক দিন ধরে কোনো বিদ্যুৎ উৎপাদন হয় না। রাজলংকা পাওয়ারের নাটোর ৫২ মেগাওয়াট কেন্দ্রে তেল মজুত দেখানো আছে ৪৮ টন। এই তেল থাকা না থাকা সমান।

 

সরকারি তথ্য অনুযায়ী-৩০ জুলাই পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি তেল মজুত ছিল ইপিভি ঠাকুরগাঁও ১১৫ মেগাওয়াট কেন্দ্রে। সেখানে তেল আছে ৫ হাজার ১৬২ টন। যা দিয়ে ১৮ দিন চালানো যাবে। এরপর বারাকা শিকলবাহা ১০৫ মেগাওয়াট কেন্দ্রে আছে ৪ হাজার ৪৪১ টন। যা দিয়ে চলবে ১৭ দিন। বারাকা পতেঙ্গার ৫০ মেগাওয়াট কেন্দ্রেও ১৫ দিন চলার মতো তেল আছে। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, সরকারি-বেসরকারি (পিডিবিসহ) ৫৩টি তেলভিত্তিক কেন্দ্রের মধ্যে ১০ দিনের বেশি তেল মজুত আছে মাত্র ১০টি কেন্দ্রে। এছাড়া একেবারেই তেলশূন্য হচ্ছে ৫ কেন্দ্র এবং একদিন চালানোর চেয়ে কম তেল মজুত আছে ১০ কেন্দ্রে। এই অবস্থায় দেশের বিদ্যুৎ সরবরাহ অনেকটা ঝুঁকিতে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

 

সারা দেশে গতকাল কম-বেশি বৃষ্টি হয়েছে। এ কারণে বিদ্যুতের চাহিদা আগের চেয়ে কিছুটা কমেছে। একই কারণে সারা দেশে লোডশেডিং কিছুটা কমেছে। কিন্তু বিদ্যুতের উৎপাদন বাড়েনি। মঙ্গলবার বেলা ৩টায় সারা দেশে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৫ হাজার ৫৩৯ মেগাওয়াট। আর সরবরাহ করা গেছে ১৩ হাজার ২৫৫ মেগাওয়াট। এই সময়ে বিদ্যুতের লোডশেডিং ছিল ২ হাজার ২৮৪ মেগাওয়াট।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

সারাদেশ

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
চট্টগ্রাম চা-নিলামে ইতিহাসে সর্বোচ্চ দামে বিক্রি হলো এনটিসির চা

