অ্যাক্সেস শুধু সুযোগ নয়; এটি পরিবর্তনের অনুঘটক

এ এইচ এম বজলুর রহমান

অক্টোবর ১২, ২০২৫

আন্তর্জাতিক কন্যাশিশু দিবস ২০২৫ উপলক্ষে

আমাদের ক্রমবর্ধমান আন্তঃসংযুক্ত পৃথিবীতে ইন্টারনেট অ্যাক্সেস এখন আর বিলাসিতা নয়—এটি অধিকার, সুযোগ ও ক্ষমতায়নের অন্যতম প্রবেশদ্বার। কিন্তু বৈশ্বিক দক্ষিণের (Global Majority) লক্ষ লক্ষ মানুষের জন্য এই দরজাটি এখনও অর্ধেক বন্ধ। ডিজিটাল বিভাজন কেবল প্রযুক্তিগত ফাঁক নয়; এটি নির্ধারণ করে কারা শেখার, মত প্রকাশের, উদ্ভাবনের ও বিশ্ব গঠনে অংশ নেওয়ার ক্ষমতা রাখে—আর কারা প্রান্তে থেকে যায়।

 

যখন মানুষ তথ্য, প্রযুক্তি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, এবং সিদ্ধান্তগ্রহণ প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের অ্যাক্সেস পায়, তখন সেটি শুধু তাদের ক্ষমতায়নই করে না, বরং তাদের জীবনের গতিপথও পাল্টে দেয়।

 

আন্তর্জাতিক কন্যাশিশু দিবসের প্রেক্ষাপটে আমাদের অবশ্যই লিঙ্গভিত্তিক ডিজিটাল বিভাজনের গভীর প্রভাব উপলব্ধি করতে হবে। প্রতিটি পরিসংখ্যানের আড়ালে লুকিয়ে আছে অপুর্ণ সম্ভাবনার গল্প, হারানো সুযোগ, এবং অ্যাক্সেসের অভাবে থেমে যাওয়া জীবনের বাস্তবতা।

 

ডিজিটাল বিভাজন: শক্তির ব্যবধান
“ডিজিটাল বিভাজন” শব্দটি প্রায়ই প্রযুক্তির ভাষায় ব্যবহৃত হয়, অথচ মূলত এটি ন্যায়বিচার ও সমতার প্রশ্ন—যা শাসনব্যবস্থা, অর্থনীতি ও লিঙ্গবৈষম্যের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত।

 

প্রথম পর্যায়ে বিভাজন ছিল মূলত সংযোগের ওপর ভিত্তি করে—কে ইন্টারনেটে প্রবেশাধিকার পায়, আর কে পায় না।, ইন্টারনেট অবকাঠামো, বিদ্যুৎ, ও ডিভাইস অ্যাক্সেস ছিল প্রধান বাধা। এটি প্রধানত শহর বনাম গ্রাম, ধনী বনাম দরিদ্র, এবং উত্তর বনাম দক্ষিণের পার্থক্যকে চিহ্নিত করেছিল।

 

দ্বিতীয় পর্যায়ে ফোকাস চলে যায় ব্যবহার ও দক্ষতার ফাঁকে।


প্রশ্ন আর ছিল না “সংযোগ আছে কি?” বরং “কীভাবে এবং কেন ব্যবহার করা হচ্ছে?”  ডিজিটাল সাক্ষরতা, ভাষা, কনটেন্ট, এবং নিরাপদ অনলাইন উপস্থিতি ছিল মূল চ্যালেঞ্জ। সামাজিক মাধ্যম, ই-গভর্নেন্স ও ডিজিটাল অর্থনীতিতে অংশগ্রহণ এখানেই নির্ধারিত হতে শুরু করে।

 

তৃতীয় ও বর্তমান পর্যায়ে বিভাজন আরও জটিল: এটি ক্ষমতা, ডেটা, ও অ্যালগরিদমিক নিয়ন্ত্রণের ওপর ভিত্তি করে।

 

প্রশ্ন হলো—কে ডিজিটাল যুগে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে? কে ডেটা ও অ্যালগরিদম নিয়ন্ত্রণ করছে? এবং Platform Governance এখন বৈষম্যের নতুন ক্ষেত্র। নারীরা, প্রান্তিক জনগোষ্ঠী ও বৈশ্বিক দক্ষিণ এখন AI bias, data colonialism ও surveillance capitalism-এর শিকার।