দেশের চা-শিল্পে নতুন মাইলফলক স্থাপন করেছে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল টি কম্পানি লিমিটেড (এনটিসি)। সম্প্রতি চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক চা-নিলামে প্রতিষ্ঠানটির উৎপাদিত চা ইতিহাসের সর্বোচ্চ গড় দামে বিক্রি হয়েছে।     একই সঙ্গে চলতি মৌসুমে উৎপাদন বৃদ্ধির ধারাবাহিকতা বজায় থাকায় আয় ও উৎপাদন—উভয় ক্ষেত্রেই নতুন সাফল্যের মুখ দেখছে দেশের অন্যতম বৃহৎ এই চা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান।   সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ৩ আগস্ট চট্টগ্রাম আন্তর্জাতিক চা-নিলামে এনটিসির অধীনস্থ ১২টি চা-বাগানের মোট ১ লাখ ৫১ হাজার ৫৬০ কেজি চা বিক্রি হয়। নিলামে প্রতি কেজি চায়ের গড় বিক্রয়মূল্য দাঁড়ায় ২৮০ টাকা ৫৯ পয়সা, যা এনটিসির ইতিহাসে সর্বোচ্চ রেকর্ড। সরকার নির্ধারিত ২৪৫ টাকার ভিত্তিমূল্যের চেয়ে উল্লেখযোগ্য বেশি দামে চা বিক্রি হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটির মোট আয় হয়েছে ৪ কোটি ৪৭ লাখ ৭৩ হাজার ৭২২ টাকা।     নিলামে অংশ নেওয়া বাগানগুলোর মধ্যে রয়েছে—হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার জগদীশপুর, তেলিয়াপাড়া, চুনারুঘাটের চণ্ডীছড়া, পারকুল এবং মৌলভীবাজারের ও সিলেট জেলার পাত্রখোলা, কুর্মা, চম্পারাই, মদনমোহনপুর, লাক্কাতুরা, মাধবপুর প্রেমনগর ও বিজয়া চা-বাগান। এসব বাগানে উৎপাদিত উন্নত মানের অর্থোডক্স ও সিটিসি চায়ের বেশ কয়েকটি লট নিলামে প্রত্যাশার চেয়েও বেশি দামে বিক্রি হয়েছে।     তেলিয়াপাড়া চা-বাগানের ব্যবস্থাপক দেওয়ান বাহাউদ্দিন লিটন জানান, চায়ের গুণগত মান বাড়াতে দীর্ঘদিন ধরে পরিকল্পিত উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শ্রমিকদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ, বাগান পর্যায়ে নিবিড় তদারকি এবং ‘দুটি পাতা ও একটি কুঁড়ি’ চয়ননীতি কঠোরভাবে অনুসরণ করায় কাঁচা পাতার গুণগত মান বহুগুণ বেড়েছে।     ফলে উৎপাদিত চায়ের রং, ঘ্রাণ ও স্বাদে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে, যা নিলামের বাজারে প্রতি কেজির দর বৃদ্ধিতে মূল ভূমিকা রেখেছে। এনটিসির উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) রফিকুল ইসলাম জানান, চলতি বছরের ৩১ জুলাই পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানের চা-উৎপাদন গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ২৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপের মধ্যেও আমরা সার্বিক ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রেখেছি। একই সঙ্গে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং কারখানায় মানসম্মত প্রক্রিয়াজাতকরণ নিশ্চিত করা হয়েছে। এর ফলেই উৎপাদন ও বিক্রয়—উভয় ক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত ইতিবাচক সাফল্য নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে।       সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্রতিকূল আবহাওয়া, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, শ্রম ব্যয় বৃদ্ধি এবং সার্বিক উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় দেশের চা শিল্প এক কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি। এমন পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রায়ত্ত এনটিসির এই ঘুরে দাঁড়ানোর খবর পুরো চা খাতের জন্যই আশাব্যাঞ্জক বার্তা বহন করছে।     প্রতিষ্ঠানটির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে এনটিসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক জিয়াউল হাসান বলেন, ‘প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও কর্মকর্তা, কর্মচারী ও বাগান শ্রমিকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আজ আমাদের বাগানগুলো ঘুরে দাঁড়াতে সক্ষম হয়েছে। উৎপাদন বৃদ্ধি ও মান উন্নয়নের যে বিশেষ কর্মসূচি আমরা হাতে নিয়েছি, তার সুফল এখন দৃশ্যমান। চলতি আগস্ট থেকে নভেম্বর পর্যন্ত মৌসুমের বাকি সময়গুলোতে আরো ভালো উৎপাদন ও ভালো বিক্রয়ের প্রত্যাশা করছি।’     তিনি আরো বলেন, ‘দেশের সামগ্রিক চা শিল্পের টেকসই উন্নয়নে এনটিসি দীর্ঘমেয়াদি রূপরেখা নিয়ে কাজ করছে। আধুনিক কৃষি ব্যবস্থাপনা, উন্নত জাতের চারা রোপণ, কারখানার সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং নতুন বাজার সম্প্রসারণের মাধ্যমে এনটিসিকে আন্তর্জাতিকভাবে আরো লাভজনক ও প্রতিযোগিতামূলক পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার সমন্বিত উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।’

মারিয়া রহমান আগস্ট ০৮, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

কুয়াকাটায় এক ট্রলারে ৪৬ মণ ইলিশ, বিক্রি অর্ধকোটি টাকায়

ছবি: সংগৃহীত

‘ফিল্মি স্টাইলে’ পুলিশের কাছ থেকে পালাল আসামি

ছবি: সংগৃহীত

নেত্রকোণার বড়বাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড

ছবি: সংগৃহীত
বাজারে স্বস্তি কাঁচা মরিচে, তবে বাড়ছে ডিম ও মুরগির দাম

বাজারে গত দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে কাঁচা মরিচের দামে ঊর্ধ্বগতি শেষে আমদানির পর কিছুটা স্বস্তি মিলতে শুরু করেছে। কিন্তু এর মধ্যেই আবার বাড়তে শুরু করেছে মাছ, ডিম ও মুরগির দাম।   তবে বিভিন্ন সবজির কেজিপ্রতি দর গত সপ্তাহের মতই একশ টাকার আশপাশে স্থির আছে।   মাছ, ডিম, মুরগি ও সবজির দামের ঊর্ধ্বগতির কারণ হিসেবে বৃষ্টিকে দায়ি করছেন বিক্রেতারা। তাদের দাবি, বৃষ্টির কারণে বাজারে বিভিন্ন পণ্যের সরবরাহ কম, তাই দাম বেশি। তবে ক্রেতারা এই কারণকে অজুহাত হিসেবে দেখছেন।   শুক্রবার রাজধানীর নর্দ্দার কালাচাঁদপুর এলাকার শ্যাওড়া বাজার ঘুরে দেখা গেছে, সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি ডজন ডিম কিনতে ক্রেতাদের ১৫ থেকে ২০ টাকা বাড়তি দিতে হচ্ছে। বাজারে ডিমের ডজন বিক্রি হচ্ছে ১৫০ টাকা। কিছু কিছু জায়গায় ১৬০ টাকাও চাওয়া হচ্ছে। অথচ গত সপ্তাহে একই বাজারে প্রতি ডজন ডিম বিক্রি হয়েছে ১৩০ থেকে ১৩৫ টাকা।   একই বাজারে ব্রয়লার মুরগির কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকায়। গলির দোকান থেকে কিনতে গুনতে হচ্ছে ২০৫ থেকে ২১০ টাকা। সোনালি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৩২০ থেকে ৩৪০ টাকা এবং লেয়ার বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ টাকা কেজি দরে।   একইদিন মোহাম্মদপুর টাউনহল বাজারে গিয়েও দেখা গেল গত সপ্তাহের চেয়ে বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে ডিম ও মুরগি।   বাজারের মুরগি বিক্রেতা মনসুর আহমেদ বলেন, “বৃষ্টির কারণে মুরগি কম আসে। চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ নেই। তাই দাম গত সপ্তাহের তুলনায় ১০ থেকে ২০ টাকা কেজিতে বেড়েছে।” ডিম বিক্রেতারাও বৃষ্টির কারণে সরবরাহ কম থাকার কথা বলছেন।   এদিকে কাঁচাবাজারে গিয়ে দেখা যায়, সবজির দাম গত সপ্তাহের মতই আছে। শ্যাওড়া বাজারে প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ বিক্রি হচ্ছে ২৪০ থেকে ২৬০ টাকায়। বিক্রেতারা বলছেন, গত সপ্তাহে কাঁচা মরিচের দাম উঠেছিল ৩০০ থেকে ৩৬০ টাকা। দাম নিয়ন্ত্রণে ভারত থেকে কাঁচা মরিচ আমদানির ফলে দামে কিছুটা স্বস্তি মিলেছে।   বাজারে অন্যান্য সবজির মধ্যে লম্বা বেগুন ১২০ ও গোল বেগুন ১৬০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া পটল ৬০ টাকা, টমেটো ১২০ টাকা, শসা ৮০ টাকা, করলা ৮০ থেকে ১০০ টাকা, ঢেঁড়স ৬০ থেকে ৮০ টাকা এবং বরবটি ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। বিক্রেতারা বরছেন, সপ্তাহের ব্যবধানে সবজির দামে খুব একটা ওঠানামা নেই। একটু কম দামে পেঁপের কেজি বিক্রি হচ্ছে আগের সপ্তাহের মত ৩০ থেকে ৪০ টাকা।   মোহাম্মদপুর টাউন হল বাজার ঘুরেও প্রায় একই দাম দেখা গেল বিভিন্ন সবজির।   টাউনহল বাজারে গত সপ্তাহের মতই পেঁয়াজের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫৫ থেকে ৬০ টাকায়। তবে আলুর দাম ৫ দাম বেড়ে প্রতিকেজি বিক্রি হচ্ছে ৩০ টাকা।   কথা হয় শ্যাওড়া বাজারে আসা অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা লুৎফর রহমানের সঙ্গে। তিনি বলেন, “১০০ টাকার নিচে কোনো সবজি নেই। ৫০০ টাকায় চারটা সবজিও কিনতে পারিনি। মাছ না কিনেই বাসায় ফেরত যাচ্ছি।”   লুৎফরের পাশে দাঁড়িয়ে চালকুমড়া কিনছিলেন মোহাম্মদ আজাদ। তিনি বলেন, “ছোট একটা চালকুমড়া কিনতেই ৭০ টাকা শেষ। এমন হলে মানুষ খাবে কি? কিছু একটা হলেই দাম বেড়ে যায়। বিভিন্ন অজুহাতে দাম বাড়ায় ব্যবসায়ীরা। এখন দিচ্ছে বৃষ্টির অজুহাত। কিছুদিন আগে ছিল তেলের অজুহাত।”   ডিম মুরগির মত সপ্তাহের ব্যবধানে মাছের দামও কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা করে বেড়েছে। টাউনহল বাজারে চাষের পাঙ্গাস বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ২৩০ টাকায়। গত সপ্তাহে এই দাম ছিল ২০০ টাকা।   তেলাপিয়া মাছের কেজি বিক্রি হচ্ছে ২৬০ টাকায়। গত সপ্তাহে এই মাছের কেজি ২৪০ টাকা ছিল বলেছেন বিক্রেতারা। এছাড়া পাবদা ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, দুই থেকে তিন কেজি ওজনের রুই প্রতিকেজি ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা বিক্রি হচ্ছে।   এছাড়া ভেটকির কেজি ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা, মৃগেলের ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা, বাইম মাছ ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, দেশি কই ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা, চাষের কইয়ের ৩০০ টাকা কেজি কিনছেন ক্রেতারা।   ইলিশের মৌসুম চললেও শ্যাওড়া বাজারে ইলিশের দেখা পাওয়া যায়নি। তবে মোহাম্মদপুর টাউন হলে ৭০০ থেকে ৮০০ গ্রামের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ১৬০০ থেকে ১৮০০ টাকায়। ২০০ থেকে ৪০০ গ্রাম ওজনের ইলিশের দাম চাওয়া হচ্ছে ১২০০ থেকে ১৪০০ টাকা।   নাতনিকে নিয়ে টাউনহল বাজারে বাজার করতে আসা এক বৃদ্ধা। একটি ছোট রুই মাছ কিনে বাড়ি ফিরছিলেন তিনি।   মাছের দাম সম্পর্কে তিনি বলেন, “৪০০ টাকা দিয়ে কিনছি। মাছের দাম অনেক। এই ছোট মাছই যদি এত দাম হয়, বড় মাছ তো কেনার সাধ্যই নাই।”