 

অ্যাক্সেস মানেই শক্তি; আর অ্যাক্সেসের অভাব মানে কাঠামোগত বঞ্চনা।


আগামী পাঁচ বছরে ডিজিটাল বিভাজনের কারণে বৈশ্বিক দক্ষিণে সম্ভাব্য অর্থনৈতিক ক্ষতি দাঁড়াতে পারে ৫০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও বেশি। কিন্তু এই ক্ষতি শুধু অর্থনীতিতেই সীমাবদ্ধ নয়—এটি শিক্ষা, কর্মসংস্থান, নাগরিক অংশগ্রহণ, স্বাস্থ্যসেবা এবং মর্যাদাপূর্ণ জীবনের অধিকারকেও ক্ষুণ্ণ করে।

 

বঞ্চনার বহুমাত্রিক প্রভাব


ডিজিটাল বঞ্চনার প্রভাব মূলত পাঁচটি ক্ষেত্রে স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়:


অর্থনীতি, শিক্ষা, তথ্য, উদ্ভাবন, এবং সংকটকালীন সহনশীলতা।

 

১. অর্থনৈতিক বঞ্চনা


ITU-এর গবেষণা অনুযায়ী, ব্রডব্যান্ড সংযোগের সঙ্গে GDP বৃদ্ধির সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। তবু আফ্রিকায় মাত্র ৩০% মানুষ নির্ভরযোগ্য ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগ পান। ২০২০ সালে লিঙ্গভিত্তিক ডিজিটাল বৈষম্যের কারণে কিছু দেশে GDP ক্ষতি হয়েছে প্রায় ১২৬ বিলিয়ন ডলার, আর গত দশকে এ ক্ষতির পরিমাণ এক ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে।

 

২. শিক্ষা


ডিজিটাল সংযোগের অভাবে শিক্ষার বৈষম্য দিন দিন বাড়ছে। কোভিড-১৯ মহামারী দেখিয়েছে, ডিজিটাল শিক্ষাই টিকে থাকার চাবিকাঠি—কিন্তু শুধুমাত্র তাদের জন্য, যাদের অ্যাক্সেস ছিল। গ্রামীণ মেয়েরা ইন্টারনেট, ডিভাইস ও নিরাপদ অনলাইন পরিবেশের অভাবে পিছিয়ে পড়ছে। UNESCO-এর মতে, শিক্ষা ও ডিজিটাল বিভাজন উভয় ক্ষেত্রে ব্যর্থতা ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্ব অর্থনীতিতে ১০ ট্রিলিয়ন ডলারের ক্ষতি ডেকে আনতে পারে।

 

৩. তথ্য-দারিদ্র্য ও নাগরিক বঞ্চনা


ডিজিটাল তথ্যের অভাবে মানুষ শুধু অজ্ঞ নয়—তারা বঞ্চিতও। গ্রামীণ নারীরা প্রায়ই স্বাস্থ্য, কৃষি ও নাগরিক সেবার গুরুত্বপূর্ণ তথ্য থেকে বিচ্ছিন্ন থাকে, যা তাদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক অংশগ্রহণ সীমিত করে।

 

৪. উদ্ভাবনে বাধা


ডিজিটাল টুল ও নেটওয়ার্কে প্রবেশাধিকার ছাড়া উদ্ভাবন সম্ভব নয়। ২০২৪ সালে বৈশ্বিক ভেঞ্চার ক্যাপিটাল তহবিলের মাত্র ২.৩% নারী-নেতৃত্বাধীন দলগুলোর হাতে গেছে, বাকিটা পুরুষ-নেতৃত্বাধীন উদ্যোগে। এই বৈষম্য প্রমাণ করে যে অন্তর্ভুক্তিমূলক উদ্ভাবন ইকোসিস্টেম গঠন এখন সময়ের দাবি।

 