মো: দেলোয়ার হোসাইন আগস্ট ০৭, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

মোবাইল ফোনে ব্যস্ত চালক, নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে গেল যাত্রীবাহী বাস

ধলা সীমান্ত এলাকা।

মেহেরপুর সীমান্তে ৫ জনকে পুশইনের চেষ্টা, বিজিবির বাধায় ব্যর্থ

ছবি : সংগৃহীত

সিলেটে দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ, নিহত ৮

ছবি : সংগৃহীত
গফরগাঁওয়ে ট্রেন লাইনচ্যুত: বন্ধ ঢাকা-ময়মনসিংহ রুটে ট্রেন চলাচল

ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে জামালপুর কমিউটার ট্রেনের পাওয়ারকারসহ চারটি বগি লাইনচ্যুত হয়েছে। এ ঘটনায় ঢাকা-ময়মনসিংহ রুটে ট্রেন চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে। শুক্রবার (৭ আগস্ট) সকাল ৯টার দিকে গফরগাঁও রেলওয়ে স্টেশন সংলগ্ন শিবগঞ্জ রোড রেলক্রসিং এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। ময়মনসিংহ রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আকতার হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, জামালপুর থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী জামালপুর কমিউটার ট্রেনটি গফরগাঁও রেলওয়ে স্টেশনে প্রবেশের আগ মুহূর্তে সামনের অংশের একটি পাওয়ারকারসহ চারটি বগি লাইনচ্যুত হয়। তিনি আরও বলেন, এ ঘটনার কারণে ঢাকা-ময়মনসিংহ রুটে ট্রেন চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে। লাইনচ্যুত বগিগুলো উদ্ধারে রিলিফ ট্রেন পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।

মারিয়া রহমান আগস্ট ০৭, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

বগুড়ায় নিয়ন্ত্রণ হারানো বাসের চাপায় ৬ শ্রমিক নিহত

ছবি: সংগৃহীত

গ্যাস সংকট কাটাতে এলএনজি টার্মিনাল থেকে সরবরাহ শুরু

বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাস্কর্যে শ্রদ্ধা ও পুনর্নির্মাণের দাবিতে দাঁড়িয়েছেন নাগরিক প্রতিনিধি দল— সংগৃহীত

বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাস্কর্য ভাঙচুরের বিচার ও পুনর্নির্মাণের দাবি

0 Comments