৫. সংকটকালীন ঝুঁকি বৃদ্ধি


সংঘাত, জলবায়ু পরিবর্তন বা স্বাস্থ্য সংকটের সময় ইন্টারনেটবঞ্চিত জনগোষ্ঠী গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা ও তথ্য থেকে বঞ্চিত থাকে, যা তাদের জীবনকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তোলে। নারী ও কন্যাশিশুরা এই ঝুঁকির ভার সবচেয়ে বেশি বহন করে।

 

বঞ্চনার লিঙ্গ ও বর্ণভিত্তিক বাস্তবতা


ডিজিটাল বিভাজন একরৈখিক নয়; এটি বহুমাত্রিক—লিঙ্গ, বয়স, বর্ণ, সক্ষমতা ও ভৌগোলিক অবস্থান অনুযায়ী প্রভাব ফেলে।


গ্রামীণ, প্রবীণ, ও প্রতিবন্ধী নারীরা প্রায়ই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন। অনেক ক্ষেত্রেই সামাজিক বিধিনিষেধ ও ডিজিটাল অদৃশ্যতা তাদের অগ্রগতি রোধ করে।


যদিও উচ্চাভিলাষী ব্রডব্যান্ড প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে, তবুও উচ্চ খরচ, সীমিত অবকাঠামো ও ডিজিটাল দক্ষতার ঘাটতি এখনো বড় বাধা। তাই অবকাঠামোর পাশাপাশি ডিজিটাল ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা জরুরি।

 

গঠনমূলক পরিবর্তনের আহ্বান


একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক, ন্যায়ভিত্তিক ও মানবকেন্দ্রিক ডিজিটাল ভবিষ্যৎ গড়তে হলে দরকার বাস্তব পদক্ষেপ:


•    কমিউনিটি-ভিত্তিক সংযোগে বিনিয়োগ করুন: মানুষকে মুনাফার উপরে স্থান দিন।


•    নারী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে নীতিনির্ধারণের কেন্দ্রে আনুন: তারা যেন শুধুমাত্র সুবিধাভোগী নয়, সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী হন।


•    ইন্টারনেটকে মৌলিক মানবাধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দিন: সাশ্রয়ী, নির্ভরযোগ্য ইন্টারনেটকে জনসাধারণের পণ্য হিসেবে বিবেচনা করুন।

 

অ্যাক্সেসই ভিত্তি, চূড়ান্ত লক্ষ্য নয়


সত্যিকারের অ্যাক্সেস মানে কেবল সংযোগ নয়; এটি দক্ষতা, সুরক্ষা, ডিজিটাল জ্ঞান ও আত্মবিশ্বাসের সমন্বয়।

 

এটি মানুষকে নিজের গল্প বলার, অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর এবং সমষ্টিগতভাবে পরিবর্তন আনার শক্তি দেয়।

 

যদি আমরা ন্যায়সঙ্গত ভবিষ্যৎ গড়তে চাই, তবে প্রশ্নটি হওয়া উচিত—


“কে ইন্টারনেট ব্যবহার করছে?” কে নয়,

 

বরং “কে ডিজিটাল যুগে ক্ষমতাবান হচ্ছে, আর কে নয়?”


ডিজিটাল বঞ্চনাকে উপেক্ষা করা মানে ভবিষ্যতের ন্যায়বিচার থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়া। এখনই সময় ন্যায্য, সাশ্রয়ী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অ্যাক্সেস নিশ্চিত করার—
যা সবার জন্য রূপান্তরমূলক ডিজিটাল অগ্রগতি বয়ে আনবে।


এ. এইচ. এম. বজলুর রহমান | ডিজিটাল গণতন্ত্র উন্নয়ন বিশেষজ্ঞ, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা

বাংলাদেশ এনজিওস নেটওয়ার্ক ফর রেডিও অ্যান্ড কমিউনিকেশন (বিএনএনআরসি), এবং বাংলাদেশে দায়িত্বশীল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার রাষ্ট্রদূত, নীতি গবেষণা ফেলো, চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের যুগে গণমাধ্যম, তথ্যের অখণ্ডতা ও সমাজ! ceo@bnnrc.net

 

0 Comments

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

সপ্তাহের সেরা

ছবি: সংগৃহীত
জাতীয়

রাত ৮টার মধ্যে দোকানপাট বন্ধের সরকারি নির্দেশ

আক্তারুজ্জামান আগস্ট ১২, ২০২৬